সিরাজগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo হরমুজ প্রণালিতে ভারত-চীনসহ ৪ দেশকে বিশেষ ছাড় দিল ইরান Logo একের পর এক সুযোগ নষ্ট, প্রথমার্ধে গোল পায়নি বাংলাদেশ Logo চালু হচ্ছে পাবনা-ঢাকা রুটে নতুন দুই আন্তঃনগর ট্রেন Logo গোপালগঞ্জ জেলা স্কুলে ‘জয়বাংলা’ স্লোগান, ছাড়পত্র পেল ৯ শিক্ষার্থী Logo স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ নতুন দায়িত্ব পেলেন ৬ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী Logo নতুন করে দুটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী Logo নদীভাঙন কবলিত জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি ও মানবিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গবেষণার প্রাথমিক ফলাফল উপস্থাপন Logo হিলিতে পুলিশের অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধন ঘিরে রাণীনগরে উৎসবমুখর আয়োজন Logo বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম নাসির উদ্দীন কালুর তুলনা তিনি নিজেই: শরীয়তপুরে তাঁর পরিচয় তাঁর কর্মে

সাংবাদিকদের একাংশের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার টাকা নেওয়ার অভিযোগ আইজিপির

আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির। ছবি : সংগৃহীত

সাংবাদিকদের একাংশের বিরুদ্ধে মাদক কারবারিদের কাছ থেকে গোপনে টাকা নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি দাবি করেছেন, মাদক কারবারিদের কাছ থেকে টাকা না পেলে সাংবাদিকরা পুলিশকে ‘অকার্যকর’ উল্লেখ করে সংবাদ প্রকাশ করেন।

 

 

 

 

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর চকবাজারে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশের ইসলামিক ব্যাংকিং সেবার উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

 

 

সাংবাদিকদের উদ্দেশে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, ‘মাদক, এগুলোর বিরুদ্ধে আপনারা মুভ করতেছেন না। সেখান থেকে গোপনে টাকা নিতেছেন। সাংবাদিক সাহেবরা ওখান থেকে যখন পয়সা না পাইতেছেন, তখন লিখতেছেন পুলিশ এই দেশে অকার্যকর হয়ে গেছে।’

পুলিশের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘন করি নাই। আমরা কোনো আনওয়ান্টেড ফোর্স অ্যাপ্লাই করি নাই। আপনারা দেখেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পরে বাংলাদেশে পুলিশের যে অবস্থা ছিল, পুলিশ রাস্তায় ডিউটি করার জন্য ভয় পেত। তারা যেতে সাহস পেত না।’

বর্তমান সরকারের অধীনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে পুলিশ কাজ করছে উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, ‘সেই অবস্থা থেকে আমরা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ, আপনাদের প্রকৃত স্বস্তি, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছি। তো সেই জায়গায় আপনারা সহযোগিতা করুন।’

 

 

 

শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কে আসবে, আপা কবে আসবে, কী হবে, ওটা আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দেখার বিষয় না। আমাদের দায়িত্ব আইন-সংবিধান অনুযায়ী যখন যেখানে যা প্রয়োগ করা দরকার, সেটাই আমরা করব।’

এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনে ‘ক্রসফায়ার’ ব্যবহারের কথাও বলেন পুলিশপ্রধান। তিনি বলেন, ‘যেখানে যদি ক্রসফায়ার প্রয়োজন হয়, সরকার যদি অ্যালাউ করে, আমরা সেটাই করব।’

 

 

 

 

পুলিশের দায়িত্ব পালন নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে আইজিপি বলেন, ‘আমরা যদি লাঠিপেটা করি, বলবেন আমরা ফ্যাসিস্ট পুলিশ। আর আমরা যদি নীরবে থাকি, তাহলে বলবেন দুর্বল পুলিশ।’

 

 

 

 

এদিকে সাংবাদিকদের নিয়ে আইজিপির এমন মন্তব্যের পর ব্যাখ্যা দিয়েছে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স।

 

 

 

 

সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ সদরদপ্তর জানায়, আইজিপি সাংবাদিকদের সম্পর্কে ঢালাও কোনো মন্তব্য করতে চাননি। অসাবধানতাবশত এ মন্তব্য করেছেন তিনি।

 

 

 

 

একই বিজ্ঞপ্তিতে ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত বক্তব্যের ব্যাখ্যায় বলা হয়, আইজিপি আইন প্রয়োগের কঠোরতা বোঝাতে শব্দটি ব্যবহার করেছেন। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে কাউকে শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি এ কথা বলেননি।

 

 

 

 

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স আরও জানায়, মানবাধিকার সমুন্নত রেখে জনগণের জানমাল রক্ষা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশ পুলিশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিতে ভারত-চীনসহ ৪ দেশকে বিশেষ ছাড় দিল ইরান

সাংবাদিকদের একাংশের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার টাকা নেওয়ার অভিযোগ আইজিপির

আপডেট টাইম : ০৮:৫৯:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

সাংবাদিকদের একাংশের বিরুদ্ধে মাদক কারবারিদের কাছ থেকে গোপনে টাকা নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি দাবি করেছেন, মাদক কারবারিদের কাছ থেকে টাকা না পেলে সাংবাদিকরা পুলিশকে ‘অকার্যকর’ উল্লেখ করে সংবাদ প্রকাশ করেন।

 

 

 

 

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর চকবাজারে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশের ইসলামিক ব্যাংকিং সেবার উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

 

 

সাংবাদিকদের উদ্দেশে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, ‘মাদক, এগুলোর বিরুদ্ধে আপনারা মুভ করতেছেন না। সেখান থেকে গোপনে টাকা নিতেছেন। সাংবাদিক সাহেবরা ওখান থেকে যখন পয়সা না পাইতেছেন, তখন লিখতেছেন পুলিশ এই দেশে অকার্যকর হয়ে গেছে।’

পুলিশের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘন করি নাই। আমরা কোনো আনওয়ান্টেড ফোর্স অ্যাপ্লাই করি নাই। আপনারা দেখেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পরে বাংলাদেশে পুলিশের যে অবস্থা ছিল, পুলিশ রাস্তায় ডিউটি করার জন্য ভয় পেত। তারা যেতে সাহস পেত না।’

বর্তমান সরকারের অধীনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে পুলিশ কাজ করছে উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, ‘সেই অবস্থা থেকে আমরা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ, আপনাদের প্রকৃত স্বস্তি, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছি। তো সেই জায়গায় আপনারা সহযোগিতা করুন।’

 

 

 

শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কে আসবে, আপা কবে আসবে, কী হবে, ওটা আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দেখার বিষয় না। আমাদের দায়িত্ব আইন-সংবিধান অনুযায়ী যখন যেখানে যা প্রয়োগ করা দরকার, সেটাই আমরা করব।’

এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনে ‘ক্রসফায়ার’ ব্যবহারের কথাও বলেন পুলিশপ্রধান। তিনি বলেন, ‘যেখানে যদি ক্রসফায়ার প্রয়োজন হয়, সরকার যদি অ্যালাউ করে, আমরা সেটাই করব।’

 

 

 

 

পুলিশের দায়িত্ব পালন নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে আইজিপি বলেন, ‘আমরা যদি লাঠিপেটা করি, বলবেন আমরা ফ্যাসিস্ট পুলিশ। আর আমরা যদি নীরবে থাকি, তাহলে বলবেন দুর্বল পুলিশ।’

 

 

 

 

এদিকে সাংবাদিকদের নিয়ে আইজিপির এমন মন্তব্যের পর ব্যাখ্যা দিয়েছে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স।

 

 

 

 

সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ সদরদপ্তর জানায়, আইজিপি সাংবাদিকদের সম্পর্কে ঢালাও কোনো মন্তব্য করতে চাননি। অসাবধানতাবশত এ মন্তব্য করেছেন তিনি।

 

 

 

 

একই বিজ্ঞপ্তিতে ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত বক্তব্যের ব্যাখ্যায় বলা হয়, আইজিপি আইন প্রয়োগের কঠোরতা বোঝাতে শব্দটি ব্যবহার করেছেন। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে কাউকে শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি এ কথা বলেননি।

 

 

 

 

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স আরও জানায়, মানবাধিকার সমুন্নত রেখে জনগণের জানমাল রক্ষা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশ পুলিশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।