সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা Logo কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুত শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি Logo নিকার অনুমোদন: ভূল্লী উপজেলা গঠনে জনসাধারণের উচ্ছ্বাস Logo ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম জেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে এলো আসল তথ্য Logo অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা দখলমুক্ত হবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী Logo বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: বিদ্যুৎমন্ত্রী Logo  বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ট্রান্সফরমার চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার Logo মাদক সেবনের দায়ে কারাদণ্ড, কলেজ ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার Logo মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল Logo ইসরায়েলকে হুমকি দিলে কঠিন পরিণতি: নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি

ইরানে হামলা অবৈধ ও অসাংবিধানিক, বললেন মার্কিন সিনেটর

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক হামলার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতি থেকে শুরু করে জাতিসংঘ এবং ইউরোপীয় ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এই হামলাকে ‘বিপজ্জনক উস্কানি’ হিসেবে অভিহিত করে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।

 

 

কানেকটিকাটের মার্কিন সিনেটর এডওয়ার্ড জে মারকি ট্রাম্প প্রশাসনের এই সামরিক পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এই হামলা চালানো হয়েছে, যা পুরোপুরি ‘অবৈধ ও অসাংবিধানিক’।

 

এটি সব আমেরিকান নাগরিকের জন্য বিপদের কারণ। ট্রাম্পের অবৈধ পদক্ষেপ ইরানের সঙ্গে একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি করছে, যা মার্কিন সেনা এবং সাধারণ মানুষের জন্য গুরুতর হুমকি।

 

 

তিনি বলেন, ট্রাম্প ধারাবাহিকভাবে ইরানের পারমাণবিক হুমকির কথা বাড়িয়ে বলছেন, অথচ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্বীকার করেছেন যে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে না। এই হামলার আগে কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ ছিল এবং এখনও রয়েছে।

 

 

ট্রাম্প যদি এখনই এই যুদ্ধ বন্ধ না করেন, কংগ্রেসকে পদক্ষেপ নিতে হবে। ইরানের সঙ্গে আর কোনো যুদ্ধ হবে না।

 

 

পরমাণু কেন্দ্রে হামলা করা যাবে না: রাশিয়া
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা ‘রোসাটম’ জানিয়েছে, তারা ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে অপ্রয়োজনীয় কর্মী ও তাদের সন্তানদের সরিয়ে নিয়েছে। এটি রাশিয়ার সাহায্যে নির্মিত ইরানের একমাত্র কার্যকরী পারমাণবিক কেন্দ্র।

 

সংস্থাটির সিইও আলেক্সি লিখাচেভ বলেন, কোনো পরিস্থিতিতেই পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে আক্রমণ করা যাবে না।

এদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপে এই হামলাকে ‘অপ্ররোচিত’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন।

 

 

বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ : নেতাদের প্রতিক্রিয়া

পেদ্রো সানচেজ ও ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ: স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই ‘একতরফা’ সামরিক পদক্ষেপ প্রত্যাখান করেছেন। অন্যদিকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ একে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা’ অভিহিত করে অবিলম্বে তা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।

ওমান: মধ্যস্থতাকারী দেশ ওমান এই সংঘাতের ভয়াবহতা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছে।

 

 

জাতিসংঘ: জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক উভয় পক্ষকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বোমা ও মিসাইল কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে না; এটি কেবল মৃত্যু আর ধ্বংসই ডেকে আনে।

 

 

অনড় অবস্থানে ইরান
এদিকে ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) একটি সূত্র জানিয়েছে, ইসরায়েল এবং এ অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর ইরানের আক্রমণ ‘অব্যাহত’ থাকবে।

সার্বিকভাবে, ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ পরবর্তী এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী ও ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা

ইরানে হামলা অবৈধ ও অসাংবিধানিক, বললেন মার্কিন সিনেটর

আপডেট টাইম : ১১:৩৫:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক হামলার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতি থেকে শুরু করে জাতিসংঘ এবং ইউরোপীয় ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এই হামলাকে ‘বিপজ্জনক উস্কানি’ হিসেবে অভিহিত করে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।

 

 

কানেকটিকাটের মার্কিন সিনেটর এডওয়ার্ড জে মারকি ট্রাম্প প্রশাসনের এই সামরিক পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এই হামলা চালানো হয়েছে, যা পুরোপুরি ‘অবৈধ ও অসাংবিধানিক’।

 

এটি সব আমেরিকান নাগরিকের জন্য বিপদের কারণ। ট্রাম্পের অবৈধ পদক্ষেপ ইরানের সঙ্গে একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি করছে, যা মার্কিন সেনা এবং সাধারণ মানুষের জন্য গুরুতর হুমকি।

 

 

তিনি বলেন, ট্রাম্প ধারাবাহিকভাবে ইরানের পারমাণবিক হুমকির কথা বাড়িয়ে বলছেন, অথচ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্বীকার করেছেন যে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে না। এই হামলার আগে কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ ছিল এবং এখনও রয়েছে।

 

 

ট্রাম্প যদি এখনই এই যুদ্ধ বন্ধ না করেন, কংগ্রেসকে পদক্ষেপ নিতে হবে। ইরানের সঙ্গে আর কোনো যুদ্ধ হবে না।

 

 

পরমাণু কেন্দ্রে হামলা করা যাবে না: রাশিয়া
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা ‘রোসাটম’ জানিয়েছে, তারা ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে অপ্রয়োজনীয় কর্মী ও তাদের সন্তানদের সরিয়ে নিয়েছে। এটি রাশিয়ার সাহায্যে নির্মিত ইরানের একমাত্র কার্যকরী পারমাণবিক কেন্দ্র।

 

সংস্থাটির সিইও আলেক্সি লিখাচেভ বলেন, কোনো পরিস্থিতিতেই পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে আক্রমণ করা যাবে না।

এদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপে এই হামলাকে ‘অপ্ররোচিত’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন।

 

 

বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ : নেতাদের প্রতিক্রিয়া

পেদ্রো সানচেজ ও ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ: স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই ‘একতরফা’ সামরিক পদক্ষেপ প্রত্যাখান করেছেন। অন্যদিকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ একে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা’ অভিহিত করে অবিলম্বে তা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।

ওমান: মধ্যস্থতাকারী দেশ ওমান এই সংঘাতের ভয়াবহতা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছে।

 

 

জাতিসংঘ: জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক উভয় পক্ষকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বোমা ও মিসাইল কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে না; এটি কেবল মৃত্যু আর ধ্বংসই ডেকে আনে।

 

 

অনড় অবস্থানে ইরান
এদিকে ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) একটি সূত্র জানিয়েছে, ইসরায়েল এবং এ অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর ইরানের আক্রমণ ‘অব্যাহত’ থাকবে।

সার্বিকভাবে, ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ পরবর্তী এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী ও ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।