সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ১০ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির সম্ভাবনা Logo পেকিন হাঁস পালনে লাখপতি সিংড়ার জাহিদ Logo জয়পুরহাটে বিজিবির অভিযানে প্রায় ৩ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা ও কষ্টিপাথরের মূর্তিসদৃশ বস্তু উদ্ধার Logo বদলে গেল জাতীয় চার নেতার নামে থাকা জাহাজের নাম Logo রোজা শুরুর সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ Logo সিরাজগঞ্জে উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন Logo সিরাজগঞ্জে আ.লীগ ও কৃষকলীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার Logo বাবুনগর মাদ্রাসায় যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, যোগ দেবেন মহাসম্মেলনে Logo আপনাদের পয়সা না দিলে শ্রমিকদের ৩০ না ৪০ হাজার টাকা বেতন দিতে পারতাম-মাসুদুজ্জামান মাসুদ Logo প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের সতর্কবার্তা

মানবকল্যাণের পথ দেখায় গৌতম বুদ্ধের বাণী: রিজভী

গৌতম বুদ্ধের বাণী কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা সমগ্র মানবজাতির কল্যাণের জন্য বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

 

 

 

 

তিনি বলেন, মহামতি গৌতম বুদ্ধের শিক্ষা অনুসরণ ও চর্চা করলে মানুষ শুদ্ধ, মানবিক ও বিবেকবান হয়ে উঠতে পারে। 

এতে সমাজে শান্তি, সমৃদ্ধি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় হবে।রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাসাবো ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারে শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

‘মানবিক মূল্যবোধের দৃষ্টিতে প্রবারণার গুরুত্ব’ শীর্ষক এ সভার আয়োজন করে শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দান উদযাপন পরিষদ ২০২৬ এবং বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ, ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহার।

রিজভী আহমেদ বলেন, প্রবারণা পূর্ণিমার তাৎপর্য শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

এর মধ্যে মানুষের চিত্তের শুদ্ধি, নিজের ভুল উপলব্ধি করা এবং অনুশোচনার মধ্য দিয়ে নিজেকে সংশোধনের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে।

 

 

 

তিনি বলেন, বর্ষাবাস শেষে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা নিজেদের কোনো ভুল, অন্যায় বা বিচ্যুতি হয়ে থাকলে তা স্বীকার করার মধ্য দিয়ে আত্মশুদ্ধির চর্চা করেন।
এই শিক্ষা শুধু একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের জন্য নয়, বরং সব মানুষের জন্যই তাৎপর্যপূর্ণ।

 

 

 

বিএনপির এই নেতা বলেন, একজন মানুষ সারা বছরের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করে নিজের ভুল বুঝতে পারলে এবং তা স্বীকার করতে পারলে তার মধ্যে অপরাধবোধের ভার কমে আসে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন একই ভুলের পুনরাবৃত্তি না হয়, সে বিষয়ে তিনি সতর্ক হতে পারেন। সমাজের প্রত্যেক মানুষের মধ্যে এ ধরনের আত্মসমালোচনা ও আত্মশুদ্ধির চর্চা গড়ে উঠলে তা মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে।

 

 

 

 

রিজভী বলেন, গৌতম বুদ্ধের ‘আত্মদীপ ভব’ বাণীর অর্থ নিজের অন্তরের আলোয় পথ চলা। মানুষের অন্তর পরিচ্ছন্ন হলে সেখানে আলোর উদ্ভব হয়, আর সেই আলোতেই সঠিক পথ চেনা সম্ভব হয়।

 

 

 

 

 

তিনি বলেন, ইসলাম ধর্মেও ‘সিরাতাল মুস্তাকিম’ বা সরল সঠিক পথে চলার কথা বলা হয়েছে। বিভিন্ন ধর্মের শিক্ষা ও আদর্শের মধ্যে মানবকল্যাণ, নৈতিকতা এবং সঠিক পথে চলার যে আহ্বান রয়েছে, তা মানুষকে সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে অনুপ্রাণিত করতে পারে।

 

 

 

 

 

অনুষ্ঠানের সাফল্য কামনা করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রবারণা পূর্ণিমার এই আয়োজন সবার মধ্যে আনন্দ, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধের আলো ছড়িয়ে দেবে।আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ব বৌদ্ধ সৌভ্রাতৃত্ব সংঘ, থাইল্যান্ডের সহসভাপতি, বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সভাপতি ও ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারের অধ্যক্ষ শ্রীসদ্ধর্মসাসনধ্বজ বুদ্ধপ্রিয় মহাথের।

 

 

 

 

উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃগোষ্ঠীবিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১০ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির সম্ভাবনা

মানবকল্যাণের পথ দেখায় গৌতম বুদ্ধের বাণী: রিজভী

আপডেট টাইম : ১১:০৬:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
গৌতম বুদ্ধের বাণী কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা সমগ্র মানবজাতির কল্যাণের জন্য বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

 

 

 

 

তিনি বলেন, মহামতি গৌতম বুদ্ধের শিক্ষা অনুসরণ ও চর্চা করলে মানুষ শুদ্ধ, মানবিক ও বিবেকবান হয়ে উঠতে পারে। 

এতে সমাজে শান্তি, সমৃদ্ধি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় হবে।রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাসাবো ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারে শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

‘মানবিক মূল্যবোধের দৃষ্টিতে প্রবারণার গুরুত্ব’ শীর্ষক এ সভার আয়োজন করে শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দান উদযাপন পরিষদ ২০২৬ এবং বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ, ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহার।

রিজভী আহমেদ বলেন, প্রবারণা পূর্ণিমার তাৎপর্য শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

এর মধ্যে মানুষের চিত্তের শুদ্ধি, নিজের ভুল উপলব্ধি করা এবং অনুশোচনার মধ্য দিয়ে নিজেকে সংশোধনের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে।

 

 

 

তিনি বলেন, বর্ষাবাস শেষে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা নিজেদের কোনো ভুল, অন্যায় বা বিচ্যুতি হয়ে থাকলে তা স্বীকার করার মধ্য দিয়ে আত্মশুদ্ধির চর্চা করেন।
এই শিক্ষা শুধু একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের জন্য নয়, বরং সব মানুষের জন্যই তাৎপর্যপূর্ণ।

 

 

 

বিএনপির এই নেতা বলেন, একজন মানুষ সারা বছরের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করে নিজের ভুল বুঝতে পারলে এবং তা স্বীকার করতে পারলে তার মধ্যে অপরাধবোধের ভার কমে আসে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন একই ভুলের পুনরাবৃত্তি না হয়, সে বিষয়ে তিনি সতর্ক হতে পারেন। সমাজের প্রত্যেক মানুষের মধ্যে এ ধরনের আত্মসমালোচনা ও আত্মশুদ্ধির চর্চা গড়ে উঠলে তা মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে।

 

 

 

 

রিজভী বলেন, গৌতম বুদ্ধের ‘আত্মদীপ ভব’ বাণীর অর্থ নিজের অন্তরের আলোয় পথ চলা। মানুষের অন্তর পরিচ্ছন্ন হলে সেখানে আলোর উদ্ভব হয়, আর সেই আলোতেই সঠিক পথ চেনা সম্ভব হয়।

 

 

 

 

 

তিনি বলেন, ইসলাম ধর্মেও ‘সিরাতাল মুস্তাকিম’ বা সরল সঠিক পথে চলার কথা বলা হয়েছে। বিভিন্ন ধর্মের শিক্ষা ও আদর্শের মধ্যে মানবকল্যাণ, নৈতিকতা এবং সঠিক পথে চলার যে আহ্বান রয়েছে, তা মানুষকে সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে অনুপ্রাণিত করতে পারে।

 

 

 

 

 

অনুষ্ঠানের সাফল্য কামনা করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রবারণা পূর্ণিমার এই আয়োজন সবার মধ্যে আনন্দ, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধের আলো ছড়িয়ে দেবে।আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ব বৌদ্ধ সৌভ্রাতৃত্ব সংঘ, থাইল্যান্ডের সহসভাপতি, বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সভাপতি ও ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারের অধ্যক্ষ শ্রীসদ্ধর্মসাসনধ্বজ বুদ্ধপ্রিয় মহাথের।

 

 

 

 

উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃগোষ্ঠীবিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার।