শরীয়তপুরের ডামুড্যায় মাদক সেবন ও কারবারের প্রতিবাদ করায় লামিয়া বৃষ্টি নামের এক গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী রবিউল ছৈয়ালের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের কনেশ্বর গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয় বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে লামিয়া ও রবিউলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই রবিউল মাদক সেবন ও অবৈধ মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলহ ও ঝগড়া হতো। ঘটনার এক সপ্তাহ আগে রবিউলকে মাদক ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেন লামিয়া। অন্যথায় তাকে তালাক দেওয়ার কথা জানিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান তিনি।
সোমবার পারিবারিক বিরোধ মীমাংসার কথা বলে লামিয়াকে স্বামীর বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে উভয় পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসা করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা চলে গেলে লামিয়ার সঙ্গে আবারও কথা-কাটাকাটি শুরু হয় রবিউলের। একপর্যায়ে লামিয়াকে টেনেহিঁচড়ে পাশের বাড়ির একটি ডোবার কাছে নিয়ে গলা কেটে ডোবায় ফেলে রেখে পালিয়ে যান তিনি।
পরে লামিয়ার ছোট ভাই ওবায়দুল মাদবর তাকে খুঁজতে গিয়ে ডোবার মধ্যে পড়ে থাকতে দেখেন। দ্রুত সেখান থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের মা শাহিদা আক্তার বলেন, বিয়ের পর থেকেই রবিউল মাদক সেবনের পাশাপাশি মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করলেই তার মেয়েকে মারধর করতেন। এ নিয়ে আগে থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়েছিল। সর্বশেষ গত সপ্তাহে রবিউলকে তালাক দেওয়ার কথা বলে মেয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসে। সোমবার মীমাংসার কথা বলে ডেকে নিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি মেয়ের হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে অভিযুক্ত রবিউলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জনতার কন্ঠ/এস এ

ন্যাশনাল ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম 




















