সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা Logo কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুত শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি Logo নিকার অনুমোদন: ভূল্লী উপজেলা গঠনে জনসাধারণের উচ্ছ্বাস Logo ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম জেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে এলো আসল তথ্য Logo অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা দখলমুক্ত হবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী Logo বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: বিদ্যুৎমন্ত্রী Logo  বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ট্রান্সফরমার চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার Logo মাদক সেবনের দায়ে কারাদণ্ড, কলেজ ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার Logo মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল Logo ইসরায়েলকে হুমকি দিলে কঠিন পরিণতি: নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি

ঘরে তিন বস্তা টাকা পাওয়া সেই সালেহা পাগলী মারা গেলেন

  • রিপোর্টার:
  • আপডেট টাইম : ০৩:৪৯:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫
  • 80

নিজস্ব প্রতিবেদক। জনতার কণ্ঠ.কম

কওমী জুটমিলের পরিত্যক্ত কোয়ার্টারে পাওয়া তিন বস্তা টাকার মালিক  সিরাজগঞ্জের মাছুমপুর মহল্লার সেই ভিখারী সালেহা বেগম মারা গেছেন। শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) রাতে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।

জানা যায়, সিরাজগঞ্জ শহরের মাছুমপুর মহল্লার মৃত আব্দুস ছালামের স্ত্রী সালেহা বেগম। ছালে পাগলি’ নামেই এলাকায় পরিচিত। তিনি রায়পুর ১ নম্বর মিলগেটে শ্রমিকদের পরিত্যক্ত কোয়ার্টারের বারান্দায় একাই থাকতেন। সম্প্রতি তিনি অসুস্থ্য হয়ে পড়লে মাছুমপুর মহল্লার একটি বাড়িতে অবস্থান করেন। গত ৯ অক্টোবর পরিত্যক্ত কোয়ার্টার থেকে ২ বস্তা টাকা উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। ওইদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত সাতজন লোক প্রায় ৫ ঘণ্টা গণনা করে ১ লাখ ২৬ হাজার ২৫৩ টাকা পায়। দুদিন পর ১১ অক্টোবর একই স্থান থেকে আরও ১ বস্তা টাকা উদ্ধার হয়। গণনা করে সব মিলিয়ে প্রায় এক লাখ ৭৪ হাজার পাওয়া যায়।

স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইবনে জায়েদ হাসু বলেন, সালেহা বেগম ভিক্ষাবৃত্তি করে মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে এক লাখ ৭০/৮৪ হাজার টাকা সঞ্চয় করে। সে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। আমরা গত দুদিন আগে তাকে জিয়া মেডিকেলে নিয়ে যাই। গতকাল সে ইন্তেকাল করে। আজকে জানাযা শেষে তাকে দাফন করা হয়।

আরও পড়ুন: ছালে পাগলীর ঘরে দুই বস্তায় মিললো সোয়া লাখ টাকা !

প্রতিবেশী আব্দুর রহিম বলেন, সালেহা বেগম স্বামী পরিত্যক্তা, তারপর তিনি ভিক্ষাবৃত্তি করতেন। তিনি কখনো রান্না করে খায় নাই, ঘুরতো বেড়াতো যে যা দিতো তাই খেত। তার কোন বাড়িঘর নেই, কওমী মজদুর ইউনিয়নের পরিত্যক্ত ঘরের বারান্দায় থাকতো। ভিক্ষা করে সন্ধ্যায় গিয়ে শুয়ে থাকতো। অসুস্থ্য হওয়ার পর আমাদের বাড়ির সামনে একটি ঘরে শুয়ে থাকতো। তার অবস্থা খারাপ হওয়ায় সিরাজগঞ্জ হাসপাতালে নেই। তিন চারদিন রাখার পর বাড়িতে নিয়ে আসি। তারপর তার অর্থ কি আছে বললে, সে ইঙ্গিত দেয় মজদুর ইউনিয়নে তার টাকা আছে। পরে সেখানে লোকজন গিয়ে টাকাগুলো নিয়ে আসে। তারপর সালেহার অবস্থা খারাপ হলে জিয়া মেডিকেলে নেওয়া হয়। সেখানে ডাক্তাররা বলে তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত।

সালেহা বেগমের মেয়ে স্বপ্না খাতুন বলেন, ‘আমার মা পাগলা টাইপের। টাকা তুলেছে, কিন্তু খায় নাই, রান্নাবাড়ি করেও খায় নাই। টাকাগুলো উদ্ধার হলো মায়ের চিকিৎসা করলাম। জমানো টাকার মধ্যে ২০ হাজার খরচ হয়েছে। বাকী টাকা আমার অসুস্থ্য স্বামীর চিকিৎসা এবং মায়ের নামে দান-খয়রাত করতে চাই।

পড়ুন: সালেহা পাগলীর ঘরে আরও এক বস্তা টাকা !

সিরাজগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাহরিয়ার শিপু বলেন, সালেহা পাগলী ভিক্ষা করতেন। দুই দিনে তার কাছ থেকে তিন বস্তা টাকা পেয়েছি। অর্ধেক টাকাই পচে গেছে। মধ্যে ১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা ভালো পাওয়া গেছে। টাকাগুলো আমার কাছে জমা রয়েছে। আমরা তার চিকিৎসা নিয়ে কাজ শুরু করি। সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতাল, নর্থবেঙ্গল হাসপাতাল সর্বশেষ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠাই। সেখানে তার লিভার ক্যান্সার ধরা পরে। শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি মারা যান।  আমরা তার মরদেহ নিয়ে এসে আজকে সকাল ১০টায় জানাযা শেষে কান্দাপাড়া কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। জমানো টাকা ইসলামী ফারাজ অনুযায়ী ভাগ করে দেওয়া হবে)

 

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা

ঘরে তিন বস্তা টাকা পাওয়া সেই সালেহা পাগলী মারা গেলেন

আপডেট টাইম : ০৩:৪৯:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক। জনতার কণ্ঠ.কম

কওমী জুটমিলের পরিত্যক্ত কোয়ার্টারে পাওয়া তিন বস্তা টাকার মালিক  সিরাজগঞ্জের মাছুমপুর মহল্লার সেই ভিখারী সালেহা বেগম মারা গেছেন। শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) রাতে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।

জানা যায়, সিরাজগঞ্জ শহরের মাছুমপুর মহল্লার মৃত আব্দুস ছালামের স্ত্রী সালেহা বেগম। ছালে পাগলি’ নামেই এলাকায় পরিচিত। তিনি রায়পুর ১ নম্বর মিলগেটে শ্রমিকদের পরিত্যক্ত কোয়ার্টারের বারান্দায় একাই থাকতেন। সম্প্রতি তিনি অসুস্থ্য হয়ে পড়লে মাছুমপুর মহল্লার একটি বাড়িতে অবস্থান করেন। গত ৯ অক্টোবর পরিত্যক্ত কোয়ার্টার থেকে ২ বস্তা টাকা উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। ওইদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত সাতজন লোক প্রায় ৫ ঘণ্টা গণনা করে ১ লাখ ২৬ হাজার ২৫৩ টাকা পায়। দুদিন পর ১১ অক্টোবর একই স্থান থেকে আরও ১ বস্তা টাকা উদ্ধার হয়। গণনা করে সব মিলিয়ে প্রায় এক লাখ ৭৪ হাজার পাওয়া যায়।

স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইবনে জায়েদ হাসু বলেন, সালেহা বেগম ভিক্ষাবৃত্তি করে মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে এক লাখ ৭০/৮৪ হাজার টাকা সঞ্চয় করে। সে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। আমরা গত দুদিন আগে তাকে জিয়া মেডিকেলে নিয়ে যাই। গতকাল সে ইন্তেকাল করে। আজকে জানাযা শেষে তাকে দাফন করা হয়।

আরও পড়ুন: ছালে পাগলীর ঘরে দুই বস্তায় মিললো সোয়া লাখ টাকা !

প্রতিবেশী আব্দুর রহিম বলেন, সালেহা বেগম স্বামী পরিত্যক্তা, তারপর তিনি ভিক্ষাবৃত্তি করতেন। তিনি কখনো রান্না করে খায় নাই, ঘুরতো বেড়াতো যে যা দিতো তাই খেত। তার কোন বাড়িঘর নেই, কওমী মজদুর ইউনিয়নের পরিত্যক্ত ঘরের বারান্দায় থাকতো। ভিক্ষা করে সন্ধ্যায় গিয়ে শুয়ে থাকতো। অসুস্থ্য হওয়ার পর আমাদের বাড়ির সামনে একটি ঘরে শুয়ে থাকতো। তার অবস্থা খারাপ হওয়ায় সিরাজগঞ্জ হাসপাতালে নেই। তিন চারদিন রাখার পর বাড়িতে নিয়ে আসি। তারপর তার অর্থ কি আছে বললে, সে ইঙ্গিত দেয় মজদুর ইউনিয়নে তার টাকা আছে। পরে সেখানে লোকজন গিয়ে টাকাগুলো নিয়ে আসে। তারপর সালেহার অবস্থা খারাপ হলে জিয়া মেডিকেলে নেওয়া হয়। সেখানে ডাক্তাররা বলে তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত।

সালেহা বেগমের মেয়ে স্বপ্না খাতুন বলেন, ‘আমার মা পাগলা টাইপের। টাকা তুলেছে, কিন্তু খায় নাই, রান্নাবাড়ি করেও খায় নাই। টাকাগুলো উদ্ধার হলো মায়ের চিকিৎসা করলাম। জমানো টাকার মধ্যে ২০ হাজার খরচ হয়েছে। বাকী টাকা আমার অসুস্থ্য স্বামীর চিকিৎসা এবং মায়ের নামে দান-খয়রাত করতে চাই।

পড়ুন: সালেহা পাগলীর ঘরে আরও এক বস্তা টাকা !

সিরাজগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাহরিয়ার শিপু বলেন, সালেহা পাগলী ভিক্ষা করতেন। দুই দিনে তার কাছ থেকে তিন বস্তা টাকা পেয়েছি। অর্ধেক টাকাই পচে গেছে। মধ্যে ১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা ভালো পাওয়া গেছে। টাকাগুলো আমার কাছে জমা রয়েছে। আমরা তার চিকিৎসা নিয়ে কাজ শুরু করি। সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতাল, নর্থবেঙ্গল হাসপাতাল সর্বশেষ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠাই। সেখানে তার লিভার ক্যান্সার ধরা পরে। শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি মারা যান।  আমরা তার মরদেহ নিয়ে এসে আজকে সকাল ১০টায় জানাযা শেষে কান্দাপাড়া কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। জমানো টাকা ইসলামী ফারাজ অনুযায়ী ভাগ করে দেওয়া হবে)