সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা Logo কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুত শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি Logo নিকার অনুমোদন: ভূল্লী উপজেলা গঠনে জনসাধারণের উচ্ছ্বাস Logo ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম জেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে এলো আসল তথ্য Logo অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা দখলমুক্ত হবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী Logo বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: বিদ্যুৎমন্ত্রী Logo  বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ট্রান্সফরমার চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার Logo মাদক সেবনের দায়ে কারাদণ্ড, কলেজ ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার Logo মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল Logo ইসরায়েলকে হুমকি দিলে কঠিন পরিণতি: নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি

বেলকুচি রেজিষ্ট্রি অফিসে জালিয়াতি: ভারতে থাকা ব্যক্তির জমি বিক্রি

  • রিপোর্টার:
  • আপডেট টাইম : ০৬:১৩:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫
  • 146

নিজস্ব প্রতিবেদক। জনতার কণ্ঠ.কম

প্রায় ২০ বছর ধরে ভারতে অবস্থান করছেন জিতেন্দ্র নাথ পোদ্দার। ২০০৭ সালে  এনআইডি কার্ড করতে অল্পদিনের জন্য এসে ফিরে যান। এরপর দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে দেশেও আসেননি, নিজের রেখে যাওয়া জমিও বিক্রি করেননি।

অথচ সেই জিতেন্দ্র নাথ পোদ্দারের জমি জালিয়াতির মাধ্যমে রেজিষ্ট্রি করে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে।

অভিযোগ উঠেছে সাব-রেজিষ্ট্রার মাসুদ রানা, অফিস সহকারী নজরুল ইসলাম ও দলিল লেখক আব্দুল মতিনের যোগসাজসে ভুয়া ক্রেতার জাল স্বাক্ষরে ৩০ লাখ টাকা মূল্যের জমি রেজিষ্ট্রি করা হয়। আর এর মূল হোতা বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার সমীরন মণ্ডল নামে এক প্রতারক।

এ বিষয়ে দলিল বাতিলের জন্য বেলকুচি সাব-রেজিষ্টার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন জিতেন্দ্রনাথ পোদ্দারের ভাতিজা উত্তম কুমার পোদ্দার। ভুক্তভোগী জিতেন্দ্র উপজেলার গাবগাছী গ্রামের মৃত বেনী মাধব পোদ্দারের ছেলে।

গাবগাছি গ্রামের উত্তম কুমার পোদ্দার, শচীন্দ্র নাথ, খুশি রানী পোদ্দার ও দুলালী পোদ্দারসহ স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি জিতেন্দ্র নাথ পোদ্দারের রেকর্ডীয় বাড়ি ও ফসলী জমির ২৮.৩৮৩ শতাংশ রেজিষ্ট্রি করে নিয়েছেন বীরেন্দ্র নাথ পোদ্দার। এই দলিলে স্বাক্ষী ও সনাক্তকারি হয়েছেন ক্রেতার একমাত্র মেয়ের জামাই সমীরন মন্ডল। কিন্তু জমির মালিক জিতেন্দ্র দেশেই আসেননি।

তারা বলেন, ২০-২২ বছর আগে জিতেন্দ্র নাথ পোদ্দার ভারতে পারি জমিয়েছেন। ২০০৭ সালে দেশে কয়েকদিনের জন্য এসেছিলেন। এরপর ১৮ বছর ধরেই ভারতে রয়েছেন তিনি। ভারতে অবস্থান করা জিতেন্দ্র নাথের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে, তিনি দেশেই আসেননি, তার জমি রেজিষ্ট্রি হয় কিভাবে?

এদিকে ওই জাল স্বাক্ষরে রেজিষ্ট্রি করে নেওয়া ওই জমি বিক্রির জন্য দফায় দফায় বাড়িতে ক্রেতা নিয়ে আসছেন সমীরন মন্ডল। ইতিমধ্যে বাড়িতে থাকা দুটি ঘর ও স্থাপনা ভেঙে বিক্রিও করেছেন তিনি।

অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক শচীন্দ্র নাথ বলেন, জিতেন্দ্র নাথের বড় ভাই বীরেন্দ্র নাথ। তিনি অনেকটা বয়োবৃদ্ধ। তার কোন ছেলে নেই, একমাত্র মেয়ে ও মেয়ে জামাই সমীরন মন্ডলই সকল সম্পত্তির ওয়ারিশ হবেন। এ জন্য বয়োবৃদ্ধ শ্বশুরের নামে ওই জমি জাল দলিল করে নিয়ে এখন বিক্রির চেষ্টা করছেন সমীরন।

এই জাল দলিলের সঙ্গে বেলকুচি সাব রেজিষ্ট্রার, অফিসের কর্মচারি এবং দলিল লেখকও জড়িত বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান।

এদিকে ভারতে থাকা জিতেন্দ্র নাথ বলেন, আমার বাড়িতে ও মাঠে বেশ কিছু সম্পত্তি আছে। ওই সম্পত্তি আমি বিক্রি করিনি। আমি ১৮ বছর ধরে বাংলাদেশেই যাইনি। শুনলাম আমার জমি দলিল করে নিয়েছে। সমীরন একটা প্রতারক। সে ষড়যন্ত্র করেই এমনটা করেছে। আমি শীঘ্রই দেশে এসে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেব।

তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে সমীরন মন্ডল বলেন, জিতেন্দ্র নাথ মন্ডল দেশেই আছেন। আমরা তাকে ৩০ লাখ টাকা দিয়ে জমিটা কিনেছি। দেশে কোথায় আছেন-এমন প্রশ্নের কোন উত্তর না দিয়ে উল্টো সাংবাদিদেরকেই খুঁজে বের করতে বলেন।

দলিল লেখক আব্দুল মতিন বলেন, আমি কাগজপত্র ভালো পেয়েছি। এক ভাইয়ের সম্পত্তি আরেক ভাই কিনছে। আমি শুধু দলিলটা লিখে দিয়েছি। বিক্রেতা জিতেন্দ্র নাথ উপস্থিত ছিলেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি তো সেটাতো বলতে পারবো না, কাগজপত্র ভোটার আইডি কার্ড, ছবি এবং লোক আমার অফিসের সামনে জমা দিয়েছি স্যার রেজিষ্ট্রি করে দিয়েছেন। আমি তো লোকজন চিনি না।

এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে সাব-রেজিষ্ট্রার মাসুদ রানার কাছে গেলে, তিনি ভিডিও বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, আমি আইনের ছাত্র। দলিল জাল হয়েছে কিনা সেটা আদালত বুঝবে। বলেই তিনি আইনের বই খুলে দেখান সাংবাদিকদের।

জিতেন্দ্র নাথ দেশে না আসলেও তার জমি রেজিষ্ট্রি কিভাবে হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি কমিশন গঠন করে দিয়েছিলাম। অফিস সহকারির নেতৃত্বে কমিশন তার বাড়িতে গিয়ে রেজিষ্ট্রি করেছে। এখানে আমার কোন দায় নেই।

জেলা রেজিষ্টার শরীফ তোরাফ হোসেন বলেন, জাল দলিল হয় না, জাল পারসন হতে পারে। এইটা যদি কোন অভিযোগ আসে তদন্ত সাপেক্ষে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।

এদিকে স্থানীয় সূত্রমতে দীর্ঘদিন ধরেই বেলকুচি রেজিষ্ট্রি অফিসে এমন তুঘলকি কর্মকাণ্ড চলে আসছে। এখানে দলিল প্রতি দুই থেকে তিন হাজার টাকা সাব-রেজিষ্ট্রিারকে না দিলে জমি দলিল হয় না এমন অভিযোগও রয়েছে। সেই সঙ্গে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে দলিল লেখকদের বিরুদ্ধে।

2 thoughts on “বেলকুচি রেজিষ্ট্রি অফিসে জালিয়াতি: ভারতে থাকা ব্যক্তির জমি বিক্রি

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা

বেলকুচি রেজিষ্ট্রি অফিসে জালিয়াতি: ভারতে থাকা ব্যক্তির জমি বিক্রি

আপডেট টাইম : ০৬:১৩:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক। জনতার কণ্ঠ.কম

প্রায় ২০ বছর ধরে ভারতে অবস্থান করছেন জিতেন্দ্র নাথ পোদ্দার। ২০০৭ সালে  এনআইডি কার্ড করতে অল্পদিনের জন্য এসে ফিরে যান। এরপর দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে দেশেও আসেননি, নিজের রেখে যাওয়া জমিও বিক্রি করেননি।

অথচ সেই জিতেন্দ্র নাথ পোদ্দারের জমি জালিয়াতির মাধ্যমে রেজিষ্ট্রি করে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে।

অভিযোগ উঠেছে সাব-রেজিষ্ট্রার মাসুদ রানা, অফিস সহকারী নজরুল ইসলাম ও দলিল লেখক আব্দুল মতিনের যোগসাজসে ভুয়া ক্রেতার জাল স্বাক্ষরে ৩০ লাখ টাকা মূল্যের জমি রেজিষ্ট্রি করা হয়। আর এর মূল হোতা বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার সমীরন মণ্ডল নামে এক প্রতারক।

এ বিষয়ে দলিল বাতিলের জন্য বেলকুচি সাব-রেজিষ্টার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন জিতেন্দ্রনাথ পোদ্দারের ভাতিজা উত্তম কুমার পোদ্দার। ভুক্তভোগী জিতেন্দ্র উপজেলার গাবগাছী গ্রামের মৃত বেনী মাধব পোদ্দারের ছেলে।

গাবগাছি গ্রামের উত্তম কুমার পোদ্দার, শচীন্দ্র নাথ, খুশি রানী পোদ্দার ও দুলালী পোদ্দারসহ স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি জিতেন্দ্র নাথ পোদ্দারের রেকর্ডীয় বাড়ি ও ফসলী জমির ২৮.৩৮৩ শতাংশ রেজিষ্ট্রি করে নিয়েছেন বীরেন্দ্র নাথ পোদ্দার। এই দলিলে স্বাক্ষী ও সনাক্তকারি হয়েছেন ক্রেতার একমাত্র মেয়ের জামাই সমীরন মন্ডল। কিন্তু জমির মালিক জিতেন্দ্র দেশেই আসেননি।

তারা বলেন, ২০-২২ বছর আগে জিতেন্দ্র নাথ পোদ্দার ভারতে পারি জমিয়েছেন। ২০০৭ সালে দেশে কয়েকদিনের জন্য এসেছিলেন। এরপর ১৮ বছর ধরেই ভারতে রয়েছেন তিনি। ভারতে অবস্থান করা জিতেন্দ্র নাথের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে, তিনি দেশেই আসেননি, তার জমি রেজিষ্ট্রি হয় কিভাবে?

এদিকে ওই জাল স্বাক্ষরে রেজিষ্ট্রি করে নেওয়া ওই জমি বিক্রির জন্য দফায় দফায় বাড়িতে ক্রেতা নিয়ে আসছেন সমীরন মন্ডল। ইতিমধ্যে বাড়িতে থাকা দুটি ঘর ও স্থাপনা ভেঙে বিক্রিও করেছেন তিনি।

অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক শচীন্দ্র নাথ বলেন, জিতেন্দ্র নাথের বড় ভাই বীরেন্দ্র নাথ। তিনি অনেকটা বয়োবৃদ্ধ। তার কোন ছেলে নেই, একমাত্র মেয়ে ও মেয়ে জামাই সমীরন মন্ডলই সকল সম্পত্তির ওয়ারিশ হবেন। এ জন্য বয়োবৃদ্ধ শ্বশুরের নামে ওই জমি জাল দলিল করে নিয়ে এখন বিক্রির চেষ্টা করছেন সমীরন।

এই জাল দলিলের সঙ্গে বেলকুচি সাব রেজিষ্ট্রার, অফিসের কর্মচারি এবং দলিল লেখকও জড়িত বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান।

এদিকে ভারতে থাকা জিতেন্দ্র নাথ বলেন, আমার বাড়িতে ও মাঠে বেশ কিছু সম্পত্তি আছে। ওই সম্পত্তি আমি বিক্রি করিনি। আমি ১৮ বছর ধরে বাংলাদেশেই যাইনি। শুনলাম আমার জমি দলিল করে নিয়েছে। সমীরন একটা প্রতারক। সে ষড়যন্ত্র করেই এমনটা করেছে। আমি শীঘ্রই দেশে এসে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেব।

তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে সমীরন মন্ডল বলেন, জিতেন্দ্র নাথ মন্ডল দেশেই আছেন। আমরা তাকে ৩০ লাখ টাকা দিয়ে জমিটা কিনেছি। দেশে কোথায় আছেন-এমন প্রশ্নের কোন উত্তর না দিয়ে উল্টো সাংবাদিদেরকেই খুঁজে বের করতে বলেন।

দলিল লেখক আব্দুল মতিন বলেন, আমি কাগজপত্র ভালো পেয়েছি। এক ভাইয়ের সম্পত্তি আরেক ভাই কিনছে। আমি শুধু দলিলটা লিখে দিয়েছি। বিক্রেতা জিতেন্দ্র নাথ উপস্থিত ছিলেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি তো সেটাতো বলতে পারবো না, কাগজপত্র ভোটার আইডি কার্ড, ছবি এবং লোক আমার অফিসের সামনে জমা দিয়েছি স্যার রেজিষ্ট্রি করে দিয়েছেন। আমি তো লোকজন চিনি না।

এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে সাব-রেজিষ্ট্রার মাসুদ রানার কাছে গেলে, তিনি ভিডিও বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, আমি আইনের ছাত্র। দলিল জাল হয়েছে কিনা সেটা আদালত বুঝবে। বলেই তিনি আইনের বই খুলে দেখান সাংবাদিকদের।

জিতেন্দ্র নাথ দেশে না আসলেও তার জমি রেজিষ্ট্রি কিভাবে হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি কমিশন গঠন করে দিয়েছিলাম। অফিস সহকারির নেতৃত্বে কমিশন তার বাড়িতে গিয়ে রেজিষ্ট্রি করেছে। এখানে আমার কোন দায় নেই।

জেলা রেজিষ্টার শরীফ তোরাফ হোসেন বলেন, জাল দলিল হয় না, জাল পারসন হতে পারে। এইটা যদি কোন অভিযোগ আসে তদন্ত সাপেক্ষে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।

এদিকে স্থানীয় সূত্রমতে দীর্ঘদিন ধরেই বেলকুচি রেজিষ্ট্রি অফিসে এমন তুঘলকি কর্মকাণ্ড চলে আসছে। এখানে দলিল প্রতি দুই থেকে তিন হাজার টাকা সাব-রেজিষ্ট্রিারকে না দিলে জমি দলিল হয় না এমন অভিযোগও রয়েছে। সেই সঙ্গে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে দলিল লেখকদের বিরুদ্ধে।