সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

ভিনিসিয়ুসের বাজারমূল্যে বড় পতন

ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ছবি: এক্স/রিয়াল মাদ্রিদ

২০২৩-২৪ মৌসুমের সেই বিধ্বংসী ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের কথা মনে আছে? ক্ষিপ্র গতি আর দুর্দান্ত ড্রিবলিংয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণে ঝড় তুলে গোল করাটা যিনি প্রায় ডালভাতে রূপ দিয়েছিলেন! এবার সেই ভিনির পাশে আজকের ভিনিকে দাঁড় করান তো—পার্থক্যটা দেখে সত্যি থ বনে যেতে হয়, একেবারে আকাশ আর পাতাল!

 

 

 

পারফরম্যান্সের এমন ভাটায় স্বাভাবিকভাবেই ফুটবলারদের মূল্যও কমতে থাকে। প্লেয়ার ভ্যালুয়েশন বিশেষজ্ঞ ‘ট্রান্সফারমার্কেট’-এর সর্বশেষ আপডেটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের বাজারমূল্য আবারও কমেছে। আগের আপডেটে যা ছিল ১৪ কোটি ইউরো, সেখান থেকে ১০ মিলিয়ন কমে তা এখন ১৩০ মিলিয়ন ইউরোতে নেমে এসেছে। যা গত তিন বছরের মধ্যে তার সর্বনিম্ন।

 

 

 

 

চলতি মৌসুমে কিছুটা ধীরগতির শুরুর কারণেই তার বাজারমূল্যে এই পতন। বর্তমানে ভিনিসিয়ুস তালিকার বেশ পেছনে পড়ে গেছেন; যেখানে ২২ কোটি ইউরো বাজারমূল্য নিয়ে যৌথভাবে শীর্ষে আছেন লামিনে ইয়ামাল ও আর্লিং হালান্ড।

 

 

 

২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ক্যারিয়ারের সেরা সময় কাটিয়েছিলেন ভিনিসিয়ুস। তখন তার সর্বোচ্চ বাজারমূল্য ছুঁয়েছিল ২০ কোটি ইউরো, যা এখন কমতে কমতে ১৩ কোটি ইউরোতে এসে ঠেকেছে।

বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবলারদের তালিকায় ভিনিসিয়ুস এখন ১০ নম্বর স্থানে রয়েছেন। রিয়াল মাদ্রিদ সতীর্থ কিলিয়ান এমবাপে (৩য়) এবং জুড বেলিংহামের (৫ম) পেছনে আছেন তিনি।

 

 

 

অন্যদিকে, রিয়াল মাদ্রিদের আইভোরিয়ান তারকা ইয়ান দিওমান্দোর বাজারমূল্য ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। ৯ কোটি ইউরো থেকে একলাফে তার বাজারদর এখন ১২ কোটি ইউরোতে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে তিনি ভিনিসিয়ুসের বেশ কাছাকাছি চলে এসেছেন এবং ধারণা করা হচ্ছে খুব শিগগিরই তিনি ভিনিকে ছাড়িয়ে যাবেন।

মরিনিয়োর রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে এই মৌসুমে ৭ ম্যাচে মাত্র একটি গোল করার খারাপ ছন্দই ভিনিসিয়ুসের এই ১ কোটি ইউরো মূল্যায়ণ কমার মূল কারণ। এমনকি আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে সাম্প্রতিক ডার্বিতে তার হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে তাকে।

 

 

 

 

বিশ্বসেরা ১০ জন সবচেয়ে দামি খেলোয়াড়ের তালিকায় ভিনিসিয়ুস এখনো জায়গা ধরে রাখলেও, গত ১৮ মাসে তার বাজারমূল্য ব্যাপকভাবে কমেছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তার সর্বকালের সর্বোচ্চ বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছিল ২০ কোটি ইউরোতে, যা তাকে বিশ্বের যৌথভাবে শীর্ষ দামি খেলোয়াড়ে পরিণত করেছিল; কিন্তু সেখান থেকে এ পর্যন্ত তার মূল্যায়ন ৭ কোটি ইউরো হ্রাস পেয়েছে।

 

 

 

 

সাম্প্রতিক এই পতনের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে স্পেনের মার্কেট ভ্যালু কো-অর্ডিনেটর টবিয়াস ব্লেসিও বলেন, ‘২০২৪ সালের পর এই নিয়ে তৃতীয়বার ভিনিসিয়ুসের বাজারমূল্য কমল। ফুটবল মাঠে নিজের ভাবমূর্তি তার কখনোই খুব একটা চমৎকার ছিল না, তবে সার্বিকভাবে নিজের সেরা পারফর্মেন্সের দিনগুলো থেকে এখন অনেক দূরে আছেন। খেলার মাঠে আগের সেই চেনা দ্যুতি আর দেখা যাচ্ছে না; চারদিকে সমালোচনা হচ্ছে এবং দল হিসেবে রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়দের বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব (ইগো) তাদের দক্ষতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মাঠে একসাথে কাজ করতে পারছে না বলে মনে হয়।’

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভিনিসিয়ুসের বাজারমূল্যে বড় পতন

আপডেট টাইম : ০৯:১৪:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

২০২৩-২৪ মৌসুমের সেই বিধ্বংসী ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের কথা মনে আছে? ক্ষিপ্র গতি আর দুর্দান্ত ড্রিবলিংয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণে ঝড় তুলে গোল করাটা যিনি প্রায় ডালভাতে রূপ দিয়েছিলেন! এবার সেই ভিনির পাশে আজকের ভিনিকে দাঁড় করান তো—পার্থক্যটা দেখে সত্যি থ বনে যেতে হয়, একেবারে আকাশ আর পাতাল!

 

 

 

পারফরম্যান্সের এমন ভাটায় স্বাভাবিকভাবেই ফুটবলারদের মূল্যও কমতে থাকে। প্লেয়ার ভ্যালুয়েশন বিশেষজ্ঞ ‘ট্রান্সফারমার্কেট’-এর সর্বশেষ আপডেটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের বাজারমূল্য আবারও কমেছে। আগের আপডেটে যা ছিল ১৪ কোটি ইউরো, সেখান থেকে ১০ মিলিয়ন কমে তা এখন ১৩০ মিলিয়ন ইউরোতে নেমে এসেছে। যা গত তিন বছরের মধ্যে তার সর্বনিম্ন।

 

 

 

 

চলতি মৌসুমে কিছুটা ধীরগতির শুরুর কারণেই তার বাজারমূল্যে এই পতন। বর্তমানে ভিনিসিয়ুস তালিকার বেশ পেছনে পড়ে গেছেন; যেখানে ২২ কোটি ইউরো বাজারমূল্য নিয়ে যৌথভাবে শীর্ষে আছেন লামিনে ইয়ামাল ও আর্লিং হালান্ড।

 

 

 

২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ক্যারিয়ারের সেরা সময় কাটিয়েছিলেন ভিনিসিয়ুস। তখন তার সর্বোচ্চ বাজারমূল্য ছুঁয়েছিল ২০ কোটি ইউরো, যা এখন কমতে কমতে ১৩ কোটি ইউরোতে এসে ঠেকেছে।

বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবলারদের তালিকায় ভিনিসিয়ুস এখন ১০ নম্বর স্থানে রয়েছেন। রিয়াল মাদ্রিদ সতীর্থ কিলিয়ান এমবাপে (৩য়) এবং জুড বেলিংহামের (৫ম) পেছনে আছেন তিনি।

 

 

 

অন্যদিকে, রিয়াল মাদ্রিদের আইভোরিয়ান তারকা ইয়ান দিওমান্দোর বাজারমূল্য ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। ৯ কোটি ইউরো থেকে একলাফে তার বাজারদর এখন ১২ কোটি ইউরোতে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে তিনি ভিনিসিয়ুসের বেশ কাছাকাছি চলে এসেছেন এবং ধারণা করা হচ্ছে খুব শিগগিরই তিনি ভিনিকে ছাড়িয়ে যাবেন।

মরিনিয়োর রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে এই মৌসুমে ৭ ম্যাচে মাত্র একটি গোল করার খারাপ ছন্দই ভিনিসিয়ুসের এই ১ কোটি ইউরো মূল্যায়ণ কমার মূল কারণ। এমনকি আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে সাম্প্রতিক ডার্বিতে তার হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে তাকে।

 

 

 

 

বিশ্বসেরা ১০ জন সবচেয়ে দামি খেলোয়াড়ের তালিকায় ভিনিসিয়ুস এখনো জায়গা ধরে রাখলেও, গত ১৮ মাসে তার বাজারমূল্য ব্যাপকভাবে কমেছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তার সর্বকালের সর্বোচ্চ বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছিল ২০ কোটি ইউরোতে, যা তাকে বিশ্বের যৌথভাবে শীর্ষ দামি খেলোয়াড়ে পরিণত করেছিল; কিন্তু সেখান থেকে এ পর্যন্ত তার মূল্যায়ন ৭ কোটি ইউরো হ্রাস পেয়েছে।

 

 

 

 

সাম্প্রতিক এই পতনের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে স্পেনের মার্কেট ভ্যালু কো-অর্ডিনেটর টবিয়াস ব্লেসিও বলেন, ‘২০২৪ সালের পর এই নিয়ে তৃতীয়বার ভিনিসিয়ুসের বাজারমূল্য কমল। ফুটবল মাঠে নিজের ভাবমূর্তি তার কখনোই খুব একটা চমৎকার ছিল না, তবে সার্বিকভাবে নিজের সেরা পারফর্মেন্সের দিনগুলো থেকে এখন অনেক দূরে আছেন। খেলার মাঠে আগের সেই চেনা দ্যুতি আর দেখা যাচ্ছে না; চারদিকে সমালোচনা হচ্ছে এবং দল হিসেবে রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়দের বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব (ইগো) তাদের দক্ষতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মাঠে একসাথে কাজ করতে পারছে না বলে মনে হয়।’