সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা Logo কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুত শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি Logo নিকার অনুমোদন: ভূল্লী উপজেলা গঠনে জনসাধারণের উচ্ছ্বাস Logo ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম জেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে এলো আসল তথ্য Logo অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা দখলমুক্ত হবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী Logo বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: বিদ্যুৎমন্ত্রী Logo  বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ট্রান্সফরমার চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার Logo মাদক সেবনের দায়ে কারাদণ্ড, কলেজ ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার Logo মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল Logo ইসরায়েলকে হুমকি দিলে কঠিন পরিণতি: নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি

শোকজের বিষয়ে ভিডিও বার্তায় কী বললেন ছাত্রদল নেতা হামিম

শেখ তানভীর বারী হামিম। ছবি : সংগৃহীত

সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দেওয়া শোকজ নোটিশের বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসীমউদ্‌দীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও ডাকসুর সাবেক জিএস প্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামিম।

 

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক ভিডিও বার্তায় হামিম বলেন, আসসালামু আলাইকুম। কিছুক্ষণ আগে প্রায় ১১:৪০-এর দিকে আমি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম ভাইয়ের ভেরিফাইডকৃত ফেসবুক পেজে একটি শোকজ পত্র দেখলাম। সেখানে আমার নাম উল্লেখ করে আমাকে শোকজ করা হয়েছে।

 

শোকজ নোটিশটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পরপরই বিভিন্ন মহল থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, এরপর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ভাইয়েরা, সারা বাংলাদেশের ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আমার কাছে বারবার জিজ্ঞেস করছেন, ফোন করছেন; কেন আমাকে শোকজ করা হলো? যদিও আমি এখন পর্যন্ত জানি না কেন শোকজ করা হয়েছে।

শোকজের কারণ জানতে সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বলেও জানান শেখ তানভীর বারী হামিম। তিনি বলেন, আমি কিন্তু তৎক্ষণাৎ এটি যখন পেলাম, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম ভাইকে ফোন করে জিজ্ঞেস করলাম, ‘ভাই কী কারণে আমাকে শোকজ করা হয়েছে? সেটা তো জানি না, উত্তরটা দিব কীভাবে?’ উনি আমাকে বললেন, উনিও জানেন না, কিন্তু ছাত্রদলের সেক্রেটারি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট বলেছেন, এজন্যই উনি করেছেন এবং উনি আমাকে সাজেস্ট করলেন, তুমি বরং প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারির কাছে জিজ্ঞেস করো।

পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন, ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে তার আয়োজিত একটি ইফতার মাহফিলকে কেন্দ্র করেই তাকে শোকজ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমি একটি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছিলাম। কুরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ছিল, তার পরবর্তীতে আমি শিক্ষার্থীদের সাথে একটি ইফতার মাহফিল করেছি। সেই ইফতার মাহফিল কেন করলাম, সে কারণেই নাকি আমাকে শোকজ করা হয়েছে।

ইফতার আয়োজনের পেছনের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, আমি আসলে ব্যক্তিগতভাবে গতকালকের আয়োজনটি এজন্যই করেছিলাম, যেহেতু এই দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আমার প্রাণের ছাত্র সংগঠন। এই সংগঠন বিগত দিনের ডাকসুতে আমাকে জিএস পদে মনোনয়ন দিয়েছিল এবং শিক্ষার্থীদের ভোটে আমি প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার ভোট পেয়েছিলাম।

তিনি আরও বলেন, আমি মনে করেছিলাম যে, এই রোজা উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের প্রতি আমার কিছু দায়বদ্ধতা রয়েছে। সেখান থেকে আমি শিক্ষার্থীদের সবাইকে নিয়ে একসাথে একদিন ইফতারের আয়োজন করব। সে চিন্তাভাবনা থেকেই কিন্তু আমার এই ইফতারের আয়োজন এবং সেই ইফতারে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছিলেন।

শোকজ নোটিশের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। শেখ তানভীর বারী হামিম বলেন, আমি জানি না যে আমি কোনো বড় ধরনের অন্যায় করেছি কি না, যে অন্যায়ের কারণে শোকজ পত্রটা শুধু ফেসবুকে আপলোড দেওয়া হলো, এখন পর্যন্ত আমাকে ব্যক্তিগতভাবে জানানো হলো না বা অবহিত করাও হলো না বা পাঠানোও হয়নি।

লিখিত জবাব না দেওয়ার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, তারা বলেছে লিখিত জবাব দিতে, আমি লিখিত জবাব চাইলেই দিতে পারতাম, কিন্তু আমি লিখিত জবাব দেব না। আমি দেব না একটি কারণে; সেটি হলো আমাকে ব্যক্তিগতভাবে এখন পর্যন্ত কোনো শোকজ পত্র পারসোনালি পাঠানো হয়নি।

তিনি আরও বলেন, আমি নিশ্চয়ই এমন কোনো বড় অন্যায় করিনি যে আমাকে পারসোনালি পাঠানো যাবে না, ডিরেক্ট ফেসবুকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ধরনের একটি শোকজ পত্র দিয়ে… সারা বাংলাদেশের মানুষ এখন আমাকে ফোন করছে, সারা বাংলাদেশের মানুষ এখন জানতে চাচ্ছে কী এমন অন্যায় করেছি।

শেষে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, আমি যদি এই কাজের কারণে আমার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, সব থেকে বড় কথা ছাত্রদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীরা যদি মনে করেন আমি অন্যায় করেছি, তাহলে এই অন্যায় মাথা পেতে নিচ্ছি এবং এই অন্যায়ের জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থনা করছি। আর আপনারা যদি মনে করেন আমার সাথে অন্যায় হয়েছে, সেটিও আমি আপনাদের কাছে বিচার দিচ্ছি। আমি সবসময় মনে করি ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়। সবাইকে ধন্যবাদ।

 

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা

শোকজের বিষয়ে ভিডিও বার্তায় কী বললেন ছাত্রদল নেতা হামিম

আপডেট টাইম : ১২:২৩:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দেওয়া শোকজ নোটিশের বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসীমউদ্‌দীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও ডাকসুর সাবেক জিএস প্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামিম।

 

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক ভিডিও বার্তায় হামিম বলেন, আসসালামু আলাইকুম। কিছুক্ষণ আগে প্রায় ১১:৪০-এর দিকে আমি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম ভাইয়ের ভেরিফাইডকৃত ফেসবুক পেজে একটি শোকজ পত্র দেখলাম। সেখানে আমার নাম উল্লেখ করে আমাকে শোকজ করা হয়েছে।

 

শোকজ নোটিশটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পরপরই বিভিন্ন মহল থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, এরপর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ভাইয়েরা, সারা বাংলাদেশের ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আমার কাছে বারবার জিজ্ঞেস করছেন, ফোন করছেন; কেন আমাকে শোকজ করা হলো? যদিও আমি এখন পর্যন্ত জানি না কেন শোকজ করা হয়েছে।

শোকজের কারণ জানতে সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বলেও জানান শেখ তানভীর বারী হামিম। তিনি বলেন, আমি কিন্তু তৎক্ষণাৎ এটি যখন পেলাম, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম ভাইকে ফোন করে জিজ্ঞেস করলাম, ‘ভাই কী কারণে আমাকে শোকজ করা হয়েছে? সেটা তো জানি না, উত্তরটা দিব কীভাবে?’ উনি আমাকে বললেন, উনিও জানেন না, কিন্তু ছাত্রদলের সেক্রেটারি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট বলেছেন, এজন্যই উনি করেছেন এবং উনি আমাকে সাজেস্ট করলেন, তুমি বরং প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারির কাছে জিজ্ঞেস করো।

পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন, ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে তার আয়োজিত একটি ইফতার মাহফিলকে কেন্দ্র করেই তাকে শোকজ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমি একটি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছিলাম। কুরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ছিল, তার পরবর্তীতে আমি শিক্ষার্থীদের সাথে একটি ইফতার মাহফিল করেছি। সেই ইফতার মাহফিল কেন করলাম, সে কারণেই নাকি আমাকে শোকজ করা হয়েছে।

ইফতার আয়োজনের পেছনের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, আমি আসলে ব্যক্তিগতভাবে গতকালকের আয়োজনটি এজন্যই করেছিলাম, যেহেতু এই দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আমার প্রাণের ছাত্র সংগঠন। এই সংগঠন বিগত দিনের ডাকসুতে আমাকে জিএস পদে মনোনয়ন দিয়েছিল এবং শিক্ষার্থীদের ভোটে আমি প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার ভোট পেয়েছিলাম।

তিনি আরও বলেন, আমি মনে করেছিলাম যে, এই রোজা উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের প্রতি আমার কিছু দায়বদ্ধতা রয়েছে। সেখান থেকে আমি শিক্ষার্থীদের সবাইকে নিয়ে একসাথে একদিন ইফতারের আয়োজন করব। সে চিন্তাভাবনা থেকেই কিন্তু আমার এই ইফতারের আয়োজন এবং সেই ইফতারে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছিলেন।

শোকজ নোটিশের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। শেখ তানভীর বারী হামিম বলেন, আমি জানি না যে আমি কোনো বড় ধরনের অন্যায় করেছি কি না, যে অন্যায়ের কারণে শোকজ পত্রটা শুধু ফেসবুকে আপলোড দেওয়া হলো, এখন পর্যন্ত আমাকে ব্যক্তিগতভাবে জানানো হলো না বা অবহিত করাও হলো না বা পাঠানোও হয়নি।

লিখিত জবাব না দেওয়ার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, তারা বলেছে লিখিত জবাব দিতে, আমি লিখিত জবাব চাইলেই দিতে পারতাম, কিন্তু আমি লিখিত জবাব দেব না। আমি দেব না একটি কারণে; সেটি হলো আমাকে ব্যক্তিগতভাবে এখন পর্যন্ত কোনো শোকজ পত্র পারসোনালি পাঠানো হয়নি।

তিনি আরও বলেন, আমি নিশ্চয়ই এমন কোনো বড় অন্যায় করিনি যে আমাকে পারসোনালি পাঠানো যাবে না, ডিরেক্ট ফেসবুকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ধরনের একটি শোকজ পত্র দিয়ে… সারা বাংলাদেশের মানুষ এখন আমাকে ফোন করছে, সারা বাংলাদেশের মানুষ এখন জানতে চাচ্ছে কী এমন অন্যায় করেছি।

শেষে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, আমি যদি এই কাজের কারণে আমার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, সব থেকে বড় কথা ছাত্রদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীরা যদি মনে করেন আমি অন্যায় করেছি, তাহলে এই অন্যায় মাথা পেতে নিচ্ছি এবং এই অন্যায়ের জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থনা করছি। আর আপনারা যদি মনে করেন আমার সাথে অন্যায় হয়েছে, সেটিও আমি আপনাদের কাছে বিচার দিচ্ছি। আমি সবসময় মনে করি ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়। সবাইকে ধন্যবাদ।