সিরাজগঞ্জ , শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

নিষেধাজ্ঞা শেষে পদ্মা পাড়ে ইলিশের মেলা, মাছ কম দাম বেশি

২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে মানিকগঞ্জের পদ্মা-যমুনায় আবারও ইলিশ ধরতে নেমেছেন জেলেরা।

নিষেধাজ্ঞা শেষ হতেই মানিকগঞ্জের পদ্মাপাড়ে জমে উঠেছে বাহাদুরপুর ইলিশের মেলা। প্রায় দুই দশক ধরে চলে আসা এ মেলা মাছের আমদানির ওপর নির্ভর করে চলে টানা সাত দিন পর্যন্ত। শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে মেলা।

সৌখিন মাছ শিকারী, জেলে ও ব্যবসায়ীরা জানান, এবার চাহিদার তুলনায় ইলিশের সরবরাহ কম। অন্যদিকে ইঞ্জিনচালিত নৌকার জ্বালানি ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় মাছ ধরার খরচও বেড়েছে। ফলে বেশি দামে মাছ বিক্রি করেও আশানুরূপ লাভ হচ্ছে না।

 

পদ্মাপাড়ে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই একের পর এক জেলে নৌকা এসে ভিড়ছে নদীর পাড়ে। নৌকা থেকে মাছ নামানোর সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হচ্ছে দরদাম। তাজা ইলিশ কিনতে ভিড় করছেন ক্রেতা ও মাছ ব্যবসায়ীরা।

বাহাদুরপুরের এ ইলিশের মেলায় শুধু হরিরামপুর নয়, ঘিওর, মানিকগঞ্জ সদর, ঢাকার ধামরাই ও সাভারসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসছেন ক্রেতারা। দাম কিছুটা বেশি হলেও নদীর তাজা ইলিশ সরাসরি দেখেশুনে কেনার সুযোগ থাকায় মেলায় ছুটে আসছেন তারা।

ক্রেতাদের উপস্থিতি বেশি থাকলেও এবার ইলিশের সরবরাহ তুলনামূলক কম বলে জানিয়েছেন জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীরা।

জেলে পলাশ বলেন, “চারজন মিলে মাছ ধরি। সারা রাত মাছ ধরে চার হাজার টাকায় বেচছি। ১৫০০ টাকার তেল খরচ গেছে। তাহলে আর পেলাম কী?”

ফরিদপুর নর্থ চ্যানেল এলাকার ইলিশ মাছ শিকারী রহমত আলী বলেন, “বাহাদুরপুরে দাম ভালো তাই আসছি। তয় এবার মাছ কম ধরা পরতেছে।”

বাহাদুরপুর বাজার বণিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান শাহিন বলেন, প্রায় দুই দশক ধরে ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা শেষ হলে এ মেলার আয়োজন হয়ে আসছে। মানিকগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও ঢাকা ও সাভার থেকে ক্রেতারা এখানে ইলিশ কিনতে আসেন।

মাছ ব্যবসায়ী আইয়ুব আলী বলেন, এলাকাবাসী ও বাজার বণিক সমিতির উদ্যোগে এ মেলার আয়োজন করা হয়। প্রথম দিনেই কয়েক লাখ টাকার ইলিশ বিক্রি হয়। মাছের আমদানির ওপর নির্ভর করে সাত দিন পর্যন্ত চলে এ মেলা।

জনতার কণ্ঠ / কেএম

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিষেধাজ্ঞা শেষে পদ্মা পাড়ে ইলিশের মেলা, মাছ কম দাম বেশি

আপডেট টাইম : ০৯:৪৯:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে মানিকগঞ্জের পদ্মা-যমুনায় আবারও ইলিশ ধরতে নেমেছেন জেলেরা।

নিষেধাজ্ঞা শেষ হতেই মানিকগঞ্জের পদ্মাপাড়ে জমে উঠেছে বাহাদুরপুর ইলিশের মেলা। প্রায় দুই দশক ধরে চলে আসা এ মেলা মাছের আমদানির ওপর নির্ভর করে চলে টানা সাত দিন পর্যন্ত। শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে মেলা।

সৌখিন মাছ শিকারী, জেলে ও ব্যবসায়ীরা জানান, এবার চাহিদার তুলনায় ইলিশের সরবরাহ কম। অন্যদিকে ইঞ্জিনচালিত নৌকার জ্বালানি ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় মাছ ধরার খরচও বেড়েছে। ফলে বেশি দামে মাছ বিক্রি করেও আশানুরূপ লাভ হচ্ছে না।

 

পদ্মাপাড়ে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই একের পর এক জেলে নৌকা এসে ভিড়ছে নদীর পাড়ে। নৌকা থেকে মাছ নামানোর সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হচ্ছে দরদাম। তাজা ইলিশ কিনতে ভিড় করছেন ক্রেতা ও মাছ ব্যবসায়ীরা।

বাহাদুরপুরের এ ইলিশের মেলায় শুধু হরিরামপুর নয়, ঘিওর, মানিকগঞ্জ সদর, ঢাকার ধামরাই ও সাভারসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসছেন ক্রেতারা। দাম কিছুটা বেশি হলেও নদীর তাজা ইলিশ সরাসরি দেখেশুনে কেনার সুযোগ থাকায় মেলায় ছুটে আসছেন তারা।

ক্রেতাদের উপস্থিতি বেশি থাকলেও এবার ইলিশের সরবরাহ তুলনামূলক কম বলে জানিয়েছেন জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীরা।

জেলে পলাশ বলেন, “চারজন মিলে মাছ ধরি। সারা রাত মাছ ধরে চার হাজার টাকায় বেচছি। ১৫০০ টাকার তেল খরচ গেছে। তাহলে আর পেলাম কী?”

ফরিদপুর নর্থ চ্যানেল এলাকার ইলিশ মাছ শিকারী রহমত আলী বলেন, “বাহাদুরপুরে দাম ভালো তাই আসছি। তয় এবার মাছ কম ধরা পরতেছে।”

বাহাদুরপুর বাজার বণিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান শাহিন বলেন, প্রায় দুই দশক ধরে ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা শেষ হলে এ মেলার আয়োজন হয়ে আসছে। মানিকগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও ঢাকা ও সাভার থেকে ক্রেতারা এখানে ইলিশ কিনতে আসেন।

মাছ ব্যবসায়ী আইয়ুব আলী বলেন, এলাকাবাসী ও বাজার বণিক সমিতির উদ্যোগে এ মেলার আয়োজন করা হয়। প্রথম দিনেই কয়েক লাখ টাকার ইলিশ বিক্রি হয়। মাছের আমদানির ওপর নির্ভর করে সাত দিন পর্যন্ত চলে এ মেলা।

জনতার কণ্ঠ / কেএম