সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo বিএনপি ক্ষমতায় আছে জোরজবরদস্তির মাধ্যমে: নাহিদ ইসলাম Logo হাসিনা একজনের ঘাড়ে ৩৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ রেখে গেছেন: টুকু Logo হরমুজ প্রণালিতে ভারতসহ চার দেশকে কেন ছাড় দিচ্ছে ইরান? Logo ১৭ বছর বয়সী ফুটবলারসহ ইতালির স্কোয়াড ঘোষণা Logo পর্তুগালের শেষবার মাঠে নামার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন রোনালদো Logo ২৬৮ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ, হাল ধরেছেন মুশফিক-হৃদয় Logo আলট্রাসনোগ্রামে যমজ, সিজারের পর মিলল একটি নবজাতক; থানায় এজাহার Logo ডেমোক্র্যাটদের জয়ে অবসানের পথে ইরান যুদ্ধ, বদলাতে পারে ইসরায়েল নীতি Logo সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুতে ৫ লাখ, আহতদের ক্ষতিপূরণ ১ লাখ টাকা Logo সিংড়ায় পাখি শিকারে বাধা দেওয়ায়  মাছচাষীকে গুলি, হাসপাতালে ভর্তি

আলট্রাসনোগ্রামে যমজ, সিজারের পর মিলল একটি নবজাতক; থানায় এজাহার

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার শান্তনা ও শান্ত ইসলাম দম্পত্তি স্বপ্ন দেখেছিল যমজ শিশুর মুখ দেখার। কিন্তু তাদের সেই স্বপ্ন এখন ধোঁয়াশায় পরিণত হয়েছে। গৃহবধু শান্তনাকে পরপর দুই বার জানানো হয়েছিল তার গর্ভে যমজ সন্তান। কিন্তু সিজারের পর ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে ভূমিষ্ঠ হওয়া মেয়ে শিশুকে। একটি সন্তানের কথা শুনে তাদের চোখ কপালে। কোনোভাবেই মানতে নারাজ তারা।

 

বৃহস্পতিবার (৫নভেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে এমনই ঘটনা ঘটেছে নওগাঁ শহরের বলাকা নামক বেসরকারি ক্লিনিকে। শুরু হয়ে যায় হট্রগোল, দেনদরবার ও সমঝোতা করার চেষ্টা।

 

এদিকে খবর পেয়ে সেখানে জেলা পুলিশের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

 

অপরদিকে সঠিক বিচার চেয়ে নওগাঁ সদর থানায় এজাহার দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী গৃহবধুর স্বামী শান্ত ইসলাম। তাঁর দাবি, অপর নবজাতকের সন্ধান এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

জানা যায়, এদিন সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর যমজ নবজাতকের একজনকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে অপর নবজাতকের কী হয়েছে, তার কোনো সদুত্তর পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন শান্তনার স্বামী শান্ত ইসলাম। তাঁর দাবি, অস্ত্রোপচারের আগে দুটি আল্ট্রাসনোগ্রাম প্রতিবেদনেই যমজ জীবিত সন্তানের কথা নিশ্চিত করা হয়েছিল। অথচ অস্ত্রোপচারের পর একটি কন্যাশিশুকে দেখানো হলেও অপর সন্তানটির বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় বলাকা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে আর্থিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি।

 

শান্ত ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, আমার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর গত ১২ ও ২১ অক্টোবর পৃথক দুটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হয়। উভয় পরীক্ষার প্রতিবেদনেই স্ত্রীর গর্ভে যমজ জীবিত সন্তান থাকার কথা বলা হয়েছিল। প্রথমে জয়পুরহাট জেলার একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রিপোর্ট করালে সেখানে দুটি জীবিত ভ্রূণের উপস্থিতির কথা বলা হয়। এরপর পুনরায় গত ২১অক্টোবর নওগাঁ শহরের রি-লাইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিবেদনেও দুটি জীবিত ভ্রূণের কথা উল্লেখ করা হয়। এমনকি ডাক্তার দিনা আলট্রা করার পর আমাদেরকে বলে আপনাদের যমজ সন্তান হবে। এই কারণে মিস্টি খাওয়ার জন্য ৫০০টাকা চান তিনি।

 

শান্ত ইসলাম আরও জানান, চিকিৎসক ডা. মাহফুজা খাতুন বলেন যেহেতু যমজ বাচ্চা, কাজেই সিজার করতে হবে, নরমালে করা যাবেনা। এবং তার পরামর্শে আমার স্ত্রীকে বৃহস্পতিবার বিকেলে নওগাঁর বলাকা ক্লিনিকে ভর্তি করানো হয়। পরে ওই চিকিৎসকের অধীনে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করেন তাঁর স্ত্রী। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পর পরিবারের কাছে একটি নবজাতক হস্তান্তর করা হলেও অপর সন্তানটির বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।

 

 

 

 

 

 

 

শান্ত ইসলামের অভিযোগ, অপর নবজাতকের বিষয়ে জানতে চাইলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। বরং বিষয়টি ধামাচাপা দিতে আমাকে আর্থিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তাই আমি প্রতিকারের আশায় আইনের আশ্রয় নিয়েছি। এবং আমার অপর নবজাতকের সন্ধান এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

 

শান্ত ইসলামের স্ত্রী প্রসূতি শান্তনা আক্তার অভিযোগ করেন, অস্ত্রোপচারের আগে চিকিৎসক ও ক্লিনিকের লোকজনের কাছে তাঁরা জানতেন, তাঁর গর্ভে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। অস্ত্রোপচারের পর তাঁকে একটি কন্যাশিশু দেখানো হয়। বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানালে তাঁরা প্রতিবাদ করেন। এ সময় তাঁর পেটের অস্ত্রোপচারের কাটা অংশ সেলাই না করে প্রায় ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট ফেলে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

শান্তনা বলেন, ‘পরিবারের সদস্যরা চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলে তারা আমার পেটের কাটা অংশ সেলাই না করে ফেলে রাখে। এ সময় মোবাইল ফোনে ভিডিও করে এবং বলে, তাদের কথা না শুনলে এ অবস্থায় রেখেই চলে যাবে। পরে আমার শরীরে কাঁপুনি শুরু হলে আমি বলি, আপনাদের সব কথা শুনব, আগে পেটের সেলাই করেন। এরপর চিকিৎসক আমার সঙ্গে রাগারাগি ও হুমকি-ধমকি দিয়ে ভিডিও ধারণ করেন। পরে পেটের কাটা অংশ সেলাই করা হয়। আমি আমার দুই সন্তানকেই চাই। আমার আরেক সন্তান কোথায়, তা জানতে চাই।’

 

রি-লাইফ ক্লিনিকে আলট্রাসনোগ্রাম করা ডাক্তার দিনা বলেন, আমি ওনার লাস্ট একটা আলট্রা করেছিলাম। এবং আমার মেশিনে যেভাবে দেখানো হয়েছে, আমি সেটাই রোগীকে বলেছি। হয়তোবা ভুল হতে পারে। কারণ অনেক সময় মেশিনে মাথা ডাবল দেখা যায়, আর এই কারণে আমি বলেছিলাম। আর ওটিতে যেহেতু একটা বেবি হয়েছে, কাজেই আমার মেশিনে ভুল হতে পারে।

 

আমার কোনো ভুল বা দোষ নেই বলে জানান রি-লাইফ ডায়াগনস্টিকের মালিক শরিফুল। তিনি বলেন, এখানে ডাক্তার মাহফুজার নির্দেশনায় ডাক্তার দিনা আলট্রা করেছে। এবং দিনা ম্যাডাম টুইন বেবির রিপোর্ট দিয়েছে। কিন্তু সিজারের পর জানতে পারলাম একটা বেবি হয়েছে। এখন এটা নিয়ে রোগীদের দ্বিধামত আসলে রিপোর্ট নাকি অপারেশন কোনটা সঠিক? আর আলট্রা রিপোর্টই একমাত্র ডাক্তার করেন। সেক্ষেত্রে আলট্রার রিপোর্ট সঠিক কিনা সেটা ডাক্তারই জবাব দিবে। তবে আমি যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে ক্লিনিক পরিচালনা করছি এবং ডাক্তার নিয়োগ দিয়েছি।

 

 

 

 

 

 

আবার তার কোনো দোষ নেই বলে জানালেন বলাকা ক্লিনিকের মালিক এনামুল হক। তিনি বলেন, ‘ডা. মাহফুজা খাতুনের পরামর্শেই ওই নারীকে আমার ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছিল। এবং তিনিই নিজে অস্ত্রোপচার করেছেন। এর আগে তার নির্দেশেই রি-লাইফ ক্লিনিকে দিনা নামের এক ডাক্তার আলট্রাসনোগ্রাম করেছে। আমার এখানে শুধু অপারেশন করা হয়েছে। এবং অপারেশনের পর সন্তান হাতে দেওয়ার সবকিছু সিসি ক্যামেরায় রেকর্ড আছে। পুলিশ এসে দেখে গিয়েছে।

 

 

 

 

 

সমঝোতার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বরং রোগীর স্বজনরাই আমাকে রি-লাইফে নিয়ে গিয়েছিল এবং দুই লাখ টাকা চেয়েছিল। আমি সেখানে উপস্থিত সকলের সামনে তাদেরকে বলেছিলাম সিজারের টাকা রি-লাইফ বহন করবে। কিন্তু রোগীর স্বজনরা শোনেননি। আর ডাক্তার দিনার কথাবার্তা তেমন ভালো না। এখানে আমার কোনো গাফিলতি বা দোষ নেই।

 

 

 

 

 

 

জানতে চাইলে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মিন্টু রহমান বলেন, বাদি এজাহার লিখছে। এজাহার দায়েরের পর এই কাজের সাথে যারা জড়িত তাদের সকলের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

 

 

 

জানতে চাইলে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনা জানার পরই আমি একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে পাঠিয়েছিলাম। ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে আবেদন জানালে নিরপেক্ষ তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে।

’

এ বিষয়ে জানতে অভিযোগ ওঠা চিকিৎসক ডা. মাহফুজা খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

জনতার কন্ঠ/এস এ

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপি ক্ষমতায় আছে জোরজবরদস্তির মাধ্যমে: নাহিদ ইসলাম

আলট্রাসনোগ্রামে যমজ, সিজারের পর মিলল একটি নবজাতক; থানায় এজাহার

আপডেট টাইম : ০৫:৪১:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার শান্তনা ও শান্ত ইসলাম দম্পত্তি স্বপ্ন দেখেছিল যমজ শিশুর মুখ দেখার। কিন্তু তাদের সেই স্বপ্ন এখন ধোঁয়াশায় পরিণত হয়েছে। গৃহবধু শান্তনাকে পরপর দুই বার জানানো হয়েছিল তার গর্ভে যমজ সন্তান। কিন্তু সিজারের পর ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে ভূমিষ্ঠ হওয়া মেয়ে শিশুকে। একটি সন্তানের কথা শুনে তাদের চোখ কপালে। কোনোভাবেই মানতে নারাজ তারা।

 

বৃহস্পতিবার (৫নভেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে এমনই ঘটনা ঘটেছে নওগাঁ শহরের বলাকা নামক বেসরকারি ক্লিনিকে। শুরু হয়ে যায় হট্রগোল, দেনদরবার ও সমঝোতা করার চেষ্টা।

 

এদিকে খবর পেয়ে সেখানে জেলা পুলিশের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

 

অপরদিকে সঠিক বিচার চেয়ে নওগাঁ সদর থানায় এজাহার দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী গৃহবধুর স্বামী শান্ত ইসলাম। তাঁর দাবি, অপর নবজাতকের সন্ধান এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

জানা যায়, এদিন সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর যমজ নবজাতকের একজনকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে অপর নবজাতকের কী হয়েছে, তার কোনো সদুত্তর পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন শান্তনার স্বামী শান্ত ইসলাম। তাঁর দাবি, অস্ত্রোপচারের আগে দুটি আল্ট্রাসনোগ্রাম প্রতিবেদনেই যমজ জীবিত সন্তানের কথা নিশ্চিত করা হয়েছিল। অথচ অস্ত্রোপচারের পর একটি কন্যাশিশুকে দেখানো হলেও অপর সন্তানটির বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় বলাকা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে আর্থিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি।

 

শান্ত ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, আমার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর গত ১২ ও ২১ অক্টোবর পৃথক দুটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হয়। উভয় পরীক্ষার প্রতিবেদনেই স্ত্রীর গর্ভে যমজ জীবিত সন্তান থাকার কথা বলা হয়েছিল। প্রথমে জয়পুরহাট জেলার একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রিপোর্ট করালে সেখানে দুটি জীবিত ভ্রূণের উপস্থিতির কথা বলা হয়। এরপর পুনরায় গত ২১অক্টোবর নওগাঁ শহরের রি-লাইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিবেদনেও দুটি জীবিত ভ্রূণের কথা উল্লেখ করা হয়। এমনকি ডাক্তার দিনা আলট্রা করার পর আমাদেরকে বলে আপনাদের যমজ সন্তান হবে। এই কারণে মিস্টি খাওয়ার জন্য ৫০০টাকা চান তিনি।

 

শান্ত ইসলাম আরও জানান, চিকিৎসক ডা. মাহফুজা খাতুন বলেন যেহেতু যমজ বাচ্চা, কাজেই সিজার করতে হবে, নরমালে করা যাবেনা। এবং তার পরামর্শে আমার স্ত্রীকে বৃহস্পতিবার বিকেলে নওগাঁর বলাকা ক্লিনিকে ভর্তি করানো হয়। পরে ওই চিকিৎসকের অধীনে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করেন তাঁর স্ত্রী। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পর পরিবারের কাছে একটি নবজাতক হস্তান্তর করা হলেও অপর সন্তানটির বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।

 

 

 

 

 

 

 

শান্ত ইসলামের অভিযোগ, অপর নবজাতকের বিষয়ে জানতে চাইলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। বরং বিষয়টি ধামাচাপা দিতে আমাকে আর্থিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তাই আমি প্রতিকারের আশায় আইনের আশ্রয় নিয়েছি। এবং আমার অপর নবজাতকের সন্ধান এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

 

শান্ত ইসলামের স্ত্রী প্রসূতি শান্তনা আক্তার অভিযোগ করেন, অস্ত্রোপচারের আগে চিকিৎসক ও ক্লিনিকের লোকজনের কাছে তাঁরা জানতেন, তাঁর গর্ভে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। অস্ত্রোপচারের পর তাঁকে একটি কন্যাশিশু দেখানো হয়। বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানালে তাঁরা প্রতিবাদ করেন। এ সময় তাঁর পেটের অস্ত্রোপচারের কাটা অংশ সেলাই না করে প্রায় ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট ফেলে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

শান্তনা বলেন, ‘পরিবারের সদস্যরা চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলে তারা আমার পেটের কাটা অংশ সেলাই না করে ফেলে রাখে। এ সময় মোবাইল ফোনে ভিডিও করে এবং বলে, তাদের কথা না শুনলে এ অবস্থায় রেখেই চলে যাবে। পরে আমার শরীরে কাঁপুনি শুরু হলে আমি বলি, আপনাদের সব কথা শুনব, আগে পেটের সেলাই করেন। এরপর চিকিৎসক আমার সঙ্গে রাগারাগি ও হুমকি-ধমকি দিয়ে ভিডিও ধারণ করেন। পরে পেটের কাটা অংশ সেলাই করা হয়। আমি আমার দুই সন্তানকেই চাই। আমার আরেক সন্তান কোথায়, তা জানতে চাই।’

 

রি-লাইফ ক্লিনিকে আলট্রাসনোগ্রাম করা ডাক্তার দিনা বলেন, আমি ওনার লাস্ট একটা আলট্রা করেছিলাম। এবং আমার মেশিনে যেভাবে দেখানো হয়েছে, আমি সেটাই রোগীকে বলেছি। হয়তোবা ভুল হতে পারে। কারণ অনেক সময় মেশিনে মাথা ডাবল দেখা যায়, আর এই কারণে আমি বলেছিলাম। আর ওটিতে যেহেতু একটা বেবি হয়েছে, কাজেই আমার মেশিনে ভুল হতে পারে।

 

আমার কোনো ভুল বা দোষ নেই বলে জানান রি-লাইফ ডায়াগনস্টিকের মালিক শরিফুল। তিনি বলেন, এখানে ডাক্তার মাহফুজার নির্দেশনায় ডাক্তার দিনা আলট্রা করেছে। এবং দিনা ম্যাডাম টুইন বেবির রিপোর্ট দিয়েছে। কিন্তু সিজারের পর জানতে পারলাম একটা বেবি হয়েছে। এখন এটা নিয়ে রোগীদের দ্বিধামত আসলে রিপোর্ট নাকি অপারেশন কোনটা সঠিক? আর আলট্রা রিপোর্টই একমাত্র ডাক্তার করেন। সেক্ষেত্রে আলট্রার রিপোর্ট সঠিক কিনা সেটা ডাক্তারই জবাব দিবে। তবে আমি যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে ক্লিনিক পরিচালনা করছি এবং ডাক্তার নিয়োগ দিয়েছি।

 

 

 

 

 

 

আবার তার কোনো দোষ নেই বলে জানালেন বলাকা ক্লিনিকের মালিক এনামুল হক। তিনি বলেন, ‘ডা. মাহফুজা খাতুনের পরামর্শেই ওই নারীকে আমার ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছিল। এবং তিনিই নিজে অস্ত্রোপচার করেছেন। এর আগে তার নির্দেশেই রি-লাইফ ক্লিনিকে দিনা নামের এক ডাক্তার আলট্রাসনোগ্রাম করেছে। আমার এখানে শুধু অপারেশন করা হয়েছে। এবং অপারেশনের পর সন্তান হাতে দেওয়ার সবকিছু সিসি ক্যামেরায় রেকর্ড আছে। পুলিশ এসে দেখে গিয়েছে।

 

 

 

 

 

সমঝোতার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বরং রোগীর স্বজনরাই আমাকে রি-লাইফে নিয়ে গিয়েছিল এবং দুই লাখ টাকা চেয়েছিল। আমি সেখানে উপস্থিত সকলের সামনে তাদেরকে বলেছিলাম সিজারের টাকা রি-লাইফ বহন করবে। কিন্তু রোগীর স্বজনরা শোনেননি। আর ডাক্তার দিনার কথাবার্তা তেমন ভালো না। এখানে আমার কোনো গাফিলতি বা দোষ নেই।

 

 

 

 

 

 

জানতে চাইলে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মিন্টু রহমান বলেন, বাদি এজাহার লিখছে। এজাহার দায়েরের পর এই কাজের সাথে যারা জড়িত তাদের সকলের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

 

 

 

জানতে চাইলে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনা জানার পরই আমি একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে পাঠিয়েছিলাম। ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে আবেদন জানালে নিরপেক্ষ তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে।

’

এ বিষয়ে জানতে অভিযোগ ওঠা চিকিৎসক ডা. মাহফুজা খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

জনতার কন্ঠ/এস এ