নওগাঁয় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পৃথক অভিযানে ২৪ কেজি গাঁজাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া চোরাই ভ্যানসহ চোর চক্রের দুই সদস্য বাবা-ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে হারিয়ে যাওয়া ৫১৭টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে নওগাঁর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
পুলিশ জানায়, শনিবার থেকে রোববার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত মান্দা, নওগাঁ সদর ও বদলগাছী উপজেলায় অভিযান চালিয়ে চার মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে মোট ২৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে, শনিবার নাটোর জেলায় অভিযান চালিয়ে চোরাই ভ্যানসহ চোর চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল এসব অভিযান পরিচালনা করে।

গ্রেপ্তার চার মাদক ব্যবসায়ী হলেন মান্দা উপজেলার রঘুনাথপুর এলাকার মৃত আলিম উদ্দিনের ছেলে আরিফ হোসেন (৩০), মহাদেবপুর উপজেলার শেরপুর কুড়ালিপাড়া এলাকার মৃত কাশেমের ছেলে মোশাররফ (৩৩) এবং বদলগাছী উপজেলার নিহিনপুর এলাকার শহিদুলের দুই ছেলে শিলং (২৩) ও আরাফাত (২৩)।
অন্যদিকে, চোরাই ভ্যান উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার বাবা-ছেলে হলেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার রঘুনাথপুর নর্দগ্রাম এলাকার আ. হকের ছেলে মো. সালাম (৪৮) ও তাঁর ছেলে মো. নয়ন।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, জেলা পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার গভীর রাতে মান্দা উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামে আরিফ হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় একটি স্টিলের ট্রাংক থেকে ২০ কেজি গাঁজা উদ্ধারসহ তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে আরিফের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নওগাঁ সদর উপজেলার একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে মোশাররফকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই বাসার খাটের নিচ থেকে তাঁর হেফাজতে থাকা আরও দুই কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পরবর্তী সময়ে মোশাররফের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বদলগাছী উপজেলায় অভিযান চালিয়ে দুই সহোদর শিলং ও আরাফাতকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে আরও দুই কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে চারজনের কাছ থেকে মোট ২৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।
ভ্যান চুরির ঘটনা সম্পর্কে পুলিশ সুপার বলেন, রাণীনগর উপজেলার বাহাদুর নামের এক ভ্যানচালক জীবিকার তাগিদে নওগাঁ শহরে ভ্যান চালাতেন। প্রতারক চক্রের সদস্যরা মধু বিক্রির কথা বলে শহরের গোস্তহাটি এলাকা থেকে তাঁর ভ্যানটি ভাড়া নেয়। পরে কৌশলে তাঁকে সরিয়ে দিয়ে ভ্যানটি নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
জীবিকা নির্বাহের একমাত্র অবলম্বন ভ্যানটি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন বাহাদুর। এ ঘটনায় সদর থানায় মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয় তাঁকে। পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল শহরের ডিজিটাল সার্ভিল্যান্স ক্যামেরার ফুটেজ ও প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে নাটোর জেলায় অভিযান চালায়। এ সময় চোরাই ভ্যানসহ চক্রের মূলহোতা সালাম ও তাঁর ছেলে নয়নকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, চুরি যাওয়া ভ্যান ফিরে পেয়ে বাহাদুর অত্যন্ত খুশি হন। ভ্যানটির কিস্তি তখনো পরিশোধ করতে পারেননি তিনি। ভ্যান ফিরে পাওয়ার আনন্দে বাহাদুর পুলিশ সুপারের সামনে ভ্যান চালিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং ফুল নিয়ে এসে পুলিশকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন, গত এক মাসে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৮০টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৫১৭টি হারানো বা নিখোঁজ মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মাদক ও অন্যান্য অপরাধ দমনে জেলা পুলিশের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানান পুলিশ সুপার।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়ব্রত পাল, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসিবুল্লাহ হাবিবসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম। 
















