সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo বিএনপি ক্ষমতায় আছে জোরজবরদস্তির মাধ্যমে: নাহিদ ইসলাম Logo হাসিনা একজনের ঘাড়ে ৩৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ রেখে গেছেন: টুকু Logo হরমুজ প্রণালিতে ভারতসহ চার দেশকে কেন ছাড় দিচ্ছে ইরান? Logo ১৭ বছর বয়সী ফুটবলারসহ ইতালির স্কোয়াড ঘোষণা Logo পর্তুগালের শেষবার মাঠে নামার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন রোনালদো Logo ২৬৮ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ, হাল ধরেছেন মুশফিক-হৃদয় Logo আলট্রাসনোগ্রামে যমজ, সিজারের পর মিলল একটি নবজাতক; থানায় এজাহার Logo ডেমোক্র্যাটদের জয়ে অবসানের পথে ইরান যুদ্ধ, বদলাতে পারে ইসরায়েল নীতি Logo সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুতে ৫ লাখ, আহতদের ক্ষতিপূরণ ১ লাখ টাকা Logo সিংড়ায় পাখি শিকারে বাধা দেওয়ায়  মাছচাষীকে গুলি, হাসপাতালে ভর্তি

হরমুজ প্রণালিতে ভারতসহ চার দেশকে কেন ছাড় দিচ্ছে ইরান?

হরমুজ প্রণালি টহল দিচ্ছে আইআরজিসির নৌবাহিনীর সদস্যরা। ছবি : গেটি ইমেজেস

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করলেও ভারত, চীন, কাতার ও ইরাককে ছাড় দিচ্ছে ইরান। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা জানিয়েছেন, এসব দেশের জাহাজ প্রণালি দিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারছে। বিনিময়ে তেহরান পাচ্ছে ওষুধ, রাজনৈতিক সমর্থন এবং সম্ভাব্য বিপুল রাজস্ব। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের মধ্যে এই ছাড় কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

 

 

 

 

ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির উপপ্রধান আমির হায়াত মুকাদ্দাম ইরানি সংবাদ সংস্থা আইএসএনএকে বলেন, এসব দেশের জাহাজ অবাধে চলাচল করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রও সেগুলোতে বাধা দিচ্ছে না।

 

 

 

 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর তেহরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। পরে জুলাইয়ে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরগুলোতে আবারও নৌ অবরোধ আরোপ করে ওয়াশিংটন। এমন পরিস্থিতিতে চার দেশকে ছাড় দেওয়ার পেছনে ইরানের স্বার্থ কী এবং মার্কিন অবরোধের মধ্যেও তাদের জাহাজ চলাচল কতটা সম্ভব; তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

 

 

হায়াত মুকাদ্দামের দাবি, ভারত থেকে ওষুধ এবং চীনের কাছ থেকে রাজনৈতিক সমর্থন পাচ্ছে ইরান। কাতারও যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতা করছে। ভারতীয় ও চীনা জাহাজ থেকে পণ্য পরিবহনের জন্য মাশুল নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। তবে কাতারের জাহাজকে বিনা মাশুলে চলাচলের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ইরাকি জাহাজের ক্ষেত্রে কোনো মাশুল নেওয়া হবে কি না, তা স্পষ্ট করেননি তিনি।

 

 

 

 

সুইডেনের লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও ইরান বিশ্লেষক রুজবেহ পারসি বলেন, নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পণ্য বিনিময় ও পাল্টা সুবিধা নেওয়া ইরানের জন্য নতুন কিছু নয়। তবে এবার বিষয়টি নিষেধাজ্ঞার ফাঁক তৈরি করে প্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবা আমদানি-রপ্তানির সুযোগ বাড়ানোর সঙ্গে যুক্ত।

 

 

 

 

 

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি রপ্তানির ওপর চারটি দেশই কমবেশি নির্ভরশীল। বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠান কেপলারের জ্যেষ্ঠ তেল বিশ্লেষক মিউয়ু শুর তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে প্রতিদিন হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে যাওয়া ১ কোটি ২৩ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৪২ শতাংশ গেছে চীনে এবং ১৩ শতাংশ ভারতে।

 

 

 

 

পারসির মতে, উপসাগরীয় তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভারত বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। অন্যদিকে ইরান নিজে যেসব ওষুধ তৈরি করতে পারে না, সেগুলোর বড় উৎপাদক ভারত। ফলে দুই দেশের মধ্যে পণ্য বিনিময়ের সুযোগ রয়েছে।

 

 

 

 

কাতার আগস্টে হরমুজ দিয়ে কোনো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন করতে পারেনি। তবে অক্টোবরে দেশটি ১৮ লাখ টন এলএনজি পাঠাতে সক্ষম হয়। একই সময়ে কাতারের অপরিশোধিত তেল পরিবহন দৈনিক ৫ লাখ ১৭ হাজার ব্যারেল থেকে কমে ১ লাখ ৯৩ হাজার ব্যারেলে নেমেছে। বিপরীতে ইরাকের পরিবহন ১৬ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেল থেকে বেড়ে ২৬ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে।

 

 

 

 

 

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখাও ভারত ও কাতারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পারসি বলছেন, ছাড়ের সুবিধা থাকলেও এর সঙ্গে রাজনৈতিক ঝুঁকিও রয়েছে।

 

 

 

মার্কিন অবরোধ কি বাধা দিতে পারবে?

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের উপকূলীয় এলাকা ও বন্দর থেকে যেসব জাহাজ প্রবেশ বা বের হবে, সব দেশের জাহাজের ক্ষেত্রেই অবরোধ প্রযোজ্য। তবে ইরানের বন্দরে না যাওয়া জাহাজ এর আওতায় পড়বে না। খাদ্য ও ওষুধের মতো জরুরি মানবিক পণ্য পরিদর্শনের পর চলাচলের অনুমতি পেতে পারে।

 

 

 

 

 

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ঘোষিত ছাড় যদি শুধু উপসাগরীয় অন্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্য করা জাহাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, তাহলে চীন ও ভারতের ইরানগামী বা ইরান থেকে আসা জাহাজও এর আওতায় পড়তে পারে। ওয়াশিংটন এ উদ্যোগ মেনে নিলে মার্কিন অবরোধ কার্যকর করা আরও কঠিন হতে পারে। তবে জাহাজের পতাকা, মালিকানা নাকি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিতে ছাড় দেওয়া হচ্ছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

 

 

জনতার কন্ঠ/এস এ

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপি ক্ষমতায় আছে জোরজবরদস্তির মাধ্যমে: নাহিদ ইসলাম

হরমুজ প্রণালিতে ভারতসহ চার দেশকে কেন ছাড় দিচ্ছে ইরান?

আপডেট টাইম : ০৬:০২:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করলেও ভারত, চীন, কাতার ও ইরাককে ছাড় দিচ্ছে ইরান। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা জানিয়েছেন, এসব দেশের জাহাজ প্রণালি দিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারছে। বিনিময়ে তেহরান পাচ্ছে ওষুধ, রাজনৈতিক সমর্থন এবং সম্ভাব্য বিপুল রাজস্ব। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের মধ্যে এই ছাড় কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

 

 

 

 

ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির উপপ্রধান আমির হায়াত মুকাদ্দাম ইরানি সংবাদ সংস্থা আইএসএনএকে বলেন, এসব দেশের জাহাজ অবাধে চলাচল করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রও সেগুলোতে বাধা দিচ্ছে না।

 

 

 

 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর তেহরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। পরে জুলাইয়ে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরগুলোতে আবারও নৌ অবরোধ আরোপ করে ওয়াশিংটন। এমন পরিস্থিতিতে চার দেশকে ছাড় দেওয়ার পেছনে ইরানের স্বার্থ কী এবং মার্কিন অবরোধের মধ্যেও তাদের জাহাজ চলাচল কতটা সম্ভব; তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

 

 

হায়াত মুকাদ্দামের দাবি, ভারত থেকে ওষুধ এবং চীনের কাছ থেকে রাজনৈতিক সমর্থন পাচ্ছে ইরান। কাতারও যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতা করছে। ভারতীয় ও চীনা জাহাজ থেকে পণ্য পরিবহনের জন্য মাশুল নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। তবে কাতারের জাহাজকে বিনা মাশুলে চলাচলের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ইরাকি জাহাজের ক্ষেত্রে কোনো মাশুল নেওয়া হবে কি না, তা স্পষ্ট করেননি তিনি।

 

 

 

 

সুইডেনের লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও ইরান বিশ্লেষক রুজবেহ পারসি বলেন, নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পণ্য বিনিময় ও পাল্টা সুবিধা নেওয়া ইরানের জন্য নতুন কিছু নয়। তবে এবার বিষয়টি নিষেধাজ্ঞার ফাঁক তৈরি করে প্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবা আমদানি-রপ্তানির সুযোগ বাড়ানোর সঙ্গে যুক্ত।

 

 

 

 

 

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি রপ্তানির ওপর চারটি দেশই কমবেশি নির্ভরশীল। বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠান কেপলারের জ্যেষ্ঠ তেল বিশ্লেষক মিউয়ু শুর তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে প্রতিদিন হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে যাওয়া ১ কোটি ২৩ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৪২ শতাংশ গেছে চীনে এবং ১৩ শতাংশ ভারতে।

 

 

 

 

পারসির মতে, উপসাগরীয় তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভারত বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। অন্যদিকে ইরান নিজে যেসব ওষুধ তৈরি করতে পারে না, সেগুলোর বড় উৎপাদক ভারত। ফলে দুই দেশের মধ্যে পণ্য বিনিময়ের সুযোগ রয়েছে।

 

 

 

 

কাতার আগস্টে হরমুজ দিয়ে কোনো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন করতে পারেনি। তবে অক্টোবরে দেশটি ১৮ লাখ টন এলএনজি পাঠাতে সক্ষম হয়। একই সময়ে কাতারের অপরিশোধিত তেল পরিবহন দৈনিক ৫ লাখ ১৭ হাজার ব্যারেল থেকে কমে ১ লাখ ৯৩ হাজার ব্যারেলে নেমেছে। বিপরীতে ইরাকের পরিবহন ১৬ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেল থেকে বেড়ে ২৬ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে।

 

 

 

 

 

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখাও ভারত ও কাতারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পারসি বলছেন, ছাড়ের সুবিধা থাকলেও এর সঙ্গে রাজনৈতিক ঝুঁকিও রয়েছে।

 

 

 

মার্কিন অবরোধ কি বাধা দিতে পারবে?

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের উপকূলীয় এলাকা ও বন্দর থেকে যেসব জাহাজ প্রবেশ বা বের হবে, সব দেশের জাহাজের ক্ষেত্রেই অবরোধ প্রযোজ্য। তবে ইরানের বন্দরে না যাওয়া জাহাজ এর আওতায় পড়বে না। খাদ্য ও ওষুধের মতো জরুরি মানবিক পণ্য পরিদর্শনের পর চলাচলের অনুমতি পেতে পারে।

 

 

 

 

 

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ঘোষিত ছাড় যদি শুধু উপসাগরীয় অন্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্য করা জাহাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, তাহলে চীন ও ভারতের ইরানগামী বা ইরান থেকে আসা জাহাজও এর আওতায় পড়তে পারে। ওয়াশিংটন এ উদ্যোগ মেনে নিলে মার্কিন অবরোধ কার্যকর করা আরও কঠিন হতে পারে। তবে জাহাজের পতাকা, মালিকানা নাকি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিতে ছাড় দেওয়া হচ্ছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

 

 

জনতার কন্ঠ/এস এ