সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ছিনতাইকারী সন্দেহে দুই পুলিশ সদস্যকে পিটুনি দিলেন কুবি শিক্ষার্থীরা Logo হিলি স্থলবন্দরে শনিবার আমদানি-রপ্তানি বন্ধ, স্বাভাবিক থাকবে ইমিগ্রেশন Logo কারাগারে নিরাপত্তা জোরদারে ৭ দফা নির্দেশনা জারি Logo নারীর অগ্রগতিতে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে সমান সুযোগ চান জুবাইদা রহমান Logo শরীয়তপুরের জাজিরায় অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় নারীর পাশে দাঁড়ালো মানবতার আলো ফাউন্ডেশন Logo ভারতীয় ভিসায় নতুন নিয়ম, আবেদনকারীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা Logo টেকনাফে মানব পাচারকারীদের সঙ্গে যৌথবাহিনীর গোলাগুলি, সেনাসদস্য নিহত Logo মরিশাসে কাচের বাক্সে চাপা পড়ে তিন বাংলাদেশির মৃত্যু Logo বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে লাহোর, চতুর্থ ঢাকা Logo একটি ব্যাংক ধসের জেরে পদত্যাগ করছেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট

ইরানে ‘মাদার অব অল বম্বস’ ব্যবহারের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী অ-পারমাণবিক বোমা ‘মাদার অব অল বম্বস’ ব্যবহারের পরিকল্পনা বিবেচনা করছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানে সামরিক অভিযান শুরুর নির্দেশ দিলে এই বোমা ব্যবহার করা হতে পারে বলে কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে সিএনএন।

 

 

 

 

 

জিবিইউ-৪৩/বি নামের এই বোমাটি ‘মাদার অব অল বম্বস’ বা ‘সব বোমার মা’ নামে পরিচিত। এর ওজন প্রায় ৯ হাজার ৮০০ কেজি। এটি যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারের সবচেয়ে বড় অ-পারমাণবিক বোমা। ২০১৭ সালে আফগানিস্তানে আইএসের অবস্থানে হামলা চালাতে প্রথমবার এটি ব্যবহার করেছিলেন ট্রাম্প।

 

 

 

 

ইরানে এই বোমা ব্যবহার করা হলে চলমান সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে। তবে সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে এর কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বোমাটি বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম হলেও মাটির গভীরে থাকা সুরক্ষিত পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করার জন্য এটি যথেষ্ট কার্যকর নাও হতে পারে।

 

 

ইরানের পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন এলাকায় দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির কিছু উপাদান রাখা হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মনে করে। পাহাড়টির ভেতরে গ্রানাইটের স্তর দিয়ে সুরক্ষিত স্থাপনা রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এ ধরনের গভীর ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় আঘাত হানার জন্য বোমাটির মাটির নিচে প্রবেশের ক্ষমতা যথেষ্ট নয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

বোমাটির বিস্ফোরণ ব্যাপক এলাকা ধ্বংস করতে পারে। ফলে জনবসতির কাছাকাছি জ্বালানি অবকাঠামো বা অন্য স্থাপনায় এটি ব্যবহার করা হলে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কাও রয়েছে।

 

 

 

 

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন এমন সামরিক পদক্ষেপের বিকল্প খুঁজছে, যার মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান ঘটানোর পাশাপাশি নিজেদের বিজয় দাবি করা যায়। যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুদ্ধের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ায় প্রশাসনের ওপর চাপও বাড়ছে। তবে ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, নির্বাচনের আগে নতুন করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা নেই। তার উপদেষ্টাদের কেউ কেউ অবশ্য মনে করছেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী সেই সিদ্ধান্ত বদলাতে পারে।

হোয়াইট হাউস বলেছে, ইরান যাতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে ট্রাম্প সব ধরনের বিকল্প খোলা রেখেছেন। পেন্টাগনও জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন ধরনের সামরিক পরিস্থিতির পরিকল্পনা করা হয়।

 

 

 

 

সামরিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ইরানকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করতে হলে স্থলবাহিনী পাঠিয়ে বড় ধরনের অভিযান চালাতে হতে পারে। এতে হাজার হাজার মার্কিন সেনার প্রাণহানির ঝুঁকি রয়েছে। তবে ট্রাম্প ইরানে মার্কিন সেনা পাঠানোর বিষয়ে আগ্রহ দেখাননি।

 

 

 

 

২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের সময় বোমাটি তৈরি করা হয়। এটি মাটিতে আঘাত করার আগেই বিস্ফোরিত হয়ে চারদিকে প্রচণ্ড চাপ ও বিস্ফোরণ ছড়িয়ে দেয়। শুরুতে শত্রুপক্ষের বড় সেনাদলকে আতঙ্কিত করা এবং আত্মসমর্পণে বাধ্য করার মতো মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব তৈরির লক্ষ্যেও অস্ত্রটি তৈরি করা হয়েছিল।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ছিনতাইকারী সন্দেহে দুই পুলিশ সদস্যকে পিটুনি দিলেন কুবি শিক্ষার্থীরা

ইরানে ‘মাদার অব অল বম্বস’ ব্যবহারের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

আপডেট টাইম : ১২:১৭:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী অ-পারমাণবিক বোমা ‘মাদার অব অল বম্বস’ ব্যবহারের পরিকল্পনা বিবেচনা করছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানে সামরিক অভিযান শুরুর নির্দেশ দিলে এই বোমা ব্যবহার করা হতে পারে বলে কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে সিএনএন।

 

 

 

 

 

জিবিইউ-৪৩/বি নামের এই বোমাটি ‘মাদার অব অল বম্বস’ বা ‘সব বোমার মা’ নামে পরিচিত। এর ওজন প্রায় ৯ হাজার ৮০০ কেজি। এটি যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারের সবচেয়ে বড় অ-পারমাণবিক বোমা। ২০১৭ সালে আফগানিস্তানে আইএসের অবস্থানে হামলা চালাতে প্রথমবার এটি ব্যবহার করেছিলেন ট্রাম্প।

 

 

 

 

ইরানে এই বোমা ব্যবহার করা হলে চলমান সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে। তবে সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে এর কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বোমাটি বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম হলেও মাটির গভীরে থাকা সুরক্ষিত পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করার জন্য এটি যথেষ্ট কার্যকর নাও হতে পারে।

 

 

ইরানের পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন এলাকায় দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির কিছু উপাদান রাখা হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মনে করে। পাহাড়টির ভেতরে গ্রানাইটের স্তর দিয়ে সুরক্ষিত স্থাপনা রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এ ধরনের গভীর ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় আঘাত হানার জন্য বোমাটির মাটির নিচে প্রবেশের ক্ষমতা যথেষ্ট নয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

বোমাটির বিস্ফোরণ ব্যাপক এলাকা ধ্বংস করতে পারে। ফলে জনবসতির কাছাকাছি জ্বালানি অবকাঠামো বা অন্য স্থাপনায় এটি ব্যবহার করা হলে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কাও রয়েছে।

 

 

 

 

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন এমন সামরিক পদক্ষেপের বিকল্প খুঁজছে, যার মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান ঘটানোর পাশাপাশি নিজেদের বিজয় দাবি করা যায়। যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুদ্ধের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ায় প্রশাসনের ওপর চাপও বাড়ছে। তবে ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, নির্বাচনের আগে নতুন করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা নেই। তার উপদেষ্টাদের কেউ কেউ অবশ্য মনে করছেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী সেই সিদ্ধান্ত বদলাতে পারে।

হোয়াইট হাউস বলেছে, ইরান যাতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে ট্রাম্প সব ধরনের বিকল্প খোলা রেখেছেন। পেন্টাগনও জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন ধরনের সামরিক পরিস্থিতির পরিকল্পনা করা হয়।

 

 

 

 

সামরিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ইরানকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করতে হলে স্থলবাহিনী পাঠিয়ে বড় ধরনের অভিযান চালাতে হতে পারে। এতে হাজার হাজার মার্কিন সেনার প্রাণহানির ঝুঁকি রয়েছে। তবে ট্রাম্প ইরানে মার্কিন সেনা পাঠানোর বিষয়ে আগ্রহ দেখাননি।

 

 

 

 

২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের সময় বোমাটি তৈরি করা হয়। এটি মাটিতে আঘাত করার আগেই বিস্ফোরিত হয়ে চারদিকে প্রচণ্ড চাপ ও বিস্ফোরণ ছড়িয়ে দেয়। শুরুতে শত্রুপক্ষের বড় সেনাদলকে আতঙ্কিত করা এবং আত্মসমর্পণে বাধ্য করার মতো মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব তৈরির লক্ষ্যেও অস্ত্রটি তৈরি করা হয়েছিল।