নওগাঁর রাণীনগরে দোতলার জানালা কেটে ঘরে ঢুকে নগদ ১ লাখ টাকা, স্বর্ণ ও রুপার গহনা এবং মোবাইল ফোন চুরির ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) ভোররাত ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে উপজেলার কালিগ্রাম ইউনিয়নের সিলমাদার গ্রামে ফিরোজ হোসেনের বাড়িতে এ চুরির ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, চোরেরা বাড়ি থেকে নগদ ১ লাখ টাকা, ১ ভরি স্বর্ণের গহনা, ৭ ভরি রুপার গহনা এবং ১৪ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের একটি মোবাইল ফোন নিয়ে গেছে।
ফিরোজ হোসেনের মা বেগম জানান, চোরেরা দোতলার জানালা কেটে ঘরে প্রবেশ করে। যে ঘরে চুরি হয়েছে, সেখানে তাঁর ১৮ ও ২০ বছর বয়সী দুই নাতি ঘুমিয়ে ছিলেন। ওই ঘরের একটি তালাবদ্ধ বাক্সে টাকা ও গহনাগুলো রাখা ছিল। চোরেরা বাক্সের তালা ভেঙে সেগুলো নিয়ে যায়।
তিনি বলেন, ভোররাতে তাঁর পুত্রবধূ বাথরুমে যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হলে একজন অপরিচিত ব্যক্তিকে দেখতে পান। পাশেই আরেকজনকে দেখে তিনি চিৎকার দেন। এ সময় চোরেরা তাঁকে হুমকি দিয়ে বলে, চেঁচামেচি করলে তাঁর সন্তান ও শাশুড়ির ক্ষতি করা হবে। তবে হুমকি উপেক্ষা করে তিনি চিৎকার করে বাড়িতে লোক ঢোকার কথা জানান।
চিৎকার শুনে বেগম ঘর থেকে বের হয়ে এলে তাঁর পুত্রবধূ তাঁকে জড়িয়ে ধরেন। এ সময় তিন ব্যক্তি দ্রুত বাড়ির মূল দরজার ছিটকিনি খুলে পালিয়ে যায়। পালানোর সময় তারা তাঁদের লক্ষ্য করে ইট-সিমেন্টের শক্ত টুকরা ছুড়ে মারে এবং বেগমের পুত্রবধূকে লাথি মারার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বেগম আরও জানান, পরে নাতিদের ঘরে গিয়ে তাঁরা জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান। বাক্সের তালা ভাঙা ছিল এবং টাকা ও গহনাগুলো উধাও হয়ে যায়। ঘরে এক ধরনের গন্ধও পেয়েছিলেন তাঁরা। তাঁর ধারণা, চোরেরা চেতনানাশক স্প্রে ব্যবহার করেছিল। এ কারণে ঘুমন্ত দুই নাতি কিছুই টের পাননি বলে মনে করছেন তিনি।
চুরি হওয়া নগদ ১ লাখ টাকার মধ্যে ৬০ হাজার টাকা ছিল বেগমের ভাইয়ের গরু বিক্রির টাকা। শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার আগে তিনি ওই টাকা বেগমের কাছে রেখে গিয়েছিলেন।
অন্যদিকে, চুরি হওয়া স্বর্ণ ও রুপার গহনাগুলো ছিল বেগমের বোনের মেয়ে শাহনাজের। ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করা শাহনাজ শ্বশুরবাড়িতে পুরোনো ঘর ভেঙে নতুন ঘর নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ায় তিন থেকে চার মাস আগে গহনাগুলো তাঁর খালার বাড়িতে রেখে গিয়েছিলেন।
চুরির খবর পেয়ে খালার বাড়িতে ছুটে আসেন শাহনাজ। এ সময় কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “অনেক কষ্টে জমানো জিনিস ছিল, এভাবে চুরি হয়ে যাওয়া আমার জন্য অনেক কষ্টের।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাণীনগর থানার ওসি জাকারিয়া মন্ডল বলেন, “ঘটনাটি আমি তিন-চারজনের কাছ থেকে শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কেউ কোনো মামলা বা অভিযোগ নিয়ে আসেননি।”
তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগীদের থানায় এসে অভিযোগ দিতে বারবার বলা হচ্ছে। তাঁরা অভিযোগ করলে তদন্তের ক্ষেত্রে সুবিধা হবে। তবে এখনো কেউ থানায় উপস্থিত হননি।
এদিকে, এ চুরির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম। 


















