আপডেট টাইম :
০৫:৪২:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫
67
অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মী কাউসার মানিক বাদল ওরফে ছোট কাউসার
লক্ষ্মীপুর সদরের চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের ওয়ার্ড বিএনপি নেতা আবুল কালাম জহির ওরফে মাটি জহির (৫০) শনিবার (১৫ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হন। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার স্থানীয় ছাত্রদল কর্মী কাউসার মানিক বাদল ওরফে ছোট কাউসারকে দায়ী করেছে। পুলিশের সন্দেহও তার দিকেই।ঘটনার পর আরও সন্দেহ তৈরি হয় কাউসারের একটি ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে। হত্যার প্রায় আধাঘণ্টা পর তিনি তার ‘কে এম বাদল’ নামের ফেসবুক আইডি থেকে ক্রিকেট খেলার একটি ভিডিও আপলোড করেন। ক্যাপশনে লেখেন, ‘আউট’। ভিডিওতে গ্রামের কয়েকজন ক্রিকেট খেলছেন এবং একজন রানআউট হন। ভিডিওতে কাউসারকে দেখা যায়নি।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার বলছে, স্থানীয়ভাবে অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে আবুল কালামকে হত্যা করা হয়েছে। সম্প্রতি চন্দ্রগঞ্জে একটি ক্রিকেট খেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে ছোট কাউসারের বিরোধ চরমে ওঠে। এর আগেও এলাকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে দুজনের মধ্যে বিবাদ ছিল।আবুল কালাম চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পশ্চিম লতিফপুর গ্রামের মনছুর আহমেদের ছেলে তিনি। বাড়ির কাছেই চন্দ্রগঞ্জের মোস্তফার দোকান এলাকায় তাকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। লাশের পাশে গুলির খোসা পাওয়া যায়।
পুলিশ জানায়, আবুল কালাম নিজেও সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত ছিলেন।চন্দ্রগঞ্জ থানার তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ ও লক্ষ্মীপুরে ছয়টি মাদকের মামলাসহ মোট সাতটি মামলা ও একাধিক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) রয়েছে।
অভিযুক্ত ছোট কাউসার চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সদস্য। তিনি একটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন ও আরেকটি হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বলেও জানা গেছে। গত বছরের ৭ আগস্ট প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে তাকে ছাত্রদল থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে চলতি মাসের ৪ নভেম্বর তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।নিহত আবুল কালামের স্ত্রী ফেরদৌসী আক্তার বলেন, খুনের পরপরই কাউসার যে ভিডিওটি পোস্ট করেছেন তা কাকতালীয় নয়; এটি হত্যার ঘটনাকে ইঙ্গিত করেই করা হয়েছে।
নিহত আবুল কালাম জহির ওরফে মাটি জহির
তবে এক গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ঘটনার সময় তিনি লতিফপুর বাজারের মোস্তফার দোকানে ছিলেন, যা ঘটনাস্থল থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে। তার দাবি, ‘কালাম ভাই বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমার সঙ্গেই বাজারে ঘোরাফেরা করেছেন। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আমি জড়িত নই।’
ফেসবুকে ‘আউট’ লিখে ভিডিও দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বাড়ির সামনে ক্রিকেট খেলেছি, সেই ভিডিও দিয়েছি।’
হত্যাকাণ্ডের পর রাত ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে যান বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি তিন দিনের মধ্যে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করার দাবি জানান।
এ্যানি বলেন, একজনের সঙ্গে বিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু সে কারণে কাউকে নির্মমভাবে খুন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
নিহত আবুল কালামের লাশের ময়নাতদন্ত রোববার দুপুরে জেলা সদর হাসপাতালে সম্পন্ন হয়। পরে বিকেলে দাফন করা হয়। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও থানায় মামলা দায়ের করা হয়নি এবং কাউকে আটক করার তথ্যও মেলেনি।
চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফয়জুল আজিম নোমান রোববার বিকেলে বাংলানিউজকে বলেন, লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। জানাজা ও দাফন শেষে পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হবে। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা শনাক্তে থানাপুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ, দুই টিমই কাজ করছে।
শনিবার রাতে তিনি বলেন, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আবুল কালামকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি নিজেও সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন। স্থানীয় আরেক সন্ত্রাসী ছোট কাউসারের সঙ্গে একটি ক্রিকেট খেলা নিয়ে বিরোধ ছিল। এটি থেকেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে। জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।