সিরাজগঞ্জ , শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬

আজ শামসুর রহমানের ৯৮তম জন্মদিন

নাগরিক জীবনের সুখ-দুঃখ, প্রেম-বিরহ, মানুষের সংগ্রাম এবং বাঙালির মুক্তির আকাঙ্ক্ষা কবিতায় তুলে ধরা নাগরিক কবি শামসুর রাহমানের ৯৮তম জন্মদিন আজ। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান এই কবি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর ঢাকার মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।

শামসুর রাহমানের ডাকনাম ছিল বাচ্চু। তার বাবা মোখলেসুর রাহমান চৌধুরী এবং মা আমেনা বেগম। লেখক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার আকাঙ্ক্ষা থেকে তিনি নামের সঙ্গে থাকা পৈতৃক উপাধি ‘চৌধুরী’ বাদ দেন।

ঢাকা শহরেই তার বেড়ে ওঠা। এই শহরের জীবন, মানুষের দৈনন্দিন সংগ্রাম, নাগরিক জীবনের নানা টানাপোড়েন তার কবিতায় বিশেষভাবে উঠে এসেছে। জীবনের সত্য ও সুন্দরের পাশাপাশি মানুষের স্বপ্ন, বেদনা এবং প্রতিবাদের ভাষা হয়ে উঠেছিল তার কবিতা।

বাঙালির ভাষা আন্দোলন, মুক্তির সংগ্রাম ও স্বাধীনতাযুদ্ধের চেতনা তার কবিতায় পেয়েছে শক্তিশালী প্রকাশ। সময়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতাকে কবিতার ভাষায় তুলে ধরে তিনি হয়ে উঠেছিলেন সাধারণ মানুষের অনুভূতি ও আকাঙ্ক্ষার এক গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর।

১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয় শামসুর রাহমানের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে’। দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে তিনি কবিতা ছাড়াও উপন্যাস, প্রবন্ধ, ছড়া ও অনুবাদসহ সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় অবদান রেখেছেন। তার প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ৬৬টি কাব্যগ্রন্থ, চারটি উপন্যাস, একটি প্রবন্ধগ্রন্থ, একটি ছড়ার বই ও ছয়টি অনুবাদগ্রন্থ।

বাংলা কবিতায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি স্বাধীনতা পদক, একুশে পদকসহ বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হন। তার কবিতা বাংলা ভাষাভাষী পাঠকের কাছে আজও সমান প্রাসঙ্গিক।

২০০৬ সালের ১৭ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন শামসুর রাহমান। তবে তার সৃষ্টিকর্ম, নাগরিক জীবনের গভীর পর্যবেক্ষণ এবং বাঙালির ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সংগ্রামের চিত্র আজও পাঠকের মনে তাকে জীবন্ত করে রেখেছে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আজ শামসুর রহমানের ৯৮তম জন্মদিন

আপডেট টাইম : ১০:২৩:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

নাগরিক জীবনের সুখ-দুঃখ, প্রেম-বিরহ, মানুষের সংগ্রাম এবং বাঙালির মুক্তির আকাঙ্ক্ষা কবিতায় তুলে ধরা নাগরিক কবি শামসুর রাহমানের ৯৮তম জন্মদিন আজ। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান এই কবি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর ঢাকার মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।

শামসুর রাহমানের ডাকনাম ছিল বাচ্চু। তার বাবা মোখলেসুর রাহমান চৌধুরী এবং মা আমেনা বেগম। লেখক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার আকাঙ্ক্ষা থেকে তিনি নামের সঙ্গে থাকা পৈতৃক উপাধি ‘চৌধুরী’ বাদ দেন।

ঢাকা শহরেই তার বেড়ে ওঠা। এই শহরের জীবন, মানুষের দৈনন্দিন সংগ্রাম, নাগরিক জীবনের নানা টানাপোড়েন তার কবিতায় বিশেষভাবে উঠে এসেছে। জীবনের সত্য ও সুন্দরের পাশাপাশি মানুষের স্বপ্ন, বেদনা এবং প্রতিবাদের ভাষা হয়ে উঠেছিল তার কবিতা।

বাঙালির ভাষা আন্দোলন, মুক্তির সংগ্রাম ও স্বাধীনতাযুদ্ধের চেতনা তার কবিতায় পেয়েছে শক্তিশালী প্রকাশ। সময়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতাকে কবিতার ভাষায় তুলে ধরে তিনি হয়ে উঠেছিলেন সাধারণ মানুষের অনুভূতি ও আকাঙ্ক্ষার এক গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর।

১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয় শামসুর রাহমানের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে’। দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে তিনি কবিতা ছাড়াও উপন্যাস, প্রবন্ধ, ছড়া ও অনুবাদসহ সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় অবদান রেখেছেন। তার প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ৬৬টি কাব্যগ্রন্থ, চারটি উপন্যাস, একটি প্রবন্ধগ্রন্থ, একটি ছড়ার বই ও ছয়টি অনুবাদগ্রন্থ।

বাংলা কবিতায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি স্বাধীনতা পদক, একুশে পদকসহ বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হন। তার কবিতা বাংলা ভাষাভাষী পাঠকের কাছে আজও সমান প্রাসঙ্গিক।

২০০৬ সালের ১৭ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন শামসুর রাহমান। তবে তার সৃষ্টিকর্ম, নাগরিক জীবনের গভীর পর্যবেক্ষণ এবং বাঙালির ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সংগ্রামের চিত্র আজও পাঠকের মনে তাকে জীবন্ত করে রেখেছে।