সিরাজগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ঢামেক হাসপাতালে দুদক চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে অভিযান Logo এআই যেন কোনোভাবেই মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে: রাষ্ট্রপতি Logo আশুলিয়ায় ৭০ কারখানা বন্ধ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে: শিল্প পুলিশ Logo ২০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দে এনবিআরের নির্দেশনা Logo ১০ বডিগার্ডের নিরাপত্তায় আদালতে পরীমনি Logo হকারমুক্ত ফুটপাত, নির্বিঘ্নে চলাচল করছেন পথচারীরা Logo বিতর্কিত মন্তব্যের পর ডিটিসিএর দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার মসিউর রহমান Logo হামের টিকা কেনা ও বিতরণে ব্যর্থতা: ইউনূস সরকারের দায়ের তদন্ত শুরু Logo খুলনায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Logo ল্যাব সংকটে কম্পিউটার শিক্ষা থেকে বঞ্চিত জলঢাকার সাত শতাধিক শিক্ষার্থী

যশোরে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী, ১০ মাসে আক্রান্ত ২৩১

যশোরের কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

যশোরের কেশবপুরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত ২৩১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে চলতি মাসে ৫২ জন এবং গত এক সপ্তাহে ১৮ জন শনাক্ত হয়েছেন। এছাড়াও যশোর বা খুলনায় গিয়ে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছে কেউ কেউ।

 

 

 

 

বর্তমানে কেশবপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১০ জন। এদিকে পৌরসভার বায়সা এলাকায় ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

 

 

 

 

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত কেশবপুর উপজেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩১ জনে। সাম্প্রতিক সময়ে নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতা ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে আবার ডেঙ্গুতে ভুগছে শংকর প্রসাদ দাশ নামে এক রোগী। তার চিকিৎসার জন্য খুলনায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে সোমবার।

 

কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেহেনেওয়াজ বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরামর্শ প্রদান এবং রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ডেঙ্গুর লক্ষণ, প্রতিরোধের উপায় ও সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে বাড়িঘর, আঙিনা ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা অত্যন্ত জরুরি। ফুলের টব, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত পাত্র ও অন্যান্য স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ করতে হবে। শুধু স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; এক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।’

 

 

 

জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু সন্দেহ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা ও চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত বা অতিরিক্ত দুর্বলতার মতো বিপৎসংকেত দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। সবার সম্মিলিত সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমিয়ে আনা সম্ভব।’

কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্কাউট সদস্য ও পৌরসভার কর্মকর্তাদের নিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং হাটবাজারের ড্রেন ও নালা পরিষ্কারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এছাড়া পৌরসভার পক্ষ থেকে মশা নিধনে স্প্রে করা হচ্ছে।’

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢামেক হাসপাতালে দুদক চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে অভিযান

যশোরে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী, ১০ মাসে আক্রান্ত ২৩১

আপডেট টাইম : ০১:৩৭:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

যশোরের কেশবপুরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত ২৩১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে চলতি মাসে ৫২ জন এবং গত এক সপ্তাহে ১৮ জন শনাক্ত হয়েছেন। এছাড়াও যশোর বা খুলনায় গিয়ে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছে কেউ কেউ।

 

 

 

 

বর্তমানে কেশবপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১০ জন। এদিকে পৌরসভার বায়সা এলাকায় ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

 

 

 

 

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত কেশবপুর উপজেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩১ জনে। সাম্প্রতিক সময়ে নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতা ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে আবার ডেঙ্গুতে ভুগছে শংকর প্রসাদ দাশ নামে এক রোগী। তার চিকিৎসার জন্য খুলনায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে সোমবার।

 

কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেহেনেওয়াজ বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরামর্শ প্রদান এবং রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ডেঙ্গুর লক্ষণ, প্রতিরোধের উপায় ও সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে বাড়িঘর, আঙিনা ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা অত্যন্ত জরুরি। ফুলের টব, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত পাত্র ও অন্যান্য স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ করতে হবে। শুধু স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; এক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।’

 

 

 

জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু সন্দেহ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা ও চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত বা অতিরিক্ত দুর্বলতার মতো বিপৎসংকেত দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। সবার সম্মিলিত সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমিয়ে আনা সম্ভব।’

কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্কাউট সদস্য ও পৌরসভার কর্মকর্তাদের নিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং হাটবাজারের ড্রেন ও নালা পরিষ্কারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এছাড়া পৌরসভার পক্ষ থেকে মশা নিধনে স্প্রে করা হচ্ছে।’