সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় থানার ওসির সঙ্গে রুমিন ফারহানার তর্ক

থানায় ওসির সঙ্গে রুমিন ফারহানার বাগবিতণ্ডা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ও সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়ার মধ্যে বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সরাইল থানায় ওসির কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

 

 

 

 

তাদের এই বাগবিতণ্ডার কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

 

 

 

 

 

জানা গেছে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে রুমিন ফারহানা নেতাকর্মীদের নিয়ে থানায় ওসির রুমে বসেন। এমপি রুমিন ফারহানাকে এলাকায় নিরাপত্তা না দেওয়া, এমপির ফোন না ধরা এবং ইটভাটাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়ে সরাসরি কথা বলতেই থানায় যান বলে জানান রুমিন ফারহানার এক কর্মী।

 

ভিডিওতে দেখা গেছে, রুমিন ফারহানার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা উত্তেজিত ভাষায় ওসির সঙ্গে কথা বলছেন, ওসিও সবাইকে ভিডিও করে রাখতে বলেন। একপর্যায়ে ওসি জেলার পুলিশ সুপারকে ভিডিও কল করে অবস্থা দেখান। নেতাকর্মীরা থানায় এসে চেঁচামেচি ও হট্টগোল করেছে বলে অভিযোগ করতেও দেখা গেছে ওসিকে।

এ সময় রুমিন ফারহানা উত্তেজিত হয়ে আঙ্গুল উঠিয়ে ওসিকে বলেন, আপনি মাটি ব্যবসায়ী থেকে টাকা নেন, ইটের ভাটা থেকে টাকা নেন, আপনি নিরীহ লোকদের মামলা দিয়ে টাকা নেন।

 

 

 

ওসি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আপনি নেতাকর্মীদের থানায় মব করতে নিয়ে এসেছেন? আপনার কোনো অভিযোগ থাকলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে জানাতে পারেন। উত্তরে রুমিন ফারহানা বলেন, ওরা (নেতাকর্মী) আমার নিরাপত্তা দিচ্ছে। আমার লোক আপনাকে ফোন দিলে ধরেন না।

 

 

 

 

ওসিকে ‘আওয়ামী লীগ চোর’ সম্বোধন করে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আপনি আওয়ামী লীগ চোর ওসি। আপনার হিস্ট্রি তো আমি জানি। যাই হোক সেটা নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই।’

জবাবে ওসি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ‘আপনি তো আওয়ামী লীগের লোকজনকে সবসময় শেল্টার দেন, তাদের ধরতে গেলে আপনি নিষেধ করেন। আমার কাছে লিস্ট আছে। আপনি রাজ্জিকে ধরতে নিষেধ করেছেন।’ উত্তরে রুমিন ফারহানা বলেন, ওই ব্যক্তি (সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রাজ্জি) মূলত আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা।

 

 

 

 

এ ছাড়া থানার ভেতরে রুমিন ফারহানার সঙ্গে আসা এক অনুসারী ওসির বিরুদ্ধে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তুললেও ওসি তা অস্বীকার করেন এবং দাবি করেন যে, ওই ব্যক্তিকে শিখিয়ে থানায় আনা হয়েছে।

 

 

 

 

এসব বিষয়ে সরাইল থানার ওসি মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, এমপি একদল লোক নিয়ে এসে থানায় হইচই করে মব সৃষ্টি করেছেন।

 

 

এমপি রুমিন ফারহানা বলেন, একজন নির্বাচিত এমপির নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব পুলিশের। অন্যান্য উপজেলায় নিরাপত্তা দিচ্ছে। কিন্তু উনাকে (ওসি) ১০ বার ফোন করলেও তা ধরেন না।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৩২ কেজির বস্তু ঘিরে পাপুয়া নিউগিনিতে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের বিরোধ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় থানার ওসির সঙ্গে রুমিন ফারহানার তর্ক

আপডেট টাইম : ১২:০৪:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ও সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়ার মধ্যে বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সরাইল থানায় ওসির কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

 

 

 

 

তাদের এই বাগবিতণ্ডার কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

 

 

 

 

 

জানা গেছে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে রুমিন ফারহানা নেতাকর্মীদের নিয়ে থানায় ওসির রুমে বসেন। এমপি রুমিন ফারহানাকে এলাকায় নিরাপত্তা না দেওয়া, এমপির ফোন না ধরা এবং ইটভাটাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়ে সরাসরি কথা বলতেই থানায় যান বলে জানান রুমিন ফারহানার এক কর্মী।

 

ভিডিওতে দেখা গেছে, রুমিন ফারহানার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা উত্তেজিত ভাষায় ওসির সঙ্গে কথা বলছেন, ওসিও সবাইকে ভিডিও করে রাখতে বলেন। একপর্যায়ে ওসি জেলার পুলিশ সুপারকে ভিডিও কল করে অবস্থা দেখান। নেতাকর্মীরা থানায় এসে চেঁচামেচি ও হট্টগোল করেছে বলে অভিযোগ করতেও দেখা গেছে ওসিকে।

এ সময় রুমিন ফারহানা উত্তেজিত হয়ে আঙ্গুল উঠিয়ে ওসিকে বলেন, আপনি মাটি ব্যবসায়ী থেকে টাকা নেন, ইটের ভাটা থেকে টাকা নেন, আপনি নিরীহ লোকদের মামলা দিয়ে টাকা নেন।

 

 

 

ওসি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আপনি নেতাকর্মীদের থানায় মব করতে নিয়ে এসেছেন? আপনার কোনো অভিযোগ থাকলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে জানাতে পারেন। উত্তরে রুমিন ফারহানা বলেন, ওরা (নেতাকর্মী) আমার নিরাপত্তা দিচ্ছে। আমার লোক আপনাকে ফোন দিলে ধরেন না।

 

 

 

 

ওসিকে ‘আওয়ামী লীগ চোর’ সম্বোধন করে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আপনি আওয়ামী লীগ চোর ওসি। আপনার হিস্ট্রি তো আমি জানি। যাই হোক সেটা নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই।’

জবাবে ওসি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ‘আপনি তো আওয়ামী লীগের লোকজনকে সবসময় শেল্টার দেন, তাদের ধরতে গেলে আপনি নিষেধ করেন। আমার কাছে লিস্ট আছে। আপনি রাজ্জিকে ধরতে নিষেধ করেছেন।’ উত্তরে রুমিন ফারহানা বলেন, ওই ব্যক্তি (সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রাজ্জি) মূলত আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা।

 

 

 

 

এ ছাড়া থানার ভেতরে রুমিন ফারহানার সঙ্গে আসা এক অনুসারী ওসির বিরুদ্ধে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তুললেও ওসি তা অস্বীকার করেন এবং দাবি করেন যে, ওই ব্যক্তিকে শিখিয়ে থানায় আনা হয়েছে।

 

 

 

 

এসব বিষয়ে সরাইল থানার ওসি মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, এমপি একদল লোক নিয়ে এসে থানায় হইচই করে মব সৃষ্টি করেছেন।

 

 

এমপি রুমিন ফারহানা বলেন, একজন নির্বাচিত এমপির নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব পুলিশের। অন্যান্য উপজেলায় নিরাপত্তা দিচ্ছে। কিন্তু উনাকে (ওসি) ১০ বার ফোন করলেও তা ধরেন না।