সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo রায়গঞ্জ প্রেসক্লাবের প্রয়াত সাংবাদিক আশরাফ আলীর স্মরণে দোয়া মাহফিল Logo বিএনপি ক্ষমতায় আছে জোরজবরদস্তির মাধ্যমে: নাহিদ ইসলাম Logo হাসিনা একজনের ঘাড়ে ৩৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ রেখে গেছেন: টুকু Logo হরমুজ প্রণালিতে ভারতসহ চার দেশকে কেন ছাড় দিচ্ছে ইরান? Logo ১৭ বছর বয়সী ফুটবলারসহ ইতালির স্কোয়াড ঘোষণা Logo পর্তুগালের শেষবার মাঠে নামার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন রোনালদো Logo ২৬৮ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ, হাল ধরেছেন মুশফিক-হৃদয় Logo আলট্রাসনোগ্রামে যমজ, সিজারের পর মিলল একটি নবজাতক; থানায় এজাহার Logo ডেমোক্র্যাটদের জয়ে অবসানের পথে ইরান যুদ্ধ, বদলাতে পারে ইসরায়েল নীতি Logo সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুতে ৫ লাখ, আহতদের ক্ষতিপূরণ ১ লাখ টাকা

জামায়াতের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও চাকরি মেলেনি, পাশে দাঁড়ালেন শাহে আলম

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ও সাব্বির প্রামাণিক। ছবি: সংগৃহীত

১৩ বছর আগে রাজনৈতিক সহিংসতায় প্রাণঘাতী হামলার শিকার হয়েছিলেন শিবিরের তৎকালীন নেতা সাব্বির প্রামাণিক। শরীরে ৬৪টি সেলাই, একের পর এক অস্ত্রোপচার, দীর্ঘ চিকিৎসা আর অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে আছেন তিনি। অথচ দুঃসময়ে যে সংগঠনের নেতাদের কাছে বারবার চাকরির জন্য ধরনা দিয়েছেন, সেই জামায়াতে ইসলামী থেকে মেলেনি সহযোগিতা। সংগঠনের আমির ডা. শফিকুর রহমানের কাছে খোলা চিঠি লিখেও পাননি সাড়া। শেষ পর্যন্ত নিজের জীবনসংগ্রামের কথা গণমাধ্যমে প্রকাশের পর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন বিএনপি সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

 

 

 

 

সাব্বিরকে একটি প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার পদে নিয়োগ দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। বর্তমানে তিনি পুষ্টি চালের মিল, সিমেন্টের ইট তৈরির কারখানা ও মাছের খামার দেখাশোনার পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানের হিসাব-নিকাশের দায়িত্ব পালন করছেন। সম্মানজনক পদে নিয়োগের পাশাপাশি তাকে দেওয়া হচ্ছে ভালো বেতন। এতে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে স্বস্তি ফিরেছে তার পরিবারে।

 

 

 

 

জানা গেছে, সাব্বিরের জীবনসংগ্রাম নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি নজরে আসে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের। প্রতিবেদনটি পড়েই তার কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেন তিনি। পরে সাব্বিরকে ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

 

চাকরি পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করে সাব্বির বলেন, ‘আমি অনেকবার জামায়াতের কাছে চাকরির জন্য গিয়েছি। কিন্তু তারা আমাকে চাকরি দেয়নি। মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম আমাকে চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। ভালো বেতন দিচ্ছেন। এখন আল্লাহ আমাদের পরিবারকে ভালো রেখেছেন। আমরা অনেক স্বস্তিতে আছি।’

 

 

সাব্বিরের জীবনসংগ্রামের শুরু ২০১৩ সালের ৩১ জানুয়ারি। ওই দিন বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজ এলাকায় রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার হন তিনি। হামলায় তার সহকর্মী শিবির নেতা আবু রুহানী নিহত হন। সাব্বিরের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হার্ট, ফুসফুস, কিডনিসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। শরীরে দিতে হয়েছে ৬৪টি সেলাই। এমনকি একপর্যায়ে সংবাদপত্রে তাকে মৃত বলেও উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে মৃত্যুর সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত বেঁচে ফেরেন তিনি।

 

 

 

 

দীর্ঘ চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হলেও শারীরিক জটিলতা কাটেনি। স্বাভাবিক কর্মজীবনে ফেরার চেষ্টা করেও সফল হননি। জীবিকার তাগিদে অটোরিকশা চালানো শুরু করলেও অসুস্থতার কারণে সেই কাজ বেশিদিন চালিয়ে যেতে পারেননি। একদিকে চিকিৎসার ব্যয়, অন্যদিকে পরিবারের ভরণপোষণ, সব মিলিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়ে তার পরিবার।

 

 

 

 

এ অবস্থায় নিজের দুর্দশার কথা তুলে ধরে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের উদ্দেশে খোলা চিঠি লেখেন সাব্বির। একসময় সংগঠনের রাজপথের সক্রিয় কর্মী হিসেবে ভূমিকা রাখলেও দুঃসময়ে যথাযথ চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। চাকরির জন্য দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কার্যকর সহায়তা পাননি বলে জানান। তার অভিযোগ, বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত চাকরির ব্যবস্থা করেনি জামায়াত।

 

 

 

 

দীর্ঘদিনের অসুস্থতা, কর্মহীনতা ও আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে নতুন এই চাকরি সাব্বিরের জীবনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও ফিরেছে স্বস্তি। তাদের প্রত্যাশা, নতুন কর্মজীবনের মধ্য দিয়ে এবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকা সাব্বির।

 

 

 

জনতার কণ্ঠ/জেডএইচ

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রায়গঞ্জ প্রেসক্লাবের প্রয়াত সাংবাদিক আশরাফ আলীর স্মরণে দোয়া মাহফিল

জামায়াতের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও চাকরি মেলেনি, পাশে দাঁড়ালেন শাহে আলম

আপডেট টাইম : ০৫:০৪:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

১৩ বছর আগে রাজনৈতিক সহিংসতায় প্রাণঘাতী হামলার শিকার হয়েছিলেন শিবিরের তৎকালীন নেতা সাব্বির প্রামাণিক। শরীরে ৬৪টি সেলাই, একের পর এক অস্ত্রোপচার, দীর্ঘ চিকিৎসা আর অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে আছেন তিনি। অথচ দুঃসময়ে যে সংগঠনের নেতাদের কাছে বারবার চাকরির জন্য ধরনা দিয়েছেন, সেই জামায়াতে ইসলামী থেকে মেলেনি সহযোগিতা। সংগঠনের আমির ডা. শফিকুর রহমানের কাছে খোলা চিঠি লিখেও পাননি সাড়া। শেষ পর্যন্ত নিজের জীবনসংগ্রামের কথা গণমাধ্যমে প্রকাশের পর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন বিএনপি সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

 

 

 

 

সাব্বিরকে একটি প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার পদে নিয়োগ দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। বর্তমানে তিনি পুষ্টি চালের মিল, সিমেন্টের ইট তৈরির কারখানা ও মাছের খামার দেখাশোনার পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানের হিসাব-নিকাশের দায়িত্ব পালন করছেন। সম্মানজনক পদে নিয়োগের পাশাপাশি তাকে দেওয়া হচ্ছে ভালো বেতন। এতে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে স্বস্তি ফিরেছে তার পরিবারে।

 

 

 

 

জানা গেছে, সাব্বিরের জীবনসংগ্রাম নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি নজরে আসে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের। প্রতিবেদনটি পড়েই তার কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেন তিনি। পরে সাব্বিরকে ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

 

চাকরি পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করে সাব্বির বলেন, ‘আমি অনেকবার জামায়াতের কাছে চাকরির জন্য গিয়েছি। কিন্তু তারা আমাকে চাকরি দেয়নি। মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম আমাকে চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। ভালো বেতন দিচ্ছেন। এখন আল্লাহ আমাদের পরিবারকে ভালো রেখেছেন। আমরা অনেক স্বস্তিতে আছি।’

 

 

সাব্বিরের জীবনসংগ্রামের শুরু ২০১৩ সালের ৩১ জানুয়ারি। ওই দিন বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজ এলাকায় রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার হন তিনি। হামলায় তার সহকর্মী শিবির নেতা আবু রুহানী নিহত হন। সাব্বিরের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হার্ট, ফুসফুস, কিডনিসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। শরীরে দিতে হয়েছে ৬৪টি সেলাই। এমনকি একপর্যায়ে সংবাদপত্রে তাকে মৃত বলেও উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে মৃত্যুর সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত বেঁচে ফেরেন তিনি।

 

 

 

 

দীর্ঘ চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হলেও শারীরিক জটিলতা কাটেনি। স্বাভাবিক কর্মজীবনে ফেরার চেষ্টা করেও সফল হননি। জীবিকার তাগিদে অটোরিকশা চালানো শুরু করলেও অসুস্থতার কারণে সেই কাজ বেশিদিন চালিয়ে যেতে পারেননি। একদিকে চিকিৎসার ব্যয়, অন্যদিকে পরিবারের ভরণপোষণ, সব মিলিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়ে তার পরিবার।

 

 

 

 

এ অবস্থায় নিজের দুর্দশার কথা তুলে ধরে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের উদ্দেশে খোলা চিঠি লেখেন সাব্বির। একসময় সংগঠনের রাজপথের সক্রিয় কর্মী হিসেবে ভূমিকা রাখলেও দুঃসময়ে যথাযথ চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। চাকরির জন্য দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কার্যকর সহায়তা পাননি বলে জানান। তার অভিযোগ, বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত চাকরির ব্যবস্থা করেনি জামায়াত।

 

 

 

 

দীর্ঘদিনের অসুস্থতা, কর্মহীনতা ও আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে নতুন এই চাকরি সাব্বিরের জীবনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও ফিরেছে স্বস্তি। তাদের প্রত্যাশা, নতুন কর্মজীবনের মধ্য দিয়ে এবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকা সাব্বির।

 

 

 

জনতার কণ্ঠ/জেডএইচ