সিরাজগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo হরমুজ প্রণালিতে ভারত-চীনসহ ৪ দেশকে বিশেষ ছাড় দিল ইরান Logo একের পর এক সুযোগ নষ্ট, প্রথমার্ধে গোল পায়নি বাংলাদেশ Logo চালু হচ্ছে পাবনা-ঢাকা রুটে নতুন দুই আন্তঃনগর ট্রেন Logo গোপালগঞ্জ জেলা স্কুলে ‘জয়বাংলা’ স্লোগান, ছাড়পত্র পেল ৯ শিক্ষার্থী Logo স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ নতুন দায়িত্ব পেলেন ৬ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী Logo নতুন করে দুটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী Logo নদীভাঙন কবলিত জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি ও মানবিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গবেষণার প্রাথমিক ফলাফল উপস্থাপন Logo হিলিতে পুলিশের অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধন ঘিরে রাণীনগরে উৎসবমুখর আয়োজন Logo বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম নাসির উদ্দীন কালুর তুলনা তিনি নিজেই: শরীয়তপুরে তাঁর পরিচয় তাঁর কর্মে

বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম নাসির উদ্দীন কালুর তুলনা তিনি নিজেই: শরীয়তপুরে তাঁর পরিচয় তাঁর কর্মে

শরীয়তপুরের রাজনৈতিক ইতিহাস, মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাথা এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বিকাশের ইতিহাসে যে কজন ব্যক্তিত্বের নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয়, তাঁদের অন্যতম বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব সরদার একেএম নাসির উদ্দীন কালু। মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি ও সংগঠক—বহুমাত্রিক পরিচয়ে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন স্বমহিমায়। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জাতীয় সংসদ এবং জেলা পরিষদ পর্যন্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে তিনি শরীয়তপুরের জনজীবনে রেখেছেন স্বতন্ত্র অবস্থান।

 

 

 

 

 

বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব সরদার একেএম নাসির উদ্দীন কালুর তুলনা তিনি নিজেই। শরীয়তপুরে তাঁর পরিচয় তাঁর কর্মে, আর তাঁর অর্জনের বড় স্বীকৃতি মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা।

 

 

 

 

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন তিনি। দেশের স্বাধীনতা অর্জনের সংগ্রামে সম্মুখযোদ্ধা ও সংগঠক হিসেবে ভূমিকা রাখেন। স্বাধীনতার পরও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে গেছেন। কর্মজীবনের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ শরীয়তপুর জেলা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়কের দায়িত্বও পালন করেন তিনি।

 

 

 

 

রাজনৈতিক জীবনে সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করে একাধিকবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন নাসির উদ্দীন কালু। ফরিদপুর-১৪ এবং পরবর্তীতে শরীয়তপুর-১ (পালং-জাজিরা) আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে ভূমিকা রাখেন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড তাঁকে জেলার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যায়।

 

 

 

 

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে তাঁর পদচারণা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তাঁর জনপ্রতিনিধিত্বের যাত্রা শুরু। পরে শরীয়তপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। শরীয়তপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান ও মেয়র হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এসব দায়িত্বে থাকাকালে স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, সড়ক নির্মাণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে কাজ করেন।

 

 

 

 

শরীয়তপুর জেলা প্রতিষ্ঠা ও এর প্রশাসনিক বিকাশের ইতিহাসেও তাঁর ভূমিকার কথা আলোচিত হয়। জেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তাঁর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সম্পৃক্ততা ছিল। শরীয়তপুরকে একটি সম্ভাবনাময় জেলা হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন ও প্রচেষ্টায় তিনি নিজেকে যুক্ত রেখেছেন।

 

 

 

জেলা পরিষদ ব্যবস্থায়ও রয়েছে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান। শরীয়তপুর জেলা পরিষদের প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার কাজে ভূমিকা রাখেন। জেলা পরিষদের মাধ্যমে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নেও তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল। বর্তমানে তিনি জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন।

 

 

 

 

দলীয় রাজনীতিতেও তাঁর রয়েছে দীর্ঘ পথচলা। শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা ও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষায় ভূমিকা রেখেছেন। রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি।

 

 

 

মুক্তিযুদ্ধের ময়দান থেকে জনপ্রতিনিধিত্ব, স্থানীয় সরকার পরিচালনা থেকে জাতীয় সংসদ—বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তৃত তাঁর কর্মজীবন। সব পরিচয় ছাপিয়ে তিনি শরীয়তপুরের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসের একটি পরিচিত নাম।

 

 

 

বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব সরদার একেএম নাসির উদ্দীন কালুর জীবন ও কর্মের মূল্যায়ন শুধু তাঁর পদ-পদবি দিয়ে সম্ভব নয়; বরং দীর্ঘ সময় ধরে মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, জনসেবায় অংশগ্রহণ এবং জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ভূমিকার মধ্য দিয়েই তাঁর পরিচয় নির্ধারিত।

 

 

 

 

তাই বলা যায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম নাসির উদ্দীন কালুর তুলনা তিনি নিজেই। শরীয়তপুরে তাঁর পরিচয় তাঁর কর্মে, আর তাঁর অবস্থান মানুষের ভালোবাসায়।

 

 

 

জনতার কণ্ঠ/জেডএইচ

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিতে ভারত-চীনসহ ৪ দেশকে বিশেষ ছাড় দিল ইরান

বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম নাসির উদ্দীন কালুর তুলনা তিনি নিজেই: শরীয়তপুরে তাঁর পরিচয় তাঁর কর্মে

আপডেট টাইম : ০৭:৪৫:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

শরীয়তপুরের রাজনৈতিক ইতিহাস, মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাথা এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বিকাশের ইতিহাসে যে কজন ব্যক্তিত্বের নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয়, তাঁদের অন্যতম বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব সরদার একেএম নাসির উদ্দীন কালু। মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি ও সংগঠক—বহুমাত্রিক পরিচয়ে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন স্বমহিমায়। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জাতীয় সংসদ এবং জেলা পরিষদ পর্যন্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে তিনি শরীয়তপুরের জনজীবনে রেখেছেন স্বতন্ত্র অবস্থান।

 

 

 

 

 

বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব সরদার একেএম নাসির উদ্দীন কালুর তুলনা তিনি নিজেই। শরীয়তপুরে তাঁর পরিচয় তাঁর কর্মে, আর তাঁর অর্জনের বড় স্বীকৃতি মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা।

 

 

 

 

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন তিনি। দেশের স্বাধীনতা অর্জনের সংগ্রামে সম্মুখযোদ্ধা ও সংগঠক হিসেবে ভূমিকা রাখেন। স্বাধীনতার পরও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে গেছেন। কর্মজীবনের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ শরীয়তপুর জেলা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়কের দায়িত্বও পালন করেন তিনি।

 

 

 

 

রাজনৈতিক জীবনে সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করে একাধিকবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন নাসির উদ্দীন কালু। ফরিদপুর-১৪ এবং পরবর্তীতে শরীয়তপুর-১ (পালং-জাজিরা) আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে ভূমিকা রাখেন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড তাঁকে জেলার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যায়।

 

 

 

 

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে তাঁর পদচারণা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তাঁর জনপ্রতিনিধিত্বের যাত্রা শুরু। পরে শরীয়তপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। শরীয়তপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান ও মেয়র হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এসব দায়িত্বে থাকাকালে স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, সড়ক নির্মাণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে কাজ করেন।

 

 

 

 

শরীয়তপুর জেলা প্রতিষ্ঠা ও এর প্রশাসনিক বিকাশের ইতিহাসেও তাঁর ভূমিকার কথা আলোচিত হয়। জেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তাঁর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সম্পৃক্ততা ছিল। শরীয়তপুরকে একটি সম্ভাবনাময় জেলা হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন ও প্রচেষ্টায় তিনি নিজেকে যুক্ত রেখেছেন।

 

 

 

জেলা পরিষদ ব্যবস্থায়ও রয়েছে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান। শরীয়তপুর জেলা পরিষদের প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার কাজে ভূমিকা রাখেন। জেলা পরিষদের মাধ্যমে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নেও তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল। বর্তমানে তিনি জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন।

 

 

 

 

দলীয় রাজনীতিতেও তাঁর রয়েছে দীর্ঘ পথচলা। শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা ও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষায় ভূমিকা রেখেছেন। রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি।

 

 

 

মুক্তিযুদ্ধের ময়দান থেকে জনপ্রতিনিধিত্ব, স্থানীয় সরকার পরিচালনা থেকে জাতীয় সংসদ—বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তৃত তাঁর কর্মজীবন। সব পরিচয় ছাপিয়ে তিনি শরীয়তপুরের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসের একটি পরিচিত নাম।

 

 

 

বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব সরদার একেএম নাসির উদ্দীন কালুর জীবন ও কর্মের মূল্যায়ন শুধু তাঁর পদ-পদবি দিয়ে সম্ভব নয়; বরং দীর্ঘ সময় ধরে মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, জনসেবায় অংশগ্রহণ এবং জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ভূমিকার মধ্য দিয়েই তাঁর পরিচয় নির্ধারিত।

 

 

 

 

তাই বলা যায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম নাসির উদ্দীন কালুর তুলনা তিনি নিজেই। শরীয়তপুরে তাঁর পরিচয় তাঁর কর্মে, আর তাঁর অবস্থান মানুষের ভালোবাসায়।

 

 

 

জনতার কণ্ঠ/জেডএইচ