চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলায় নানা প্রতিকূলতা ও ক্ষয়ক্ষতির মধ্য দিয়েও চলতি মৌসুমের ইরি-বোরো ধান কাটা, মাড়াই ও গোলাজাতকরণ কার্যক্রম প্রায় শেষ হয়েছে। ঘন ঘন বৃষ্টিপাত, শ্রমিক সংকট ও অতিরিক্ত মজুরির চাপ সত্ত্বেও কৃষকরা সংগ্রাম করে ধান ঘরে তুলেছেন। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও উৎপাদন ব্যয়ের কারণে অনেক কৃষক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২০২৬ মৌসুমে ভোলাহাটে ইরি-বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ হাজার ১৭৫ হেক্টর জমি। এর মধ্যে উফশী জাতের ধান আবাদ করা হয়েছে ৫ হাজার ৯৩৫ হেক্টর এবং হাইব্রিড জাতের ধান ২৪০ হেক্টরে। ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪২ হাজার ৬১০ মেট্রিক টন এবং চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৮ হাজার ৪০৬ মেট্রিক টন।
সেচ ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত হয়েছে ২৪৬টি বিদ্যুতায়িত গভীর নলকূপ, ১৮০টি এসটিডব্লিউ (শ্যালো টিউবওয়েল) এবং ২০০টি এলএলপি (লো-লিফট পাম্প)। এছাড়া ২৩৬টি এলএলপির মাধ্যমে নদী ও বিভিন্ন জলাশয় থেকে ভাসান পানির সরবরাহ করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সুলতান আলী এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কৃষকরা জানান, মৌসুমের শুরুতে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ধানের ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। অনেকেই বাম্পার ফলনের আশা করেছিলেন। কিন্তু ধান পাকতে শুরু করার পরপরই ঘন ঘন বৃষ্টি, ঝড়ো হাওয়া ও কিছু এলাকায় মৃদু শিলাবৃষ্টি পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে। জমিতে পানি জমে যাওয়ায় এবং অনেক স্থানে ধানগাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়ায় ধান কাটতে বিলম্ব হয়।
দীর্ঘ সময় মাঠে পড়ে থাকায় পানিতে ভিজে অনেক ধান ও খড় নষ্ট হয়েছে। একই সঙ্গে দেখা দেয় তীব্র শ্রমিক সংকট। ফলে ধান কাটার শ্রমিকের মজুরি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে যায়। যেখানে আগে দৈনিক মজুরি ছিল ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, সেখানে মৌসুমের শেষ দিকে তা বেড়ে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছে। এছাড়া ১০০ কেজি ধান কাটার বিনিময়ে শ্রমিকদের পারিশ্রমিক ২০ কেজির পরিবর্তে ৩০ থেকে ৪০ কেজি ধান পর্যন্ত দিতে হয়েছে।
কৃষকদের অভিযোগ, প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি অতিরিক্ত শ্রমিক মজুরি তাদের ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তারা মনে করেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রমিক মজুরি নির্ধারণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে অনেক কৃষক আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেতেন।
এদিকে বৃষ্টিজনিত ক্ষতির কারণে এ বছর ফলনও প্রত্যাশার তুলনায় কম হয়েছে। কৃষকদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বিঘায় সর্বনিম্ন ফলন হয়েছে ১৩ থেকে ১৪ মণ এবং সর্বোচ্চ ফলন হয়েছে ২০ থেকে ২২ মণ (প্রতি মণ ৪০ কেজি হিসাবে)।
সংশ্লিষ্টদের ধারণা, আবহাওয়াজনিত ক্ষতি ও ফলন হ্রাসের কারণে কৃষি বিভাগের নির্ধারিত ধান ও চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না-ও হতে পারে। তবে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও অধিকাংশ কৃষক ইতোমধ্যে ধান ঘরে তুলতে সক্ষম হয়েছেন।

তাড়াশ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে স.ম আফছার আলীর প্রার্থিতা ঘোষণা
- তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ১২:৪০:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

ভারত থেকে অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত করল বিজিবি
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ.কম।
- আপডেট টাইম : ১২:৩৪:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ কর্তৃক অবৈধভাবে পুশইনের ১০টি পৃথক অপচেষ্টা সফলভাবে রুখে দিয়েছে বিজিবি।
ঝিনাইদহে বিজিবির মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ যাদবপুর সীমান্ত এলাকায় ৪-৫ জন ব্যক্তি বাংলাদেশে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবি টহলদল তাৎক্ষণিকভাবে বাধা প্রদান করে। তারা পুনরায় ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যায়।
মহেশপুরের সামন্তা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের একটি প্রিজন ভ্যানে করে প্রায় ৩০-৩৫ জন ব্যক্তিকে সীমান্ত গেট খুলে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়। বিজিবি টহলদল ও স্থানীয় জনসাধারণের তাৎক্ষণিক প্রতিরোধের মুখে বিএসএফ উক্ত ব্যক্তিদের পুনরায় ভ্যানে তুলে অন্যত্র সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।
বিজিবির খুলনা ব্যাটালিয়নের (২১ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ যশোরের গোগা ও রুদ্রপুর সীমান্ত এলাকায় কয়েকজন নারী-পুরুষকে পুশইনের উদ্দেশে সীমান্তের কাছে অবস্থান করতে দেখা যায়। বিজিবির প্রতিরোধমূলক তৎপরতার ফলে বিএসএফ তাদেরকে সেখান থেকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।
জয়পুরহাট ব্যাটালিয়নের (২০ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ কয়া ও বাসুদেবপুর সীমান্তের বিপরীতে ভারতের অভ্যন্তরে প্রায় ১০ ব্যক্তিকে একত্রিত করে পুশইনের প্রস্তুতির তথ্য পাওয়া যায়। পুশইন প্রতিরোধে বিজিবির তাৎক্ষণিক সতর্কতামূলক প্রস্তুতি গ্রহণ এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করার ফলে বিএসএফের পুশইন অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (৫৩ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তের বিপরীতে ১৪৯ ও ৭১ ব্যাটালিয়ন বিএসএফ ক্যাম্পের নিকটবর্তী ৩টি হোল্ডিং সেন্টারে এসআইআর তালিকা থেকে বাদ পড়া ৪ নাগরিককে বাংলাদেশে পুশইনের উদ্দেশে রাখা হয়েছে বলে গোয়েন্দা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সূত্রে জানা যায়।
পঞ্চগড়ের ব্যাটালিয়নের (১৮ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ রওশনপুর সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক ১ ব্যক্তিকে পুশইন করা হলে স্থানীয় জনগণ তাকে আটক করে বিজিবিকে অবহিত করে। পরবর্তীতে বিজিবি ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাকে ভারতের অভ্যন্তরে ফেরত পাঠায়।
সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ উৎমাছড়া সীমান্ত এলাকায় সন্দেহভাজন ২ ব্যক্তিকে স্থানীয় জনগণ আটক করে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করার পর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ভারতে পুশব্যাক করা হয়।

বিএনপিতে যোগদান
হাইকমান্ডের নির্দেশনা মানছে না বিএনপির তৃণমূল
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ.কম।
- আপডেট টাইম : ১১:১৪:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
দলে অনুপ্রবেশকারী ঠেকাতে হাইকমান্ডের নির্দেশনার অনেকটাই তোয়াক্কা করছেন না বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীর অনেকে। দলটির নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, একদিকে দলের অনুপ্রবেশকারী ঠেকাতে হাইকমান্ডের কঠোর নিষেধাজ্ঞা, অন্যদিকে তৃণমূল পর্যায়ে দলে যোগদানের প্রতিযোগিতা—এই দুই বিপরীত চিত্রের মুখোমুখি এখন মাঠপর্যায়ে বিএনপি। দলের হাইকমান্ড যখন দুই দফায় স্পষ্ট ঘোষণা দিয়ে বলেছে যে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী বা অরাজনৈতিক ব্যক্তিকে বিএনপিতে যোগদান করানো যাবে না। কিন্তু দেড় বছর যেতে না যেতেই স্থানীয় কোন্দল ও নিজেদের পাল্লা ভারী করতে অনেক জায়গাতেই নির্দেশনা অমান্য করে নতুন নেতাকর্মীকে বিএনপিতে ভেড়াচ্ছেন। এতে করে দলের ভাবমূর্তি সংকটের পাশাপাশি তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এ অনিয়ন্ত্রিত যোগদান দলের শৃঙ্খলাকে বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। ভবিষ্যতে দলের জন্য বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
যদিও বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীদের দাবি, কোনো চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী বা বিতর্কিত ব্যক্তিকে দলে নেওয়া যাবে না—কেন্দ্র থেকে এমন বার্তা দেওয়া আছে। তবে ক্লিন ইমেজধারী নেতাকর্মী বা অতীত কর্মকাণ্ড স্বচ্ছ থাকলে তাদের দলে নেওয়া যাবে। বিতর্কিত কাউকে দলে অনুপ্রবেশ করানো হচ্ছে না বলেও জানান তারা।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দলের নতুন সদস্যদের যোগদানের ব্যাপারে আমাদের আগের নির্দেশনা জারি রয়েছে।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট দলের নেতাকর্মীদের যোগদান বন্ধে কঠোর নির্দেশনা জারি করে বিএনপির হাইকমান্ড। দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিএনপির ওয়ার্ড থেকে জাতীয় পর্যায়ের কোনো কমিটিতে অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের কেউ বা অরাজনৈতিক কেউ যোগ দিতে পারবেন না। এ সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করতে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব স্তরের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ৯ জানুয়ারি আবারও একই বার্তা দিয়ে নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়। কিন্তু বছর যেতে না যেতেই সেই নির্দেশনা মানছেন না তৃণমূলের অনেক নেতাই। ফলে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা কৌশলে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনে যোগদান করছেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. কে এম বাবরের হাতে ফুল দিয়ে বিএনপিতে যোগদান করেছেন নিজড়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা ছনোয়ার হোসেন মোল্লা ও নুর ইসলাম শেখের নেতৃত্বে ১২০০ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী। গতকাল বুধবার সদর উপজেলার নিজড়া ইউনিয়নের জাঙ্গাল বাজার এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে তারা দল পরিবর্তনের ঘোষণা দেন।
জানা যায়, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে ছনোয়ার হোসেন মোল্লা ও নুর ইসলামের অনুসারী ১২০০ নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান দেন। নিজড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ছনোয়ার হোসেন মোল্লা। তিনি এলাকায় অত্যন্ত জনপ্রিয়। ছনোয়ার হোসেন মোল্লা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে দাঁড়ালেও তার ভোটগুলো ছিনিয়ে নেওয়া নৌকা প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া দল থেকে মূল্যায়নের পরিবর্তে অবমূল্যায়ন পাওয়ায় তারা বিএনপিতে যোগদান করেন। এ ছাড়া নৌকার প্রার্থীর বাইরে অন্য ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা বিএনপিতে যোগ দিতে পারে বলেও স্থানীয় পর্যায়ে গুঞ্জন রয়েছে।
যোগদান অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য ড. কে এম বাবর বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বিএনপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে অভিজ্ঞ ও জনপ্রিয় ব্যক্তিরা বিএনপিতে যোগদান করলে তাদের স্বাগত জানানো হবে।
নবাগত দুই নেতা ছনোয়ার হোসেন মোল্লা ও নুর ইসলাম শেখ বলেন, এলাকার উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে তারা বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন। তারা দলের আদর্শ ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে সক্রিয়ভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এর আগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের টঙ্গীতে জাতীয় পার্টির (জি এম কাদের) থানা জাতীয় পার্টির সভাপতি সাইফুল ইসলাম খান, সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক, সহসভাপতি সালাহউদ্দিন, মজিবুর রহমানসহ শতাধিক নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান করেছেন। তারা সবাই শ্রমিক দলের কার্যকরী সভাপতি মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন সরকারের হাতে ফুল দিয়ে যোগদান করেন। তারও আগে গত ২৮ জানুয়ারি কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় জিয়ারকান্দি ইউনিয়ন (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমল সরকারের নেতৃত্বে শতাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থক বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম ভূঁইয়ার হাতে ফুল দিয়ে বিএনপিতে যোগদান করেন।
বিএনপির একটি সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের মে ও জুন মাসে দলে নতুন সদস্য সংগ্রহে ফরম বিতরণ করে বিএনপি। সেই সময়ে একটি শর্ত ছিল, আওয়ামী লীগের যারা ক্লিন ইমেজ, অতীত কর্মকাণ্ড স্বচ্ছ এবং দুর্নীতি-লুটপাট বা মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত নয় তাদের দলে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে। তবে দলের এ নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গোপনে ও প্রকাশ্যে তৃণমূলের শীর্ষ নেতাদের হাত ধরে দলবদল করে বিভিন্ন ঘরানার নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগ দিচ্ছেন। এভাবে চলতে থাকলে স্থানীয় পর্যায়ে দলে অভ্যন্তরীণ কোন্দল দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কেউ কেউ।
বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (রাজশাহী বিভাগ) আমিরুল ইসলাম খান আলিম কালবেলাকে, দলে নতুন নেতাকর্মী যোগদানের ব্যাপারে এখনো নিষেধাজ্ঞার নির্দেশনা রয়েছে। আমি মনে করি, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা সবার মেনে চলা উচিত।
বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক (ফরিদপুর) সেলিমুজ্জামান সেলিম কালবেলাকে বলেন, যাদের নামে ফৌজদারি মামলা নেই, যারা কোনো অপকর্মে জড়িত নেই অথবা বিগত সময়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের জুলুম-নির্যাতন করেননি, তাদের দলে যোগদানের ব্যাপারে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। কিন্তু যারা চিহ্নিত অপরাধী ও মামলা রয়েছে তাদের যোগদানের ব্যাপারে নিষেধ রয়েছে। এ ছাড়া গোপালগঞ্জের ব্যাপারটা একটু ভিন্ন। অন্য দলের নেতাকর্মীদের যোগদানের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তাহলে কীভাবে যোগ দিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকার গঠনের পর দলে যোগদানের ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা আছে কি না, তা জানা নেই।
সুত্র: দৈনিক কালবেলা

রুদ্রকর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে চান নিরব মুন্সী
- মো. রোমান আখন্দ, শরীয়তপুর সদর প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম।
- আপডেট টাইম : ১১:০৭:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
শরীয়তপুর সদর উপজেলার রুদ্রকর ইউনিয়ন পরিষদের আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে পরিচিত মুখ মিজানুর রহমান নিরব মুন্সী। সম্প্রতি তিনি ইউনিয়নবাসীর উদ্দেশ্যে এক শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় বার্তায় এ ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, রুদ্রকর ইউনিয়নের উন্নয়নে যারা অতীতে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের অবদান ইউনিয়নবাসী আজীবন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। একই সঙ্গে যারা বিভিন্ন সময়ে পরামর্শ, সহযোগিতা ও নেতৃত্ব দিয়ে আজ পৃথিবীতে নেই, তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন তিনি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
মিজানুর রহমান নিরব মুন্সী বর্তমান ও সাবেক জনপ্রতিনিধিদের প্রতিও শুভেচ্ছা ও সম্মান প্রকাশ করেন। তিনি ইউনিয়নবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, “আমি একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে আসন্ন রুদ্রকর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে চাই। এজন্য সকলের দোয়া, সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করছি।”
তিনি আরও বলেন, তার এই আত্মপ্রকাশকে ইউনিয়নবাসী কীভাবে দেখছেন—ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক, যেকোনো মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানানোর আহ্বান জানান তিনি। জনগণের মতামত ও পরামর্শকে তিনি নিজের চলার পথের শক্তি হিসেবে দেখছেন বলেও উল্লেখ করেন।
সবশেষে নিরব মুন্সী রুদ্রকর ইউনিয়নের সকল মানুষের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করেন এবং নিজের জন্য দোয়া প্রার্থণা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সকলের সহযোগিতায় একটি সুন্দর, আধুনিক ও উন্নত রুদ্রকর ইউনিয়ন গড়ে তোলা সম্ভব হবে, ইনশাআল্লাহ।

বোরকা পরে ‘নাগীন ড্যান্স’: সমালোচনার মুখে ক্ষমা চাইলেন তিন তরুণী
- মোঃ কাজল ইসলাম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম।
- আপডেট টাইম : ১০:৫২:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় বোরকা পরে ‘নাগীন’ গানের তালে নৃত্য পরিবেশন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিন তরুণী। পরে তারা নিজেদের ভুল স্বীকার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।
জানা যায়, উলিপুরের অরণ্য রুপটন রেস্টুরেন্টের ১০ তলায় ধারণ করা ১২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, তিন তরুণী বোরকা পরে ‘নাগীন’ গানের মিউজিকের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নৃত্য পরিবেশন করছেন।
ভিডিওটি প্রকাশের পর অল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। একাংশের কাছে এটি ছিল নিছক বিনোদনের বিষয় হলেও, অন্যদিকে অনেকেই এর সমালোচনা করেন। বিশেষ করে ধর্মীয় মূল্যবোধ, পর্দা প্রথা ও বোরকার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন সমালোচকরা।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর নেটদুনিয়ায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পরবর্তীতে ওই তিন তরুণী একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন। সেখানে তারা জানান, কাউকে আঘাত করা বা বিতর্ক সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে ভিডিওটি তৈরি করা হয়নি; শুধুমাত্র বিনোদনের জন্য এটি ধারণ করা হয়েছিল।
ভিডিও বার্তায় তারা বলেন, “আমরা বিনোদন দেওয়ার জন্য নাচের ভিডিওটি করেছি। বিষয়টি নিয়ে এত বড় প্রতিক্রিয়া হবে, তা আমরা ভাবিনি। যদি আমাদের কর্মকাণ্ডে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন, তাহলে আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। সবাই আমাদের ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।”
তরুণীদের এই ক্ষমা প্রার্থনার পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নানা মতামত ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে অনেকেই ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

দেশে ফিরেই কারাবন্দি অবশেষে মুক্তির পথে সাবেক প্রধানমন্ত্রী
- আন্তর্জাতিক ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ১১:০৬:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার কারাদণ্ড রাজকীয় ক্ষমার মাধ্যমে মওকুফ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে তিনি পুরোপুরি মুক্তি পাবেন।
থাইল্যান্ডের বিচারমন্ত্রী রুত্থাফন নাওয়ারাত এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু।
বিচারমন্ত্রী জানান, রাজকীয় ক্ষমাপ্রাপ্ত বন্দিদের তালিকায় থাকসিনের নাম রয়েছে। তবে মুক্তির আগে কিছু আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে।
মঙ্গলবার রাতে থাইল্যান্ডের সরকারি রাজকীয় গেজেটে প্রকাশিত এক ঘোষণায় বলা হয়, থাইল্যান্ডের রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন রানি সুথিদা বজ্রসুধাবিমালালাক্ষণার ৩ জুনের জন্মদিন উপলক্ষে নির্বাচিত বন্দিদের রাজকীয় ক্ষমা প্রদান করেছেন।
তবে থাকসিনের আইনজীবী উইনইয়াত চার্টমনত্রী তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্তটি নিশ্চিত করতে পারেননি। তিনি রয়টার্সকে বলেন, আইনি মানদণ্ড অনুযায়ী থাকসিন রাজকীয় ক্ষমা ও মুক্তির সুবিধা পাওয়ার যোগ্য।
৭৬ বছর বয়সী ধনকুবের রাজনীতিক থাকসিন ২০২৩ সালের আগস্টে ১৫ বছরের স্বেচ্ছানির্বাসন শেষে থাইল্যান্ডে ফেরেন।
২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় স্বার্থের সংঘাত ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দেওয়া আট বছরের কারাদণ্ড কার্যকর করতেই তিনি দেশে ফিরেছিলেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তিনি দেশে ফেরার দিনই তার রাজনৈতিক মিত্রদের নেতৃত্বে পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত হয়।
দেশে ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে কারাগার থেকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সে সময় হৃদ্যন্ত্র ও বুকে জটিলতার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে রাজকীয় অনুকম্পায় তার আট বছরের সাজা কমিয়ে এক বছরে নামিয়ে আনা হয়।
হাসপাতালে ছয় মাস কাটানোর পর তিনি প্যারোলে মুক্তি পান। যদিও তার এক বছরের সাজা আনুষ্ঠানিকভাবে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকার কথা ছিল। সেই হিসাবে তার আরও তিন মাসের বেশি সময়ের সাজা বাকি ছিল।
তবে গত বছর থাইল্যান্ডের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, থাকসিনের দীর্ঘ হাসপাতাল অবস্থান পুরোপুরি ন্যায্য ছিল না। আদালত নির্দেশ দেয়, অবশিষ্ট সাজা তাকে কারা হেফাজতেই ভোগ করতে হবে। এতে তার আইনি পরিস্থিতি আবারও জটিল হয়ে ওঠে।
সর্বশেষ রাজকীয় ক্ষমার ফলে সেই অবশিষ্ট সাজাও কার্যত বাতিল হয়ে যাচ্ছে।
বাড়ছে মেট্রোরেল চলাচলের সময়
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ
- আপডেট টাইম : ১১:০০:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
যাত্রীদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাতের বেলায় মেট্রোরেলের চলাচল আরও ২০ মিনিট বাড়ানো হচ্ছে। আগামী ৭ জুন থেকে নতুন সময়সূচি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) মেট্রোরেলের দায়িত্বশীল সূত্র গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উত্তরা উত্তর ও মতিঝিল—উভয় প্রান্ত থেকে শেষ ট্রেন ছাড়ার সময় ২০ মিনিট বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও শেষ হয়েছে।
বর্তমানে সপ্তাহের সাত দিন উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে সর্বশেষ ট্রেন ছেড়ে যায় রাত ৯টা ৩০ মিনিটে এবং মতিঝিল থেকে রাত ১০টা ১০ মিনিটে। নতুন সময়সূচি কার্যকর হলে উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে শেষ ট্রেন ছাড়বে রাত ৯টা ৫০ মিনিটে এবং মতিঝিল থেকে উত্তরা অভিমুখী শেষ ট্রেন ছাড়বে রাত ১০টা ৩০ মিনিটে।
তবে সময়সীমা বাড়ানো হলেও নতুন কোনো ট্রেন সংযোজন করা হচ্ছে না। বিদ্যমান সময়সূচির ধারাবাহিকতায় ২০ মিনিট হেডওয়ে বজায় রেখেই অতিরিক্ত ট্রিপ পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, সময় বাড়ানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষামূলক কার্যক্রম ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এখন শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা। এ বিষয়ে শিগগিরই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হতে পারে।
ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, যাত্রীদের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে একটি অতিরিক্ত ট্রিপ যুক্ত করা হচ্ছে। এর ফলে কর্মজীবী মানুষসহ রাতের যাত্রীদের জন্য যাতায়াত আরও সহজ হবে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে দেশের প্রথম মেট্রোরেল। শুরুতে এমআরটি লাইন-৬-এর উত্তরা উত্তর থেকে আগারগাঁও অংশে সীমিত পরিসরে চলাচল শুরু হলেও পরে ধাপে ধাপে সব স্টেশন চালু করা হয়।
সবশেষে ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর মতিঝিল পর্যন্ত সব স্টেশনে যাত্রী ওঠানামা শুরু হলে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ সেবা চালু হয়। বর্তমানে রাজধানীর অন্যতম জনপ্রিয় গণপরিবহন হিসেবে মেট্রোরেল প্রতিদিন লাখো যাত্রীর যাতায়াতের ভরসা হয়ে উঠেছে। ভবিষ্যতে কমলাপুর স্টেশন চালু হলে এমআরটি লাইন-৬-এর পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শেষ হবে।
নিউজিল্যান্ডে ১২ ম্যাচের ম্যারাথন সিরিজ খেলবে ভারত
- ক্রীড়া ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ১০:৫৫:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
দুই দেশের ক্রীড়া সম্পর্কের ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বড় পরিসরের একটি সিরিজ আয়োজন করা হচ্ছে। এ সিরিজ খেলতে আগামী ২২ অক্টোবর থেকে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিউজিল্যান্ড সফরে থাকবে ভারত। সফরে দুই দল দুটি টেস্ট, পাঁচটি ওয়ানডে এবং পাঁচটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মুখোমুখি হবে। দুই দেশের দীর্ঘদিনের ক্রীড়া সম্পর্ক উদযাপন করতেই এই বিশেষ সিরিজের আয়োজন করা হয়েছে।
ভারতের নিউজিল্যান্ড সফর শুরু হবে টি-টোয়েন্টি সিরিজ দিয়ে। এরপর অনুষ্ঠিত হবে ওয়ানডে সিরিজ। সফরের শেষ পর্বে দুই দল দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলবে। টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে অকল্যান্ডে। আর টেস্ট দুটি অনুষ্ঠিত হবে ওয়েলিংটন ও ক্রাইস্টচার্চে।
নিউজিল্যান্ড বোর্ডের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা গ্লেন ক্রিচলি বলেছেন, ‘ক্রিকেট নিয়ে কথা বলতে গেলে ভারত সিরিজের থেকে বড় কিছু হয় না। নিউজিল্যান্ডবাসী আগে যা দেখেননি, তাই এ বার দিতে বদ্ধপরিকর আমরা। শুধু মাঠের ক্রিকেটই না, ভারতের সঙ্গে যে সংস্কৃতি এবং ইতিহাস ভাগাভাগি করে নেয় নিউজিল্যান্ড, তাও উদযাপন করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই দলের প্রতি মানুষের যে আবেগ রয়েছে তা অনবদ্য। বিরাট কোহলি, জাসপ্রীত বুমরাহর মতো ক্রিকেটারকে আমরা দেখতে পাব। সমর্থকদের নিয়ে দুর্দান্ত একটা সিরিজ দেখার অপেক্ষায় রয়েছি।’

আন্তর্জাতিক টিকিট জালিয়াতি চক্রের সন্ধান
- ক্রীড়া ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ১০:৪৯:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
বাঁশি বাজতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মনে বইছে গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের উন্মাদনা। তবে গ্যালারির টিকিট পাওয়ার এই তুমুল হাহাকার পুঁজি করে গ্যালারির বাইরে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধী চক্র।
বিশ্বকাপের টিকেট বিক্রির নামে হুবহু ফিফার লোগো, ব্র্যান্ডিং ও রং নকল করে বাজারে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে ঝাঁকে ঝাঁকে ভুয়ো ওয়েবসাইট। সাধারণ সমর্থকদের এই ডিজিটাল ফাঁদ থেকে বাঁচাতে এবং বড় আর্থিক জালিয়াতি রুখতে এবার কোমর বেঁধে মাঠে নামছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
বিশ্বখ্যাত সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ‘ইসেট’ সম্প্রতি ইন্টারনেটের দুনিয়ায় এমন বেশ কিছু নিখুঁত ক্লোন ওয়েবসাইট শনাক্ত করেছে। প্রথম দেখায় এই সাইটগুলোকে আসল ফিফার প্ল্যাটফর্ম থেকে আলাদা করা প্রায় অসম্ভব। প্রযুক্তির পরিভাষায় প্রতারকদের এই চতুর কৌশলকে বলা হচ্ছে ‘টাইপোস্কোয়াটিং’।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, জালিয়াতি চক্রটি মূল ডোমেইনের সঙ্গে ২০২৬ বিশ্বকাপ সম্পর্কিত নানা আকর্ষণীয় শব্দ জুড়ে দিয়ে পেছনের অংশে .shop, .store বা .site-এর মতো এক্সটেনশন ব্যবহার করছে। ফলে খালি চোখে এগুলোকে একদম অফিসিয়াল সাইট বলেই বিভ্রম তৈরি হচ্ছে।
প্রতারণার মূল খেলাটি শুরু হয় যখন কোনো সমর্থক টিকেট বা বিশ্বকাপের স্যুভেনির কেনার উদ্দেশ্যে এসব সাইটে নাম নিবন্ধন করেন। রেজিস্ট্রেশনের অজুহাতে শুরুতে ব্যবহারকারীদের সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেয় হ্যাকাররা। এরপর টিকেট কেনার চূড়ান্ত ধাপে গিয়ে যখন ভক্তরা সরল বিশ্বাসে ক্রেডিট কার্ডের গোপন তথ্য ও পিন নম্বর ইনপুট দেন, তখনই খালি হয়ে যায় পকেট।
বহুমাত্রিক এই জালিয়াতি টিকিয়ে রাখতে অপরাধীরা আগে থেকেই একাধিক ব্যাক-আপ সাইট তৈরি করে রাখছে, যেন একটি ব্লক বা বন্ধ হলে অন্যটি দিয়ে প্রতারণা চালানো যায়। অথচ ফুটবল অনুরাগীদের জানা থাকা দরকার, বিশ্বকাপের বৈধ টিকেট পাওয়ার একমাত্র অফিসিয়াল ঠিকানা হলো fifa.com/tickets; এর বাইরে সব পথই অবৈধ।
এদিকে খোদ টিকেটের আকাশচুম্বী দাম নিয়ে এমনিতেই বিশ্বজুড়ে ফ্যান সংগঠনগুলোর মাঝে ক্ষোভ চলছে। ‘ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপ’-এর তথ্য অনুযায়ী, গ্রুপপর্ব থেকে ফাইনাল পর্যন্ত প্রিয় দলের প্রতিটি ম্যাচ মাঠে বসে দেখতে একজন সমর্থকের পকেট থেকে গড়ে খসে যাবে প্রায় ৬ হাজার ৯০০ মার্কিন ডলার।
টিকেটের এই চড়া মূল্যের বাজারে সাধারণ ফুটবলপ্রেমীরা যাতে সাইবার অপরাধীদের শিকারে পরিণত না হন, সে জন্য ইসেট কিছু সুরক্ষামূলক পরামর্শ দিয়েছে। সংস্থাটির মতে, যেকোনো লেনদেনের আগে ওয়েবসাইটের ইউআরএল খুঁটিয়ে যাচাই করা এবং ‘অবিশ্বাস্য রকমের সস্তা’ বা লোভনীয় কোনো লিংকে ক্লিক না করাই এই মুহূর্তে নিরাপদ থাকার প্রধান উপায়।
মাঠের বল গড়ানোর আগেই এই সাইবার জালিয়াতদের রুখে দিতে ফিফা এখন তাদের আইনি ও প্রযুক্তিগত নজরদারি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বজ্রাঘাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে কিশোরসহ দুইজনের মৃত্যু
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ
- আপডেট টাইম : ১০:২১:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
চাঁপাইনবাবগঞ্জে পৃথক স্থানে বজ্রপাতের ঘটনায় এক কিশোরসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) বিকেলে সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. একরামুল হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহতরা হলেন- সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের মো. বাবুর ছেলে মো. মিরাজ (১৬) এবং সদর পৌর এলাকার শিয়ালা কলোনি গ্রামের মো. মঙ্গল হোসেনের ছেলে মো. মুনিরুল ইসলাম (৪০)।
পুলিশ ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, বিকেল পৌনে ৩টার দিকে কিশোর মিরাজ ইসলামপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের একটি আমবাগানে আম প্যাকেজিংয়ের কাজ করছিল। এ সময় হঠাৎ ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এর ঠিক কিছুক্ষণের মধ্যে, বিকেল ৩টার দিকে সদর পৌর এলাকার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শিয়ালা কলোনিতে দ্বিতীয় বজ্রপাতের ঘটনাটি ঘটে। মুনিরুল ইসলাম নিজ বাড়ির উঠানে টিউবওয়েলের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় আকস্মিক বজ্রপাতে তিনি গুরুতর ঝলসে যান। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন।
সদর মডেল থানার ওসি মো. একরামুল হোসাইন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যরা দুই ঘটনাস্থলই পরিদর্শন করেছেন। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
একই দিনে পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় দুই পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে হাসপাতাল ও গ্রামের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।

চোরাচালান বিরোধী অভিযানে বিজিবির সঙ্গে সংঘর্ষ
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ
- আপডেট টাইম : ১০:১১:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় বিজিবির সঙ্গে চোরাকারবারি চক্রের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (০৩ জুন) বিকেলে উপজেলার বায়েক ইউনিয়নের নয়নপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এসময় একে অপরের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
বিজিবির দাবি, চোরাকারবারিরা নিজেদের গাড়ি নিজেরা ভেংগে বিজিবির উপর দোষ চাপাচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুপুরের দিকে সীমান্ত এলাকা থেকে একটি হলুদ পিকআপে করে ভারতীয় চোরাইপণ্য নিয়ে আসে একটি চক্র। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা গাড়িটি আটক করে। এসময় বিজিবির সঙ্গে চোরাকারবারিরা উগ্র আচরণের মাধ্যমে বাগবিতণ্ডায় জড়ায়। একপর্যায়ে চোরাকারবারিরা দাবি করে তাদের আনা মালামাল চোরাইপন্য নয়, এগুলো সব তাদের বৈধ পণ্য । বিজিবির দাবি এগুলো সব চোরাই পণ্য। এসব বিষয় নিয়ে উভয় পক্ষের বাকবিতণ্ডা ও সংঘর্ষে জড়িয়ে গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
বিজিবির দাবি চোরাকারবারিরা নিজেরাই তাদের গাড়ির গ্লাস ভাঙচুরসহ বিজিবির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে। শেষ পর্যায়ে আটককৃত ভারতীয় পণ্য ছেড়ে দেয় বিজিবি।
সুলতানপুর ৬০ বিজিবি অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল এসএম এম শরীফুল ইসলাম জানান, স্থানীয় বিজিবি ক্যাম্পের জোয়ানরা ভারতীয় চোরাইপণ্যবাহী একটি হলুদ পিকআপ আটক করে কসবা উপজেলার নয়ন পুর বাজারে। এসময় চোরাকারবারিরা সংঘবদ্ধ হয়ে বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়।
ঘটনাস্থলের পরিবেশ জটিল হয়ে পড়লে বিজিবি চোরাই পণ্যবাহী পিকআপটি ছেড়ে দেয়। ওখানে গুলি করার মতো পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। গুলি ও রক্তপাত এড়াতে মালামালগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়।
বিষয়টি অধিকতর তদন্তসাপেক্ষে চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বিজিবি।

সৌরভ গাঙ্গুলীর নিরাপত্তা কমানোর সিদ্ধান্তে বিজেপি সরকার
- ক্রীড়া ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৯:৫৯:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
ভারতীয় ক্রিকেট দলের অন্যতম সফল সাবেক অধিনায়ক এবং ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনল রাজ্য সরকার।
সরকারি সূত্রের বরাতে পশ্চিমবঙ্গের সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়ালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নিরাপত্তার স্তর ‘জেড’ থেকে কমিয়ে ‘ওয়াই’ ক্যাটেগরিতে আনা হয়েছে। সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পর্যালোচনা বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নিরাপত্তাবলয়ে থাকা পুলিশকর্মীর সংখ্যা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি ভারতের সাবেক অধিনায়ক।
২০২৩ সালের মে মাসে তৎকালীন রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তে সৌরভের নিরাপত্তা ‘জেড ক্যাটেগরি’তে উন্নীত করা হয়েছিল। সেই সময় তার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকতেন প্রায় ৮ থেকে ১০ জন পুলিশকর্মী। শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তাই নয়, তার বাসভবনের নিরাপত্তার জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। সেই সময় রাজ্যের শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে অন্যতম ছিল ‘জেড প্লাস’ ক্যাটেগরি।
মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যপাল এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই স্তরের নিরাপত্তা পেতেন। অন্যদিকে কলকাতার মেয়র ও প্রাক্তন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের জন্য ছিল ‘জেড ক্যাটেগরি’ নিরাপত্তা। তবে পুলিশ সূত্রের দাবি, সম্প্রতি কাগজে-কলমে ‘জেড ক্যাটেগরি’ বজায় থাকলেও সৌরভের নিরাপত্তাবলয়ে কর্মীর সংখ্যা ধীরে ধীরে কমানো হয়েছিল। সর্বশেষ পর্যালোচনার পর সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তার নিরাপত্তার স্তর এক ধাপ নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সংসদ সদস্যদের জন্য কার্যপ্রণালি বিধি ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ
- আপডেট টাইম : ০৯:৫৩:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
সংসদ-সদস্যগণের জন্য ‘সংবিধান, কার্যপ্রণালি-বিধি ও সংসদীয় কার্যক্রম’ বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথ কক্ষে সংসদ-সদস্যগণের জন্য ‘সংবিধান, কার্যপ্রণালি-বিধি ও সংসদীয় কার্যক্রম’ বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মণি, বিরোধী দলের নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান, ইউএনডিপি’র আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার এবং সুইস রাষ্ট্রদূত রেতো রেংগলি।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ গণতান্ত্রিক নবযাত্রায় জনগণের প্রত্যাশা পূরণের নিমিত্ত কাজ করে যাচ্ছে। জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে জনগণের আস্থা পূরণে সংসদ-সদস্যগণ জনপ্রতিনিধিত্ব করেন।
তিনি বলেন, কার্যপ্রণালি বিধি কেবল প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি দায়িত্ব বাস্তবায়নের হাতিয়ার। তিনি বলেন, প্রস্তাব উত্থাপন ও বিল পর্যালোচনার ক্ষেত্রে সঠিক ধারণা থাকার জন্য কার্যপ্রণালি বিধির জ্ঞান থাকা আবশ্যক।
স্পিকার বলেন, সংসদের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি দায়িত্ব আইন প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদন ও নির্বাহী বিভাগকে জবাবদিহিতামূলক অন্তর্ভুক্তির আওতায় এনে সংসদ-সদস্যদের মাধ্যমে এগুলো বাস্তবায়ন করা। তিনি বলেন, সংসদ কেবল রাজনৈতিক ঐক্যমতের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয় না; গঠনমূলক বিরোধী দল ও সরকারি দলের সমান দক্ষতায় কার্যপ্রণালি বিধিতে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে জনসম্পৃক্ততা ও আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে পরিচালিত হয়।
তিনি বলেন, সংসদীয় প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণে ইউএনডিপি এবং সুইজারল্যান্ড এর ‘স্ট্রেংথেনিং ইনস্টিটিউশনস, পলিসিস অ্যান্ড সার্ভিসেস’ প্রোগ্রাম সংসদ-সদস্যদের কার্যকর অংশগ্রহণ ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে জনপ্রত্যাশা পূরণ করে যাচ্ছে।
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, জনগণের প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব নিয়েই সংসদ সদস্যগণ কর্মভার গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি তাদের অধিকার ও দায়িত্ব নির্ধারণ করেছে এবং এ দায়িত্ব পালনে তারা জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ।
চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেন, উন্নয়নের জন্য একজন সংসদ সদস্যকে নিজ নির্বাচনী এলাকার জনগণের সমস্যা শুনতে হয় এবং সেগুলোর সমাধানে কাজ করতে হয়। একইসঙ্গে সংসদীয় কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনতেও সংসদ সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হয়। এসব দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হলে সংসদকে কার্যকর করতে হবে এবং কার্যকর সংসদ পরিচালনার জন্য সংসদীয় রীতি-নীতি ও কার্যপ্রণালি বিধি সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা আবশ্যক।
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের করের টাকায় সংসদ পরিচালিত হয়। সুশাসন, অর্থনৈতিক সংস্কার ও সর্বোপরি টেকসই গণতন্ত্র কীভাবে নিশ্চিত করা যায়- এ লক্ষ্যে সংসদ পরিচালিত হবে।
উল্লেখ্য, দুই দিনব্যাপী ওরিয়েন্টেশন কোর্সের ১ম গ্রুপে আজ সংসদীয় আসন পঞ্চগড়-১ থেকে ধারাবাহিকভাবে ১০৯ বরগুনা-১, ১১১ পটুয়াখালী-১ থেকে ১১৬ ভোলা-২, ১১৮ ভোলা-৪ থেকে ১৫০ ময়মনসিংহ-৫ আসনের নির্বাচিত সংসদ-সদস্যরা এবং সংরক্ষিত নারী আসন ৩০১ মহিলা আসন-১ থেকে ৩২৪ মহিলা আসন-২৪ থেকে নির্বাচিত সংসদ-সদস্যগণ অংশগ্রহণ করেন।

৩০০ কেজি মাছ নিয়ে বিশ্বকাপ সফর, কারণ জানতে আগ্রহ সবার
- ক্রীড়া ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৯:৪৪:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
সর্বশেষ ১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপে খেলেছিল নরওয়ে। এরপর কেটে গেছে ২৮ বছর। মাঝের ছয়টি বিশ্বকাপের একটাতেও যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি তারা। সেই খরা কাটিয়ে এবারের বিশ্বকাপে নামতে যাচ্ছে হালান্ডের দল। ইতোমধ্যেই আমেরিকায় পৌঁছে গেছে নরওয়ে ফুটবল দল। কিন্তু মাঠে নামার আগেই আলোচনার তুঙ্গে এসেছে নরওয়ে ফুটবল টিম। বিশ্বকাপ খেলার জন্য সঙ্গে করে ৩০০ কেজি মাছ নিয়ে গেছে হালান্ডরা। যেখানে রয়েছে ১১৬ কেজি ব্রাউন চিজও। কেন এই আজব পথে হাঁটল নরওয়ে?
বিশ্বকাপে যাতে ফুটবলাররা নিজেদের সেরা পারফর্ম্যান্স মেলে ধরতে পারেন তার জন্য খাবারকে সমান গুরুত্ব দিচ্ছে নরওয়ে শিবির। তাই দলের সঙ্গে গেছেন দুই খ্যাতনামা শেফ অ্যারন এসপেল্যান্ড ও এইরিক তুফতে। ২০২০ সালে অলিম্পিকে সফল নরওয়ে দলের সঙ্গেও গিয়েছিলেন অ্যারন। দীর্ঘদিনের টিম শেফের সঙ্গে মিলে তারা হালান্ড-ওডেগার্ডদের জন্য বিশেষ খাদ্যতালিকা তৈরি করবেন।
কেন ৩০০ কেজি মাছ নিয়ে গেছেন হালান্ডরা? তাদের বিশ্বাস, সেরা খাবারের জন্য প্রয়োজন সেরা নরউইজিয়ান উপকরণ। তাই আমেরিকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে নরওয়ের নিজস্ব মাছ ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী। তাই অন্তত ৩০০ কেজি লাল মাছ নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শুধু মাছই নয়, ১১৬ কেজি বিখ্যাত নরউইজিয়ান ব্রাউন চিজও নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন অ্যারন এসপেল্যান্ড। তিনি বলেন, ‘আমেরিকায় দাঁড়িয়ে যদি বলতে পারা যায় ব্যবহৃত টম্যাটোটা কে চাষ করেছেন বা এই হ্যালিবাট মাছ কে ধরেছেন, সেটা দারুণ ব্যাপার। আমরা সব সময় সেরা নরউইজিয়ান উপকরণই ব্যবহার করতে চাই। বিশ্বকাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সেই খাবার পরিবেশন করতে পারাটা আমাদের কাছে গর্বের।’ তিনি আরও জানান, নরওয়ে থেকে আমেরিকায় আধা টন মাছ পাঠানো মোটেই সহজ নয়। তাই একেবারে এই ব্যবস্থা করেছেন তারা।
বিশ্বকাপে নরওয়ের সূচি ১৬ জুন ইরাকের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে নরওয়ে। তার আগে ৭ জুন মরক্কোর বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে তারা। I গ্রুপে ইরাক ছাড়াও নরওয়ের সঙ্গে আছে ফ্রান্স ও সেনেগাল।


মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম, ভোলাহাট (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম। 








































































































2 thoughts on “ক্ষয়ক্ষতি ও প্রতিকূলতার মধ্যেও ভোলাহাটে ইরি-বোরো ধান সংগ্রহ প্রায় শেষ”