সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

১৫ বছর পার, তবুও বকেয়া পাননি গ্রামীণফোনের কর্মীরা

দেড় দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও মেলেনি শ্রমিকের ন্যায্য প্রাপ্য অর্থ। শ্রমিক লভ্যাংশ তহবিলের (ডব্লিউপিপিএফ) ৫ শতাংশ বকেয়া পাওনার দাবিতে আবারও রাজপথে নেমেছেন দেশের শীর্ষ মুঠোফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীরা।

 

 

তাদের অভিযোগ- দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে প্রায় চার হাজার কর্মী ও তাদের পরিবারকে এই লভ্যাংশ থেকে বঞ্চিত করে রেখেছে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ।

 

 

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলীতে গ্রামীণফোনের আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে ‘গ্রামীণফোন ৫ শতাংশ বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে এক মানববন্ধন ও গণ-অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। এই কর্মসূচিতে প্রতিষ্ঠানের অর্ধশতাধিক সাবেক কর্মী অংশ নেন।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সাবেক কর্মীদের অনেকের হাতে ছিল দাবি-সংবলিত প্ল্যাকার্ড। কেউ কেউ বলছিলেন দীর্ঘ অপেক্ষার কথা, কেউ বলছিলেন জীবনের অপূর্ণ স্বপ্নের কথা।

সাবেক এক কর্মী আহসানুল হক বলেন, আমি ১৫ বছর গ্রামীণফোনে কাজ করেছি। প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে নিজের শ্রম ও মেধা দিয়েছি; কিন্তু অবসরের পরও প্রাপ্য অর্থের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আদালতের আইনি প্রক্রিয়াও শেষ হয়েছে। এখন আর বিলম্বের কোনো কারণ দেখি না।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার কারণে বছরের পর বছর তাদের পাওনা আটকে রাখা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে অনেক সাবেক কর্মী মারা গেছেন। কেউ কেউ অসুস্থতা ও আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

 

 

চট্টগ্রামের সমন্বয়কারী সুলেমান মেহেদী বলেন, প্রায় চার হাজার সাবেক কর্মী ও তাদের পরিবার এই অর্থ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। আমরা সংঘাত নয়, আলোচনার মাধ্যমে একটি সম্মানজনক সমাধান চাই।

শফিকুল হত্যার জট খুলল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নওগাঁয় পুরাতন মোবাইল ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুজনকে গ্রপ্তার করেছে পুলিশ। এসময় দেশীয় অস্ত্রসহ নিহত শফিকুলের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরও একজন পলাতক আছে।

 

 

নিহত শফিকুল ইসলাম জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার তিলেকপুর গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে। গ্রেপ্তার দুজন হলেন- নওগাঁ সদর উপজেলার ভিমপুর পাঠাকাটা এলাকার সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে জয়নুল (৩৫) ও জেলার মান্দা উপজেলার সতীহাট শ্রীরামপুর এলাকার এরশাদ আলীর ছেলে আশরাফুল (২৬)।

 

 

শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে সদর মডেল থানায় সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। এর আগে শুক্রবার (১২ জুন) পৌর শহর ও মান্দা উপজেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সদর উপজেলার বারমাসি বিলে কচুরিপানার নিচ থেকে শফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত শফিকুল পুরাতন মোবাইল ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য ব্যাবসা করতেন। লোভ এবং ব্যবসায় কিছুটা লাভবান হওয়ায় ঈর্ষান্বিত হয়ে তার পূর্বপরিচিত জয়নুল, আশরাফুলসহ তিনজন গত ৭ জুন মান্দার সুতিহাটে শফিকুলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৮ জুন শফিকুলকে ভীমপুর কলেজ মোড়ে আসতে বললে সেখান থেকে দুটি মোটরসাইকেলে করে বারোমাসি বিলের পার ঘাঁটি ব্রিজে যায় তারা। সেখানে হঠাৎ করে পেছন থেকে একজন পলাতক আসামি রশি দিয়ে শফিকুলের গলায় টান দেয়। আসামি জয়নুল হাত ও আশরাফুল পা চেপে ধরে। তারপর সে নিস্তেজ হয়ে গেলে তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে তারা তিনজনে পানিতে ডুবিয়ে কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রেখে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, মরদেহ উদ্ধারের পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটনে তদন্তে নামে পুলিশের একটি টিম। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকা জয়নুলকে প্রথমে শহরের একটি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে মান্দা উপজেলা থেকে আশরাফুলকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর জয়নুল এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা স্বীকার করে। হত্যা পর শফিকুলের কাছে থাকা ১৫০০ টাকা তিনজন ভাগাভাগি করে শফিকুলের মোটরসাইকেল নিয়ে যায়।

 

 

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, জয়ব্রত পাল ও সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নাঈমকে নিয়ে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানালেন তামিম

চট্টগ্রামে জাতীয় দলের স্পিনার নাঈম হাসানের ওপর পুলিশি নির্যাতনের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল। অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার পর ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থার দাবিতে শক্ত অবস্থান নিয়েছে বিসিবি।

 

 

শুক্রবার রাতে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ খেলে চট্টগ্রামে নিজের বাসায় ফেরার পথে লালখান বাজার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের হাতে লাঞ্ছিত ও মারধরের শিকার হন নাঈম। ঘটনাটি জানার পরপরই গভীর রাতে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেন খোদ বিসিবি সভাপতি।

 

 

এ প্রসঙ্গে ফেসবুকে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, ‘নাঈম হাসানের সঙ্গে গত রাতে যা হয়েছে, কোনোভাবেই তা গ্রহণযোগ্য নয়। রাতে নাঈম আমাকে ফোন করার পর থেকে তাৎক্ষণিকভাবে যা যা করা দরকার, করার চেষ্টা করেছি আমি ও অন্য বোর্ড পরিচালকরা। সংশ্লিষ্ট সব জায়গায় আমরা কথা বলছি, নাঈম ও তার পরিবারের সঙ্গেও নিবিড় যোগাযোগ রাখছি।’

ক্রিকেটারদের সুরক্ষায় বোর্ডের অনড় অবস্থানের কথা জানিয়ে বিসিবি সভাপতি আরও বলেন, ‘বিসিবির পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে আজকে সকালেই। এরপর আরো যা যা করণীয় আছে, সবকিছু করব আমরা। নাঈম ও সব ক্রিকেটারের পাশে আমরা আছি সবসময়।’

নাঈমের হেনস্তার প্রতিবাদ জানিয়েছেন মুশফিকুর রহিম, তাসকিন আহমেদরাও। তাসকিন নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে লিখেছেন, ‘জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাইম হাসানের সঙ্গে পুলিশের এমন ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।’ ফেসবুকে মুশফিক লিখেছেন, ‘নাঈমের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।যা ঘটেছে, তা আমাকে ব্যথিত ও লজ্জিত করেছে। একজন নাগরিক হিসেবে, একজন বাংলাদেশি হিসেবে আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। নাঈম, আমরা তোমার পাশে আছি।’

নাঈমের হেনস্তার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চেয়ে টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাস ফেসবুকে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘মাথা উঁচু রাখো নাঈম। তুমি একজন ভালো মানুষ। নাঈম হাসানের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। খুবই হৃদয়বিদারক এটা।’

 

 

শনিবার সকালে দেওয়া বিসিবির আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই নজিরবিহীন ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবও পৃথক বিবৃতিতে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি তোলে।

 

 

বিসিবি সভাপতির এমন শক্ত তৎপরতার মধ্যেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘটনার সত্যতা পেয়ে খুলশী থানার এক উপপরিদর্শকসহ (এসআই) তিন পুলিশ সদস্যকে ইতিমধ্যে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান।

 

কক্সবাজার সফরে সাফারি পার্ক পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে কক্সবাজারের ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করেছেন।

 

 

শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে পিএমখালি ইউনিয়নের পাতলী খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করেন তারা। এসময় পার্কের ভেতরের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং প্রধানমন্ত্রী খুবই উচ্ছ্বসিত ছিলেন।

 

 

এ সময় সাফারি পার্কের মূল ফটকের সামনে একটি নাগলিঙ্গম গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি সাফারি পার্কের স্মারক বইয়ে স্বাক্ষর করেন। একইসঙ্গে স্মারক বইয়ে স্বাক্ষর করেন ডা. জুবাইদা রহমানও।

এর আগে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।

এর আগে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজার বিমানবন্দরে নেমে মুষল বৃষ্টির মধ্যে নিজেই গাড়ি চালিয়ে খাল খনন কর্মসূচির স্থলে যান। পাশের আসনে বসান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে।

এরপর সেখান থেকে আবারও নিজে গাড়ি চালিয়ে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে আসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

 

এ সময় পুরো রাস্তাজুড়ে হাজার হাজার স্থানীয় সাধারণ জনগণ এবং দলীয় নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ফুল ছিটিয়ে ও হাত নেড়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং স্লোগান দিতে থাকেন।

 

 

দীর্ঘ সমুদ্রসৈকতের জন্য পরিচিত কক্সবাজারে বহু পর্যটক গেলেও জেলার অন্যতম আকর্ষণ এই সাফারি পার্ক। এটি দেশের প্রথম সাফারি পার্ক। পাহাড়, বন, জলাধার আর উন্মুক্ত পরিবেশে বিচরণকারী শত শত প্রাণী নিয়ে গড়ে উঠেছে এই অনন্য বন্য প্রাণীর জগৎ।

 

 

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারায় অবস্থিত পার্কটি। চট্টগ্রাম শহর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ১০৭ কিলোমিটার। কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ৪৭ কিলোমিটার। এই সাফারি পার্কের যাত্রা শুরু ১৯৮০-৮১ অর্থবছরে। তখন ৪২ দশমিক ৫ হেক্টর বনভূমি নিয়ে এখানে একটি হরিণ প্রজননকেন্দ্র গড়ে তোলে বন বিভাগ। পরে দেশের প্রথম সাফারি পার্ক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সমাধান কি হাসপাতাল বন্ধ, নাকি জবাবদিহি নিশ্চিত করা?

সম্প্রতি রাজধানীর মগবাজারে আদ্‌-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিলের কথা এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। নবজাতকদের এই মর্মান্তিক মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

 

 

এ ঘটনার সুষ্ঠু ও‌‌ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। তবে একইসঙ্গে একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আসে- ভুল বা অপরাধ কী কোনো প্রতিষ্ঠান করে, নাকি তা করে ব্যক্তি?

 

 

বাস্তবতা হলো, কোনো প্রতিষ্ঠান ভুল বা অপরাধ করে না; বরং ভুল বা অপরাধ করে ব্যক্তি- চিকিৎসক, কর্মকর্তা, কর্মচারী কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। একটি হাসপাতাল কোনো সাধারণ প্রতিষ্ঠান নয়; এটি মানুষের জীবন, স্বাস্থ্যসেবা, আস্থা, আশা এবং কর্মসংস্থানের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। একটি হাসপাতাল গড়ে ওঠে দীর্ঘ সময়, বিপুল বিনিয়োগ, দক্ষ জনবল, ত্যাগ এবং সামাজিক আস্থার ভিত্তিতে। বিশেষত যেসব প্রতিষ্ঠান তুলনামূলক কম খরচে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে সাধারণ মানুষের নির্ভরতার জায়গা হয়ে উঠেছে, সেগুলোর কার্যক্রম হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, আদ্‌-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ১৯৯৭ সালে যাত্রা শুরু করে এবং সময়ের পরিক্রমায় এটি একটি বৃহৎ সেবামূলক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। একই প্রাঙ্গণে অবস্থিত আদ্‌-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজ ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ওই বছরের ডিসেম্বর থেকে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটিতে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। বর্তমানে সেখানে কয়েকশত শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। পাশাপাশি হাসপাতালটিতে বিপুলসংখ্যক চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। এ হাসপাতালে শালীনতা ও ধর্মীয় সংবেদনশীলতার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়। মা ও শিশু স্বাস্থ্যে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা, মেডিকেল শিক্ষা কার্যক্রম এবং ২৪ ঘণ্টা জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাজনিত মৃত্যু বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নতুন নয়। বিভিন্ন সময়ে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতালে ভাঙচুর, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা কিংবা উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে দেখা যায়। ফলে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান দিন দিন অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হচ্ছে। এ বাস্তবতায় স্বাস্থ্যখাতে জবাবদিহিতা যেমন জরুরি, তেমনি সেবার পরিবেশ ও ধারাবাহিকতা রক্ষা করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এদেশের বাস্তবতায় সরকারি হাসপাতালগুলো এখনো জনসংখ্যার তুলনায় অপ্রতুল এবং মৌলিক স্বাস্থ্যসেবাও নিশ্চিত করতে পারছে না। এ অবস্থায় বেসরকারি খাত দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। সরকারের একক প্রচেষ্টায় দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত কঠিন। ফলে অযাচিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স্বাস্থ্যখাতে বেসরকারি বিনিয়োগ ও অংশগ্রহণকে নিরুৎসাহিত করা হলে তার দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে অপেক্ষাকৃত কম খরচে চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী হাসপাতালগুলোর কার্যক্রম হঠাৎ স্থগিত হলে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে প্রত্যাশা- আইনের প্রয়োগ যেন কখনোই কোনো বিশেষ প্রতিষ্ঠান, গোষ্ঠী বা শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। বলা বাহুল্য, আমাদের সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তাই শুধু স্বাস্থ্যখাতেই নয়, শিক্ষা, বাজার নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি দমনসহ সব ক্ষেত্রেই আইনের নিরপেক্ষ, সমান ও বৈষম্যহীন প্রয়োগ নিশ্চিত হওয়া অপরিহার্য। মনে রাখতে হবে, আইনের প্রয়োগ যদি বেছে বেছে বা বৈষম্যমূলকভাবে করা হয়, তবে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে এবং জনমনে অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে।

 

 

সর্বোপরি, আদ-দ্বীন হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তবে কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তি বিশেষের সম্ভাব্য গাফিলতির দায়ে দীর্ঘদিনের সেবামূলক একটি হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়া বা এর লাইসেন্স বাতিল করা কোনো অবস্থাতেই ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত হতে পারে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত পদক্ষেপ পরিস্থিতির তুলনায় অধিক জটিল বলে মনে হচ্ছে এবং বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এটি কোনো কার্যকর সমাধান বা ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে বলেও মনে হয় না।

 

 

আমাদের দেশে যেখানে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার প্রাপ্যতা এখনো সীমিত, সেখানে একটি কার্যকর হাসপাতালের সেবা হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের ভোগান্তির কারণ হতে পারে। তাই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে হাসপাতাল বন্ধ নয়; বরং ন্যায়বিচার ও জনস্বার্থে প্রতিষ্ঠানটির স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখাই সমীচিন বলে প্রতীয়মান হয়। প্রশ্ন থেকেই যায়- আবেগতাড়িত ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে, কিংবা আইনের নিরপেক্ষ ও সর্বজনীন প্রয়োগ‌ নিশ্চিত না করে, এদেশে নিরাপদ, মানবিক ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা ও হাসপাতাল ব্যবস্থা কী গড়ে তোলা সম্ভব?

 

 

প্রফেসর ড. ফরিদ আহমদ সোবহানী

ভাইস চ্যান্সেলর

ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি, ঢাকা

 

 

সেনবাগে পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ আসামি গ্রেফতার

নোয়াখালীর সেনবাগ থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন ২০২৬ খ্রিঃ) সেনবাগ থানা পুলিশের অভিযানে সিআর গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি আব্দুল খালেক (৩২), ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মাদক ব্যবসায়ী ইস্রাফিল ওরফে শিপন (২৭) এবং নিয়মিত মামলার এজাহারনামীয় আসামি মো. আবু ইউসুফ ওরফে রাকিব (১৯)-কে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
সেনবাগ থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক ও অপরাধ দমনে তাদের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বিশ্বকাপে নামার আগে চুরির শিকার ইংল্যান্ড দল, ফুটবলারদের বুট উধাও

আসন্ন বিশ্বকাপ ফুটবলের মহারণ শুরু হওয়ার আগেই বড়সড় ধাক্কা খেল ইংল্যান্ড শিবির। যুক্তরাষ্ট্রের বেইস ক্যাম্প ক্যানসাস সিটিতে পৌঁছানোর আগেই চুরির শিকার হয়েছে থমাস টুখেলের দল। খোয়া গেছে ফুটবলারদের অনুশীলনের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম।

 

 

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে কোচ থমাস টুখেল ও তার শিষ্যদের ক্যানসাস সিটিতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তাদের আগমনের আগেই সব সরঞ্জাম বেইস ক্যাম্পে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এফএ)।

 

 

কিন্তু ক্যানসাস সিটির ‘সোয়োপ সকার ভিলেজ’ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যাওয়ার পথে সরঞ্জাম বহনকারী কয়েকটি গাড়িতে হামলা চালায় চোরেরা। গাড়িগুলোর একাংশ ভেঙে ভেতর থেকে মালামাল লুট করা হয়।

ঠিক কী কী সরঞ্জাম চুরি হয়েছে তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারেনি এফএ। তবে প্রাথমিকভাবে আশঙ্কা করা হচ্ছে অনুশীলনের জন্য নির্ধারিত অফিশিয়াল ফুটবল (বল), খেলোয়াড়দের বুট, অনুশীলনে ব্যবহৃত অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী।

শুক্রবার (১২ জুন) রাতে ঘটনার খবর পেয়েই স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা দ্রুত সোয়োপ সকার ভিলেজে ছোটেন এবং তদন্ত শুরু করেন। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিকভাবে এফএ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বুধবার (১৭ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এবারের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে থ্রি-লায়ন্সরা।

ভূমিকম্পে কাঁপল ইরাক-ইরান সীমান্ত অঞ্চল, প্রভাব মায়সানেও

ইরাক-ইরান সীমান্তবর্তী এলাকায় শনিবার সকালে একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এর কম্পন ইরাকের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মায়সান প্রদেশজুড়ে টের পান স্থানীয় বাসিন্দারা।

 

 

ভূমিকম্পটি স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৫২ মিনিটে ইরানের দেহলোরান শহরের কাছে আঘাত হানে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কিছু এলাকায় কম্পন বেশ শক্তিশালী ছিল, আবার কোথাও তা তুলনামূলকভাবে হালকা অনুভূত হয়।

 

 

তবে এখন পর্যন্ত ভূমিকম্পের মাত্রা সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি ইরাকের আবহাওয়া ও ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কর্তৃপক্ষ।

এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

ইরাকের ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিল মাসে দেশটিতে ও এর সীমান্তবর্তী এলাকায় মোট ৩৬টি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১৬টি ইরাকের ভেতরে এবং ২০টি সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সংঘটিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর স্টিয়ারিং হাতে, যাত্রী আসনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে পাশে বসিয়ে নিজেই গাড়ি চালিয়ে কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন। কর্মসূচি শেষেও নিজে গাড়ি চালিয়ে ডুলাহাজারার সাফারি পার্কে তিনি।

 

 

শনিবার (১৩ জুন) সকাল ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে কক্সবাজারে পৌঁছান তিনি। বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার পর চালকের আসনে বসে পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানস্থলের উদ্দেশে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

 

 

সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- পানিসম্পদ মন্ত্রী শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, শাহজাহান চৌধুরীসহ স্থানীয় প্রশাসন ও দলীয় নেতারা।

দিনব্যাপী এ সফরে প্রধানমন্ত্রী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন, পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, জনসভা ও সুধী সমাবেশসহ একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

সব কর্মসূচি শেষে রাতে তিনি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করবেন।

প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হলো যুবদল নেতা মাসুদকে

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ নামের এক যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

 

 

শনিবার (১৩ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

 

নিহত মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী এলাকার মৃত খালেদ চৌধুরীর ছেলে। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বেতাগী ইউনিয়ন থেকে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ছিলেন।

 

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, দুপুরে রাউজানের পাহাড়তলী চৌমুহনীতে অবস্থানকালে মাসুদকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। এলাকাবাসীর ধারণা, বালুর ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।

হত্যাকাণ্ডের খবর রাঙ্গুনিয়া ও রাউজানে ছড়িয়ে পড়লে দুই উপজেলার যুবদল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনার প্রতিবাদে কাপ্তাই সড়কের ইছাখালী (রাঙ্গুনিয়া) ও পাহাড়তলী (রাউজান) এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ কর্মী-সমর্থকরা। দুপুর ১টার পর থেকে কাপ্তাই সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

বিক্ষুব্ধ জনতা জানান, এ জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন ও সড়ক অবরোধ অব্যাহত থাকবে। তবে মানবিক কারণে শুধুমাত্র অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবার যানবাহনগুলো ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।

রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যার খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে।

 

 

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কাপ্তাই সড়কের দুই উপজেলার সীমান্ত এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ভিডিও বিতর্কে পদ হারালেন নারী প্যানেল চেয়ারম্যান

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান মোছা. খাদিজা বেগমকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

 

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি আপত্তিকর ভিডিও এবং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে অসদাচরণসহ বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় জেলা প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

 

 

জানা গেছে, গত ১০ জুন জেলা প্রশাসক অন্নাপূর্ণা দেবনাথ স্বাক্ষরিত এক আদেশে খাদিজা বেগমকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম সচল রাখতে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ফিরোজ কবিরকে প্রশাসকের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান খাদিজা বেগম। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পরিষদের একাধিক সদস্যের সঙ্গে তার বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে ইউপি সদস্যরা তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ, স্বেচ্ছাচারিতা এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন।

এরই মধ্যে কয়েকদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খাদিজা বেগমের একটি আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি এবং এর কয়েকটি স্ক্রিনশট দ্রুত ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভাইরাল হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। একজন জনপ্রতিনিধির এমন কর্মকাণ্ডে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।

 

 

অন্যদিকে, অভিযোগগুলোর বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

 

 

এ বিষয়ে খাদিজা বেগমের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

 

 

নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ. এম. খোদাদাদ হোসেন বলেন, শুধু ভিডিও ভাইরাল হওয়ার কারণে খাদিজা বেগমকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ ছিল। এসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

 

তিনি আরও বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও জনসেবা অব্যাহত রাখার স্বার্থে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

 

 

ধর্ষণের অভিযোগে শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতাকে আটক

কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর লাকসামে উদ্ধার ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও জোর করে ভ্রুণ নষ্ট করার অভিযোগে মামলা হয়েছে।

 

 

পুলিশ দাবি করছে, জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি; তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন। শুক্রবার রাতে কুমিল্লা জেলা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

 

অভিযুক্ত জিসান মিয়া প্রধান ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিমের সাবেক সভাপতি ছিলেন।

শনিবার বেলা ১টার দিকে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান বলেন, ভুক্তভোগীর করা মামলায় জিসান মিয়া প্রধান আসামি। তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশি হেফাজতে চিকিৎসাধীন।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, জিসান মিয়া প্রধান গত ২০ মে দাউদকান্দিতে তার ভাড়া বাসায় ওই তরুণীকে নিয়ে যান। সেখানে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হলে ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে তার গর্ভের ভ্রূণ নষ্ট করা হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ঘটনার পর তিনি জিসানের কাছে বিয়ের দাবি জানালে জিসান প্রথমে সম্মতি দিলেও পরে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে গত বৃহস্পতিবার তিনি আত্মগোপনে চলে যান। একই সময় তার চাচাতো ভাই রাসেল আহমেদের মাধ্যমে থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

 

 

এদিকে, নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর শুক্রবার রাতে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে জিসানকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

 

 

দাউদকান্দি মডেল থানার তদন্ত পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) সামছুল আলম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে অপহরণের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং ব্যক্তিগত ও প্রতারণামূলক একটি ঘটনার জেরে জিসান নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে এক নারী ধর্ষণ, ভ্রূণ নষ্টসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে মামলা করেছেন।

 

ফিলিপাইনে ভূমিকম্পের তাণ্ডব, প্রাণহানি বেড়ে ৬১

ফিলিপাইনের মিন্দানাও অঞ্চলে চলতি সপ্তাহে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬১ জনে পৌঁছেছে। শনিবার দেশটির কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে এখনও উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

 

 

ফিলিপাইনের বেসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তর জানায়, ধ্বংসস্তূপ ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে আরও মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে।

 

 

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত ৩৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১,২২১ জন।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিধস ও ভবন ধসের ঘটনায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে জরুরি সেবা কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। জীবিতদের খোঁজার পাশাপাশি নিহতদের মরদেহ উদ্ধারের কাজও চলছে।

ভূমিকম্পে মিন্দানাও অঞ্চলে মোট ৫ লাখ ৫৩ হাজার ৬৮ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে প্রায় ৯ হাজার ৩৯৩ জন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। এছাড়া ৫৪ হাজার ২৭৪ জন আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের বাড়িতে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিয়েছেন।

 

 

প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির হিসাবে দেখা গেছে, ৮ হাজার ৮৬৫টি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং আরও ৩৬ হাজার ৬৯১টি বাড়ি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 

 

উদ্ধারকাজে বারবার আফটারশক, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে অনেক দুর্গত এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধার সহায়তা পৌঁছাতে বিলম্ব হচ্ছে।

 

 

চলতি সপ্তাহে মিন্দানাও উপকূলের কাছে আঘাত হানে ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প। এতে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘরবাড়ি, স্কুল, হাসপাতালসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

ঝিনাইদহে কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টা, রিকশাচালককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে প্রতিবেশী এক কিশোরীকে (১১) ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মীর ফারুক (৪০) নামের এক রিকশাচালককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী।

 

 

শনিবার (১৩ জুন) সকালে উপজেলার বলিদাপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

 

 

অভিযুক্ত মীর ফারুক ঝিনাইদহ সদর উপজেলার চণ্ডিপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা।

 

 

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বলিদাপাড়া এলাকার একটি ভবনের ফ্ল্যাটে সাবলেট হিসেবে সপরিবারে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছিলেন মীর ফারুক। শুক্রবার দিবাগত রাতে একই ফ্ল্যাটে সাবলেটে থাকা প্রতিবেশীর ১১ বছরের কন্যাসন্তানকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান ফারুক। শনিবার সকালে ভুক্তভোগী শিশুটি বিষয়টি তার মাকে জানায়।

পরবর্তীতে ঘটনাটি জানাজানি হলে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত ফারুককে আটক করে গণপিটুনি দেয় এবং পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফারুককে উদ্ধার করে। গণপিটুনিতে আহত হওয়ায় তাকে চিকিৎসার জন্য কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন জানান, এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তাড়াশে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার শপথ

মাদকের বিষাক্ত ছোবল নির্মূল এবং আগামীর প্রজন্মকে একটি সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ উপহার দেওয়ার লক্ষ্যে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের মাঝদক্ষিনা গ্রামে মাদকবিরোধী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দেশীগ্রাম এন্টি ড্রাগস এন্ড ক্রাইম ইউনিটের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং এলাকার সচেতন মাঝদক্ষিনা যুব সমাজের আন্তরিক সহযোগিতায় গ্রামের খোলা মাঠে এ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় মুরুব্বি, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিত ছিলেন। মাঠজুড়ে মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে এলাকাবাসী মাদকের বিরুদ্ধে কতটা সোচ্চার।
সভায় বক্তারা মাদকের ভয়াবহ কুফল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তারা বলেন, মাদক শুধু একজন মানুষের জীবনই নষ্ট করে না, এটি একটি পরিবারকে তিলে তিলে শেষ করে দেয়। মাদকের কারণে যুবসমাজ নৈতিকতা হারাচ্ছে, বাড়ছে সামাজিক অপরাধ। তাই সময় থাকতেই সবাইকে সচেতন হতে হবে। বক্তারা বিশেষভাবে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমরাই জাতির ভবিষ্যৎ। মাদককে না বলে বই-খাতা ও খেলাধুলার সাথে থাকো। তোমাদের হাত ধরেই দেশ এগিয়ে যাবে।
আলোচনার এক পর্যায়ে বক্তারা মাদক ব্যবসায়ীদের সামাজিকভাবে বয়কট করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি এলাকায় মাদক সংক্রান্ত কোনো তথ্য পেলে তাৎক্ষণিকভাবে দেশীগ্রাম এন্টি ড্রাগস ইউনিট বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর পরামর্শ দেন। যুবসমাজের উদ্যোগে নিয়মিত খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেও তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখার কথা বলা হয়।
সভার শেষ দিকে উপস্থিত সকলে মাদকমুক্ত দেশীগ্রাম ইউনিয়ন গড়ার শপথ নেন। দেশীগ্রাম এন্টি ড্রাগস এন্ড ক্রাইম ইউনিটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শুধু এই সভার মধ্য দিয়েই তাদের কার্যক্রম শেষ হবে না। ভবিষ্যতে ইউনিয়নের প্রতিটি এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হবে এবং স্কুল-কলেজগুলোতে সেমিনারের আয়োজন করা হবে। মাঝদক্ষিনা যুব সমাজের সদস্যরা বলেন, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতা পেলে তারা মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে সর্বদা মাঠে থাকবেন।
এমন সুন্দর আয়োজনের জন্য এলাকাবাসী দেশীগ্রাম এন্টি ড্রাগস ইউনিট এবং মাঝদক্ষিনা যুব সমাজকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অটোরিকশা ছিনতাই: ভুরুঙ্গামারীতে গ্রেপ্তার ২

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ছিনতাইকারী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন ফেরদৌস রহমান অন্তর (২৮) ও মাসুদ মিয়া (২৫)। আটককৃত ছিনতাইকারীদের কাছে থেকে তিন পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে পুলিশ।
কুড়িগ্রাম ভুরুঙ্গামারী উপজেলার বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ ভরতের ছড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গত ৩১ মে সকাল ৮ টা থেকে ১১ টার মধ্যে ছিনতাইকারী তাদের অবৈধ পন্থা ব্যবহার করে অটোরিকশা ছিনতাই করে নিয়ে যায়।
প্রথমে যাত্রী বেসে রিক্সায় উঠেন ছিনতাইকারীর দল। এরপর ভুরুঙ্গামারী বাসস্ট্যান্ড থেকে নাগেশ্বরী পথে রওনা হন। যাত্রা পথে দুর্বৃত্তরা রিক্সা চালক মোঃ রকি (১৯) কে কৌশলে ক্যামিক্যাল যুক্ত পানি পান করান। তারপরে অসুস্থ হয়ে নেতিয়ে পড়েন চালক। অসচেতন অবস্থায় রিক্সা থেকে রকি কে নামিয়ে রিক্সা নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যান ছিনতাইকারী।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে তার নানা মোঃ রুস্তম আলী (৭৩) ভুরুঙ্গামারী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরে অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে একটি রিক্সা চোর ও ছিনতাই চক্রের খবর পেয়ে আটক অভিযান শুরু করেন।

মন্দিরের সম্পত্তি রক্ষায় শরীয়তপুরে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সমাবেশ

শরীয়তপুর সদর উপজেলার বুড়িরহাট বাজারস্থ শ্রী শ্রী রাধা মাধব মন্দিরের সম্পত্তি রক্ষা ও উদ্ধারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়। শনিবার (১৩ জুন) বেলা ১২ টার দিকে শ্রী শ্রী রাধা মাধব মন্দিরের ভক্তবৃন্দের ব্যানারে বুড়িরহাটে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

 

 

 

ওই মন্দিরের সভাপতি বিশ্বনাথ বোস ও সাধারন সম্পাদক রাম কৃষ্ণ দেবনাথের নেতৃত্বে এ কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যক হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন অংশ্রগ্রহণ করেন।

 

 

 

 

কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, শরীয়তপুর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সাধারন সম্পাদক মানিক ব্যানার্জী কুটচাল করে মন্দিরের সম্পত্তি নিজ নামে জাল দলিল করে নেয়। বারবার ওই সম্পত্তি ফেরত দিবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েও কথা রাখেনি। আমরা ভূমিদস্যু মানিক ব্যানার্জীর কালো ধাবা থেকে মন্দিরের সম্পত্তি রক্ষা চাই। এজন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, জাতীয় সংসদের হুইপ ও শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম এবং শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. সফিকুর রহমান কিরনের কাছে সুদৃষ্টি কামনা করছি।

 

হারানো দিনের স্মৃতি

 

মহসিন আলম মুহিন

 

 

হারানো দিনের স্মৃতি,পুরনো দিনের যত গীতি,
ভিড় করে কাছে ডাকে,দেখায় পুরনো প্রীতি।।
কোকিলের কুহুতান, ফুলের বাগান, বহতা নদী;
খেলার মাঠ, পুকুর ঘাট, সাথীদের নানা খুনসুটি।।
ঝড়ের দিনে আম কুড়ানো বৃষ্টি ভেজা গা,
রংধনুর সাত রং মাখা-আকাশের আঙ্গিনা।।
নানি-দাদিদের গল্প শুনে নামতো যে চোখে ঘুম,
দাদা-নানাদের বন্যার কালে-মাছ ধরার ছিলো ধুম।।
ওলাওঠার ভয়, ডায়রিয়ায় ক্ষয়, কত যে প্রিয় মুখ!
আজও কাঁদায় তাদের স্মৃতি, হাহাকার করে বুক।।
আজকের মত বিদ্যুৎ ছিলো না! ছিলো শীতল পাটি,
প্রকৃতির হাওয়ায়, তালের পাখায় স্নিগ্ধ ছিলো মাটি।।
গ্রাম-গঞ্জ, হাট-বাজার, খেলাধুলা সবখানে ছিলো মায়া,
মানুষে মানুষে মিল ছিলো বড়, ছিলোনা কালো ছায়া।।
আধুনিকতার ছোঁয়া পেলো, আজ উন্নত শহর-নগর,
তবুও কেন ফাঁকা লাগে সব, ছাড়ে না মনের ফাঁপড়।।

বার কাউন্সিলের এমসিকিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ জাইমা রহমান

 

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের অধীন অধস্তন আদালতে আইনজীবী তালিকাভুক্তির প্রথম ধাপের এমসিকিউ পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে পাস করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।

 

 

 

শুক্রবার (১২ জুন) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া স্টোরিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন তিনি।

 

 

 

জাইমা রহমান লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমি আপনাদের কাছে ছোট একটি ব্যক্তিগত সাফল্যের কথা শেয়ার করতে চাই। আমার দেশে আইন প্র্যাকটিসের জন্য আজ বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের প্রথম ধাপ এমসিকিউ পরীক্ষায় অংশ নিই। আল্লাহর রহমতে সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি।’

 

 

জানা গেছে, এবারের পরীক্ষায় জাইমা রহমান বিএএফ শাহীন কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিয়েছিলেন।

 

এর আগে শুক্রবার সকালে ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এদিন রাতেই বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে এমসিকিউ পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। এতে মোট ৯ হাজার ২০১ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন।

 

 

চলতি বছরের এ পরীক্ষায় আবেদন করেছিলেন ৩৭ হাজার ৮০ পরীক্ষার্থী। উত্তীর্ণদের তালিকা দেখতে এখানে ক্লিক করুন

 

 

 

এদিকে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তি পরীক্ষা তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমে এমসিকিউ, এরপর লিখিত এবং সর্বশেষ মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। তিন ধাপেই উত্তীর্ণ প্রার্থীরা আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার সুযোগ পান।

 

বিশ্বকাপ খেলা দেখে ফেরার পথে ঝরে গেল আসিফের প্রাণ

বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনায় মেতে ওঠা এক তরুণের জীবন থেমে গেল সড়ক দুর্ঘটনায়। সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সিফু আহমেদ আসিফ (১৯) নামে এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন।
শনিবার (১৩ জুন) ভোররাত ৩টার দিকে রায়গঞ্জ-পাঙ্গাসী সড়কের রায়গঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সিফু আহমেদ আসিফ উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে। তিনি রায়গঞ্জের সরকারি বেগম নুরুন নাহার কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখার পর ভোররাতে মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে বের হন আসিফ। একপর্যায়ে রায়গঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের গেটের সামনে পৌঁছালে তিনি মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের দেয়ালের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খান। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তিনি মারা যান।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহসানুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
আসিফের অকাল মৃত্যুতে তার পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, সহপাঠী ও বন্ধুদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সরকারি বেগম নুরুন নাহার কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকেই তার স্মৃতিচারণ করে শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
যে রাতে বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনায় মেতেছিল কোটি মানুষ, সেই রাতেই সড়ক দুর্ঘটনায় নিভে গেল এক সম্ভাবনাময় তরুণের জীবন। আসিফের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে নিশ্চিন্তপুর গ্রামসহ পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে।

আজ সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী

আজ শনিবার (১৩ জুন) সাবেক স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী। সিরাজগঞ্জ থেকে জাতীয় রাজনীতিতে যে কজন নেতৃত্ব দিয়েছেন তার মধ্যে অন্যতম ছিলেন মোহাম্মদ নাসিম।

 

 

 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর শহীদ এম মনসুর আলীর মেজ ছেলে মোহাম্মদ নাসিম ১৯৪৮ সালের ২ এপ্রিল সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের কুড়িপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। আশির দশক থেকে শুরু করে তিনি টানা পাঁচ দশক জাতীয় রাজনীতিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুব বিষয়ক সম্পাদক, এরপর প্রচার সম্পাদক, তারপর টানা দুই মেয়াদে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১২ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যের পাশাপাশি ১৪ দলের সমন্বয়কের দায়িত্বে ছিলেন নাসিম।

 

 

 

টানা চার বারসহ মোট ছয় বারের সংসদ সদস্য নাসিম ১৯৯১ সালে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে প্রথমে ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ছিলেন। পরবর্তীকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০১৪ সাল থেকে তিনি পাঁচ বছর স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

 

 

 

২০২০ সালের ১৩ জুন করোনায় আক্রান্ত হয়ে ঢাকার শ্যামলীতে অবস্থিত বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিরবিদায় নেন মোহাম্মদ নাসিম।

 

 

 

২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয় না। তবে ফেসবুকে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা স্ট্যাটাস দিয়ে শোক প্রকাশ করেন।

 

মালয়েশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার আদলে শিক্ষাব্যবস্থা উন্নয়নের পরিকল্পনা চলছে: শিক্ষামন্ত্রী

 

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আমরা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে নিয়ে যাব। ইতোমধ্যে আমরা বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে মালয়েশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার মানদণ্ডে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছি।

 

 

 

তিনি বলেন, দেশের বিশাল জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে রূপান্তর করতে এবং আগামীর স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

 

 

 

শুক্রবার (১২ জুন) চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আয়োজনে স্টার্ট-আপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবন ধারণা প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

 

মন্ত্রী বলেন, আমরা আগে যে ধরনের মুখস্থনির্ভর শিক্ষা গ্রহণ করেছি, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা সেটির চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা মূলত ইনোভেশন, স্টার্ট-আপ এবং প্রজেক্ট বেইজড। শিক্ষার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে।

 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান রাসেল। প্রদর্শনীতে ৬ কলেজসহ উপজেলার মোট ২৬ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে।

 

 

শিক্ষার্থীরা এখানে তাদের উদ্ভাবনী চিন্তার মোট ২৯ প্রজেক্ট উপস্থাপন করে। প্রতিযোগিতা শেষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ী, প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদের মাঝে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয়।

 

 

 

প্রজেক্ট প্রদর্শন প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছে কচুয়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। দ্বিতীয় হয়েছে রহিমানগর বিএবি উচ্চ বিদ্যালয় ও তৃতীয় হয়েছে গুলবাহার সরকারি টেকনিকেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

 

 

 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন— উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু নাছির, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তপু আহমেদ, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাওকাত হোসেন সুমন, ভারপ্রাপ্ত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলী আশরাফ, কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল ইসলাম আকাশ, শিক্ষক, সুধী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।

 

ধর্ষণ মামলার আসামি শিবির নেতা, আত্মগোপনকে সাজালেন ‘অপহরণ নাটক’

 

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে কুমিল্লা জেলা পুলিশ।

 

 

 

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, জিসান মিয়া প্রধান গত ২০ মে দাউদকান্দিতে তার ভাড়া বাসায় ওই তরুণীকে নিয়ে যান। সেখানে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হলে ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে তার গর্ভের ভ্রূণ নষ্ট করা হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

 

 

 

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ঘটনার পর তিনি জিসানের কাছে বিয়ের দাবি জানালে জিসান প্রথমে সম্মতি দিলেও পরে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে গত বৃহস্পতিবার তিনি আত্মগোপনে চলে যান। একই সময় তার চাচাতো ভাই রাসেল আহমেদের মাধ্যমে থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

 

 

এদিকে, নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর শুক্রবার রাতে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে জিসানকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

 

দাউদকান্দি মডেল থানার তদন্ত পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) সামছুল আলম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে অপহরণের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং ব্যক্তিগত ও প্রতারণামূলক একটি ঘটনার জেরে জিসান নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে এক নারী ধর্ষণ, ভ্রূণ নষ্টসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে মামলা করেছেন।

 

 

 

 

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে জিসান কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে করা মামলার অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

 

পরিবার জানায়, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল মসজিদে এশার নামাজ আদায়ের পর থেকে জিসানের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। রাত সাড়ে ৮টার পর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও পরিবারের সদস্যরা তার সন্ধান পাননি।

 

 

 

 

চিকিৎসাধীন অবস্থায় জিসান জানিয়েছেন, দাউদকান্দি মডেল মসজিদের সামনে থেকে তাকে একটি গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়েছিল। এরপর থেকে আমি আর কিছু বলতে পারি না বা মনে করতে পারছি না।

 

 

 

 

অভিযুক্ত জিসান মিয়া প্রধান বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক। তিনি সংগঠনটির কুমিল্লা পশ্চিম জেলা শাখার সাবেক সভাপতিও ছিলেন।

 

 

 

উল্লেখ্য, মামলায় আনা অভিযোগগুলো বর্তমানে তদন্তাধীন।

 

 

জনপ্রতিনিধিদের সাড়া না পেয়ে নিজেদের টাকায় রাস্তা মেরামত করলেন গ্রামবাসী

বারবার আবেদন করেও মেলেনি জনপ্রতিনিধিদের সাড়া। অবশেষে দীর্ঘদিনের চরম ভোগান্তির প্রতিবাদ জানাতে নিজেদের অর্থায়নে রাস্তা মেরামতের অনন্য উদ্যোগ নিয়েছেন জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নের রসুলপুর পকপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাহমুদপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রসুলপুর পকপাড়া গ্রামে প্রায় দুই শতাধিক পরিবারের বসবাস। গ্রামের একমাত্র ইটসলিং রাস্তাটি গত ৫-৬ বছর আগে নির্মাণ করা হলেও দীর্ঘদিন কোনো সংস্কার করা হয়নি। ফলে ইট উঠে গিয়ে রাস্তাটিতে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ এই রাস্তাটি চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়ায় স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন। বিশেষ করে এলাকার কৃষিপণ্য অটোভ্যানে করে বাজারে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

জনপ্রতিনিধিদের এমন উদাসীনতার প্রতিবাদে এবং ভোগান্তি থেকে বাঁচতে গ্রামের মানুষ নিজেদের মধ্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে টাকা তুলে একটি তহবিল গঠন করেন। পরবর্তীতে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে শুক্রবার (১২ জুন) সকাল থেকে নিজেদের অর্থায়নে রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু করেন তারা।

 

রাস্তা মেরামতের কাজ করার সময় স্থানীয় আব্দুর ইউসুফ নামের এক যুবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা ইউনিয়ন পরিষদেও গিয়েছি, কিন্তু সেখানে কাজের কোনো উদ্যোগ বা বরাদ্দের খবর পাওয়া যায়নি। তারা আমাদের সবসময় বলে যে কোনো বরাদ্দ নেই। তাই নিরুপায় হয়ে আমরা গ্রামবাসী নিজেদের খরচে এই রাস্তা মেরামতের কাজ করছি। এখানে প্রায় ৫০ হাজার টাকার মতো ব্যয় হচ্ছে। আমরা আশা করি, ইনশাআল্লাহ আগামী দিনে সরকার যেন এই রাস্তার দিকে নজর দেয় এবং দ্রুত এটি কার্পেটিংয়ের ব্যবস্থা করে।

 

এই সংস্কার কাজের উদ্দ্যোক্তা আসলাম মন্ডল বলেন, আমরা রসুলপুর পকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে আমরা চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছি। রাস্তার এই বেহাল দশা নিয়ে আমরা বারবার ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার এবং এমনকি ইউএনও সাহেবের কাছেও গিয়েছি। কিন্তু কেউ আমাদের এই রাস্তার কোনো কাজ করে দেয়নি। বিগত ১৫ বছর আওয়ামী লীগ সরকার গিয়েছে, ১৫ বছর বিএনপি গিয়েছে- কিন্তু কেউ আমাদের এই রাস্তায় একটা টাকারও কাজ করে দেয়নি! সব জায়গায় ব্যর্থ হওয়ার পর আমরা গ্রামের মানুষ নিজেরা মিলে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা তুলে তহবিল গঠন করেছি। এখন নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে আমরা নিজ হাতে এই রাস্তা মেরামতের কাজ করছি। আমাদের মাহমুদপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিলন মন্ডল আমাদের এই রাস্তার বিষয়টি ইউএনও সাহেবকেও কখনো জানাননি এবং এই রাস্তার প্রতি কোনো নজর দেননি।

 

রাস্তা মেরামতের কাজে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা আজিজার, জালাল, একরামুল, মিটু, হাশেম আলীসহ গ্রামবাসীরা দাবি করে জানান, চেয়ারম্যান-মেম্বারের কাছে বারবার গিয়ে শুধু আশ্বাসই পেয়েছি, কোনো কাজ হয়নি। আমাদের দুর্ভোগ কেউ দেখে না। তাই বাধ্য হয়ে গ্রামের সবাই মিলে টাকা তুলে রাস্তা মেরামত করছি। আমরা দ্রুত এই রাস্তাটি কার্পেটিং করার দাবি জানাচ্ছি।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রেজাউল করিম বলেন, ওই গ্রামবাসী আমার কাছে এসেছিল এবং আমি প্যানেল চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানিয়েছি। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় কাজ করা সম্ভব হয়নি।

 

মামুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মিলন মন্ডল গ্রামবাসীর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, এলাকাবাসী নিজস্ব অর্থায়নে রাস্তা মেরামত করছে, এটি অবশ্যই প্রশংসনীয়। আগামীতে বরাদ্দ এলে রাস্তাটির স্থায়ী উন্নয়ন কাজ করা হবে।

 

যোগাযোগ করা হলে ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা চৌধুরী জানান, গ্রামবাসীর নিজস্ব অর্থায়নে রাস্তা মেরামতের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি দ্রুত ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে আগামী বরাদ্দে এই রাস্তার স্থায়ী কাজ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

ক্ষেতলালে ২শ বছরের ঐতিহ্যবাহী সন্যাসতলীর ঘুড়ির মেলা

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় তুলশীগঙ্গা নদীর তীরবর্তী সন্যাস মন্দিরে পূজা উদযাপন উপলক্ষে বসেছে ২ দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ির মেলা। গ্রামীণ এই মেলাটি স্থানীয়ভাবে ‘সন্যাসতলীর ঘুড়ির মেলা’ হিসেবে পরিচিত। লোকজ সংস্কৃতি, দুই শতাব্দীর পুরোনো ঐতিহ্য আর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অভূতপূর্ব মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে এই আয়োজন।

 

মেলার সঠিক ইতিহাস কেউ নিশ্চিত করে বলতে না পারলেও জনশ্রুতি রয়েছে, সন্যাসী পূজাকে কেন্দ্র করে দুইশত বছরেরও বেশি সময় আগে এই মেলার উৎপত্তি ঘটে। সেই থেকে পঞ্জিকা অনুসারে প্রতি বছর জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষ শুক্রবার সকাল থেকে বসে এই ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ মেলা।

 

শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই বিভিন্ন দোকানিরা মেলাপ্রাঙ্গণে পসরা সাজিয়ে বসেন। বিকেল গড়ানোর সাথে সাথে মানুষের ঢল নামে পুরো এলাকায়। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মন্দিরে পূজা অর্পণ করলেও এই উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে সব ধর্মের মানুষের মাঝে। মেলাকে ঘিরে আশপাশের কয়েকটি গ্রামে বিরাজ করছে উৎসবের আবহ; ঘরে ঘরে চলছে জামাই ও দূর সম্পর্কের স্বজনদের আপ্যায়নের ধুম।

 

রং-বেরঙের ঘুড়ি এই মেলার মূল আকর্ষণ হলেও, বর্তমানে এর পরিধি অনেক বেড়েছে। মেলায় বসেছে রকমারি মিষ্টির দোকান, যেখানে বিভিন্ন আকারের আকর্ষণীয় মিষ্টি ও চিনির শাহী জিলাপি দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করছে।

 

এছাড়া মেলায় বাঁশ, কাঠ ও লোহার তৈরি গৃহস্থালি সামগ্রী এবং গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরার নানা যন্ত্রের আমদানি নজর কাড়ছে ক্রেতাদের। শিশুদের খেলনা এবং প্রসাধন সামগ্রীর দোকানেও দেখা গেছে উপচে পড়া ভিড়।

 

মেলায় আসা স্থানীয় মহব্বতপুর গ্রামের দুলাল ও জিয়াপুরের কাজী রফিকুল বলেন, আমাদের বাবা-দাদারা এই মেলায় আসতেন, আমরাও প্রতি বছর এখানে কেনাকাটা করতে আসি। এটি আমাদের আবেগের জায়গা।

 

শুধু স্থানীয়রাই নন, দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষেরও ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।

 

নওগাঁ জেলা থেকে আসা ফারুক হোসেন, বগুড়ার সোনাতলার নিতাই চন্দ্র এবং দিনাজপুরের বিরামপুর থেকে আসা আলিফ হোসেন জানান, প্রতি বছর তাঁরা মূলত রঙ-বেরঙের ঘুড়ি কিনতেই এই সন্যাসতলীর মেলায় ছুটে আসেন।

দিনব্যাপী এই মেলাটি সরকারিভাবে ইজারা প্রদান করা হয়। স্থানীয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে উন্মুক্ত ডাকে অংশগ্রহণ করে ইজারা নিয়ে এই মেলার আয়োজন করেন।

 

ক্ষেতলাল উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মামুন বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই মেলার মূল আকর্ষণ ঘুড়ি। তবে এটি এখন এই অঞ্চলের সব ধর্মের মানুষের একটি বড় উৎসবে পরিণত হয়েছে।

 

সন্যাস মন্দির কমিটির সভাপতি মন্টু চন্দ্র বলেন, প্রায় দুইশত বছরের পুরোনো এই মেলাটি আমরা হিন্দু-মুসলিম সবাই মিলে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে পরিচালনা করি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা এখানে আসেন। এই মেলা আমাদের দীর্ঘদিনের সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

 

একদিন ব্যাপী এই মেলায় আগত হাজার হাজার দর্শনার্থী ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ছিল তৎপর। ক্ষেতলাল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল করিমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ টিমকে মেলাপ্রাঙ্গণে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

 

আধুনিকতার ভিড়ে যখন গ্রামীণ লোকজ সংস্কৃতি হারিয়ে যেতে বসেছে, তখন জয়পুরহাটের এই সন্যাসতলীর মেলা আজও টিকিয়ে রেখেছে গ্রামীণ ঐতিহ্য, সম্প্রীতি আর মানুষের আত্মিক মেলবন্ধন।

যে কারণে ফেসবুক-মেসেঞ্জারে বিভ্রাট

প্রায় এক ঘণ্টা বিভ্রাটের পর মেটা মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, মেসেঞ্জার ও ইনস্টাগ্রাম সচল হচ্ছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুরোপুরি সচল হয়নি।

 

বিভ্রাট পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ডাউনডিটেক্টরের তথ্যানুযায়ী, শুক্রবার (১২ জুন) সন্ধ্যা পর্যন্ত এক লাখের বেশি ব্যবহারকারী ফেসবুকে সমস্যার অভিযোগ জানান। একই সময়ে প্রায় ১০ হাজার ব্যবহারকারী ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারে এবং লগইন করতে সমস্যার কথা জানান।

 

ডাউনডিটেক্টর জানায়, বাংলাদেশে শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ২১ মিনিটের পর থেকেই ফেসবুক আইডিতে লগইন করা যায়নি। যেগুলো ছিল, সেগুলোও অটো লগআউট হয়ে যাচ্ছিল। আবার অ্যাপ বা ওয়েবসাইট রিলোড হতে দেরি হওয়া এবং নিউজফিড আপডেট না হওয়ার মতো সমস্যার কথা জানিয়েছেন অনেকে অনেক ব্যবহারকারী।

 

ফেসবুকের মূল অ্যাপ, মেসেঞ্জার এবং ইনস্টাগ্রামের বিভিন্ন ফিচার ব্যবহার করতে গিয়ে অনেক ব্যবহারকারী ত্রুটি বার্তা পাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে মেটা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিভ্রাটের কারণ জানায়নি। তবে প্রতিষ্ঠানটির স্ট্যাটাস ওয়েবসাইটে ফেসবুক অ্যাডস ম্যানেজার সেবায় ‘উচ্চমাত্রার বিঘ্ন’ দেখা দেওয়ার তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

 

মেটার পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘আমাদের প্রকৌশল দল বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছে এবং যত দ্রুত সম্ভব সমস্যা সমাধানে কাজ করছে।’

 

সাবেক মন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী শনিবার

বিংশ শতাব্দীর যে সকল রাজনীতিবিদ বাংলার মুসলমানদের ভাগ্য পরিবর্তনের  ব্রত নিয়ে কাজ করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ। শনিবার (১৩ জুন) তাঁর ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি ১৯০০ সালে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের কয়েলগাতী গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। তাঁর পিতা দেরাজ উদ্দিন তালুকদার ও মাতা করিমুন্নেসা চৌধুরী।

 

আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হতে এম, এ ও বিএল পাশ করার পর সিরাজগঞ্জ বারে আইনপেশায় নিয়োজিত হন। তিনি বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী ছিলেন। আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ১৯২৭ সালে পাবনা ডিষ্ট্রিক্ট বোর্ডের সদস্য ও পরবর্তীতে সিরাজগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৩৭ সালে এম.এল.এ নির্বাচিত হন।

 

১৯৪২সালে তিনি বেঙ্গল প্রভিনশিয়াল মুসলিমের এসিট্যান্ট সেক্রেটারী নিযুক্ত হন। ১৯৪২ সালে তাঁর উদ্যোগেই সিরাজঞ্জে বেঙ্গল প্রভিনশিয়াল মুসলীম লীগ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে সভাপতিত্ব করেন কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। ১৯৪৩ সালে বঙ্গীয় সরকারের পার্লামেন্টারী সেক্রেটারী হিসেবে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। ১৯৪৫ সালে তিনি প্রথম ভারতীয় নেতা হিসাবে লন্ডনে ইমপেরিয়াল জুট কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছিলে।

 

১৯৪৬ সালের জানুয়ারিতে ব্রিটিশ ইন্ডিয়ার ভাইসরয় লর্ড ওয়াভেল আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ সাহেবকে “খান বাহাদুর” খেতাবে ভূষিত করেন। তবে মুসলিম লীগের বোম্বে অল ইন্ডিয়া অধিবেশনে তিনি ওই উপাধি প্রত্যাখ্যান করেন| ১৯৪৮ সালে তিনি পাকিস্তান কেন্দ্রীয় আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে জয়েন্ট চিফহুইপ নিযুক্ত হন এবং কোলকাতায় পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

 

১৯৬২ ও ১৯৬৫ সালে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৬৩ সালে পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের শিল্প ও প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রী নিযুক্ত হয়ে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

 

 

আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাংলার মানুষের শিক্ষার অগ্রগতির জন্য নিজেকে  উৎসর্গ করেন। তিনি সিরাজগঞ্জ কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও সদস্য এবং তিনি জেলার প্রায় সকল প্রতিষ্ঠানের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত ছিলেন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সিন্ডিকেট সদস্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটেরও সদস্য ছিলেন।

 

কেন্দ্রীয় সরকারের শিল্প ও খনিজ মন্ত্রী থাকাকালীন আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ উত্তরবঙ্গের ৬টি সুগার মিল, ঈশ্বরদীতে আলহাজ ষ্টিল মিল, পাকশী পেপার মিল, সিরাজগঞ্জে ওপেল বিস্কুট ফ্যাক্টরী, কওমী জুট মিল বর্ধিতকরণ, ইষ্টার্ন রিফাইনারি,  রুপপুর নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্টের প্রাথমিক স্থান নির্ধারন নানা প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন।

 

তার সময়েই প্রতিষ্ঠিত হয় ১টি ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি ও ১টি ফার্মাসিউটিক্যাল ফ্যাক্টরিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকারখানা।

 

১৯৬৯ সালে সক্রিয় রাজনীতির অবসান ঘটে তার। বার্ধ্যক্যজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে শয্যাসায়ী হয়ে পড়েন তিনি। ১৯৭৫ সালের ১৩ই জুন মৃত্যুবরণ করেন আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। তাঁর মরদেহ নিজ গ্রামের পৈত্রিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

 

আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের ছেলে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বর্তমান সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর ছোট ছেলে মঞ্জুর হাসান মাহমুদ খুশী সিরাজগঞ্জ পৌরসভার দুবারের মেয়র নির্বাচিত হন। আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের মেয়ে তাসমিনা মাহমুদ একজন খ্যতনামা চিকিৎসক ছিলেন।

 

তাঁর স্বামী আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন চক্ষু বিশেষজ্ঞ  প্রফেসর ডা. এম এ মতিন বাংলাদেশ সরকারের উপ-প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের তৃতীয় প্রজন্ম হিসেবে নাতি ডক্টর এম এ মুহিত বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

 

হোসেনপুর উপজেলায় ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম’ অনুষ্ঠিত

‎কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলা পর্যায়ে তরুণ ও শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ভাবনা এবং বিজ্ঞানমনস্কতাকে উৎসাহিত করতে “স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম” অনুষ্ঠিত হয়েছে।
‎শুক্রবার (১২ জুন) হোসেনপুর উপজেলা হল রুমে সকাল ১১ টায় শুরু হয় ‘এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (EESS), এসইডিপি, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ’-এর আয়োজনে উপজেলা হলরুমে এই জমকালো প্রদর্শনী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
‎অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে  ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম ।
‎হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- হোসেনপুর উপজেলার প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মুজাহিদুল কবির শিহাব  এবং হোসেনপুর  থানার অফিসার ওসি মো. রাশেদুল ইসলাম।
‎দিনব্যাপী আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে উপজেলার বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের তৈরি করা চমৎকার সব উদ্ভাবনী বিজ্ঞান প্রজেক্ট এবং নতুন স্টার্টআপ আইডিয়া প্রদর্শন করেন। দর্শনার্থী ও অতিথিরা ঘুরে ঘুরে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনগুলো দেখেন এবং তাদের মেধার প্রশংসা করেন।
‎অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। সমাপনী পর্বে প্রজেক্ট উপস্থাপনকারী সেরা দলগুলোর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

শরীয়তপুরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন করলেন সাঈদ আহমেদ আসলাম এমপি

শরীয়তপুর সদর উপজেলার পালং গুরুদাস সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) সকালে বিদ্যালয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, শরীয়তপুর-১ (পালং-জাজিরা) আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম।

 

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, বর্তমান বিশ্বে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

 

 

এসময় শরীয়তপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইলোরা ইয়াসমিন, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে অতিথিবৃন্দ মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্পের প্রশংসা করেন।এ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায় শরীয়তপুর সদর উপজেলাধীন বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তৈরি বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক মডেল, প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্ভাবন ও গবেষণামূলক প্রকল্প প্রদর্শন করা হয়। এদিকে, মেলাকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।

 

ঢাকায় চিকিৎসাধীন যুবদল নেতা জামাল উদ্দিন বিদ্যুৎ -এর আরোগ্য কামনা

শরীয়তপুর জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন বিদ্যুৎ বর্তমানে রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ ইবনে সিনা হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

 

তিনি জানিয়েছেন, অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে বর্তমানে আগের চেয়ে অনেকটাই সুস্থ বোধ করছেন।

 

তিনি বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আগের চেয়ে অনেক ভালো আছি। ইনশাআল্লাহ দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার সবার মাঝে ফিরে আসতে পারব।”

 

 

জামাল উদ্দিন বিদ্যুৎ তাঁর দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতার জন্য শরীয়তপুরবাসী, রাজনৈতিক সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী, বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনসহ সকলের কাছে দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করেছেন।

 

 

এদিকে তাঁর অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীরা খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং তাঁর আশু সুস্থতা কামনা করছেন।

 

 

সকলের দোয়া ও মহান আল্লাহর রহমতে তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন তাঁর পরিবার ও শুভাকাঙ্খীরা।

 

গজারিয়ায় স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ভাবনা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

মেধা, বিজ্ঞান, উদ্যোগ ও উদ্ভাবনের দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে উপজেলা পর্যায়ের ‘ বিজ্ঞানমনস্ক প্রজন্ম গড়ে তোলা, উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ এবং তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে প্রস্তুত করার লক্ষ্যে আয়োজিত এ কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও মেধা বিকাশের এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়।
শুক্রবার সকাল ১০টায় গজারিয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনীতে উপজেলার ২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত দল অংশগ্রহণ করে। শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবিত বিজ্ঞান প্রকল্প, প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান, স্টার্টআপ পরিকল্পনা এবং বাস্তবমুখী ইনোভেশন আইডিয়া উপস্থাপন করে উপস্থিত অতিথি, বিচারক ও দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (EESS), সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (SEDP) এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান। সভাপতিত্ব করেন গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাফছা নাদিয়া।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ডা. হামিদা মুস্তফা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন, উপজেলা প্রকৌশলী সামিউল আরেফিন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ফজলুর করিম, গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হাসান আলী, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষক এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী।
বক্তারা বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনভিত্তিক শিক্ষা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীদের মাঝে গবেষণামুখী চিন্তা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং উদ্যোক্তা মানসিকতা গড়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তারা বলেন, আজকের এই খুদে উদ্ভাবকরাই আগামী দিনের প্রযুক্তিনির্ভর ও স্মার্ট বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে।
প্রতিযোগিতায় প্রদর্শিত বিভিন্ন প্রকল্পে পরিবেশ সুরক্ষা, কৃষি উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা, জ্বালানি সাশ্রয় এবং সামাজিক সমস্যা সমাধানের নতুন নতুন ধারণা উঠে আসে, যা উপস্থিত সবার প্রশংসা কুড়ায়।
দিনব্যাপী মূল্যায়ন শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। ফলাফলে প্রথম স্থান অর্জন করে টেংগারচর রাজিয়া কাদের আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, দ্বিতীয় স্থান লাভ করে বাউশিয়া মোহাম্মদ আব্দুল আজহার উচ্চ বিদ্যালয় এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করে ইসমানিরচর উচ্চ বিদ্যালয়।
আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের মেধা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে বিকশিত করার মাধ্যমে একটি জ্ঞানভিত্তিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

নদীভাঙন রোধে দ্রুত উদ্যোগ নিয়েছে তারেক রহমানের সরকার: নুরুদ্দিন অপু

জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু এমপি বলেছেন, সরকার গঠনের মাত্র তিন মাসের মধ্যেই নদীভাঙন রোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জানমাল ও বসতভিটা রক্ষায় সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে।

 

 

শুক্রবার (১২ জুন) সকালে শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার আবুপুর ফেরিঘাট এলাকায় জরুরি নদীতীর সংরক্ষণ কাজের আওতায় জিও ব্যাগ ডাম্পিং কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

 

হুইপ অপু বলেন, শুধু জিও ব্যাগ ডাম্পিং নয়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন, যা নদীভাঙন সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতে যাতে কোনো মানুষ নদীভাঙনের শিকার না হয়, সে লক্ষ্যেই সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে।

 

 

তিনি আরও বলেন, নদীভাঙনপ্রবণ এলাকার মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে এবং চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান, গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুশরাত আরা খানম, গোসাইরহাট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কে এম সিদ্দিক আহমেদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডামুড্যা উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সেলিম মোল্যা, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ইকবাল আখতারসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

 

সাবস্ক্রিপশন নিয়েও ম্যাচ দেখা যাচ্ছে না, টফি-বায়োস্কোপ নিয়ে বিতর্ক

ডিজিটাল দুনিয়ায় দিন দিন চাহিদা বাড়ছে ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোর। খেলা দেখা থেকে বিনোদনের দুনিয়া সব আয়োজনই এখন এক ছাতার নিচে পাচ্ছে মানুষ। কিন্তু বাংলাদেশে এসব প্ল্যাটফর্মেও যেন ভোগান্তির শেষ নেই।

 

 

অনেক জলঘোলার পর ফুটবল বিশ্বকাপ সম্প্রচারিত হচ্ছে বাংলাদেশে। রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেল বিটিভির পাশাপাশি টি-স্পোর্টস ও সময় টেলিভিশন অফিসিয়ালি সম্প্রচার করছে সব ম্যাচ। এর সঙ্গে অনলাইনেও বেশ কয়েকটি স্ট্রিমিং অ্যাপসের মাধ্যমে খেলা দেখা যাচ্ছে। সাবস্ক্রিপশন ফি দিয়ে মোবাইল ফোন কিংবা স্মার্ট ডিভাইসে মাই রবি অ্যাপ, বাংলালিংকের টফি ও গ্রামীণফোনের বায়োস্কোপ এবং আইস্ক্রিনে খেলা দেখার সুযোগ রয়েছে।

 

 

কিন্তু বিশ্বকাপের উদ্বোধনী দিনেই বৃহস্পতিবার তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন টাকা দিয়ে সাবস্ক্রিপশন কেনা এসব প্ল্যাটফর্মগুলোর গ্রাহকরা। নিজেদের ‘প্রতারিত’ মনে করছেন অনেকেই। গতকাল রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে তুমুল সমালোচনা হচ্ছে। গ্রাহকদের অভিযোগগুলোর মধ্যে মোটাদাগে রয়েছে, বাফারিং হওয়া, ওটিপি (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) কোড ঠিকমতো না আসা এবং অনেকেই লগইন করতে পারছেন না।

সবচেয়ে বেশি তোপের মুখে পড়েছে বাংলালিংকের টফি। অনেকে মজাচ্ছলেই বলছেন, টফি রীতিমতো মানুষকে ‘টুপি’ পরিয়ে দিয়েছে। এক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, বাংলাদেশে ডিজিটাল শব্দটাই একটা স্ক্যাম। এখন পর্যন্ত এদের সার্ভারে খেলা দেখে কারোরই ভালো ফিডব্যাক পাইনি। হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ হইলেই আর কাজ করে না। লো ক্যাপাসিটি দিয়ে এত লোড নেবে কিভাবে? অথচ আপনি পাশের দেশের জিও বা প্রাইম এসবে যান দেখবেন সব স্মুথ। ব্যবসা সবাই করে। তবে সমস্যা হচ্ছে বাংলাদেশে লোক ঠকিয়ে ব্যবসাটা বেশি করা হয়।

এবারের বিশ্বকাপের খেলা দেখা যাচ্ছে আইস্ক্রিনেও। এখানেও অনেকে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কেউ কেউ আবার লিগ্যাল অ্যাকশন নেওয়ার কথাও ভাবছেন। কেউ কেউ ভোক্তা অধিকারে টফি ও বায়োস্কোপের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতিও নিচ্ছে।

দুঃখপ্রকাশ টফির

গ্রাহকদের তুমুল সমালোচনার মুখে দুঃখপ্রকাশ করে একটি বিবৃতি দিয়েছে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম টফি। নিজেদের পেজে এক বার্তায় তারা বলছে, ডিজিটাল সম্প্রচার ফিড সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বিশ্বকাপের লাইভ সম্প্রচারে বিঘ্ন ঘটছে। সমস্যাটি দ্রুত সমাধানের জন্য আমরা সম্প্রচার স্বত্বাধিকারী বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)-এর সঙ্গে নিরলসভাবে কাজ করছি। আপনার অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।

পর্দায় আসছে নতুন গ্রামীণ ধারাবাহিক ‘গ্রামের নাম সুন্দরপুর’

আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছেন নতুন আরও একটু ধারাবাহিক নাটকের প্রচার। নাটকের নাম ‘গ্রামের নাম সুন্দরপুর’। ১৩ জুন থেকে বৈশাখী টিভিতে শুরু হবে এর প্রচার। সপ্তাহে তিন দিন শনি, রবি ও সোমবার রাত ৮ টা ৪০ মিনিটে নাটকটি দর্শক দেখতে পারবেন। মোঃ শাহাদাৎ হোসেনের লেখা গল্প নিয়ে নির্মিত এ নাটকের চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন আকাশ রঞ্জন। অভিনয় করেছেন শহীদুজ্জামান সেলিম, রোজি সিদ্দিকী, শফিক খান দিলু, শাকিলা পারভিন, মুকুল সিরাজ, সিদ্দিক মাস্টার, বাদল শহিদ, সাহেলা আক্তার, রূপক রেজা, রাহুল দেবরাজ, সোনিয়া, সাগরিকাসহ আরো অনেকেই।

 

 

 

নাটকের কাহিনী বলতে গিয়ে পরিচালক আকাশ রঞ্জন বলেন, ‘এমন একটা সময় ছিল যখন সুন্দরপুর গ্রামে মানুষের মধ্যে সম্প্রতির বন্ধন ছিল, প্রবল ভালোবাসা ও সম্মান ছিল। বর্তমানে নৈতিক অবক্ষয় আর অমানবিকতা গ্রাস করে ফেলেছে সমাজকে। সুন্দরপুর নামক গ্রামের রাস্তাঘাটের উন্নয়নের সাথে সাথে মানুষের মানসিক অবস্থারও ব্যাপক পরিবর্তন হয়ে গেছে। আগেকার দিনে প্রশ্বস্ত খেলার মাঠ ছিল, যুবকরা ফুটবল, হাডুডু, দাড়িয়াবান্ধা, গোল্লাছুট খেলতো, যাত্রাপালা আর সিনেমা দেখতো। আর এখন? যুবকরা সারাদিন মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকে। গ্রামের মানুষের কোনো দিকে কোনো খেয়াল নেই। কারো অভাব অনটনের কথা শুনলেও আগের মতো ভালোবাসাটা নিয়ে কেউ এগিয়ে আসে না। বর্তমানের নৈতিক আর মানবিক অবক্ষয়কেই তুলে ধরা হয়েছে এই নাটকে।’

অর্থনৈতিক সংস্কারের জন্য বাজেট যথেষ্ট নয়: নাহিদ ইসলাম

 

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বাজেট দেশের অর্থনীতিতে কাঙ্ক্ষিত কোনো সংস্কার আনতে পারবে না।

 

 

শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

নাহিদ ইসলাম বলেন, বাজেটের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য বাস্তবসম্মত নয় এবং এতে দুর্নীতি প্রতিরোধ কিংবা সুশাসন নিশ্চিত করার মতো কার্যকর পদক্ষেপেরও অভাব রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ৬ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এত বড় অঙ্কের রাজস্ব আদায় হয়নি। বর্তমান কর ও রাজস্ব কাঠামোর মাধ্যমে এমন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব নয়।

 

তিনি বাজেটকে ‘উচ্চাভিলাষী’ উল্লেখ করে বলেন, অর্থনীতিতে বড় ধরনের সংস্কারের প্রত্যাশা থাকলেও এ বাজেটের রূপরেখায় সে ধরনের কোনো উদ্যোগের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

তবে বাজেটের কিছু ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, কয়েকটি পণ্যে কর কমানো হয়েছে এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। এসব উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও সেগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় রয়েছে।

 

 

সম্প্রতি বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, এত অল্প সময়ের ব্যবধানে অতীতে এভাবে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর নজির নেই। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণের দাবিতে ১১ দলীয় জোট দেশের বিভিন্ন বিভাগে কর্মসূচি পালন করছে।

 

 

বাজেটে সুশাসন ও জবাবদিহিতার ঘাটতির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তিনি বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে কোনো সুস্পষ্ট রূপরেখা বাজেটে নেই। বড় বাজেটের সঙ্গে বড় ধরনের দুর্নীতির ঝুঁকিও তৈরি হয়।

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ভক্তদের মিলনমেলা, আকর্ষণ ৫০০ হাতের পতাকা

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে বড় পতাকা তৈরির উৎসব ও উন্মাদনা দেখা গেছে। উপজেলার হাটিথানা পুটিমারী এলাকায় ব্রাজিল সমর্থকরা ৩০০ হাত ও আর্জেন্টিনার ২০০ হাত পতাকা তৈরি করে শোভাযাত্রা করেছে।

 

 

সরেজমিনে দেখা যায়, পুটিমারী এলাকায় ভক্তরা ব্রাজিলের ৩০০ হাত ও আর্জেন্টিনার ২০০ হাত পতাকা নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে শোভাযাত্রা করেছেন। শোভাযাত্রা শেষে বাঁধের রাস্তার দুপাশে দুই দলের ভক্তরা প্রিয় দলের পতাকা টাঙিয়ে দিয়েছেন।

 

 

এছাড়াও শহর ও গ্রামের অলিগলি, রাস্তার দুধার, গাছ বা বাড়ির ছাদে দোল খাচ্ছে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, পর্তুগাল, ইরান, ফ্রান্স, জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশের পতাকা। তবে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা দলের সমর্থকের মধ্যে চলছে পতাকা বানানোর প্রতিযোগিতা।

স্থানীয় বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি বিশ্বকাপে এলাকার তরুণেরা মিলে নিজেদের প্রিয় দলের পতাকা লাগানোর এ উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকেন। উৎসাহ দিতে এলাকার প্রবাসী ও বড়রাও এতে অর্থায়ন করেন।

স্থানীয়রা আরও জানান, দুই দলের সমর্থকের মধ্যে অনেকদিন থেকেই চলছে কথার ঢিল ছোড়াছুড়ি।

 

ব্রাজিল সমর্থক রাসেল বলেন, বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। আমাদের এলাকায় ব্রাজিল সমর্থক বেশি। আমরা যে দলই পছন্দ করি না কেন, সবাই মিলে একসঙ্গে খেলা উপভোগ করি।

 

 

হাটিথানা এলাকার পলাশ নামের এক আর্জেন্টিনা সমর্থক বলেন, বিশ্বকাপ এলেই ফুটবল খেলা নিয়ে এলাকায় বিভিন্ন দলের সমর্থক প্রিয় দলের পতাকা টানানো ও জার্সি পরতে দেখা যায়। দল যার যার হলেও আমরা সবাই একযোগে আনন্দ করি। আর্জেন্টিনা দলের সব খেলোয়াড়দের খেলা আমার ভালো লাগে।

৫ ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরত ইস্যুতে দ্রুত পদক্ষেপ: গভর্নর

সম্মিলিত পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের আমানত ফেরত দেওয়ার বিষয়ে আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যেই উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

 

 

শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল ৩টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

 

 

গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়েছে যে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সম্মিলিত পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক নিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। তবে এ তথ্য সঠিক নয়। ব্যাংকগুলোকে ঘিরে বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তিনি জানান, তিনি ২৪ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর কিছুদিন পর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেন। পরে একজনকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলেও তিনি দায়িত্ব নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংক দ্রুত নতুন এমডি নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে, যার আবেদনের শেষ তারিখ ছিল ২৫ মার্চ।

গভর্নর বলেন, আবেদন যাচাই-বাছাই করতে কিছুটা সময় লেগেছে। পরে একজন এমডি নিয়োগ দেওয়া হয় এবং পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে মে মাস পর্যন্ত সময় লাগে। এরই ধারাবাহিকতায় ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদের সর্বশেষ সভা গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সম্মিলিত পাঁচ ব্যাংক নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং খুব শিগগিরই আমানতকারীদের আমানত ফেরতের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

 

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু), তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, কৃষি, মৎস্য ও পানি সম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এবং প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি।

দিনাজপুরের বিরামপুরে ৫৩৩ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ গ্রেফতার ৩

দিনাজপুরের বিরামপুরে পৃথক দুটি অভিযানে সর্বমোট ৫৩৩ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ তিন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
আজ শুক্রবার (১২ জুন) সকালে মামলা দায়েরের পর তাদেরকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম।
পুলিশ জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার কচুয়া মির্জাপুর শালবাগান বাজার থেকে ৫০০ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ দক্ষিণ জগন্নাথপুর গ্রামের মৃত জনাব আলীর ছেলে মোঃ মোস্তাক (৫১) ও মৃত মোসলেম উদ্দিনের ছেলে মোঃ মতিয়ার রহমান (৩৫)-কে আটক করা হয়। অন্যদিকে, দক্ষিণ দাউদপুর গ্রাম থেকে ৩৩ পিস ট্যাবলেটসহ উত্তর কসবা গ্রামের মজলুর রহমানের ছেলে মোঃ রুহুল কবির (৩৩)-কে গ্রেফতার করা হয়।
বিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এলাকায় মাদক নির্মূলে পুলিশের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

জনগণের প্রত্যাশা পূরণেই এবারের বাজেট: অর্থমন্ত্রী

 

সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে বাজেটের আওতায় আনা হয়েছে। ফলে বাজেটে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

 

 

শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

 

 

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি তার বক্তব্যের প্রারম্ভে বলেন, সরকারের মাত্র তিন মাসের মধ্যে এই বাজেট দেওয়া ছিল চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার। তিনি বাজে তৈরিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।

 

 

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিস্ট রেজিম ও অন্তর্বর্তী সরকারের পর এই বাজেটে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন হয়েছে। সরকার প্রতিটি মানুষকে উন্নয়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। নৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে দেশ পরিচালনার চেষ্টা চলছে। যেন অর্থের অপচয় না হয় সেসব ভেবেই প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।

প্রস্তাবিত বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে সরকারের নীতি ও দর্শনের বিষয়েও কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, বাজেট তৈরির সময় ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’, অর্থনৈতিক গণতন্ত্র এবং নৈতিক ভিত্তির ওপর রাষ্ট্র পরিচালনার বিষয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রী বলেন, অতীতে দেশের অর্থনীতি মূলত পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক ছিল। কিছু ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা সংগঠিত স্বার্থান্বেষী মহল অর্থনৈতিক সুবিধা ভোগ করলেও অনেক মানুষ উন্নয়নের মূলধারার বাইরে রয়ে গিয়েছিল। এবারের বাজেটে সেই বৈষম্য কমিয়ে সব শ্রেণির মানুষের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সীমিত সম্পদ ও বিভিন্ন ধরনের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও বাজেটে সমাজের প্রায় সব শ্রেণির মানুষের জন্য কমবেশি বরাদ্দ, কর্মসূচি ও উন্নয়ন পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। শুধু নীতিগত ঘোষণা নয়, সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় রোডম্যাপও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এ কারণেই এবারের বাজেটের প্রেক্ষাপট, দর্শন ও পরিকল্পনা অন্য সময়ের তুলনায় ভিন্ন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রস্তাবিত বাজেটের বিভিন্ন দিক, সরকারের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার এবং সামনের দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কৌশল তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি বাজেট নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি। সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন অর্থ সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার।

 

 

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য দেশের ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বড় বাজেট প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এর আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। ‘অর্থনৈতিক গণতান্ত্রিকীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণ: ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে প্রণীত এ বাজেটের আকার দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ।

মুন্সীগঞ্জ শহরে ফ্ল্যাট বাসায় দুর্ধর্ষ চুরি, স্বর্ণালংকারসহ মালামাল লুট

মুন্সীগঞ্জ শহরের ডায়াবেটিস হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় একটি ফ্ল্যাট বাসায় দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরেরা স্বর্ণালংকার, ল্যাপটপ, ট্যাব, মোবাইল ফোন ও মূল্যবান শাড়িসহ প্রায় ১৩ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ৯ জুন গভীর রাতে শহরের ডায়াবেটিস হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত নিজ ফ্ল্যাটের দ্বিতীয় তলায় এ চুরির ঘটনা ঘটে। ফ্ল্যাটটির মালিক মোহাম্মদ কবির আন নূর।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কবির আন নূরের স্ত্রী বাসায় এসে দরজা খুলতে না পেরে সন্দেহ করেন। পরে ভবনের পেছনের দিকে গিয়ে রান্নাঘরের ভেন্টিলেটর খোলা দেখতে পান। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। পরে পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করা হয়।
এ সময় ঘরের তিনটি আলমারির তালা ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘরের কাপড়চোপড় ও অন্যান্য মালামাল এলোমেলো করে রাখা ছিল। আলমারিতে থাকা সোনার চুড়ি, চেইন, কানের দুল, ব্রেসলেট, মাথার টিকলিসহ বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার চুরি হয়েছে। এছাড়া একটি ল্যাপটপ, ট্যাব, মোবাইল ফোন এবং কয়েকটি মূল্যবান বিয়ের শাড়িও নিয়ে যায় চোরেরা।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, চুরি হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৩ লাখ টাকা।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
চুরির এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত চোরদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

এ বাজেট রঙ্গিন হাওয়াই মিঠাইর মত : মোমিন মেহেদী

নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী বলেছেন, এ বাজেট রঙ্গিন হাওয়াই মিঠাইর মত। দেখতে বড়-সুন্দর কিন্তু তা সামাণ্য বাতাসে, সামাণ্য চাপে চিপসে শূণ্যে মিলিয়ে যাবে। কারণ, এই বাজেটের প্রধান অন্তরায় মার্কিন চুক্তি আর আইএফএম-এর ঋণ। যে পর্যন্ত তারেক রহমানের সরকার জঙ্গী-জামায়াত মদদপুষ্ট মার্কিনী চুক্তি বাতিল আর ঋণের বোঝা সরাতে না পারবে, সেই পর্যন্ত তার বাজেটসহ কোনো উদ্যেগই সফল হবে না।
১২ জুন সকালে তোপখানা রোডস্থ বিজয় মিলনায়তনে নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবি আয়োজিত বাজেটোত্তর প্রতিক্রিয়া সভায় উপরোক্ত কথা বলেন।
এসময় মোমিন মেহেদী আরো বলেন,  এক কর্মী সভা শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন। এসময় তিনি আরো বলেন, মার্কিনী চুক্তি বহাল রেখে বাজেট ঘোষণা আর গলায় ফাঁসির রশি নিয়ে বিয়ে করা সমান অবস্থায় জনগণ দেখতে পেলেও, সরকার আর গৃহপালিত বিরোধী দলগুলো দেখতেও পাচ্ছে না। কাঠের চশমা চোখে দিয়ে এনসিপি-জামায়াত-যুদ্ধাপরাধীদের জোট জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে যখন, তখন সরকারের এমন অসম, অপরিকল্পিত, ফাপা বাজেট নতুন করে ঋণের বোঝা যেমন বড় করবে, তেমনই দারিদ্র ও দরিদ্রের সংখ্যা বাড়াবে।  সভায় বক্তব্য রাখেন নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির প্রেসিডিয়াম মেম্বার বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা, যুগ্ম মহাসচিব মনির জামান, ওয়াজেদ রানা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হাশেম মোল্লা, কাউসার বেপারী প্রমুখ।

এসময় শান্তা ফারজানা বলেন, বাংলাদেশ বিরোধী-যুদ্ধাপরাধীরা দেশ ধ্বংস করার এজেন্ডা নিয়ে ত্রয়োদশ সংসদে এসেছে, তারা বাজেট সম্পর্কে কোনো ধারণাই রাখে না। বরং তারা আমেরিকার সাথে বাণিজ্য চুক্তি, ধর্ষণ, খুন, সহিংসতাকে দেখেও না দেখার, জেনেও না জানার অভিনয় করছে। এতে করে দেশ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে, দেশের অর্থনীতি হুমকির মধ্যে পরছে যখন তখন তারা তাদের গাড়ি-বাড়ি-কাড়িকাড়ি টাকা কামানোতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে।

এসময় নতুনধারার নেতৃবৃন্দ বলেন, সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সেই দেশ ও জনবিরোধী-স্বাধীনতা বিরোধীদের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে বাংলাদেশ। সেই ষড়যন্ত্রে কারণে আজ বন্দর, সেন্টমার্টিন এমনকি বাণিজ্য খাতটা পর্যন্ত আমেরিকাসহ দেশবিরোধী চক্র নিয়ন্ত্রণ করছে; তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধীচক্র বলেই মার্কিনী চুক্তি বহাল রেখে বাজেট নিয়ে ব্যস্ত হয়ে আছেন। মধ্যিখানে জামায়াত-এনসিপি মিলেমিশে সহিংসতাকে উসকে দিচ্ছে, ছাত্র-যুব-জনতাকে দালাল ট্যাগ লাগিয়ে ক্রমশ সারাদেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব তৈরি করছে।

চীন প্রতিদিন বদলাচ্ছে, বাংলাদেশকেও উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে হবে- মির্জা ফখরুল

​চীনকে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও দ্রুত উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উল্লেখ্য করে বিএনপি মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, চীন প্রতিদিন বদলাচ্ছে এবং ক্রমাগত উন্নতির শিখরে পৌঁছাচ্ছে। দেশটি তার নিজস্ব জনগণের কল্যাণের পাশাপাশি এখন বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে বড় ধরণের সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের রাস্তাঘাট, কালভার্ট, ব্রিজ ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণে চীনের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
​শুক্রবার ঠাকুরগাঁও শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে শিশু শিক্ষার্থীদের মাঝে চীন সরকারের পক্ষ থেকে স্কুল ব্যাগ ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
​​অনুষ্ঠানে মন্ত্রী চীনের রাষ্ট্রদূতের সাথে তার ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের কথা উল্লেখ করে বলেন, “ইতিমধ্যে আমি দুবার চীন সফর করেছি। সেই সুবাদেই উনাকে বিশেষভাবে ঠাকুরগাঁওয়ে দাওয়াত করে নিয়ে এসেছি। আমরা ঠাকুরগাঁওয়ে নতুন নতুন শিল্প-কলকারখানা তৈরি করতে চাই। চীনা রাষ্ট্রদূত আমাদের এই শিল্পায়নের কাজে পূর্ণ সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন।
​মন্ত্রী আরও জানান যে, আগামী বছর চীনের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ঠাকুরগাঁওয়ে আসবেন এবং এখানকার স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় করে বিনিয়োগ ও শিল্প কারখানা স্থাপনের রূপরেখা চূড়ান্ত করবেন।
​শিক্ষার্থীদের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরণ ​অনুষ্ঠানে চীন সরকারের সৌজন্যে এলাকার মোট ৬,৫০০ জন শিশু শিক্ষার্থীর মাঝে স্কুল ব্যাগ ও বিভিন্ন আকর্ষণীয় শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। উপহার পেয়ে খুদে শিক্ষার্থীদের মাঝে আনন্দের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে।
​শিক্ষা উপকরণ বিতরণী এই জমকালো অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন: চীনের রাষ্ট্রদূত মিস্টার ইয়ো ওয়েন, জেলা প্রশাসক, মোহাম্মদ রফিকুল হক,পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি ​মির্জা ফয়সাল আমিনসহ অন্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা আহ্বান বিকেএমের

রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের (বিকেএম)। শুক্রবার (১২ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলটির মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ এ আহ্বান জানান।

 

 

তিনি বলেন, ‘নবজাতকদের এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও বেদনাদায়ক। ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। কোনোভাবেই দায়ীদের দায়মুক্তির সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।’

 

 

তিনি বলেন, ‘তদন্ত ও জবাবদিহিতার প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় গত ১১ জুন পুরো হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। আদ-দ্বীন হাসপাতাল দীর্ঘদিন ধরে স্বল্প ব্যয়ে দেশের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের চিকিৎসাসেবা প্রদান করে আসছে। শত শত ভর্তি রোগী ও প্রতিদিনের বিপুলসংখ্যক সেবাগ্রহিতার চিকিৎসা চলমান থাকা অবস্থায় হাসপাতালটি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ায় সাধারণ মানুষ মারাত্মক ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।’

বিকেএম মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে অবহেলা, ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা ও চিকিৎসাগত ত্রুটিজনিত ঘটনা অতীতেও বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ঘটেছে। কিন্তু প্রতিটি ঘটনার জন্য পুরো প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া স্থায়ী সমাধান নয়। বরং দায়ী ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহিতার আওতায় এনে ত্রুটি সংশোধন এবং সেবার মান নিশ্চিত করাই অধিকতর কার্যকর পন্থা।

তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যখাতে নিরাপত্তা, জবাবদিহিতা ও মাননিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে সরকারকে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রেখে কঠোর তদারকির মাধ্যমে হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা চালু রাখার সুযোগ দেওয়া উচিত।

মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ সরকারের প্রতি আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, তবে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অধিকার ক্ষুণ্ণ করা উচিত নয়।

 

 

তিনি অবিলম্বে হাসপাতালটির চিকিৎসা কার্যক্রম পুনরায় চালুর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

হঠাৎ করে বিশ্বকাপে ডাক, মেসিদের সঙ্গে বিশ্বকাপ খেলার সুখবর

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের আগে নিজেদের রক্ষণভাগ নতুন করে সাজাতে হচ্ছে আর্জেন্টিনা দলকে। ডিফেন্ডার লিওনার্দো বালের্দির আকস্মিক চোট আলবিসেলেস্তেদের ক্যাম্পে বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে। তবে বালের্দির এই দুর্ভাগ্যই শেষ মুহূর্তে ভাগ্য খুলে দিল মার্কোস সেনেসির। ২৬ জনের চূড়ান্ত স্কোয়াড থেকে অল্পের জন্য বাদ পড়া খেলোয়াড়দের তালিকায় থাকা সেনেসিকে অবশেষে দলে ডেকেছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি।

 

 

হঠাৎ করে বিশ্বকাপে ডাক পাওয়ার এই খবরটি সেনেসির চেয়েও যেন বেশি ছুঁয়ে গেছে তার প্রেমিকা ও পেশাদার ফুটবলার কেলসি রোজকে। খবরটি পাওয়ার পর নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি। ইনস্টাগ্রামে আর্জেন্টিনার জার্সি পরা সেনেসির একটি ছবির ওপর তিনি লিখেছেন, ‘ওহ মাই গড! অবশেষে এটা সত্যি হচ্ছে।’

 

 

স্পেনের ইবিসায় ছুটি কাটানোর সময় স্কালোনির সেই কাঙ্ক্ষিত ফোনকলটি যখন আসে, কেলসি তখন সেই বিশেষ মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দী করে রাখেন। কেলসি জানান, পুরো ট্রিপ জুড়েই তারা মনে-প্রাণে প্রার্থনা করছিলেন যেন সেনেসি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পান।

সম্প্রতি ইংলিশ ক্লাব টটেনহাম হটস্পারে নাম লেখানো এই ডিফেন্ডারের ক্যারিয়ারে এটিই হতে যাচ্ছে প্রথম বিশ্বকাপ। সুযোগ পেয়ে তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, বিশ্বকাপে খেলার যে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন আমি লালন করেছি, তা পূরণ করার সুযোগ পেয়ে আমি খুবই খুশি।’

সেনেসি ও কেলসির প্রেমের গল্পটা শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালে, যখন তারা দুজনেই খেলতেন ইংলিশ ক্লাব বোর্নমাউথে (সেনেসি পুরুষ দলে এবং কেলসি নারী দলে)। ক্লাবের নতুন জার্সি উন্মোচনের এক ফটোশুটের সময় তাদের প্রথম পরিচয় হয়, যা দ্রুতই সম্পর্কে রূপ নেয়। সেনেসির দেশ ও সংস্কৃতিকে জানতে কেলসি এর আগে আর্জেন্টিনা ঘুরেও এসেছেন।

 

 

২২ বছর বয়সী কেলসি রোজ একজন ইংলিশ ফুটবলার। চেলসি একাডেমি দিয়ে ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করা কেলসি ২০২১-২২ মৌসুমে এফএ অনূর্ধ্ব-২১ সাউদার্ন ডিভিশনের চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য ছিলেন। বর্তমানে তিনি বোর্নমাউথ উইমেনের হয়ে মিডফিল্ডার হিসেবে খেলছেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং পোর্টসমাউথের হয়েও কিছুদিন খেলেছেন তিনি।

 

 

 

মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও কেলসির দারুণ জনপ্রিয়তা রয়েছে। ইনস্টাগ্রামে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা ২ লাখের বেশি, যেখানে তিনি নিজের প্রতিদিনের জীবন, ফ্যাশন ক্যাম্পেইন এবং সেনেসির সঙ্গে কাটানো নানা মুহূর্ত শেয়ার করে থাকেন।

পবিত্র হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৫২ হাজারের বেশি বাংলাদেশি

পবিত্র হজ পালন শেষে দেশে ফিরেছেন ৫২ হাজার ৪৯১ জন বাংলাদেশি। এর মধ্যে সরকারি মাধ্যমে ফিরেছেন চার হাজার ২৮৯ জন হাজি। আর বেসরকারি মাধ্যমে ফিরেছেন ৪৮ হাজার ২০২ জন।

 

 

শুক্রবার (১২ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ২টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত হজ বুলিটিন থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

 

 

একই সময়ে সৌদিতে হজে গিয়ে মারা গেছেন ৪৯ জন।

দেশে ফেরা হাজিদের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ২১ হাজার ৯২০ জনকে, সৌদি এয়ারলাইন্স ১৮ হাজার ৮৮০ জনকে, ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স আট হাজার ৩৮০ জনকে পরিবহন করেছে। অন্যান্য এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে সৌদি আরব ত্যাগ করেছেন তিন হাজার ৩১১ জন।

এখন পর্যন্ত ফিরতি ফ্লাইট সংখ্যা ১২৩টি। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৫৫টি, সৌদি এয়ারলাইন্স ৪৭টি, ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ২১টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।

হজে গিয়ে সৌদি আরবে চিকিৎসা নিয়েছেন ৬২ হাজার ২৪৩ জন। আর এখন পর্যন্ত দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে ৪৯ বাংলাদেশি হাজির।

 

 

উল্লেখ্য, হজযাত্রীদের সৌদি আরবগামী প্রথম ফ্লাইট ছিল ১৮ এপ্রিল এবং শেষ ফ্লাইট ২১ মে। অন্যদিকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয়েছে ৩০ মে, যা চলবে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত।

হিজবুল্লাহর ৩১০ স্থাপনায় হামলার দাবি করল ইসরায়েল

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহে দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর ৩১০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, এসব অভিযানে প্রায় ৮০ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। খবর আল-জাজিরার।

 

 

একই সময়ে গাজা উপত্যকায় পরিচালিত সামরিক অভিযানে ২০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এছাড়া অধিকৃত পশ্চিম তীরে অভিযান চালিয়ে ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

 

 

যদিও লেবানন ও গাজা, উভয় ক্ষেত্রেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে, তবুও ইসরায়েলি বাহিনী বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা, সামরিক অভিযান এবং ভূখণ্ডে উপস্থিতি অব্যাহত রেখেছে।

এদিকে এসব ঘটনার বিষয়ে হিজবুল্লাহ, ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, ইসরায়েল বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। এ ধরনের কাজ আন্তর্জাতিক আইনের বিরোধী।

বিএনপি আমলে সংবাদপত্র স্বাধীনভাবে কাজ করেছে: শাহে আলম

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, বিএনপি সরকার সংবাদপত্রের অবাধ স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে। তবে সেই স্বাধীনতার দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান। এতে করে যাতে কারো চরিত্রহরণ করা না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

 

 

শুক্রবার (১২ জুন) বেলা ১১টায় বগুড়া প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি প্রেস ক্লাবের নবনির্মিত ভবন পরিদর্শন করেন।

 

 

বগুড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি রেজাউল হাসান রানুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম. আর. ইসলাম স্বাধীন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী চান কোলাহলমুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে শহরের বাইরে একটি আধুনিক বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কৃষি, প্রকৌশল, চিকিৎসা ও বিজ্ঞান অনুষদ থাকবে। এ সংক্রান্ত প্রস্তাব আগামী সপ্তাহেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে উপস্থাপন করা হবে।

তিনি আরও জানান, বগুড়ায় একটি বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেখানে পাইলট ট্রেনিং সেন্টার, আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কার্গো সুবিধা, যুদ্ধবিমান পরিচালনার অবকাঠামো এবং বিমানঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

মীর শাহে আলম বলেন, বগুড়ায় আন্তর্জাতিক মানের ফুটবল স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে, ইনশাআল্লাহ। পাশাপাশি বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও বগুড়া ওয়াসা গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প আগামী সপ্তাহে একনেক সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। ইতোমধ্যে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য ২২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

 

 

বগুড়া শহরের রেললাইন স্থানান্তর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাণীরহাট থেকে বগুড়া শহর হয়ে মেট্রোরেলের আদলে ট্রেন গাবতলী পর্যন্ত চলাচল করবে। একইসঙ্গে গাবতলীতে চার লেনের বাইপাস, বগুড়া-নওগাঁ এবং মোকামতলা-জয়পুরহাট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়াও বগুড়া বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদের উন্নয়নে ২৫ কোটি টাকা দেওয়া বরাদ্দ হয়েছে।

 

 

শহর উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নগরবাসীর আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। শহরে অপ্রয়োজনীয় ভাঙচুর না করেই কীভাবে উন্নয়ন বাস্তবায়ন করা যায়, সে লক্ষ্যেই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

 

 

এ সময় বগুড়া প্রেস ক্লাবের উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ১ কোটি টাকা অনুদান ঘোষণা করেন প্রতিমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে গাবতলীর ভাড়ায় সড়কে সাময়িকভাবে ইট বিছানোর বিষয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চলাচলের নিরাপত্তার স্বার্থে কাঁচা রাস্তায় অস্থায়ীভাবে ইট বিছানো হয়েছিল। সড়কটি আগে থেকেই পাকাকরণের জন্য অনুমোদিত থাকায় এখন ইট অপসারণ করে ঠিকাদার স্থায়ী নির্মাণকাজ শুরু করেছেন।

 

 

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্য নিম্নমুখী

আন্তর্জাতিক বাজারে শুক্রবার স্বর্ণের দাম কমেছে এবং সপ্তাহজুড়ে উল্লেখযোগ্য ক্ষতির দিকে এগোচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ এবং দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনার কারণে স্বর্ণের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

 

 

শুক্রবার স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,১৮৩.১৯ ডলারে নেমে আসে। এদিকে সপ্তাহজুড়ে স্বর্ণের দাম প্রায় ৩.৪ শতাংশ কমার পথে রয়েছে।

 

 

অন্যদিকে, আগস্ট ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারস ২.২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,২০৪.৪০ ডলারে পৌঁছেছে।

 

উচ্চ মূল্যস্ফীতি অব্যাহত থাকলে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়ানোর পদক্ষেপ নিলে স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদের চাহিদা আরও চাপের মুখে পড়তে পারে। ফলে বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করছেন।

 

 

বাড়ি পাশেই গুলি করে বিএনপি নেতাকে হত্যা

খুলনায় নিজ বাড়ির কাছে গাজী রফিক (৪৫) ওরফে ঢাকাইয় রফিক নামে এক বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

 

শুক্রবার (১২ জুন) বেলা ১১টার দিকে খুলনার দক্ষিণ লবনচরা  দশগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।  রফিক বটিয়াঘাটা ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে। তিনি দক্ষিণ লবনচরার মাথাভাঙ্গার রতন গাজীর ছেলে।

রফিকের স্ত্রী বলেন, আমার বড় ছেলে রাগ করে ঘর থেকে হয়ে গেছে। তাকে ডাকতে গিয়ে আমার স্বামী না পেয়ে বাড়ির পেছনের একটা ফাঁকা জায়গায় বসে ছিলেন।

তখন কারা এসে তাকে গুলি করে, যা তার তল পেটে লাগে। তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি জানান, তার স্বামী বিএনপির রাজনীতি করতেন।

 

বিস্তারিত আসছে…

 

বিশ্বকাপ উৎসবে মেতেছে কুড়িগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও

 

সারাবিশ্বের মতো বিশ্বকাপ ফুটবল উন্মাদনায় মেতেছে কুড়িগ্রামের প্রত্যন্ত গ্রাম ও গঞ্জের সাধারণ মানুষ। হাজার হাজার মানুষ ফুটবল উৎসবে মেতেছেন।
শুক্রবার দিবাগত রাত ১ টায় অনুষ্ঠিত হয় তেইশতম ফিফা বিশ্বকাপ। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, কানাডা তিন দেশ মিলে ৪৮ দেশ নিয়ে এবারের ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রাত ১ টায় অনুষ্ঠিত হওয়া প্রথম ম্যাচ দেখার জন্য গভির রাতে ভিড় জমেছে গ্রাম গঞ্জের বিভিন্ন খোলা মাঠে। গভীর রাতে প্রত্যাহিক নিয়মানুসারে ঘুমে থাকার কথা থাকলে বিশ্বকাপ ফুটবলের উদ্বোধনী ম্যাচে তার ব্যতিক্রম ঘটে। নিদ্রাকে উপেক্ষা করেছে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে ফুটবল প্রেমীরা। দেশের বিভিন্ন জেলা শহরের পাশাপাশি বিশ্বকাপে উৎসব দেখে গেছে প্রত্যন্ত গ্রাম গঞ্জেও।
শিশু, কিশোর থেকে শুরু করে প্রবীণদের উপস্থিতও ব্যাপক লক্ষ্য করা যায়। কেউ টিভিতে কেউ মোবাইলে কেউবা বড় পর্দা টাঙিয়ে উপভোগ করছেন ফুটবল খেলা। অনেকে খোলা মাঠের নিচে খেলা উপভোগের পাশাপাশি করছেন তর্ক বিতর্ক। বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া নিজেদের পছন্দের দলকে ঘিরে দেখা যায় কথার কথার তুমুল লড়াই। বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করেছেন একে-অপরের পছন্দের দলকে। প্রিয় দলের প্রতি সমর্থন জানিয়ে কারো কারো হাতে দেখা মেলে পতাকা। এবং গায়ে দেখা মেলে জার্সির।
এ যুক্তিতর্ক কোন যুদ্ধ নয়, এ যুক্তিতর্ক আনন্দের। খেলার প্রতি আগ্রহ এবং খেলা উপভোগের প্রতি আগ্রহ জোগাতে করছেন যুক্তিতর্ক। সব মিলিয়ে খোলা মাঠ গুলো পরিণত হয়েছে এক মিলনমেলার। অনেকে ফটকা ফাটিয়ে আবার কেউ সাউন্ড বক্সের গানের তালে তালে নাচাগানাও করছেন।
এ বিষয়ে ভেলাকোপার বাসিন্দা মোঃ গনি মিয়া বলেন, চার বছর পর পর খেলা শুরু হয়। এই খেলা দেখার জন্য সারাবিশ্ব তাকিয়ে থাকে। আমরাও ঠিক একই রকমভাবে বিশ্বকাপ খেলা দেখার জন্য তাকিয়ে আছি। যদিও এবার খেলা রাতে হচ্ছে তাও আমরা গ্রামের অনেক লোক এখানে এসেছি। সবার সাথে দেখা হচ্ছে কথা হচ্ছে দল সমর্থন নিয়ে তর্ক বির্তক হচ্ছে সব মিলিয়ে খুবই ভালো লাগছে। আমি দল হিসাবে সাপোর্ট করি জার্মানির।
খেলা দেখতে আসা আরেকজন ফুটবল প্রেমী হাসান বলেন, আমি ব্রাজিলের সমর্থন করি। তবে আজকে মেক্সিকো আর সাউথ আফ্রিকার খেলা দেখতে এসেছি। মেক্সিকো অনেক ভালো দল। তবে আফ্রিকাও খারাপ না বিশ্বকাপে চান্স পাওয়া সব দলেই ভালো। এখানে এসে ভালো লাগতেছে এর কারণ সবাই এক সাথে রাত জেগে খেলা দেখতেছি।
শহরের পাশাপাশি গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় ফুটবলের উদ্বোধনী ম্যাচ নিয়ে দেখা যায় উৎসবের আমেজ।

বাংলাদেশ-ভারত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শক্তিতেও রূপ নিতে পারে: দীনেশ ত্রিবেদী

ঢাকায় ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারত দুটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক দেশ।

 

দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়লে তা শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শক্তিতেও রূপ নিতে পারে।  শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে সড়কপথে পেট্রাপোল-বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে এই অভিমত তুলে ধরেন দীনেশ ত্রিবেদী।

 

এ সময় স্ত্রী মৃণাল (মিনাল) ত্রিবেদীও তার সঙ্গে ছিলেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি বেনাপোল স্থলবন্দরে পৌঁছালে বাংলাদেশ ও ভারতের কর্মকর্তারা তাকে স্বাগত জানান।

 

স্বাগত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন, ডেপুটি চিফ অব প্রোটোকল আরিফ মোহাম্মদ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সরোয়ার মোহাম্মদ শাহরিয়ার খান, শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদ এবং কাস্টমসের সহকারী কমিশনার অতল গোস্বামী।

 

ইমিগ্রেশন, কাস্টমস, বন্দর ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এসময় উপস্থিত ছিলেন। নতুন হাইকমিশনারের আগমনকে কেন্দ্র করে বেনাপোল চেকপোস্ট ও যশোর-ঢাকা মহাসড়কে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেন এবং সফরের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রটোকল নিশ্চিত করেন।সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, ‘একই আকাশ, একই বাতাস, একই জল তরঙ্গ। ফলে আমরা মিলেমিশে কাজ করবো’।

 

তিনি যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি ও খেলাধুলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহের কথাও তুলে ধরেন। টুরিস্ট ভিসা চালুর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিষয়টি তার বিবেচনায় রয়েছে এবং এমন একটি উদ্যোগ নেওয়া হবে যাতে সবাই সন্তুষ্ট হয়।

 

তিনি দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাষ্ট্রাচার অনুবিভাগ থেকে আগেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও আনুষ্ঠানিকতা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

 

এর প্রেক্ষিতে বেনাপোল কাস্টমস হাউস, ইমিগ্রেশন, বন্দর কর্তৃপক্ষ, পুলিশ ও বিজিবিসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে ছিল।

 

ভারতীয় হাইকমিশনের পক্ষ থেকে নতুন হাইকমিশনারকে স্বাগত জানাতে ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পবন কুমার তুলসীদাস বাধে এবং সেকেন্ড সেক্রেটারি গৌরব আগরওয়ালসহ একটি কূটনৈতিক প্রতিনিধি দল আগে থেকেই যশোরে অবস্থান করেন।

 

পরে তারা বেনাপোল সীমান্তে উপস্থিত হয়ে দীনেশ ত্রিবেদী ও তার সফরসঙ্গীদের অভ্যর্থনা জানান। সীমান্তের আনুষ্ঠানিকতা শেষে দীনেশ ত্রিবেদী সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র (ক্রিডেনশিয়ালস) পেশের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের কার্যক্রম শুরু করবেন।

 

গত ৫ জুন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পত্রাধিকার গ্রহণ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। এর মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনের আইনি ও আনুষ্ঠানিক অনুমোদন লাভ করেন।

 

সাবেক হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হওয়া দীনেশ ত্রিবেদী একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। তার নিয়োগকে বাংলাদেশ-ভারত কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

বাজেটে বাড়ছে যেসব পণ্যের দাম

  • রিপোর্টার:
  •  আপডেট টাইম : ০২:০১:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বেলা ৩টার দিকে তিনি বাজেট প্রস্তাব পেশ করা শুরু করেন।

এটা বিএনপি সরকারের এই মেয়াদের প্রথম বাজেট।  বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।

 

 

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই ব্যয় ছিল ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা। বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা।

 

এই বাজেটে বিভিন্ন পণ্য ও সেবার ওপর শুল্ককর ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে বেশকিছু পণ্যের দাম বাড়তে পারে।

 

বাড়বে যেসব পণ্যের দাম

১. আবাসন নির্মাণ পণ্য

২. তামাকপণ্য

৩. উচ্চমূল্যের বিলাসী খাবার

৪.  কাজু বাদাম

ইত্যাদি

বাজেটে কমছে যেসব পণ্যের দাম

জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বেলা ৩টার দিকে তিনি বাজেট প্রস্তাব পেশ করা শুরু করেন।

এটা বিএনপি সরকারের এই মেয়াদের প্রথম বাজেট।  বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।

 

 

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই ব্যয় ছিল ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা। বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা।

 

এই বাজেটে বিভিন্ন পণ্য ও সেবার ওপর শুল্ককর ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে বেশকিছু পণ্যের দাম কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

 

কমবে যেসব পণ্যের দাম

১. খেজুর ও মসলা (দারুচিনি, এলাচ, লবঙ্গ, গোলমরিচসহ বিভিন্ন মসলা)

২. শিশুখাদ্য

৩. সার

৪. কীটনাশক

৫. পোল্ট্রি, ডেইরি ও মৎস্য খাদ্য

৬. পোল্ট্রি যন্ত্রপাতি

৭. চিকিৎসা যন্ত্রপাতি

৮. ওষুধ

৯. ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল

১০. ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার ও প্রিন্টার

১১. কম্পিউটারের এসএসডি

১২. পরিবহন খাত

১৩. সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল খাত

১৪. বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের চলাচলের যন্ত্রপাতি

 

জেইলার ২’-তে রজনীকান্ত, মিঠুন চক্রবর্তী ও হৃতিক একসাথে

ভারতের দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় নায়ক রজনীকান্তের নতুন সিনেমা ‘জেইলার ২’-তে যুক্ত হলেন বলিউড তারকা হৃতিক রোশন। সিনেমাটিতে তিনি একটি বিশেষ অতিথি (ক্যামিও) চরিত্রে অভিনয় করবেন। এ সিনেমায় আরও অভিনয় করছেন বাঙলার মহাগুরু দাদা মিঠুন চক্রবর্তীও।

 

এর মাধ্যমে দীর্ঘ ৪০ বছর পর পর্দায় একসঙ্গে দেখা যাবে রজনীকান্ত ও হৃতিক রোশনকে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ভ্যারাইটি ইন্ডিয়া এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।কয়েক সপ্তাহ আলোচনার পর হৃতিক আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিনেমায় কাজ করতে রাজি হয়েছেন। আগামী ২২ ও ২৩ জুন চেন্নাইতে তার অংশের শুটিং হওয়ার কথা রয়েছে।

 

শুটিংয়ের আগে তার লুক টেস্ট নেওয়া হবে, কারণ এই সিনেমায় হৃতিককে একেবারেই নতুন এবং আগে কখনো দেখা যায়নি এমন একটি লুকে হাজির করা হবে। সিনেমার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে রজনীকান্তের চরিত্রকে সাহায্য করতে দেখা যাবে তাকে। ২০২৫ সালের আগস্টে ‘ওয়ার ২’ মুক্তির পর এটিই হৃতিকের নতুন কোনো প্রজেক্টে যুক্ত হওয়া।

 

এই সিনেমার মাধ্যমে দীর্ঘ চার দশক পর এই দুই তারকার পুনর্মিলন হতে যাচ্ছে। এর আগে ১৯৮৬ সালের ‘ভগবান দাদা’ সিনেমায় রজনীকান্তের সাথে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করেছিলেন হৃতিক। সেটিই ছিল হৃতিকের অভিনয় জীবনের শুরু। এত বছর পর প্রিয় তারকার সাথে আবার কাজ করার সুযোগ পেয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত হৃতিক।

 

‘জেইলার ২’-তেও ভারতের বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রির বড় বড় তারকাদের অতিথি চরিত্রে দেখা যাবে। হৃতিক ছাড়াও এই তালিকায় আছেন মোহনলাল, শিব রাজকুমার, বিজয় সেতুপতি ও মিঠুন চক্রবর্তী।

 

ফ্রান্সে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল নাগরিক সমাজের বৈঠক

ফ্রান্সে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসবেন আজ। এই বৈঠকে তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথ থেকে সরে না যাওয়ার আহ্বান জানাবেন- জানায় রয়টার্স।

 

 

এই আলোচনায় কয়েক ডজন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অংশ নিচ্ছেন। জাতিসংঘের সমর্থনে তৈরি ‘নিউইয়র্ক ঘোষণা’র এক বছর পূর্তি সামনে রেখে এই আয়োজন করা হয়েছে। ওই ঘোষণায় ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছিল। এরপর ফ্রান্স, কানাডা ও যুক্তরাজ্যসহ প্রায় এক ডজন দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

 

ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বৃহস্পতিবার বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে এই সম্মেলন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তার ভাষায়, অঞ্চলে এখনও সংঘাত চলছে। বেসামরিক মানুষ মারা যাচ্ছে। সহিংসতার চক্রও অব্যাহত আছে। একই সঙ্গে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার প্রচেষ্টাও থেমে আছে।

 

বৈঠক শেষে একটি আট দফার ‘কর্মসূচির আহ্বান’ প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে। এই ঘোষণায় দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির দাবি জানানো হবে। পাশাপাশি ইসরায়েলের অবৈধ বসতি নির্মাণ বন্ধ করার আহ্বান থাকবে। এছাড়া গাজার পুনর্গঠন, প্রশাসনিক সংস্কার এবং নাগরিক সমাজের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা আরো জোরদার করার বিষয়গুলোও এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

 

এই পরিকল্পনা পরবর্তীতে জি-সেভেন নেতাদের কাছে উপস্থাপন করা হবে। তারা আগামী সোমবার থেকে ফ্রান্সের আল্পস অঞ্চলে বৈঠকে বসবেন।

 

মারা গেলেন ৭০’র বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি ব্রিতো

মারা গেলেন ১৯৭০ বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিল দলের ডিফেন্ডার ব্রিতো। বৃহস্পতিবার ৮৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন ব্রাজিলের এই কিংবদন্তি ফুটবলার।

 

 

ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) ব্রিতোর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। এদিকে ব্রিতোরমৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি সামির সাউদ। তিনি ‘ব্রিতো আমাদের ছেড়ে গেছেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার হিসেবে। ১৯৭০ বিশ্বকাপে আমাদের তৃতীয় শিরোপা জয়ে তার অবদান চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার লড়াকু মানসিকতা ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করবে।’

 

 

ব্রাজিলের রক্ষণভাগের অন্যতম খেলোয়াড় ছিলেন ব্রিতো। ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপে ব্রিতো খ্যাতি পেয়েছিলেন তার শক্তিমত্তা, দৃঢ়তা ও কঠোর রক্ষণভাগের নেতৃত্বের জন্য। মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত সেই বিশ্বকাপে পেলে, জর্জিনহো, টোস্টাও, রিভেলিনোদের নিয়ে গড়া ব্রাজিল দলকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা বিশ্বকাপজয়ী দল হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সেই দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন ব্রিতো। জাতীয় দলের জার্সিতে তিনি ৬১টি ম্যাচ খেলেছেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নিজের কঠিন ও নির্ভরযোগ্য রক্ষণভাগের জন্য বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন।

 

জয় দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু দক্ষিণ কোরিয়ার

১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২-১ গোলে বিজয় ছিনিয়ে নিলো দক্ষিণ কোরিয়া। চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়ে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করলো এশিয়ার শক্তিশালী দল দক্ষিণ কোরিয়া।

 

মেক্সিকোর গুয়াদালাহারা স্টেডিয়ামে শুক্রবার গ্রুপ ‘এ’-এর ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রকে ২-১ গোলে হারিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। কোরিয়ানদের হয়ে গোল করেন হোয়াং ইন-বম ও ও হিয়ন-গু। চেকিয়ার গোলটি করেন লাদিস্লাভ ক্রেজচি। প্রথমার্ধে দুই দলই ছিল বেশ সতর্ক। আক্রমণে তেমন ধার ছিল না কারও।

 

গোলের বড় সুযোগও তৈরি হয়নি খুব বেশি। তবে বিরতির পর ম্যাচে আসে গতি, আসে রোমাঞ্চ। ৫৯তম মিনিটে এগিয়ে যায় চেক রিপাবলিক। সাবেক ওয়েস্ট হাম ডিফেন্ডার ভ্লাদিমির সুফালের লম্বা থ্রো থেকে বল পেয়ে হেডে জাল খুঁজে নেন উলভসের ডিফেন্ডার লাদিস্লাভ ক্রেজচি। তাতে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে দক্ষিণ কোরিয়া।

 

তবে চেক রিপাবলিকের আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধের পানি বিরতির ঠিক আগে সমতায় ফেরে দক্ষিণ কোরিয়া। দারুণ স্থিরতায় গোল করেন হোয়াং ইন-বম। চেক ডিফেন্ডার রবিন হ্রানাচকে কাটিয়ে গোলরক্ষক মাতেয় কোভারের ওপর দিয়ে বল তুলে দেন তিনি। ক্রেজচি শেষ চেষ্টা করলেও বল গোললাইন পেরিয়ে যায়।

 

চেকিয়ার লিড টিকেছিল মাত্র ৮ মিনিট। ৭৭তম মিনিটে আবারও এগিয়ে যাওয়ার আনন্দে মেতে উঠেছিল চেক রিপাবলিক। ফ্রি-কিক থেকে বল জালে পাঠান টমাস সৌচেক। পুরো দল উদযাপনও শুরু করে। তবে সহকারী রেফারির অফসাইডের পতাকায় গোলটি বাতিল হয়। রিপ্লেতে সিদ্ধান্তটি সঠিক বলেই দেখা যায়।

 

সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই পিছিয়ে পড়ে চেক রিপাবলিক। আবারও আক্রমণের শুরুতে ছিলেন হোয়াং ইন-বম। ডান দিক দিয়ে বল এগিয়ে নিয়ে দারুণ ক্রস বাড়ান তিনি। কয়েক গজ দূর থেকে ভালো সংযোগে শট নেন ও হিয়ন-গু। বল গোলরক্ষক কোভারের হাতে লেগে দূরের কোণ দিয়ে জালে জড়ায়।

 

শেষ দিকে সমতায় ফিরতে চেষ্টা করে চেক রিপাবলিক। যোগ করা সময় ছিল ৬ মিনিট। তবে কোরিয়ান রক্ষণ ভাঙার মতো পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারেনি তারা। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে দক্ষিণ কোরিয়া।

 

এই জয়ে গ্রুপ ‘এ’-তে মেক্সিকোর পাশে জয়ী দলের তালিকায় উঠল দক্ষিণ কোরিয়া। উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে আসর শুরু করেছিল সহ-আয়োজক মেক্সিকো।

 

চেকিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে বিশ্বকাপের মূল পর্বে দক্ষিণ কোরিয়ার আগের ৭ জয়ের ৬টিই ছিল ইউরোপিয়ান দলের বিপক্ষে। এবার সেই তালিকায় যোগ হলো আরেকটি জয়।

 

ডিবি পরিচয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে যুবক আটক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভিডিও সম্পাদনা করে নিজেকে ডিবি সদস্য পরিচয় দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে নীলফামারী জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

 

গ্রেপ্তার ব্যক্তি হলেন সদর উপজেলার পূর্ব চড়াইখোলা চৌধুরীপাড়া এলাকার মো. সবিজুল ইসলাম (২৪)। বুধবার (১০ জুন) রাতে তার নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

 

পুলিশ জানায়, নীলফামারীর পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খানের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মতলুবর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সবিজুল ইসলামের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও একটি বাটন ফোন জব্দ করা হয়।

 

তদন্তে জানা যায়, জব্দ করা মোবাইল ফোনে একটি ফেসবুক আইডি লগইন অবস্থায় পাওয়া যায়। ওই আইডি থেকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি সংবাদ সম্মেলনের ভিডিও সম্পাদনা করে সেখানে নিজের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর যুক্ত করা হয়েছিল। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করে দাবি করা হয়, ওই নম্বরে যোগাযোগ করলে ডিবি পুলিশের সহায়তা পাওয়া যাবে।

 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ব্যক্তি স্বীকার করেছেন, তিনি ডিবি পুলিশের পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। সাইবার প্রতারণার শিকার ব্যক্তিরা তার দেওয়া নম্বরে যোগাযোগ করলে তিনি তাদের সহায়তার আশ্বাস দিয়ে বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠাতে বলতেন। এভাবে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করে আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

 

এ ঘটনায় নীলফামারী সদর থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

এ বিষয়ে জেলা গোয়েন্দা শাখা জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাম ব্যবহার করে প্রতারণার চেষ্টা করলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

ভূমিস্থ স্থাপনার ক্ষতিপূরণ না দিয়েই উচ্ছেদের অভিযোগ

সিরাজগঞ্জ-নলকা আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ করা হলেও ভূমিস্থ স্থাপনার ক্ষতিপূরণ না দিয়েই উচ্ছেদের অভিযোগ উঠেছে সওজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

 

সোমবার (৮ জুন) সিরাজগঞ্জ-নলকা আঞ্চলিক মহাসড়কে পৌর এলাকার ভুতের দিয়ার মৌজার মো. ফরিদুল ইসলাম ও মোছা. মেরিনা খানমের ভূমিস্থ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।

 

ভুক্তভোগীরা জানান, সিরাজগঞ্জ-নলকা আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণকালে ভুতের দিয়ার মৌজার আরএস ৯২৩ নং খতিয়ানের ২৭৪৬ নং দাগের ০.০৭২৭ একর জমির মধ্যে ফরিদুল ইসলামের ০.০১৩৪ একর অধিগ্রহণ করা হয়। একই খতিয়ানের ২৭৪১ নম্বর দাগে ০.৩০২৫ একর জমির মধ্যে মেরিনা খাননের ০.০৩০০ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়। ওই দুই ভুমি মালিককে তাদের অধিগ্রহণের টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হলেও অধিগ্রহণকৃত জমির উপরিস্থ স্থাপনার ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় নাই।

ক্ষতিপুরণের টাকা বুঝিয়ে পেতে ফরিদুল ইসলাম ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর তারিখে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করেন ফরিদুল ইসলাম। ১৪ অক্টোবর আবেদন করেন মেরিনা খানম। কিন্তু আবেদনের পরও ক্ষতিপূরণের টাকা না পেয়ে  গত ৭ জুন দ্বিতীয় দফায় আবারও জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করেন ফরিদুল ইসলাম ও মেরিনা খানম।

এর ফলে আমরা ব্যাপক ব্যবসায়িক, আর্থিক এবং মানসিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি এবং আমাদের সামাজিক ও ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে।

এ অবস্থায় গত ৮ জুন সোমবার অধিগ্রহণকৃত উপরিস্থ বন্ধন ট্রেডার্স নামে একটি রড-সিমেন্টের দোকান ও মামা ভাগ্নে মেশিনারিজ নামে দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভেকু মেশিন দিয়ে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে ভূমি মালিকরা চরমভাবে আর্থিক ও ব্যবসায়িক ক্ষতির শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন।

ভুক্তভোগীরা আরও বলেন, আমাদের ক্ষতিপূরণের টাকা দেওয়া হয়নি। ৮ ধারা নোটিশও আমরা পাইনি।  এ অবস্থায় জোর করে আমাদের স্থাপনা গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। উচ্ছেদের সময় সড়ক ও জনপথ অফিসের সার্ভেয়ার নিষেধ করে বলেন, এই স্থাপনাগুলোর বিষয়ে এখনও ক্ষতিপুরণ দেওয়া হয়নি। তারপরেও সড়ক ও জনপথ অফিসের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ও উপ-সহকারি প্রকৌশলী আনিসুর রহমান জোরপূর্বক উচ্ছেদ করেন। এ বিষয়ে সুষ্ঠু প্রতিকার ও ক্ষতিপূরণের টাকা বুঝিয়ে পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবী জানিয়েছেন তারা।

 

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইমরান ফারহান সুমেল বলেন, আমরা জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণের টাকা জেলা প্রশাসনকে বুঝিয়ে দিয়েছে।

 

দিনাজপুরে শিক্ষার্থী অপহরণের প্রধান আসামি লিখন গ্রেপ্তার

দিনাজপুরে ল্যাপটপ উদ্ধার করে দেওয়ার কথা বলে এক শিক্ষার্থীকে অপহরণ, মারধর এবং চাকু ঠেকিয়ে মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় মূলহোতা লোকমান হোসেন লিখনকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১৩।
​আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বৈকালে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র‍্যাব-১৩-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী এ তথ্য নিশ্চিত করেন। গ্রেপ্তারকৃত লিখন দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলার পিপল্যা গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে।
​র‍্যাব ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জানুয়ারি বিকেলে ভিকটিম সাদমান মাহমুদ মাহী (২১) নামের এক শিক্ষার্থীর হারিয়ে যাওয়া ল্যাপটপ উদ্ধার করে দেওয়ার কথা বলে ১৫০০ টাকা দাবি করে আসামি লিখন ও তার সহযোগী। টাকা দিতে দেরি হওয়ায় মাহীকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে কোতয়ালী থানার লালবাগ এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আরও ১০-১২ জন সহযোগী মিলে তাকে আটকে রেখে মারধর করে, গলায় চাকু ঠেকিয়ে টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরবর্তীতে ভিকটিম মুক্ত হয়ে বিষয়টি পরিবারকে জানালে ১ ফেব্রুয়ারি তার মা বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।
​র‍্যাব জানায়, ঘটনার পর থেকেই আসামিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার (১০ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিরল উপজেলার পিপল্যা গ্রামে অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি লোকমান হোসেন লিখনকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-১৩, দিনাজপুর ক্যাম্পের একটি দল।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জয় করে নতুন ইতিহাস বাংলাদেশের

৪০ বছরের অপেক্ষা, অবশেষে মিরপুরে হলো তার অবসান। বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়াকে সিরিজ হারাল টাইগাররা। সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জয় তুলে নিয়ে ইতিহাস গড়েছে মিরাজের দল। বোলারদের দৃঢ়তা আর ব্যাটারদের ধৈর্য পরীক্ষায় এক ম্যাচ হাতে রেখেই নিশ্চিত হয়েছে বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক অর্জন।

 

 

 

বৃহস্পতিবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। বৃষ্টি নামার আগে ৪২ ওভারে ১৮৭ রান তুলে সফরকারীরা। এরপর ওভার কমে বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৯২ রান। তবে ব্যাটারদের দলগত পারফরম্যান্সে সেই লক্ষ্য টপকে ৫ উইকেটে ম্যাচ জিতে ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশ।

 

 

 

 

এদিকে শুরুতে ব্যাট করতে নেমে কোনো রান না করেই লজ্জার রেকর্ড গড়ে অস্ট্রেলিয়া। স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ না করেই তিন উইকেট হারায় সফরকারীরা। ওয়ানডে ইতিহাসে ১০২৪ ম্যাচ খেলে এবারই প্রথম শূন্য রানে তিন উইকেট হারানোর নজির গড়ে জশ ইংলিসের দল।

ইনিংসের শুরুতে চাপ তৈরি করেন তাসকিন আহমেদ। টানা দুই ম্যাচে ম্যাথু শর্টকে আউট করেন তিনি। এরপর দ্বিতীয় ওভারে কুপার কনোলিকে লিটনের হাতে ক্যাচ বানিয়ে ফেরান মোস্তাফিজুর রহমান। একই ওভারে ম্যাট রেনশও আউট হন। পরে অ্যালেক্স ক্যারি কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে অস্ট্রেলিয়া।

 

 

১৮তম ওভারে জশ ইংলিসকে আউট করেন তানভীর ইসলাম। ৮১ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় সফরকারীরা। সেই অবস্থায় সপ্তম উইকেটে ১০৩ রানের জুটি গড়ে দলকে সামলান জেভিয়ার বার্টলেট ও মার্নাস লাবুশেন। তবে ৪১তম ওভারে আবারও ধাক্কা খায় অস্ট্রেলিয়া। তাসকিনের জোড়া আঘাতের পর ৪২ ওভারে ৮ উইকেটে ১৮৭ রান করে অস্ট্রেলিয়া।

 

 

 

এরপর বৃষ্টির কারণে দীর্ঘ সময় খেলা বন্ধ থাকে। পরে ডাকওয়ার্থ–লুইস–স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে ম্যাচ ৪১ ওভারে নামিয়ে আনা হয়। এতে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৯২ রান। বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান তিনটি করে উইকেট নেন, তানভীর ইসলাম নেন দুই উইকেট।

 

 

 

 

জবাবে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। গুড লেন্থে পড়া বলে স্ট্রেইট ড্রাইভ খেলতে গিয়ে বোলারের হাতে ফিরতি ক্যাচ দেন তানজিদ তামিম। এরপর শান্তকে নিয়ে দলের হাল ধরেন ওপেনার সৌম্য সরকার। দুই ব্যাটার মিলে গড়েন ৮৬ রানের জুটি। তবে রির্ভাস সুইপ খেলতে গিয়ে ৪২ রানে কাটা পড়েন সৌম্য।

 

 

 

 

৮৬ রানে দুই উইকেট হারানো বাংলাদেশের বিপদ বাড়ান শান্ত। ৯৮ রানের মাথায় ৪২ করে প্যাভিলিয়নে ফিরেন টাইগারদের সহ-অধিনায়ক। আউট হওয়ার আগে অবশ্য নতুন মাইলফলক ছুঁয়েছেন তিনি। দেশের ১১তম ব্যাটার হিসেবে ওয়ানডেতে দুই হাজার রান করেন তিনি, যা বাংলাদেশের হয়ে যৌথভাবে দ্বিতীয় দ্রুততম।

 

 

 

মিরপুরে লিটনের ওয়ানডে পরিসংখ্যান ভালো নয়। প্রায় এক যুগের ক্যারিয়ারে করতে পারেননি কোনো ফিফটি। আজকের ম্যাচেও হলো একই দশা। দারুণ খেলতে থাকা লিটন আটকে গেলেন মিরপুরের ধাঁধায়। ক্যামরুন গ্রিনের আচমকা বাউন্সার লিটনের গ্লাভস ছুঁয়ে উইকেটরক্ষক ইংলিসের হাতে জমা হয়। তাতে ২১ রান করে বিদায় নেন এই ব্যাটার।

 

 

 

ছয়ে নামা মোসাদ্দেকের শুরুটা ছিল আত্মবিশ্বাসী। ডাউন দ্য ট্র্যাকেই এসে খেলেছেন প্রথম বল। অ্যাডাম জাম্পার ওপর বেশি চড়াও হয়েছিলেন এই ব্যাটার, হাঁকিয়েছেন তিন বাউন্ডারি। কিন্তু জাম্পার বলেই উচ্চবিলাসী শট খেলতে গিয়ে বিদায় নেন মোসাদ্দেক। ১৪৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে আচমকা ব্যাকফুটে পড়ে যায় বাংলাদেশ।

 

হিলিতে বিপুল পরিমাণ অবৈধ যৌন উত্তেজক সিরাপ জব্দ

দিনাজপুরের হাকিমপুরে একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ও অননুমোদিত যৌন উত্তেজক সিরাপ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধারকৃত এসব সিরাপের আনুমানিক বাজারমূল্য ৪ লাখ ২৬ হাজার ২৪০ টাকা। এই ঘটনায় দুইজনের বিরুদ্ধে ঔষধ ও কসমেটিকস আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
​আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, বুধবার (১০ জুন) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাকিমপুর পৌরসভার রাউতারা গ্রামে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই গ্রামের মাহাফুজার রহমান মিলন ও আরিফুল হাসান নামের দুই ব্যক্তি পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে মিলনের বসতবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৫ হাজার ৩৭৬ বোতল জিনসি, এবং ৭৬৮ বোতল একে এল-ওয়ান সিরাপ উদ্ধার করা হয়।
​ওসি জাকির হোসেন জানান, অবৈধভাবে বিক্রির উদ্দেশ্যে এসব সিরাপ মজুত রাখা হয়েছিল। এ ঘটনায় পলাতক দুই আসামির বিরুদ্ধে হাকিমপুর থানায় ঔষধ ও কসমেটিকস্ আইন, ২০২৩’ অনুযায়ী একটি মামলা করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে এসআই ওমর ফারুককে।

One thought on “১৫ বছর পার, তবুও বকেয়া পাননি গ্রামীণফোনের কর্মীরা

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

১৫ বছর পার, তবুও বকেয়া পাননি গ্রামীণফোনের কর্মীরা

আপডেট টাইম : ০৬:০১:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

দেড় দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও মেলেনি শ্রমিকের ন্যায্য প্রাপ্য অর্থ। শ্রমিক লভ্যাংশ তহবিলের (ডব্লিউপিপিএফ) ৫ শতাংশ বকেয়া পাওনার দাবিতে আবারও রাজপথে নেমেছেন দেশের শীর্ষ মুঠোফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীরা।

 

 

তাদের অভিযোগ- দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে প্রায় চার হাজার কর্মী ও তাদের পরিবারকে এই লভ্যাংশ থেকে বঞ্চিত করে রেখেছে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ।

 

 

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলীতে গ্রামীণফোনের আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে ‘গ্রামীণফোন ৫ শতাংশ বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে এক মানববন্ধন ও গণ-অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। এই কর্মসূচিতে প্রতিষ্ঠানের অর্ধশতাধিক সাবেক কর্মী অংশ নেন।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সাবেক কর্মীদের অনেকের হাতে ছিল দাবি-সংবলিত প্ল্যাকার্ড। কেউ কেউ বলছিলেন দীর্ঘ অপেক্ষার কথা, কেউ বলছিলেন জীবনের অপূর্ণ স্বপ্নের কথা।

সাবেক এক কর্মী আহসানুল হক বলেন, আমি ১৫ বছর গ্রামীণফোনে কাজ করেছি। প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে নিজের শ্রম ও মেধা দিয়েছি; কিন্তু অবসরের পরও প্রাপ্য অর্থের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আদালতের আইনি প্রক্রিয়াও শেষ হয়েছে। এখন আর বিলম্বের কোনো কারণ দেখি না।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার কারণে বছরের পর বছর তাদের পাওনা আটকে রাখা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে অনেক সাবেক কর্মী মারা গেছেন। কেউ কেউ অসুস্থতা ও আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

 

 

চট্টগ্রামের সমন্বয়কারী সুলেমান মেহেদী বলেন, প্রায় চার হাজার সাবেক কর্মী ও তাদের পরিবার এই অর্থ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। আমরা সংঘাত নয়, আলোচনার মাধ্যমে একটি সম্মানজনক সমাধান চাই।

শফিকুল হত্যার জট খুলল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নওগাঁয় পুরাতন মোবাইল ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুজনকে গ্রপ্তার করেছে পুলিশ। এসময় দেশীয় অস্ত্রসহ নিহত শফিকুলের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরও একজন পলাতক আছে।

 

 

নিহত শফিকুল ইসলাম জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার তিলেকপুর গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে। গ্রেপ্তার দুজন হলেন- নওগাঁ সদর উপজেলার ভিমপুর পাঠাকাটা এলাকার সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে জয়নুল (৩৫) ও জেলার মান্দা উপজেলার সতীহাট শ্রীরামপুর এলাকার এরশাদ আলীর ছেলে আশরাফুল (২৬)।

 

 

শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে সদর মডেল থানায় সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। এর আগে শুক্রবার (১২ জুন) পৌর শহর ও মান্দা উপজেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সদর উপজেলার বারমাসি বিলে কচুরিপানার নিচ থেকে শফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত শফিকুল পুরাতন মোবাইল ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য ব্যাবসা করতেন। লোভ এবং ব্যবসায় কিছুটা লাভবান হওয়ায় ঈর্ষান্বিত হয়ে তার পূর্বপরিচিত জয়নুল, আশরাফুলসহ তিনজন গত ৭ জুন মান্দার সুতিহাটে শফিকুলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৮ জুন শফিকুলকে ভীমপুর কলেজ মোড়ে আসতে বললে সেখান থেকে দুটি মোটরসাইকেলে করে বারোমাসি বিলের পার ঘাঁটি ব্রিজে যায় তারা। সেখানে হঠাৎ করে পেছন থেকে একজন পলাতক আসামি রশি দিয়ে শফিকুলের গলায় টান দেয়। আসামি জয়নুল হাত ও আশরাফুল পা চেপে ধরে। তারপর সে নিস্তেজ হয়ে গেলে তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে তারা তিনজনে পানিতে ডুবিয়ে কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রেখে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, মরদেহ উদ্ধারের পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটনে তদন্তে নামে পুলিশের একটি টিম। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকা জয়নুলকে প্রথমে শহরের একটি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে মান্দা উপজেলা থেকে আশরাফুলকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর জয়নুল এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা স্বীকার করে। হত্যা পর শফিকুলের কাছে থাকা ১৫০০ টাকা তিনজন ভাগাভাগি করে শফিকুলের মোটরসাইকেল নিয়ে যায়।

 

 

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, জয়ব্রত পাল ও সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নাঈমকে নিয়ে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানালেন তামিম

চট্টগ্রামে জাতীয় দলের স্পিনার নাঈম হাসানের ওপর পুলিশি নির্যাতনের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল। অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার পর ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থার দাবিতে শক্ত অবস্থান নিয়েছে বিসিবি।

 

 

শুক্রবার রাতে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ খেলে চট্টগ্রামে নিজের বাসায় ফেরার পথে লালখান বাজার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের হাতে লাঞ্ছিত ও মারধরের শিকার হন নাঈম। ঘটনাটি জানার পরপরই গভীর রাতে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেন খোদ বিসিবি সভাপতি।

 

 

এ প্রসঙ্গে ফেসবুকে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, ‘নাঈম হাসানের সঙ্গে গত রাতে যা হয়েছে, কোনোভাবেই তা গ্রহণযোগ্য নয়। রাতে নাঈম আমাকে ফোন করার পর থেকে তাৎক্ষণিকভাবে যা যা করা দরকার, করার চেষ্টা করেছি আমি ও অন্য বোর্ড পরিচালকরা। সংশ্লিষ্ট সব জায়গায় আমরা কথা বলছি, নাঈম ও তার পরিবারের সঙ্গেও নিবিড় যোগাযোগ রাখছি।’

ক্রিকেটারদের সুরক্ষায় বোর্ডের অনড় অবস্থানের কথা জানিয়ে বিসিবি সভাপতি আরও বলেন, ‘বিসিবির পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে আজকে সকালেই। এরপর আরো যা যা করণীয় আছে, সবকিছু করব আমরা। নাঈম ও সব ক্রিকেটারের পাশে আমরা আছি সবসময়।’

নাঈমের হেনস্তার প্রতিবাদ জানিয়েছেন মুশফিকুর রহিম, তাসকিন আহমেদরাও। তাসকিন নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে লিখেছেন, ‘জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাইম হাসানের সঙ্গে পুলিশের এমন ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।’ ফেসবুকে মুশফিক লিখেছেন, ‘নাঈমের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।যা ঘটেছে, তা আমাকে ব্যথিত ও লজ্জিত করেছে। একজন নাগরিক হিসেবে, একজন বাংলাদেশি হিসেবে আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। নাঈম, আমরা তোমার পাশে আছি।’

নাঈমের হেনস্তার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চেয়ে টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাস ফেসবুকে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘মাথা উঁচু রাখো নাঈম। তুমি একজন ভালো মানুষ। নাঈম হাসানের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। খুবই হৃদয়বিদারক এটা।’

 

 

শনিবার সকালে দেওয়া বিসিবির আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই নজিরবিহীন ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবও পৃথক বিবৃতিতে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি তোলে।

 

 

বিসিবি সভাপতির এমন শক্ত তৎপরতার মধ্যেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘটনার সত্যতা পেয়ে খুলশী থানার এক উপপরিদর্শকসহ (এসআই) তিন পুলিশ সদস্যকে ইতিমধ্যে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান।

 

কক্সবাজার সফরে সাফারি পার্ক পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে কক্সবাজারের ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করেছেন।

 

 

শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে পিএমখালি ইউনিয়নের পাতলী খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করেন তারা। এসময় পার্কের ভেতরের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং প্রধানমন্ত্রী খুবই উচ্ছ্বসিত ছিলেন।

 

 

এ সময় সাফারি পার্কের মূল ফটকের সামনে একটি নাগলিঙ্গম গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি সাফারি পার্কের স্মারক বইয়ে স্বাক্ষর করেন। একইসঙ্গে স্মারক বইয়ে স্বাক্ষর করেন ডা. জুবাইদা রহমানও।

এর আগে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।

এর আগে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজার বিমানবন্দরে নেমে মুষল বৃষ্টির মধ্যে নিজেই গাড়ি চালিয়ে খাল খনন কর্মসূচির স্থলে যান। পাশের আসনে বসান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে।

এরপর সেখান থেকে আবারও নিজে গাড়ি চালিয়ে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে আসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

 

এ সময় পুরো রাস্তাজুড়ে হাজার হাজার স্থানীয় সাধারণ জনগণ এবং দলীয় নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ফুল ছিটিয়ে ও হাত নেড়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং স্লোগান দিতে থাকেন।

 

 

দীর্ঘ সমুদ্রসৈকতের জন্য পরিচিত কক্সবাজারে বহু পর্যটক গেলেও জেলার অন্যতম আকর্ষণ এই সাফারি পার্ক। এটি দেশের প্রথম সাফারি পার্ক। পাহাড়, বন, জলাধার আর উন্মুক্ত পরিবেশে বিচরণকারী শত শত প্রাণী নিয়ে গড়ে উঠেছে এই অনন্য বন্য প্রাণীর জগৎ।

 

 

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারায় অবস্থিত পার্কটি। চট্টগ্রাম শহর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ১০৭ কিলোমিটার। কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ৪৭ কিলোমিটার। এই সাফারি পার্কের যাত্রা শুরু ১৯৮০-৮১ অর্থবছরে। তখন ৪২ দশমিক ৫ হেক্টর বনভূমি নিয়ে এখানে একটি হরিণ প্রজননকেন্দ্র গড়ে তোলে বন বিভাগ। পরে দেশের প্রথম সাফারি পার্ক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সমাধান কি হাসপাতাল বন্ধ, নাকি জবাবদিহি নিশ্চিত করা?

সম্প্রতি রাজধানীর মগবাজারে আদ্‌-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিলের কথা এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। নবজাতকদের এই মর্মান্তিক মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

 

 

এ ঘটনার সুষ্ঠু ও‌‌ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। তবে একইসঙ্গে একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আসে- ভুল বা অপরাধ কী কোনো প্রতিষ্ঠান করে, নাকি তা করে ব্যক্তি?

 

 

বাস্তবতা হলো, কোনো প্রতিষ্ঠান ভুল বা অপরাধ করে না; বরং ভুল বা অপরাধ করে ব্যক্তি- চিকিৎসক, কর্মকর্তা, কর্মচারী কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। একটি হাসপাতাল কোনো সাধারণ প্রতিষ্ঠান নয়; এটি মানুষের জীবন, স্বাস্থ্যসেবা, আস্থা, আশা এবং কর্মসংস্থানের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। একটি হাসপাতাল গড়ে ওঠে দীর্ঘ সময়, বিপুল বিনিয়োগ, দক্ষ জনবল, ত্যাগ এবং সামাজিক আস্থার ভিত্তিতে। বিশেষত যেসব প্রতিষ্ঠান তুলনামূলক কম খরচে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে সাধারণ মানুষের নির্ভরতার জায়গা হয়ে উঠেছে, সেগুলোর কার্যক্রম হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, আদ্‌-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ১৯৯৭ সালে যাত্রা শুরু করে এবং সময়ের পরিক্রমায় এটি একটি বৃহৎ সেবামূলক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। একই প্রাঙ্গণে অবস্থিত আদ্‌-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজ ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ওই বছরের ডিসেম্বর থেকে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটিতে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। বর্তমানে সেখানে কয়েকশত শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। পাশাপাশি হাসপাতালটিতে বিপুলসংখ্যক চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। এ হাসপাতালে শালীনতা ও ধর্মীয় সংবেদনশীলতার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়। মা ও শিশু স্বাস্থ্যে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা, মেডিকেল শিক্ষা কার্যক্রম এবং ২৪ ঘণ্টা জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাজনিত মৃত্যু বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নতুন নয়। বিভিন্ন সময়ে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতালে ভাঙচুর, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা কিংবা উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে দেখা যায়। ফলে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান দিন দিন অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হচ্ছে। এ বাস্তবতায় স্বাস্থ্যখাতে জবাবদিহিতা যেমন জরুরি, তেমনি সেবার পরিবেশ ও ধারাবাহিকতা রক্ষা করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এদেশের বাস্তবতায় সরকারি হাসপাতালগুলো এখনো জনসংখ্যার তুলনায় অপ্রতুল এবং মৌলিক স্বাস্থ্যসেবাও নিশ্চিত করতে পারছে না। এ অবস্থায় বেসরকারি খাত দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। সরকারের একক প্রচেষ্টায় দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত কঠিন। ফলে অযাচিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স্বাস্থ্যখাতে বেসরকারি বিনিয়োগ ও অংশগ্রহণকে নিরুৎসাহিত করা হলে তার দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে অপেক্ষাকৃত কম খরচে চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী হাসপাতালগুলোর কার্যক্রম হঠাৎ স্থগিত হলে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে প্রত্যাশা- আইনের প্রয়োগ যেন কখনোই কোনো বিশেষ প্রতিষ্ঠান, গোষ্ঠী বা শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। বলা বাহুল্য, আমাদের সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তাই শুধু স্বাস্থ্যখাতেই নয়, শিক্ষা, বাজার নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি দমনসহ সব ক্ষেত্রেই আইনের নিরপেক্ষ, সমান ও বৈষম্যহীন প্রয়োগ নিশ্চিত হওয়া অপরিহার্য। মনে রাখতে হবে, আইনের প্রয়োগ যদি বেছে বেছে বা বৈষম্যমূলকভাবে করা হয়, তবে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে এবং জনমনে অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে।

 

 

সর্বোপরি, আদ-দ্বীন হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তবে কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তি বিশেষের সম্ভাব্য গাফিলতির দায়ে দীর্ঘদিনের সেবামূলক একটি হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়া বা এর লাইসেন্স বাতিল করা কোনো অবস্থাতেই ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত হতে পারে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত পদক্ষেপ পরিস্থিতির তুলনায় অধিক জটিল বলে মনে হচ্ছে এবং বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এটি কোনো কার্যকর সমাধান বা ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে বলেও মনে হয় না।

 

 

আমাদের দেশে যেখানে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার প্রাপ্যতা এখনো সীমিত, সেখানে একটি কার্যকর হাসপাতালের সেবা হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের ভোগান্তির কারণ হতে পারে। তাই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে হাসপাতাল বন্ধ নয়; বরং ন্যায়বিচার ও জনস্বার্থে প্রতিষ্ঠানটির স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখাই সমীচিন বলে প্রতীয়মান হয়। প্রশ্ন থেকেই যায়- আবেগতাড়িত ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে, কিংবা আইনের নিরপেক্ষ ও সর্বজনীন প্রয়োগ‌ নিশ্চিত না করে, এদেশে নিরাপদ, মানবিক ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা ও হাসপাতাল ব্যবস্থা কী গড়ে তোলা সম্ভব?

 

 

প্রফেসর ড. ফরিদ আহমদ সোবহানী

ভাইস চ্যান্সেলর

ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি, ঢাকা

 

 

সেনবাগে পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ আসামি গ্রেফতার

নোয়াখালীর সেনবাগ থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন ২০২৬ খ্রিঃ) সেনবাগ থানা পুলিশের অভিযানে সিআর গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি আব্দুল খালেক (৩২), ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মাদক ব্যবসায়ী ইস্রাফিল ওরফে শিপন (২৭) এবং নিয়মিত মামলার এজাহারনামীয় আসামি মো. আবু ইউসুফ ওরফে রাকিব (১৯)-কে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
সেনবাগ থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক ও অপরাধ দমনে তাদের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বিশ্বকাপে নামার আগে চুরির শিকার ইংল্যান্ড দল, ফুটবলারদের বুট উধাও

আসন্ন বিশ্বকাপ ফুটবলের মহারণ শুরু হওয়ার আগেই বড়সড় ধাক্কা খেল ইংল্যান্ড শিবির। যুক্তরাষ্ট্রের বেইস ক্যাম্প ক্যানসাস সিটিতে পৌঁছানোর আগেই চুরির শিকার হয়েছে থমাস টুখেলের দল। খোয়া গেছে ফুটবলারদের অনুশীলনের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম।

 

 

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে কোচ থমাস টুখেল ও তার শিষ্যদের ক্যানসাস সিটিতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তাদের আগমনের আগেই সব সরঞ্জাম বেইস ক্যাম্পে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এফএ)।

 

 

কিন্তু ক্যানসাস সিটির ‘সোয়োপ সকার ভিলেজ’ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যাওয়ার পথে সরঞ্জাম বহনকারী কয়েকটি গাড়িতে হামলা চালায় চোরেরা। গাড়িগুলোর একাংশ ভেঙে ভেতর থেকে মালামাল লুট করা হয়।

ঠিক কী কী সরঞ্জাম চুরি হয়েছে তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারেনি এফএ। তবে প্রাথমিকভাবে আশঙ্কা করা হচ্ছে অনুশীলনের জন্য নির্ধারিত অফিশিয়াল ফুটবল (বল), খেলোয়াড়দের বুট, অনুশীলনে ব্যবহৃত অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী।

শুক্রবার (১২ জুন) রাতে ঘটনার খবর পেয়েই স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা দ্রুত সোয়োপ সকার ভিলেজে ছোটেন এবং তদন্ত শুরু করেন। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিকভাবে এফএ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বুধবার (১৭ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এবারের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে থ্রি-লায়ন্সরা।

ভূমিকম্পে কাঁপল ইরাক-ইরান সীমান্ত অঞ্চল, প্রভাব মায়সানেও

ইরাক-ইরান সীমান্তবর্তী এলাকায় শনিবার সকালে একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এর কম্পন ইরাকের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মায়সান প্রদেশজুড়ে টের পান স্থানীয় বাসিন্দারা।

 

 

ভূমিকম্পটি স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৫২ মিনিটে ইরানের দেহলোরান শহরের কাছে আঘাত হানে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কিছু এলাকায় কম্পন বেশ শক্তিশালী ছিল, আবার কোথাও তা তুলনামূলকভাবে হালকা অনুভূত হয়।

 

 

তবে এখন পর্যন্ত ভূমিকম্পের মাত্রা সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি ইরাকের আবহাওয়া ও ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কর্তৃপক্ষ।

এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

ইরাকের ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিল মাসে দেশটিতে ও এর সীমান্তবর্তী এলাকায় মোট ৩৬টি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১৬টি ইরাকের ভেতরে এবং ২০টি সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সংঘটিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর স্টিয়ারিং হাতে, যাত্রী আসনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে পাশে বসিয়ে নিজেই গাড়ি চালিয়ে কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন। কর্মসূচি শেষেও নিজে গাড়ি চালিয়ে ডুলাহাজারার সাফারি পার্কে তিনি।

 

 

শনিবার (১৩ জুন) সকাল ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে কক্সবাজারে পৌঁছান তিনি। বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার পর চালকের আসনে বসে পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানস্থলের উদ্দেশে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

 

 

সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- পানিসম্পদ মন্ত্রী শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, শাহজাহান চৌধুরীসহ স্থানীয় প্রশাসন ও দলীয় নেতারা।

দিনব্যাপী এ সফরে প্রধানমন্ত্রী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন, পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, জনসভা ও সুধী সমাবেশসহ একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

সব কর্মসূচি শেষে রাতে তিনি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করবেন।

প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হলো যুবদল নেতা মাসুদকে

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ নামের এক যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

 

 

শনিবার (১৩ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

 

নিহত মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী এলাকার মৃত খালেদ চৌধুরীর ছেলে। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বেতাগী ইউনিয়ন থেকে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ছিলেন।

 

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, দুপুরে রাউজানের পাহাড়তলী চৌমুহনীতে অবস্থানকালে মাসুদকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। এলাকাবাসীর ধারণা, বালুর ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।

হত্যাকাণ্ডের খবর রাঙ্গুনিয়া ও রাউজানে ছড়িয়ে পড়লে দুই উপজেলার যুবদল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনার প্রতিবাদে কাপ্তাই সড়কের ইছাখালী (রাঙ্গুনিয়া) ও পাহাড়তলী (রাউজান) এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ কর্মী-সমর্থকরা। দুপুর ১টার পর থেকে কাপ্তাই সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

বিক্ষুব্ধ জনতা জানান, এ জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন ও সড়ক অবরোধ অব্যাহত থাকবে। তবে মানবিক কারণে শুধুমাত্র অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবার যানবাহনগুলো ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।

রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যার খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে।

 

 

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কাপ্তাই সড়কের দুই উপজেলার সীমান্ত এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ভিডিও বিতর্কে পদ হারালেন নারী প্যানেল চেয়ারম্যান

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান মোছা. খাদিজা বেগমকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

 

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি আপত্তিকর ভিডিও এবং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে অসদাচরণসহ বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় জেলা প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

 

 

জানা গেছে, গত ১০ জুন জেলা প্রশাসক অন্নাপূর্ণা দেবনাথ স্বাক্ষরিত এক আদেশে খাদিজা বেগমকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম সচল রাখতে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ফিরোজ কবিরকে প্রশাসকের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান খাদিজা বেগম। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পরিষদের একাধিক সদস্যের সঙ্গে তার বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে ইউপি সদস্যরা তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ, স্বেচ্ছাচারিতা এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন।

এরই মধ্যে কয়েকদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খাদিজা বেগমের একটি আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি এবং এর কয়েকটি স্ক্রিনশট দ্রুত ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভাইরাল হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। একজন জনপ্রতিনিধির এমন কর্মকাণ্ডে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।

 

 

অন্যদিকে, অভিযোগগুলোর বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

 

 

এ বিষয়ে খাদিজা বেগমের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

 

 

নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ. এম. খোদাদাদ হোসেন বলেন, শুধু ভিডিও ভাইরাল হওয়ার কারণে খাদিজা বেগমকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ ছিল। এসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

 

তিনি আরও বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও জনসেবা অব্যাহত রাখার স্বার্থে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

 

 

ধর্ষণের অভিযোগে শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতাকে আটক

কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর লাকসামে উদ্ধার ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও জোর করে ভ্রুণ নষ্ট করার অভিযোগে মামলা হয়েছে।

 

 

পুলিশ দাবি করছে, জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি; তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন। শুক্রবার রাতে কুমিল্লা জেলা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

 

অভিযুক্ত জিসান মিয়া প্রধান ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিমের সাবেক সভাপতি ছিলেন।

শনিবার বেলা ১টার দিকে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান বলেন, ভুক্তভোগীর করা মামলায় জিসান মিয়া প্রধান আসামি। তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশি হেফাজতে চিকিৎসাধীন।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, জিসান মিয়া প্রধান গত ২০ মে দাউদকান্দিতে তার ভাড়া বাসায় ওই তরুণীকে নিয়ে যান। সেখানে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হলে ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে তার গর্ভের ভ্রূণ নষ্ট করা হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ঘটনার পর তিনি জিসানের কাছে বিয়ের দাবি জানালে জিসান প্রথমে সম্মতি দিলেও পরে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে গত বৃহস্পতিবার তিনি আত্মগোপনে চলে যান। একই সময় তার চাচাতো ভাই রাসেল আহমেদের মাধ্যমে থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

 

 

এদিকে, নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর শুক্রবার রাতে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে জিসানকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

 

 

দাউদকান্দি মডেল থানার তদন্ত পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) সামছুল আলম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে অপহরণের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং ব্যক্তিগত ও প্রতারণামূলক একটি ঘটনার জেরে জিসান নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে এক নারী ধর্ষণ, ভ্রূণ নষ্টসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে মামলা করেছেন।

 

ফিলিপাইনে ভূমিকম্পের তাণ্ডব, প্রাণহানি বেড়ে ৬১

ফিলিপাইনের মিন্দানাও অঞ্চলে চলতি সপ্তাহে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬১ জনে পৌঁছেছে। শনিবার দেশটির কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে এখনও উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

 

 

ফিলিপাইনের বেসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তর জানায়, ধ্বংসস্তূপ ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে আরও মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে।

 

 

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত ৩৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১,২২১ জন।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিধস ও ভবন ধসের ঘটনায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে জরুরি সেবা কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। জীবিতদের খোঁজার পাশাপাশি নিহতদের মরদেহ উদ্ধারের কাজও চলছে।

ভূমিকম্পে মিন্দানাও অঞ্চলে মোট ৫ লাখ ৫৩ হাজার ৬৮ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে প্রায় ৯ হাজার ৩৯৩ জন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। এছাড়া ৫৪ হাজার ২৭৪ জন আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের বাড়িতে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিয়েছেন।

 

 

প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির হিসাবে দেখা গেছে, ৮ হাজার ৮৬৫টি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং আরও ৩৬ হাজার ৬৯১টি বাড়ি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 

 

উদ্ধারকাজে বারবার আফটারশক, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে অনেক দুর্গত এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধার সহায়তা পৌঁছাতে বিলম্ব হচ্ছে।

 

 

চলতি সপ্তাহে মিন্দানাও উপকূলের কাছে আঘাত হানে ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প। এতে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘরবাড়ি, স্কুল, হাসপাতালসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

ঝিনাইদহে কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টা, রিকশাচালককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে প্রতিবেশী এক কিশোরীকে (১১) ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মীর ফারুক (৪০) নামের এক রিকশাচালককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী।

 

 

শনিবার (১৩ জুন) সকালে উপজেলার বলিদাপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

 

 

অভিযুক্ত মীর ফারুক ঝিনাইদহ সদর উপজেলার চণ্ডিপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা।

 

 

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বলিদাপাড়া এলাকার একটি ভবনের ফ্ল্যাটে সাবলেট হিসেবে সপরিবারে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছিলেন মীর ফারুক। শুক্রবার দিবাগত রাতে একই ফ্ল্যাটে সাবলেটে থাকা প্রতিবেশীর ১১ বছরের কন্যাসন্তানকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান ফারুক। শনিবার সকালে ভুক্তভোগী শিশুটি বিষয়টি তার মাকে জানায়।

পরবর্তীতে ঘটনাটি জানাজানি হলে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত ফারুককে আটক করে গণপিটুনি দেয় এবং পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফারুককে উদ্ধার করে। গণপিটুনিতে আহত হওয়ায় তাকে চিকিৎসার জন্য কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন জানান, এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তাড়াশে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার শপথ

মাদকের বিষাক্ত ছোবল নির্মূল এবং আগামীর প্রজন্মকে একটি সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ উপহার দেওয়ার লক্ষ্যে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের মাঝদক্ষিনা গ্রামে মাদকবিরোধী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দেশীগ্রাম এন্টি ড্রাগস এন্ড ক্রাইম ইউনিটের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং এলাকার সচেতন মাঝদক্ষিনা যুব সমাজের আন্তরিক সহযোগিতায় গ্রামের খোলা মাঠে এ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় মুরুব্বি, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিত ছিলেন। মাঠজুড়ে মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে এলাকাবাসী মাদকের বিরুদ্ধে কতটা সোচ্চার।
সভায় বক্তারা মাদকের ভয়াবহ কুফল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তারা বলেন, মাদক শুধু একজন মানুষের জীবনই নষ্ট করে না, এটি একটি পরিবারকে তিলে তিলে শেষ করে দেয়। মাদকের কারণে যুবসমাজ নৈতিকতা হারাচ্ছে, বাড়ছে সামাজিক অপরাধ। তাই সময় থাকতেই সবাইকে সচেতন হতে হবে। বক্তারা বিশেষভাবে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমরাই জাতির ভবিষ্যৎ। মাদককে না বলে বই-খাতা ও খেলাধুলার সাথে থাকো। তোমাদের হাত ধরেই দেশ এগিয়ে যাবে।
আলোচনার এক পর্যায়ে বক্তারা মাদক ব্যবসায়ীদের সামাজিকভাবে বয়কট করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি এলাকায় মাদক সংক্রান্ত কোনো তথ্য পেলে তাৎক্ষণিকভাবে দেশীগ্রাম এন্টি ড্রাগস ইউনিট বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর পরামর্শ দেন। যুবসমাজের উদ্যোগে নিয়মিত খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেও তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখার কথা বলা হয়।
সভার শেষ দিকে উপস্থিত সকলে মাদকমুক্ত দেশীগ্রাম ইউনিয়ন গড়ার শপথ নেন। দেশীগ্রাম এন্টি ড্রাগস এন্ড ক্রাইম ইউনিটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শুধু এই সভার মধ্য দিয়েই তাদের কার্যক্রম শেষ হবে না। ভবিষ্যতে ইউনিয়নের প্রতিটি এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হবে এবং স্কুল-কলেজগুলোতে সেমিনারের আয়োজন করা হবে। মাঝদক্ষিনা যুব সমাজের সদস্যরা বলেন, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতা পেলে তারা মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে সর্বদা মাঠে থাকবেন।
এমন সুন্দর আয়োজনের জন্য এলাকাবাসী দেশীগ্রাম এন্টি ড্রাগস ইউনিট এবং মাঝদক্ষিনা যুব সমাজকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অটোরিকশা ছিনতাই: ভুরুঙ্গামারীতে গ্রেপ্তার ২

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ছিনতাইকারী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন ফেরদৌস রহমান অন্তর (২৮) ও মাসুদ মিয়া (২৫)। আটককৃত ছিনতাইকারীদের কাছে থেকে তিন পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে পুলিশ।
কুড়িগ্রাম ভুরুঙ্গামারী উপজেলার বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ ভরতের ছড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গত ৩১ মে সকাল ৮ টা থেকে ১১ টার মধ্যে ছিনতাইকারী তাদের অবৈধ পন্থা ব্যবহার করে অটোরিকশা ছিনতাই করে নিয়ে যায়।
প্রথমে যাত্রী বেসে রিক্সায় উঠেন ছিনতাইকারীর দল। এরপর ভুরুঙ্গামারী বাসস্ট্যান্ড থেকে নাগেশ্বরী পথে রওনা হন। যাত্রা পথে দুর্বৃত্তরা রিক্সা চালক মোঃ রকি (১৯) কে কৌশলে ক্যামিক্যাল যুক্ত পানি পান করান। তারপরে অসুস্থ হয়ে নেতিয়ে পড়েন চালক। অসচেতন অবস্থায় রিক্সা থেকে রকি কে নামিয়ে রিক্সা নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যান ছিনতাইকারী।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে তার নানা মোঃ রুস্তম আলী (৭৩) ভুরুঙ্গামারী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরে অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে একটি রিক্সা চোর ও ছিনতাই চক্রের খবর পেয়ে আটক অভিযান শুরু করেন।

মন্দিরের সম্পত্তি রক্ষায় শরীয়তপুরে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সমাবেশ

শরীয়তপুর সদর উপজেলার বুড়িরহাট বাজারস্থ শ্রী শ্রী রাধা মাধব মন্দিরের সম্পত্তি রক্ষা ও উদ্ধারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়। শনিবার (১৩ জুন) বেলা ১২ টার দিকে শ্রী শ্রী রাধা মাধব মন্দিরের ভক্তবৃন্দের ব্যানারে বুড়িরহাটে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

 

 

 

ওই মন্দিরের সভাপতি বিশ্বনাথ বোস ও সাধারন সম্পাদক রাম কৃষ্ণ দেবনাথের নেতৃত্বে এ কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যক হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন অংশ্রগ্রহণ করেন।

 

 

 

 

কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, শরীয়তপুর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সাধারন সম্পাদক মানিক ব্যানার্জী কুটচাল করে মন্দিরের সম্পত্তি নিজ নামে জাল দলিল করে নেয়। বারবার ওই সম্পত্তি ফেরত দিবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েও কথা রাখেনি। আমরা ভূমিদস্যু মানিক ব্যানার্জীর কালো ধাবা থেকে মন্দিরের সম্পত্তি রক্ষা চাই। এজন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, জাতীয় সংসদের হুইপ ও শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম এবং শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. সফিকুর রহমান কিরনের কাছে সুদৃষ্টি কামনা করছি।

 

হারানো দিনের স্মৃতি

 

মহসিন আলম মুহিন

 

 

হারানো দিনের স্মৃতি,পুরনো দিনের যত গীতি,
ভিড় করে কাছে ডাকে,দেখায় পুরনো প্রীতি।।
কোকিলের কুহুতান, ফুলের বাগান, বহতা নদী;
খেলার মাঠ, পুকুর ঘাট, সাথীদের নানা খুনসুটি।।
ঝড়ের দিনে আম কুড়ানো বৃষ্টি ভেজা গা,
রংধনুর সাত রং মাখা-আকাশের আঙ্গিনা।।
নানি-দাদিদের গল্প শুনে নামতো যে চোখে ঘুম,
দাদা-নানাদের বন্যার কালে-মাছ ধরার ছিলো ধুম।।
ওলাওঠার ভয়, ডায়রিয়ায় ক্ষয়, কত যে প্রিয় মুখ!
আজও কাঁদায় তাদের স্মৃতি, হাহাকার করে বুক।।
আজকের মত বিদ্যুৎ ছিলো না! ছিলো শীতল পাটি,
প্রকৃতির হাওয়ায়, তালের পাখায় স্নিগ্ধ ছিলো মাটি।।
গ্রাম-গঞ্জ, হাট-বাজার, খেলাধুলা সবখানে ছিলো মায়া,
মানুষে মানুষে মিল ছিলো বড়, ছিলোনা কালো ছায়া।।
আধুনিকতার ছোঁয়া পেলো, আজ উন্নত শহর-নগর,
তবুও কেন ফাঁকা লাগে সব, ছাড়ে না মনের ফাঁপড়।।

বার কাউন্সিলের এমসিকিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ জাইমা রহমান

 

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের অধীন অধস্তন আদালতে আইনজীবী তালিকাভুক্তির প্রথম ধাপের এমসিকিউ পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে পাস করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।

 

 

 

শুক্রবার (১২ জুন) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া স্টোরিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন তিনি।

 

 

 

জাইমা রহমান লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমি আপনাদের কাছে ছোট একটি ব্যক্তিগত সাফল্যের কথা শেয়ার করতে চাই। আমার দেশে আইন প্র্যাকটিসের জন্য আজ বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের প্রথম ধাপ এমসিকিউ পরীক্ষায় অংশ নিই। আল্লাহর রহমতে সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি।’

 

 

জানা গেছে, এবারের পরীক্ষায় জাইমা রহমান বিএএফ শাহীন কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিয়েছিলেন।

 

এর আগে শুক্রবার সকালে ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এদিন রাতেই বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে এমসিকিউ পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। এতে মোট ৯ হাজার ২০১ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন।

 

 

চলতি বছরের এ পরীক্ষায় আবেদন করেছিলেন ৩৭ হাজার ৮০ পরীক্ষার্থী। উত্তীর্ণদের তালিকা দেখতে এখানে ক্লিক করুন

 

 

 

এদিকে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তি পরীক্ষা তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমে এমসিকিউ, এরপর লিখিত এবং সর্বশেষ মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। তিন ধাপেই উত্তীর্ণ প্রার্থীরা আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার সুযোগ পান।

 

বিশ্বকাপ খেলা দেখে ফেরার পথে ঝরে গেল আসিফের প্রাণ

বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনায় মেতে ওঠা এক তরুণের জীবন থেমে গেল সড়ক দুর্ঘটনায়। সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সিফু আহমেদ আসিফ (১৯) নামে এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন।
শনিবার (১৩ জুন) ভোররাত ৩টার দিকে রায়গঞ্জ-পাঙ্গাসী সড়কের রায়গঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সিফু আহমেদ আসিফ উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে। তিনি রায়গঞ্জের সরকারি বেগম নুরুন নাহার কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখার পর ভোররাতে মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে বের হন আসিফ। একপর্যায়ে রায়গঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের গেটের সামনে পৌঁছালে তিনি মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের দেয়ালের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খান। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তিনি মারা যান।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহসানুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
আসিফের অকাল মৃত্যুতে তার পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, সহপাঠী ও বন্ধুদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সরকারি বেগম নুরুন নাহার কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকেই তার স্মৃতিচারণ করে শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
যে রাতে বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনায় মেতেছিল কোটি মানুষ, সেই রাতেই সড়ক দুর্ঘটনায় নিভে গেল এক সম্ভাবনাময় তরুণের জীবন। আসিফের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে নিশ্চিন্তপুর গ্রামসহ পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে।

আজ সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী

আজ শনিবার (১৩ জুন) সাবেক স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী। সিরাজগঞ্জ থেকে জাতীয় রাজনীতিতে যে কজন নেতৃত্ব দিয়েছেন তার মধ্যে অন্যতম ছিলেন মোহাম্মদ নাসিম।

 

 

 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর শহীদ এম মনসুর আলীর মেজ ছেলে মোহাম্মদ নাসিম ১৯৪৮ সালের ২ এপ্রিল সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের কুড়িপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। আশির দশক থেকে শুরু করে তিনি টানা পাঁচ দশক জাতীয় রাজনীতিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুব বিষয়ক সম্পাদক, এরপর প্রচার সম্পাদক, তারপর টানা দুই মেয়াদে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১২ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যের পাশাপাশি ১৪ দলের সমন্বয়কের দায়িত্বে ছিলেন নাসিম।

 

 

 

টানা চার বারসহ মোট ছয় বারের সংসদ সদস্য নাসিম ১৯৯১ সালে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে প্রথমে ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ছিলেন। পরবর্তীকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০১৪ সাল থেকে তিনি পাঁচ বছর স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

 

 

 

২০২০ সালের ১৩ জুন করোনায় আক্রান্ত হয়ে ঢাকার শ্যামলীতে অবস্থিত বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিরবিদায় নেন মোহাম্মদ নাসিম।

 

 

 

২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয় না। তবে ফেসবুকে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা স্ট্যাটাস দিয়ে শোক প্রকাশ করেন।

 

মালয়েশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার আদলে শিক্ষাব্যবস্থা উন্নয়নের পরিকল্পনা চলছে: শিক্ষামন্ত্রী

 

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আমরা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে নিয়ে যাব। ইতোমধ্যে আমরা বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে মালয়েশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার মানদণ্ডে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছি।

 

 

 

তিনি বলেন, দেশের বিশাল জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে রূপান্তর করতে এবং আগামীর স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

 

 

 

শুক্রবার (১২ জুন) চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আয়োজনে স্টার্ট-আপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবন ধারণা প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

 

মন্ত্রী বলেন, আমরা আগে যে ধরনের মুখস্থনির্ভর শিক্ষা গ্রহণ করেছি, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা সেটির চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা মূলত ইনোভেশন, স্টার্ট-আপ এবং প্রজেক্ট বেইজড। শিক্ষার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে।

 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান রাসেল। প্রদর্শনীতে ৬ কলেজসহ উপজেলার মোট ২৬ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে।

 

 

শিক্ষার্থীরা এখানে তাদের উদ্ভাবনী চিন্তার মোট ২৯ প্রজেক্ট উপস্থাপন করে। প্রতিযোগিতা শেষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ী, প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদের মাঝে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয়।

 

 

 

প্রজেক্ট প্রদর্শন প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছে কচুয়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। দ্বিতীয় হয়েছে রহিমানগর বিএবি উচ্চ বিদ্যালয় ও তৃতীয় হয়েছে গুলবাহার সরকারি টেকনিকেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

 

 

 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন— উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু নাছির, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তপু আহমেদ, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাওকাত হোসেন সুমন, ভারপ্রাপ্ত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলী আশরাফ, কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল ইসলাম আকাশ, শিক্ষক, সুধী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।

 

ধর্ষণ মামলার আসামি শিবির নেতা, আত্মগোপনকে সাজালেন ‘অপহরণ নাটক’

 

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে কুমিল্লা জেলা পুলিশ।

 

 

 

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, জিসান মিয়া প্রধান গত ২০ মে দাউদকান্দিতে তার ভাড়া বাসায় ওই তরুণীকে নিয়ে যান। সেখানে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হলে ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে তার গর্ভের ভ্রূণ নষ্ট করা হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

 

 

 

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ঘটনার পর তিনি জিসানের কাছে বিয়ের দাবি জানালে জিসান প্রথমে সম্মতি দিলেও পরে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে গত বৃহস্পতিবার তিনি আত্মগোপনে চলে যান। একই সময় তার চাচাতো ভাই রাসেল আহমেদের মাধ্যমে থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

 

 

এদিকে, নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর শুক্রবার রাতে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে জিসানকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

 

দাউদকান্দি মডেল থানার তদন্ত পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) সামছুল আলম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে অপহরণের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং ব্যক্তিগত ও প্রতারণামূলক একটি ঘটনার জেরে জিসান নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে এক নারী ধর্ষণ, ভ্রূণ নষ্টসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে মামলা করেছেন।

 

 

 

 

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে জিসান কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে করা মামলার অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

 

পরিবার জানায়, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল মসজিদে এশার নামাজ আদায়ের পর থেকে জিসানের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। রাত সাড়ে ৮টার পর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও পরিবারের সদস্যরা তার সন্ধান পাননি।

 

 

 

 

চিকিৎসাধীন অবস্থায় জিসান জানিয়েছেন, দাউদকান্দি মডেল মসজিদের সামনে থেকে তাকে একটি গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়েছিল। এরপর থেকে আমি আর কিছু বলতে পারি না বা মনে করতে পারছি না।

 

 

 

 

অভিযুক্ত জিসান মিয়া প্রধান বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক। তিনি সংগঠনটির কুমিল্লা পশ্চিম জেলা শাখার সাবেক সভাপতিও ছিলেন।

 

 

 

উল্লেখ্য, মামলায় আনা অভিযোগগুলো বর্তমানে তদন্তাধীন।

 

 

জনপ্রতিনিধিদের সাড়া না পেয়ে নিজেদের টাকায় রাস্তা মেরামত করলেন গ্রামবাসী

বারবার আবেদন করেও মেলেনি জনপ্রতিনিধিদের সাড়া। অবশেষে দীর্ঘদিনের চরম ভোগান্তির প্রতিবাদ জানাতে নিজেদের অর্থায়নে রাস্তা মেরামতের অনন্য উদ্যোগ নিয়েছেন জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নের রসুলপুর পকপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাহমুদপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রসুলপুর পকপাড়া গ্রামে প্রায় দুই শতাধিক পরিবারের বসবাস। গ্রামের একমাত্র ইটসলিং রাস্তাটি গত ৫-৬ বছর আগে নির্মাণ করা হলেও দীর্ঘদিন কোনো সংস্কার করা হয়নি। ফলে ইট উঠে গিয়ে রাস্তাটিতে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ এই রাস্তাটি চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়ায় স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন। বিশেষ করে এলাকার কৃষিপণ্য অটোভ্যানে করে বাজারে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

জনপ্রতিনিধিদের এমন উদাসীনতার প্রতিবাদে এবং ভোগান্তি থেকে বাঁচতে গ্রামের মানুষ নিজেদের মধ্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে টাকা তুলে একটি তহবিল গঠন করেন। পরবর্তীতে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে শুক্রবার (১২ জুন) সকাল থেকে নিজেদের অর্থায়নে রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু করেন তারা।

 

রাস্তা মেরামতের কাজ করার সময় স্থানীয় আব্দুর ইউসুফ নামের এক যুবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা ইউনিয়ন পরিষদেও গিয়েছি, কিন্তু সেখানে কাজের কোনো উদ্যোগ বা বরাদ্দের খবর পাওয়া যায়নি। তারা আমাদের সবসময় বলে যে কোনো বরাদ্দ নেই। তাই নিরুপায় হয়ে আমরা গ্রামবাসী নিজেদের খরচে এই রাস্তা মেরামতের কাজ করছি। এখানে প্রায় ৫০ হাজার টাকার মতো ব্যয় হচ্ছে। আমরা আশা করি, ইনশাআল্লাহ আগামী দিনে সরকার যেন এই রাস্তার দিকে নজর দেয় এবং দ্রুত এটি কার্পেটিংয়ের ব্যবস্থা করে।

 

এই সংস্কার কাজের উদ্দ্যোক্তা আসলাম মন্ডল বলেন, আমরা রসুলপুর পকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে আমরা চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছি। রাস্তার এই বেহাল দশা নিয়ে আমরা বারবার ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার এবং এমনকি ইউএনও সাহেবের কাছেও গিয়েছি। কিন্তু কেউ আমাদের এই রাস্তার কোনো কাজ করে দেয়নি। বিগত ১৫ বছর আওয়ামী লীগ সরকার গিয়েছে, ১৫ বছর বিএনপি গিয়েছে- কিন্তু কেউ আমাদের এই রাস্তায় একটা টাকারও কাজ করে দেয়নি! সব জায়গায় ব্যর্থ হওয়ার পর আমরা গ্রামের মানুষ নিজেরা মিলে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা তুলে তহবিল গঠন করেছি। এখন নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে আমরা নিজ হাতে এই রাস্তা মেরামতের কাজ করছি। আমাদের মাহমুদপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিলন মন্ডল আমাদের এই রাস্তার বিষয়টি ইউএনও সাহেবকেও কখনো জানাননি এবং এই রাস্তার প্রতি কোনো নজর দেননি।

 

রাস্তা মেরামতের কাজে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা আজিজার, জালাল, একরামুল, মিটু, হাশেম আলীসহ গ্রামবাসীরা দাবি করে জানান, চেয়ারম্যান-মেম্বারের কাছে বারবার গিয়ে শুধু আশ্বাসই পেয়েছি, কোনো কাজ হয়নি। আমাদের দুর্ভোগ কেউ দেখে না। তাই বাধ্য হয়ে গ্রামের সবাই মিলে টাকা তুলে রাস্তা মেরামত করছি। আমরা দ্রুত এই রাস্তাটি কার্পেটিং করার দাবি জানাচ্ছি।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রেজাউল করিম বলেন, ওই গ্রামবাসী আমার কাছে এসেছিল এবং আমি প্যানেল চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানিয়েছি। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় কাজ করা সম্ভব হয়নি।

 

মামুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মিলন মন্ডল গ্রামবাসীর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, এলাকাবাসী নিজস্ব অর্থায়নে রাস্তা মেরামত করছে, এটি অবশ্যই প্রশংসনীয়। আগামীতে বরাদ্দ এলে রাস্তাটির স্থায়ী উন্নয়ন কাজ করা হবে।

 

যোগাযোগ করা হলে ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা চৌধুরী জানান, গ্রামবাসীর নিজস্ব অর্থায়নে রাস্তা মেরামতের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি দ্রুত ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে আগামী বরাদ্দে এই রাস্তার স্থায়ী কাজ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

ক্ষেতলালে ২শ বছরের ঐতিহ্যবাহী সন্যাসতলীর ঘুড়ির মেলা

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় তুলশীগঙ্গা নদীর তীরবর্তী সন্যাস মন্দিরে পূজা উদযাপন উপলক্ষে বসেছে ২ দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ির মেলা। গ্রামীণ এই মেলাটি স্থানীয়ভাবে ‘সন্যাসতলীর ঘুড়ির মেলা’ হিসেবে পরিচিত। লোকজ সংস্কৃতি, দুই শতাব্দীর পুরোনো ঐতিহ্য আর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অভূতপূর্ব মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে এই আয়োজন।

 

মেলার সঠিক ইতিহাস কেউ নিশ্চিত করে বলতে না পারলেও জনশ্রুতি রয়েছে, সন্যাসী পূজাকে কেন্দ্র করে দুইশত বছরেরও বেশি সময় আগে এই মেলার উৎপত্তি ঘটে। সেই থেকে পঞ্জিকা অনুসারে প্রতি বছর জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষ শুক্রবার সকাল থেকে বসে এই ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ মেলা।

 

শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই বিভিন্ন দোকানিরা মেলাপ্রাঙ্গণে পসরা সাজিয়ে বসেন। বিকেল গড়ানোর সাথে সাথে মানুষের ঢল নামে পুরো এলাকায়। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মন্দিরে পূজা অর্পণ করলেও এই উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে সব ধর্মের মানুষের মাঝে। মেলাকে ঘিরে আশপাশের কয়েকটি গ্রামে বিরাজ করছে উৎসবের আবহ; ঘরে ঘরে চলছে জামাই ও দূর সম্পর্কের স্বজনদের আপ্যায়নের ধুম।

 

রং-বেরঙের ঘুড়ি এই মেলার মূল আকর্ষণ হলেও, বর্তমানে এর পরিধি অনেক বেড়েছে। মেলায় বসেছে রকমারি মিষ্টির দোকান, যেখানে বিভিন্ন আকারের আকর্ষণীয় মিষ্টি ও চিনির শাহী জিলাপি দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করছে।

 

এছাড়া মেলায় বাঁশ, কাঠ ও লোহার তৈরি গৃহস্থালি সামগ্রী এবং গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরার নানা যন্ত্রের আমদানি নজর কাড়ছে ক্রেতাদের। শিশুদের খেলনা এবং প্রসাধন সামগ্রীর দোকানেও দেখা গেছে উপচে পড়া ভিড়।

 

মেলায় আসা স্থানীয় মহব্বতপুর গ্রামের দুলাল ও জিয়াপুরের কাজী রফিকুল বলেন, আমাদের বাবা-দাদারা এই মেলায় আসতেন, আমরাও প্রতি বছর এখানে কেনাকাটা করতে আসি। এটি আমাদের আবেগের জায়গা।

 

শুধু স্থানীয়রাই নন, দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষেরও ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।

 

নওগাঁ জেলা থেকে আসা ফারুক হোসেন, বগুড়ার সোনাতলার নিতাই চন্দ্র এবং দিনাজপুরের বিরামপুর থেকে আসা আলিফ হোসেন জানান, প্রতি বছর তাঁরা মূলত রঙ-বেরঙের ঘুড়ি কিনতেই এই সন্যাসতলীর মেলায় ছুটে আসেন।

দিনব্যাপী এই মেলাটি সরকারিভাবে ইজারা প্রদান করা হয়। স্থানীয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে উন্মুক্ত ডাকে অংশগ্রহণ করে ইজারা নিয়ে এই মেলার আয়োজন করেন।

 

ক্ষেতলাল উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মামুন বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই মেলার মূল আকর্ষণ ঘুড়ি। তবে এটি এখন এই অঞ্চলের সব ধর্মের মানুষের একটি বড় উৎসবে পরিণত হয়েছে।

 

সন্যাস মন্দির কমিটির সভাপতি মন্টু চন্দ্র বলেন, প্রায় দুইশত বছরের পুরোনো এই মেলাটি আমরা হিন্দু-মুসলিম সবাই মিলে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে পরিচালনা করি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা এখানে আসেন। এই মেলা আমাদের দীর্ঘদিনের সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

 

একদিন ব্যাপী এই মেলায় আগত হাজার হাজার দর্শনার্থী ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ছিল তৎপর। ক্ষেতলাল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল করিমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ টিমকে মেলাপ্রাঙ্গণে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

 

আধুনিকতার ভিড়ে যখন গ্রামীণ লোকজ সংস্কৃতি হারিয়ে যেতে বসেছে, তখন জয়পুরহাটের এই সন্যাসতলীর মেলা আজও টিকিয়ে রেখেছে গ্রামীণ ঐতিহ্য, সম্প্রীতি আর মানুষের আত্মিক মেলবন্ধন।

যে কারণে ফেসবুক-মেসেঞ্জারে বিভ্রাট

প্রায় এক ঘণ্টা বিভ্রাটের পর মেটা মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, মেসেঞ্জার ও ইনস্টাগ্রাম সচল হচ্ছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুরোপুরি সচল হয়নি।

 

বিভ্রাট পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ডাউনডিটেক্টরের তথ্যানুযায়ী, শুক্রবার (১২ জুন) সন্ধ্যা পর্যন্ত এক লাখের বেশি ব্যবহারকারী ফেসবুকে সমস্যার অভিযোগ জানান। একই সময়ে প্রায় ১০ হাজার ব্যবহারকারী ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারে এবং লগইন করতে সমস্যার কথা জানান।

 

ডাউনডিটেক্টর জানায়, বাংলাদেশে শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ২১ মিনিটের পর থেকেই ফেসবুক আইডিতে লগইন করা যায়নি। যেগুলো ছিল, সেগুলোও অটো লগআউট হয়ে যাচ্ছিল। আবার অ্যাপ বা ওয়েবসাইট রিলোড হতে দেরি হওয়া এবং নিউজফিড আপডেট না হওয়ার মতো সমস্যার কথা জানিয়েছেন অনেকে অনেক ব্যবহারকারী।

 

ফেসবুকের মূল অ্যাপ, মেসেঞ্জার এবং ইনস্টাগ্রামের বিভিন্ন ফিচার ব্যবহার করতে গিয়ে অনেক ব্যবহারকারী ত্রুটি বার্তা পাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে মেটা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিভ্রাটের কারণ জানায়নি। তবে প্রতিষ্ঠানটির স্ট্যাটাস ওয়েবসাইটে ফেসবুক অ্যাডস ম্যানেজার সেবায় ‘উচ্চমাত্রার বিঘ্ন’ দেখা দেওয়ার তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

 

মেটার পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘আমাদের প্রকৌশল দল বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছে এবং যত দ্রুত সম্ভব সমস্যা সমাধানে কাজ করছে।’

 

সাবেক মন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী শনিবার

বিংশ শতাব্দীর যে সকল রাজনীতিবিদ বাংলার মুসলমানদের ভাগ্য পরিবর্তনের  ব্রত নিয়ে কাজ করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ। শনিবার (১৩ জুন) তাঁর ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি ১৯০০ সালে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের কয়েলগাতী গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। তাঁর পিতা দেরাজ উদ্দিন তালুকদার ও মাতা করিমুন্নেসা চৌধুরী।

 

আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হতে এম, এ ও বিএল পাশ করার পর সিরাজগঞ্জ বারে আইনপেশায় নিয়োজিত হন। তিনি বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী ছিলেন। আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ১৯২৭ সালে পাবনা ডিষ্ট্রিক্ট বোর্ডের সদস্য ও পরবর্তীতে সিরাজগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৩৭ সালে এম.এল.এ নির্বাচিত হন।

 

১৯৪২সালে তিনি বেঙ্গল প্রভিনশিয়াল মুসলিমের এসিট্যান্ট সেক্রেটারী নিযুক্ত হন। ১৯৪২ সালে তাঁর উদ্যোগেই সিরাজঞ্জে বেঙ্গল প্রভিনশিয়াল মুসলীম লীগ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে সভাপতিত্ব করেন কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। ১৯৪৩ সালে বঙ্গীয় সরকারের পার্লামেন্টারী সেক্রেটারী হিসেবে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। ১৯৪৫ সালে তিনি প্রথম ভারতীয় নেতা হিসাবে লন্ডনে ইমপেরিয়াল জুট কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছিলে।

 

১৯৪৬ সালের জানুয়ারিতে ব্রিটিশ ইন্ডিয়ার ভাইসরয় লর্ড ওয়াভেল আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ সাহেবকে “খান বাহাদুর” খেতাবে ভূষিত করেন। তবে মুসলিম লীগের বোম্বে অল ইন্ডিয়া অধিবেশনে তিনি ওই উপাধি প্রত্যাখ্যান করেন| ১৯৪৮ সালে তিনি পাকিস্তান কেন্দ্রীয় আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে জয়েন্ট চিফহুইপ নিযুক্ত হন এবং কোলকাতায় পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

 

১৯৬২ ও ১৯৬৫ সালে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৬৩ সালে পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের শিল্প ও প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রী নিযুক্ত হয়ে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

 

 

আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাংলার মানুষের শিক্ষার অগ্রগতির জন্য নিজেকে  উৎসর্গ করেন। তিনি সিরাজগঞ্জ কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও সদস্য এবং তিনি জেলার প্রায় সকল প্রতিষ্ঠানের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত ছিলেন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সিন্ডিকেট সদস্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটেরও সদস্য ছিলেন।

 

কেন্দ্রীয় সরকারের শিল্প ও খনিজ মন্ত্রী থাকাকালীন আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ উত্তরবঙ্গের ৬টি সুগার মিল, ঈশ্বরদীতে আলহাজ ষ্টিল মিল, পাকশী পেপার মিল, সিরাজগঞ্জে ওপেল বিস্কুট ফ্যাক্টরী, কওমী জুট মিল বর্ধিতকরণ, ইষ্টার্ন রিফাইনারি,  রুপপুর নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্টের প্রাথমিক স্থান নির্ধারন নানা প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন।

 

তার সময়েই প্রতিষ্ঠিত হয় ১টি ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি ও ১টি ফার্মাসিউটিক্যাল ফ্যাক্টরিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকারখানা।

 

১৯৬৯ সালে সক্রিয় রাজনীতির অবসান ঘটে তার। বার্ধ্যক্যজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে শয্যাসায়ী হয়ে পড়েন তিনি। ১৯৭৫ সালের ১৩ই জুন মৃত্যুবরণ করেন আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। তাঁর মরদেহ নিজ গ্রামের পৈত্রিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

 

আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের ছেলে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বর্তমান সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর ছোট ছেলে মঞ্জুর হাসান মাহমুদ খুশী সিরাজগঞ্জ পৌরসভার দুবারের মেয়র নির্বাচিত হন। আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের মেয়ে তাসমিনা মাহমুদ একজন খ্যতনামা চিকিৎসক ছিলেন।

 

তাঁর স্বামী আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন চক্ষু বিশেষজ্ঞ  প্রফেসর ডা. এম এ মতিন বাংলাদেশ সরকারের উপ-প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের তৃতীয় প্রজন্ম হিসেবে নাতি ডক্টর এম এ মুহিত বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

 

হোসেনপুর উপজেলায় ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম’ অনুষ্ঠিত

‎কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলা পর্যায়ে তরুণ ও শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ভাবনা এবং বিজ্ঞানমনস্কতাকে উৎসাহিত করতে “স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম” অনুষ্ঠিত হয়েছে।
‎শুক্রবার (১২ জুন) হোসেনপুর উপজেলা হল রুমে সকাল ১১ টায় শুরু হয় ‘এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (EESS), এসইডিপি, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ’-এর আয়োজনে উপজেলা হলরুমে এই জমকালো প্রদর্শনী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
‎অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে  ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম ।
‎হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- হোসেনপুর উপজেলার প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মুজাহিদুল কবির শিহাব  এবং হোসেনপুর  থানার অফিসার ওসি মো. রাশেদুল ইসলাম।
‎দিনব্যাপী আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে উপজেলার বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের তৈরি করা চমৎকার সব উদ্ভাবনী বিজ্ঞান প্রজেক্ট এবং নতুন স্টার্টআপ আইডিয়া প্রদর্শন করেন। দর্শনার্থী ও অতিথিরা ঘুরে ঘুরে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনগুলো দেখেন এবং তাদের মেধার প্রশংসা করেন।
‎অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। সমাপনী পর্বে প্রজেক্ট উপস্থাপনকারী সেরা দলগুলোর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

শরীয়তপুরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন করলেন সাঈদ আহমেদ আসলাম এমপি

শরীয়তপুর সদর উপজেলার পালং গুরুদাস সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) সকালে বিদ্যালয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, শরীয়তপুর-১ (পালং-জাজিরা) আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম।

 

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, বর্তমান বিশ্বে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

 

 

এসময় শরীয়তপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইলোরা ইয়াসমিন, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে অতিথিবৃন্দ মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্পের প্রশংসা করেন।এ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায় শরীয়তপুর সদর উপজেলাধীন বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তৈরি বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক মডেল, প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্ভাবন ও গবেষণামূলক প্রকল্প প্রদর্শন করা হয়। এদিকে, মেলাকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।

 

ঢাকায় চিকিৎসাধীন যুবদল নেতা জামাল উদ্দিন বিদ্যুৎ -এর আরোগ্য কামনা

শরীয়তপুর জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন বিদ্যুৎ বর্তমানে রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ ইবনে সিনা হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

 

তিনি জানিয়েছেন, অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে বর্তমানে আগের চেয়ে অনেকটাই সুস্থ বোধ করছেন।

 

তিনি বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আগের চেয়ে অনেক ভালো আছি। ইনশাআল্লাহ দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার সবার মাঝে ফিরে আসতে পারব।”

 

 

জামাল উদ্দিন বিদ্যুৎ তাঁর দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতার জন্য শরীয়তপুরবাসী, রাজনৈতিক সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী, বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনসহ সকলের কাছে দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করেছেন।

 

 

এদিকে তাঁর অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীরা খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং তাঁর আশু সুস্থতা কামনা করছেন।

 

 

সকলের দোয়া ও মহান আল্লাহর রহমতে তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন তাঁর পরিবার ও শুভাকাঙ্খীরা।

 

গজারিয়ায় স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ভাবনা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

মেধা, বিজ্ঞান, উদ্যোগ ও উদ্ভাবনের দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে উপজেলা পর্যায়ের ‘ বিজ্ঞানমনস্ক প্রজন্ম গড়ে তোলা, উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ এবং তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে প্রস্তুত করার লক্ষ্যে আয়োজিত এ কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও মেধা বিকাশের এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়।
শুক্রবার সকাল ১০টায় গজারিয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনীতে উপজেলার ২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত দল অংশগ্রহণ করে। শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবিত বিজ্ঞান প্রকল্প, প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান, স্টার্টআপ পরিকল্পনা এবং বাস্তবমুখী ইনোভেশন আইডিয়া উপস্থাপন করে উপস্থিত অতিথি, বিচারক ও দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (EESS), সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (SEDP) এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান। সভাপতিত্ব করেন গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাফছা নাদিয়া।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ডা. হামিদা মুস্তফা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন, উপজেলা প্রকৌশলী সামিউল আরেফিন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ফজলুর করিম, গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হাসান আলী, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষক এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী।
বক্তারা বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনভিত্তিক শিক্ষা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীদের মাঝে গবেষণামুখী চিন্তা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং উদ্যোক্তা মানসিকতা গড়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তারা বলেন, আজকের এই খুদে উদ্ভাবকরাই আগামী দিনের প্রযুক্তিনির্ভর ও স্মার্ট বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে।
প্রতিযোগিতায় প্রদর্শিত বিভিন্ন প্রকল্পে পরিবেশ সুরক্ষা, কৃষি উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা, জ্বালানি সাশ্রয় এবং সামাজিক সমস্যা সমাধানের নতুন নতুন ধারণা উঠে আসে, যা উপস্থিত সবার প্রশংসা কুড়ায়।
দিনব্যাপী মূল্যায়ন শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। ফলাফলে প্রথম স্থান অর্জন করে টেংগারচর রাজিয়া কাদের আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, দ্বিতীয় স্থান লাভ করে বাউশিয়া মোহাম্মদ আব্দুল আজহার উচ্চ বিদ্যালয় এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করে ইসমানিরচর উচ্চ বিদ্যালয়।
আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের মেধা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে বিকশিত করার মাধ্যমে একটি জ্ঞানভিত্তিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

নদীভাঙন রোধে দ্রুত উদ্যোগ নিয়েছে তারেক রহমানের সরকার: নুরুদ্দিন অপু

জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু এমপি বলেছেন, সরকার গঠনের মাত্র তিন মাসের মধ্যেই নদীভাঙন রোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জানমাল ও বসতভিটা রক্ষায় সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে।

 

 

শুক্রবার (১২ জুন) সকালে শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার আবুপুর ফেরিঘাট এলাকায় জরুরি নদীতীর সংরক্ষণ কাজের আওতায় জিও ব্যাগ ডাম্পিং কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

 

হুইপ অপু বলেন, শুধু জিও ব্যাগ ডাম্পিং নয়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন, যা নদীভাঙন সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতে যাতে কোনো মানুষ নদীভাঙনের শিকার না হয়, সে লক্ষ্যেই সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে।

 

 

তিনি আরও বলেন, নদীভাঙনপ্রবণ এলাকার মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে এবং চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান, গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুশরাত আরা খানম, গোসাইরহাট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কে এম সিদ্দিক আহমেদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডামুড্যা উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সেলিম মোল্যা, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ইকবাল আখতারসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

 

সাবস্ক্রিপশন নিয়েও ম্যাচ দেখা যাচ্ছে না, টফি-বায়োস্কোপ নিয়ে বিতর্ক

ডিজিটাল দুনিয়ায় দিন দিন চাহিদা বাড়ছে ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোর। খেলা দেখা থেকে বিনোদনের দুনিয়া সব আয়োজনই এখন এক ছাতার নিচে পাচ্ছে মানুষ। কিন্তু বাংলাদেশে এসব প্ল্যাটফর্মেও যেন ভোগান্তির শেষ নেই।

 

 

অনেক জলঘোলার পর ফুটবল বিশ্বকাপ সম্প্রচারিত হচ্ছে বাংলাদেশে। রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেল বিটিভির পাশাপাশি টি-স্পোর্টস ও সময় টেলিভিশন অফিসিয়ালি সম্প্রচার করছে সব ম্যাচ। এর সঙ্গে অনলাইনেও বেশ কয়েকটি স্ট্রিমিং অ্যাপসের মাধ্যমে খেলা দেখা যাচ্ছে। সাবস্ক্রিপশন ফি দিয়ে মোবাইল ফোন কিংবা স্মার্ট ডিভাইসে মাই রবি অ্যাপ, বাংলালিংকের টফি ও গ্রামীণফোনের বায়োস্কোপ এবং আইস্ক্রিনে খেলা দেখার সুযোগ রয়েছে।

 

 

কিন্তু বিশ্বকাপের উদ্বোধনী দিনেই বৃহস্পতিবার তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন টাকা দিয়ে সাবস্ক্রিপশন কেনা এসব প্ল্যাটফর্মগুলোর গ্রাহকরা। নিজেদের ‘প্রতারিত’ মনে করছেন অনেকেই। গতকাল রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে তুমুল সমালোচনা হচ্ছে। গ্রাহকদের অভিযোগগুলোর মধ্যে মোটাদাগে রয়েছে, বাফারিং হওয়া, ওটিপি (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) কোড ঠিকমতো না আসা এবং অনেকেই লগইন করতে পারছেন না।

সবচেয়ে বেশি তোপের মুখে পড়েছে বাংলালিংকের টফি। অনেকে মজাচ্ছলেই বলছেন, টফি রীতিমতো মানুষকে ‘টুপি’ পরিয়ে দিয়েছে। এক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, বাংলাদেশে ডিজিটাল শব্দটাই একটা স্ক্যাম। এখন পর্যন্ত এদের সার্ভারে খেলা দেখে কারোরই ভালো ফিডব্যাক পাইনি। হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ হইলেই আর কাজ করে না। লো ক্যাপাসিটি দিয়ে এত লোড নেবে কিভাবে? অথচ আপনি পাশের দেশের জিও বা প্রাইম এসবে যান দেখবেন সব স্মুথ। ব্যবসা সবাই করে। তবে সমস্যা হচ্ছে বাংলাদেশে লোক ঠকিয়ে ব্যবসাটা বেশি করা হয়।

এবারের বিশ্বকাপের খেলা দেখা যাচ্ছে আইস্ক্রিনেও। এখানেও অনেকে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কেউ কেউ আবার লিগ্যাল অ্যাকশন নেওয়ার কথাও ভাবছেন। কেউ কেউ ভোক্তা অধিকারে টফি ও বায়োস্কোপের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতিও নিচ্ছে।

দুঃখপ্রকাশ টফির

গ্রাহকদের তুমুল সমালোচনার মুখে দুঃখপ্রকাশ করে একটি বিবৃতি দিয়েছে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম টফি। নিজেদের পেজে এক বার্তায় তারা বলছে, ডিজিটাল সম্প্রচার ফিড সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বিশ্বকাপের লাইভ সম্প্রচারে বিঘ্ন ঘটছে। সমস্যাটি দ্রুত সমাধানের জন্য আমরা সম্প্রচার স্বত্বাধিকারী বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)-এর সঙ্গে নিরলসভাবে কাজ করছি। আপনার অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।

পর্দায় আসছে নতুন গ্রামীণ ধারাবাহিক ‘গ্রামের নাম সুন্দরপুর’

আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছেন নতুন আরও একটু ধারাবাহিক নাটকের প্রচার। নাটকের নাম ‘গ্রামের নাম সুন্দরপুর’। ১৩ জুন থেকে বৈশাখী টিভিতে শুরু হবে এর প্রচার। সপ্তাহে তিন দিন শনি, রবি ও সোমবার রাত ৮ টা ৪০ মিনিটে নাটকটি দর্শক দেখতে পারবেন। মোঃ শাহাদাৎ হোসেনের লেখা গল্প নিয়ে নির্মিত এ নাটকের চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন আকাশ রঞ্জন। অভিনয় করেছেন শহীদুজ্জামান সেলিম, রোজি সিদ্দিকী, শফিক খান দিলু, শাকিলা পারভিন, মুকুল সিরাজ, সিদ্দিক মাস্টার, বাদল শহিদ, সাহেলা আক্তার, রূপক রেজা, রাহুল দেবরাজ, সোনিয়া, সাগরিকাসহ আরো অনেকেই।

 

 

 

নাটকের কাহিনী বলতে গিয়ে পরিচালক আকাশ রঞ্জন বলেন, ‘এমন একটা সময় ছিল যখন সুন্দরপুর গ্রামে মানুষের মধ্যে সম্প্রতির বন্ধন ছিল, প্রবল ভালোবাসা ও সম্মান ছিল। বর্তমানে নৈতিক অবক্ষয় আর অমানবিকতা গ্রাস করে ফেলেছে সমাজকে। সুন্দরপুর নামক গ্রামের রাস্তাঘাটের উন্নয়নের সাথে সাথে মানুষের মানসিক অবস্থারও ব্যাপক পরিবর্তন হয়ে গেছে। আগেকার দিনে প্রশ্বস্ত খেলার মাঠ ছিল, যুবকরা ফুটবল, হাডুডু, দাড়িয়াবান্ধা, গোল্লাছুট খেলতো, যাত্রাপালা আর সিনেমা দেখতো। আর এখন? যুবকরা সারাদিন মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকে। গ্রামের মানুষের কোনো দিকে কোনো খেয়াল নেই। কারো অভাব অনটনের কথা শুনলেও আগের মতো ভালোবাসাটা নিয়ে কেউ এগিয়ে আসে না। বর্তমানের নৈতিক আর মানবিক অবক্ষয়কেই তুলে ধরা হয়েছে এই নাটকে।’

অর্থনৈতিক সংস্কারের জন্য বাজেট যথেষ্ট নয়: নাহিদ ইসলাম

 

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বাজেট দেশের অর্থনীতিতে কাঙ্ক্ষিত কোনো সংস্কার আনতে পারবে না।

 

 

শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

নাহিদ ইসলাম বলেন, বাজেটের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য বাস্তবসম্মত নয় এবং এতে দুর্নীতি প্রতিরোধ কিংবা সুশাসন নিশ্চিত করার মতো কার্যকর পদক্ষেপেরও অভাব রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ৬ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এত বড় অঙ্কের রাজস্ব আদায় হয়নি। বর্তমান কর ও রাজস্ব কাঠামোর মাধ্যমে এমন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব নয়।

 

তিনি বাজেটকে ‘উচ্চাভিলাষী’ উল্লেখ করে বলেন, অর্থনীতিতে বড় ধরনের সংস্কারের প্রত্যাশা থাকলেও এ বাজেটের রূপরেখায় সে ধরনের কোনো উদ্যোগের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

তবে বাজেটের কিছু ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, কয়েকটি পণ্যে কর কমানো হয়েছে এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। এসব উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও সেগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় রয়েছে।

 

 

সম্প্রতি বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, এত অল্প সময়ের ব্যবধানে অতীতে এভাবে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর নজির নেই। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণের দাবিতে ১১ দলীয় জোট দেশের বিভিন্ন বিভাগে কর্মসূচি পালন করছে।

 

 

বাজেটে সুশাসন ও জবাবদিহিতার ঘাটতির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তিনি বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে কোনো সুস্পষ্ট রূপরেখা বাজেটে নেই। বড় বাজেটের সঙ্গে বড় ধরনের দুর্নীতির ঝুঁকিও তৈরি হয়।

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ভক্তদের মিলনমেলা, আকর্ষণ ৫০০ হাতের পতাকা

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে বড় পতাকা তৈরির উৎসব ও উন্মাদনা দেখা গেছে। উপজেলার হাটিথানা পুটিমারী এলাকায় ব্রাজিল সমর্থকরা ৩০০ হাত ও আর্জেন্টিনার ২০০ হাত পতাকা তৈরি করে শোভাযাত্রা করেছে।

 

 

সরেজমিনে দেখা যায়, পুটিমারী এলাকায় ভক্তরা ব্রাজিলের ৩০০ হাত ও আর্জেন্টিনার ২০০ হাত পতাকা নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে শোভাযাত্রা করেছেন। শোভাযাত্রা শেষে বাঁধের রাস্তার দুপাশে দুই দলের ভক্তরা প্রিয় দলের পতাকা টাঙিয়ে দিয়েছেন।

 

 

এছাড়াও শহর ও গ্রামের অলিগলি, রাস্তার দুধার, গাছ বা বাড়ির ছাদে দোল খাচ্ছে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, পর্তুগাল, ইরান, ফ্রান্স, জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশের পতাকা। তবে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা দলের সমর্থকের মধ্যে চলছে পতাকা বানানোর প্রতিযোগিতা।

স্থানীয় বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি বিশ্বকাপে এলাকার তরুণেরা মিলে নিজেদের প্রিয় দলের পতাকা লাগানোর এ উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকেন। উৎসাহ দিতে এলাকার প্রবাসী ও বড়রাও এতে অর্থায়ন করেন।

স্থানীয়রা আরও জানান, দুই দলের সমর্থকের মধ্যে অনেকদিন থেকেই চলছে কথার ঢিল ছোড়াছুড়ি।

 

ব্রাজিল সমর্থক রাসেল বলেন, বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। আমাদের এলাকায় ব্রাজিল সমর্থক বেশি। আমরা যে দলই পছন্দ করি না কেন, সবাই মিলে একসঙ্গে খেলা উপভোগ করি।

 

 

হাটিথানা এলাকার পলাশ নামের এক আর্জেন্টিনা সমর্থক বলেন, বিশ্বকাপ এলেই ফুটবল খেলা নিয়ে এলাকায় বিভিন্ন দলের সমর্থক প্রিয় দলের পতাকা টানানো ও জার্সি পরতে দেখা যায়। দল যার যার হলেও আমরা সবাই একযোগে আনন্দ করি। আর্জেন্টিনা দলের সব খেলোয়াড়দের খেলা আমার ভালো লাগে।

৫ ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরত ইস্যুতে দ্রুত পদক্ষেপ: গভর্নর

সম্মিলিত পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের আমানত ফেরত দেওয়ার বিষয়ে আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যেই উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

 

 

শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল ৩টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

 

 

গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়েছে যে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সম্মিলিত পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক নিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। তবে এ তথ্য সঠিক নয়। ব্যাংকগুলোকে ঘিরে বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তিনি জানান, তিনি ২৪ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর কিছুদিন পর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেন। পরে একজনকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলেও তিনি দায়িত্ব নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংক দ্রুত নতুন এমডি নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে, যার আবেদনের শেষ তারিখ ছিল ২৫ মার্চ।

গভর্নর বলেন, আবেদন যাচাই-বাছাই করতে কিছুটা সময় লেগেছে। পরে একজন এমডি নিয়োগ দেওয়া হয় এবং পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে মে মাস পর্যন্ত সময় লাগে। এরই ধারাবাহিকতায় ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদের সর্বশেষ সভা গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সম্মিলিত পাঁচ ব্যাংক নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং খুব শিগগিরই আমানতকারীদের আমানত ফেরতের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

 

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু), তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, কৃষি, মৎস্য ও পানি সম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এবং প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি।

দিনাজপুরের বিরামপুরে ৫৩৩ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ গ্রেফতার ৩

দিনাজপুরের বিরামপুরে পৃথক দুটি অভিযানে সর্বমোট ৫৩৩ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ তিন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
আজ শুক্রবার (১২ জুন) সকালে মামলা দায়েরের পর তাদেরকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম।
পুলিশ জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার কচুয়া মির্জাপুর শালবাগান বাজার থেকে ৫০০ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ দক্ষিণ জগন্নাথপুর গ্রামের মৃত জনাব আলীর ছেলে মোঃ মোস্তাক (৫১) ও মৃত মোসলেম উদ্দিনের ছেলে মোঃ মতিয়ার রহমান (৩৫)-কে আটক করা হয়। অন্যদিকে, দক্ষিণ দাউদপুর গ্রাম থেকে ৩৩ পিস ট্যাবলেটসহ উত্তর কসবা গ্রামের মজলুর রহমানের ছেলে মোঃ রুহুল কবির (৩৩)-কে গ্রেফতার করা হয়।
বিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এলাকায় মাদক নির্মূলে পুলিশের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

জনগণের প্রত্যাশা পূরণেই এবারের বাজেট: অর্থমন্ত্রী

 

সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে বাজেটের আওতায় আনা হয়েছে। ফলে বাজেটে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

 

 

শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

 

 

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি তার বক্তব্যের প্রারম্ভে বলেন, সরকারের মাত্র তিন মাসের মধ্যে এই বাজেট দেওয়া ছিল চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার। তিনি বাজে তৈরিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।

 

 

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিস্ট রেজিম ও অন্তর্বর্তী সরকারের পর এই বাজেটে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন হয়েছে। সরকার প্রতিটি মানুষকে উন্নয়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। নৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে দেশ পরিচালনার চেষ্টা চলছে। যেন অর্থের অপচয় না হয় সেসব ভেবেই প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।

প্রস্তাবিত বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে সরকারের নীতি ও দর্শনের বিষয়েও কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, বাজেট তৈরির সময় ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’, অর্থনৈতিক গণতন্ত্র এবং নৈতিক ভিত্তির ওপর রাষ্ট্র পরিচালনার বিষয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রী বলেন, অতীতে দেশের অর্থনীতি মূলত পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক ছিল। কিছু ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা সংগঠিত স্বার্থান্বেষী মহল অর্থনৈতিক সুবিধা ভোগ করলেও অনেক মানুষ উন্নয়নের মূলধারার বাইরে রয়ে গিয়েছিল। এবারের বাজেটে সেই বৈষম্য কমিয়ে সব শ্রেণির মানুষের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সীমিত সম্পদ ও বিভিন্ন ধরনের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও বাজেটে সমাজের প্রায় সব শ্রেণির মানুষের জন্য কমবেশি বরাদ্দ, কর্মসূচি ও উন্নয়ন পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। শুধু নীতিগত ঘোষণা নয়, সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় রোডম্যাপও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এ কারণেই এবারের বাজেটের প্রেক্ষাপট, দর্শন ও পরিকল্পনা অন্য সময়ের তুলনায় ভিন্ন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রস্তাবিত বাজেটের বিভিন্ন দিক, সরকারের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার এবং সামনের দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কৌশল তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি বাজেট নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি। সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন অর্থ সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার।

 

 

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য দেশের ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বড় বাজেট প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এর আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। ‘অর্থনৈতিক গণতান্ত্রিকীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণ: ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে প্রণীত এ বাজেটের আকার দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ।

মুন্সীগঞ্জ শহরে ফ্ল্যাট বাসায় দুর্ধর্ষ চুরি, স্বর্ণালংকারসহ মালামাল লুট

মুন্সীগঞ্জ শহরের ডায়াবেটিস হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় একটি ফ্ল্যাট বাসায় দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরেরা স্বর্ণালংকার, ল্যাপটপ, ট্যাব, মোবাইল ফোন ও মূল্যবান শাড়িসহ প্রায় ১৩ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ৯ জুন গভীর রাতে শহরের ডায়াবেটিস হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত নিজ ফ্ল্যাটের দ্বিতীয় তলায় এ চুরির ঘটনা ঘটে। ফ্ল্যাটটির মালিক মোহাম্মদ কবির আন নূর।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কবির আন নূরের স্ত্রী বাসায় এসে দরজা খুলতে না পেরে সন্দেহ করেন। পরে ভবনের পেছনের দিকে গিয়ে রান্নাঘরের ভেন্টিলেটর খোলা দেখতে পান। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। পরে পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করা হয়।
এ সময় ঘরের তিনটি আলমারির তালা ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘরের কাপড়চোপড় ও অন্যান্য মালামাল এলোমেলো করে রাখা ছিল। আলমারিতে থাকা সোনার চুড়ি, চেইন, কানের দুল, ব্রেসলেট, মাথার টিকলিসহ বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার চুরি হয়েছে। এছাড়া একটি ল্যাপটপ, ট্যাব, মোবাইল ফোন এবং কয়েকটি মূল্যবান বিয়ের শাড়িও নিয়ে যায় চোরেরা।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, চুরি হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৩ লাখ টাকা।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
চুরির এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত চোরদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

এ বাজেট রঙ্গিন হাওয়াই মিঠাইর মত : মোমিন মেহেদী

নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী বলেছেন, এ বাজেট রঙ্গিন হাওয়াই মিঠাইর মত। দেখতে বড়-সুন্দর কিন্তু তা সামাণ্য বাতাসে, সামাণ্য চাপে চিপসে শূণ্যে মিলিয়ে যাবে। কারণ, এই বাজেটের প্রধান অন্তরায় মার্কিন চুক্তি আর আইএফএম-এর ঋণ। যে পর্যন্ত তারেক রহমানের সরকার জঙ্গী-জামায়াত মদদপুষ্ট মার্কিনী চুক্তি বাতিল আর ঋণের বোঝা সরাতে না পারবে, সেই পর্যন্ত তার বাজেটসহ কোনো উদ্যেগই সফল হবে না।
১২ জুন সকালে তোপখানা রোডস্থ বিজয় মিলনায়তনে নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবি আয়োজিত বাজেটোত্তর প্রতিক্রিয়া সভায় উপরোক্ত কথা বলেন।
এসময় মোমিন মেহেদী আরো বলেন,  এক কর্মী সভা শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন। এসময় তিনি আরো বলেন, মার্কিনী চুক্তি বহাল রেখে বাজেট ঘোষণা আর গলায় ফাঁসির রশি নিয়ে বিয়ে করা সমান অবস্থায় জনগণ দেখতে পেলেও, সরকার আর গৃহপালিত বিরোধী দলগুলো দেখতেও পাচ্ছে না। কাঠের চশমা চোখে দিয়ে এনসিপি-জামায়াত-যুদ্ধাপরাধীদের জোট জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে যখন, তখন সরকারের এমন অসম, অপরিকল্পিত, ফাপা বাজেট নতুন করে ঋণের বোঝা যেমন বড় করবে, তেমনই দারিদ্র ও দরিদ্রের সংখ্যা বাড়াবে।  সভায় বক্তব্য রাখেন নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির প্রেসিডিয়াম মেম্বার বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা, যুগ্ম মহাসচিব মনির জামান, ওয়াজেদ রানা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হাশেম মোল্লা, কাউসার বেপারী প্রমুখ।

এসময় শান্তা ফারজানা বলেন, বাংলাদেশ বিরোধী-যুদ্ধাপরাধীরা দেশ ধ্বংস করার এজেন্ডা নিয়ে ত্রয়োদশ সংসদে এসেছে, তারা বাজেট সম্পর্কে কোনো ধারণাই রাখে না। বরং তারা আমেরিকার সাথে বাণিজ্য চুক্তি, ধর্ষণ, খুন, সহিংসতাকে দেখেও না দেখার, জেনেও না জানার অভিনয় করছে। এতে করে দেশ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে, দেশের অর্থনীতি হুমকির মধ্যে পরছে যখন তখন তারা তাদের গাড়ি-বাড়ি-কাড়িকাড়ি টাকা কামানোতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে।

এসময় নতুনধারার নেতৃবৃন্দ বলেন, সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সেই দেশ ও জনবিরোধী-স্বাধীনতা বিরোধীদের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে বাংলাদেশ। সেই ষড়যন্ত্রে কারণে আজ বন্দর, সেন্টমার্টিন এমনকি বাণিজ্য খাতটা পর্যন্ত আমেরিকাসহ দেশবিরোধী চক্র নিয়ন্ত্রণ করছে; তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধীচক্র বলেই মার্কিনী চুক্তি বহাল রেখে বাজেট নিয়ে ব্যস্ত হয়ে আছেন। মধ্যিখানে জামায়াত-এনসিপি মিলেমিশে সহিংসতাকে উসকে দিচ্ছে, ছাত্র-যুব-জনতাকে দালাল ট্যাগ লাগিয়ে ক্রমশ সারাদেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব তৈরি করছে।

চীন প্রতিদিন বদলাচ্ছে, বাংলাদেশকেও উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে হবে- মির্জা ফখরুল

​চীনকে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও দ্রুত উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উল্লেখ্য করে বিএনপি মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, চীন প্রতিদিন বদলাচ্ছে এবং ক্রমাগত উন্নতির শিখরে পৌঁছাচ্ছে। দেশটি তার নিজস্ব জনগণের কল্যাণের পাশাপাশি এখন বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে বড় ধরণের সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের রাস্তাঘাট, কালভার্ট, ব্রিজ ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণে চীনের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
​শুক্রবার ঠাকুরগাঁও শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে শিশু শিক্ষার্থীদের মাঝে চীন সরকারের পক্ষ থেকে স্কুল ব্যাগ ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
​​অনুষ্ঠানে মন্ত্রী চীনের রাষ্ট্রদূতের সাথে তার ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের কথা উল্লেখ করে বলেন, “ইতিমধ্যে আমি দুবার চীন সফর করেছি। সেই সুবাদেই উনাকে বিশেষভাবে ঠাকুরগাঁওয়ে দাওয়াত করে নিয়ে এসেছি। আমরা ঠাকুরগাঁওয়ে নতুন নতুন শিল্প-কলকারখানা তৈরি করতে চাই। চীনা রাষ্ট্রদূত আমাদের এই শিল্পায়নের কাজে পূর্ণ সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন।
​মন্ত্রী আরও জানান যে, আগামী বছর চীনের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ঠাকুরগাঁওয়ে আসবেন এবং এখানকার স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় করে বিনিয়োগ ও শিল্প কারখানা স্থাপনের রূপরেখা চূড়ান্ত করবেন।
​শিক্ষার্থীদের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরণ ​অনুষ্ঠানে চীন সরকারের সৌজন্যে এলাকার মোট ৬,৫০০ জন শিশু শিক্ষার্থীর মাঝে স্কুল ব্যাগ ও বিভিন্ন আকর্ষণীয় শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। উপহার পেয়ে খুদে শিক্ষার্থীদের মাঝে আনন্দের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে।
​শিক্ষা উপকরণ বিতরণী এই জমকালো অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন: চীনের রাষ্ট্রদূত মিস্টার ইয়ো ওয়েন, জেলা প্রশাসক, মোহাম্মদ রফিকুল হক,পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি ​মির্জা ফয়সাল আমিনসহ অন্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা আহ্বান বিকেএমের

রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের (বিকেএম)। শুক্রবার (১২ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলটির মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ এ আহ্বান জানান।

 

 

তিনি বলেন, ‘নবজাতকদের এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও বেদনাদায়ক। ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। কোনোভাবেই দায়ীদের দায়মুক্তির সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।’

 

 

তিনি বলেন, ‘তদন্ত ও জবাবদিহিতার প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় গত ১১ জুন পুরো হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। আদ-দ্বীন হাসপাতাল দীর্ঘদিন ধরে স্বল্প ব্যয়ে দেশের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের চিকিৎসাসেবা প্রদান করে আসছে। শত শত ভর্তি রোগী ও প্রতিদিনের বিপুলসংখ্যক সেবাগ্রহিতার চিকিৎসা চলমান থাকা অবস্থায় হাসপাতালটি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ায় সাধারণ মানুষ মারাত্মক ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।’

বিকেএম মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে অবহেলা, ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা ও চিকিৎসাগত ত্রুটিজনিত ঘটনা অতীতেও বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ঘটেছে। কিন্তু প্রতিটি ঘটনার জন্য পুরো প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া স্থায়ী সমাধান নয়। বরং দায়ী ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহিতার আওতায় এনে ত্রুটি সংশোধন এবং সেবার মান নিশ্চিত করাই অধিকতর কার্যকর পন্থা।

তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যখাতে নিরাপত্তা, জবাবদিহিতা ও মাননিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে সরকারকে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রেখে কঠোর তদারকির মাধ্যমে হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা চালু রাখার সুযোগ দেওয়া উচিত।

মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ সরকারের প্রতি আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, তবে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অধিকার ক্ষুণ্ণ করা উচিত নয়।

 

 

তিনি অবিলম্বে হাসপাতালটির চিকিৎসা কার্যক্রম পুনরায় চালুর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

হঠাৎ করে বিশ্বকাপে ডাক, মেসিদের সঙ্গে বিশ্বকাপ খেলার সুখবর

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের আগে নিজেদের রক্ষণভাগ নতুন করে সাজাতে হচ্ছে আর্জেন্টিনা দলকে। ডিফেন্ডার লিওনার্দো বালের্দির আকস্মিক চোট আলবিসেলেস্তেদের ক্যাম্পে বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে। তবে বালের্দির এই দুর্ভাগ্যই শেষ মুহূর্তে ভাগ্য খুলে দিল মার্কোস সেনেসির। ২৬ জনের চূড়ান্ত স্কোয়াড থেকে অল্পের জন্য বাদ পড়া খেলোয়াড়দের তালিকায় থাকা সেনেসিকে অবশেষে দলে ডেকেছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি।

 

 

হঠাৎ করে বিশ্বকাপে ডাক পাওয়ার এই খবরটি সেনেসির চেয়েও যেন বেশি ছুঁয়ে গেছে তার প্রেমিকা ও পেশাদার ফুটবলার কেলসি রোজকে। খবরটি পাওয়ার পর নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি। ইনস্টাগ্রামে আর্জেন্টিনার জার্সি পরা সেনেসির একটি ছবির ওপর তিনি লিখেছেন, ‘ওহ মাই গড! অবশেষে এটা সত্যি হচ্ছে।’

 

 

স্পেনের ইবিসায় ছুটি কাটানোর সময় স্কালোনির সেই কাঙ্ক্ষিত ফোনকলটি যখন আসে, কেলসি তখন সেই বিশেষ মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দী করে রাখেন। কেলসি জানান, পুরো ট্রিপ জুড়েই তারা মনে-প্রাণে প্রার্থনা করছিলেন যেন সেনেসি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পান।

সম্প্রতি ইংলিশ ক্লাব টটেনহাম হটস্পারে নাম লেখানো এই ডিফেন্ডারের ক্যারিয়ারে এটিই হতে যাচ্ছে প্রথম বিশ্বকাপ। সুযোগ পেয়ে তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, বিশ্বকাপে খেলার যে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন আমি লালন করেছি, তা পূরণ করার সুযোগ পেয়ে আমি খুবই খুশি।’

সেনেসি ও কেলসির প্রেমের গল্পটা শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালে, যখন তারা দুজনেই খেলতেন ইংলিশ ক্লাব বোর্নমাউথে (সেনেসি পুরুষ দলে এবং কেলসি নারী দলে)। ক্লাবের নতুন জার্সি উন্মোচনের এক ফটোশুটের সময় তাদের প্রথম পরিচয় হয়, যা দ্রুতই সম্পর্কে রূপ নেয়। সেনেসির দেশ ও সংস্কৃতিকে জানতে কেলসি এর আগে আর্জেন্টিনা ঘুরেও এসেছেন।

 

 

২২ বছর বয়সী কেলসি রোজ একজন ইংলিশ ফুটবলার। চেলসি একাডেমি দিয়ে ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করা কেলসি ২০২১-২২ মৌসুমে এফএ অনূর্ধ্ব-২১ সাউদার্ন ডিভিশনের চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য ছিলেন। বর্তমানে তিনি বোর্নমাউথ উইমেনের হয়ে মিডফিল্ডার হিসেবে খেলছেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং পোর্টসমাউথের হয়েও কিছুদিন খেলেছেন তিনি।

 

 

 

মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও কেলসির দারুণ জনপ্রিয়তা রয়েছে। ইনস্টাগ্রামে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা ২ লাখের বেশি, যেখানে তিনি নিজের প্রতিদিনের জীবন, ফ্যাশন ক্যাম্পেইন এবং সেনেসির সঙ্গে কাটানো নানা মুহূর্ত শেয়ার করে থাকেন।

পবিত্র হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৫২ হাজারের বেশি বাংলাদেশি

পবিত্র হজ পালন শেষে দেশে ফিরেছেন ৫২ হাজার ৪৯১ জন বাংলাদেশি। এর মধ্যে সরকারি মাধ্যমে ফিরেছেন চার হাজার ২৮৯ জন হাজি। আর বেসরকারি মাধ্যমে ফিরেছেন ৪৮ হাজার ২০২ জন।

 

 

শুক্রবার (১২ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ২টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত হজ বুলিটিন থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

 

 

একই সময়ে সৌদিতে হজে গিয়ে মারা গেছেন ৪৯ জন।

দেশে ফেরা হাজিদের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ২১ হাজার ৯২০ জনকে, সৌদি এয়ারলাইন্স ১৮ হাজার ৮৮০ জনকে, ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স আট হাজার ৩৮০ জনকে পরিবহন করেছে। অন্যান্য এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে সৌদি আরব ত্যাগ করেছেন তিন হাজার ৩১১ জন।

এখন পর্যন্ত ফিরতি ফ্লাইট সংখ্যা ১২৩টি। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৫৫টি, সৌদি এয়ারলাইন্স ৪৭টি, ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ২১টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।

হজে গিয়ে সৌদি আরবে চিকিৎসা নিয়েছেন ৬২ হাজার ২৪৩ জন। আর এখন পর্যন্ত দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে ৪৯ বাংলাদেশি হাজির।

 

 

উল্লেখ্য, হজযাত্রীদের সৌদি আরবগামী প্রথম ফ্লাইট ছিল ১৮ এপ্রিল এবং শেষ ফ্লাইট ২১ মে। অন্যদিকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয়েছে ৩০ মে, যা চলবে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত।

হিজবুল্লাহর ৩১০ স্থাপনায় হামলার দাবি করল ইসরায়েল

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহে দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর ৩১০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, এসব অভিযানে প্রায় ৮০ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। খবর আল-জাজিরার।

 

 

একই সময়ে গাজা উপত্যকায় পরিচালিত সামরিক অভিযানে ২০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এছাড়া অধিকৃত পশ্চিম তীরে অভিযান চালিয়ে ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

 

 

যদিও লেবানন ও গাজা, উভয় ক্ষেত্রেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে, তবুও ইসরায়েলি বাহিনী বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা, সামরিক অভিযান এবং ভূখণ্ডে উপস্থিতি অব্যাহত রেখেছে।

এদিকে এসব ঘটনার বিষয়ে হিজবুল্লাহ, ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, ইসরায়েল বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। এ ধরনের কাজ আন্তর্জাতিক আইনের বিরোধী।

বিএনপি আমলে সংবাদপত্র স্বাধীনভাবে কাজ করেছে: শাহে আলম

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, বিএনপি সরকার সংবাদপত্রের অবাধ স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে। তবে সেই স্বাধীনতার দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান। এতে করে যাতে কারো চরিত্রহরণ করা না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

 

 

শুক্রবার (১২ জুন) বেলা ১১টায় বগুড়া প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি প্রেস ক্লাবের নবনির্মিত ভবন পরিদর্শন করেন।

 

 

বগুড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি রেজাউল হাসান রানুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম. আর. ইসলাম স্বাধীন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী চান কোলাহলমুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে শহরের বাইরে একটি আধুনিক বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কৃষি, প্রকৌশল, চিকিৎসা ও বিজ্ঞান অনুষদ থাকবে। এ সংক্রান্ত প্রস্তাব আগামী সপ্তাহেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে উপস্থাপন করা হবে।

তিনি আরও জানান, বগুড়ায় একটি বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেখানে পাইলট ট্রেনিং সেন্টার, আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কার্গো সুবিধা, যুদ্ধবিমান পরিচালনার অবকাঠামো এবং বিমানঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

মীর শাহে আলম বলেন, বগুড়ায় আন্তর্জাতিক মানের ফুটবল স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে, ইনশাআল্লাহ। পাশাপাশি বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও বগুড়া ওয়াসা গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প আগামী সপ্তাহে একনেক সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। ইতোমধ্যে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য ২২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

 

 

বগুড়া শহরের রেললাইন স্থানান্তর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাণীরহাট থেকে বগুড়া শহর হয়ে মেট্রোরেলের আদলে ট্রেন গাবতলী পর্যন্ত চলাচল করবে। একইসঙ্গে গাবতলীতে চার লেনের বাইপাস, বগুড়া-নওগাঁ এবং মোকামতলা-জয়পুরহাট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়াও বগুড়া বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদের উন্নয়নে ২৫ কোটি টাকা দেওয়া বরাদ্দ হয়েছে।

 

 

শহর উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নগরবাসীর আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। শহরে অপ্রয়োজনীয় ভাঙচুর না করেই কীভাবে উন্নয়ন বাস্তবায়ন করা যায়, সে লক্ষ্যেই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

 

 

এ সময় বগুড়া প্রেস ক্লাবের উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ১ কোটি টাকা অনুদান ঘোষণা করেন প্রতিমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে গাবতলীর ভাড়ায় সড়কে সাময়িকভাবে ইট বিছানোর বিষয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চলাচলের নিরাপত্তার স্বার্থে কাঁচা রাস্তায় অস্থায়ীভাবে ইট বিছানো হয়েছিল। সড়কটি আগে থেকেই পাকাকরণের জন্য অনুমোদিত থাকায় এখন ইট অপসারণ করে ঠিকাদার স্থায়ী নির্মাণকাজ শুরু করেছেন।

 

 

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্য নিম্নমুখী

আন্তর্জাতিক বাজারে শুক্রবার স্বর্ণের দাম কমেছে এবং সপ্তাহজুড়ে উল্লেখযোগ্য ক্ষতির দিকে এগোচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ এবং দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনার কারণে স্বর্ণের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

 

 

শুক্রবার স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,১৮৩.১৯ ডলারে নেমে আসে। এদিকে সপ্তাহজুড়ে স্বর্ণের দাম প্রায় ৩.৪ শতাংশ কমার পথে রয়েছে।

 

 

অন্যদিকে, আগস্ট ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারস ২.২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,২০৪.৪০ ডলারে পৌঁছেছে।

 

উচ্চ মূল্যস্ফীতি অব্যাহত থাকলে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়ানোর পদক্ষেপ নিলে স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদের চাহিদা আরও চাপের মুখে পড়তে পারে। ফলে বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করছেন।

 

 

বাড়ি পাশেই গুলি করে বিএনপি নেতাকে হত্যা

খুলনায় নিজ বাড়ির কাছে গাজী রফিক (৪৫) ওরফে ঢাকাইয় রফিক নামে এক বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

 

শুক্রবার (১২ জুন) বেলা ১১টার দিকে খুলনার দক্ষিণ লবনচরা  দশগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।  রফিক বটিয়াঘাটা ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে। তিনি দক্ষিণ লবনচরার মাথাভাঙ্গার রতন গাজীর ছেলে।

রফিকের স্ত্রী বলেন, আমার বড় ছেলে রাগ করে ঘর থেকে হয়ে গেছে। তাকে ডাকতে গিয়ে আমার স্বামী না পেয়ে বাড়ির পেছনের একটা ফাঁকা জায়গায় বসে ছিলেন।

তখন কারা এসে তাকে গুলি করে, যা তার তল পেটে লাগে। তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি জানান, তার স্বামী বিএনপির রাজনীতি করতেন।

 

বিস্তারিত আসছে…

 

বিশ্বকাপ উৎসবে মেতেছে কুড়িগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও

 

সারাবিশ্বের মতো বিশ্বকাপ ফুটবল উন্মাদনায় মেতেছে কুড়িগ্রামের প্রত্যন্ত গ্রাম ও গঞ্জের সাধারণ মানুষ। হাজার হাজার মানুষ ফুটবল উৎসবে মেতেছেন।
শুক্রবার দিবাগত রাত ১ টায় অনুষ্ঠিত হয় তেইশতম ফিফা বিশ্বকাপ। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, কানাডা তিন দেশ মিলে ৪৮ দেশ নিয়ে এবারের ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রাত ১ টায় অনুষ্ঠিত হওয়া প্রথম ম্যাচ দেখার জন্য গভির রাতে ভিড় জমেছে গ্রাম গঞ্জের বিভিন্ন খোলা মাঠে। গভীর রাতে প্রত্যাহিক নিয়মানুসারে ঘুমে থাকার কথা থাকলে বিশ্বকাপ ফুটবলের উদ্বোধনী ম্যাচে তার ব্যতিক্রম ঘটে। নিদ্রাকে উপেক্ষা করেছে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে ফুটবল প্রেমীরা। দেশের বিভিন্ন জেলা শহরের পাশাপাশি বিশ্বকাপে উৎসব দেখে গেছে প্রত্যন্ত গ্রাম গঞ্জেও।
শিশু, কিশোর থেকে শুরু করে প্রবীণদের উপস্থিতও ব্যাপক লক্ষ্য করা যায়। কেউ টিভিতে কেউ মোবাইলে কেউবা বড় পর্দা টাঙিয়ে উপভোগ করছেন ফুটবল খেলা। অনেকে খোলা মাঠের নিচে খেলা উপভোগের পাশাপাশি করছেন তর্ক বিতর্ক। বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া নিজেদের পছন্দের দলকে ঘিরে দেখা যায় কথার কথার তুমুল লড়াই। বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করেছেন একে-অপরের পছন্দের দলকে। প্রিয় দলের প্রতি সমর্থন জানিয়ে কারো কারো হাতে দেখা মেলে পতাকা। এবং গায়ে দেখা মেলে জার্সির।
এ যুক্তিতর্ক কোন যুদ্ধ নয়, এ যুক্তিতর্ক আনন্দের। খেলার প্রতি আগ্রহ এবং খেলা উপভোগের প্রতি আগ্রহ জোগাতে করছেন যুক্তিতর্ক। সব মিলিয়ে খোলা মাঠ গুলো পরিণত হয়েছে এক মিলনমেলার। অনেকে ফটকা ফাটিয়ে আবার কেউ সাউন্ড বক্সের গানের তালে তালে নাচাগানাও করছেন।
এ বিষয়ে ভেলাকোপার বাসিন্দা মোঃ গনি মিয়া বলেন, চার বছর পর পর খেলা শুরু হয়। এই খেলা দেখার জন্য সারাবিশ্ব তাকিয়ে থাকে। আমরাও ঠিক একই রকমভাবে বিশ্বকাপ খেলা দেখার জন্য তাকিয়ে আছি। যদিও এবার খেলা রাতে হচ্ছে তাও আমরা গ্রামের অনেক লোক এখানে এসেছি। সবার সাথে দেখা হচ্ছে কথা হচ্ছে দল সমর্থন নিয়ে তর্ক বির্তক হচ্ছে সব মিলিয়ে খুবই ভালো লাগছে। আমি দল হিসাবে সাপোর্ট করি জার্মানির।
খেলা দেখতে আসা আরেকজন ফুটবল প্রেমী হাসান বলেন, আমি ব্রাজিলের সমর্থন করি। তবে আজকে মেক্সিকো আর সাউথ আফ্রিকার খেলা দেখতে এসেছি। মেক্সিকো অনেক ভালো দল। তবে আফ্রিকাও খারাপ না বিশ্বকাপে চান্স পাওয়া সব দলেই ভালো। এখানে এসে ভালো লাগতেছে এর কারণ সবাই এক সাথে রাত জেগে খেলা দেখতেছি।
শহরের পাশাপাশি গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় ফুটবলের উদ্বোধনী ম্যাচ নিয়ে দেখা যায় উৎসবের আমেজ।

বাংলাদেশ-ভারত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শক্তিতেও রূপ নিতে পারে: দীনেশ ত্রিবেদী

ঢাকায় ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারত দুটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক দেশ।

 

দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়লে তা শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শক্তিতেও রূপ নিতে পারে।  শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে সড়কপথে পেট্রাপোল-বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে এই অভিমত তুলে ধরেন দীনেশ ত্রিবেদী।

 

এ সময় স্ত্রী মৃণাল (মিনাল) ত্রিবেদীও তার সঙ্গে ছিলেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি বেনাপোল স্থলবন্দরে পৌঁছালে বাংলাদেশ ও ভারতের কর্মকর্তারা তাকে স্বাগত জানান।

 

স্বাগত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন, ডেপুটি চিফ অব প্রোটোকল আরিফ মোহাম্মদ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সরোয়ার মোহাম্মদ শাহরিয়ার খান, শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদ এবং কাস্টমসের সহকারী কমিশনার অতল গোস্বামী।

 

ইমিগ্রেশন, কাস্টমস, বন্দর ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এসময় উপস্থিত ছিলেন। নতুন হাইকমিশনারের আগমনকে কেন্দ্র করে বেনাপোল চেকপোস্ট ও যশোর-ঢাকা মহাসড়কে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেন এবং সফরের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রটোকল নিশ্চিত করেন।সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, ‘একই আকাশ, একই বাতাস, একই জল তরঙ্গ। ফলে আমরা মিলেমিশে কাজ করবো’।

 

তিনি যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি ও খেলাধুলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহের কথাও তুলে ধরেন। টুরিস্ট ভিসা চালুর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিষয়টি তার বিবেচনায় রয়েছে এবং এমন একটি উদ্যোগ নেওয়া হবে যাতে সবাই সন্তুষ্ট হয়।

 

তিনি দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাষ্ট্রাচার অনুবিভাগ থেকে আগেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও আনুষ্ঠানিকতা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

 

এর প্রেক্ষিতে বেনাপোল কাস্টমস হাউস, ইমিগ্রেশন, বন্দর কর্তৃপক্ষ, পুলিশ ও বিজিবিসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে ছিল।

 

ভারতীয় হাইকমিশনের পক্ষ থেকে নতুন হাইকমিশনারকে স্বাগত জানাতে ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পবন কুমার তুলসীদাস বাধে এবং সেকেন্ড সেক্রেটারি গৌরব আগরওয়ালসহ একটি কূটনৈতিক প্রতিনিধি দল আগে থেকেই যশোরে অবস্থান করেন।

 

পরে তারা বেনাপোল সীমান্তে উপস্থিত হয়ে দীনেশ ত্রিবেদী ও তার সফরসঙ্গীদের অভ্যর্থনা জানান। সীমান্তের আনুষ্ঠানিকতা শেষে দীনেশ ত্রিবেদী সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র (ক্রিডেনশিয়ালস) পেশের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের কার্যক্রম শুরু করবেন।

 

গত ৫ জুন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পত্রাধিকার গ্রহণ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। এর মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনের আইনি ও আনুষ্ঠানিক অনুমোদন লাভ করেন।

 

সাবেক হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হওয়া দীনেশ ত্রিবেদী একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। তার নিয়োগকে বাংলাদেশ-ভারত কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

বাজেটে বাড়ছে যেসব পণ্যের দাম

  • রিপোর্টার:
  •  আপডেট টাইম : ০২:০১:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বেলা ৩টার দিকে তিনি বাজেট প্রস্তাব পেশ করা শুরু করেন।

এটা বিএনপি সরকারের এই মেয়াদের প্রথম বাজেট।  বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।

 

 

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই ব্যয় ছিল ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা। বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা।

 

এই বাজেটে বিভিন্ন পণ্য ও সেবার ওপর শুল্ককর ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে বেশকিছু পণ্যের দাম বাড়তে পারে।

 

বাড়বে যেসব পণ্যের দাম

১. আবাসন নির্মাণ পণ্য

২. তামাকপণ্য

৩. উচ্চমূল্যের বিলাসী খাবার

৪.  কাজু বাদাম

ইত্যাদি

বাজেটে কমছে যেসব পণ্যের দাম

জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বেলা ৩টার দিকে তিনি বাজেট প্রস্তাব পেশ করা শুরু করেন।

এটা বিএনপি সরকারের এই মেয়াদের প্রথম বাজেট।  বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।

 

 

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই ব্যয় ছিল ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা। বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা।

 

এই বাজেটে বিভিন্ন পণ্য ও সেবার ওপর শুল্ককর ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে বেশকিছু পণ্যের দাম কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

 

কমবে যেসব পণ্যের দাম

১. খেজুর ও মসলা (দারুচিনি, এলাচ, লবঙ্গ, গোলমরিচসহ বিভিন্ন মসলা)

২. শিশুখাদ্য

৩. সার

৪. কীটনাশক

৫. পোল্ট্রি, ডেইরি ও মৎস্য খাদ্য

৬. পোল্ট্রি যন্ত্রপাতি

৭. চিকিৎসা যন্ত্রপাতি

৮. ওষুধ

৯. ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল

১০. ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার ও প্রিন্টার

১১. কম্পিউটারের এসএসডি

১২. পরিবহন খাত

১৩. সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল খাত

১৪. বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের চলাচলের যন্ত্রপাতি

 

জেইলার ২’-তে রজনীকান্ত, মিঠুন চক্রবর্তী ও হৃতিক একসাথে

ভারতের দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় নায়ক রজনীকান্তের নতুন সিনেমা ‘জেইলার ২’-তে যুক্ত হলেন বলিউড তারকা হৃতিক রোশন। সিনেমাটিতে তিনি একটি বিশেষ অতিথি (ক্যামিও) চরিত্রে অভিনয় করবেন। এ সিনেমায় আরও অভিনয় করছেন বাঙলার মহাগুরু দাদা মিঠুন চক্রবর্তীও।

 

এর মাধ্যমে দীর্ঘ ৪০ বছর পর পর্দায় একসঙ্গে দেখা যাবে রজনীকান্ত ও হৃতিক রোশনকে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ভ্যারাইটি ইন্ডিয়া এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।কয়েক সপ্তাহ আলোচনার পর হৃতিক আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিনেমায় কাজ করতে রাজি হয়েছেন। আগামী ২২ ও ২৩ জুন চেন্নাইতে তার অংশের শুটিং হওয়ার কথা রয়েছে।

 

শুটিংয়ের আগে তার লুক টেস্ট নেওয়া হবে, কারণ এই সিনেমায় হৃতিককে একেবারেই নতুন এবং আগে কখনো দেখা যায়নি এমন একটি লুকে হাজির করা হবে। সিনেমার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে রজনীকান্তের চরিত্রকে সাহায্য করতে দেখা যাবে তাকে। ২০২৫ সালের আগস্টে ‘ওয়ার ২’ মুক্তির পর এটিই হৃতিকের নতুন কোনো প্রজেক্টে যুক্ত হওয়া।

 

এই সিনেমার মাধ্যমে দীর্ঘ চার দশক পর এই দুই তারকার পুনর্মিলন হতে যাচ্ছে। এর আগে ১৯৮৬ সালের ‘ভগবান দাদা’ সিনেমায় রজনীকান্তের সাথে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করেছিলেন হৃতিক। সেটিই ছিল হৃতিকের অভিনয় জীবনের শুরু। এত বছর পর প্রিয় তারকার সাথে আবার কাজ করার সুযোগ পেয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত হৃতিক।

 

‘জেইলার ২’-তেও ভারতের বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রির বড় বড় তারকাদের অতিথি চরিত্রে দেখা যাবে। হৃতিক ছাড়াও এই তালিকায় আছেন মোহনলাল, শিব রাজকুমার, বিজয় সেতুপতি ও মিঠুন চক্রবর্তী।

 

ফ্রান্সে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল নাগরিক সমাজের বৈঠক

ফ্রান্সে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসবেন আজ। এই বৈঠকে তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথ থেকে সরে না যাওয়ার আহ্বান জানাবেন- জানায় রয়টার্স।

 

 

এই আলোচনায় কয়েক ডজন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অংশ নিচ্ছেন। জাতিসংঘের সমর্থনে তৈরি ‘নিউইয়র্ক ঘোষণা’র এক বছর পূর্তি সামনে রেখে এই আয়োজন করা হয়েছে। ওই ঘোষণায় ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছিল। এরপর ফ্রান্স, কানাডা ও যুক্তরাজ্যসহ প্রায় এক ডজন দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

 

ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বৃহস্পতিবার বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে এই সম্মেলন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তার ভাষায়, অঞ্চলে এখনও সংঘাত চলছে। বেসামরিক মানুষ মারা যাচ্ছে। সহিংসতার চক্রও অব্যাহত আছে। একই সঙ্গে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার প্রচেষ্টাও থেমে আছে।

 

বৈঠক শেষে একটি আট দফার ‘কর্মসূচির আহ্বান’ প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে। এই ঘোষণায় দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির দাবি জানানো হবে। পাশাপাশি ইসরায়েলের অবৈধ বসতি নির্মাণ বন্ধ করার আহ্বান থাকবে। এছাড়া গাজার পুনর্গঠন, প্রশাসনিক সংস্কার এবং নাগরিক সমাজের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা আরো জোরদার করার বিষয়গুলোও এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

 

এই পরিকল্পনা পরবর্তীতে জি-সেভেন নেতাদের কাছে উপস্থাপন করা হবে। তারা আগামী সোমবার থেকে ফ্রান্সের আল্পস অঞ্চলে বৈঠকে বসবেন।

 

মারা গেলেন ৭০’র বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি ব্রিতো

মারা গেলেন ১৯৭০ বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিল দলের ডিফেন্ডার ব্রিতো। বৃহস্পতিবার ৮৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন ব্রাজিলের এই কিংবদন্তি ফুটবলার।

 

 

ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) ব্রিতোর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। এদিকে ব্রিতোরমৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি সামির সাউদ। তিনি ‘ব্রিতো আমাদের ছেড়ে গেছেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার হিসেবে। ১৯৭০ বিশ্বকাপে আমাদের তৃতীয় শিরোপা জয়ে তার অবদান চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার লড়াকু মানসিকতা ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করবে।’

 

 

ব্রাজিলের রক্ষণভাগের অন্যতম খেলোয়াড় ছিলেন ব্রিতো। ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপে ব্রিতো খ্যাতি পেয়েছিলেন তার শক্তিমত্তা, দৃঢ়তা ও কঠোর রক্ষণভাগের নেতৃত্বের জন্য। মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত সেই বিশ্বকাপে পেলে, জর্জিনহো, টোস্টাও, রিভেলিনোদের নিয়ে গড়া ব্রাজিল দলকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা বিশ্বকাপজয়ী দল হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সেই দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন ব্রিতো। জাতীয় দলের জার্সিতে তিনি ৬১টি ম্যাচ খেলেছেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নিজের কঠিন ও নির্ভরযোগ্য রক্ষণভাগের জন্য বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন।

 

জয় দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু দক্ষিণ কোরিয়ার

১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২-১ গোলে বিজয় ছিনিয়ে নিলো দক্ষিণ কোরিয়া। চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়ে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করলো এশিয়ার শক্তিশালী দল দক্ষিণ কোরিয়া।

 

মেক্সিকোর গুয়াদালাহারা স্টেডিয়ামে শুক্রবার গ্রুপ ‘এ’-এর ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রকে ২-১ গোলে হারিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। কোরিয়ানদের হয়ে গোল করেন হোয়াং ইন-বম ও ও হিয়ন-গু। চেকিয়ার গোলটি করেন লাদিস্লাভ ক্রেজচি। প্রথমার্ধে দুই দলই ছিল বেশ সতর্ক। আক্রমণে তেমন ধার ছিল না কারও।

 

গোলের বড় সুযোগও তৈরি হয়নি খুব বেশি। তবে বিরতির পর ম্যাচে আসে গতি, আসে রোমাঞ্চ। ৫৯তম মিনিটে এগিয়ে যায় চেক রিপাবলিক। সাবেক ওয়েস্ট হাম ডিফেন্ডার ভ্লাদিমির সুফালের লম্বা থ্রো থেকে বল পেয়ে হেডে জাল খুঁজে নেন উলভসের ডিফেন্ডার লাদিস্লাভ ক্রেজচি। তাতে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে দক্ষিণ কোরিয়া।

 

তবে চেক রিপাবলিকের আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধের পানি বিরতির ঠিক আগে সমতায় ফেরে দক্ষিণ কোরিয়া। দারুণ স্থিরতায় গোল করেন হোয়াং ইন-বম। চেক ডিফেন্ডার রবিন হ্রানাচকে কাটিয়ে গোলরক্ষক মাতেয় কোভারের ওপর দিয়ে বল তুলে দেন তিনি। ক্রেজচি শেষ চেষ্টা করলেও বল গোললাইন পেরিয়ে যায়।

 

চেকিয়ার লিড টিকেছিল মাত্র ৮ মিনিট। ৭৭তম মিনিটে আবারও এগিয়ে যাওয়ার আনন্দে মেতে উঠেছিল চেক রিপাবলিক। ফ্রি-কিক থেকে বল জালে পাঠান টমাস সৌচেক। পুরো দল উদযাপনও শুরু করে। তবে সহকারী রেফারির অফসাইডের পতাকায় গোলটি বাতিল হয়। রিপ্লেতে সিদ্ধান্তটি সঠিক বলেই দেখা যায়।

 

সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই পিছিয়ে পড়ে চেক রিপাবলিক। আবারও আক্রমণের শুরুতে ছিলেন হোয়াং ইন-বম। ডান দিক দিয়ে বল এগিয়ে নিয়ে দারুণ ক্রস বাড়ান তিনি। কয়েক গজ দূর থেকে ভালো সংযোগে শট নেন ও হিয়ন-গু। বল গোলরক্ষক কোভারের হাতে লেগে দূরের কোণ দিয়ে জালে জড়ায়।

 

শেষ দিকে সমতায় ফিরতে চেষ্টা করে চেক রিপাবলিক। যোগ করা সময় ছিল ৬ মিনিট। তবে কোরিয়ান রক্ষণ ভাঙার মতো পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারেনি তারা। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে দক্ষিণ কোরিয়া।

 

এই জয়ে গ্রুপ ‘এ’-তে মেক্সিকোর পাশে জয়ী দলের তালিকায় উঠল দক্ষিণ কোরিয়া। উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে আসর শুরু করেছিল সহ-আয়োজক মেক্সিকো।

 

চেকিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে বিশ্বকাপের মূল পর্বে দক্ষিণ কোরিয়ার আগের ৭ জয়ের ৬টিই ছিল ইউরোপিয়ান দলের বিপক্ষে। এবার সেই তালিকায় যোগ হলো আরেকটি জয়।

 

ডিবি পরিচয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে যুবক আটক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভিডিও সম্পাদনা করে নিজেকে ডিবি সদস্য পরিচয় দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে নীলফামারী জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

 

গ্রেপ্তার ব্যক্তি হলেন সদর উপজেলার পূর্ব চড়াইখোলা চৌধুরীপাড়া এলাকার মো. সবিজুল ইসলাম (২৪)। বুধবার (১০ জুন) রাতে তার নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

 

পুলিশ জানায়, নীলফামারীর পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খানের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মতলুবর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সবিজুল ইসলামের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও একটি বাটন ফোন জব্দ করা হয়।

 

তদন্তে জানা যায়, জব্দ করা মোবাইল ফোনে একটি ফেসবুক আইডি লগইন অবস্থায় পাওয়া যায়। ওই আইডি থেকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি সংবাদ সম্মেলনের ভিডিও সম্পাদনা করে সেখানে নিজের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর যুক্ত করা হয়েছিল। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করে দাবি করা হয়, ওই নম্বরে যোগাযোগ করলে ডিবি পুলিশের সহায়তা পাওয়া যাবে।

 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ব্যক্তি স্বীকার করেছেন, তিনি ডিবি পুলিশের পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। সাইবার প্রতারণার শিকার ব্যক্তিরা তার দেওয়া নম্বরে যোগাযোগ করলে তিনি তাদের সহায়তার আশ্বাস দিয়ে বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠাতে বলতেন। এভাবে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করে আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

 

এ ঘটনায় নীলফামারী সদর থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

এ বিষয়ে জেলা গোয়েন্দা শাখা জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাম ব্যবহার করে প্রতারণার চেষ্টা করলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

ভূমিস্থ স্থাপনার ক্ষতিপূরণ না দিয়েই উচ্ছেদের অভিযোগ

সিরাজগঞ্জ-নলকা আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ করা হলেও ভূমিস্থ স্থাপনার ক্ষতিপূরণ না দিয়েই উচ্ছেদের অভিযোগ উঠেছে সওজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

 

সোমবার (৮ জুন) সিরাজগঞ্জ-নলকা আঞ্চলিক মহাসড়কে পৌর এলাকার ভুতের দিয়ার মৌজার মো. ফরিদুল ইসলাম ও মোছা. মেরিনা খানমের ভূমিস্থ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।

 

ভুক্তভোগীরা জানান, সিরাজগঞ্জ-নলকা আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণকালে ভুতের দিয়ার মৌজার আরএস ৯২৩ নং খতিয়ানের ২৭৪৬ নং দাগের ০.০৭২৭ একর জমির মধ্যে ফরিদুল ইসলামের ০.০১৩৪ একর অধিগ্রহণ করা হয়। একই খতিয়ানের ২৭৪১ নম্বর দাগে ০.৩০২৫ একর জমির মধ্যে মেরিনা খাননের ০.০৩০০ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়। ওই দুই ভুমি মালিককে তাদের অধিগ্রহণের টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হলেও অধিগ্রহণকৃত জমির উপরিস্থ স্থাপনার ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় নাই।

ক্ষতিপুরণের টাকা বুঝিয়ে পেতে ফরিদুল ইসলাম ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর তারিখে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করেন ফরিদুল ইসলাম। ১৪ অক্টোবর আবেদন করেন মেরিনা খানম। কিন্তু আবেদনের পরও ক্ষতিপূরণের টাকা না পেয়ে  গত ৭ জুন দ্বিতীয় দফায় আবারও জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করেন ফরিদুল ইসলাম ও মেরিনা খানম।

এর ফলে আমরা ব্যাপক ব্যবসায়িক, আর্থিক এবং মানসিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি এবং আমাদের সামাজিক ও ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে।

এ অবস্থায় গত ৮ জুন সোমবার অধিগ্রহণকৃত উপরিস্থ বন্ধন ট্রেডার্স নামে একটি রড-সিমেন্টের দোকান ও মামা ভাগ্নে মেশিনারিজ নামে দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভেকু মেশিন দিয়ে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে ভূমি মালিকরা চরমভাবে আর্থিক ও ব্যবসায়িক ক্ষতির শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন।

ভুক্তভোগীরা আরও বলেন, আমাদের ক্ষতিপূরণের টাকা দেওয়া হয়নি। ৮ ধারা নোটিশও আমরা পাইনি।  এ অবস্থায় জোর করে আমাদের স্থাপনা গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। উচ্ছেদের সময় সড়ক ও জনপথ অফিসের সার্ভেয়ার নিষেধ করে বলেন, এই স্থাপনাগুলোর বিষয়ে এখনও ক্ষতিপুরণ দেওয়া হয়নি। তারপরেও সড়ক ও জনপথ অফিসের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ও উপ-সহকারি প্রকৌশলী আনিসুর রহমান জোরপূর্বক উচ্ছেদ করেন। এ বিষয়ে সুষ্ঠু প্রতিকার ও ক্ষতিপূরণের টাকা বুঝিয়ে পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবী জানিয়েছেন তারা।

 

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইমরান ফারহান সুমেল বলেন, আমরা জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণের টাকা জেলা প্রশাসনকে বুঝিয়ে দিয়েছে।

 

দিনাজপুরে শিক্ষার্থী অপহরণের প্রধান আসামি লিখন গ্রেপ্তার

দিনাজপুরে ল্যাপটপ উদ্ধার করে দেওয়ার কথা বলে এক শিক্ষার্থীকে অপহরণ, মারধর এবং চাকু ঠেকিয়ে মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় মূলহোতা লোকমান হোসেন লিখনকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১৩।
​আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বৈকালে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র‍্যাব-১৩-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী এ তথ্য নিশ্চিত করেন। গ্রেপ্তারকৃত লিখন দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলার পিপল্যা গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে।
​র‍্যাব ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জানুয়ারি বিকেলে ভিকটিম সাদমান মাহমুদ মাহী (২১) নামের এক শিক্ষার্থীর হারিয়ে যাওয়া ল্যাপটপ উদ্ধার করে দেওয়ার কথা বলে ১৫০০ টাকা দাবি করে আসামি লিখন ও তার সহযোগী। টাকা দিতে দেরি হওয়ায় মাহীকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে কোতয়ালী থানার লালবাগ এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আরও ১০-১২ জন সহযোগী মিলে তাকে আটকে রেখে মারধর করে, গলায় চাকু ঠেকিয়ে টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরবর্তীতে ভিকটিম মুক্ত হয়ে বিষয়টি পরিবারকে জানালে ১ ফেব্রুয়ারি তার মা বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।
​র‍্যাব জানায়, ঘটনার পর থেকেই আসামিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার (১০ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিরল উপজেলার পিপল্যা গ্রামে অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি লোকমান হোসেন লিখনকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-১৩, দিনাজপুর ক্যাম্পের একটি দল।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জয় করে নতুন ইতিহাস বাংলাদেশের

৪০ বছরের অপেক্ষা, অবশেষে মিরপুরে হলো তার অবসান। বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়াকে সিরিজ হারাল টাইগাররা। সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জয় তুলে নিয়ে ইতিহাস গড়েছে মিরাজের দল। বোলারদের দৃঢ়তা আর ব্যাটারদের ধৈর্য পরীক্ষায় এক ম্যাচ হাতে রেখেই নিশ্চিত হয়েছে বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক অর্জন।

 

 

 

বৃহস্পতিবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। বৃষ্টি নামার আগে ৪২ ওভারে ১৮৭ রান তুলে সফরকারীরা। এরপর ওভার কমে বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৯২ রান। তবে ব্যাটারদের দলগত পারফরম্যান্সে সেই লক্ষ্য টপকে ৫ উইকেটে ম্যাচ জিতে ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশ।

 

 

 

 

এদিকে শুরুতে ব্যাট করতে নেমে কোনো রান না করেই লজ্জার রেকর্ড গড়ে অস্ট্রেলিয়া। স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ না করেই তিন উইকেট হারায় সফরকারীরা। ওয়ানডে ইতিহাসে ১০২৪ ম্যাচ খেলে এবারই প্রথম শূন্য রানে তিন উইকেট হারানোর নজির গড়ে জশ ইংলিসের দল।

ইনিংসের শুরুতে চাপ তৈরি করেন তাসকিন আহমেদ। টানা দুই ম্যাচে ম্যাথু শর্টকে আউট করেন তিনি। এরপর দ্বিতীয় ওভারে কুপার কনোলিকে লিটনের হাতে ক্যাচ বানিয়ে ফেরান মোস্তাফিজুর রহমান। একই ওভারে ম্যাট রেনশও আউট হন। পরে অ্যালেক্স ক্যারি কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে অস্ট্রেলিয়া।

 

 

১৮তম ওভারে জশ ইংলিসকে আউট করেন তানভীর ইসলাম। ৮১ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় সফরকারীরা। সেই অবস্থায় সপ্তম উইকেটে ১০৩ রানের জুটি গড়ে দলকে সামলান জেভিয়ার বার্টলেট ও মার্নাস লাবুশেন। তবে ৪১তম ওভারে আবারও ধাক্কা খায় অস্ট্রেলিয়া। তাসকিনের জোড়া আঘাতের পর ৪২ ওভারে ৮ উইকেটে ১৮৭ রান করে অস্ট্রেলিয়া।

 

 

 

এরপর বৃষ্টির কারণে দীর্ঘ সময় খেলা বন্ধ থাকে। পরে ডাকওয়ার্থ–লুইস–স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে ম্যাচ ৪১ ওভারে নামিয়ে আনা হয়। এতে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৯২ রান। বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান তিনটি করে উইকেট নেন, তানভীর ইসলাম নেন দুই উইকেট।

 

 

 

 

জবাবে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। গুড লেন্থে পড়া বলে স্ট্রেইট ড্রাইভ খেলতে গিয়ে বোলারের হাতে ফিরতি ক্যাচ দেন তানজিদ তামিম। এরপর শান্তকে নিয়ে দলের হাল ধরেন ওপেনার সৌম্য সরকার। দুই ব্যাটার মিলে গড়েন ৮৬ রানের জুটি। তবে রির্ভাস সুইপ খেলতে গিয়ে ৪২ রানে কাটা পড়েন সৌম্য।

 

 

 

 

৮৬ রানে দুই উইকেট হারানো বাংলাদেশের বিপদ বাড়ান শান্ত। ৯৮ রানের মাথায় ৪২ করে প্যাভিলিয়নে ফিরেন টাইগারদের সহ-অধিনায়ক। আউট হওয়ার আগে অবশ্য নতুন মাইলফলক ছুঁয়েছেন তিনি। দেশের ১১তম ব্যাটার হিসেবে ওয়ানডেতে দুই হাজার রান করেন তিনি, যা বাংলাদেশের হয়ে যৌথভাবে দ্বিতীয় দ্রুততম।

 

 

 

মিরপুরে লিটনের ওয়ানডে পরিসংখ্যান ভালো নয়। প্রায় এক যুগের ক্যারিয়ারে করতে পারেননি কোনো ফিফটি। আজকের ম্যাচেও হলো একই দশা। দারুণ খেলতে থাকা লিটন আটকে গেলেন মিরপুরের ধাঁধায়। ক্যামরুন গ্রিনের আচমকা বাউন্সার লিটনের গ্লাভস ছুঁয়ে উইকেটরক্ষক ইংলিসের হাতে জমা হয়। তাতে ২১ রান করে বিদায় নেন এই ব্যাটার।

 

 

 

ছয়ে নামা মোসাদ্দেকের শুরুটা ছিল আত্মবিশ্বাসী। ডাউন দ্য ট্র্যাকেই এসে খেলেছেন প্রথম বল। অ্যাডাম জাম্পার ওপর বেশি চড়াও হয়েছিলেন এই ব্যাটার, হাঁকিয়েছেন তিন বাউন্ডারি। কিন্তু জাম্পার বলেই উচ্চবিলাসী শট খেলতে গিয়ে বিদায় নেন মোসাদ্দেক। ১৪৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে আচমকা ব্যাকফুটে পড়ে যায় বাংলাদেশ।

 

হিলিতে বিপুল পরিমাণ অবৈধ যৌন উত্তেজক সিরাপ জব্দ

দিনাজপুরের হাকিমপুরে একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ও অননুমোদিত যৌন উত্তেজক সিরাপ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধারকৃত এসব সিরাপের আনুমানিক বাজারমূল্য ৪ লাখ ২৬ হাজার ২৪০ টাকা। এই ঘটনায় দুইজনের বিরুদ্ধে ঔষধ ও কসমেটিকস আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
​আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, বুধবার (১০ জুন) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাকিমপুর পৌরসভার রাউতারা গ্রামে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই গ্রামের মাহাফুজার রহমান মিলন ও আরিফুল হাসান নামের দুই ব্যক্তি পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে মিলনের বসতবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৫ হাজার ৩৭৬ বোতল জিনসি, এবং ৭৬৮ বোতল একে এল-ওয়ান সিরাপ উদ্ধার করা হয়।
​ওসি জাকির হোসেন জানান, অবৈধভাবে বিক্রির উদ্দেশ্যে এসব সিরাপ মজুত রাখা হয়েছিল। এ ঘটনায় পলাতক দুই আসামির বিরুদ্ধে হাকিমপুর থানায় ঔষধ ও কসমেটিকস্ আইন, ২০২৩’ অনুযায়ী একটি মামলা করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে এসআই ওমর ফারুককে।