নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার পাঠানপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে কম্পিউটার ল্যাব না থাকায় ব্যবহারিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাত শতাধিক শিক্ষার্থী। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়টি বাধ্যতামূলক হলেও হাতে-কলমে কম্পিউটার শেখার সুযোগ না থাকায় তাদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে হতাশা।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আইসিটি বই থাকলেও কম্পিউটার ল্যাব না থাকায় বাস্তবে কম্পিউটার ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে না তারা। ফলে পাঠ্যবইয়ে শেখা বিষয়গুলো বাস্তবে প্রয়োগ করতে পারছে না শিক্ষার্থীরা।
নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, কম্পিউটার ল্যাব না থাকায় তারা ব্যবহারিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আরেক শিক্ষার্থী বলে, শহরের বিদ্যালয়গুলোতে কম্পিউটার ল্যাব থাকলেও দূরত্বের কারণে সেখানে পড়াশোনার সুযোগ তাদের নেই।
বিদ্যালয়ের আইসিটি শিক্ষক জানান, কম্পিউটার ল্যাব না থাকায় ব্যবহারিক ক্লাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বই পড়ে শিক্ষার্থীরা কিছু বিষয় শিখলেও হাতে-কলমে অনুশীলনের সুযোগ না থাকায় অনেক কিছুই তাদের কাছে অস্পষ্ট থেকে যাচ্ছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত পাঠানপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়টি একটি পুরোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তিনি ২০০২ সালে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণের সময় বিদ্যালয়টি জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। এরপর বিভিন্ন এনজিও, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি, শিক্ষক ও সরকারি সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটিকে একটি মডেল বিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন।
তিনি আরও বলেন, প্রতিবছর এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে সুনাম অর্জন করছে। বিদ্যালয়ের অনেক সাবেক শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে বিসিএস ক্যাডারসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে দায়িত্ব পালন করছেন। এবার বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মোস্তাক আহমেদ শান্তু সহকারী জজ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।
প্রধান শিক্ষক জানান, কম্পিউটার ল্যাবের পাশাপাশি বিদ্যালয়ে আরও কিছু অবকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে। এর মধ্যে বাউন্ডারি ওয়াল না থাকা, সাইকেল গ্যারেজের অভাব ও হলরুম সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখযোগ্য। উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা পেলে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত করার চেষ্টা করবেন বলেও জানান তিনি।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা পেলে বিদ্যালয়টিতে একটি আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন সম্ভব হবে বলে আশা করছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

কামরুজ্জামান (কামরুল), নীলফামারী প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম 

















