সিরাজগঞ্জ , মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

সৌদি আরবে কারাবন্দি সাড়ে ৭ হাজার বাংলাদেশি

সৌদির কারাগারে বন্দি সাড়ে ৭ হাজার বাংলাদেশি

সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরের কারাগারে সাড়ে সাত হাজারের মতো বাংলাদেশি বন্দি আছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, কোনো নাগরিকের সাজা হওয়ার খবর পাওয়া মাত্রই তাকে আইনি সুরক্ষার মাধ্যমে বাঁচানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হয়।

 

 

 

 

গতকাল শুক্রবার সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় নিহত বাংলাদেশি কর্মী মো. শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন শামা ওবায়েদ। সকাল ৮টার পর শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়। পরে শাহেদ আহম্মেদের স্ত্রী কহিনুর আক্তার কাকলীকে মরদেহ ও সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা হস্তান্তর করা হয়।

 

 

 

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে দেশটির রাষ্ট্রদূতকে ডেকে কথা বলেছে বাংলাদেশ। সৌদি সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে রায়ের অনুলিপি চাওয়া হয়েছে। সেই অনুলিপি পাওয়া গেলে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

 

প্রবাসী কর্মীদের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিদেশে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের আইনকানুন ভালোভাবে জেনে নেওয়া উচিত। মিশনগুলো এসব সমস্যা নিরসনে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ আনার বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুততম সময়ে মরদেহটি দেশে আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি জানান, নিহত শাহেদ আহম্মেদ বগুড়ার শাজাহানপুরের বাসিন্দা এবং তার দুটি সন্তান রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত নিহত প্রবাসীদের মধ্যে ১১তম মরদেহ হিসেবে শাহেদের মরদেহ দেশে আনা হলো।

 

 

 

 

নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে নিহতের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকার অনুদান দেওয়া হয়েছে এবং মরদেহ গ্রামে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিনামূল্যে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবে বাংলাদেশের ৪০ লাখের বেশি মানুষ কাজ করেন। এ কারণে দেশটিতে যুদ্ধ বা অন্য কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে বাংলাদেশি কর্মীদের হতাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

 

 

 

শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, সরকার চায় না ভবিষ্যতে আর কোনো বাংলাদেশি নাগরিককে এভাবে প্রাণ হারাতে হোক। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধ হোক এবং কোনো দেশের নাগরিকই যেন এমন নৃশংস হামলার শিকার না হন, সে জন্য তিনি দোয়া করেন।

 

 

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বাংলাদেশে আটকে পড়া প্রবাসী কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানো এবং ভিসা নবায়নের বিষয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদি আরবে কারাবন্দি সাড়ে ৭ হাজার বাংলাদেশি

আপডেট টাইম : ১২:১৯:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরের কারাগারে সাড়ে সাত হাজারের মতো বাংলাদেশি বন্দি আছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, কোনো নাগরিকের সাজা হওয়ার খবর পাওয়া মাত্রই তাকে আইনি সুরক্ষার মাধ্যমে বাঁচানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হয়।

 

 

 

 

গতকাল শুক্রবার সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় নিহত বাংলাদেশি কর্মী মো. শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন শামা ওবায়েদ। সকাল ৮টার পর শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়। পরে শাহেদ আহম্মেদের স্ত্রী কহিনুর আক্তার কাকলীকে মরদেহ ও সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা হস্তান্তর করা হয়।

 

 

 

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে দেশটির রাষ্ট্রদূতকে ডেকে কথা বলেছে বাংলাদেশ। সৌদি সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে রায়ের অনুলিপি চাওয়া হয়েছে। সেই অনুলিপি পাওয়া গেলে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

 

প্রবাসী কর্মীদের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিদেশে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের আইনকানুন ভালোভাবে জেনে নেওয়া উচিত। মিশনগুলো এসব সমস্যা নিরসনে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ আনার বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুততম সময়ে মরদেহটি দেশে আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি জানান, নিহত শাহেদ আহম্মেদ বগুড়ার শাজাহানপুরের বাসিন্দা এবং তার দুটি সন্তান রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত নিহত প্রবাসীদের মধ্যে ১১তম মরদেহ হিসেবে শাহেদের মরদেহ দেশে আনা হলো।

 

 

 

 

নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে নিহতের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকার অনুদান দেওয়া হয়েছে এবং মরদেহ গ্রামে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিনামূল্যে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবে বাংলাদেশের ৪০ লাখের বেশি মানুষ কাজ করেন। এ কারণে দেশটিতে যুদ্ধ বা অন্য কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে বাংলাদেশি কর্মীদের হতাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

 

 

 

শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, সরকার চায় না ভবিষ্যতে আর কোনো বাংলাদেশি নাগরিককে এভাবে প্রাণ হারাতে হোক। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধ হোক এবং কোনো দেশের নাগরিকই যেন এমন নৃশংস হামলার শিকার না হন, সে জন্য তিনি দোয়া করেন।

 

 

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বাংলাদেশে আটকে পড়া প্রবাসী কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানো এবং ভিসা নবায়নের বিষয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।