সিরাজগঞ্জ , সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

নাগপাশে মোড়ানো দিনগুলি

  • রিপোর্টার:
  • আপডেট টাইম : ১০:২৭:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
  • 33

মহসিন আলম মুহিন

মহসিন আলম মুহিন

আমি কথা বলি মুখপাত্র হয়ে-
আমি পথ চলি মুক্ত বিহঙ্গের মত,
কারো অধিকার হরণ করে নয়,
নিজেকে পুড়িয়ে কষ্ট দিয়ে।।
কখনও কারো চোখে ঢিল ছুড়িনি!
লালন করি সুচিন্তা সাদা মন,
আমার ভাবনায় স্বচ্ছতার প্রকাশ;
তবুও সুন্দর ইচ্ছে গুলো আঁধারে হারায়!
বুকের মাঝে ব্যথা করে শ্বাস আটকায়।।
রাজনীতি! নীতির রাজা, রাজার নীতি নয়!
শব্দগুলো আজ চার দেয়ালে অবরুদ্ধ!
পৃথিবী জুড়ে গণতন্ত্রের ঢাকঢোল পিটিয়ে,
স্বৈরাচারীরা চলে, দম্ভভরে পথ!
যেন অবুঝের মতো-“একনায়ক”-।।

আমার চেতনা সত্যের ও ন্যায়ের, তাই এত ভয়!
ওরা কারা, বুঝে নিও;
সমাজের স্বল্পপ্রাণ, স্থূলবুদ্ধি
এবং জবরদস্তিপ্রিয় মানুষ ওরা!
কাঁচকে হীরা বলে,
আর হীরাকে করে অবহেলা।

 

 

যুগে যুগে শ্রেষ্ঠ মানুষ
এবং শুভবুদ্ধির অবয়বগুলো আসে;
ত্বরাৎ চিহ্নিত করে অনিয়ম আর অমানিশা;
কিন্তু দুর্ভাগ্য জাতির কপালে!
তারা খুন হয়!
গুম হয়!
রক্ত ঝরে খঞ্জরে, হেমলক,
বুলেট অথবা ফাঁসির কাষ্ঠে!

 

 

 

হারিয়ে যায় সক্রেটিস,
উমর (রাঃ), ওসমান (রাঃ),
হাসান-হোসেন (রাঃ);
মহাত্মা গান্ধী, রাজীব গান্ধী,
লিয়াকত আলী, ক্ষুদিরাম,
নেতাজি সুভাষ বোস, আব্রাহাম লিঙ্কন,
আনোয়ার সাদাত, বাদশাহ ফয়সাল,
ইন্দিরা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব
ও শহীদ জিয়াসহ আরও হাজারো
অলেখা নাম হয়ে।

 

 

 

প্রশাসন, আদালত অথবা
ঝড় তোলা কোনো চত্বর,
প্রথমে আশার বাণী শোনায় সবার কর্ণে;
অতঃপর আমের মুকুলের মতো
ঝরে যায় শিলাঝড়ে!
প্রচণ্ড কুশাসন আর দলীয় বাতাসে
সব পরিকল্পনা মুখ থুবড়ে পড়ে।

 

 

 

আমার চারপাশে আজ
হাজারো হারানো মুখের স্মৃতি!
কখনো মনে পড়ে পিলখানা,
ফেলানীর কান্না,
১৫ আগস্ট,
৩০শে মে ঝাঁঝরা সার্কিট হাউস,
২১শে আগস্ট,
ভাষাশহীদ ও শহীদ মুক্তিসেনা হয়ে!

 

 

 

আবার কখনো ভেসে আসে
অসংখ্য শহীদ আবু সাঈদ,
শহীদ মুগ্ধ, শহীদ সিয়াম,
শহীদ শিহাবসহ সাগর-রুনির
শেষ কান্না!
বলে, “বাঁচাও, বাঁচাও,
মুক্ত করো ‘নাগপাশ’—
সংগ্রামী পথ চলে।”

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নাগপাশে মোড়ানো দিনগুলি

আপডেট টাইম : ১০:২৭:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

মহসিন আলম মুহিন

আমি কথা বলি মুখপাত্র হয়ে-
আমি পথ চলি মুক্ত বিহঙ্গের মত,
কারো অধিকার হরণ করে নয়,
নিজেকে পুড়িয়ে কষ্ট দিয়ে।।
কখনও কারো চোখে ঢিল ছুড়িনি!
লালন করি সুচিন্তা সাদা মন,
আমার ভাবনায় স্বচ্ছতার প্রকাশ;
তবুও সুন্দর ইচ্ছে গুলো আঁধারে হারায়!
বুকের মাঝে ব্যথা করে শ্বাস আটকায়।।
রাজনীতি! নীতির রাজা, রাজার নীতি নয়!
শব্দগুলো আজ চার দেয়ালে অবরুদ্ধ!
পৃথিবী জুড়ে গণতন্ত্রের ঢাকঢোল পিটিয়ে,
স্বৈরাচারীরা চলে, দম্ভভরে পথ!
যেন অবুঝের মতো-“একনায়ক”-।।

আমার চেতনা সত্যের ও ন্যায়ের, তাই এত ভয়!
ওরা কারা, বুঝে নিও;
সমাজের স্বল্পপ্রাণ, স্থূলবুদ্ধি
এবং জবরদস্তিপ্রিয় মানুষ ওরা!
কাঁচকে হীরা বলে,
আর হীরাকে করে অবহেলা।

 

 

যুগে যুগে শ্রেষ্ঠ মানুষ
এবং শুভবুদ্ধির অবয়বগুলো আসে;
ত্বরাৎ চিহ্নিত করে অনিয়ম আর অমানিশা;
কিন্তু দুর্ভাগ্য জাতির কপালে!
তারা খুন হয়!
গুম হয়!
রক্ত ঝরে খঞ্জরে, হেমলক,
বুলেট অথবা ফাঁসির কাষ্ঠে!

 

 

 

হারিয়ে যায় সক্রেটিস,
উমর (রাঃ), ওসমান (রাঃ),
হাসান-হোসেন (রাঃ);
মহাত্মা গান্ধী, রাজীব গান্ধী,
লিয়াকত আলী, ক্ষুদিরাম,
নেতাজি সুভাষ বোস, আব্রাহাম লিঙ্কন,
আনোয়ার সাদাত, বাদশাহ ফয়সাল,
ইন্দিরা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব
ও শহীদ জিয়াসহ আরও হাজারো
অলেখা নাম হয়ে।

 

 

 

প্রশাসন, আদালত অথবা
ঝড় তোলা কোনো চত্বর,
প্রথমে আশার বাণী শোনায় সবার কর্ণে;
অতঃপর আমের মুকুলের মতো
ঝরে যায় শিলাঝড়ে!
প্রচণ্ড কুশাসন আর দলীয় বাতাসে
সব পরিকল্পনা মুখ থুবড়ে পড়ে।

 

 

 

আমার চারপাশে আজ
হাজারো হারানো মুখের স্মৃতি!
কখনো মনে পড়ে পিলখানা,
ফেলানীর কান্না,
১৫ আগস্ট,
৩০শে মে ঝাঁঝরা সার্কিট হাউস,
২১শে আগস্ট,
ভাষাশহীদ ও শহীদ মুক্তিসেনা হয়ে!

 

 

 

আবার কখনো ভেসে আসে
অসংখ্য শহীদ আবু সাঈদ,
শহীদ মুগ্ধ, শহীদ সিয়াম,
শহীদ শিহাবসহ সাগর-রুনির
শেষ কান্না!
বলে, “বাঁচাও, বাঁচাও,
মুক্ত করো ‘নাগপাশ’—
সংগ্রামী পথ চলে।”