সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

ঠাকুরগাঁওয়ে ঘুরতে নিয়ে গিয়ে কিশোরীকে গণধর্ষণ, প্রেমিকসহ গ্রেপ্তার ৩

ঠাকুরগাঁওয়ে ঘুরতে নিয়ে গিয়ে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে গ-ণধ-র্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১৩ জুন) রাতে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের কালিতলা বাজারের পাশের একটি গুদামে (গোডাউন) এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় কিশোরীর প্রেমিকসহ তিন যুবককে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী ওই কিশোরীকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন, কালিতলা এলাকার তামিম ইসলাম (২২), রনি (২১) ও মাসুদ (২২)। পুলিশ জানায়, তামিম ওই এলাকার মো. আনারুলের ছেলে, রনি মিন্টুর ছেলে এবং মাসুদ মজিদুর রহমানের ছেলে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মায়া (রূপক নাম) (১৫) সঙ্গে গত প্রায় এক সপ্তাহ আগে কালিতলার আনারুলের ছেলে তামিম ইসলামের পরিচয় হয়। গতকাল শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে মায়াকে বেড়ানোর কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে আসেন তামিম। এরপর ঠাকুরগাঁও শহরের বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরি শেষে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে কালিতলা বাজারের পাশে ‘ঘষমিন্টুর গোডাউন ঘরে’ মেয়েটিকে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে তামিম ও তার দুই বন্ধু রনি ও মাসুদ মিলে রাতভর ওই কিশোরীকে পালাক্রমে ধ-র্ষণ করেন। পরবর্তীতে রাত তিনটার দিকে পুলিশের একটি নিয়মিত টহল দল ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় বিষয়টি টের পায় এবং অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করে। আজ রোববার (১৪ জুন) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে  মেয়েটিকে ওই গুদাম থেকে আশঙ্কাজনক ও অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, ঠাকুরগাঁওয়ে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন পুলিশ সদস্যরা।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান আলী জানান, আটককৃত তিনজনকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীতে বনানীতে মোহাম্মদ নাসিমের কবর জিয়ারত করলো ছাত্রলীগ

সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিমের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর কবর জিয়ারত করলো নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ।

 

 

 

রোববার (১৪ জুন) সকালে সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের উদ্যোগে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে মোহাম্মদ নাসিমের কবর জিয়ারত করে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।

 

 

 

রোববার দুপুরের পর কবর জিয়ারতের ভিডিওটি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ফেসবুক পেইজে ভাইরাল হয়।

 

 

 

ভিডিওতে দেখা যায়, সদ্য ঘোষিত সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জীবন শেখ, সহ-সভাপতি লিখন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুল ইসলাম শিবলুসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে দেখা যায়।

 

বাংলাওয়াশ থেকে রক্ষা পেল অস্ট্রেলিয়া, কনোলির লড়াকু ইনিংস

 

শেষ মুহূর্তে দারুণ রোমাঞ্চ জাগালেও জিততে পারল না বাংলাদেশ। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে আজ তৃতীয় ও শেষ একদিনের ম্যাচে টাইগারদের ১ উইকেটে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। আর তাতেই বাংলাওয়াশের লজ্জা থেকে বেঁচে গেল অজিরা।

 

 

 

শেষদিকে ম্যাচটা জমিয়ে তুলেছেন শরিফুল ইসলাম। ৬ উইকেট তুলে অজি শিবির আতঙ্ক ধরিয়েছেন এই পেসার। তবুও ২২ বছর বয়সী তরুণের ব্যাটেই ভেস্তে গেল অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করার স্বপ্ন। কুপার কনোলির দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে হার মানতে হয়েছে। শরিফুল ইসলামের ক্যারিয়ারসেরা বোলিংও শেষ পর্যন্ত পরাজয় এড়াতে পারেনি স্বাগতিকরা।

 

 

 

মিরপুরে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৫ উইকেটে ২৭৪ রানের লড়াকু সংগ্রহ গড়ে বাংলাদেশ। লিটন দাস, তাওহীদ হৃদয় ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ফিফটিতে ভর করে বড় পুঁজি পায় স্বাগতিকরা। তবে সেই সংগ্রহও যথেষ্ট হয়নি কনোলির দৃঢ় প্রতিরোধের সামনে। ৩ বল ও এক উইকেট হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া।

 

ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। প্রথম ওভারেই সৌম্য সরকারকে হারানোর পর তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি বড় হয়নি। ৬১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে স্বাগতিকরা।

 

সেই সংকট থেকে দলকে টেনে তোলেন লিটন ও তাওহীদ হৃদয়। চতুর্থ উইকেটে ৯২ রানের জুটি গড়ে ইনিংসের ভিত গড়ে দেন তারা। ইনিংসের মাঝপথে চোটে মাঠ ছাড়লেও পরে ফিরে এসে মিরপুরে নিজের প্রথম ওয়ানডে ফিফটি পূর্ণ করেন লিটন। ৫৮ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।

 

 

অন্যদিকে হৃদয় খেলেন ৮৩ রানের দারুণ ইনিংস। পরে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতও দ্রুতগতির অর্ধশতক তুলে নেন। তার অপরাজিত ৫৬ রানের ইনিংসে ২৭৪ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ।

 

 

 

কিন্তু রান তাড়ায় শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল অস্ট্রেলিয়া। তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমানকে চড়াও হয়ে প্রথম চার ওভারেই ৩৮ রান তুলে নেয় সফরকারীরা। তখনই আক্রমণে এসে ম্যাচের মোড় ঘোরানোর চেষ্টা করেন শরিফুল।

 

 

 

নিজের প্রথম ওভারেই জশ ইংলিস ও ম্যাট রেনশোকে ফিরিয়ে দেন এই বাঁহাতি পেসার। এক ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। পরে তাসকিন আহমেদ অ্যালেক্স ক্যারিকে ফিরিয়ে দিলে ম্যাচে ফেরার আশা দেখে বাংলাদেশ।

 

 

 

তবে সেই আশা ধীরে ধীরে নিভিয়ে দেন কুপার কনোলি। মার্নাস লাবুশেনকে সঙ্গে নিয়ে ৬৪ রানের জুটি গড়েন তিনি। লাবুশেন ধীরগতিতে খেললেও কনোলি ছিলেন আগ্রাসী। চার-ছক্কায় রানের চাকা সচল রেখে ৫১ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন ২২ বছর বয়সী এই ওপেনার।

 

 

 

অর্ধশতকের পর আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন কনোলি। লাবুশেন ফিরলেও থামেননি তিনি। ক্যামেরন গ্রিনকে নিয়ে আবারও জুটি গড়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখেন। একপর্যায়ে মাত্র ৮৭ বলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন এই তরুণ ব্যাটার।

 

 

 

গ্রিন ২৭ রান করে ফিরলেও ততক্ষণে ম্যাচ অস্ট্রেলিয়ার মুঠোয়। পরে পাকিস্তানের বিপক্ষে অভিষিক্ত ১৯ বছর বয়সী অলিভার পিকও ২৭ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন।

 

 

 

শেষদিকে অবশ্য একাই লড়াই চালিয়ে যান শরিফুল। পরপর দুই বলে অলিভার পিক ও জাভিয়ার বার্টলেটকে ফিরিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ফাইফারের দেখা পান তিনি। এরপর আরও একটি উইকেট নিয়ে ম্যাচে মোট ৬ উইকেট শিকার করেন বাঁহাতি এই পেসার।

 

 

 

তবে শরিফুলের দুর্দান্ত বোলিংয়ের দিনে অন্য প্রান্ত থেকে প্রয়োজনীয় সমর্থন পাননি তিনি। ফলে ৪৯.৩ ওভারেই ৯ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া।

 

 

 

বাংলাদেশের হয়ে শরিফুল ইসলাম একাই নেন ৬ উইকেট। এছাড়া তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান ও শেখ মেহেদী হাসান একটি করে উইকেট শিকার করেন।

 

জয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করল বাংলাদেশ

জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ও শারমিন আক্তারের ব্যাটে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছে বাংলাদেশ। নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ডাচদের ৬ উইকেটে হারিয়েছে বাঘিনীরা।

 

 

বার্মিংহামে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় নেদারল্যান্ডস। যদিও আগে ব্যাটিংয়ের ভাবনা ছিল বাংলাদেশের। তবে বাংলাদেশের বোলাররা চ্যালেঞ্জ নিয়ে খারাপ করেননি। প্রথম ওভারে ভালো শুরু পেলেও ডাচরা দ্বিতীয় ওভারেই প্রথম উইকেট হারিয়ে ফেলে। পাওয়ারপ্লেতে হারায় আরও একটি উইকেট। হিদার সিগার্স ১৩ বলে ১৬ ও ফেবে মোলকেনবার ৭ বলে ১১ রান করে বিদায় নিলে দলের হাল ধরেন অধিনায়ক বাবেট ডি লিড।

 

 

দেখেশুনে খেলে তিনি তুলে নেন অর্ধশতক। যদিও অন্য ব্যাটারদের চাপে রেখেছিলেন বাঘিনীরা। আর কেউই যেখানে বিশের ঘরে যেতে পারেননি, সেখানে অধিনায়ক একাই ৪৫ বলে পাঁচটি চারে ৫০ রান করেন।

তা সত্ত্বেও ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৩৯ রানের লড়াকু সংগ্রহ জড়ো করে নেদারল্যান্ডস। বাংলাদেশের পক্ষে মারুফা আক্তার দুটি এবং ফারিহা তৃষ্ণা, সানজিদা আক্তার মেঘলা, রাবেয়া খান ও ঋতু মণি একটি করে উইকেট শিকার করেন।

জবাব দিতে নেমে ৭..৪ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৬৭ রান জড়ো করে বাংলাদেশ। এই ৬৭ রানের ৫০ রানই ছিল জুয়াইরিইয়া ফেরদৌসের। মাত্র ৩৩ বলে ৫০ রান করেন, হাঁকান সাতটি চার ও দুটি ছক্কা। ছক্কায় অর্ধশতক হাঁকানোর পরপরই বিদায় নেন। এরপর অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ক্রিজে নেমেই গোল্ডেন ডাকের শিকার হন। ৮ম ওভারে পরপর দুই উইকেট হারানো বাংলাদেশ ১১তম ওভারে দিলারা আক্তার (২৩ বলে ২৬) ও সোবহানা মোস্তারিকেও হারায়।

তবে শারমিন আক্তার ও স্বর্ণা আক্তার ঠাণ্ডা মাথায় চাপ জয় করেন। শারমিন ৩২ বলে ৩৭ ও স্বর্ণা ১৭ বলে ১৮ রান করে অপরাজিত থাকেন। ৫টি করে বল ও উইকেট হাতে রেখে জিতে যায় বাংলাদেশ। দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটি ছিল ৫৬ রানের।

‘অফিস রোমান্স’ দিয়ে ক্যারিয়ারে নতুন উত্থান জেনিফারের

দীর্ঘদিন পর আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন হলিউড তারকা জেনিফার লোপেজ । তার অভিনীত নতুন রোমান্টিক কমেডি সিনেমা ‘অফিস রোমান্স’ মুক্তির পরই নেটফ্লিক্সের বৈশ্বিক দর্শক তালিকায় এক নম্বরে উঠে এসেছে। মুক্তির প্রথম সপ্তাহে সিনেমাটি প্রায় ২ কোটি ৯ লাখ ভিউ অর্জন করেছে, যা এটিকে সপ্তাহের সবচেয়ে বেশি দেখা চলচ্চিত্রে পরিণত করেছে।

 

 

সিনেমাটিতে লোপেজ অভিনয় করেছেন জ্যাকি ক্রুজ নামের একটি এয়ারলাইন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীর চরিত্রে। কর্মক্ষেত্রে প্রেম বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া এই করপোরেট প্রধানের জীবন বদলে যায় যখন প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন নতুন আইন উপদেষ্টা ড্যানিয়েল ব্ল্যাঞ্চফ্লাওয়ার। চরিত্রটিতে অভিনয় করেছেন ব্রেট গোল্ডস্টেইন। দুজনের মধ্যে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠা সম্পর্ককে কেন্দ্র করেই এগিয়ে যায় গল্প।

 

 

গল্পের পরিণতি অনেকটাই অনুমেয় হলেও দর্শকদের কাছে সিনেমাটি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে মূলত লোপেজ ও গোল্ডস্টেইনের প্রাণবন্ত রসায়নের কারণে। সমালোচকদের কেউ কেউ সিনেমাটিকে প্রচলিত রোমান্টিক কমেডির গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ বলে মন্তব্য করলেও দর্শকদের বড় একটি অংশ এটিকে উপভোগ্য বিনোদন হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘অফিস রোমান্স’-এর এই সাফল্য জেনিফার লোপেজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার কয়েকটি সিনেমা প্রত্যাশিত সাড়া পায়নি। ফলে নতুন এই সিনেমার মাধ্যমে তিনি আবারও প্রমাণ করলেন যে রোমান্টিক কমেডি ঘরানায় তার জনপ্রিয়তা এখনো অটুট। নেটফ্লিক্সের বৈশ্বিক চার্টের শীর্ষে উঠে সিনেমাটি লোপেজের ক্যারিয়ারে নতুন গতি এনে দিয়েছে।

তবে জনপ্রিয়তার পাশাপাশি সমালোচনাও রয়েছে। কিছু সমালোচক মনে করছেন, কর্মক্ষেত্রের প্রেম নিয়ে সিনেমাটি নতুন কোনো বার্তা দেয়নি। তবু দর্শকদের আগ্রহ এবং নেটফ্লিক্সে শীর্ষস্থান দখল করে নেওয়া প্রমাণ করছে, ‘অফিস রোমান্স’ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত স্ট্রিমিং কনটেন্টগুলোর একটি।

ড্র দিয়ে শুরু, ট্রফি দিয়ে শেষ—বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গল্প

বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট ব্রাজিলের মিশন শুরু হয়ে গেছে। তবে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই মরক্কোর সঙ্গে ড্র করেছে সেলেসাওরা। ফলে হেক্সা মিশন নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে কিছুটা শঙ্কা তৈরি হলেও ইতিহাস বলছে, এমন শুরু কোনোভাবেই শেষ কথা নয়। বরং অতীতের পরিসংখ্যানই দিচ্ছে সেলেসাওদের বড় স্বস্তি।

 

 

বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে উদ্বোধনী ম্যাচের চাপ সব সময়ই বেশি থাকে। প্রথম ম্যাচে পূর্ণ তিন পয়েন্ট না পেলে অনেকেই সেটিকে অশনি সংকেত হিসেবে দেখেন। তবে ফুটবল ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, শুরুটা ধাক্কায় হলেও শেষটা হতে পারে গৌরবের।

 

 

শুরুর ধাক্কা সামলে যারা বিশ্বজয় করেছে, এক নজরে দেখে নেওয়া যাক সেই সোনালী ইতিহাস:

১. ইংল্যান্ড (১৯৬৬) নিজেদের মাটিতে আয়োজিত ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড তাদের উদ্বোধনী ম্যাচে উরুগুয়ের মুখোমুখি হয়েছিল। ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়। ঘরের মাঠের দর্শকদের প্রথম ম্যাচে হতাশ করলেও স্যার আলফ রামসের শিষ্যরা পরে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায়। গ্রুপ পর্ব পার করে নকআউটে বাজিমাত করে তারা। শেষ পর্যন্ত ফাইনালে পশ্চিম জার্মানিকে ৪-২ গোলে হারিয়ে ফুটবল ইতিহাসের একমাত্র বিশ্বকাপটি ঘরে তোলে থ্রি-লায়ন্সরা।

২. ইতালি (১৯৮২) বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে নাটকীয় ও অবিশ্বাস্য ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পটি ইতালির। ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে তারা একটি ম্যাচেও জিততে পারেনি! পোল্যান্ড (0-0), পেরু (১-১) এবং ক্যামেরুন (১-১ )—তিনটি ম্যাচই ড্র করে কেবল গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে কোনোমতে পরের রাউন্ডে উঠেছিল তারা। প্রথম ম্যাচের সেই ড্রয়ের ধাক্কা ভুলে নকআউট পর্বে পা রাখতেই খোলস বদলে ফেলে আজ্জুরিরা। একে একে আর্জেন্টিনা, দুর্দান্ত ব্রাজিল ও ফাইনালে পশ্চিম জার্মানিকে ৩-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় তারা।

প্রথম ম্যাচে ধাক্কা খেয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আরও কিছু উদাহরণ: প্রথম ম্যাচে পয়েন্ট হারিয়েও যে বিশ্বকাপ জেতা যায়, তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ স্পেন (২০১০) এবং আর্জেন্টিনা (২০২২)। এই দুটি দল ড্র নয়, বরং নিজেদের প্রথম ম্যাচে যথাক্রমে সুইজারল্যান্ড (০-১) এবং সৌদি আরবের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারাই ট্রফি উঁচিয়ে ধরে।

 

 

এই বাস্তবতা মাথায় রাখলে ব্রাজিলের বর্তমান পরিস্থিতি খুব একটা হতাশার নয়। মরক্কোর বিপক্ষে ড্র দিয়ে শুরু করলেও সামনে পুরো টুর্নামেন্ট পড়ে আছে। ভুলগুলো শুধরে নিয়ে ছন্দে ফিরতে পারলেই হেক্সা মিশন এখনও অনেকটাই সম্ভব।

 

 

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম ম্যাচের ফলাফল নয়, আসল বিষয় হলো দল কত দ্রুত নিজেদের গুছিয়ে নিতে পারে। ব্রাজিল সেই পরীক্ষা এখনই দিচ্ছে।

আগ্নেয়গিরিতে দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল ইয়েমেনের ‘স্পাইডার-ম্যান’-এর

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ইয়েমেনের স্পাইডার-ম্যান’ নামে পরিচিত আল কা’কা বিন আনতার আগ্নেয়গিরির গহ্বরে পড়ে নিহত হয়েছেন। দড়ি বা নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়া পাহাড়ে আরোহণের সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

 

 

 

রোববার (১৪ জুন) গালফ নিউজের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ৩০ বছর বয়সী আল কা’কা বিন আনতার গত শুক্রবার ইয়েমেনের আল-ধালে প্রদেশের হারাধাত দামত আগ্নেয়গিরির খাড়া দেয়াল বেয়ে উঠছিলেন। এ সময় হঠাৎ তার হাত ফসকে গেলে তিনি প্রায় ১২০ মিটার গভীর পড়ে যান।

 

 

 

স্থানীয় প্রশাসন ও গণমাধ্যমের তথ্যমতে, দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজ শুরু হলেও দুর্গম পরিবেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে অভিযান জটিল হয়ে পড়ে।

প্রায় ২৪ ঘণ্টাব্যাপী উদ্ধার অভিযানের পর শনিবার সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা তার মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হন। উদ্ধারকর্মীদের খাড়া ভূখণ্ড, দুর্গম অবস্থান এবং গহ্বরের ভেতরের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের মধ্যে কাজ করতে হয়েছে।

 

আল কা’কা বিন আনতার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাহসী অভিযানের ভিডিও প্রকাশ করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। ইয়েমেনের বিভিন্ন পাহাড়, খাড়া পাথুরে দেয়াল ও আগ্নেয়গিরি এলাকায় তার ঝুঁকিপূর্ণ আরোহণের ভিডিও হাজারো দর্শককে আকৃষ্ট করেছিল।

 

 

বিশেষ করে দড়ি, হারনেস বা অন্য কোনো নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই খাড়া পাহাড়ে ওঠা এবং আগ্নেয়গিরির গহ্বরে নামার ভিডিও তাঁকে ‘ইয়েমেনের স্পাইডার-ম্যান’ হিসেবে পরিচিতি এনে দেয়।

 

 

 

স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, মরদেহ উদ্ধারে বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছিল। তাদের সঙ্গে আলো ও পানি-উদ্ধার সরঞ্জামও ব্যবহার করা হয়, যাতে দুর্গম স্থানে পৌঁছানো সম্ভব হয়।

 

 

 

তার মৃত্যুর খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকের ছায়া নেমে আসে। অনুসারীরা তার সাহস, দুঃসাহসিক মানসিকতা ও অভিযানের প্রতি ভালোবাসার প্রশংসা করেছেন।

 

 

‘নেইমারদের অপহরণ করবে ভিনগ্রহবাসী’,নারী গণকের ভবিষ্যদ্বাণী

২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলে ব্রাজিলের শুরুটা মোটেই আশানুরূপ হয়নি। গ্রুপ ‘সি’- এর প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট হারিয়েছে সেলেসাওরা।

 

 

মাঠের এই নড়বড়ে পারফরম্যান্সের মধ্যেই এবার মাঠের বাইরে থেকে এলো এক অদ্ভুত ও আতঙ্কের খবর। ব্রাজিলেরই এক নারী ভবিষ্যদ্বক্তা (গণক) দাবি করেছেন, আগামী ২৪ জুন স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালীন ভিনগ্রহবাসীরা (এলিয়েন) আক্রমণ করতে পারে, যা ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অভিযানকে পুরোপুরি বিপর্যস্ত করে দেবে!

 

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অনুসারীদের উদ্দেশে কান্নাভেজা কণ্ঠে ভো বাহিয়ানা নামের ওই নারী গণক বলেন, বন্ধুরা, আমার এটা বলতেই হচ্ছে যে, আমি স্বপ্নে দেখেছি ভিনগ্রহবাসীরা মিয়ামির স্টেডিয়ামে হানা দিয়েছে। আমি পরিষ্কার দেখেছি, প্রথম যে মহাকাশযানটি এসেছিল, সেটি মাঠ থেকে খেলোয়াড়দের অপহরণ করে নিয়ে যাচ্ছে। এমনকি যানটি যখন আকাশের দিকে উঠছিল, তখন আমিও সেটির ভেতরে বন্দি ছিলাম। এর কিছুক্ষণ পর আরও বিশাল একটি বড় আকৃতির মহাকাশযান আসে এবং স্টেডিয়ামে থাকা হাজার হাজার দর্শককে তুলে নিয়ে যায়। নিজের এই দুঃস্বপ্ন নিয়ে রীতিমতো আতঙ্কিত বাহিয়ানা।

তিনি আরও বলেন, ‘চারিদিকে শুধু মানুষের চিৎকার, কান্না আর হাহাকার দেখেছি আমি। সত্যি বলতে, আমি ভীষণ ভয় পেয়েছি কারণ এই একই স্বপ্ন আমি দ্বিতীয়বারের মতো দেখলাম। আমার মন বলছে, আগামী ২৪ জুন মিয়ামির ওই স্টেডিয়ামে খুব ভয়ানক কিছুই ঘটতে যাচ্ছে।’

উল্লেখ্য, আগামী ২৪ জুন দিনগত রাত ৪টায় যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে গ্রুপ পর্বের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে ব্রাজিল ও স্কটল্যান্ডের।

আগের ম্যাচগুলোতে গ্যালারিতে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় থাকায়, এই ম্যাচটিতেও স্টেডিয়ামে কানায় কানায় দর্শক পূর্ণ থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে মাঠের ফুটবলের চেয়ে এখন এই রহস্যময় ও অদ্ভুত ভবিষ্যদ্বাণী নিয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা বেশি চলছে।

‘ফার্মগেট’ ইস্যুতে চাপের মুখে আদালতে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা ‘ফার্মগেট’ কেলেঙ্কারি নিয়ে তার বিরুদ্ধে শুরু হতে যাওয়া পার্লামেন্টের অভিশংসন তদন্ত প্রক্রিয়া ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। শনিবার (১৩ জুন) এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

 

 

শুক্রবার দাখিল করা আদালতের নথি অনুযায়ী, রামাফোসা চান তার বিরুদ্ধে গঠিত স্বাধীন তদন্ত প্যানেলের অসদাচরণের অভিযোগ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা পৃথক মামলার নিষ্পত্তি আগে হওয়ার পরই কেবল অভিশংসন প্রক্রিয়া নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক।

 

 

‘ফার্মগেট’ কেলেঙ্কারির সূত্রপাত ২০২০ সালে। ওই সময় রামাফোসার খামারের একটি সোফার ভেতরে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ চুরি হয়ে যায়। প্রেসিডেন্টের দাবি, চুরি হওয়া প্রায় ৫ লাখ ৮০ হাজার ডলার মহিষ বিক্রির অর্থ ছিল। তবে এত বড় অঙ্কের টাকা কেন আসবাবপত্রের ভেতরে রাখা হয়েছিল এবং তা যথাযথভাবে ঘোষণা করা হয়েছিল কি না এ নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন ওঠে।

রামাফোসা শুরু থেকেই কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

গত মাসে আফ্রিকার সাংবিধানিক আদালত রায় দিয়ে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করে। আদালত জানায়, ২০২২ সালে পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত ভোটের মাধ্যমে তদন্ত প্রক্রিয়া বন্ধ করার সিদ্ধান্তটি বৈধ ছিল না।

রামাফোসার বিরুদ্ধে স্বাধীন প্যানেলের প্রতিবেদনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা মামলার শুনানি আগামী ২ থেকে ৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

 

 

বর্তমানে ৭৩ বছর বয়সী রামাফোসা ২০১৮ সাল থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার দ্বিতীয় মেয়াদ ২০২৯ সালে শেষ হওয়ার কথা।

 

 

দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই এবং ক্ষমতাসীন আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস (এএনসি)-এর ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা রামাফোসার জন্য ‘ফার্মগেট’ কেলেঙ্কারি বড় ধরনের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

 

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, অভিশংসন প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত পার্লামেন্টে ভোটাভুটিতে গড়ালেও রামাফোসা তা থেকে রক্ষা পেতে পারেন। তার দল এএনসি এবং জোটসঙ্গীদের সমর্থন থাকায় তাকে অপসারণ করা কঠিন হবে বলে মনে করছেন তারা।

অতি দ্রুতই বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইতে গ্রেপ্তার হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অতি দ্রুতই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলেও জানান তিনি। 

রোববার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। 

সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ শুরু করে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১১ এপ্রিল ২০২৫ ইন্টারপোল বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে। 

 

 

 

তিনি আরও বলেন, গত ১২ জুন ২০২৬ সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডাইরেক্টরেট জেনারেল অব ফেডারেল পুলিশ (এনসিবি আবুধাবি) একটি ইমেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে নিশ্চিত করেছে যে, বেনজীর আহমেদকে সে দেশের পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে এবং তিনি বর্তমানে সেখানে আটক আছেন। 

 

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদকে জানান, ইউএই ফেডারেল ল-এর ৩৯ (২০০৬) ধারা অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ বা এক্সট্রাডিশন রিকোয়েস্ট পাঠাতে হবে। 

 

 

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা ও ১৯৭৩ সালের বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডারের বিভিন্ন ধারায় মামলা রয়েছে।

 

 

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এনসিবি ঢাকা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করছে। শিগগিরই কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। 

 

 

বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারকে আইনের শাসনের মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে আমরা বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে পারছি। অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন—এই বার্তাটি আমরা জাতিকে দিতে চাই। 

 

 

বিবৃতি চলাকালীন সংসদে উপস্থিত সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা টেবিল চাপড়ে এই সংবাদকে স্বাগত জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর সংসদ কক্ষজুড়ে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালও এ সময় সন্তোষ প্রকাশ করেন। 

 

 

আমাদের এইচএসসি সিঙ্গাপুরের ষষ্ঠ শ্রেণির সমান

বাংলাদেশের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) শিক্ষাকে সিঙ্গাপুরে ষষ্ঠ শ্রেণির সঙ্গে তুলনা করা হয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। বিগত ২০ বছরের অবহেলায় দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার এমন শোচনীয় দশা হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

 

 

রোববার (১৪ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

 

 

বক্তব্যের শুরুতেই নতুন বাজেটকে জনগণবান্ধব এবং আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে উল্লেখ করে ববি হাজ্জাজ বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেই পরিষ্কার ছিল যে শিক্ষা খাতকে জাতির সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হবে। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান এবং অর্থমন্ত্রী প্রথম থেকেই পরিষ্কার করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় দেশ ও জাতির সামনে এবারই প্রথম দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় বিনিয়োগের অংশ হিসেবে সামগ্রিক শিক্ষা খাতে সবচেয়ে বড় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বিশেষ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা খাতকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে একে পুরোপুরি ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিগত ২০ বছরের শিক্ষা ব্যবস্থার সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষায় অরাজকতার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষায় অনেক শিক্ষার্থী পাস পর্যন্ত করতে পারে না। সিঙ্গাপুরে আমাদের দেশের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) লেভেলকে তাদের ষষ্ঠ শ্রেণির সমমান হিসেবে তুলনা করা হয়।

এ অবস্থা থেকে উত্তরণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রাথমিক শিক্ষার কারিকুলাম, শিক্ষকদের মানোন্নয়ন, অবকাঠামো এবং প্রশাসনসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংস্কারের হাত দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার যখন সঠিক শিক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে প্রাথমিকে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণি থেকেই খেলাধুলা, স্পোর্টস এবং কালচার বা সাংস্কৃতিক কারিকুলাম অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা শুরু করেছে, তখন বিরোধীদের কেউ কেউ এ নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা চালাচ্ছেন। অথচ এই বিরোধী শিবিরেরই অনেকে অতীতে নারী সংসদ সদস্যদের নিয়ে এমন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন যা ভদ্র সমাজে উচ্চারণ করা যায় না। একই নোংরা মনোভাব থেকে তারা এখন অপপ্রচার চালাচ্ছেন যে সাংস্কৃতিক শিক্ষা নাকি সন্তানদের ভুল পথে নিয়ে যাবে।

 

 

অতীতে শিক্ষা খাতে জিডিপির ১ দশমিক ৩ বা ১ দশমিক ৪ শতাংশ বরাদ্দ থাকলেও এবার তা বৃদ্ধি করে ২ শতাংশ করা হয়েছে এবং আগামী দিনগুলোতে এটি পর্যায়ক্রমে ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি নীতিতে পরিবর্তনের আভাস

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলির দায়িত্ব এখন থেকে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

 

 

রোববার (১৪ জুন) রাজধানীর শেরাটন হোটেলে ইউনিসেফ আয়োজিত এক কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।

 

 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে গঠিত কমিটির কাছে শিক্ষকরা বদলির আবেদন জমা দেবেন। সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো প্রতি মাসে একবার সভা করে আবেদনগুলো পর্যালোচনা করবে এবং বদলি অনুমোদন দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

তিনি বলেন, শিক্ষকদের বদলি ঘিরে বিগত দিনে বড় একটা সিন্ডিকেট বা করাপশনের (দুর্নীতি) জায়গা তৈরি হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে এটাতে নজর দিয়েছেন। আমাদের শিক্ষামন্ত্রী এখানে আছেন, আমরা সবাই মিলে নতুন পলিসি গ্রহণ করেছি যে প্রাথমিকে…মাধ্যমিকেও; কিন্তু শুধু প্রাথমিক নিয়ে কথা বলবো। প্রাথমিকে টিচার্স ট্রান্সফার (শিক্ষক বদলি) এটা লোকালাইজ (স্থানীয়) করে দেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, লোকাল টিম গঠন করা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে ইউএনওর নেতৃত্বে সেখানে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষার অফিসার থাকবেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার থাকবেন। এরকম চারজন সদস্য ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। তারা মাসে একবার বসবেন। ওই মাসে যতগুলো রিকোয়েস্ট (আবেদন) আসবে, সেগুলো রিভিউ করে তারা সিদ্ধান্ত নেবেন যে ট্রান্সফার অ্যালাউ (বদলি অনুমোদন) করবেন, কি করবেন না।

তিনি আরও বলেন, ‘সেইম (একই) জিনিসটা ডিসির অধীনে জেলা পর্যায়েও করা হয়েছে। বিভাগীয় কমিশনারের আন্ডারে ডিভিশন লেভেলে করা হয়েছে। এটা করে করাপশনের (দুর্নীতি) সব জায়গাগুলোকে আমরা বন্ধ করে দিতে চাই’।

 

 

‘ভ্যালিডেশন ওয়ার্কশপ অন দ্য বাংলাদেশ এডুকেশন সেক্টর অ্যানালাইসিস (ইএসএ)’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এতে শিক্ষাবিদ ও ইউনিসেফের কান্ট্রি ডিরেক্টরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

 

 

আগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষকদের বদলির জন্য নির্দিষ্ট সময় ঠিক করা ছিল। সে সময়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে আবেদন চাওয়া হতো। প্রথমে উপজেলা থেকে উপজেলা; তারপর জেলা থেকে জেলা এবং বিভাগ থেকে বিভাগ পর্যায়ে পর্যায়ক্রমে আবেদন নেওয়া হতো।

 

 

অনলাইনে এসব আবেদন করার পর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তা যাচাই করে ফরোয়ার্ড করতেন। পরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হয়ে তা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে আসতো। অধিদপ্তর চূড়ান্ত অনুমোদন দিলে বদলি অনুমোদিত হতো।

দীর্ঘ ১১ বছর পর লিটনের ব্যাটে এলো প্রথম ফিফটি

মিরপুরেই অভিষেক হয়েছিল। ২০১৫ সালে ভারতের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডের সেই ম্যাচে মাত্র ৮ রান করে ফিরেছিলেন লিটন দাস। এরপর কেটে গেছে ১১ বছর। জাতীয় দলের জার্সিতে অসংখ্য স্মরণীয় ইনিংস খেলেছেন, সেঞ্চুরিও করেছেন একাধিক। কিন্তু মিরপুরের ওয়ানডে ক্রিকেট যেন বারবারই তাকে আটকে রেখেছিল এক অদৃশ্য দেয়ালে।

 

 

অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান হলো। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে বহু প্রতীক্ষিত ফিফটির দেখা পেয়েছেন লিটন। ইনিংসের এক পর্যায়ে পায়ের পেশিতে টান লেগে ৪৮ রানে মাঠ ছাড়লেও শেষ দিকে আবার ব্যাট হাতে ফেরেন তিনি। ৪৯তম ওভারের শেষ বলে দুই রান নিয়ে স্পর্শ করেন অর্ধশতকের মাইলফলক।

 

 

শেষ পর্যন্ত ৫৮ রানে অপরাজিত থাকেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার। মিরপুরে এটা যেমন লিটনের প্রথম ফিফটি, তেমনি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও প্রথম। শেরেবাংলায় ওয়ানডে ক্রিকেটে লিটনের পরিসংখ্যান ছিল বিস্ময়করভাবে হতাশাজনক। এই ম্যাচের আগে শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ২৮ ইনিংস খেলেও কোনো ফিফটি করতে পারেননি তিনি। চলতি সিরিজের প্রথম ম্যাচ শেষে ১৭ এর সামান্য বেশি গড়ে করেছিলেন মাত্র ৪৩৯ রান। ছিল চারটি ডাকও।

এমনকি ক্যারিয়ারে প্রায় ৮৫ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করা লিটন মিরপুরে ৭০ স্ট্রাইক রেটও স্পর্শ করতে পারেননি। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেতে ফিফটি পেয়ে লিটন যেন সব সমীকরণই পাল্টে দিয়েছেন। অর্ধশতক করার দিনে তার ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট ছিল ৭৪।

সাম্প্রতিক সময়েও মিরপুরে ব্যাটে আক্ষেপে পুড়েছেন লিটন। পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড সিরিজে তিনটি চল্লিশোর্ধ্ব ইনিংস খেলেও ফিফটির দেখা পাননি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই অর্ধশতক শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং দীর্ঘদিনের এক অপূর্ণতার অবসান।

বাংলাদেশ যখন ৬১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে, তখন তাওহীদ হৃদয়কে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস গড়ার দায়িত্ব নেন লিটন। দুজনের ৯২ রানের জুটি দলকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে। সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে পরে বড় সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। তবে স্বস্তির বিষয়, মিরপুরে অধরা ফিফটিটা শেষ পর্যন্ত পেলেন লিটন।

 

 

 

সলঙ্গার রয়েল রূপালী হোটেলে বাসি খাবার বিক্রির অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় নাটোর-বনপাড়া মহাসড়কের পাশে অবস্থিত রয়্যাল রূপালী হাইওয়ে রেস্টুরেন্ট’-এ যাত্রীদের জিম্মি করে বাসি-পচা খাবার পরিবেশন ও অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের তীব্র অভিযোগ উঠেছে।
দূরপাল্লার পরিবহনের যাত্রীরা নিরুপায় হয়ে এই হোটেলে খেতে বাধ্য হলেও, খাবারের নিম্নমান এবং স্টাফদের দুর্ব্যবহারে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
​সরেজমিনে এবং ভুক্তভোগী যাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মহাসড়কে চলাচলকারী বিভিন্ন যাত্রীবাহী বাস ১৫-২০ মিনিটের বিরতির জন্য এই হোটেলটিতে থামে। বাসের যাত্রীরা তাড়াহুড়ো করে খেতে বসলে তাদের সামনে আগের দিন বা তারও আগের বেঁচে যাওয়া বাসি, দুর্গন্ধযুক্ত এবং পচা খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। মাংস এবং তরকারি থেকে অনেক সময় টক ও দুর্গন্ধ বের হওয়ার অভিযোগও করেছেন একাধিক যাত্রী।
​ভুক্তভোগী নাসরিন আক্তার এক বাস যাত্রী বলেন, বাস এখানে থামানোর পর বাধ্য হয়েই খেতে ঢুকেছিলাম। কিন্তু যে ভাত এবং তরকারি দেওয়া হয়েছে, তা মুখে দেওয়ার মতো নয়। তরকারি থেকে স্পষ্ট পচা গন্ধ আসছিল। প্রতিবাদ করায় হোটেলের ম্যানেজার ও স্টাফরা উল্টো আমাদের সাথে চরম দুর্ব্যবহার করে।
বাসযাত্রী আরমান হোসেন বলেন, এই হোটেলে প্রতিটি খাদ্যপণ্যের দাম রাখা হচ্ছে সাধারণ বাজারের চেয়ে দ্বিগুণ। সাধারণ মানের এক প্লেট ভাত ও মাংসের দাম রাখা হচ্ছে চড়া, যা সাধারণ যাত্রীদের পকেট কাটার শামিল। মেন্যু কার্ড বা মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করেই ইচ্ছেমতো বিল চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে এই হোটেলের বিরুদ্ধে।
আরেক যাত্রী বলেন,খাবার খাওয়ার আগে খাবারের মেনু চাইলে বলে সমস্যা নাই, খাবার খান কম করে নেবেনে। পরে বিল দিতে গিয়ে দেখি চরা দামে বিল করছে।
​অভিযোগ রয়েছে, দূরপাল্লার কিছু বাসের চালক ও সুপারভাইজারদের বিনামূল্যে উন্নতমানের খাবার এবং নির্দিষ্ট কমিশনের লোভ দেখিয়ে সাধারণ যাত্রীদের এই পচা ও ব্যয়বহুল হোটেলে খেতে বাধ্য করা হয়।
​এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, মহাসড়কের পাশের এই হোটেলগুলোতে নিয়মিত তদারকি না থাকায় এরা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। অস্বাস্থ্যকর ও পচা খাবার খেয়ে প্রতিনিয়ত ডায়রিয়া, ফুড পয়জনিং সহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা।
​অবিলম্বে এই রয়েল রূপালী হাইওয়ে রেস্টুরেন্ট-এ জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের জরুরি অভিযান পরিচালনা করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন মহাসড়কে যাতায়াতকারী সাধারণ যাত্রী ও চালকদের।
এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সোহেল শেখ বলেন, নিউ রয়েল রুপালি হোটালের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত করা হবে এবং তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নোয়াখালীতে কিশোররীকে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার

নোয়াখালীর হাতিয়ায় ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক পরিদর্শকের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

 

 

অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা খোরশেদ আলম জাহাজমারা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।

 

 

শনিবার (১৩ জুন) রাতে নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) টি.এম. মোশাররফ হোসেন স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে প্রত্যাহার করা হয়। ভুক্তভোগী কিশোরীর অভিযোগ, প্রায় ছয় মাস আগে জাহাজমারা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের মেসে তাকে ধর্ষণ করা হয়। ঘটনার পরপরই তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে বিষয়টি জানান।

 

 

কিশোরীর ভাষ্যমতে, তার মা ও ভাই জাহাজমারা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের মেসে রান্নার কাজ করতেন। সে কারণে তিনি মাঝে মধ্যে সেখানে যেতেন। অভিযুক্ত কর্মকর্তা বিভিন্ন সময় তাকে বাসার তিনতলায় ডেকে ঘর পরিষ্কার, কাপড় ধোয়া ও বিছানা গুছানোর কাজের কথা বলতেন। একপর্যায়ে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেন কিশোরী। বাধা দিলে তাকে এবং তার মাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হতো। পাশাপাশি মোবাইল ফোন কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা দিয়ে বিদায় করে দিত।

 

 

চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি ভুক্তভোগী তার মাকে বিষয়টি জানান। পরে কিশোরীর মা হাতিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার বিস্তারিত লিখিত বক্তব্যও নেওয়া হয়। তবে অভিযুক্তের পক্ষ নিয়ে স্থানীয় দুই ব্যক্তি তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেন বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীর পরিবার। এরপর থেকে তারা প্রায় চার মাস ধরে আতঙ্কে আত্মগোপনে রয়েছেন।

 

 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পুলিশ পরিদর্শক খোরশেদ আলম। তিনি বলেন, এক এসআইকে বদলি করায় সে কাজের মেয়েকে দিয়ে ভুয়া একটি ভিডিও বানায়। সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতেই তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, “আমার বয়স প্রায় ৬০ বছর। এ ধরনের কাজ আমি করিনি।”

 

 

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হয়। বিষয়টি নজরে আসার পরই তাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

 

 

এ বিষয়ে নোয়াখালীর পুলিশ সুপার টি.এম. মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে তিনি জেলার আরেক গণমাধ্যম কর্মীকে জানান, এর আগেও এ ধরনের একটি অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল। তখন সার্কেলের এএসপিকে দিয়ে তদন্ত করা হলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। সাম্প্রতিক সময়ে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পুনরায় যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 ধুনটে পারলক্ষীপুর কাঁচা রাস্তায় রাবিশ ফেলে চলাচলের উপযোগী করে দিলেন এমপি পুত্র সানভি

বগুড়ার ধুনট উপজেলার চিকাশী ইউনিয়নে আরকাটিয়া রাস্তা হতে পারলক্ষিপুর রাস্তায় । রাবিশ দিয়ে চলাচলের উপযোগী করার শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
 রবিবার (১৪ জুন) দুপুরে পারলক্ষীপুর গ্ৰামের রাস্তায় রাবিশ ফেলে চলাচলের উপযোগী করে দিলেন এমপি পুত্র সানভি।
জানা যায় যে আরকাটি হতে পারলক্ষীপু কাঁচা রাস্তাটি বৃষ্টি বাদল হলে চালাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে, জনসাধারণের ভোগান্তি পোহাতে হয়। সেই কষ্টকে লাঘব করার জন্য ৪০বগুড়া- ০৫ আসন (শেরপুর-ধুনট নির্বাচনী এলাকার) মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব গোলাম মোহাম্মাদ সিরাজের ছেলে বিসিবি এর পরিচালক আসিফ সিরাজ রব্বানীর  নিজ  অর্থায়নে রাবিশ ফেলে রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করে দিয়েছেন।
রাস্তায় রাবিশ ফেলার সময় উপস্থিত ছিলেন চিকাশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন জুয়েল, উপজেলা যুবদলের সভাপতি মোহাম্মাদ আলী জন, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম মধু, সাংগঠনিক সম্পাদক মনিবুর রহমান, পৌর  যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াকুব আলী। চিকাশী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসান আলী,  বিএনপির নেতা রুবেল সরকার ।
বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম (রাব্বি) ,
চিকাশী ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক  জনাব আলী, সদস্য সচিব  মিজানুর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক ইমরান হোসেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত পারলক্ষীপুর গ্রামের গণ্যমান্য ব্যাক্তি ও সাধারণ জনগণ  ইয়ার আলী, সাইফুল ইসলাম, মতিউর রহমান, আশরাফ আলী, লুৎতফর রহমানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মানহানির দুই মামলায় মুফতি আমির হামজার স্থায়ী জামিন

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষী বলার অভিযোগে দায়ের হওয়া দুটি মানহানি মামলায় কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজাকে স্থায়ী জামিন দিয়েছে নিম্ন আদালত।

 

 

রোববার (১৪ জুন) বিকেল ৩টার দিকে সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত সিরাজগঞ্জ সুমন কুমার কর্মকার তার জামিন মঞ্জুর করেন। এ সময় চীফ চুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মো. আব্দুল মতিন উপস্থিত ছিলেন। এর আগে দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটের দিকে আদালতে তিনি আত্মসমর্পণ করেন।

 

 

এদিকে মুফতি আমির হামজার আত্মসমর্পণকে ঘিরে আদালত চত্বরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পুরো আদালত চত্বর ফাঁকা করে দিয়ে পুলিশ ও র্যা ব নিরাপত্তার চাদরে ঘিরে ফেলে। সাংবাদিক প্রবেশেও ছিল ব্যাপক কড়াকড়ি।

 

 

৩টা ১০ মিনিটে আদালত থেকে বেরিয়ে যান মুফতি আমির হামজা। এ সময় সাংবাদিকরা তাকে প্রশ্ন করলে কোন জবাব না দিয়ে দ্রুত গাড়িতে উঠে আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।

 

 

মুফতি আমির হামজার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবু তালেব জানান, আমাদের সিরাজগঞ্জের আইনজীবি কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানি মামলা দায়ের করেছিলেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি হলে তিনি মহামান্য হাইকোর্টে বিভাগে জামিন আবেদন করেন। মহানমান্য হাইকোর্টের নির্দেশে মোতাবেক আজকে আমরা চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে এসে স্বেচ্ছায় বেলবন্ড ফার্নিশ করে। যেহেতু উনি সংসদ সদস্য, ওনার অনেক ব্যস্ততা রয়েছে। চৌহালী আদালতে তাঁর স্থায়ী জামিনের প্রার্থনা করলে বিজ্ঞ আদালত তা মনঞ্জুর করেন। জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম খান দায়ের করা অপর একটি মামলাতেও তার বিরুদ্ধে সমন জারি হয়েছিল। ওই মামলাতেও আমরা জামিন আবেদন করলে বিচারক মঞ্জুর করেন।

 

 

মামলার বাদী অ্যাডভোকেট হুমায়ন কবির কর্ণেল বলেন, মাননীয় জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষী আখ্যা দেওয়ায় আমি বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছিলাম। ওই মামরায় ওনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা হয়েছিল, পেপার বিজ্ঞপ্তি হয়েছে। উনি মহামান্য হাইকোর্টে জামিন চেয়েছিলেন। মহামান্য হাইকোর্ট ৮ সপ্তাহের জামিন মনজুর করে। আজকে তার শেষ তারিখ ছিল। আজকে তিনি চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে বেল বন্ড ফার্নিশ করেন। অপরদিকে তিনি মূল মামলায় চৌহালী আমলী আদালতে জামিন চেয়েছেন। বিজ্ঞ আদালত ১০ হাজার টাকা জামানতে জামিন মঞ্জুর করেছেন। এছাড়াও সদর থানা আমলী আদালতে ভিপি শামীম খান বাদী হয়ে আরেকটি মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলাতেও জামিন পেয়েছেন তিনি।

 

 

উল্লেখ্য, গত ২৬ মার্চ মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর দেওয়া একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়ার একটি মসজিদে প্রকাশ্য সভায় তাঁকে ‘নাস্তিক’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী বলে মন্তব্য করেন আমির হামজা। তার ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও জাতীয় গণমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়।

 

 

এ ঘটনায় গত ২ এপ্রিল মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেন অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির কর্ণেল। এ মামলায় ওইদিনই আদালত সমন জারি করে ২১ এপ্রিল হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। নির্ধারিত তারিখে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে নিম্ন আদালত।

 

 

মুন্সীগঞ্জ জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

মুন্সীগঞ্জ জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মে – ২০২৬ খ্রিঃ মাসের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (১৪ জুন) সকাল ১০.০০ ঘটিকায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সম্মানিত জেলা প্রশাসক জনাব সৈয়দা নুরমহল আশরাফী মহোদয়ের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য, জনাব মোঃ কামরুজ্জামান মহোদয়। উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি দপ্তরের দপ্তর প্রধানগণ, প্রেসক্লাবের সম্মানিত সভাপতি ও সেক্রেটারি মহোদয় ও কমিটির অন্যান্য সম্মানিত সদস্যবৃন্দ।
সভায় মুন্সীগঞ্জ জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার জনাব মোঃ মেনহাজুল আলম পিপিএম মহোদয় জেলার আইন-শৃঙ্খলার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। এসময় তিনি জেলার সকল নাগরিকের নিরাপত্তা প্রদান, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, অপরাধ দমন, সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা। বিশেষ করে মাদকদ্রব্য, চাদাবাঁজি, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড এবং জনভোগান্তি সৃষ্টি করে এমন অপরাধ দমনে আরও সক্রিয় হওয়ার মনোভাব ব্যক্ত করেন এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি নিরাপদ, স্থিতিশীল ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

নারায়ণগঞ্জে মাদক কারবারিদের হামলায় পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে মাদক কারবারিদের হামলার মুখে পড়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় এক এসআইসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী মনির ওরফে ফাইটার মনিরসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

 

শনিবার (১৪ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফতুল্লার মাসদাইর গুদারাঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

 

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— ফাইটার মনির (৩৮), নাঈম (২৮) ও মাসুম (২৪)।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই নন্দন সরকারের নেতৃত্বে একটি দল গুদারাঘাট এলাকায় ফাইটার মনিরের মাদক স্পটে অভিযান চালায়। এ সময় ১৫ কেজি গাঁজাসহ মনির ও তার দুই সহযোগীকে আটক করা হয়।

আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে মনিরের সহযোগীরা সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ১০ থেকে ১২ রাউন্ড গুলি ছোড়ে এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আত্মরক্ষার্থে পুলিশও শটগান থেকে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে।

একপর্যায়ে হামলাকারীদের ছোড়া গুলিতে ফাইটার মনিরের পায়ে গুলি লাগে। হামলায় আহত হন এসআই নন্দন সরকার, এসআই মনির, এএসআই কামরুল হাসান, এএসআই মনির হোসাইন ও কনস্টেবল আশিক। পরে তাদের নারায়ণগঞ্জের খানপুর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

 

 

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব আলম বলেন, ‘মাদকবিরোধী অভিযানে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ফাইটার মনিরকে বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ আটক করা হয়েছে। তাকে ছাড়িয়ে নিতে সহযোগীরা পুলিশের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণ করে। পরে পুলিশের প্রতিরোধের মুখে তারা পালিয়ে যায়।’

 

 

তিনি জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

 

 

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাইতে গ্রেপ্তার

বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিবী) বেনজীর আহমেদ দুবাই থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন।

 

 

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করেছে দুবাই পুলিশ।

 

 

পুলিশ সদরদপ্তরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা রোববার (১৪ জুন) দুপুরে গণমাধ্যমের কাছে তথ্যটি নিশ্চিত করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই কর্মকর্তা বলেন, দুদকের মামলায় ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ১২ জুন তারা একটি চিঠি দিয়ে আমাদের এ তথ্য জানিয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির আদেশ দেয় আদালত। ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. জাকির হোসেন এ আদেশ দেন।

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে বেনজীর ও তার স্ত্রী-কন্যাদের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে পৃথক চারটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

 

 

আগে ৭৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ এবং তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর পৃথক চারটি মামলা করে দুদক।

 

 

মামলায় বেনজীর আহমেদের পরিবারের বিরুদ্ধে ৭৪ কোটি ১৩ লাখ ৩৯ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগ আনা হয়েছিল।

 

 

উল্লেখ্য, বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশের মহাপরিদর্শক ছিলেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও র‌্যাবের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

 

আজ কিউবার বিপ্লবী চে গুয়েভারার ৯৮তম জন্মদিন

আজ রোববার (১৪ জুন) কিউবার বিপ্লবী চে গুয়েভারার ৯৮তম জন্মবার্ষিকী। মহান চে গুয়েভারা পেশায় একজন চিকিৎসক হলেও তিনি ছিলেন একাধারে বিপ্লবী, লেখক, বুদ্ধিজীবী, গেরিলা নেতা, কূটনীতিবিদ ও সমরবিদ। তার পুরো নাম আর্নেস্তো গুয়েভারা দে লা সেরনা। তবে কিউবার জনগণ তাঁকে ভালবেসে চে (প্রিয়) নাম দিয়েছেন।

 

 

 

 

১৯২৮ সালের এই দিনে আর্জেন্টিনার সান্তা ফে শহরে তাঁর জন্ম। ইতিহাস নন্দিত এই বিপ্লবীর নেতৃত্বে কিউবায় সফল বিপ্লবে সংঘটিত হয়।

 

 

 

 

১৯৫৫ সালে ঘটনাক্রমে মেক্সিকো সিটিতে নির্বাসিত কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রো ও রাউল কাস্ত্রোর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। তিনি ফিদেল কাস্ত্রোর দলে যোগ দিয়ে কিউবার তৎকালীন একনায়ক বাতিস্তাকে উৎখাত আন্দোলনে যুক্ত হন। দুই বছরব্যাপী চলা এই আন্দোলন সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ফলে চে হয়ে ওঠেন কাস্ত্রো ভাইদের কাছের মানুষ এবং পরে কিউবার শিল্পমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধানসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন।

 

 

 

চে গুয়েভারা ছিলেন আজন্ম বিপ্লবী। তিনি নতুন দেশে বিপ্লবের আশায় কিউবা ত্যাগ করেন। তিনি তাঁর সেকেন্ড ইন কমান্ড ভিক্টর বার্ক এবং ১২ জন সহযোদ্ধা নিয়ে কঙ্গোয় গিয়ে প্যাট্রিস লুমুম্বার নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে সংগঠিত করার দায়িত্ব নেন।

 

 

 

এরপর চে তাঁর সহযোদ্ধাদের নিয়ে চলে যান বলিভিয়ায়। সেখানে গিয়ে শুরু করেন যুক্তরাষ্ট্রের মদদপুষ্ট স্বৈরশাসক বারিয়েন্তোসের বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ। বলিভিয়ার সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধরত অবস্থায় গুরুতর আহত হয়ে বন্দি হন চে। দেশটির লা হিগুয়েরা নামে একটি শহরের স্কুলঘরে সারারাত আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। পরদিন ১৯৬৭ সালের ৯ অক্টোবর বলিভিয়ার সেনাবাহিনী তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে। মৃত্যুর পর সমাজতন্ত্র অনুসারীদের জন্য অনুকরণীয় আদর্শে পরিণত হন চে গুয়েভারা।

 

 

অষ্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশের মিশনে দারুণ ব্যাট করছে টাইগাররা

শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের ঘোষণা দেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। এরপরই দুর্দান্ত ব্যাটিং শুরু করে টাইগাররা।

 

 

 

ইতিমধ্যে সিরিজ নিজেদের করে নেওয়া বাংলাদেশের সামনে এখন অজিদের হোয়াইটওয়াশ করার সুযোগ। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই মাঠে নেমেছে টাইগাররা।

 

 

 

শেষ ম্যাচে একাদশে দুটি পরিবর্তন এনেছে লাল-সবুজ বাহিনী। কনকাশনের কারণে দলে নেই মেহেদী হাসান মিরাজ। মূলত তার পরিবর্তে সুযোগ পেয়েছেন শেখ মেহেদি হাসান। এছাড়া পেসার নাহিদ রানার জায়গায় একাদশে ডাক পেয়েছেন শরিফুল ইসলাম।

 

প্রথম দুই ম্যাচে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং— সব বিভাগেই দাপট দেখিয়ে জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। তাই শেষ ম্যাচেও একই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে জয়ের প্রত্যাশা স্বাগতিকদের।

 

অন্যদিকে এরই মধ্যে সিরিজ হারানো অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য অন্তত শেষ ম্যাচটি জিতে হোয়াইটওয়াশ এড়ানো।

 

খুলনায় ফজরের নামাজ চলাকালে মসজিদে ঢুকে গুলিবর্ষণ, আহত দুই

খুলনায় ফজরের নামাজ চলাকালে মসজিদের ভেতরে ঢুকে মুসল্লিদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়েছে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত। এ ঘটনায় মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদকসহ (সেক্রেটারি) দুই মুসল্লি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।

 

 

 

রোববার (১৪ জুন) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মহানগরীর দৌলতপুর থানার পশ্চিম কাশীপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র জামে মসজিদে এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে।

 

 

 

গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিরা হলেন- মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি লোকমান হাকিম (৪৫) এবং স্থানীয় মুসল্লি আলম শেখ (৫৫)।

 

পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মসজিদে ফজরের জামাত চলছিল। নামাজ চলাকালীন আকস্মিকভাবে কয়েকজন সশস্ত্র দুর্বৃত্ত মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে। তারা সরাসরি মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি লোকমান হাকিমকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় পাশে থাকা আলম শেখ নামের আরেক মুসল্লিও গুলিবিদ্ধ হন। গুলিতে রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনেই মসজিদের মেঝেতে লুটিয়ে পড়লে দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

পবিত্র উপাসনালয়ের ভেতরে গুলির শব্দ শুনে আশপাশের বাসিন্দা ও অন্য মুসল্লিরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে তারা রক্তাক্ত অবস্থায় আহত দুজনকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে লোকমান হাকিমের শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকায় পাঠানো হয়।

 

 

খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) সহকারী পুলিশ কমিশনার (দৌলতপুর জোন) মো. শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং সেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করেছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে সংলগ্ন এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। এই হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং জড়িতদের পরিচয় উদ্ঘাটনে পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে।

 

 

 

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, গুলিবিদ্ধ লোকমান হাকিম ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) একজন তালিকাভুক্ত ঠিকাদার এবং জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী। ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব কিংবা পূর্বশত্রুতার জেরে এই পরিকল্পিত হামলার ঘটনা ঘটেছে কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজক দেশ মেক্সিকোতে সশস্ত্র হামলায় মেয়র নিহত

মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলের ওয়াহাকা রাজ্যে সশস্ত্র হামলায় একটি শহরের মেয়র নিহত হয়েছেন। নিহত মেয়রের নাম জোয়েল ব্রাভো। তিনি সান মিগেল আমাতিতলান শহরের মেয়র ছিলেন।

 

 

 

রাজ্যের প্রসিকিউটর কার্যালয় জানিয়েছে, সশস্ত্র হামলায় তিনি নিহত হন। তবে হামলার বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। খবর এএফপির।

 

 

 

ওয়াহাকার গভর্নর সালোমোন হারা এ হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, রাজ্যে কোনো ধরনের সহিংসতা বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া বরদাশত করা হবে না।

ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হামলাকারীদের খুঁজে বের করতে বিশেষ ট্যাকটিক্যাল ইউনিট কাজ করছে। এ অভিযানে ফেডারেল বাহিনীর সহায়তাও নেওয়া হচ্ছে।

ওয়াহাকা রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে জালিস্কো নুয়েভা জেনারাসিওন ও সিনালোয়া কার্টেল নামে দুটি শক্তিশালী মাদক চক্র সক্রিয় রয়েছে। মাদক পাচারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এসব গোষ্ঠীর মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষ হয়।

 

মেক্সিকোতে মাদক-সংশ্লিষ্ট সহিংসতা গত দুই দশকে ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ২০০৬ সালের পর থেকে দেশটিতে প্রায় ১০০ জন মেয়র হত্যার শিকার হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

মানহানি মামলায় সিরাজগঞ্জ আদালতে আত্মসমর্পণ করছেন আমির হামজা

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষী বলার অভিযোগে দায়ের করা মানহানির মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করছেন কুষ্টিয়া–৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা আমির হামজা।

 

 

রোববার (১৪ জুন) দুপুর দুইটার দিকে তিনি সিরাজগঞ্জের চৌহালী আমলি আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন।

 

 

মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবি জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট শাকিল মোহাম্মদ শরিফুর হায়দার রফিক সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, আজ দুপুর ২টার দিকে মামলার আসামি মুফতি আমির হামজা সিরাজগঞ্জ সদর আমলী আদালতে আত্মসমর্পণ করার কথা রয়েছে।

 

 

 

এর আগে গত ২ এপ্রিল ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নিয়ে প্রকাশ্য জনসভায় মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবীর কর্ণেল বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

 

 

 

ওইদিনই আদালতের বিচারক সুমন কর্মকার মামলাটি আমলে নিয়ে সমন জারির নির্দেশ দিয়েছিলেন।

 

 

 

কিন্তু তিনি নির্ধারিত তারিখে আমির হামজা আদালতে হাজির না হওয়ায় ২১ এপ্রিল বিচারক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন।

 

 

 

বাদী হুমায়ুন কবির কর্ণের বলেন, সম্ভ্রান্ত মুসিলম পরিবারের সন্তান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি তার নির্বাচনী এলাকায় মসজিদ ও মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন। মায়ের নামে করেছেন এতিমখানা। তিনি নিয়মিত নামাজ পড়েন রোজা রাখেন। অথচ গত ২৭ মার্চ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর বড় মসজিদে জুমার খুতবার আগে আলোচনায় মুফতি আমির হামজা বলেছিলেন, ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু একজন নাস্তিক ও আপাদমস্তক ইসলামবিদ্বেষী।’

 

 

 

বাদী আরও বলেন, আমির হামজার ওই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভিডিওটি প্রচারিত হয়। তার ওই বক্তব্যে মন্ত্রীর সম্মানহানি হওয়ায় দণ্ডবিধির ২৯৬, ৫০০ ও ৫০৪ ধারায় মানহানির একটি মামলা করি।

 

 

 

সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম বলেন, মুফতি আমির হামজা এমপি যোহর নামাজ শেষে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করবেন।

 

জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ আগুনে পুড়িয়ে দিল নোয়াখালী ছাত্রলীগ

নোয়াখালীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে কাজ শুরু করেছে পুলিশ।

 

 

 

শনিবার (১৩ জুন) ভোররাতে জেলা শহরের জজ আদালত সড়কের উত্তর পাশে অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভের মাঝখানে নির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে এ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। তবে দিনভর বিষয়টি কারও নজরে না আসায় ঘটনাটি জানাজানি হয়নি। পরে শনিবার সন্ধ্যার দিকে স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ২৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপর পুলিশ ঘটনাটি তদন্তে তৎপর হয়।

 

 

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, একদল তরুণ স্মৃতিস্তম্ভ ও এর আশপাশে দাহ্য পদার্থ ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে স্মৃতিস্তম্ভের নিচের অংশের কিছু অংশ পুড়ে যায়। ভিডিওতে উপস্থিত একজনকে বলতে শোনা যায়, স্বাধীন সার্বভৌম এই দেশ থেকে রাজাকারের চিহ্ন মুছে ফেলার জন্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগই যথেষ্ট। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে। নোয়াখালী থেকে রাজাকার বিতাড়িত করার জন্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগ প্রস্তুত। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

 

এ বিষয়ে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে কারা এবং কখন আগুন দিয়েছে, সে বিষয়ে আগে আমাদের কাছে কোনো তথ্য ছিল না। যারা এ কাজ করেছে, তারাই একটি ভিডিও ফেসবুকে আপলোড করেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখা গেছে, আগুনের কারণে স্মৃতিস্তম্ভের কিছু অংশ কালো হয়ে গেছে। ভিডিও ফুটেজ ও সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ করে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

 

 

জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে নিখোঁজ ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সমাবেশে সংগঠনটির নেতারা গুমের অভিযোগ নিয়ে ‘প্রোপাগান্ডা’ ছড়ানোর অভিযোগও তোলেন।

 

 

 

শনিবার (১৩ ‍জুন) রাত ৯টায় রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য হয়ে শাহবাগ গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

 

 

 

সমাবেশে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘ছাত্রশিবিরের প্রতি ধিক্কার জানাচ্ছি। তারা ভুক্তভোগী নারীর নাম উল্লেখ করে প্রেস রিলিজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করেছে। কথায় কথায় তারা ইসলামের কথা বলে, নারীর অধিকারের কথা বলে; কিন্তু তাদের আসল চরিত্র তাদের কর্মকাণ্ডেই প্রকাশ পেয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর আমির, নির্বাচিত এমপিবৃন্দ এবং শিবিরের বিভিন্ন স্তরের নেতারা একযোগে দেশে আবার গুমের সংস্কৃতি চালু হয়েছে বলে প্রচার চালিয়েছেন। বিগত দুই বছরে যারা মবকে উসকে দিয়েছে, নেতৃত্ব দিয়েছে এবং বিভিন্ন ক্যাম্পাসে প্রোপাগান্ডা ও মিথ্যাচার ছড়িয়েছে, তাদের প্রতি আমরা ধিক্কার জানাই।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘গুমের মতো রাষ্ট্রীয় অপরাধকে স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে আমরা উদ্বিগ্ন। অতীতে শত শত নেতাকর্মী গুমের শিকার হয়েছেন, অথচ তাদের প্রতি তাচ্ছিল্য প্রদর্শন করা হচ্ছে।’

 

 

ক্যাম্পাস রাজনীতি প্রসঙ্গে ছাত্রদল সভাপতি অভিযোগ করেন, ‘বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন গ্রুপ ও পেজ দখল করে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে, যা ক্যাম্পাসের সহনশীল পরিবেশ নষ্ট করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক এই রাজনীতির সুযোগ নিচ্ছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ।’

 

 

 

সমাবেশে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির বলেন, ‘কুমিল্লায় যাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে, তার নাম আমরা ছাত্রশিবিরের প্রকাশিত কোনো কমিটিতে দেখিনি। শিবির তাদের কেন্দ্রীয় কমিটিও প্রকাশ করেনি।’

 

 

 

তিনি দাবি করেন, ‘শিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রেমের সম্পর্কের কারণে অভিযুক্তকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু ধর্ষণ ও ভ্রূণ হত্যার অভিযোগের বিষয়ে তারা কোনো বিচার করেনি বলে আমরা মনে করি।’

 

 

 

গুমের অভিযোগ প্রসঙ্গে নাসির বলেন, ‘গুমের নাটক মঞ্চস্থ করে তারা অতীতের প্রকৃত গুমের ঘটনাগুলোকে অপমান করেছে। কোনো ঘটনা ঘটলেই জামায়াতের আমির তার ভেরিফায়েড আইডি থেকে গুমের অভিযোগ তোলেন। পাঁচ আগস্টের পর দেশে যত প্রোপাগান্ডা ছড়িয়েছে, তার বড় অংশই জামায়াতের আমিরের মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে।’

 

 

 

সমাবেশে ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন।

 

 

 

সমাবেশে অন্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, সহসভাপতি খোরশেদ আলম সোহেল ও শাফি ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান ও মাসুদুর রহমান, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মাহমুদ ইসলাম কাজল, ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি গণেশচন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা।

 

 

 

বক্তারা অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান এবং গুম ও অন্যান্য ইস্যুতে ‘রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা’ বন্ধের আহ্বান জানান।

 

আজ থেকে চালু আইসিইউ সুবিধা, উপকৃত হবে ১০ জেলার মানুষ

আইসিইউ নিয়ে সুখবর পাচ্ছে দেশের ১০ জেলার মানুষ। জরুরি রেসপন্স ও মহামারি প্রস্তুতি (ইআরপিপি) প্রকল্পের আওতায় সেখানকার সদর হাসপাতালে চালু হচ্ছে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)।

 

 

 

প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি ও জনবল নিশ্চিত করে শুরু হওয়া এই উদ্যোগের ফলে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক জটিল রোগীরা এখন নিজ জেলাতেই উন্নতমানের ‘ক্রিটিক্যাল কেয়ার’ সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এসব আইসিইউর কার্যক্রম রোববার (১৪ জুন) উদ্বোধন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

 

 

 

নতুন আইসিইউ সুবিধা চালু হচ্ছে মুন্সীগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল, টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল, সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতাল, গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল, চুয়াডাঙ্গা জেলা হাসপাতাল, নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতাল, যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল, শেরপুর ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতাল, মাদারীপুর জেলা হাসপাতাল এবং বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে।

 

 

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি আইসিইউতে প্রয়োজনীয় পেডিয়াট্রিক ভেন্টিলেটর, অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটরসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব ইউনিট পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবলও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

 

 

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন এসব আইসিইউ চালুর ফলে জেলা পর্যায়েই শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক জটিল রোগীদের উন্নত জরুরি ও নিবিড় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এতে গুরুতর রোগীদের চিকিৎসার জন্য রাজধানী বা বড় শহরে ছুটে যাওয়ার প্রয়োজন অনেকাংশে কমে আসবে।

তাদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে আধুনিক ‘ক্রিটিক্যাল কেয়ার’ সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নের পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতি ও মহামারি মোকাবিলার সক্ষমতাও আরও জোরদার হবে।

 

ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু, ব্রাজিলের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ

হেক্সা মিশনের শুরুতেই হোঁচট খেলো পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। গ্রুপপর্বের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে শুরুতে পিছিয়ে পড়ার পর ভিনিসিয়ুসের দুর্দান্ত গোলে ম্যাচে ফিরেছিল ঠিকই, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর ব্যবধান বাড়াতে পারেনি সেলেসাওরা। ম্যাচ শেষ হয় ১-১ গোলে।

 

 

 

এ নিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে চতুর্থবারের মতো নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে জয়বঞ্চিত হলো ব্রাজিল।

 

 

 

 

সেই সঙ্গে সামনে এসেছে অস্বস্তিকর এক ইতিহাসও। পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ড্র করার পর কখনোই বিশ্বকাপ জিততে পারেনি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

এবারের আগে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে তিনবার ড্র করেছিল ব্রাজিল। ১৯৭৪ সালে যুগোস্লাভিয়ার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র, ১৯৭৮ সালে সুইডেনের বিপক্ষে ১–১ এবং ২০১৮ সালে সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ১–১ গোলে সমতা। এই তিন আসরের একটিতেও শিরোপা ছুঁতে পারেনি তারা।

 

১৯৭৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিল শেষ করেছিল চতুর্থ হয়ে। ১৯৭৮ সালে তৃতীয় স্থান পেলেও ট্রফির দেখা মেলেনি। আর ২০১৮ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল নেইমারদের।

 

 

অন্যদিকে ব্রাজিলের পাঁচটি বিশ্বকাপজয়ী অভিযানের দিকে তাকালে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪ ও ২০০২—প্রতিবারই প্রথম ম্যাচে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছিল সেলেসাওরা। পরে সেই আসরগুলোতেই শিরোপা জিতেছে তারা।

 

 

 

অবশ্য কাগজের পরিসংখ্যানে নয়, মাঠের পারফরম্যান্সেই ফলাফল নির্ধারিত হয়। এবারের আসরে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা কতদূর যেতে পারে এখন সেটাই দেখার বিষয়।

 

 

 

ড্র হওয়া ব্রাজিলের চার বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ

আসর প্রতিপক্ষ ফলাফল
২০২৬ মরক্কো ১–১
২০১৮ সুইজারল্যান্ড ১–১
১৯৭৮ সুইডেন ১–১
১৯৭৪ যুগোস্লাভিয়া ০–০

 

৮৮ বছর ধরে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে অপরাজিত ব্রাজিল

ব্রাজিল একমাত্র দেশ, যারা বিশ্বকাপের ২৩টি আসরের প্রতিটিতে অংশগ্রহণ করেছে। তারা ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪ ও ২০০২ সালে রেকর্ড পাঁচবার শিরোপা জিতেছে। বিশ্বকাপ বরাবরই সেলেসাওদের জন্য সবচেয়ে বড় মঞ্চ এবং এমন এক ক্যানভাস, যেখানে তারা যেন শতাব্দী ধরে এক অনবদ্য শিল্পকর্ম তৈরি করেছে। তাদের এই চিত্তাকর্ষক গল্পটি কেবল ট্রফি উঁচিয়ে ধরার মাধ্যমে শুরু হয় না, বরং শুরু হয় উদ্বোধনী বাঁশির মাধ্যমে।

 

১৯৩০ সালে বিশ্বকাপের প্রথম আসরে ব্রাজিল অনেক প্রত্যাশা নিয়ে হাজির হয়েছিল, কিন্তু তাদের নিজেদের ফুটবল ফেডারেশনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে স্কোয়াডটি মূলত রিও দি জানেইরোভিত্তিক খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত হয়েছিল।

 

যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে তারা হারের স্বাদ পায়, যে ধাক্কাটি তাদের সামনের কঠিন পথের ইঙ্গিত দিচ্ছিল। চার বছর পর ১৯৩৪ বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচটি তাদের জন্য আরও বেশি নির্মম প্রমাণিত হয়।

 

শুরু থেকেই নকআউট পদ্ধতিতে আয়োজিত সেই টুর্নামেন্টে তারা স্পেনের কাছে ৩-১ গোলে হেরে যায়, যা ছিল সেই আসরে তাদের একমাত্র ম্যাচ। ফুটবলের এই পরাশক্তির জন্য এটি ছিল একটি হতাশাজনক মুহূর্ত। তবে এটিই ছিল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে তাদের শেষ পরাজয়।

 

১৯৩৪ সালের সেই পরাজয়ের পর থেকে প্রথম ম্যাচটি হলুদ-সবুজ শিবিরের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। এটি এমন এক দুর্গ, যেখানে তারা টানা ৮৮ বছর ধরে অপরাজিত রয়েছে। এই সময়ে খেলা নিজেদের ২০টি প্রথম ম্যাচের মধ্যে তারা জিতেছে ১৭টি, ড্র করেছে বাকি তিনটি।

 

১৯৭৪ সালের আসরে ব্রাজিল যুগোস্লাভিয়ার সাথে ০-০ গোলে ড্র করে এবং চার বছর পরের আসরে তারা আবারও আটকে যায়। সুইডেনের বিপক্ষে তাদের উদ্বোধনী ম্যাচটি ১-১ গোলে শেষ হয়। এছাড়া, ২০১৮ সালের আসরে তারা সুইজারল্যান্ডের সঙ্গেও একই ব্যবধানে ড্র করে।

 

বাকি সবগুলো ম্যাচে জিতেছে সেলেসাওরা। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে তাদের এই আধিপত্য সম্ভবত মেক্সিকোর বিপক্ষে সবচেয়ে ভালোভাবে ফুটে ওঠে। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকোকে তিনবার হারিয়েছে তারা, যা অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি। আর এই তিন ম্যাচে তাদের সম্মিলিত গোলের ব্যবধান চোখে পড়ার মতো— ১১-০।

 

ব্রাজিলের সবশেষ ২০টি উদ্বোধনী ম্যাচের পরিসংখ্যান এমন একটি দলের ছবি তুলে ধরে, যারা কোনো বাধা মানতে নারাজ। আক্রমণাত্মক ঐতিহ্য তাদের শিরায় শিরায় প্রবাহিত। কারণ এই ম্যাচগুলোতে তারা মোট ৪৯টি গোল করেছে।

 

চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম গ্রুপ ‘সি’-এর একটি ব্লকবাস্টার উদ্বোধনী ম্যাচের জন্য প্রস্তুত। তাদের প্রতিপক্ষ মরক্কো আর অতীতের মতো দুর্বল নয়, বরং সেলেসাওদের চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত এক শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী, যারা গত ২০২২ সালের আসরে চতুর্থ স্থান পেয়েছিল।

 

এই লড়াইটি উভয় দলের জন্যই একটি নির্ধারক মুহূর্ত হতে পারে। তাদের মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যান সমানে-সমান। দুই দলই একটি করে জয় পেয়েছে।

 

ব্রাজিলের জয়টি এসেছিল ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ৩-০ গোলে। তবে মরক্কোর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স সামনের কঠিন লড়াইয়েরই ইঙ্গিত দেয়। ২০২৩ সালের মার্চে দুই দলের সাম্প্রতিকতম দেখায়, একটি প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল মরক্কো।

 

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ব্রাজিলের ইতিহাস:

১৯৩০ উরুগুয়ে: ব্রাজিল ১-২ যুগোস্লাভিয়া

১৯৩৪ ইতালি: ব্রাজিল ১-৩ স্পেন

১৯৩৮ ফ্রান্স: ব্রাজিল ৬-৫ পোল্যান্ড

১৯৫০ ব্রাজিল: ব্রাজিল ৪-০ মেক্সিকো

১৯৫৪ সুইজারল্যান্ড: ব্রাজিল ৫-০ মেক্সিকো

১৯৫৮ সুইডেন: ব্রাজিল ৩-০ অস্ট্রিয়া

১৯৬২ চিলি: ব্রাজিল ২-০ মেক্সিকো

১৯৬৬ ইংল্যান্ড: ব্রাজিল ২-০ বুলগেরিয়া

১৯৭০ মেক্সিকো: ব্রাজিল ৪-১ চেকোস্লোভাকিয়া

১৯৭৪ পশ্চিম জার্মানি: ব্রাজিল ০-০ যুগোস্লাভিয়া

১৯৭৮ আর্জেন্টিনা: ব্রাজিল ১-১ সুইডেন

১৯৮২ স্পেন: ব্রাজিল ২-১ সোভিয়েত ইউনিয়ন

১৯৮৬ মেক্সিকো: ব্রাজিল ১-০ স্পেন

১৯৯০ ইতালি: ব্রাজিল ২-১ সুইডেন

১৯৯৪ যুক্তরাষ্ট্র: ব্রাজিল ২-০ রাশিয়া

১৯৯৮ ফ্রান্স: ব্রাজিল ২-১ স্কটল্যান্ড

২০০২ দক্ষিণ কোরিয়া/জাপান: ব্রাজিল ২-১ তুরস্ক

২০০৬ জার্মানি: ব্রাজিল ১-০ ক্রোয়েশিয়া

২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা: ব্রাজিল ২-১ উত্তর কোরিয়া

২০১৪ ব্রাজিল: ব্রাজিল ৩-১ ক্রোয়েশিয়া

২০১৮ রাশিয়া: ব্রাজিল ১-১ সুইজারল্যান্ড

২০২২ কাতার: ব্রাজিল ২-০ সার্বিয়া

 

ডিজিটাল নিরাপত্তায় এক ধাপ এগিয়ে নীলফামারী জেলা পুলিশ

সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ, অনলাইন জালিয়াতি দমন এবং নাগরিকদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নীলফামারী জেলা পুলিশে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর ইউনিট ‘সাইবার সেল’ যুক্ত হতে যাচ্ছে। জেলা পুলিশের এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও জনবান্ধব পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

 

জানা গেছে, নীলফামারী জেলার পুলিশ সুপার মোঃ ফরহাদ হোসেন খাঁনের উদ্যোগে গঠিত হতে যাওয়া এ ইউনিট সাইবার অপরাধ তদন্ত, অনলাইন প্রতারণা শনাক্তকরণ এবং প্রযুক্তিভিত্তিক পুলিশি সেবার পরিধি সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

 

 

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নতুন সাইবার সেলের মাধ্যমে হারানো বা চুরি হওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধারে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করা হবে। একই সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর তদন্তের মাধ্যমে জটিল ও সূত্রবিহীন (ক্লু-লেস) মামলার রহস্য উদঘাটনেও কাজ করবে ইউনিটটি।

 

এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেক আইডি ব্যবহার, আইডি হ্যাকিং, ছবি বিকৃত করে হয়রানি, ব্ল্যাকমেইলিংসহ বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় আইনি ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হবে। নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সাইবার হয়রানি প্রতিরোধেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

 

সাইবার সেল অনলাইন জুয়া, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করে সংঘটিত আর্থিক প্রতারণা প্রতিরোধে কাজ করবে। বিকাশ, নগদ, রকেটসহ বিভিন্ন ডিজিটাল লেনদেনে প্রতারণার অভিযোগ পেলে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, উসকানিমূলক প্রচারণা এবং বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধ নজরদারির আওতায় রাখতে ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

 

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে এবং নাগরিকদের নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করতে নীলফামারী জেলা পুলিশের নতুন এই সাইবার সেল গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। একই সঙ্গে এটি জেলার সাধারণ মানুষের আস্থা ও সেবাপ্রাপ্তির নতুন দ্বার উন্মোচন করবে।

 

‘প্রধানমন্ত্রীর মন খারাপ! বিরোধী দল কেন বাজেটের সমালোচনা করে?

বিরোধীদলীয় চীফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্ববায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর মন খারাপ! বিরোধী দল কেন বাজেটের সমালোচনা করে?

 

শনিবার (১৩ ‍জুন) চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘী মাঠে ১১ দলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। নাহিদ বলেন, সমালোচনা করার কারণ আপনারা বাজেটে দুর্নীতির রাস্তা বন্ধ করেননি, লুটপাটের রাস্তা বন্ধ করেননি। তাই আমরা বাজেটের যৌক্তিক সমালোচনা করছি।

 

তিনি বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতে পুনরায় প্রভাবশালী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আবারও ব্যাংক দখল শুরু হয়ে গেছে, এস আলমের হাতে আবারও ব্যাংক তুলে দেওয়া হচ্ছে।

 

বক্তব্যে বিদ্যুতের দাম নজিরবিহীনভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, বর্তমান বাজেটের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক পরিবর্তন সম্ভব হবে না। টেকসই পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশ পুলিশ, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং বিচার বিভাগে কার্যকর সংস্কার প্রয়োজন।

 

সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনাগুলোর প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের আকাশ ও মাটি এক নয়। এটার ফয়সালা ১৯৪৭, ১৯৭১ ও ২০২৪ সালে হয়ে গেছে। বাংলাদেশের মাটিতে আধিপত্যবাদ চলবে না।

 

তিনি সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।

 

পেছালো যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি স্বাক্ষরের তারিখ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচিত সমঝোতা স্মারক আগামী রোববার (১৪ জুন) স্বাক্ষরিত হবে না বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই। তবে তিনি বলেছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এটি স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

 

 

আল জাজিরায় শনিবার (১৩ জুন) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বাঘাই এ কথা বলেন।

 

 

তিনি জানান, ‘যে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক নিয়ে কাজ চলছে, তার মূল লক্ষ্য হলো যুদ্ধের অবসান ঘটানো। বর্তমান পর্যায়ে এতে পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে কোনো আলোচনা অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়নি।’

 

সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাব্য সময় নিয়ে বাঘাই বলেন, ‘চুক্তি স্বাক্ষরের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। যদিও এটি আগামীকাল হচ্ছে না, তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে স্বাক্ষর হতে পারে এ সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।’

 

 

তিনি আরও বলেন, ‘অন্য পক্ষের অবস্থানের কারণে এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে যেকোনো মন্তব্য বা পূর্বাভাস দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’

 

 

এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ দাবি করেছিলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পথে রয়েছে এবং তা শিগগিরই স্বাক্ষরিত হতে পারে। তবে ইরানের সর্বশেষ বক্তব্যে চুক্তি স্বাক্ষরের সময়সূচি নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

 

পাঁচ মাসে নির্যাতনের শিকার সহস্রাধিক নারী-শিশু: হত্যা ১৮

মাত্র পাঁচ মাসে ১ হাজার ৩৫ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ধর্ষণের হর হত্যা করা হয়েছে ১৮ জনকে। ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ২৫০ ও গণধর্ষণের শিকার হেয়েছেন ৬৫ জন। এছাড়াও বিভিন্ন কারণে ২৩৭ জন নারী ও কন্যা শিশুকে হত্যা করা হয়েছে এবং আত্মহত্যা করেছেন আরও ৬০ জন।

 

শনিবার (১৩ জুন) সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের আনোয়ারা বেগম-মুনিরা খান মিলনায়তনে ‘নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

 

সংলাপে নারী নির্যাতনের এই ভয়াবহ পরিসংখ্যান উঠে আসে। এতে নারী ও শিশু নির্যাতনের উদ্বেগজনক চিত্র, বিচারব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, সামাজিক সংকট এবং প্রতিরোধের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন সরকারের নীতিনির্ধারক, সাবেক বিচারপতি, শিক্ষাবিদ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও নারী অধিকারকর্মীরা।

 

সংলাপে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু। কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষে লিখিত মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন লিগ্যাল এইড সম্পাদক রেখা সাহা।

 

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, দেশে নারী ও শিশু সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় আইন থাকলেও এর কার্যকর প্রয়োগ ও সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তন এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।

 

 

তিনি বলেন, নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং সচেতনতার অভাব সহিংসতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। নারী ও শিশুর অধিকার বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি কিশোর-কিশোরীদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আরও বেশি ক্লাব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

 

 

মন্ত্রী বলেন, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার সমস্যা সমাজের গভীরে প্রোথিত। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফরেনসিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং মাদক নির্মূল জরুরি।

 

 

তিনি জানান, বিভাগীয় পর্যায়ে ডিএনএ ল্যাব স্থাপন এবং দেশের ৩৭টি মেডিকেল কলেজে ও পরবর্তীতে প্রতিটি জেলায় ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নারী ও শিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র, সমাজ এবং নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

 

 

সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ বলেন, সংবিধানে নারী-পুরুষের সমঅধিকারের নিশ্চয়তা থাকলেও বাস্তবে বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় ব্যাখ্যার কারণে সেই অধিকার সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে।

 

 

তিনি বলেন, শিশুর জন্মের পর থেকেই নানা ধরনের বৈষম্যের সূচনা হয়, যা পরবর্তীতে সহিংস মানসিকতা তৈরিতে ভূমিকা রাখে। ধর্ষণ প্রতিরোধে দেশে পর্যাপ্ত আইন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আইনের সঠিক ও নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।

 

 

গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, নারীর অধিকার খর্ব করার ক্ষেত্রে এখনো ধর্মকে ভুলভাবে ব্যবহার করা হয়। তিনি সাইবার বুলিং ও অনলাইন সহিংসতা বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কনটেন্ট নির্মাতা, ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানান। পাশাপাশি ধর্মীয় নেতাদের মাধ্যমে নারী নির্যাতনবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবারভিত্তিক মূল্যবোধ শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

বিশিষ্ট কলামিস্ট ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক বলেন, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা এখন জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, কিশোর গ্যাং, সামাজিক অবক্ষয় এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহার সমাজে নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। কেবল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে নয়, সাংস্কৃতিক চর্চা বৃদ্ধি এবং সামাজিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমেও এ সংকট মোকাবিলা করতে হবে।

 

 

উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের উপ-পুলিশ কমিশনার মোছা. লিজা বেগম বলেন, সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম, কার্যকর আইন প্রয়োগ এবং মামলার সুষ্ঠু তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ভিকটিম-কেন্দ্রিক পুলিশিং জোরদার এবং প্রতিটি জেলায় ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। সাইবার সহিংসতা প্রতিরোধে জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক সচেতনতা কর্মসূচি গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

 

 

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক মো. কামাল উদ্দিন মজুমদার বলেন, একটি মানবিক ও সুস্থ সমাজে কোনো ধরনের সহিংসতার স্থান নেই। তিনি বলেন, রাষ্ট্র এককভাবে এ সমস্যা সমাধান করতে পারবে না; এজন্য সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ প্রয়োজন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম সোহাগ বলেন, অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের সংশোধনের বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, সহিংসতার জন্য কেবল ভুক্তভোগীকে দায়ী না করে অপরাধীর সামাজিক ও পারিবারিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করা জরুরি। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর নীতি গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মেহজাবিন হক বলেন, পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা ও মাদকাসক্তির পাশাপাশি শৈশবকালীন অভিজ্ঞতা মানুষের আচরণ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সহিংসতা প্রতিরোধে মানবিক মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

 

বি-স্ক্যানের নির্বাহী পরিচালক সালমা মাহবুব বলেন, নারী নির্যাতন নিয়ে আলোচনায় প্রতিবন্ধী নারীদের বিষয়টি প্রায়শই উপেক্ষিত থাকে। তিনি বলেন, মাদক ও পর্নোগ্রাফির বিস্তার অপরাধপ্রবণতা বাড়াচ্ছে। পারিবারিক শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ এবং অপরাধের শাস্তি নিশ্চিত করার মাধ্যমে সহিংসতা কমানো সম্ভব বলে তিনি মত দেন।

 

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের কোষাধ্যক্ষ মেইনথিন প্রমীলা বলেন, সমাজের প্রান্তিক ও আদিবাসী নারীরা বহুমাত্রিক বৈষম্যের শিকার। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে একাধিক মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি নারীদের জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান।

 

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, দেশ বর্তমানে নারী ও শিশু নির্যাতনের এক সংকটময় সময় অতিক্রম করছে। তিনি বলেন, শিশু ও নারীর জন্য নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। বিচারহীনতার সংস্কৃতি, অপরাধপ্রবণ রাজনীতি এবং সামাজিক অবক্ষয় দূর করতে ধারাবাহিক আন্দোলন ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি বিচারব্যবস্থার সংস্কার এবং সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

 

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা নারীকে অধস্তন অবস্থানে রেখে সহিংসতার পরিবেশ তৈরি করছে। গত পাঁচ মাসে প্রায় এক হাজার নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হওয়ার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি বিচারহীনতা ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার গভীর সংকেত বহন করে। নারী নির্যাতন প্রতিরোধকে শুধু নারী আন্দোলনের দায়িত্ব হিসেবে না দেখে রাষ্ট্র ও নাগরিক সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানান এই নারী নেত্রী।

 

এবার ৫-০ গোলে আর্জেন্টিনাকে হারালো ব্রাজিল

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে ব্রাজিল। স্থানীয় দুটি ফুটবল দল ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনা নামে খেলায় অংশগ্রহণ করছে এমন ঘোষণায় প্রচারণা চালানো হলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের বিপুলসংখ্যক সমর্থক উপস্থিত হয় ওই মাঠে। এতে ম্যাচটি ঘিরে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

 

শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টায় উপজেলার দেওয়ানগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। খেলা শুরুর আগেই মাঠ ও আশপাশের এলাকায় জড়ো হন বিভিন্ন বয়সী ফুটবলপ্রেমীরা।

 

নির্ধারিত ৬০ মিনিটের খেলায় শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলে ব্রাজিল। কয়েকটি সম্ভাবনাময় সুযোগ তৈরি করলেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি আর্জেন্টিনা। ধারাবাহিক আক্রমণে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগকে চাপে ফেলে ব্রাজিল একের পর এক গোল আদায় করে নেয়। এতে ৫-০ গোলের ব্যবধানে বড় জয় পায় ব্রাজিল।

 

ব্রাজিলের হয়ে রহিদ দুটি গোল করেন। বাকি তিনটি গোল করেন তামরিজ, রিফাত ও সুমন। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ব্রাজিল সমর্থকদের উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মাঠ।

 

ম্যাচ শেষে ব্রাজিলের হয়ে জোড়া গোল করা রহিদ বলেন, বিশ্বকাপ শুরু হওয়ায় আমরা স্থানীয়রাই আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল দুই দলে বিভক্ত হয়ে এ খেলার আয়োজন করেছি। মাঠে নেমে সবাই দারুণ খেলেছে। ব্রাজিল বিশ্বকাপেও ভালো করবে এবং এবারও শিরোপা জিতবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। আজকের ম্যাচে এখানে ভালো খেলেছি, তাই বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছি।

 

খেলা দেখতে আসা স্থানীয় ফুটবলপ্রেমী সোহেল মিয়া বলেন, মনে হয়েছে যেন ছোট পরিসরে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশের আসল ম্যাচ দেখছি। মাঠে বিপুলসংখ্যক দর্শক হয়েছে। খেলাটি উৎসবমুখর পরিবেশ অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে। সুন্দর খেলা হয়েছে।

 

খেলার আয়োজক ছিলেন ক্রীড়া সংগঠক খলিলুর রহমান নয়ন, আমিরুল ইসলাম আমির ও রকিকুল ইসলাম। আয়োজকদের পক্ষ থেকে খলিলুর রহমান নয়ন বলেন, বর্তমান সময়ে তরুণদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে পারলে মাদক, জুয়া ও নানা ধরনের সামাজিক অপরাধ থেকে তাদের দূরে রাখা সম্ভব। এমন ক্রীড়া আয়োজন যুবসমাজকে সুস্থ বিনোদনের পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আমরা আশা করছি।

 

ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।

 

কালিগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের শুভ উদ্বোধন

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার ৬নং কালিগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৩ই জুন) বিকেল ৩টায় আবাদ পুকুর বাজারে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এস এম রেজাউল ইসলাম (রেজু)। সঞ্চালনায় ছিলেন ৬নং কালিগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোলাইমান আলী মণ্ডল ও সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল হক। সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অ্যাড. আব্দুল খালেক।
আমন্ত্রিত বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাণীনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব এছাহক আলী, সাধারণ সম্পাদক মোসারব হোসেন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মেজবাউল হক লিটন।
কার্যালয় উদ্বোধনের পর আবাদ পুকুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় রাণীনগর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে যুবদল, শ্রমিক দল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীসহ বিপুলসংখ্যক সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।
অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মোজ্জাকির হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মাহামুদ হাসান বেলাল, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মতিউর রহমান উজ্জ্বল, ওসি জাকারিয়া মণ্ডলসহ দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীবৃন্দ।
নতুন কার্যালয় উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এলাকায় দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে নেতৃবৃন্দ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ব্রাজিল-মরোক্ক ম্যাচের ফলাফল জানালো সুপার কম্পিউটার

ফিফা বিশ্বকাপে হেক্সা জয়ের মিশন নিয়ে মাঠে নামছে ব্রাজিল। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে  গ্রুপ ‘সি’-এর বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচে ফুটবল পরাশক্তি ব্রাজিলের বিপরীতে খেলবে আফ্রিকার সবেচেয় শক্তিশালী দল মরক্কো।

 

এদিকে ম্যাচের আগে স্পোর্টস কাস্টিংয়ের সুপারকম্পিউটার বিশ্লেষণে ব্রাজিলকে স্পষ্ট ফেভারিট হিসেবে দেখানো হয়েছে। মডেলটির হিসাব অনুযায়ী, ব্রাজিলের জয়ের সম্ভাবনা ৫৫.৩ শতাংশ, যেখানে মরক্কোর জয়ের সম্ভাবনা মাত্র ১৯.২ শতাংশ। অন্যদিকে ড্র হওয়ার সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ২৫.৪ শতাংশ।

 

বিশ্লেষণে সবচেয়ে সম্ভাব্য ফলাফল হিসেবে উঠে এসেছে ব্রাজিলের ১-০ গোলের জয়। এই স্কোরলাইনের সম্ভাবনা ১৪.৭ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২-০ ব্যবধানে ব্রাজিলের জয়ের সম্ভাবনাও উল্লেখযোগ্য।

 

নতুন কোচ কার্লো আনচেলত্তিরর অধীনে ব্রাজিলের আক্রমণভাগে আছেন তারকা ফুটবলার ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়া, ইগরে থিয়াগো ও এন্দ্রিকের মতো তারকারা। তাদের উপস্থিতি ব্রাজিলকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

 

অন্যদিকে মরক্কোও সহজ প্রতিপক্ষ নয়। ২০২২ বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে সেমিফাইনালে ওঠা দলটি এবারও আত্মবিশ্বাসী। দলের অন্যতম ভরসা আশরাফ হাকিমি ও সুফিয়ান আমরাবাত। তবে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের ফিটনেস নিয়ে শঙ্কা থাকায় মরক্কো কিছুটা চাপে রয়েছে।

 

সুপারকম্পিউটারের মতে, ম্যাচটিতে গোলসংখ্যা কম হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ফলে ব্রাজিলের জয় এবং ২.৫ গোলের নিচে ম্যাচ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে শক্তিশালী পূর্বাভাস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

সবশেষে পরিসংখ্যান ও সম্ভাবনার বিচারে ব্রাজিল এগিয়ে থাকলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে চমক দেখানোর সামর্থ্য মরক্কোর রয়েছে। তবে সুপারকম্পিউটারের পূর্বাভাস বলছে, এই লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসতে পারে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।

 

নুরকে আমরা নেতা বানাইছিলাম, তিনি আম্মা ডাকছিলেন হাসিনারে’

ডাকসুর সাবেক ভিপি ও প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, যেখানে নুরের অতীত টেনে সমালোচনা করেছেন তিনি।

 

শনিবার সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে মনিরা শারমিন লেখেন, ‘নুরুল হক নুর, আমার সহযোদ্ধা যতবার বলেন জুলাই আন্দোলনের ছাত্রদের তারা তৈরি করেছে, ততবার আমার মনে পড়ে পুরনো দিনের কথা। যখন নুরকে আমরা নেতা বানাইছিলাম, কিন্তু তিনি “আম্মা” ডাকছিলেন হাসিনারে।’

 

 

জাতীয় নাগরিক পার্টির অঙ্গ সংগঠন ‘জাতীয় নারীশক্তি’-র কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মনিরা শারমিন জামায়াত জোটের পক্ষ থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তবে, আইনি জটিলতায় তার প্রার্থিতা বাতিল হয়।

 

২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে কবি সুফিয়া কামাল হল সংসদের জিএস নির্বাচিত হয়েছিলেন মনিরা শারমিন। সেবারের নির্বাচনেই ভিপি হয়েছিলেন নুরুল হক নুর।

সিরাজগঞ্জে ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত “৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ” বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সিরাজগঞ্জে আনুষ্ঠানিকভাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।

 

 

শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে সিরাজগঞ্জ কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম। এ সময় শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

 

 

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও সিরাজগঞ্জ কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শাহাদত হুসেইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) গণপতি রায়, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু, মুক্তিযোদ্ধা দলের আহ্বায়ক আজিজুর রহমান দুলাল প্রমূখ।

 

 

৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষেরোপণ করার ঘোষাণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী প্রতিটি জেলার জন্য পৃথকভাবে বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

 

এরই ধারাবাহিকতায় সিরাজগঞ্জে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। সেই সঙ্গে এদিন শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রায় আড়াই হাজার গাছ বিতরণ করা হয়েছে।

 

 

ফুলবাড়ীতে ২৯ বিজিবির অভিযান: ভারতীয় ট্যাবলেট ও ইস্কফ উদ্ধার

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯ বিজিবি) পৃথক অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ২ লক্ষ ৪৬ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের ভারতীয় নেশাজাতীয় ট্যাবলেট এবং ইস্কফ সিরাপ আটক করেছে।
আজ শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ২৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফ-উজ-জামান।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, আজ শনিবার ভোর আনুমানিক ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ মনিপুর এবং খানপুর বিওপি সীমান্ত এলাকায় পৃথক দুটি মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় ২,৯৬০ পিস ভারতীয় নেশাজাতীয় ট্যাবলেট এবং ২৫ বোতল ইস্কফ সিরাপ আটক করা হয়। আটককৃত এসব মাদকদ্রব্যের আনুমানিক সিজার মূল্য ২ লক্ষ ৪৬ হাজার ৮০০ টাকা।
২৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফ-উজ-জামান জানান, সীমান্তে চোরাচালান ও মাদক প্রতিরোধে বিজিবির এই ধরনের কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল কোচিংগামী শিক্ষার্থীর

ঠাকুরগাঁওয়ে কোচিং শেষে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এক শিক্ষার্থী। শনিবার (১৩ জুন) সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে রাণীশংকৈল উপজেলার পৌর শহরের বন্দর এলাকার কুয়েত মসজিদ সংলগ্ন পাকা সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

 

নিহত শিবা রাণী (১৫) ওই এলাকার গোবিলাল ও সুমি রানীর একমাত্র সন্তান।

 

 

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কোচিং শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে উপজেলার ওমরাডাঙ্গী সড়কের কুয়েত মসজিদ ও স্থানীয় জামায়াত অফিস সংলগ্ন এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় শিবা রাণী একটি দ্রুতগতির সেলোমেশিনচালিত ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ট্রাকটির গতি এতটাই বেশি ছিল যে শিবা রাণী রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে যায়। মাথায় মারাত্মক আঘাত লাগায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন ঘাতক যানটিকে আটকের চেষ্টা করেন। এসময় চালক পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে এলাকাবাসি তাক আটক করে বেঁধে রাখে। এ নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে রাণীশংকৈল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শুরু করে।

আটক ট্রাকচালকের নাম বাবলু হোসেন। তিনি উপজেলার নন্দুয়ার ইউনিয়নের বলিদ্বারা গ্রামের রফিজ উদ্দিনের ছেলে বলে পরিচয় দিয়েছেন।

 

 

নিহতের মা সুমি রানী বলেন, সকালে তো হাসিমুখে কোচিংয়ে গেল, আমার মেয়েটা এভাবে লাশ হয়ে ফিরে আসবে, কখনো ভাবিনি।

 

 

এদিকে মেয়ের নিস্তব্ধ মুখের দিকে তাকিয়ে নির্বাক হয়ে বসে ছিলেন বাবা। যেন মুহূর্তের মধ্যেই তাদের সমস্ত স্বপ্ন, আশা আর ভবিষ্যৎ ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। শিবার মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো এলাকার মানুষের হৃদয়ে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে।

 

 

এই মর্মান্তিক ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা সড়কে নিরাপত্তা জোরদার, বেপরোয়া যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

 

 

রাণীশংকৈল থানার ওসি আমানুল্লাহ আল বারী জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেম নিয়ে ব্রাজিলের মিডিয়ায় বিশেষ প্রতিবেদন

বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হতে না হতেই শুরু হয়েছে ফুটবল উন্মাদনা। তবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের হেক্সা মিশনকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশে যে তুমুল উদ্দীপনা, তা এবার বেশ বড়সড় জায়গা করে নিয়েছে খোদ ব্রাজিলের মূলধারার সংবাদমাধ্যমে। হাজার হাজার মাইল দূরের এক দেশের মানুষ কীভাবে সেলেসাওদের রঙে নিজেদের রাঙিয়ে তুলেছে, তা নিয়ে রীতিমতো বিস্ময় ও মুগ্ধতা প্রকাশ করেছে ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম গি গ্লোবো।

 

 

রোববার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচকে সামনে রেখে বাংলাদেশের এই ‘সবুজ-হলুদ’ জ্বর এখন লাতিন আমেরিকার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

 

 

ব্রাজিলিয়ান গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, কীভাবে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে বাংলাদেশের অলিগলি, ছাদ আর রাস্তাঘাট ব্রাজিলের পতাকায় ছেয়ে যাওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। লাতিন আমেরিকার সাংবাদিকেরা অবাক হয়ে দেখছেন, ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিকভাবে সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং ফিফা র‍্যাংকিংয়ে ১৮১তম অবস্থানে থাকা ১৭ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার এই দেশটিতে নিজেদের ফুটবল সাফল্য না থাকলেও, ফুটবল নিয়ে আবেগ কতটা আকাশচুম্বী

ব্রাজিলিয়ানদের কাছে এটি অত্যন্ত চমকপ্রদ যে, বিশ্বকাপের সময় বাংলাদেশের মানুষ নিজেদের লাল-সবুজ পতাকার পাশাপাশি ব্রাজিলের সবুজ-হলুদ (কিংবা আর্জেন্টিনার আকাশী-সাদা) রঙে পুরো দেশকে মুড়িয়ে দেয়।

ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যমগুলো এই ভালোবাসার পেছনের ইতিহাসও তাদের পাঠকদের সামনে তুলে ধরেছে। সেখানে বলা হয়েছে, গত শতাব্দীর ষাটের দশকে পেলে-গারিঞ্চাদের জাদুকরী ফুটবল যখন বিশ্ব জয় করছিল, তখন থেকেই বাংলাদেশে এই প্রেমের শুরু। পরবর্তীতে আশির দশকে জিকো-সক্রেটিসদের যুগে রঙিন টেলিভিশনের আগমন এই উন্মাদনাকে স্থায়ী রূপ দেয়। বাংলাদেশিদের এই অবিশ্বাস্য ফুটবল আবেগকে ফ্রেমবন্দি করে গ্লোবোপ্লেতে একটি প্রামাণ্যচিত্রও মুক্তি পেয়েছে, যার নাম ‘ঢাকা ভাইব্রা – ফুটবল অ্যাডভেঞ্চারস ইন বাংলাদেশ।’

 

 

 

এই প্রামাণ্যচিত্রের পরিচালক ও অস্কার মনোনীত চলচ্চিত্রের সাথে যুক্ত রাফায়েল বারগামাস্কি বাংলাদেশের মাটিতে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘একজন ব্রাজিলিয়ান হিসেবে ঢাকায় গিয়ে আমি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলাম। বাংলাদেশিরা যেভাবে আমাদের ফুটবল সংস্কৃতি, আমাদের খেলোয়াড় আর আর্জেন্টিনার সাথে আমাদের ঐতিহ্যবাহী চিরবৈরিতাকে পুরোপুরি নিজেদের করে নিয়েছে, তা সত্যিই অসাধারণ।’

 

 

 

রাজধানী ঢাকার দেয়ালে দেয়ালে পেলে, রোনালদো ও নেইমারদের বিশাল সব দেয়ালচিত্রের কথাও বেশ গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করছে তাদের সংবাদমাধ্যম।

তবে এই উন্মাদনার একটি উদ্বেগের দিকও ব্রাজিলিয়ানদের নজরে এসেছে। অতি-উত্তেজনার জেরে সম্প্রতি বাংলাদেশের হবিগঞ্জে দুই দলের সমর্থকদের প্রীতি ম্যাচকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হওয়ার ঘটনাটি তারা বেশ গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে। অবশ্য এই বিচ্ছিন্ন সহিংসতা ছাপিয়ে ব্রাজিলিয়ান গণমাধ্যমের মূল ফোকাস বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের নিঃশর্ত ভালোবাসার দিকেই। ভোরে যখন মাঠের লড়াইয়ে নামবেন ভিনিসিয়ুস-রাফিনিয়ারা, তখন হাজার মাইল দূরের ঢাকাও যে তাদের সঙ্গে সমস্বরে চিৎকার করবে, লাতিন আমেরিকার এই ফুটবল পরাশক্তি এখন তা বেশ ভালো করেই জানে।

পাকিস্তানে সামরিক অভিযানে ২১ সন্ত্রাসী নিহত, টার্গেটে শীর্ষ জঙ্গিরা

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার উত্তর ওয়াজিরিস্তান জেলার মিরানশাহ এলাকায় গত তিন দিনে পরিচালিত গোয়েন্দা অভিযানে ২১ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর।

 

 

শনিবার (১৩ জুন) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইএসপিআর জানায়, উত্তর ওয়াজিরিস্তানে চলমান ধারাবাহিক গোয়েন্দা অভিযানগুলোর অংশ হিসেবে নিরাপত্তা বাহিনী মিরানশাহ ও আশপাশের এলাকায় একাধিক সন্ত্রাসী আস্তানায় অভিযান চালায়। খবর জিও নিউজের।

 

 

বিবৃতিতে বলা হয়, তীব্র গোলাগুলির পর আরও ২১ সন্ত্রাসী নিহত হয়। নিহতদের মধ্যে চারজন শীর্ষ সন্ত্রাসী নেতা রয়েছেন। তারা হলেন খালিদ রাজা ওরফে সালার, মুফতুন, মুসা এবং ইমরান ওরফে আয়ান।

আইএসপিআর জানায়, নিহত এসব নেতার বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের হত্যাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। তারা দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অত্যন্ত ওয়ান্টেড ছিলেন।

এর আগে গত সপ্তাহে একই এলাকায় পরিচালিত আরেকটি অভিযানে ২৭ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছিল বলে জানায় সামরিক বাহিনী। ফলে সাম্প্রতিক এসব অভিযানে মোট ৪৮ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযানে নিহতদের কাছ থেকে বিপুল সংখ্যক অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, এসব সন্ত্রাসী বিভিন্ন হামলা এবং নিরীহ মানুষকে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল।

 

 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এলাকায় লুকিয়ে থাকা সন্ত্রাসীদের নির্মূলে তল্লাশি ও নিরাপত্তা অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জাতীয় কর্মপরিকল্পনার আওতায় অনুমোদিত ‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পূর্ণ গতিতে চালিয়ে যাওয়া হবে।

 

 

এদিকে দেশটিতে চলমান সন্ত্রাসবিরোধী তৎপরতার অংশ হিসেবে সম্প্রতি আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকাতেও অভিযান চালানো হয়েছে। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানান, সাম্প্রতিক কয়েকটি সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে জড়িত পরিকল্পনাকারীদের আস্তানা লক্ষ্য করে সীমান্ত এলাকায় নির্ভুল ও পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত ২৬ জন সশস্ত্র সদস্য নিহত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

 

 

১৫ বছর পার, তবুও বকেয়া পাননি গ্রামীণফোনের কর্মীরা

দেড় দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও মেলেনি শ্রমিকের ন্যায্য প্রাপ্য অর্থ। শ্রমিক লভ্যাংশ তহবিলের (ডব্লিউপিপিএফ) ৫ শতাংশ বকেয়া পাওনার দাবিতে আবারও রাজপথে নেমেছেন দেশের শীর্ষ মুঠোফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীরা।

 

 

তাদের অভিযোগ- দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে প্রায় চার হাজার কর্মী ও তাদের পরিবারকে এই লভ্যাংশ থেকে বঞ্চিত করে রেখেছে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ।

 

 

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলীতে গ্রামীণফোনের আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে ‘গ্রামীণফোন ৫ শতাংশ বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে এক মানববন্ধন ও গণ-অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। এই কর্মসূচিতে প্রতিষ্ঠানের অর্ধশতাধিক সাবেক কর্মী অংশ নেন।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সাবেক কর্মীদের অনেকের হাতে ছিল দাবি-সংবলিত প্ল্যাকার্ড। কেউ কেউ বলছিলেন দীর্ঘ অপেক্ষার কথা, কেউ বলছিলেন জীবনের অপূর্ণ স্বপ্নের কথা।

সাবেক এক কর্মী আহসানুল হক বলেন, আমি ১৫ বছর গ্রামীণফোনে কাজ করেছি। প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে নিজের শ্রম ও মেধা দিয়েছি; কিন্তু অবসরের পরও প্রাপ্য অর্থের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আদালতের আইনি প্রক্রিয়াও শেষ হয়েছে। এখন আর বিলম্বের কোনো কারণ দেখি না।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার কারণে বছরের পর বছর তাদের পাওনা আটকে রাখা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে অনেক সাবেক কর্মী মারা গেছেন। কেউ কেউ অসুস্থতা ও আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

 

 

চট্টগ্রামের সমন্বয়কারী সুলেমান মেহেদী বলেন, প্রায় চার হাজার সাবেক কর্মী ও তাদের পরিবার এই অর্থ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। আমরা সংঘাত নয়, আলোচনার মাধ্যমে একটি সম্মানজনক সমাধান চাই।

শফিকুল হত্যার জট খুলল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নওগাঁয় পুরাতন মোবাইল ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুজনকে গ্রপ্তার করেছে পুলিশ। এসময় দেশীয় অস্ত্রসহ নিহত শফিকুলের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরও একজন পলাতক আছে।

 

 

নিহত শফিকুল ইসলাম জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার তিলেকপুর গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে। গ্রেপ্তার দুজন হলেন- নওগাঁ সদর উপজেলার ভিমপুর পাঠাকাটা এলাকার সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে জয়নুল (৩৫) ও জেলার মান্দা উপজেলার সতীহাট শ্রীরামপুর এলাকার এরশাদ আলীর ছেলে আশরাফুল (২৬)।

 

 

শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে সদর মডেল থানায় সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। এর আগে শুক্রবার (১২ জুন) পৌর শহর ও মান্দা উপজেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সদর উপজেলার বারমাসি বিলে কচুরিপানার নিচ থেকে শফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত শফিকুল পুরাতন মোবাইল ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য ব্যাবসা করতেন। লোভ এবং ব্যবসায় কিছুটা লাভবান হওয়ায় ঈর্ষান্বিত হয়ে তার পূর্বপরিচিত জয়নুল, আশরাফুলসহ তিনজন গত ৭ জুন মান্দার সুতিহাটে শফিকুলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৮ জুন শফিকুলকে ভীমপুর কলেজ মোড়ে আসতে বললে সেখান থেকে দুটি মোটরসাইকেলে করে বারোমাসি বিলের পার ঘাঁটি ব্রিজে যায় তারা। সেখানে হঠাৎ করে পেছন থেকে একজন পলাতক আসামি রশি দিয়ে শফিকুলের গলায় টান দেয়। আসামি জয়নুল হাত ও আশরাফুল পা চেপে ধরে। তারপর সে নিস্তেজ হয়ে গেলে তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে তারা তিনজনে পানিতে ডুবিয়ে কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রেখে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, মরদেহ উদ্ধারের পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটনে তদন্তে নামে পুলিশের একটি টিম। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকা জয়নুলকে প্রথমে শহরের একটি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে মান্দা উপজেলা থেকে আশরাফুলকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর জয়নুল এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা স্বীকার করে। হত্যা পর শফিকুলের কাছে থাকা ১৫০০ টাকা তিনজন ভাগাভাগি করে শফিকুলের মোটরসাইকেল নিয়ে যায়।

 

 

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, জয়ব্রত পাল ও সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নাঈমকে নিয়ে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানালেন তামিম

চট্টগ্রামে জাতীয় দলের স্পিনার নাঈম হাসানের ওপর পুলিশি নির্যাতনের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল। অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার পর ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থার দাবিতে শক্ত অবস্থান নিয়েছে বিসিবি।

 

 

শুক্রবার রাতে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ খেলে চট্টগ্রামে নিজের বাসায় ফেরার পথে লালখান বাজার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের হাতে লাঞ্ছিত ও মারধরের শিকার হন নাঈম। ঘটনাটি জানার পরপরই গভীর রাতে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেন খোদ বিসিবি সভাপতি।

 

 

এ প্রসঙ্গে ফেসবুকে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, ‘নাঈম হাসানের সঙ্গে গত রাতে যা হয়েছে, কোনোভাবেই তা গ্রহণযোগ্য নয়। রাতে নাঈম আমাকে ফোন করার পর থেকে তাৎক্ষণিকভাবে যা যা করা দরকার, করার চেষ্টা করেছি আমি ও অন্য বোর্ড পরিচালকরা। সংশ্লিষ্ট সব জায়গায় আমরা কথা বলছি, নাঈম ও তার পরিবারের সঙ্গেও নিবিড় যোগাযোগ রাখছি।’

ক্রিকেটারদের সুরক্ষায় বোর্ডের অনড় অবস্থানের কথা জানিয়ে বিসিবি সভাপতি আরও বলেন, ‘বিসিবির পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে আজকে সকালেই। এরপর আরো যা যা করণীয় আছে, সবকিছু করব আমরা। নাঈম ও সব ক্রিকেটারের পাশে আমরা আছি সবসময়।’

নাঈমের হেনস্তার প্রতিবাদ জানিয়েছেন মুশফিকুর রহিম, তাসকিন আহমেদরাও। তাসকিন নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে লিখেছেন, ‘জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাইম হাসানের সঙ্গে পুলিশের এমন ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।’ ফেসবুকে মুশফিক লিখেছেন, ‘নাঈমের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।যা ঘটেছে, তা আমাকে ব্যথিত ও লজ্জিত করেছে। একজন নাগরিক হিসেবে, একজন বাংলাদেশি হিসেবে আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। নাঈম, আমরা তোমার পাশে আছি।’

নাঈমের হেনস্তার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চেয়ে টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাস ফেসবুকে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘মাথা উঁচু রাখো নাঈম। তুমি একজন ভালো মানুষ। নাঈম হাসানের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। খুবই হৃদয়বিদারক এটা।’

 

 

শনিবার সকালে দেওয়া বিসিবির আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই নজিরবিহীন ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবও পৃথক বিবৃতিতে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি তোলে।

 

 

বিসিবি সভাপতির এমন শক্ত তৎপরতার মধ্যেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘটনার সত্যতা পেয়ে খুলশী থানার এক উপপরিদর্শকসহ (এসআই) তিন পুলিশ সদস্যকে ইতিমধ্যে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান।

 

কক্সবাজার সফরে সাফারি পার্ক পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে কক্সবাজারের ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করেছেন।

 

 

শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে পিএমখালি ইউনিয়নের পাতলী খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করেন তারা। এসময় পার্কের ভেতরের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং প্রধানমন্ত্রী খুবই উচ্ছ্বসিত ছিলেন।

 

 

এ সময় সাফারি পার্কের মূল ফটকের সামনে একটি নাগলিঙ্গম গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি সাফারি পার্কের স্মারক বইয়ে স্বাক্ষর করেন। একইসঙ্গে স্মারক বইয়ে স্বাক্ষর করেন ডা. জুবাইদা রহমানও।

এর আগে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।

এর আগে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজার বিমানবন্দরে নেমে মুষল বৃষ্টির মধ্যে নিজেই গাড়ি চালিয়ে খাল খনন কর্মসূচির স্থলে যান। পাশের আসনে বসান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে।

এরপর সেখান থেকে আবারও নিজে গাড়ি চালিয়ে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে আসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

 

এ সময় পুরো রাস্তাজুড়ে হাজার হাজার স্থানীয় সাধারণ জনগণ এবং দলীয় নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ফুল ছিটিয়ে ও হাত নেড়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং স্লোগান দিতে থাকেন।

 

 

দীর্ঘ সমুদ্রসৈকতের জন্য পরিচিত কক্সবাজারে বহু পর্যটক গেলেও জেলার অন্যতম আকর্ষণ এই সাফারি পার্ক। এটি দেশের প্রথম সাফারি পার্ক। পাহাড়, বন, জলাধার আর উন্মুক্ত পরিবেশে বিচরণকারী শত শত প্রাণী নিয়ে গড়ে উঠেছে এই অনন্য বন্য প্রাণীর জগৎ।

 

 

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারায় অবস্থিত পার্কটি। চট্টগ্রাম শহর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ১০৭ কিলোমিটার। কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ৪৭ কিলোমিটার। এই সাফারি পার্কের যাত্রা শুরু ১৯৮০-৮১ অর্থবছরে। তখন ৪২ দশমিক ৫ হেক্টর বনভূমি নিয়ে এখানে একটি হরিণ প্রজননকেন্দ্র গড়ে তোলে বন বিভাগ। পরে দেশের প্রথম সাফারি পার্ক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সমাধান কি হাসপাতাল বন্ধ, নাকি জবাবদিহি নিশ্চিত করা?

সম্প্রতি রাজধানীর মগবাজারে আদ্‌-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিলের কথা এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। নবজাতকদের এই মর্মান্তিক মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

 

 

এ ঘটনার সুষ্ঠু ও‌‌ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। তবে একইসঙ্গে একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আসে- ভুল বা অপরাধ কী কোনো প্রতিষ্ঠান করে, নাকি তা করে ব্যক্তি?

 

 

বাস্তবতা হলো, কোনো প্রতিষ্ঠান ভুল বা অপরাধ করে না; বরং ভুল বা অপরাধ করে ব্যক্তি- চিকিৎসক, কর্মকর্তা, কর্মচারী কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। একটি হাসপাতাল কোনো সাধারণ প্রতিষ্ঠান নয়; এটি মানুষের জীবন, স্বাস্থ্যসেবা, আস্থা, আশা এবং কর্মসংস্থানের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। একটি হাসপাতাল গড়ে ওঠে দীর্ঘ সময়, বিপুল বিনিয়োগ, দক্ষ জনবল, ত্যাগ এবং সামাজিক আস্থার ভিত্তিতে। বিশেষত যেসব প্রতিষ্ঠান তুলনামূলক কম খরচে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে সাধারণ মানুষের নির্ভরতার জায়গা হয়ে উঠেছে, সেগুলোর কার্যক্রম হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, আদ্‌-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ১৯৯৭ সালে যাত্রা শুরু করে এবং সময়ের পরিক্রমায় এটি একটি বৃহৎ সেবামূলক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। একই প্রাঙ্গণে অবস্থিত আদ্‌-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজ ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ওই বছরের ডিসেম্বর থেকে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটিতে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। বর্তমানে সেখানে কয়েকশত শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। পাশাপাশি হাসপাতালটিতে বিপুলসংখ্যক চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। এ হাসপাতালে শালীনতা ও ধর্মীয় সংবেদনশীলতার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়। মা ও শিশু স্বাস্থ্যে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা, মেডিকেল শিক্ষা কার্যক্রম এবং ২৪ ঘণ্টা জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাজনিত মৃত্যু বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নতুন নয়। বিভিন্ন সময়ে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতালে ভাঙচুর, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা কিংবা উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে দেখা যায়। ফলে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান দিন দিন অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হচ্ছে। এ বাস্তবতায় স্বাস্থ্যখাতে জবাবদিহিতা যেমন জরুরি, তেমনি সেবার পরিবেশ ও ধারাবাহিকতা রক্ষা করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এদেশের বাস্তবতায় সরকারি হাসপাতালগুলো এখনো জনসংখ্যার তুলনায় অপ্রতুল এবং মৌলিক স্বাস্থ্যসেবাও নিশ্চিত করতে পারছে না। এ অবস্থায় বেসরকারি খাত দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। সরকারের একক প্রচেষ্টায় দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত কঠিন। ফলে অযাচিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স্বাস্থ্যখাতে বেসরকারি বিনিয়োগ ও অংশগ্রহণকে নিরুৎসাহিত করা হলে তার দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে অপেক্ষাকৃত কম খরচে চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী হাসপাতালগুলোর কার্যক্রম হঠাৎ স্থগিত হলে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে প্রত্যাশা- আইনের প্রয়োগ যেন কখনোই কোনো বিশেষ প্রতিষ্ঠান, গোষ্ঠী বা শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। বলা বাহুল্য, আমাদের সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তাই শুধু স্বাস্থ্যখাতেই নয়, শিক্ষা, বাজার নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি দমনসহ সব ক্ষেত্রেই আইনের নিরপেক্ষ, সমান ও বৈষম্যহীন প্রয়োগ নিশ্চিত হওয়া অপরিহার্য। মনে রাখতে হবে, আইনের প্রয়োগ যদি বেছে বেছে বা বৈষম্যমূলকভাবে করা হয়, তবে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে এবং জনমনে অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে।

 

 

সর্বোপরি, আদ-দ্বীন হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তবে কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তি বিশেষের সম্ভাব্য গাফিলতির দায়ে দীর্ঘদিনের সেবামূলক একটি হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়া বা এর লাইসেন্স বাতিল করা কোনো অবস্থাতেই ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত হতে পারে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত পদক্ষেপ পরিস্থিতির তুলনায় অধিক জটিল বলে মনে হচ্ছে এবং বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এটি কোনো কার্যকর সমাধান বা ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে বলেও মনে হয় না।

 

 

আমাদের দেশে যেখানে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার প্রাপ্যতা এখনো সীমিত, সেখানে একটি কার্যকর হাসপাতালের সেবা হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের ভোগান্তির কারণ হতে পারে। তাই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে হাসপাতাল বন্ধ নয়; বরং ন্যায়বিচার ও জনস্বার্থে প্রতিষ্ঠানটির স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখাই সমীচিন বলে প্রতীয়মান হয়। প্রশ্ন থেকেই যায়- আবেগতাড়িত ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে, কিংবা আইনের নিরপেক্ষ ও সর্বজনীন প্রয়োগ‌ নিশ্চিত না করে, এদেশে নিরাপদ, মানবিক ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা ও হাসপাতাল ব্যবস্থা কী গড়ে তোলা সম্ভব?

 

 

প্রফেসর ড. ফরিদ আহমদ সোবহানী

ভাইস চ্যান্সেলর

ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি, ঢাকা

 

 

সেনবাগে পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ আসামি গ্রেফতার

নোয়াখালীর সেনবাগ থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন ২০২৬ খ্রিঃ) সেনবাগ থানা পুলিশের অভিযানে সিআর গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি আব্দুল খালেক (৩২), ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মাদক ব্যবসায়ী ইস্রাফিল ওরফে শিপন (২৭) এবং নিয়মিত মামলার এজাহারনামীয় আসামি মো. আবু ইউসুফ ওরফে রাকিব (১৯)-কে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
সেনবাগ থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক ও অপরাধ দমনে তাদের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বিশ্বকাপে নামার আগে চুরির শিকার ইংল্যান্ড দল, ফুটবলারদের বুট উধাও

আসন্ন বিশ্বকাপ ফুটবলের মহারণ শুরু হওয়ার আগেই বড়সড় ধাক্কা খেল ইংল্যান্ড শিবির। যুক্তরাষ্ট্রের বেইস ক্যাম্প ক্যানসাস সিটিতে পৌঁছানোর আগেই চুরির শিকার হয়েছে থমাস টুখেলের দল। খোয়া গেছে ফুটবলারদের অনুশীলনের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম।

 

 

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে কোচ থমাস টুখেল ও তার শিষ্যদের ক্যানসাস সিটিতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তাদের আগমনের আগেই সব সরঞ্জাম বেইস ক্যাম্পে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এফএ)।

 

 

কিন্তু ক্যানসাস সিটির ‘সোয়োপ সকার ভিলেজ’ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যাওয়ার পথে সরঞ্জাম বহনকারী কয়েকটি গাড়িতে হামলা চালায় চোরেরা। গাড়িগুলোর একাংশ ভেঙে ভেতর থেকে মালামাল লুট করা হয়।

ঠিক কী কী সরঞ্জাম চুরি হয়েছে তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারেনি এফএ। তবে প্রাথমিকভাবে আশঙ্কা করা হচ্ছে অনুশীলনের জন্য নির্ধারিত অফিশিয়াল ফুটবল (বল), খেলোয়াড়দের বুট, অনুশীলনে ব্যবহৃত অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী।

শুক্রবার (১২ জুন) রাতে ঘটনার খবর পেয়েই স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা দ্রুত সোয়োপ সকার ভিলেজে ছোটেন এবং তদন্ত শুরু করেন। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিকভাবে এফএ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বুধবার (১৭ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এবারের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে থ্রি-লায়ন্সরা।

ভূমিকম্পে কাঁপল ইরাক-ইরান সীমান্ত অঞ্চল, প্রভাব মায়সানেও

ইরাক-ইরান সীমান্তবর্তী এলাকায় শনিবার সকালে একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এর কম্পন ইরাকের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মায়সান প্রদেশজুড়ে টের পান স্থানীয় বাসিন্দারা।

 

 

ভূমিকম্পটি স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৫২ মিনিটে ইরানের দেহলোরান শহরের কাছে আঘাত হানে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কিছু এলাকায় কম্পন বেশ শক্তিশালী ছিল, আবার কোথাও তা তুলনামূলকভাবে হালকা অনুভূত হয়।

 

 

তবে এখন পর্যন্ত ভূমিকম্পের মাত্রা সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি ইরাকের আবহাওয়া ও ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কর্তৃপক্ষ।

এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

ইরাকের ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিল মাসে দেশটিতে ও এর সীমান্তবর্তী এলাকায় মোট ৩৬টি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১৬টি ইরাকের ভেতরে এবং ২০টি সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সংঘটিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর স্টিয়ারিং হাতে, যাত্রী আসনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে পাশে বসিয়ে নিজেই গাড়ি চালিয়ে কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন। কর্মসূচি শেষেও নিজে গাড়ি চালিয়ে ডুলাহাজারার সাফারি পার্কে তিনি।

 

 

শনিবার (১৩ জুন) সকাল ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে কক্সবাজারে পৌঁছান তিনি। বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার পর চালকের আসনে বসে পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানস্থলের উদ্দেশে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

 

 

সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- পানিসম্পদ মন্ত্রী শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, শাহজাহান চৌধুরীসহ স্থানীয় প্রশাসন ও দলীয় নেতারা।

দিনব্যাপী এ সফরে প্রধানমন্ত্রী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন, পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, জনসভা ও সুধী সমাবেশসহ একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

সব কর্মসূচি শেষে রাতে তিনি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করবেন।

প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হলো যুবদল নেতা মাসুদকে

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ নামের এক যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

 

 

শনিবার (১৩ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

 

নিহত মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী এলাকার মৃত খালেদ চৌধুরীর ছেলে। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বেতাগী ইউনিয়ন থেকে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ছিলেন।

 

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, দুপুরে রাউজানের পাহাড়তলী চৌমুহনীতে অবস্থানকালে মাসুদকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। এলাকাবাসীর ধারণা, বালুর ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।

হত্যাকাণ্ডের খবর রাঙ্গুনিয়া ও রাউজানে ছড়িয়ে পড়লে দুই উপজেলার যুবদল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনার প্রতিবাদে কাপ্তাই সড়কের ইছাখালী (রাঙ্গুনিয়া) ও পাহাড়তলী (রাউজান) এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ কর্মী-সমর্থকরা। দুপুর ১টার পর থেকে কাপ্তাই সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

বিক্ষুব্ধ জনতা জানান, এ জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন ও সড়ক অবরোধ অব্যাহত থাকবে। তবে মানবিক কারণে শুধুমাত্র অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবার যানবাহনগুলো ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।

রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যার খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে।

 

 

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কাপ্তাই সড়কের দুই উপজেলার সীমান্ত এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ভিডিও বিতর্কে পদ হারালেন নারী প্যানেল চেয়ারম্যান

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান মোছা. খাদিজা বেগমকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

 

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি আপত্তিকর ভিডিও এবং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে অসদাচরণসহ বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় জেলা প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

 

 

জানা গেছে, গত ১০ জুন জেলা প্রশাসক অন্নাপূর্ণা দেবনাথ স্বাক্ষরিত এক আদেশে খাদিজা বেগমকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম সচল রাখতে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ফিরোজ কবিরকে প্রশাসকের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান খাদিজা বেগম। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পরিষদের একাধিক সদস্যের সঙ্গে তার বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে ইউপি সদস্যরা তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ, স্বেচ্ছাচারিতা এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন।

এরই মধ্যে কয়েকদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খাদিজা বেগমের একটি আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি এবং এর কয়েকটি স্ক্রিনশট দ্রুত ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভাইরাল হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। একজন জনপ্রতিনিধির এমন কর্মকাণ্ডে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।

 

 

অন্যদিকে, অভিযোগগুলোর বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

 

 

এ বিষয়ে খাদিজা বেগমের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

 

 

নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ. এম. খোদাদাদ হোসেন বলেন, শুধু ভিডিও ভাইরাল হওয়ার কারণে খাদিজা বেগমকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ ছিল। এসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

 

তিনি আরও বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও জনসেবা অব্যাহত রাখার স্বার্থে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

 

 

ধর্ষণের অভিযোগে শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতাকে আটক

কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর লাকসামে উদ্ধার ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও জোর করে ভ্রুণ নষ্ট করার অভিযোগে মামলা হয়েছে।

 

 

পুলিশ দাবি করছে, জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি; তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন। শুক্রবার রাতে কুমিল্লা জেলা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

 

অভিযুক্ত জিসান মিয়া প্রধান ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিমের সাবেক সভাপতি ছিলেন।

শনিবার বেলা ১টার দিকে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান বলেন, ভুক্তভোগীর করা মামলায় জিসান মিয়া প্রধান আসামি। তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশি হেফাজতে চিকিৎসাধীন।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, জিসান মিয়া প্রধান গত ২০ মে দাউদকান্দিতে তার ভাড়া বাসায় ওই তরুণীকে নিয়ে যান। সেখানে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হলে ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে তার গর্ভের ভ্রূণ নষ্ট করা হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ঘটনার পর তিনি জিসানের কাছে বিয়ের দাবি জানালে জিসান প্রথমে সম্মতি দিলেও পরে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে গত বৃহস্পতিবার তিনি আত্মগোপনে চলে যান। একই সময় তার চাচাতো ভাই রাসেল আহমেদের মাধ্যমে থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

 

 

এদিকে, নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর শুক্রবার রাতে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে জিসানকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

 

 

দাউদকান্দি মডেল থানার তদন্ত পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) সামছুল আলম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে অপহরণের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং ব্যক্তিগত ও প্রতারণামূলক একটি ঘটনার জেরে জিসান নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে এক নারী ধর্ষণ, ভ্রূণ নষ্টসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে মামলা করেছেন।

 

ফিলিপাইনে ভূমিকম্পের তাণ্ডব, প্রাণহানি বেড়ে ৬১

ফিলিপাইনের মিন্দানাও অঞ্চলে চলতি সপ্তাহে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬১ জনে পৌঁছেছে। শনিবার দেশটির কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে এখনও উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

 

 

ফিলিপাইনের বেসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তর জানায়, ধ্বংসস্তূপ ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে আরও মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে।

 

 

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত ৩৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১,২২১ জন।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিধস ও ভবন ধসের ঘটনায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে জরুরি সেবা কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। জীবিতদের খোঁজার পাশাপাশি নিহতদের মরদেহ উদ্ধারের কাজও চলছে।

ভূমিকম্পে মিন্দানাও অঞ্চলে মোট ৫ লাখ ৫৩ হাজার ৬৮ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে প্রায় ৯ হাজার ৩৯৩ জন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। এছাড়া ৫৪ হাজার ২৭৪ জন আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের বাড়িতে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিয়েছেন।

 

 

প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির হিসাবে দেখা গেছে, ৮ হাজার ৮৬৫টি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং আরও ৩৬ হাজার ৬৯১টি বাড়ি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 

 

উদ্ধারকাজে বারবার আফটারশক, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে অনেক দুর্গত এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধার সহায়তা পৌঁছাতে বিলম্ব হচ্ছে।

 

 

চলতি সপ্তাহে মিন্দানাও উপকূলের কাছে আঘাত হানে ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প। এতে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘরবাড়ি, স্কুল, হাসপাতালসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

ঝিনাইদহে কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টা, রিকশাচালককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে প্রতিবেশী এক কিশোরীকে (১১) ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মীর ফারুক (৪০) নামের এক রিকশাচালককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী।

 

 

শনিবার (১৩ জুন) সকালে উপজেলার বলিদাপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

 

 

অভিযুক্ত মীর ফারুক ঝিনাইদহ সদর উপজেলার চণ্ডিপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা।

 

 

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বলিদাপাড়া এলাকার একটি ভবনের ফ্ল্যাটে সাবলেট হিসেবে সপরিবারে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছিলেন মীর ফারুক। শুক্রবার দিবাগত রাতে একই ফ্ল্যাটে সাবলেটে থাকা প্রতিবেশীর ১১ বছরের কন্যাসন্তানকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান ফারুক। শনিবার সকালে ভুক্তভোগী শিশুটি বিষয়টি তার মাকে জানায়।

পরবর্তীতে ঘটনাটি জানাজানি হলে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত ফারুককে আটক করে গণপিটুনি দেয় এবং পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফারুককে উদ্ধার করে। গণপিটুনিতে আহত হওয়ায় তাকে চিকিৎসার জন্য কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন জানান, এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তাড়াশে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার শপথ

মাদকের বিষাক্ত ছোবল নির্মূল এবং আগামীর প্রজন্মকে একটি সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ উপহার দেওয়ার লক্ষ্যে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের মাঝদক্ষিনা গ্রামে মাদকবিরোধী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দেশীগ্রাম এন্টি ড্রাগস এন্ড ক্রাইম ইউনিটের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং এলাকার সচেতন মাঝদক্ষিনা যুব সমাজের আন্তরিক সহযোগিতায় গ্রামের খোলা মাঠে এ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় মুরুব্বি, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিত ছিলেন। মাঠজুড়ে মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে এলাকাবাসী মাদকের বিরুদ্ধে কতটা সোচ্চার।
সভায় বক্তারা মাদকের ভয়াবহ কুফল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তারা বলেন, মাদক শুধু একজন মানুষের জীবনই নষ্ট করে না, এটি একটি পরিবারকে তিলে তিলে শেষ করে দেয়। মাদকের কারণে যুবসমাজ নৈতিকতা হারাচ্ছে, বাড়ছে সামাজিক অপরাধ। তাই সময় থাকতেই সবাইকে সচেতন হতে হবে। বক্তারা বিশেষভাবে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমরাই জাতির ভবিষ্যৎ। মাদককে না বলে বই-খাতা ও খেলাধুলার সাথে থাকো। তোমাদের হাত ধরেই দেশ এগিয়ে যাবে।
আলোচনার এক পর্যায়ে বক্তারা মাদক ব্যবসায়ীদের সামাজিকভাবে বয়কট করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি এলাকায় মাদক সংক্রান্ত কোনো তথ্য পেলে তাৎক্ষণিকভাবে দেশীগ্রাম এন্টি ড্রাগস ইউনিট বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর পরামর্শ দেন। যুবসমাজের উদ্যোগে নিয়মিত খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেও তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখার কথা বলা হয়।
সভার শেষ দিকে উপস্থিত সকলে মাদকমুক্ত দেশীগ্রাম ইউনিয়ন গড়ার শপথ নেন। দেশীগ্রাম এন্টি ড্রাগস এন্ড ক্রাইম ইউনিটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শুধু এই সভার মধ্য দিয়েই তাদের কার্যক্রম শেষ হবে না। ভবিষ্যতে ইউনিয়নের প্রতিটি এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হবে এবং স্কুল-কলেজগুলোতে সেমিনারের আয়োজন করা হবে। মাঝদক্ষিনা যুব সমাজের সদস্যরা বলেন, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতা পেলে তারা মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে সর্বদা মাঠে থাকবেন।
এমন সুন্দর আয়োজনের জন্য এলাকাবাসী দেশীগ্রাম এন্টি ড্রাগস ইউনিট এবং মাঝদক্ষিনা যুব সমাজকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অটোরিকশা ছিনতাই: ভুরুঙ্গামারীতে গ্রেপ্তার ২

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ছিনতাইকারী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন ফেরদৌস রহমান অন্তর (২৮) ও মাসুদ মিয়া (২৫)। আটককৃত ছিনতাইকারীদের কাছে থেকে তিন পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে পুলিশ।
কুড়িগ্রাম ভুরুঙ্গামারী উপজেলার বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ ভরতের ছড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গত ৩১ মে সকাল ৮ টা থেকে ১১ টার মধ্যে ছিনতাইকারী তাদের অবৈধ পন্থা ব্যবহার করে অটোরিকশা ছিনতাই করে নিয়ে যায়।
প্রথমে যাত্রী বেসে রিক্সায় উঠেন ছিনতাইকারীর দল। এরপর ভুরুঙ্গামারী বাসস্ট্যান্ড থেকে নাগেশ্বরী পথে রওনা হন। যাত্রা পথে দুর্বৃত্তরা রিক্সা চালক মোঃ রকি (১৯) কে কৌশলে ক্যামিক্যাল যুক্ত পানি পান করান। তারপরে অসুস্থ হয়ে নেতিয়ে পড়েন চালক। অসচেতন অবস্থায় রিক্সা থেকে রকি কে নামিয়ে রিক্সা নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যান ছিনতাইকারী।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে তার নানা মোঃ রুস্তম আলী (৭৩) ভুরুঙ্গামারী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরে অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে একটি রিক্সা চোর ও ছিনতাই চক্রের খবর পেয়ে আটক অভিযান শুরু করেন।

মন্দিরের সম্পত্তি রক্ষায় শরীয়তপুরে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সমাবেশ

শরীয়তপুর সদর উপজেলার বুড়িরহাট বাজারস্থ শ্রী শ্রী রাধা মাধব মন্দিরের সম্পত্তি রক্ষা ও উদ্ধারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়। শনিবার (১৩ জুন) বেলা ১২ টার দিকে শ্রী শ্রী রাধা মাধব মন্দিরের ভক্তবৃন্দের ব্যানারে বুড়িরহাটে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

 

 

 

ওই মন্দিরের সভাপতি বিশ্বনাথ বোস ও সাধারন সম্পাদক রাম কৃষ্ণ দেবনাথের নেতৃত্বে এ কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যক হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন অংশ্রগ্রহণ করেন।

 

 

 

 

কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, শরীয়তপুর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সাধারন সম্পাদক মানিক ব্যানার্জী কুটচাল করে মন্দিরের সম্পত্তি নিজ নামে জাল দলিল করে নেয়। বারবার ওই সম্পত্তি ফেরত দিবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েও কথা রাখেনি। আমরা ভূমিদস্যু মানিক ব্যানার্জীর কালো ধাবা থেকে মন্দিরের সম্পত্তি রক্ষা চাই। এজন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, জাতীয় সংসদের হুইপ ও শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম এবং শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. সফিকুর রহমান কিরনের কাছে সুদৃষ্টি কামনা করছি।

 

হারানো দিনের স্মৃতি

মহসিন আলম মুহিন

 

 

হারানো দিনের স্মৃতি,পুরনো দিনের যত গীতি,
ভিড় করে কাছে ডাকে,দেখায় পুরনো প্রীতি।।
কোকিলের কুহুতান, ফুলের বাগান, বহতা নদী;
খেলার মাঠ, পুকুর ঘাট, সাথীদের নানা খুনসুটি।।
ঝড়ের দিনে আম কুড়ানো বৃষ্টি ভেজা গা,
রংধনুর সাত রং মাখা-আকাশের আঙ্গিনা।।
নানি-দাদিদের গল্প শুনে নামতো যে চোখে ঘুম,
দাদা-নানাদের বন্যার কালে-মাছ ধরার ছিলো ধুম।।
ওলাওঠার ভয়, ডায়রিয়ায় ক্ষয়, কত যে প্রিয় মুখ!
আজও কাঁদায় তাদের স্মৃতি, হাহাকার করে বুক।।
আজকের মত বিদ্যুৎ ছিলো না! ছিলো শীতল পাটি,
প্রকৃতির হাওয়ায়, তালের পাখায় স্নিগ্ধ ছিলো মাটি।।
গ্রাম-গঞ্জ, হাট-বাজার, খেলাধুলা সবখানে ছিলো মায়া,
মানুষে মানুষে মিল ছিলো বড়, ছিলোনা কালো ছায়া।।
আধুনিকতার ছোঁয়া পেলো, আজ উন্নত শহর-নগর,
তবুও কেন ফাঁকা লাগে সব, ছাড়ে না মনের ফাঁপড়।।

One thought on “ঠাকুরগাঁওয়ে ঘুরতে নিয়ে গিয়ে কিশোরীকে গণধর্ষণ, প্রেমিকসহ গ্রেপ্তার ৩

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

ঠাকুরগাঁওয়ে ঘুরতে নিয়ে গিয়ে কিশোরীকে গণধর্ষণ, প্রেমিকসহ গ্রেপ্তার ৩

আপডেট টাইম : ০৮:১৬:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
ঠাকুরগাঁওয়ে ঘুরতে নিয়ে গিয়ে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে গ-ণধ-র্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১৩ জুন) রাতে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের কালিতলা বাজারের পাশের একটি গুদামে (গোডাউন) এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় কিশোরীর প্রেমিকসহ তিন যুবককে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী ওই কিশোরীকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন, কালিতলা এলাকার তামিম ইসলাম (২২), রনি (২১) ও মাসুদ (২২)। পুলিশ জানায়, তামিম ওই এলাকার মো. আনারুলের ছেলে, রনি মিন্টুর ছেলে এবং মাসুদ মজিদুর রহমানের ছেলে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মায়া (রূপক নাম) (১৫) সঙ্গে গত প্রায় এক সপ্তাহ আগে কালিতলার আনারুলের ছেলে তামিম ইসলামের পরিচয় হয়। গতকাল শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে মায়াকে বেড়ানোর কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে আসেন তামিম। এরপর ঠাকুরগাঁও শহরের বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরি শেষে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে কালিতলা বাজারের পাশে ‘ঘষমিন্টুর গোডাউন ঘরে’ মেয়েটিকে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে তামিম ও তার দুই বন্ধু রনি ও মাসুদ মিলে রাতভর ওই কিশোরীকে পালাক্রমে ধ-র্ষণ করেন। পরবর্তীতে রাত তিনটার দিকে পুলিশের একটি নিয়মিত টহল দল ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় বিষয়টি টের পায় এবং অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করে। আজ রোববার (১৪ জুন) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে  মেয়েটিকে ওই গুদাম থেকে আশঙ্কাজনক ও অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, ঠাকুরগাঁওয়ে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন পুলিশ সদস্যরা।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান আলী জানান, আটককৃত তিনজনকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীতে বনানীতে মোহাম্মদ নাসিমের কবর জিয়ারত করলো ছাত্রলীগ

সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিমের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর কবর জিয়ারত করলো নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ।

 

 

 

রোববার (১৪ জুন) সকালে সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের উদ্যোগে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে মোহাম্মদ নাসিমের কবর জিয়ারত করে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।

 

 

 

রোববার দুপুরের পর কবর জিয়ারতের ভিডিওটি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ফেসবুক পেইজে ভাইরাল হয়।

 

 

 

ভিডিওতে দেখা যায়, সদ্য ঘোষিত সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জীবন শেখ, সহ-সভাপতি লিখন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুল ইসলাম শিবলুসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে দেখা যায়।

 

বাংলাওয়াশ থেকে রক্ষা পেল অস্ট্রেলিয়া, কনোলির লড়াকু ইনিংস

 

শেষ মুহূর্তে দারুণ রোমাঞ্চ জাগালেও জিততে পারল না বাংলাদেশ। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে আজ তৃতীয় ও শেষ একদিনের ম্যাচে টাইগারদের ১ উইকেটে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। আর তাতেই বাংলাওয়াশের লজ্জা থেকে বেঁচে গেল অজিরা।

 

 

 

শেষদিকে ম্যাচটা জমিয়ে তুলেছেন শরিফুল ইসলাম। ৬ উইকেট তুলে অজি শিবির আতঙ্ক ধরিয়েছেন এই পেসার। তবুও ২২ বছর বয়সী তরুণের ব্যাটেই ভেস্তে গেল অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করার স্বপ্ন। কুপার কনোলির দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে হার মানতে হয়েছে। শরিফুল ইসলামের ক্যারিয়ারসেরা বোলিংও শেষ পর্যন্ত পরাজয় এড়াতে পারেনি স্বাগতিকরা।

 

 

 

মিরপুরে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৫ উইকেটে ২৭৪ রানের লড়াকু সংগ্রহ গড়ে বাংলাদেশ। লিটন দাস, তাওহীদ হৃদয় ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ফিফটিতে ভর করে বড় পুঁজি পায় স্বাগতিকরা। তবে সেই সংগ্রহও যথেষ্ট হয়নি কনোলির দৃঢ় প্রতিরোধের সামনে। ৩ বল ও এক উইকেট হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া।

 

ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। প্রথম ওভারেই সৌম্য সরকারকে হারানোর পর তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি বড় হয়নি। ৬১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে স্বাগতিকরা।

 

সেই সংকট থেকে দলকে টেনে তোলেন লিটন ও তাওহীদ হৃদয়। চতুর্থ উইকেটে ৯২ রানের জুটি গড়ে ইনিংসের ভিত গড়ে দেন তারা। ইনিংসের মাঝপথে চোটে মাঠ ছাড়লেও পরে ফিরে এসে মিরপুরে নিজের প্রথম ওয়ানডে ফিফটি পূর্ণ করেন লিটন। ৫৮ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।

 

 

অন্যদিকে হৃদয় খেলেন ৮৩ রানের দারুণ ইনিংস। পরে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতও দ্রুতগতির অর্ধশতক তুলে নেন। তার অপরাজিত ৫৬ রানের ইনিংসে ২৭৪ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ।

 

 

 

কিন্তু রান তাড়ায় শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল অস্ট্রেলিয়া। তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমানকে চড়াও হয়ে প্রথম চার ওভারেই ৩৮ রান তুলে নেয় সফরকারীরা। তখনই আক্রমণে এসে ম্যাচের মোড় ঘোরানোর চেষ্টা করেন শরিফুল।

 

 

 

নিজের প্রথম ওভারেই জশ ইংলিস ও ম্যাট রেনশোকে ফিরিয়ে দেন এই বাঁহাতি পেসার। এক ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। পরে তাসকিন আহমেদ অ্যালেক্স ক্যারিকে ফিরিয়ে দিলে ম্যাচে ফেরার আশা দেখে বাংলাদেশ।

 

 

 

তবে সেই আশা ধীরে ধীরে নিভিয়ে দেন কুপার কনোলি। মার্নাস লাবুশেনকে সঙ্গে নিয়ে ৬৪ রানের জুটি গড়েন তিনি। লাবুশেন ধীরগতিতে খেললেও কনোলি ছিলেন আগ্রাসী। চার-ছক্কায় রানের চাকা সচল রেখে ৫১ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন ২২ বছর বয়সী এই ওপেনার।

 

 

 

অর্ধশতকের পর আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন কনোলি। লাবুশেন ফিরলেও থামেননি তিনি। ক্যামেরন গ্রিনকে নিয়ে আবারও জুটি গড়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখেন। একপর্যায়ে মাত্র ৮৭ বলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন এই তরুণ ব্যাটার।

 

 

 

গ্রিন ২৭ রান করে ফিরলেও ততক্ষণে ম্যাচ অস্ট্রেলিয়ার মুঠোয়। পরে পাকিস্তানের বিপক্ষে অভিষিক্ত ১৯ বছর বয়সী অলিভার পিকও ২৭ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন।

 

 

 

শেষদিকে অবশ্য একাই লড়াই চালিয়ে যান শরিফুল। পরপর দুই বলে অলিভার পিক ও জাভিয়ার বার্টলেটকে ফিরিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ফাইফারের দেখা পান তিনি। এরপর আরও একটি উইকেট নিয়ে ম্যাচে মোট ৬ উইকেট শিকার করেন বাঁহাতি এই পেসার।

 

 

 

তবে শরিফুলের দুর্দান্ত বোলিংয়ের দিনে অন্য প্রান্ত থেকে প্রয়োজনীয় সমর্থন পাননি তিনি। ফলে ৪৯.৩ ওভারেই ৯ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া।

 

 

 

বাংলাদেশের হয়ে শরিফুল ইসলাম একাই নেন ৬ উইকেট। এছাড়া তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান ও শেখ মেহেদী হাসান একটি করে উইকেট শিকার করেন।

 

জয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করল বাংলাদেশ

জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ও শারমিন আক্তারের ব্যাটে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছে বাংলাদেশ। নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ডাচদের ৬ উইকেটে হারিয়েছে বাঘিনীরা।

 

 

বার্মিংহামে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় নেদারল্যান্ডস। যদিও আগে ব্যাটিংয়ের ভাবনা ছিল বাংলাদেশের। তবে বাংলাদেশের বোলাররা চ্যালেঞ্জ নিয়ে খারাপ করেননি। প্রথম ওভারে ভালো শুরু পেলেও ডাচরা দ্বিতীয় ওভারেই প্রথম উইকেট হারিয়ে ফেলে। পাওয়ারপ্লেতে হারায় আরও একটি উইকেট। হিদার সিগার্স ১৩ বলে ১৬ ও ফেবে মোলকেনবার ৭ বলে ১১ রান করে বিদায় নিলে দলের হাল ধরেন অধিনায়ক বাবেট ডি লিড।

 

 

দেখেশুনে খেলে তিনি তুলে নেন অর্ধশতক। যদিও অন্য ব্যাটারদের চাপে রেখেছিলেন বাঘিনীরা। আর কেউই যেখানে বিশের ঘরে যেতে পারেননি, সেখানে অধিনায়ক একাই ৪৫ বলে পাঁচটি চারে ৫০ রান করেন।

তা সত্ত্বেও ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৩৯ রানের লড়াকু সংগ্রহ জড়ো করে নেদারল্যান্ডস। বাংলাদেশের পক্ষে মারুফা আক্তার দুটি এবং ফারিহা তৃষ্ণা, সানজিদা আক্তার মেঘলা, রাবেয়া খান ও ঋতু মণি একটি করে উইকেট শিকার করেন।

জবাব দিতে নেমে ৭..৪ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৬৭ রান জড়ো করে বাংলাদেশ। এই ৬৭ রানের ৫০ রানই ছিল জুয়াইরিইয়া ফেরদৌসের। মাত্র ৩৩ বলে ৫০ রান করেন, হাঁকান সাতটি চার ও দুটি ছক্কা। ছক্কায় অর্ধশতক হাঁকানোর পরপরই বিদায় নেন। এরপর অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ক্রিজে নেমেই গোল্ডেন ডাকের শিকার হন। ৮ম ওভারে পরপর দুই উইকেট হারানো বাংলাদেশ ১১তম ওভারে দিলারা আক্তার (২৩ বলে ২৬) ও সোবহানা মোস্তারিকেও হারায়।

তবে শারমিন আক্তার ও স্বর্ণা আক্তার ঠাণ্ডা মাথায় চাপ জয় করেন। শারমিন ৩২ বলে ৩৭ ও স্বর্ণা ১৭ বলে ১৮ রান করে অপরাজিত থাকেন। ৫টি করে বল ও উইকেট হাতে রেখে জিতে যায় বাংলাদেশ। দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটি ছিল ৫৬ রানের।

‘অফিস রোমান্স’ দিয়ে ক্যারিয়ারে নতুন উত্থান জেনিফারের

দীর্ঘদিন পর আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন হলিউড তারকা জেনিফার লোপেজ । তার অভিনীত নতুন রোমান্টিক কমেডি সিনেমা ‘অফিস রোমান্স’ মুক্তির পরই নেটফ্লিক্সের বৈশ্বিক দর্শক তালিকায় এক নম্বরে উঠে এসেছে। মুক্তির প্রথম সপ্তাহে সিনেমাটি প্রায় ২ কোটি ৯ লাখ ভিউ অর্জন করেছে, যা এটিকে সপ্তাহের সবচেয়ে বেশি দেখা চলচ্চিত্রে পরিণত করেছে।

 

 

সিনেমাটিতে লোপেজ অভিনয় করেছেন জ্যাকি ক্রুজ নামের একটি এয়ারলাইন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীর চরিত্রে। কর্মক্ষেত্রে প্রেম বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া এই করপোরেট প্রধানের জীবন বদলে যায় যখন প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন নতুন আইন উপদেষ্টা ড্যানিয়েল ব্ল্যাঞ্চফ্লাওয়ার। চরিত্রটিতে অভিনয় করেছেন ব্রেট গোল্ডস্টেইন। দুজনের মধ্যে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠা সম্পর্ককে কেন্দ্র করেই এগিয়ে যায় গল্প।

 

 

গল্পের পরিণতি অনেকটাই অনুমেয় হলেও দর্শকদের কাছে সিনেমাটি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে মূলত লোপেজ ও গোল্ডস্টেইনের প্রাণবন্ত রসায়নের কারণে। সমালোচকদের কেউ কেউ সিনেমাটিকে প্রচলিত রোমান্টিক কমেডির গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ বলে মন্তব্য করলেও দর্শকদের বড় একটি অংশ এটিকে উপভোগ্য বিনোদন হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘অফিস রোমান্স’-এর এই সাফল্য জেনিফার লোপেজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার কয়েকটি সিনেমা প্রত্যাশিত সাড়া পায়নি। ফলে নতুন এই সিনেমার মাধ্যমে তিনি আবারও প্রমাণ করলেন যে রোমান্টিক কমেডি ঘরানায় তার জনপ্রিয়তা এখনো অটুট। নেটফ্লিক্সের বৈশ্বিক চার্টের শীর্ষে উঠে সিনেমাটি লোপেজের ক্যারিয়ারে নতুন গতি এনে দিয়েছে।

তবে জনপ্রিয়তার পাশাপাশি সমালোচনাও রয়েছে। কিছু সমালোচক মনে করছেন, কর্মক্ষেত্রের প্রেম নিয়ে সিনেমাটি নতুন কোনো বার্তা দেয়নি। তবু দর্শকদের আগ্রহ এবং নেটফ্লিক্সে শীর্ষস্থান দখল করে নেওয়া প্রমাণ করছে, ‘অফিস রোমান্স’ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত স্ট্রিমিং কনটেন্টগুলোর একটি।

ড্র দিয়ে শুরু, ট্রফি দিয়ে শেষ—বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গল্প

বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট ব্রাজিলের মিশন শুরু হয়ে গেছে। তবে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই মরক্কোর সঙ্গে ড্র করেছে সেলেসাওরা। ফলে হেক্সা মিশন নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে কিছুটা শঙ্কা তৈরি হলেও ইতিহাস বলছে, এমন শুরু কোনোভাবেই শেষ কথা নয়। বরং অতীতের পরিসংখ্যানই দিচ্ছে সেলেসাওদের বড় স্বস্তি।

 

 

বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে উদ্বোধনী ম্যাচের চাপ সব সময়ই বেশি থাকে। প্রথম ম্যাচে পূর্ণ তিন পয়েন্ট না পেলে অনেকেই সেটিকে অশনি সংকেত হিসেবে দেখেন। তবে ফুটবল ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, শুরুটা ধাক্কায় হলেও শেষটা হতে পারে গৌরবের।

 

 

শুরুর ধাক্কা সামলে যারা বিশ্বজয় করেছে, এক নজরে দেখে নেওয়া যাক সেই সোনালী ইতিহাস:

১. ইংল্যান্ড (১৯৬৬) নিজেদের মাটিতে আয়োজিত ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড তাদের উদ্বোধনী ম্যাচে উরুগুয়ের মুখোমুখি হয়েছিল। ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়। ঘরের মাঠের দর্শকদের প্রথম ম্যাচে হতাশ করলেও স্যার আলফ রামসের শিষ্যরা পরে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায়। গ্রুপ পর্ব পার করে নকআউটে বাজিমাত করে তারা। শেষ পর্যন্ত ফাইনালে পশ্চিম জার্মানিকে ৪-২ গোলে হারিয়ে ফুটবল ইতিহাসের একমাত্র বিশ্বকাপটি ঘরে তোলে থ্রি-লায়ন্সরা।

২. ইতালি (১৯৮২) বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে নাটকীয় ও অবিশ্বাস্য ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পটি ইতালির। ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে তারা একটি ম্যাচেও জিততে পারেনি! পোল্যান্ড (0-0), পেরু (১-১) এবং ক্যামেরুন (১-১ )—তিনটি ম্যাচই ড্র করে কেবল গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে কোনোমতে পরের রাউন্ডে উঠেছিল তারা। প্রথম ম্যাচের সেই ড্রয়ের ধাক্কা ভুলে নকআউট পর্বে পা রাখতেই খোলস বদলে ফেলে আজ্জুরিরা। একে একে আর্জেন্টিনা, দুর্দান্ত ব্রাজিল ও ফাইনালে পশ্চিম জার্মানিকে ৩-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় তারা।

প্রথম ম্যাচে ধাক্কা খেয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আরও কিছু উদাহরণ: প্রথম ম্যাচে পয়েন্ট হারিয়েও যে বিশ্বকাপ জেতা যায়, তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ স্পেন (২০১০) এবং আর্জেন্টিনা (২০২২)। এই দুটি দল ড্র নয়, বরং নিজেদের প্রথম ম্যাচে যথাক্রমে সুইজারল্যান্ড (০-১) এবং সৌদি আরবের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারাই ট্রফি উঁচিয়ে ধরে।

 

 

এই বাস্তবতা মাথায় রাখলে ব্রাজিলের বর্তমান পরিস্থিতি খুব একটা হতাশার নয়। মরক্কোর বিপক্ষে ড্র দিয়ে শুরু করলেও সামনে পুরো টুর্নামেন্ট পড়ে আছে। ভুলগুলো শুধরে নিয়ে ছন্দে ফিরতে পারলেই হেক্সা মিশন এখনও অনেকটাই সম্ভব।

 

 

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম ম্যাচের ফলাফল নয়, আসল বিষয় হলো দল কত দ্রুত নিজেদের গুছিয়ে নিতে পারে। ব্রাজিল সেই পরীক্ষা এখনই দিচ্ছে।

আগ্নেয়গিরিতে দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল ইয়েমেনের ‘স্পাইডার-ম্যান’-এর

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ইয়েমেনের স্পাইডার-ম্যান’ নামে পরিচিত আল কা’কা বিন আনতার আগ্নেয়গিরির গহ্বরে পড়ে নিহত হয়েছেন। দড়ি বা নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়া পাহাড়ে আরোহণের সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

 

 

 

রোববার (১৪ জুন) গালফ নিউজের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ৩০ বছর বয়সী আল কা’কা বিন আনতার গত শুক্রবার ইয়েমেনের আল-ধালে প্রদেশের হারাধাত দামত আগ্নেয়গিরির খাড়া দেয়াল বেয়ে উঠছিলেন। এ সময় হঠাৎ তার হাত ফসকে গেলে তিনি প্রায় ১২০ মিটার গভীর পড়ে যান।

 

 

 

স্থানীয় প্রশাসন ও গণমাধ্যমের তথ্যমতে, দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজ শুরু হলেও দুর্গম পরিবেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে অভিযান জটিল হয়ে পড়ে।

প্রায় ২৪ ঘণ্টাব্যাপী উদ্ধার অভিযানের পর শনিবার সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা তার মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হন। উদ্ধারকর্মীদের খাড়া ভূখণ্ড, দুর্গম অবস্থান এবং গহ্বরের ভেতরের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের মধ্যে কাজ করতে হয়েছে।

 

আল কা’কা বিন আনতার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাহসী অভিযানের ভিডিও প্রকাশ করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। ইয়েমেনের বিভিন্ন পাহাড়, খাড়া পাথুরে দেয়াল ও আগ্নেয়গিরি এলাকায় তার ঝুঁকিপূর্ণ আরোহণের ভিডিও হাজারো দর্শককে আকৃষ্ট করেছিল।

 

 

বিশেষ করে দড়ি, হারনেস বা অন্য কোনো নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই খাড়া পাহাড়ে ওঠা এবং আগ্নেয়গিরির গহ্বরে নামার ভিডিও তাঁকে ‘ইয়েমেনের স্পাইডার-ম্যান’ হিসেবে পরিচিতি এনে দেয়।

 

 

 

স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, মরদেহ উদ্ধারে বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছিল। তাদের সঙ্গে আলো ও পানি-উদ্ধার সরঞ্জামও ব্যবহার করা হয়, যাতে দুর্গম স্থানে পৌঁছানো সম্ভব হয়।

 

 

 

তার মৃত্যুর খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকের ছায়া নেমে আসে। অনুসারীরা তার সাহস, দুঃসাহসিক মানসিকতা ও অভিযানের প্রতি ভালোবাসার প্রশংসা করেছেন।

 

 

‘নেইমারদের অপহরণ করবে ভিনগ্রহবাসী’,নারী গণকের ভবিষ্যদ্বাণী

২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলে ব্রাজিলের শুরুটা মোটেই আশানুরূপ হয়নি। গ্রুপ ‘সি’- এর প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট হারিয়েছে সেলেসাওরা।

 

 

মাঠের এই নড়বড়ে পারফরম্যান্সের মধ্যেই এবার মাঠের বাইরে থেকে এলো এক অদ্ভুত ও আতঙ্কের খবর। ব্রাজিলেরই এক নারী ভবিষ্যদ্বক্তা (গণক) দাবি করেছেন, আগামী ২৪ জুন স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালীন ভিনগ্রহবাসীরা (এলিয়েন) আক্রমণ করতে পারে, যা ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অভিযানকে পুরোপুরি বিপর্যস্ত করে দেবে!

 

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অনুসারীদের উদ্দেশে কান্নাভেজা কণ্ঠে ভো বাহিয়ানা নামের ওই নারী গণক বলেন, বন্ধুরা, আমার এটা বলতেই হচ্ছে যে, আমি স্বপ্নে দেখেছি ভিনগ্রহবাসীরা মিয়ামির স্টেডিয়ামে হানা দিয়েছে। আমি পরিষ্কার দেখেছি, প্রথম যে মহাকাশযানটি এসেছিল, সেটি মাঠ থেকে খেলোয়াড়দের অপহরণ করে নিয়ে যাচ্ছে। এমনকি যানটি যখন আকাশের দিকে উঠছিল, তখন আমিও সেটির ভেতরে বন্দি ছিলাম। এর কিছুক্ষণ পর আরও বিশাল একটি বড় আকৃতির মহাকাশযান আসে এবং স্টেডিয়ামে থাকা হাজার হাজার দর্শককে তুলে নিয়ে যায়। নিজের এই দুঃস্বপ্ন নিয়ে রীতিমতো আতঙ্কিত বাহিয়ানা।

তিনি আরও বলেন, ‘চারিদিকে শুধু মানুষের চিৎকার, কান্না আর হাহাকার দেখেছি আমি। সত্যি বলতে, আমি ভীষণ ভয় পেয়েছি কারণ এই একই স্বপ্ন আমি দ্বিতীয়বারের মতো দেখলাম। আমার মন বলছে, আগামী ২৪ জুন মিয়ামির ওই স্টেডিয়ামে খুব ভয়ানক কিছুই ঘটতে যাচ্ছে।’

উল্লেখ্য, আগামী ২৪ জুন দিনগত রাত ৪টায় যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে গ্রুপ পর্বের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে ব্রাজিল ও স্কটল্যান্ডের।

আগের ম্যাচগুলোতে গ্যালারিতে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় থাকায়, এই ম্যাচটিতেও স্টেডিয়ামে কানায় কানায় দর্শক পূর্ণ থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে মাঠের ফুটবলের চেয়ে এখন এই রহস্যময় ও অদ্ভুত ভবিষ্যদ্বাণী নিয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা বেশি চলছে।

‘ফার্মগেট’ ইস্যুতে চাপের মুখে আদালতে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা ‘ফার্মগেট’ কেলেঙ্কারি নিয়ে তার বিরুদ্ধে শুরু হতে যাওয়া পার্লামেন্টের অভিশংসন তদন্ত প্রক্রিয়া ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। শনিবার (১৩ জুন) এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

 

 

শুক্রবার দাখিল করা আদালতের নথি অনুযায়ী, রামাফোসা চান তার বিরুদ্ধে গঠিত স্বাধীন তদন্ত প্যানেলের অসদাচরণের অভিযোগ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা পৃথক মামলার নিষ্পত্তি আগে হওয়ার পরই কেবল অভিশংসন প্রক্রিয়া নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক।

 

 

‘ফার্মগেট’ কেলেঙ্কারির সূত্রপাত ২০২০ সালে। ওই সময় রামাফোসার খামারের একটি সোফার ভেতরে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ চুরি হয়ে যায়। প্রেসিডেন্টের দাবি, চুরি হওয়া প্রায় ৫ লাখ ৮০ হাজার ডলার মহিষ বিক্রির অর্থ ছিল। তবে এত বড় অঙ্কের টাকা কেন আসবাবপত্রের ভেতরে রাখা হয়েছিল এবং তা যথাযথভাবে ঘোষণা করা হয়েছিল কি না এ নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন ওঠে।

রামাফোসা শুরু থেকেই কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

গত মাসে আফ্রিকার সাংবিধানিক আদালত রায় দিয়ে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করে। আদালত জানায়, ২০২২ সালে পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত ভোটের মাধ্যমে তদন্ত প্রক্রিয়া বন্ধ করার সিদ্ধান্তটি বৈধ ছিল না।

রামাফোসার বিরুদ্ধে স্বাধীন প্যানেলের প্রতিবেদনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা মামলার শুনানি আগামী ২ থেকে ৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

 

 

বর্তমানে ৭৩ বছর বয়সী রামাফোসা ২০১৮ সাল থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার দ্বিতীয় মেয়াদ ২০২৯ সালে শেষ হওয়ার কথা।

 

 

দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই এবং ক্ষমতাসীন আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস (এএনসি)-এর ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা রামাফোসার জন্য ‘ফার্মগেট’ কেলেঙ্কারি বড় ধরনের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

 

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, অভিশংসন প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত পার্লামেন্টে ভোটাভুটিতে গড়ালেও রামাফোসা তা থেকে রক্ষা পেতে পারেন। তার দল এএনসি এবং জোটসঙ্গীদের সমর্থন থাকায় তাকে অপসারণ করা কঠিন হবে বলে মনে করছেন তারা।

অতি দ্রুতই বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইতে গ্রেপ্তার হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অতি দ্রুতই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলেও জানান তিনি। 

রোববার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। 

সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ শুরু করে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১১ এপ্রিল ২০২৫ ইন্টারপোল বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে। 

 

 

 

তিনি আরও বলেন, গত ১২ জুন ২০২৬ সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডাইরেক্টরেট জেনারেল অব ফেডারেল পুলিশ (এনসিবি আবুধাবি) একটি ইমেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে নিশ্চিত করেছে যে, বেনজীর আহমেদকে সে দেশের পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে এবং তিনি বর্তমানে সেখানে আটক আছেন। 

 

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদকে জানান, ইউএই ফেডারেল ল-এর ৩৯ (২০০৬) ধারা অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ বা এক্সট্রাডিশন রিকোয়েস্ট পাঠাতে হবে। 

 

 

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা ও ১৯৭৩ সালের বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডারের বিভিন্ন ধারায় মামলা রয়েছে।

 

 

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এনসিবি ঢাকা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করছে। শিগগিরই কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। 

 

 

বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারকে আইনের শাসনের মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে আমরা বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে পারছি। অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন—এই বার্তাটি আমরা জাতিকে দিতে চাই। 

 

 

বিবৃতি চলাকালীন সংসদে উপস্থিত সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা টেবিল চাপড়ে এই সংবাদকে স্বাগত জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর সংসদ কক্ষজুড়ে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালও এ সময় সন্তোষ প্রকাশ করেন। 

 

 

আমাদের এইচএসসি সিঙ্গাপুরের ষষ্ঠ শ্রেণির সমান

বাংলাদেশের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) শিক্ষাকে সিঙ্গাপুরে ষষ্ঠ শ্রেণির সঙ্গে তুলনা করা হয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। বিগত ২০ বছরের অবহেলায় দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার এমন শোচনীয় দশা হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

 

 

রোববার (১৪ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

 

 

বক্তব্যের শুরুতেই নতুন বাজেটকে জনগণবান্ধব এবং আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে উল্লেখ করে ববি হাজ্জাজ বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেই পরিষ্কার ছিল যে শিক্ষা খাতকে জাতির সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হবে। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান এবং অর্থমন্ত্রী প্রথম থেকেই পরিষ্কার করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় দেশ ও জাতির সামনে এবারই প্রথম দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় বিনিয়োগের অংশ হিসেবে সামগ্রিক শিক্ষা খাতে সবচেয়ে বড় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বিশেষ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা খাতকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে একে পুরোপুরি ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিগত ২০ বছরের শিক্ষা ব্যবস্থার সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষায় অরাজকতার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষায় অনেক শিক্ষার্থী পাস পর্যন্ত করতে পারে না। সিঙ্গাপুরে আমাদের দেশের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) লেভেলকে তাদের ষষ্ঠ শ্রেণির সমমান হিসেবে তুলনা করা হয়।

এ অবস্থা থেকে উত্তরণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রাথমিক শিক্ষার কারিকুলাম, শিক্ষকদের মানোন্নয়ন, অবকাঠামো এবং প্রশাসনসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংস্কারের হাত দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার যখন সঠিক শিক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে প্রাথমিকে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণি থেকেই খেলাধুলা, স্পোর্টস এবং কালচার বা সাংস্কৃতিক কারিকুলাম অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা শুরু করেছে, তখন বিরোধীদের কেউ কেউ এ নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা চালাচ্ছেন। অথচ এই বিরোধী শিবিরেরই অনেকে অতীতে নারী সংসদ সদস্যদের নিয়ে এমন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন যা ভদ্র সমাজে উচ্চারণ করা যায় না। একই নোংরা মনোভাব থেকে তারা এখন অপপ্রচার চালাচ্ছেন যে সাংস্কৃতিক শিক্ষা নাকি সন্তানদের ভুল পথে নিয়ে যাবে।

 

 

অতীতে শিক্ষা খাতে জিডিপির ১ দশমিক ৩ বা ১ দশমিক ৪ শতাংশ বরাদ্দ থাকলেও এবার তা বৃদ্ধি করে ২ শতাংশ করা হয়েছে এবং আগামী দিনগুলোতে এটি পর্যায়ক্রমে ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি নীতিতে পরিবর্তনের আভাস

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলির দায়িত্ব এখন থেকে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

 

 

রোববার (১৪ জুন) রাজধানীর শেরাটন হোটেলে ইউনিসেফ আয়োজিত এক কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।

 

 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে গঠিত কমিটির কাছে শিক্ষকরা বদলির আবেদন জমা দেবেন। সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো প্রতি মাসে একবার সভা করে আবেদনগুলো পর্যালোচনা করবে এবং বদলি অনুমোদন দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

তিনি বলেন, শিক্ষকদের বদলি ঘিরে বিগত দিনে বড় একটা সিন্ডিকেট বা করাপশনের (দুর্নীতি) জায়গা তৈরি হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে এটাতে নজর দিয়েছেন। আমাদের শিক্ষামন্ত্রী এখানে আছেন, আমরা সবাই মিলে নতুন পলিসি গ্রহণ করেছি যে প্রাথমিকে…মাধ্যমিকেও; কিন্তু শুধু প্রাথমিক নিয়ে কথা বলবো। প্রাথমিকে টিচার্স ট্রান্সফার (শিক্ষক বদলি) এটা লোকালাইজ (স্থানীয়) করে দেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, লোকাল টিম গঠন করা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে ইউএনওর নেতৃত্বে সেখানে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষার অফিসার থাকবেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার থাকবেন। এরকম চারজন সদস্য ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। তারা মাসে একবার বসবেন। ওই মাসে যতগুলো রিকোয়েস্ট (আবেদন) আসবে, সেগুলো রিভিউ করে তারা সিদ্ধান্ত নেবেন যে ট্রান্সফার অ্যালাউ (বদলি অনুমোদন) করবেন, কি করবেন না।

তিনি আরও বলেন, ‘সেইম (একই) জিনিসটা ডিসির অধীনে জেলা পর্যায়েও করা হয়েছে। বিভাগীয় কমিশনারের আন্ডারে ডিভিশন লেভেলে করা হয়েছে। এটা করে করাপশনের (দুর্নীতি) সব জায়গাগুলোকে আমরা বন্ধ করে দিতে চাই’।

 

 

‘ভ্যালিডেশন ওয়ার্কশপ অন দ্য বাংলাদেশ এডুকেশন সেক্টর অ্যানালাইসিস (ইএসএ)’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এতে শিক্ষাবিদ ও ইউনিসেফের কান্ট্রি ডিরেক্টরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

 

 

আগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষকদের বদলির জন্য নির্দিষ্ট সময় ঠিক করা ছিল। সে সময়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে আবেদন চাওয়া হতো। প্রথমে উপজেলা থেকে উপজেলা; তারপর জেলা থেকে জেলা এবং বিভাগ থেকে বিভাগ পর্যায়ে পর্যায়ক্রমে আবেদন নেওয়া হতো।

 

 

অনলাইনে এসব আবেদন করার পর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তা যাচাই করে ফরোয়ার্ড করতেন। পরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হয়ে তা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে আসতো। অধিদপ্তর চূড়ান্ত অনুমোদন দিলে বদলি অনুমোদিত হতো।

দীর্ঘ ১১ বছর পর লিটনের ব্যাটে এলো প্রথম ফিফটি

মিরপুরেই অভিষেক হয়েছিল। ২০১৫ সালে ভারতের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডের সেই ম্যাচে মাত্র ৮ রান করে ফিরেছিলেন লিটন দাস। এরপর কেটে গেছে ১১ বছর। জাতীয় দলের জার্সিতে অসংখ্য স্মরণীয় ইনিংস খেলেছেন, সেঞ্চুরিও করেছেন একাধিক। কিন্তু মিরপুরের ওয়ানডে ক্রিকেট যেন বারবারই তাকে আটকে রেখেছিল এক অদৃশ্য দেয়ালে।

 

 

অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান হলো। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে বহু প্রতীক্ষিত ফিফটির দেখা পেয়েছেন লিটন। ইনিংসের এক পর্যায়ে পায়ের পেশিতে টান লেগে ৪৮ রানে মাঠ ছাড়লেও শেষ দিকে আবার ব্যাট হাতে ফেরেন তিনি। ৪৯তম ওভারের শেষ বলে দুই রান নিয়ে স্পর্শ করেন অর্ধশতকের মাইলফলক।

 

 

শেষ পর্যন্ত ৫৮ রানে অপরাজিত থাকেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার। মিরপুরে এটা যেমন লিটনের প্রথম ফিফটি, তেমনি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও প্রথম। শেরেবাংলায় ওয়ানডে ক্রিকেটে লিটনের পরিসংখ্যান ছিল বিস্ময়করভাবে হতাশাজনক। এই ম্যাচের আগে শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ২৮ ইনিংস খেলেও কোনো ফিফটি করতে পারেননি তিনি। চলতি সিরিজের প্রথম ম্যাচ শেষে ১৭ এর সামান্য বেশি গড়ে করেছিলেন মাত্র ৪৩৯ রান। ছিল চারটি ডাকও।

এমনকি ক্যারিয়ারে প্রায় ৮৫ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করা লিটন মিরপুরে ৭০ স্ট্রাইক রেটও স্পর্শ করতে পারেননি। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেতে ফিফটি পেয়ে লিটন যেন সব সমীকরণই পাল্টে দিয়েছেন। অর্ধশতক করার দিনে তার ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট ছিল ৭৪।

সাম্প্রতিক সময়েও মিরপুরে ব্যাটে আক্ষেপে পুড়েছেন লিটন। পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড সিরিজে তিনটি চল্লিশোর্ধ্ব ইনিংস খেলেও ফিফটির দেখা পাননি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই অর্ধশতক শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং দীর্ঘদিনের এক অপূর্ণতার অবসান।

বাংলাদেশ যখন ৬১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে, তখন তাওহীদ হৃদয়কে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস গড়ার দায়িত্ব নেন লিটন। দুজনের ৯২ রানের জুটি দলকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে। সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে পরে বড় সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। তবে স্বস্তির বিষয়, মিরপুরে অধরা ফিফটিটা শেষ পর্যন্ত পেলেন লিটন।

 

 

 

সলঙ্গার রয়েল রূপালী হোটেলে বাসি খাবার বিক্রির অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় নাটোর-বনপাড়া মহাসড়কের পাশে অবস্থিত রয়্যাল রূপালী হাইওয়ে রেস্টুরেন্ট’-এ যাত্রীদের জিম্মি করে বাসি-পচা খাবার পরিবেশন ও অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের তীব্র অভিযোগ উঠেছে।
দূরপাল্লার পরিবহনের যাত্রীরা নিরুপায় হয়ে এই হোটেলে খেতে বাধ্য হলেও, খাবারের নিম্নমান এবং স্টাফদের দুর্ব্যবহারে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
​সরেজমিনে এবং ভুক্তভোগী যাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মহাসড়কে চলাচলকারী বিভিন্ন যাত্রীবাহী বাস ১৫-২০ মিনিটের বিরতির জন্য এই হোটেলটিতে থামে। বাসের যাত্রীরা তাড়াহুড়ো করে খেতে বসলে তাদের সামনে আগের দিন বা তারও আগের বেঁচে যাওয়া বাসি, দুর্গন্ধযুক্ত এবং পচা খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। মাংস এবং তরকারি থেকে অনেক সময় টক ও দুর্গন্ধ বের হওয়ার অভিযোগও করেছেন একাধিক যাত্রী।
​ভুক্তভোগী নাসরিন আক্তার এক বাস যাত্রী বলেন, বাস এখানে থামানোর পর বাধ্য হয়েই খেতে ঢুকেছিলাম। কিন্তু যে ভাত এবং তরকারি দেওয়া হয়েছে, তা মুখে দেওয়ার মতো নয়। তরকারি থেকে স্পষ্ট পচা গন্ধ আসছিল। প্রতিবাদ করায় হোটেলের ম্যানেজার ও স্টাফরা উল্টো আমাদের সাথে চরম দুর্ব্যবহার করে।
বাসযাত্রী আরমান হোসেন বলেন, এই হোটেলে প্রতিটি খাদ্যপণ্যের দাম রাখা হচ্ছে সাধারণ বাজারের চেয়ে দ্বিগুণ। সাধারণ মানের এক প্লেট ভাত ও মাংসের দাম রাখা হচ্ছে চড়া, যা সাধারণ যাত্রীদের পকেট কাটার শামিল। মেন্যু কার্ড বা মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করেই ইচ্ছেমতো বিল চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে এই হোটেলের বিরুদ্ধে।
আরেক যাত্রী বলেন,খাবার খাওয়ার আগে খাবারের মেনু চাইলে বলে সমস্যা নাই, খাবার খান কম করে নেবেনে। পরে বিল দিতে গিয়ে দেখি চরা দামে বিল করছে।
​অভিযোগ রয়েছে, দূরপাল্লার কিছু বাসের চালক ও সুপারভাইজারদের বিনামূল্যে উন্নতমানের খাবার এবং নির্দিষ্ট কমিশনের লোভ দেখিয়ে সাধারণ যাত্রীদের এই পচা ও ব্যয়বহুল হোটেলে খেতে বাধ্য করা হয়।
​এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, মহাসড়কের পাশের এই হোটেলগুলোতে নিয়মিত তদারকি না থাকায় এরা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। অস্বাস্থ্যকর ও পচা খাবার খেয়ে প্রতিনিয়ত ডায়রিয়া, ফুড পয়জনিং সহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা।
​অবিলম্বে এই রয়েল রূপালী হাইওয়ে রেস্টুরেন্ট-এ জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের জরুরি অভিযান পরিচালনা করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন মহাসড়কে যাতায়াতকারী সাধারণ যাত্রী ও চালকদের।
এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সোহেল শেখ বলেন, নিউ রয়েল রুপালি হোটালের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত করা হবে এবং তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নোয়াখালীতে কিশোররীকে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার

নোয়াখালীর হাতিয়ায় ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক পরিদর্শকের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

 

 

অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা খোরশেদ আলম জাহাজমারা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।

 

 

শনিবার (১৩ জুন) রাতে নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) টি.এম. মোশাররফ হোসেন স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে প্রত্যাহার করা হয়। ভুক্তভোগী কিশোরীর অভিযোগ, প্রায় ছয় মাস আগে জাহাজমারা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের মেসে তাকে ধর্ষণ করা হয়। ঘটনার পরপরই তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে বিষয়টি জানান।

 

 

কিশোরীর ভাষ্যমতে, তার মা ও ভাই জাহাজমারা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের মেসে রান্নার কাজ করতেন। সে কারণে তিনি মাঝে মধ্যে সেখানে যেতেন। অভিযুক্ত কর্মকর্তা বিভিন্ন সময় তাকে বাসার তিনতলায় ডেকে ঘর পরিষ্কার, কাপড় ধোয়া ও বিছানা গুছানোর কাজের কথা বলতেন। একপর্যায়ে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেন কিশোরী। বাধা দিলে তাকে এবং তার মাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হতো। পাশাপাশি মোবাইল ফোন কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা দিয়ে বিদায় করে দিত।

 

 

চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি ভুক্তভোগী তার মাকে বিষয়টি জানান। পরে কিশোরীর মা হাতিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার বিস্তারিত লিখিত বক্তব্যও নেওয়া হয়। তবে অভিযুক্তের পক্ষ নিয়ে স্থানীয় দুই ব্যক্তি তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেন বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীর পরিবার। এরপর থেকে তারা প্রায় চার মাস ধরে আতঙ্কে আত্মগোপনে রয়েছেন।

 

 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পুলিশ পরিদর্শক খোরশেদ আলম। তিনি বলেন, এক এসআইকে বদলি করায় সে কাজের মেয়েকে দিয়ে ভুয়া একটি ভিডিও বানায়। সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতেই তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, “আমার বয়স প্রায় ৬০ বছর। এ ধরনের কাজ আমি করিনি।”

 

 

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হয়। বিষয়টি নজরে আসার পরই তাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

 

 

এ বিষয়ে নোয়াখালীর পুলিশ সুপার টি.এম. মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে তিনি জেলার আরেক গণমাধ্যম কর্মীকে জানান, এর আগেও এ ধরনের একটি অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল। তখন সার্কেলের এএসপিকে দিয়ে তদন্ত করা হলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। সাম্প্রতিক সময়ে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পুনরায় যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 ধুনটে পারলক্ষীপুর কাঁচা রাস্তায় রাবিশ ফেলে চলাচলের উপযোগী করে দিলেন এমপি পুত্র সানভি

বগুড়ার ধুনট উপজেলার চিকাশী ইউনিয়নে আরকাটিয়া রাস্তা হতে পারলক্ষিপুর রাস্তায় । রাবিশ দিয়ে চলাচলের উপযোগী করার শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
 রবিবার (১৪ জুন) দুপুরে পারলক্ষীপুর গ্ৰামের রাস্তায় রাবিশ ফেলে চলাচলের উপযোগী করে দিলেন এমপি পুত্র সানভি।
জানা যায় যে আরকাটি হতে পারলক্ষীপু কাঁচা রাস্তাটি বৃষ্টি বাদল হলে চালাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে, জনসাধারণের ভোগান্তি পোহাতে হয়। সেই কষ্টকে লাঘব করার জন্য ৪০বগুড়া- ০৫ আসন (শেরপুর-ধুনট নির্বাচনী এলাকার) মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব গোলাম মোহাম্মাদ সিরাজের ছেলে বিসিবি এর পরিচালক আসিফ সিরাজ রব্বানীর  নিজ  অর্থায়নে রাবিশ ফেলে রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করে দিয়েছেন।
রাস্তায় রাবিশ ফেলার সময় উপস্থিত ছিলেন চিকাশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন জুয়েল, উপজেলা যুবদলের সভাপতি মোহাম্মাদ আলী জন, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম মধু, সাংগঠনিক সম্পাদক মনিবুর রহমান, পৌর  যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াকুব আলী। চিকাশী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসান আলী,  বিএনপির নেতা রুবেল সরকার ।
বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম (রাব্বি) ,
চিকাশী ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক  জনাব আলী, সদস্য সচিব  মিজানুর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক ইমরান হোসেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত পারলক্ষীপুর গ্রামের গণ্যমান্য ব্যাক্তি ও সাধারণ জনগণ  ইয়ার আলী, সাইফুল ইসলাম, মতিউর রহমান, আশরাফ আলী, লুৎতফর রহমানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মানহানির দুই মামলায় মুফতি আমির হামজার স্থায়ী জামিন

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষী বলার অভিযোগে দায়ের হওয়া দুটি মানহানি মামলায় কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজাকে স্থায়ী জামিন দিয়েছে নিম্ন আদালত।

 

 

রোববার (১৪ জুন) বিকেল ৩টার দিকে সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত সিরাজগঞ্জ সুমন কুমার কর্মকার তার জামিন মঞ্জুর করেন। এ সময় চীফ চুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মো. আব্দুল মতিন উপস্থিত ছিলেন। এর আগে দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটের দিকে আদালতে তিনি আত্মসমর্পণ করেন।

 

 

এদিকে মুফতি আমির হামজার আত্মসমর্পণকে ঘিরে আদালত চত্বরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পুরো আদালত চত্বর ফাঁকা করে দিয়ে পুলিশ ও র্যা ব নিরাপত্তার চাদরে ঘিরে ফেলে। সাংবাদিক প্রবেশেও ছিল ব্যাপক কড়াকড়ি।

 

 

৩টা ১০ মিনিটে আদালত থেকে বেরিয়ে যান মুফতি আমির হামজা। এ সময় সাংবাদিকরা তাকে প্রশ্ন করলে কোন জবাব না দিয়ে দ্রুত গাড়িতে উঠে আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।

 

 

মুফতি আমির হামজার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবু তালেব জানান, আমাদের সিরাজগঞ্জের আইনজীবি কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানি মামলা দায়ের করেছিলেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি হলে তিনি মহামান্য হাইকোর্টে বিভাগে জামিন আবেদন করেন। মহানমান্য হাইকোর্টের নির্দেশে মোতাবেক আজকে আমরা চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে এসে স্বেচ্ছায় বেলবন্ড ফার্নিশ করে। যেহেতু উনি সংসদ সদস্য, ওনার অনেক ব্যস্ততা রয়েছে। চৌহালী আদালতে তাঁর স্থায়ী জামিনের প্রার্থনা করলে বিজ্ঞ আদালত তা মনঞ্জুর করেন। জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম খান দায়ের করা অপর একটি মামলাতেও তার বিরুদ্ধে সমন জারি হয়েছিল। ওই মামলাতেও আমরা জামিন আবেদন করলে বিচারক মঞ্জুর করেন।

 

 

মামলার বাদী অ্যাডভোকেট হুমায়ন কবির কর্ণেল বলেন, মাননীয় জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষী আখ্যা দেওয়ায় আমি বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছিলাম। ওই মামরায় ওনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা হয়েছিল, পেপার বিজ্ঞপ্তি হয়েছে। উনি মহামান্য হাইকোর্টে জামিন চেয়েছিলেন। মহামান্য হাইকোর্ট ৮ সপ্তাহের জামিন মনজুর করে। আজকে তার শেষ তারিখ ছিল। আজকে তিনি চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে বেল বন্ড ফার্নিশ করেন। অপরদিকে তিনি মূল মামলায় চৌহালী আমলী আদালতে জামিন চেয়েছেন। বিজ্ঞ আদালত ১০ হাজার টাকা জামানতে জামিন মঞ্জুর করেছেন। এছাড়াও সদর থানা আমলী আদালতে ভিপি শামীম খান বাদী হয়ে আরেকটি মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলাতেও জামিন পেয়েছেন তিনি।

 

 

উল্লেখ্য, গত ২৬ মার্চ মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর দেওয়া একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়ার একটি মসজিদে প্রকাশ্য সভায় তাঁকে ‘নাস্তিক’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী বলে মন্তব্য করেন আমির হামজা। তার ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও জাতীয় গণমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়।

 

 

এ ঘটনায় গত ২ এপ্রিল মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেন অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির কর্ণেল। এ মামলায় ওইদিনই আদালত সমন জারি করে ২১ এপ্রিল হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। নির্ধারিত তারিখে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে নিম্ন আদালত।

 

 

মুন্সীগঞ্জ জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

মুন্সীগঞ্জ জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মে – ২০২৬ খ্রিঃ মাসের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (১৪ জুন) সকাল ১০.০০ ঘটিকায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সম্মানিত জেলা প্রশাসক জনাব সৈয়দা নুরমহল আশরাফী মহোদয়ের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য, জনাব মোঃ কামরুজ্জামান মহোদয়। উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি দপ্তরের দপ্তর প্রধানগণ, প্রেসক্লাবের সম্মানিত সভাপতি ও সেক্রেটারি মহোদয় ও কমিটির অন্যান্য সম্মানিত সদস্যবৃন্দ।
সভায় মুন্সীগঞ্জ জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার জনাব মোঃ মেনহাজুল আলম পিপিএম মহোদয় জেলার আইন-শৃঙ্খলার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। এসময় তিনি জেলার সকল নাগরিকের নিরাপত্তা প্রদান, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, অপরাধ দমন, সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা। বিশেষ করে মাদকদ্রব্য, চাদাবাঁজি, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড এবং জনভোগান্তি সৃষ্টি করে এমন অপরাধ দমনে আরও সক্রিয় হওয়ার মনোভাব ব্যক্ত করেন এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি নিরাপদ, স্থিতিশীল ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

নারায়ণগঞ্জে মাদক কারবারিদের হামলায় পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে মাদক কারবারিদের হামলার মুখে পড়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় এক এসআইসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী মনির ওরফে ফাইটার মনিরসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

 

শনিবার (১৪ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফতুল্লার মাসদাইর গুদারাঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

 

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— ফাইটার মনির (৩৮), নাঈম (২৮) ও মাসুম (২৪)।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই নন্দন সরকারের নেতৃত্বে একটি দল গুদারাঘাট এলাকায় ফাইটার মনিরের মাদক স্পটে অভিযান চালায়। এ সময় ১৫ কেজি গাঁজাসহ মনির ও তার দুই সহযোগীকে আটক করা হয়।

আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে মনিরের সহযোগীরা সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ১০ থেকে ১২ রাউন্ড গুলি ছোড়ে এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আত্মরক্ষার্থে পুলিশও শটগান থেকে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে।

একপর্যায়ে হামলাকারীদের ছোড়া গুলিতে ফাইটার মনিরের পায়ে গুলি লাগে। হামলায় আহত হন এসআই নন্দন সরকার, এসআই মনির, এএসআই কামরুল হাসান, এএসআই মনির হোসাইন ও কনস্টেবল আশিক। পরে তাদের নারায়ণগঞ্জের খানপুর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

 

 

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব আলম বলেন, ‘মাদকবিরোধী অভিযানে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ফাইটার মনিরকে বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ আটক করা হয়েছে। তাকে ছাড়িয়ে নিতে সহযোগীরা পুলিশের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণ করে। পরে পুলিশের প্রতিরোধের মুখে তারা পালিয়ে যায়।’

 

 

তিনি জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

 

 

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাইতে গ্রেপ্তার

বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিবী) বেনজীর আহমেদ দুবাই থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন।

 

 

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করেছে দুবাই পুলিশ।

 

 

পুলিশ সদরদপ্তরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা রোববার (১৪ জুন) দুপুরে গণমাধ্যমের কাছে তথ্যটি নিশ্চিত করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই কর্মকর্তা বলেন, দুদকের মামলায় ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ১২ জুন তারা একটি চিঠি দিয়ে আমাদের এ তথ্য জানিয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির আদেশ দেয় আদালত। ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. জাকির হোসেন এ আদেশ দেন।

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে বেনজীর ও তার স্ত্রী-কন্যাদের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে পৃথক চারটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

 

 

আগে ৭৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ এবং তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর পৃথক চারটি মামলা করে দুদক।

 

 

মামলায় বেনজীর আহমেদের পরিবারের বিরুদ্ধে ৭৪ কোটি ১৩ লাখ ৩৯ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগ আনা হয়েছিল।

 

 

উল্লেখ্য, বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশের মহাপরিদর্শক ছিলেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও র‌্যাবের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

 

আজ কিউবার বিপ্লবী চে গুয়েভারার ৯৮তম জন্মদিন

আজ রোববার (১৪ জুন) কিউবার বিপ্লবী চে গুয়েভারার ৯৮তম জন্মবার্ষিকী। মহান চে গুয়েভারা পেশায় একজন চিকিৎসক হলেও তিনি ছিলেন একাধারে বিপ্লবী, লেখক, বুদ্ধিজীবী, গেরিলা নেতা, কূটনীতিবিদ ও সমরবিদ। তার পুরো নাম আর্নেস্তো গুয়েভারা দে লা সেরনা। তবে কিউবার জনগণ তাঁকে ভালবেসে চে (প্রিয়) নাম দিয়েছেন।

 

 

 

 

১৯২৮ সালের এই দিনে আর্জেন্টিনার সান্তা ফে শহরে তাঁর জন্ম। ইতিহাস নন্দিত এই বিপ্লবীর নেতৃত্বে কিউবায় সফল বিপ্লবে সংঘটিত হয়।

 

 

 

 

১৯৫৫ সালে ঘটনাক্রমে মেক্সিকো সিটিতে নির্বাসিত কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রো ও রাউল কাস্ত্রোর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। তিনি ফিদেল কাস্ত্রোর দলে যোগ দিয়ে কিউবার তৎকালীন একনায়ক বাতিস্তাকে উৎখাত আন্দোলনে যুক্ত হন। দুই বছরব্যাপী চলা এই আন্দোলন সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ফলে চে হয়ে ওঠেন কাস্ত্রো ভাইদের কাছের মানুষ এবং পরে কিউবার শিল্পমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধানসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন।

 

 

 

চে গুয়েভারা ছিলেন আজন্ম বিপ্লবী। তিনি নতুন দেশে বিপ্লবের আশায় কিউবা ত্যাগ করেন। তিনি তাঁর সেকেন্ড ইন কমান্ড ভিক্টর বার্ক এবং ১২ জন সহযোদ্ধা নিয়ে কঙ্গোয় গিয়ে প্যাট্রিস লুমুম্বার নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে সংগঠিত করার দায়িত্ব নেন।

 

 

 

এরপর চে তাঁর সহযোদ্ধাদের নিয়ে চলে যান বলিভিয়ায়। সেখানে গিয়ে শুরু করেন যুক্তরাষ্ট্রের মদদপুষ্ট স্বৈরশাসক বারিয়েন্তোসের বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ। বলিভিয়ার সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধরত অবস্থায় গুরুতর আহত হয়ে বন্দি হন চে। দেশটির লা হিগুয়েরা নামে একটি শহরের স্কুলঘরে সারারাত আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। পরদিন ১৯৬৭ সালের ৯ অক্টোবর বলিভিয়ার সেনাবাহিনী তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে। মৃত্যুর পর সমাজতন্ত্র অনুসারীদের জন্য অনুকরণীয় আদর্শে পরিণত হন চে গুয়েভারা।

 

 

অষ্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশের মিশনে দারুণ ব্যাট করছে টাইগাররা

শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের ঘোষণা দেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। এরপরই দুর্দান্ত ব্যাটিং শুরু করে টাইগাররা।

 

 

 

ইতিমধ্যে সিরিজ নিজেদের করে নেওয়া বাংলাদেশের সামনে এখন অজিদের হোয়াইটওয়াশ করার সুযোগ। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই মাঠে নেমেছে টাইগাররা।

 

 

 

শেষ ম্যাচে একাদশে দুটি পরিবর্তন এনেছে লাল-সবুজ বাহিনী। কনকাশনের কারণে দলে নেই মেহেদী হাসান মিরাজ। মূলত তার পরিবর্তে সুযোগ পেয়েছেন শেখ মেহেদি হাসান। এছাড়া পেসার নাহিদ রানার জায়গায় একাদশে ডাক পেয়েছেন শরিফুল ইসলাম।

 

প্রথম দুই ম্যাচে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং— সব বিভাগেই দাপট দেখিয়ে জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। তাই শেষ ম্যাচেও একই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে জয়ের প্রত্যাশা স্বাগতিকদের।

 

অন্যদিকে এরই মধ্যে সিরিজ হারানো অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য অন্তত শেষ ম্যাচটি জিতে হোয়াইটওয়াশ এড়ানো।

 

খুলনায় ফজরের নামাজ চলাকালে মসজিদে ঢুকে গুলিবর্ষণ, আহত দুই

খুলনায় ফজরের নামাজ চলাকালে মসজিদের ভেতরে ঢুকে মুসল্লিদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়েছে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত। এ ঘটনায় মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদকসহ (সেক্রেটারি) দুই মুসল্লি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।

 

 

 

রোববার (১৪ জুন) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মহানগরীর দৌলতপুর থানার পশ্চিম কাশীপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র জামে মসজিদে এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে।

 

 

 

গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিরা হলেন- মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি লোকমান হাকিম (৪৫) এবং স্থানীয় মুসল্লি আলম শেখ (৫৫)।

 

পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মসজিদে ফজরের জামাত চলছিল। নামাজ চলাকালীন আকস্মিকভাবে কয়েকজন সশস্ত্র দুর্বৃত্ত মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে। তারা সরাসরি মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি লোকমান হাকিমকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় পাশে থাকা আলম শেখ নামের আরেক মুসল্লিও গুলিবিদ্ধ হন। গুলিতে রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনেই মসজিদের মেঝেতে লুটিয়ে পড়লে দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

পবিত্র উপাসনালয়ের ভেতরে গুলির শব্দ শুনে আশপাশের বাসিন্দা ও অন্য মুসল্লিরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে তারা রক্তাক্ত অবস্থায় আহত দুজনকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে লোকমান হাকিমের শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকায় পাঠানো হয়।

 

 

খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) সহকারী পুলিশ কমিশনার (দৌলতপুর জোন) মো. শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং সেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করেছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে সংলগ্ন এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। এই হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং জড়িতদের পরিচয় উদ্ঘাটনে পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে।

 

 

 

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, গুলিবিদ্ধ লোকমান হাকিম ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) একজন তালিকাভুক্ত ঠিকাদার এবং জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী। ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব কিংবা পূর্বশত্রুতার জেরে এই পরিকল্পিত হামলার ঘটনা ঘটেছে কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজক দেশ মেক্সিকোতে সশস্ত্র হামলায় মেয়র নিহত

মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলের ওয়াহাকা রাজ্যে সশস্ত্র হামলায় একটি শহরের মেয়র নিহত হয়েছেন। নিহত মেয়রের নাম জোয়েল ব্রাভো। তিনি সান মিগেল আমাতিতলান শহরের মেয়র ছিলেন।

 

 

 

রাজ্যের প্রসিকিউটর কার্যালয় জানিয়েছে, সশস্ত্র হামলায় তিনি নিহত হন। তবে হামলার বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। খবর এএফপির।

 

 

 

ওয়াহাকার গভর্নর সালোমোন হারা এ হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, রাজ্যে কোনো ধরনের সহিংসতা বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া বরদাশত করা হবে না।

ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হামলাকারীদের খুঁজে বের করতে বিশেষ ট্যাকটিক্যাল ইউনিট কাজ করছে। এ অভিযানে ফেডারেল বাহিনীর সহায়তাও নেওয়া হচ্ছে।

ওয়াহাকা রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে জালিস্কো নুয়েভা জেনারাসিওন ও সিনালোয়া কার্টেল নামে দুটি শক্তিশালী মাদক চক্র সক্রিয় রয়েছে। মাদক পাচারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এসব গোষ্ঠীর মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষ হয়।

 

মেক্সিকোতে মাদক-সংশ্লিষ্ট সহিংসতা গত দুই দশকে ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ২০০৬ সালের পর থেকে দেশটিতে প্রায় ১০০ জন মেয়র হত্যার শিকার হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

মানহানি মামলায় সিরাজগঞ্জ আদালতে আত্মসমর্পণ করছেন আমির হামজা

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষী বলার অভিযোগে দায়ের করা মানহানির মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করছেন কুষ্টিয়া–৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা আমির হামজা।

 

 

রোববার (১৪ জুন) দুপুর দুইটার দিকে তিনি সিরাজগঞ্জের চৌহালী আমলি আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন।

 

 

মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবি জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট শাকিল মোহাম্মদ শরিফুর হায়দার রফিক সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, আজ দুপুর ২টার দিকে মামলার আসামি মুফতি আমির হামজা সিরাজগঞ্জ সদর আমলী আদালতে আত্মসমর্পণ করার কথা রয়েছে।

 

 

 

এর আগে গত ২ এপ্রিল ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নিয়ে প্রকাশ্য জনসভায় মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবীর কর্ণেল বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

 

 

 

ওইদিনই আদালতের বিচারক সুমন কর্মকার মামলাটি আমলে নিয়ে সমন জারির নির্দেশ দিয়েছিলেন।

 

 

 

কিন্তু তিনি নির্ধারিত তারিখে আমির হামজা আদালতে হাজির না হওয়ায় ২১ এপ্রিল বিচারক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন।

 

 

 

বাদী হুমায়ুন কবির কর্ণের বলেন, সম্ভ্রান্ত মুসিলম পরিবারের সন্তান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি তার নির্বাচনী এলাকায় মসজিদ ও মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন। মায়ের নামে করেছেন এতিমখানা। তিনি নিয়মিত নামাজ পড়েন রোজা রাখেন। অথচ গত ২৭ মার্চ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর বড় মসজিদে জুমার খুতবার আগে আলোচনায় মুফতি আমির হামজা বলেছিলেন, ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু একজন নাস্তিক ও আপাদমস্তক ইসলামবিদ্বেষী।’

 

 

 

বাদী আরও বলেন, আমির হামজার ওই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভিডিওটি প্রচারিত হয়। তার ওই বক্তব্যে মন্ত্রীর সম্মানহানি হওয়ায় দণ্ডবিধির ২৯৬, ৫০০ ও ৫০৪ ধারায় মানহানির একটি মামলা করি।

 

 

 

সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম বলেন, মুফতি আমির হামজা এমপি যোহর নামাজ শেষে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করবেন।

 

জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ আগুনে পুড়িয়ে দিল নোয়াখালী ছাত্রলীগ

নোয়াখালীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে কাজ শুরু করেছে পুলিশ।

 

 

 

শনিবার (১৩ জুন) ভোররাতে জেলা শহরের জজ আদালত সড়কের উত্তর পাশে অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভের মাঝখানে নির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে এ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। তবে দিনভর বিষয়টি কারও নজরে না আসায় ঘটনাটি জানাজানি হয়নি। পরে শনিবার সন্ধ্যার দিকে স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ২৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপর পুলিশ ঘটনাটি তদন্তে তৎপর হয়।

 

 

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, একদল তরুণ স্মৃতিস্তম্ভ ও এর আশপাশে দাহ্য পদার্থ ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে স্মৃতিস্তম্ভের নিচের অংশের কিছু অংশ পুড়ে যায়। ভিডিওতে উপস্থিত একজনকে বলতে শোনা যায়, স্বাধীন সার্বভৌম এই দেশ থেকে রাজাকারের চিহ্ন মুছে ফেলার জন্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগই যথেষ্ট। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে। নোয়াখালী থেকে রাজাকার বিতাড়িত করার জন্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগ প্রস্তুত। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

 

এ বিষয়ে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে কারা এবং কখন আগুন দিয়েছে, সে বিষয়ে আগে আমাদের কাছে কোনো তথ্য ছিল না। যারা এ কাজ করেছে, তারাই একটি ভিডিও ফেসবুকে আপলোড করেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখা গেছে, আগুনের কারণে স্মৃতিস্তম্ভের কিছু অংশ কালো হয়ে গেছে। ভিডিও ফুটেজ ও সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ করে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

 

 

জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে নিখোঁজ ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সমাবেশে সংগঠনটির নেতারা গুমের অভিযোগ নিয়ে ‘প্রোপাগান্ডা’ ছড়ানোর অভিযোগও তোলেন।

 

 

 

শনিবার (১৩ ‍জুন) রাত ৯টায় রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য হয়ে শাহবাগ গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

 

 

 

সমাবেশে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘ছাত্রশিবিরের প্রতি ধিক্কার জানাচ্ছি। তারা ভুক্তভোগী নারীর নাম উল্লেখ করে প্রেস রিলিজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করেছে। কথায় কথায় তারা ইসলামের কথা বলে, নারীর অধিকারের কথা বলে; কিন্তু তাদের আসল চরিত্র তাদের কর্মকাণ্ডেই প্রকাশ পেয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর আমির, নির্বাচিত এমপিবৃন্দ এবং শিবিরের বিভিন্ন স্তরের নেতারা একযোগে দেশে আবার গুমের সংস্কৃতি চালু হয়েছে বলে প্রচার চালিয়েছেন। বিগত দুই বছরে যারা মবকে উসকে দিয়েছে, নেতৃত্ব দিয়েছে এবং বিভিন্ন ক্যাম্পাসে প্রোপাগান্ডা ও মিথ্যাচার ছড়িয়েছে, তাদের প্রতি আমরা ধিক্কার জানাই।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘গুমের মতো রাষ্ট্রীয় অপরাধকে স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে আমরা উদ্বিগ্ন। অতীতে শত শত নেতাকর্মী গুমের শিকার হয়েছেন, অথচ তাদের প্রতি তাচ্ছিল্য প্রদর্শন করা হচ্ছে।’

 

 

ক্যাম্পাস রাজনীতি প্রসঙ্গে ছাত্রদল সভাপতি অভিযোগ করেন, ‘বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন গ্রুপ ও পেজ দখল করে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে, যা ক্যাম্পাসের সহনশীল পরিবেশ নষ্ট করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক এই রাজনীতির সুযোগ নিচ্ছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ।’

 

 

 

সমাবেশে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির বলেন, ‘কুমিল্লায় যাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে, তার নাম আমরা ছাত্রশিবিরের প্রকাশিত কোনো কমিটিতে দেখিনি। শিবির তাদের কেন্দ্রীয় কমিটিও প্রকাশ করেনি।’

 

 

 

তিনি দাবি করেন, ‘শিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রেমের সম্পর্কের কারণে অভিযুক্তকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু ধর্ষণ ও ভ্রূণ হত্যার অভিযোগের বিষয়ে তারা কোনো বিচার করেনি বলে আমরা মনে করি।’

 

 

 

গুমের অভিযোগ প্রসঙ্গে নাসির বলেন, ‘গুমের নাটক মঞ্চস্থ করে তারা অতীতের প্রকৃত গুমের ঘটনাগুলোকে অপমান করেছে। কোনো ঘটনা ঘটলেই জামায়াতের আমির তার ভেরিফায়েড আইডি থেকে গুমের অভিযোগ তোলেন। পাঁচ আগস্টের পর দেশে যত প্রোপাগান্ডা ছড়িয়েছে, তার বড় অংশই জামায়াতের আমিরের মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে।’

 

 

 

সমাবেশে ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন।

 

 

 

সমাবেশে অন্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, সহসভাপতি খোরশেদ আলম সোহেল ও শাফি ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান ও মাসুদুর রহমান, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মাহমুদ ইসলাম কাজল, ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি গণেশচন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা।

 

 

 

বক্তারা অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান এবং গুম ও অন্যান্য ইস্যুতে ‘রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা’ বন্ধের আহ্বান জানান।

 

আজ থেকে চালু আইসিইউ সুবিধা, উপকৃত হবে ১০ জেলার মানুষ

আইসিইউ নিয়ে সুখবর পাচ্ছে দেশের ১০ জেলার মানুষ। জরুরি রেসপন্স ও মহামারি প্রস্তুতি (ইআরপিপি) প্রকল্পের আওতায় সেখানকার সদর হাসপাতালে চালু হচ্ছে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)।

 

 

 

প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি ও জনবল নিশ্চিত করে শুরু হওয়া এই উদ্যোগের ফলে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক জটিল রোগীরা এখন নিজ জেলাতেই উন্নতমানের ‘ক্রিটিক্যাল কেয়ার’ সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এসব আইসিইউর কার্যক্রম রোববার (১৪ জুন) উদ্বোধন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

 

 

 

নতুন আইসিইউ সুবিধা চালু হচ্ছে মুন্সীগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল, টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল, সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতাল, গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল, চুয়াডাঙ্গা জেলা হাসপাতাল, নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতাল, যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল, শেরপুর ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতাল, মাদারীপুর জেলা হাসপাতাল এবং বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে।

 

 

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি আইসিইউতে প্রয়োজনীয় পেডিয়াট্রিক ভেন্টিলেটর, অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটরসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব ইউনিট পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবলও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

 

 

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন এসব আইসিইউ চালুর ফলে জেলা পর্যায়েই শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক জটিল রোগীদের উন্নত জরুরি ও নিবিড় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এতে গুরুতর রোগীদের চিকিৎসার জন্য রাজধানী বা বড় শহরে ছুটে যাওয়ার প্রয়োজন অনেকাংশে কমে আসবে।

তাদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে আধুনিক ‘ক্রিটিক্যাল কেয়ার’ সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নের পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতি ও মহামারি মোকাবিলার সক্ষমতাও আরও জোরদার হবে।

 

ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু, ব্রাজিলের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ

হেক্সা মিশনের শুরুতেই হোঁচট খেলো পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। গ্রুপপর্বের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে শুরুতে পিছিয়ে পড়ার পর ভিনিসিয়ুসের দুর্দান্ত গোলে ম্যাচে ফিরেছিল ঠিকই, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর ব্যবধান বাড়াতে পারেনি সেলেসাওরা। ম্যাচ শেষ হয় ১-১ গোলে।

 

 

 

এ নিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে চতুর্থবারের মতো নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে জয়বঞ্চিত হলো ব্রাজিল।

 

 

 

 

সেই সঙ্গে সামনে এসেছে অস্বস্তিকর এক ইতিহাসও। পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ড্র করার পর কখনোই বিশ্বকাপ জিততে পারেনি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

এবারের আগে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে তিনবার ড্র করেছিল ব্রাজিল। ১৯৭৪ সালে যুগোস্লাভিয়ার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র, ১৯৭৮ সালে সুইডেনের বিপক্ষে ১–১ এবং ২০১৮ সালে সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ১–১ গোলে সমতা। এই তিন আসরের একটিতেও শিরোপা ছুঁতে পারেনি তারা।

 

১৯৭৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিল শেষ করেছিল চতুর্থ হয়ে। ১৯৭৮ সালে তৃতীয় স্থান পেলেও ট্রফির দেখা মেলেনি। আর ২০১৮ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল নেইমারদের।

 

 

অন্যদিকে ব্রাজিলের পাঁচটি বিশ্বকাপজয়ী অভিযানের দিকে তাকালে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪ ও ২০০২—প্রতিবারই প্রথম ম্যাচে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছিল সেলেসাওরা। পরে সেই আসরগুলোতেই শিরোপা জিতেছে তারা।

 

 

 

অবশ্য কাগজের পরিসংখ্যানে নয়, মাঠের পারফরম্যান্সেই ফলাফল নির্ধারিত হয়। এবারের আসরে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা কতদূর যেতে পারে এখন সেটাই দেখার বিষয়।

 

 

 

ড্র হওয়া ব্রাজিলের চার বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ

আসর প্রতিপক্ষ ফলাফল
২০২৬ মরক্কো ১–১
২০১৮ সুইজারল্যান্ড ১–১
১৯৭৮ সুইডেন ১–১
১৯৭৪ যুগোস্লাভিয়া ০–০

 

৮৮ বছর ধরে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে অপরাজিত ব্রাজিল

ব্রাজিল একমাত্র দেশ, যারা বিশ্বকাপের ২৩টি আসরের প্রতিটিতে অংশগ্রহণ করেছে। তারা ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪ ও ২০০২ সালে রেকর্ড পাঁচবার শিরোপা জিতেছে। বিশ্বকাপ বরাবরই সেলেসাওদের জন্য সবচেয়ে বড় মঞ্চ এবং এমন এক ক্যানভাস, যেখানে তারা যেন শতাব্দী ধরে এক অনবদ্য শিল্পকর্ম তৈরি করেছে। তাদের এই চিত্তাকর্ষক গল্পটি কেবল ট্রফি উঁচিয়ে ধরার মাধ্যমে শুরু হয় না, বরং শুরু হয় উদ্বোধনী বাঁশির মাধ্যমে।

 

১৯৩০ সালে বিশ্বকাপের প্রথম আসরে ব্রাজিল অনেক প্রত্যাশা নিয়ে হাজির হয়েছিল, কিন্তু তাদের নিজেদের ফুটবল ফেডারেশনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে স্কোয়াডটি মূলত রিও দি জানেইরোভিত্তিক খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত হয়েছিল।

 

যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে তারা হারের স্বাদ পায়, যে ধাক্কাটি তাদের সামনের কঠিন পথের ইঙ্গিত দিচ্ছিল। চার বছর পর ১৯৩৪ বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচটি তাদের জন্য আরও বেশি নির্মম প্রমাণিত হয়।

 

শুরু থেকেই নকআউট পদ্ধতিতে আয়োজিত সেই টুর্নামেন্টে তারা স্পেনের কাছে ৩-১ গোলে হেরে যায়, যা ছিল সেই আসরে তাদের একমাত্র ম্যাচ। ফুটবলের এই পরাশক্তির জন্য এটি ছিল একটি হতাশাজনক মুহূর্ত। তবে এটিই ছিল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে তাদের শেষ পরাজয়।

 

১৯৩৪ সালের সেই পরাজয়ের পর থেকে প্রথম ম্যাচটি হলুদ-সবুজ শিবিরের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। এটি এমন এক দুর্গ, যেখানে তারা টানা ৮৮ বছর ধরে অপরাজিত রয়েছে। এই সময়ে খেলা নিজেদের ২০টি প্রথম ম্যাচের মধ্যে তারা জিতেছে ১৭টি, ড্র করেছে বাকি তিনটি।

 

১৯৭৪ সালের আসরে ব্রাজিল যুগোস্লাভিয়ার সাথে ০-০ গোলে ড্র করে এবং চার বছর পরের আসরে তারা আবারও আটকে যায়। সুইডেনের বিপক্ষে তাদের উদ্বোধনী ম্যাচটি ১-১ গোলে শেষ হয়। এছাড়া, ২০১৮ সালের আসরে তারা সুইজারল্যান্ডের সঙ্গেও একই ব্যবধানে ড্র করে।

 

বাকি সবগুলো ম্যাচে জিতেছে সেলেসাওরা। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে তাদের এই আধিপত্য সম্ভবত মেক্সিকোর বিপক্ষে সবচেয়ে ভালোভাবে ফুটে ওঠে। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকোকে তিনবার হারিয়েছে তারা, যা অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি। আর এই তিন ম্যাচে তাদের সম্মিলিত গোলের ব্যবধান চোখে পড়ার মতো— ১১-০।

 

ব্রাজিলের সবশেষ ২০টি উদ্বোধনী ম্যাচের পরিসংখ্যান এমন একটি দলের ছবি তুলে ধরে, যারা কোনো বাধা মানতে নারাজ। আক্রমণাত্মক ঐতিহ্য তাদের শিরায় শিরায় প্রবাহিত। কারণ এই ম্যাচগুলোতে তারা মোট ৪৯টি গোল করেছে।

 

চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম গ্রুপ ‘সি’-এর একটি ব্লকবাস্টার উদ্বোধনী ম্যাচের জন্য প্রস্তুত। তাদের প্রতিপক্ষ মরক্কো আর অতীতের মতো দুর্বল নয়, বরং সেলেসাওদের চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত এক শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী, যারা গত ২০২২ সালের আসরে চতুর্থ স্থান পেয়েছিল।

 

এই লড়াইটি উভয় দলের জন্যই একটি নির্ধারক মুহূর্ত হতে পারে। তাদের মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যান সমানে-সমান। দুই দলই একটি করে জয় পেয়েছে।

 

ব্রাজিলের জয়টি এসেছিল ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ৩-০ গোলে। তবে মরক্কোর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স সামনের কঠিন লড়াইয়েরই ইঙ্গিত দেয়। ২০২৩ সালের মার্চে দুই দলের সাম্প্রতিকতম দেখায়, একটি প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল মরক্কো।

 

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ব্রাজিলের ইতিহাস:

১৯৩০ উরুগুয়ে: ব্রাজিল ১-২ যুগোস্লাভিয়া

১৯৩৪ ইতালি: ব্রাজিল ১-৩ স্পেন

১৯৩৮ ফ্রান্স: ব্রাজিল ৬-৫ পোল্যান্ড

১৯৫০ ব্রাজিল: ব্রাজিল ৪-০ মেক্সিকো

১৯৫৪ সুইজারল্যান্ড: ব্রাজিল ৫-০ মেক্সিকো

১৯৫৮ সুইডেন: ব্রাজিল ৩-০ অস্ট্রিয়া

১৯৬২ চিলি: ব্রাজিল ২-০ মেক্সিকো

১৯৬৬ ইংল্যান্ড: ব্রাজিল ২-০ বুলগেরিয়া

১৯৭০ মেক্সিকো: ব্রাজিল ৪-১ চেকোস্লোভাকিয়া

১৯৭৪ পশ্চিম জার্মানি: ব্রাজিল ০-০ যুগোস্লাভিয়া

১৯৭৮ আর্জেন্টিনা: ব্রাজিল ১-১ সুইডেন

১৯৮২ স্পেন: ব্রাজিল ২-১ সোভিয়েত ইউনিয়ন

১৯৮৬ মেক্সিকো: ব্রাজিল ১-০ স্পেন

১৯৯০ ইতালি: ব্রাজিল ২-১ সুইডেন

১৯৯৪ যুক্তরাষ্ট্র: ব্রাজিল ২-০ রাশিয়া

১৯৯৮ ফ্রান্স: ব্রাজিল ২-১ স্কটল্যান্ড

২০০২ দক্ষিণ কোরিয়া/জাপান: ব্রাজিল ২-১ তুরস্ক

২০০৬ জার্মানি: ব্রাজিল ১-০ ক্রোয়েশিয়া

২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা: ব্রাজিল ২-১ উত্তর কোরিয়া

২০১৪ ব্রাজিল: ব্রাজিল ৩-১ ক্রোয়েশিয়া

২০১৮ রাশিয়া: ব্রাজিল ১-১ সুইজারল্যান্ড

২০২২ কাতার: ব্রাজিল ২-০ সার্বিয়া

 

ডিজিটাল নিরাপত্তায় এক ধাপ এগিয়ে নীলফামারী জেলা পুলিশ

সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ, অনলাইন জালিয়াতি দমন এবং নাগরিকদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নীলফামারী জেলা পুলিশে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর ইউনিট ‘সাইবার সেল’ যুক্ত হতে যাচ্ছে। জেলা পুলিশের এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও জনবান্ধব পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

 

জানা গেছে, নীলফামারী জেলার পুলিশ সুপার মোঃ ফরহাদ হোসেন খাঁনের উদ্যোগে গঠিত হতে যাওয়া এ ইউনিট সাইবার অপরাধ তদন্ত, অনলাইন প্রতারণা শনাক্তকরণ এবং প্রযুক্তিভিত্তিক পুলিশি সেবার পরিধি সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

 

 

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নতুন সাইবার সেলের মাধ্যমে হারানো বা চুরি হওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধারে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করা হবে। একই সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর তদন্তের মাধ্যমে জটিল ও সূত্রবিহীন (ক্লু-লেস) মামলার রহস্য উদঘাটনেও কাজ করবে ইউনিটটি।

 

এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেক আইডি ব্যবহার, আইডি হ্যাকিং, ছবি বিকৃত করে হয়রানি, ব্ল্যাকমেইলিংসহ বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় আইনি ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হবে। নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সাইবার হয়রানি প্রতিরোধেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

 

সাইবার সেল অনলাইন জুয়া, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করে সংঘটিত আর্থিক প্রতারণা প্রতিরোধে কাজ করবে। বিকাশ, নগদ, রকেটসহ বিভিন্ন ডিজিটাল লেনদেনে প্রতারণার অভিযোগ পেলে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, উসকানিমূলক প্রচারণা এবং বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধ নজরদারির আওতায় রাখতে ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

 

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে এবং নাগরিকদের নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করতে নীলফামারী জেলা পুলিশের নতুন এই সাইবার সেল গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। একই সঙ্গে এটি জেলার সাধারণ মানুষের আস্থা ও সেবাপ্রাপ্তির নতুন দ্বার উন্মোচন করবে।

 

‘প্রধানমন্ত্রীর মন খারাপ! বিরোধী দল কেন বাজেটের সমালোচনা করে?

বিরোধীদলীয় চীফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্ববায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর মন খারাপ! বিরোধী দল কেন বাজেটের সমালোচনা করে?

 

শনিবার (১৩ ‍জুন) চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘী মাঠে ১১ দলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। নাহিদ বলেন, সমালোচনা করার কারণ আপনারা বাজেটে দুর্নীতির রাস্তা বন্ধ করেননি, লুটপাটের রাস্তা বন্ধ করেননি। তাই আমরা বাজেটের যৌক্তিক সমালোচনা করছি।

 

তিনি বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতে পুনরায় প্রভাবশালী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আবারও ব্যাংক দখল শুরু হয়ে গেছে, এস আলমের হাতে আবারও ব্যাংক তুলে দেওয়া হচ্ছে।

 

বক্তব্যে বিদ্যুতের দাম নজিরবিহীনভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, বর্তমান বাজেটের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক পরিবর্তন সম্ভব হবে না। টেকসই পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশ পুলিশ, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং বিচার বিভাগে কার্যকর সংস্কার প্রয়োজন।

 

সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনাগুলোর প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের আকাশ ও মাটি এক নয়। এটার ফয়সালা ১৯৪৭, ১৯৭১ ও ২০২৪ সালে হয়ে গেছে। বাংলাদেশের মাটিতে আধিপত্যবাদ চলবে না।

 

তিনি সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।

 

পেছালো যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি স্বাক্ষরের তারিখ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচিত সমঝোতা স্মারক আগামী রোববার (১৪ জুন) স্বাক্ষরিত হবে না বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই। তবে তিনি বলেছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এটি স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

 

 

আল জাজিরায় শনিবার (১৩ জুন) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বাঘাই এ কথা বলেন।

 

 

তিনি জানান, ‘যে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক নিয়ে কাজ চলছে, তার মূল লক্ষ্য হলো যুদ্ধের অবসান ঘটানো। বর্তমান পর্যায়ে এতে পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে কোনো আলোচনা অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়নি।’

 

সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাব্য সময় নিয়ে বাঘাই বলেন, ‘চুক্তি স্বাক্ষরের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। যদিও এটি আগামীকাল হচ্ছে না, তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে স্বাক্ষর হতে পারে এ সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।’

 

 

তিনি আরও বলেন, ‘অন্য পক্ষের অবস্থানের কারণে এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে যেকোনো মন্তব্য বা পূর্বাভাস দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’

 

 

এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ দাবি করেছিলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পথে রয়েছে এবং তা শিগগিরই স্বাক্ষরিত হতে পারে। তবে ইরানের সর্বশেষ বক্তব্যে চুক্তি স্বাক্ষরের সময়সূচি নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

 

পাঁচ মাসে নির্যাতনের শিকার সহস্রাধিক নারী-শিশু: হত্যা ১৮

মাত্র পাঁচ মাসে ১ হাজার ৩৫ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ধর্ষণের হর হত্যা করা হয়েছে ১৮ জনকে। ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ২৫০ ও গণধর্ষণের শিকার হেয়েছেন ৬৫ জন। এছাড়াও বিভিন্ন কারণে ২৩৭ জন নারী ও কন্যা শিশুকে হত্যা করা হয়েছে এবং আত্মহত্যা করেছেন আরও ৬০ জন।

 

শনিবার (১৩ জুন) সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের আনোয়ারা বেগম-মুনিরা খান মিলনায়তনে ‘নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

 

সংলাপে নারী নির্যাতনের এই ভয়াবহ পরিসংখ্যান উঠে আসে। এতে নারী ও শিশু নির্যাতনের উদ্বেগজনক চিত্র, বিচারব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, সামাজিক সংকট এবং প্রতিরোধের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন সরকারের নীতিনির্ধারক, সাবেক বিচারপতি, শিক্ষাবিদ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও নারী অধিকারকর্মীরা।

 

সংলাপে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু। কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষে লিখিত মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন লিগ্যাল এইড সম্পাদক রেখা সাহা।

 

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, দেশে নারী ও শিশু সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় আইন থাকলেও এর কার্যকর প্রয়োগ ও সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তন এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।

 

 

তিনি বলেন, নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং সচেতনতার অভাব সহিংসতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। নারী ও শিশুর অধিকার বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি কিশোর-কিশোরীদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আরও বেশি ক্লাব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

 

 

মন্ত্রী বলেন, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার সমস্যা সমাজের গভীরে প্রোথিত। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফরেনসিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং মাদক নির্মূল জরুরি।

 

 

তিনি জানান, বিভাগীয় পর্যায়ে ডিএনএ ল্যাব স্থাপন এবং দেশের ৩৭টি মেডিকেল কলেজে ও পরবর্তীতে প্রতিটি জেলায় ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নারী ও শিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র, সমাজ এবং নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

 

 

সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ বলেন, সংবিধানে নারী-পুরুষের সমঅধিকারের নিশ্চয়তা থাকলেও বাস্তবে বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় ব্যাখ্যার কারণে সেই অধিকার সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে।

 

 

তিনি বলেন, শিশুর জন্মের পর থেকেই নানা ধরনের বৈষম্যের সূচনা হয়, যা পরবর্তীতে সহিংস মানসিকতা তৈরিতে ভূমিকা রাখে। ধর্ষণ প্রতিরোধে দেশে পর্যাপ্ত আইন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আইনের সঠিক ও নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।

 

 

গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, নারীর অধিকার খর্ব করার ক্ষেত্রে এখনো ধর্মকে ভুলভাবে ব্যবহার করা হয়। তিনি সাইবার বুলিং ও অনলাইন সহিংসতা বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কনটেন্ট নির্মাতা, ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানান। পাশাপাশি ধর্মীয় নেতাদের মাধ্যমে নারী নির্যাতনবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবারভিত্তিক মূল্যবোধ শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

বিশিষ্ট কলামিস্ট ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক বলেন, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা এখন জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, কিশোর গ্যাং, সামাজিক অবক্ষয় এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহার সমাজে নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। কেবল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে নয়, সাংস্কৃতিক চর্চা বৃদ্ধি এবং সামাজিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমেও এ সংকট মোকাবিলা করতে হবে।

 

 

উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের উপ-পুলিশ কমিশনার মোছা. লিজা বেগম বলেন, সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম, কার্যকর আইন প্রয়োগ এবং মামলার সুষ্ঠু তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ভিকটিম-কেন্দ্রিক পুলিশিং জোরদার এবং প্রতিটি জেলায় ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। সাইবার সহিংসতা প্রতিরোধে জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক সচেতনতা কর্মসূচি গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

 

 

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক মো. কামাল উদ্দিন মজুমদার বলেন, একটি মানবিক ও সুস্থ সমাজে কোনো ধরনের সহিংসতার স্থান নেই। তিনি বলেন, রাষ্ট্র এককভাবে এ সমস্যা সমাধান করতে পারবে না; এজন্য সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ প্রয়োজন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম সোহাগ বলেন, অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের সংশোধনের বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, সহিংসতার জন্য কেবল ভুক্তভোগীকে দায়ী না করে অপরাধীর সামাজিক ও পারিবারিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করা জরুরি। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর নীতি গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মেহজাবিন হক বলেন, পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা ও মাদকাসক্তির পাশাপাশি শৈশবকালীন অভিজ্ঞতা মানুষের আচরণ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সহিংসতা প্রতিরোধে মানবিক মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

 

বি-স্ক্যানের নির্বাহী পরিচালক সালমা মাহবুব বলেন, নারী নির্যাতন নিয়ে আলোচনায় প্রতিবন্ধী নারীদের বিষয়টি প্রায়শই উপেক্ষিত থাকে। তিনি বলেন, মাদক ও পর্নোগ্রাফির বিস্তার অপরাধপ্রবণতা বাড়াচ্ছে। পারিবারিক শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ এবং অপরাধের শাস্তি নিশ্চিত করার মাধ্যমে সহিংসতা কমানো সম্ভব বলে তিনি মত দেন।

 

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের কোষাধ্যক্ষ মেইনথিন প্রমীলা বলেন, সমাজের প্রান্তিক ও আদিবাসী নারীরা বহুমাত্রিক বৈষম্যের শিকার। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে একাধিক মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি নারীদের জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান।

 

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, দেশ বর্তমানে নারী ও শিশু নির্যাতনের এক সংকটময় সময় অতিক্রম করছে। তিনি বলেন, শিশু ও নারীর জন্য নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। বিচারহীনতার সংস্কৃতি, অপরাধপ্রবণ রাজনীতি এবং সামাজিক অবক্ষয় দূর করতে ধারাবাহিক আন্দোলন ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি বিচারব্যবস্থার সংস্কার এবং সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

 

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা নারীকে অধস্তন অবস্থানে রেখে সহিংসতার পরিবেশ তৈরি করছে। গত পাঁচ মাসে প্রায় এক হাজার নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হওয়ার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি বিচারহীনতা ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার গভীর সংকেত বহন করে। নারী নির্যাতন প্রতিরোধকে শুধু নারী আন্দোলনের দায়িত্ব হিসেবে না দেখে রাষ্ট্র ও নাগরিক সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানান এই নারী নেত্রী।

 

এবার ৫-০ গোলে আর্জেন্টিনাকে হারালো ব্রাজিল

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে ব্রাজিল। স্থানীয় দুটি ফুটবল দল ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনা নামে খেলায় অংশগ্রহণ করছে এমন ঘোষণায় প্রচারণা চালানো হলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের বিপুলসংখ্যক সমর্থক উপস্থিত হয় ওই মাঠে। এতে ম্যাচটি ঘিরে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

 

শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টায় উপজেলার দেওয়ানগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। খেলা শুরুর আগেই মাঠ ও আশপাশের এলাকায় জড়ো হন বিভিন্ন বয়সী ফুটবলপ্রেমীরা।

 

নির্ধারিত ৬০ মিনিটের খেলায় শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলে ব্রাজিল। কয়েকটি সম্ভাবনাময় সুযোগ তৈরি করলেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি আর্জেন্টিনা। ধারাবাহিক আক্রমণে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগকে চাপে ফেলে ব্রাজিল একের পর এক গোল আদায় করে নেয়। এতে ৫-০ গোলের ব্যবধানে বড় জয় পায় ব্রাজিল।

 

ব্রাজিলের হয়ে রহিদ দুটি গোল করেন। বাকি তিনটি গোল করেন তামরিজ, রিফাত ও সুমন। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ব্রাজিল সমর্থকদের উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মাঠ।

 

ম্যাচ শেষে ব্রাজিলের হয়ে জোড়া গোল করা রহিদ বলেন, বিশ্বকাপ শুরু হওয়ায় আমরা স্থানীয়রাই আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল দুই দলে বিভক্ত হয়ে এ খেলার আয়োজন করেছি। মাঠে নেমে সবাই দারুণ খেলেছে। ব্রাজিল বিশ্বকাপেও ভালো করবে এবং এবারও শিরোপা জিতবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। আজকের ম্যাচে এখানে ভালো খেলেছি, তাই বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছি।

 

খেলা দেখতে আসা স্থানীয় ফুটবলপ্রেমী সোহেল মিয়া বলেন, মনে হয়েছে যেন ছোট পরিসরে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশের আসল ম্যাচ দেখছি। মাঠে বিপুলসংখ্যক দর্শক হয়েছে। খেলাটি উৎসবমুখর পরিবেশ অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে। সুন্দর খেলা হয়েছে।

 

খেলার আয়োজক ছিলেন ক্রীড়া সংগঠক খলিলুর রহমান নয়ন, আমিরুল ইসলাম আমির ও রকিকুল ইসলাম। আয়োজকদের পক্ষ থেকে খলিলুর রহমান নয়ন বলেন, বর্তমান সময়ে তরুণদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে পারলে মাদক, জুয়া ও নানা ধরনের সামাজিক অপরাধ থেকে তাদের দূরে রাখা সম্ভব। এমন ক্রীড়া আয়োজন যুবসমাজকে সুস্থ বিনোদনের পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আমরা আশা করছি।

 

ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।

 

কালিগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের শুভ উদ্বোধন

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার ৬নং কালিগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৩ই জুন) বিকেল ৩টায় আবাদ পুকুর বাজারে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এস এম রেজাউল ইসলাম (রেজু)। সঞ্চালনায় ছিলেন ৬নং কালিগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোলাইমান আলী মণ্ডল ও সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল হক। সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অ্যাড. আব্দুল খালেক।
আমন্ত্রিত বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাণীনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব এছাহক আলী, সাধারণ সম্পাদক মোসারব হোসেন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মেজবাউল হক লিটন।
কার্যালয় উদ্বোধনের পর আবাদ পুকুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় রাণীনগর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে যুবদল, শ্রমিক দল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীসহ বিপুলসংখ্যক সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।
অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মোজ্জাকির হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মাহামুদ হাসান বেলাল, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মতিউর রহমান উজ্জ্বল, ওসি জাকারিয়া মণ্ডলসহ দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীবৃন্দ।
নতুন কার্যালয় উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এলাকায় দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে নেতৃবৃন্দ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ব্রাজিল-মরোক্ক ম্যাচের ফলাফল জানালো সুপার কম্পিউটার

ফিফা বিশ্বকাপে হেক্সা জয়ের মিশন নিয়ে মাঠে নামছে ব্রাজিল। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে  গ্রুপ ‘সি’-এর বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচে ফুটবল পরাশক্তি ব্রাজিলের বিপরীতে খেলবে আফ্রিকার সবেচেয় শক্তিশালী দল মরক্কো।

 

এদিকে ম্যাচের আগে স্পোর্টস কাস্টিংয়ের সুপারকম্পিউটার বিশ্লেষণে ব্রাজিলকে স্পষ্ট ফেভারিট হিসেবে দেখানো হয়েছে। মডেলটির হিসাব অনুযায়ী, ব্রাজিলের জয়ের সম্ভাবনা ৫৫.৩ শতাংশ, যেখানে মরক্কোর জয়ের সম্ভাবনা মাত্র ১৯.২ শতাংশ। অন্যদিকে ড্র হওয়ার সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ২৫.৪ শতাংশ।

 

বিশ্লেষণে সবচেয়ে সম্ভাব্য ফলাফল হিসেবে উঠে এসেছে ব্রাজিলের ১-০ গোলের জয়। এই স্কোরলাইনের সম্ভাবনা ১৪.৭ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২-০ ব্যবধানে ব্রাজিলের জয়ের সম্ভাবনাও উল্লেখযোগ্য।

 

নতুন কোচ কার্লো আনচেলত্তিরর অধীনে ব্রাজিলের আক্রমণভাগে আছেন তারকা ফুটবলার ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়া, ইগরে থিয়াগো ও এন্দ্রিকের মতো তারকারা। তাদের উপস্থিতি ব্রাজিলকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

 

অন্যদিকে মরক্কোও সহজ প্রতিপক্ষ নয়। ২০২২ বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে সেমিফাইনালে ওঠা দলটি এবারও আত্মবিশ্বাসী। দলের অন্যতম ভরসা আশরাফ হাকিমি ও সুফিয়ান আমরাবাত। তবে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের ফিটনেস নিয়ে শঙ্কা থাকায় মরক্কো কিছুটা চাপে রয়েছে।

 

সুপারকম্পিউটারের মতে, ম্যাচটিতে গোলসংখ্যা কম হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ফলে ব্রাজিলের জয় এবং ২.৫ গোলের নিচে ম্যাচ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে শক্তিশালী পূর্বাভাস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

সবশেষে পরিসংখ্যান ও সম্ভাবনার বিচারে ব্রাজিল এগিয়ে থাকলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে চমক দেখানোর সামর্থ্য মরক্কোর রয়েছে। তবে সুপারকম্পিউটারের পূর্বাভাস বলছে, এই লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসতে পারে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।

 

নুরকে আমরা নেতা বানাইছিলাম, তিনি আম্মা ডাকছিলেন হাসিনারে’

ডাকসুর সাবেক ভিপি ও প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, যেখানে নুরের অতীত টেনে সমালোচনা করেছেন তিনি।

 

শনিবার সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে মনিরা শারমিন লেখেন, ‘নুরুল হক নুর, আমার সহযোদ্ধা যতবার বলেন জুলাই আন্দোলনের ছাত্রদের তারা তৈরি করেছে, ততবার আমার মনে পড়ে পুরনো দিনের কথা। যখন নুরকে আমরা নেতা বানাইছিলাম, কিন্তু তিনি “আম্মা” ডাকছিলেন হাসিনারে।’

 

 

জাতীয় নাগরিক পার্টির অঙ্গ সংগঠন ‘জাতীয় নারীশক্তি’-র কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মনিরা শারমিন জামায়াত জোটের পক্ষ থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তবে, আইনি জটিলতায় তার প্রার্থিতা বাতিল হয়।

 

২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে কবি সুফিয়া কামাল হল সংসদের জিএস নির্বাচিত হয়েছিলেন মনিরা শারমিন। সেবারের নির্বাচনেই ভিপি হয়েছিলেন নুরুল হক নুর।

সিরাজগঞ্জে ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত “৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ” বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সিরাজগঞ্জে আনুষ্ঠানিকভাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।

 

 

শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে সিরাজগঞ্জ কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম। এ সময় শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

 

 

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও সিরাজগঞ্জ কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শাহাদত হুসেইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) গণপতি রায়, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু, মুক্তিযোদ্ধা দলের আহ্বায়ক আজিজুর রহমান দুলাল প্রমূখ।

 

 

৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষেরোপণ করার ঘোষাণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী প্রতিটি জেলার জন্য পৃথকভাবে বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

 

এরই ধারাবাহিকতায় সিরাজগঞ্জে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। সেই সঙ্গে এদিন শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রায় আড়াই হাজার গাছ বিতরণ করা হয়েছে।

 

 

ফুলবাড়ীতে ২৯ বিজিবির অভিযান: ভারতীয় ট্যাবলেট ও ইস্কফ উদ্ধার

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯ বিজিবি) পৃথক অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ২ লক্ষ ৪৬ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের ভারতীয় নেশাজাতীয় ট্যাবলেট এবং ইস্কফ সিরাপ আটক করেছে।
আজ শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ২৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফ-উজ-জামান।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, আজ শনিবার ভোর আনুমানিক ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ মনিপুর এবং খানপুর বিওপি সীমান্ত এলাকায় পৃথক দুটি মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় ২,৯৬০ পিস ভারতীয় নেশাজাতীয় ট্যাবলেট এবং ২৫ বোতল ইস্কফ সিরাপ আটক করা হয়। আটককৃত এসব মাদকদ্রব্যের আনুমানিক সিজার মূল্য ২ লক্ষ ৪৬ হাজার ৮০০ টাকা।
২৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফ-উজ-জামান জানান, সীমান্তে চোরাচালান ও মাদক প্রতিরোধে বিজিবির এই ধরনের কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল কোচিংগামী শিক্ষার্থীর

ঠাকুরগাঁওয়ে কোচিং শেষে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এক শিক্ষার্থী। শনিবার (১৩ জুন) সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে রাণীশংকৈল উপজেলার পৌর শহরের বন্দর এলাকার কুয়েত মসজিদ সংলগ্ন পাকা সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

 

নিহত শিবা রাণী (১৫) ওই এলাকার গোবিলাল ও সুমি রানীর একমাত্র সন্তান।

 

 

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কোচিং শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে উপজেলার ওমরাডাঙ্গী সড়কের কুয়েত মসজিদ ও স্থানীয় জামায়াত অফিস সংলগ্ন এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় শিবা রাণী একটি দ্রুতগতির সেলোমেশিনচালিত ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ট্রাকটির গতি এতটাই বেশি ছিল যে শিবা রাণী রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে যায়। মাথায় মারাত্মক আঘাত লাগায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন ঘাতক যানটিকে আটকের চেষ্টা করেন। এসময় চালক পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে এলাকাবাসি তাক আটক করে বেঁধে রাখে। এ নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে রাণীশংকৈল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শুরু করে।

আটক ট্রাকচালকের নাম বাবলু হোসেন। তিনি উপজেলার নন্দুয়ার ইউনিয়নের বলিদ্বারা গ্রামের রফিজ উদ্দিনের ছেলে বলে পরিচয় দিয়েছেন।

 

 

নিহতের মা সুমি রানী বলেন, সকালে তো হাসিমুখে কোচিংয়ে গেল, আমার মেয়েটা এভাবে লাশ হয়ে ফিরে আসবে, কখনো ভাবিনি।

 

 

এদিকে মেয়ের নিস্তব্ধ মুখের দিকে তাকিয়ে নির্বাক হয়ে বসে ছিলেন বাবা। যেন মুহূর্তের মধ্যেই তাদের সমস্ত স্বপ্ন, আশা আর ভবিষ্যৎ ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। শিবার মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো এলাকার মানুষের হৃদয়ে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে।

 

 

এই মর্মান্তিক ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা সড়কে নিরাপত্তা জোরদার, বেপরোয়া যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

 

 

রাণীশংকৈল থানার ওসি আমানুল্লাহ আল বারী জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেম নিয়ে ব্রাজিলের মিডিয়ায় বিশেষ প্রতিবেদন

বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হতে না হতেই শুরু হয়েছে ফুটবল উন্মাদনা। তবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের হেক্সা মিশনকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশে যে তুমুল উদ্দীপনা, তা এবার বেশ বড়সড় জায়গা করে নিয়েছে খোদ ব্রাজিলের মূলধারার সংবাদমাধ্যমে। হাজার হাজার মাইল দূরের এক দেশের মানুষ কীভাবে সেলেসাওদের রঙে নিজেদের রাঙিয়ে তুলেছে, তা নিয়ে রীতিমতো বিস্ময় ও মুগ্ধতা প্রকাশ করেছে ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম গি গ্লোবো।

 

 

রোববার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচকে সামনে রেখে বাংলাদেশের এই ‘সবুজ-হলুদ’ জ্বর এখন লাতিন আমেরিকার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

 

 

ব্রাজিলিয়ান গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, কীভাবে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে বাংলাদেশের অলিগলি, ছাদ আর রাস্তাঘাট ব্রাজিলের পতাকায় ছেয়ে যাওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। লাতিন আমেরিকার সাংবাদিকেরা অবাক হয়ে দেখছেন, ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিকভাবে সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং ফিফা র‍্যাংকিংয়ে ১৮১তম অবস্থানে থাকা ১৭ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার এই দেশটিতে নিজেদের ফুটবল সাফল্য না থাকলেও, ফুটবল নিয়ে আবেগ কতটা আকাশচুম্বী

ব্রাজিলিয়ানদের কাছে এটি অত্যন্ত চমকপ্রদ যে, বিশ্বকাপের সময় বাংলাদেশের মানুষ নিজেদের লাল-সবুজ পতাকার পাশাপাশি ব্রাজিলের সবুজ-হলুদ (কিংবা আর্জেন্টিনার আকাশী-সাদা) রঙে পুরো দেশকে মুড়িয়ে দেয়।

ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যমগুলো এই ভালোবাসার পেছনের ইতিহাসও তাদের পাঠকদের সামনে তুলে ধরেছে। সেখানে বলা হয়েছে, গত শতাব্দীর ষাটের দশকে পেলে-গারিঞ্চাদের জাদুকরী ফুটবল যখন বিশ্ব জয় করছিল, তখন থেকেই বাংলাদেশে এই প্রেমের শুরু। পরবর্তীতে আশির দশকে জিকো-সক্রেটিসদের যুগে রঙিন টেলিভিশনের আগমন এই উন্মাদনাকে স্থায়ী রূপ দেয়। বাংলাদেশিদের এই অবিশ্বাস্য ফুটবল আবেগকে ফ্রেমবন্দি করে গ্লোবোপ্লেতে একটি প্রামাণ্যচিত্রও মুক্তি পেয়েছে, যার নাম ‘ঢাকা ভাইব্রা – ফুটবল অ্যাডভেঞ্চারস ইন বাংলাদেশ।’

 

 

 

এই প্রামাণ্যচিত্রের পরিচালক ও অস্কার মনোনীত চলচ্চিত্রের সাথে যুক্ত রাফায়েল বারগামাস্কি বাংলাদেশের মাটিতে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘একজন ব্রাজিলিয়ান হিসেবে ঢাকায় গিয়ে আমি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলাম। বাংলাদেশিরা যেভাবে আমাদের ফুটবল সংস্কৃতি, আমাদের খেলোয়াড় আর আর্জেন্টিনার সাথে আমাদের ঐতিহ্যবাহী চিরবৈরিতাকে পুরোপুরি নিজেদের করে নিয়েছে, তা সত্যিই অসাধারণ।’

 

 

 

রাজধানী ঢাকার দেয়ালে দেয়ালে পেলে, রোনালদো ও নেইমারদের বিশাল সব দেয়ালচিত্রের কথাও বেশ গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করছে তাদের সংবাদমাধ্যম।

তবে এই উন্মাদনার একটি উদ্বেগের দিকও ব্রাজিলিয়ানদের নজরে এসেছে। অতি-উত্তেজনার জেরে সম্প্রতি বাংলাদেশের হবিগঞ্জে দুই দলের সমর্থকদের প্রীতি ম্যাচকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হওয়ার ঘটনাটি তারা বেশ গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে। অবশ্য এই বিচ্ছিন্ন সহিংসতা ছাপিয়ে ব্রাজিলিয়ান গণমাধ্যমের মূল ফোকাস বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের নিঃশর্ত ভালোবাসার দিকেই। ভোরে যখন মাঠের লড়াইয়ে নামবেন ভিনিসিয়ুস-রাফিনিয়ারা, তখন হাজার মাইল দূরের ঢাকাও যে তাদের সঙ্গে সমস্বরে চিৎকার করবে, লাতিন আমেরিকার এই ফুটবল পরাশক্তি এখন তা বেশ ভালো করেই জানে।

পাকিস্তানে সামরিক অভিযানে ২১ সন্ত্রাসী নিহত, টার্গেটে শীর্ষ জঙ্গিরা

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার উত্তর ওয়াজিরিস্তান জেলার মিরানশাহ এলাকায় গত তিন দিনে পরিচালিত গোয়েন্দা অভিযানে ২১ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর।

 

 

শনিবার (১৩ জুন) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইএসপিআর জানায়, উত্তর ওয়াজিরিস্তানে চলমান ধারাবাহিক গোয়েন্দা অভিযানগুলোর অংশ হিসেবে নিরাপত্তা বাহিনী মিরানশাহ ও আশপাশের এলাকায় একাধিক সন্ত্রাসী আস্তানায় অভিযান চালায়। খবর জিও নিউজের।

 

 

বিবৃতিতে বলা হয়, তীব্র গোলাগুলির পর আরও ২১ সন্ত্রাসী নিহত হয়। নিহতদের মধ্যে চারজন শীর্ষ সন্ত্রাসী নেতা রয়েছেন। তারা হলেন খালিদ রাজা ওরফে সালার, মুফতুন, মুসা এবং ইমরান ওরফে আয়ান।

আইএসপিআর জানায়, নিহত এসব নেতার বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের হত্যাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। তারা দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অত্যন্ত ওয়ান্টেড ছিলেন।

এর আগে গত সপ্তাহে একই এলাকায় পরিচালিত আরেকটি অভিযানে ২৭ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছিল বলে জানায় সামরিক বাহিনী। ফলে সাম্প্রতিক এসব অভিযানে মোট ৪৮ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযানে নিহতদের কাছ থেকে বিপুল সংখ্যক অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, এসব সন্ত্রাসী বিভিন্ন হামলা এবং নিরীহ মানুষকে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল।

 

 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এলাকায় লুকিয়ে থাকা সন্ত্রাসীদের নির্মূলে তল্লাশি ও নিরাপত্তা অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জাতীয় কর্মপরিকল্পনার আওতায় অনুমোদিত ‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পূর্ণ গতিতে চালিয়ে যাওয়া হবে।

 

 

এদিকে দেশটিতে চলমান সন্ত্রাসবিরোধী তৎপরতার অংশ হিসেবে সম্প্রতি আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকাতেও অভিযান চালানো হয়েছে। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানান, সাম্প্রতিক কয়েকটি সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে জড়িত পরিকল্পনাকারীদের আস্তানা লক্ষ্য করে সীমান্ত এলাকায় নির্ভুল ও পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত ২৬ জন সশস্ত্র সদস্য নিহত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

 

 

১৫ বছর পার, তবুও বকেয়া পাননি গ্রামীণফোনের কর্মীরা

দেড় দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও মেলেনি শ্রমিকের ন্যায্য প্রাপ্য অর্থ। শ্রমিক লভ্যাংশ তহবিলের (ডব্লিউপিপিএফ) ৫ শতাংশ বকেয়া পাওনার দাবিতে আবারও রাজপথে নেমেছেন দেশের শীর্ষ মুঠোফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীরা।

 

 

তাদের অভিযোগ- দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে প্রায় চার হাজার কর্মী ও তাদের পরিবারকে এই লভ্যাংশ থেকে বঞ্চিত করে রেখেছে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ।

 

 

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলীতে গ্রামীণফোনের আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে ‘গ্রামীণফোন ৫ শতাংশ বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে এক মানববন্ধন ও গণ-অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। এই কর্মসূচিতে প্রতিষ্ঠানের অর্ধশতাধিক সাবেক কর্মী অংশ নেন।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সাবেক কর্মীদের অনেকের হাতে ছিল দাবি-সংবলিত প্ল্যাকার্ড। কেউ কেউ বলছিলেন দীর্ঘ অপেক্ষার কথা, কেউ বলছিলেন জীবনের অপূর্ণ স্বপ্নের কথা।

সাবেক এক কর্মী আহসানুল হক বলেন, আমি ১৫ বছর গ্রামীণফোনে কাজ করেছি। প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে নিজের শ্রম ও মেধা দিয়েছি; কিন্তু অবসরের পরও প্রাপ্য অর্থের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আদালতের আইনি প্রক্রিয়াও শেষ হয়েছে। এখন আর বিলম্বের কোনো কারণ দেখি না।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার কারণে বছরের পর বছর তাদের পাওনা আটকে রাখা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে অনেক সাবেক কর্মী মারা গেছেন। কেউ কেউ অসুস্থতা ও আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

 

 

চট্টগ্রামের সমন্বয়কারী সুলেমান মেহেদী বলেন, প্রায় চার হাজার সাবেক কর্মী ও তাদের পরিবার এই অর্থ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। আমরা সংঘাত নয়, আলোচনার মাধ্যমে একটি সম্মানজনক সমাধান চাই।

শফিকুল হত্যার জট খুলল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নওগাঁয় পুরাতন মোবাইল ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুজনকে গ্রপ্তার করেছে পুলিশ। এসময় দেশীয় অস্ত্রসহ নিহত শফিকুলের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরও একজন পলাতক আছে।

 

 

নিহত শফিকুল ইসলাম জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার তিলেকপুর গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে। গ্রেপ্তার দুজন হলেন- নওগাঁ সদর উপজেলার ভিমপুর পাঠাকাটা এলাকার সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে জয়নুল (৩৫) ও জেলার মান্দা উপজেলার সতীহাট শ্রীরামপুর এলাকার এরশাদ আলীর ছেলে আশরাফুল (২৬)।

 

 

শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে সদর মডেল থানায় সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। এর আগে শুক্রবার (১২ জুন) পৌর শহর ও মান্দা উপজেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সদর উপজেলার বারমাসি বিলে কচুরিপানার নিচ থেকে শফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত শফিকুল পুরাতন মোবাইল ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য ব্যাবসা করতেন। লোভ এবং ব্যবসায় কিছুটা লাভবান হওয়ায় ঈর্ষান্বিত হয়ে তার পূর্বপরিচিত জয়নুল, আশরাফুলসহ তিনজন গত ৭ জুন মান্দার সুতিহাটে শফিকুলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৮ জুন শফিকুলকে ভীমপুর কলেজ মোড়ে আসতে বললে সেখান থেকে দুটি মোটরসাইকেলে করে বারোমাসি বিলের পার ঘাঁটি ব্রিজে যায় তারা। সেখানে হঠাৎ করে পেছন থেকে একজন পলাতক আসামি রশি দিয়ে শফিকুলের গলায় টান দেয়। আসামি জয়নুল হাত ও আশরাফুল পা চেপে ধরে। তারপর সে নিস্তেজ হয়ে গেলে তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে তারা তিনজনে পানিতে ডুবিয়ে কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রেখে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, মরদেহ উদ্ধারের পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটনে তদন্তে নামে পুলিশের একটি টিম। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকা জয়নুলকে প্রথমে শহরের একটি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে মান্দা উপজেলা থেকে আশরাফুলকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর জয়নুল এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা স্বীকার করে। হত্যা পর শফিকুলের কাছে থাকা ১৫০০ টাকা তিনজন ভাগাভাগি করে শফিকুলের মোটরসাইকেল নিয়ে যায়।

 

 

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, জয়ব্রত পাল ও সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নাঈমকে নিয়ে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানালেন তামিম

চট্টগ্রামে জাতীয় দলের স্পিনার নাঈম হাসানের ওপর পুলিশি নির্যাতনের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল। অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার পর ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থার দাবিতে শক্ত অবস্থান নিয়েছে বিসিবি।

 

 

শুক্রবার রাতে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ খেলে চট্টগ্রামে নিজের বাসায় ফেরার পথে লালখান বাজার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের হাতে লাঞ্ছিত ও মারধরের শিকার হন নাঈম। ঘটনাটি জানার পরপরই গভীর রাতে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেন খোদ বিসিবি সভাপতি।

 

 

এ প্রসঙ্গে ফেসবুকে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, ‘নাঈম হাসানের সঙ্গে গত রাতে যা হয়েছে, কোনোভাবেই তা গ্রহণযোগ্য নয়। রাতে নাঈম আমাকে ফোন করার পর থেকে তাৎক্ষণিকভাবে যা যা করা দরকার, করার চেষ্টা করেছি আমি ও অন্য বোর্ড পরিচালকরা। সংশ্লিষ্ট সব জায়গায় আমরা কথা বলছি, নাঈম ও তার পরিবারের সঙ্গেও নিবিড় যোগাযোগ রাখছি।’

ক্রিকেটারদের সুরক্ষায় বোর্ডের অনড় অবস্থানের কথা জানিয়ে বিসিবি সভাপতি আরও বলেন, ‘বিসিবির পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে আজকে সকালেই। এরপর আরো যা যা করণীয় আছে, সবকিছু করব আমরা। নাঈম ও সব ক্রিকেটারের পাশে আমরা আছি সবসময়।’

নাঈমের হেনস্তার প্রতিবাদ জানিয়েছেন মুশফিকুর রহিম, তাসকিন আহমেদরাও। তাসকিন নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে লিখেছেন, ‘জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাইম হাসানের সঙ্গে পুলিশের এমন ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।’ ফেসবুকে মুশফিক লিখেছেন, ‘নাঈমের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।যা ঘটেছে, তা আমাকে ব্যথিত ও লজ্জিত করেছে। একজন নাগরিক হিসেবে, একজন বাংলাদেশি হিসেবে আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। নাঈম, আমরা তোমার পাশে আছি।’

নাঈমের হেনস্তার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চেয়ে টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাস ফেসবুকে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘মাথা উঁচু রাখো নাঈম। তুমি একজন ভালো মানুষ। নাঈম হাসানের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। খুবই হৃদয়বিদারক এটা।’

 

 

শনিবার সকালে দেওয়া বিসিবির আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই নজিরবিহীন ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবও পৃথক বিবৃতিতে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি তোলে।

 

 

বিসিবি সভাপতির এমন শক্ত তৎপরতার মধ্যেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘটনার সত্যতা পেয়ে খুলশী থানার এক উপপরিদর্শকসহ (এসআই) তিন পুলিশ সদস্যকে ইতিমধ্যে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান।

 

কক্সবাজার সফরে সাফারি পার্ক পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে কক্সবাজারের ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করেছেন।

 

 

শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে পিএমখালি ইউনিয়নের পাতলী খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করেন তারা। এসময় পার্কের ভেতরের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং প্রধানমন্ত্রী খুবই উচ্ছ্বসিত ছিলেন।

 

 

এ সময় সাফারি পার্কের মূল ফটকের সামনে একটি নাগলিঙ্গম গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি সাফারি পার্কের স্মারক বইয়ে স্বাক্ষর করেন। একইসঙ্গে স্মারক বইয়ে স্বাক্ষর করেন ডা. জুবাইদা রহমানও।

এর আগে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।

এর আগে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজার বিমানবন্দরে নেমে মুষল বৃষ্টির মধ্যে নিজেই গাড়ি চালিয়ে খাল খনন কর্মসূচির স্থলে যান। পাশের আসনে বসান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে।

এরপর সেখান থেকে আবারও নিজে গাড়ি চালিয়ে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে আসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

 

এ সময় পুরো রাস্তাজুড়ে হাজার হাজার স্থানীয় সাধারণ জনগণ এবং দলীয় নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ফুল ছিটিয়ে ও হাত নেড়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং স্লোগান দিতে থাকেন।

 

 

দীর্ঘ সমুদ্রসৈকতের জন্য পরিচিত কক্সবাজারে বহু পর্যটক গেলেও জেলার অন্যতম আকর্ষণ এই সাফারি পার্ক। এটি দেশের প্রথম সাফারি পার্ক। পাহাড়, বন, জলাধার আর উন্মুক্ত পরিবেশে বিচরণকারী শত শত প্রাণী নিয়ে গড়ে উঠেছে এই অনন্য বন্য প্রাণীর জগৎ।

 

 

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারায় অবস্থিত পার্কটি। চট্টগ্রাম শহর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ১০৭ কিলোমিটার। কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ৪৭ কিলোমিটার। এই সাফারি পার্কের যাত্রা শুরু ১৯৮০-৮১ অর্থবছরে। তখন ৪২ দশমিক ৫ হেক্টর বনভূমি নিয়ে এখানে একটি হরিণ প্রজননকেন্দ্র গড়ে তোলে বন বিভাগ। পরে দেশের প্রথম সাফারি পার্ক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সমাধান কি হাসপাতাল বন্ধ, নাকি জবাবদিহি নিশ্চিত করা?

সম্প্রতি রাজধানীর মগবাজারে আদ্‌-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিলের কথা এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। নবজাতকদের এই মর্মান্তিক মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

 

 

এ ঘটনার সুষ্ঠু ও‌‌ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। তবে একইসঙ্গে একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আসে- ভুল বা অপরাধ কী কোনো প্রতিষ্ঠান করে, নাকি তা করে ব্যক্তি?

 

 

বাস্তবতা হলো, কোনো প্রতিষ্ঠান ভুল বা অপরাধ করে না; বরং ভুল বা অপরাধ করে ব্যক্তি- চিকিৎসক, কর্মকর্তা, কর্মচারী কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। একটি হাসপাতাল কোনো সাধারণ প্রতিষ্ঠান নয়; এটি মানুষের জীবন, স্বাস্থ্যসেবা, আস্থা, আশা এবং কর্মসংস্থানের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। একটি হাসপাতাল গড়ে ওঠে দীর্ঘ সময়, বিপুল বিনিয়োগ, দক্ষ জনবল, ত্যাগ এবং সামাজিক আস্থার ভিত্তিতে। বিশেষত যেসব প্রতিষ্ঠান তুলনামূলক কম খরচে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে সাধারণ মানুষের নির্ভরতার জায়গা হয়ে উঠেছে, সেগুলোর কার্যক্রম হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, আদ্‌-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ১৯৯৭ সালে যাত্রা শুরু করে এবং সময়ের পরিক্রমায় এটি একটি বৃহৎ সেবামূলক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। একই প্রাঙ্গণে অবস্থিত আদ্‌-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজ ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ওই বছরের ডিসেম্বর থেকে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটিতে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। বর্তমানে সেখানে কয়েকশত শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। পাশাপাশি হাসপাতালটিতে বিপুলসংখ্যক চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। এ হাসপাতালে শালীনতা ও ধর্মীয় সংবেদনশীলতার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়। মা ও শিশু স্বাস্থ্যে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা, মেডিকেল শিক্ষা কার্যক্রম এবং ২৪ ঘণ্টা জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাজনিত মৃত্যু বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নতুন নয়। বিভিন্ন সময়ে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতালে ভাঙচুর, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা কিংবা উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে দেখা যায়। ফলে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান দিন দিন অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হচ্ছে। এ বাস্তবতায় স্বাস্থ্যখাতে জবাবদিহিতা যেমন জরুরি, তেমনি সেবার পরিবেশ ও ধারাবাহিকতা রক্ষা করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এদেশের বাস্তবতায় সরকারি হাসপাতালগুলো এখনো জনসংখ্যার তুলনায় অপ্রতুল এবং মৌলিক স্বাস্থ্যসেবাও নিশ্চিত করতে পারছে না। এ অবস্থায় বেসরকারি খাত দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। সরকারের একক প্রচেষ্টায় দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত কঠিন। ফলে অযাচিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স্বাস্থ্যখাতে বেসরকারি বিনিয়োগ ও অংশগ্রহণকে নিরুৎসাহিত করা হলে তার দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে অপেক্ষাকৃত কম খরচে চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী হাসপাতালগুলোর কার্যক্রম হঠাৎ স্থগিত হলে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে প্রত্যাশা- আইনের প্রয়োগ যেন কখনোই কোনো বিশেষ প্রতিষ্ঠান, গোষ্ঠী বা শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। বলা বাহুল্য, আমাদের সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তাই শুধু স্বাস্থ্যখাতেই নয়, শিক্ষা, বাজার নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি দমনসহ সব ক্ষেত্রেই আইনের নিরপেক্ষ, সমান ও বৈষম্যহীন প্রয়োগ নিশ্চিত হওয়া অপরিহার্য। মনে রাখতে হবে, আইনের প্রয়োগ যদি বেছে বেছে বা বৈষম্যমূলকভাবে করা হয়, তবে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে এবং জনমনে অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে।

 

 

সর্বোপরি, আদ-দ্বীন হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তবে কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তি বিশেষের সম্ভাব্য গাফিলতির দায়ে দীর্ঘদিনের সেবামূলক একটি হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়া বা এর লাইসেন্স বাতিল করা কোনো অবস্থাতেই ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত হতে পারে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত পদক্ষেপ পরিস্থিতির তুলনায় অধিক জটিল বলে মনে হচ্ছে এবং বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এটি কোনো কার্যকর সমাধান বা ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে বলেও মনে হয় না।

 

 

আমাদের দেশে যেখানে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার প্রাপ্যতা এখনো সীমিত, সেখানে একটি কার্যকর হাসপাতালের সেবা হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের ভোগান্তির কারণ হতে পারে। তাই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে হাসপাতাল বন্ধ নয়; বরং ন্যায়বিচার ও জনস্বার্থে প্রতিষ্ঠানটির স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখাই সমীচিন বলে প্রতীয়মান হয়। প্রশ্ন থেকেই যায়- আবেগতাড়িত ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে, কিংবা আইনের নিরপেক্ষ ও সর্বজনীন প্রয়োগ‌ নিশ্চিত না করে, এদেশে নিরাপদ, মানবিক ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা ও হাসপাতাল ব্যবস্থা কী গড়ে তোলা সম্ভব?

 

 

প্রফেসর ড. ফরিদ আহমদ সোবহানী

ভাইস চ্যান্সেলর

ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি, ঢাকা

 

 

সেনবাগে পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ আসামি গ্রেফতার

নোয়াখালীর সেনবাগ থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন ২০২৬ খ্রিঃ) সেনবাগ থানা পুলিশের অভিযানে সিআর গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি আব্দুল খালেক (৩২), ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মাদক ব্যবসায়ী ইস্রাফিল ওরফে শিপন (২৭) এবং নিয়মিত মামলার এজাহারনামীয় আসামি মো. আবু ইউসুফ ওরফে রাকিব (১৯)-কে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
সেনবাগ থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক ও অপরাধ দমনে তাদের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বিশ্বকাপে নামার আগে চুরির শিকার ইংল্যান্ড দল, ফুটবলারদের বুট উধাও

আসন্ন বিশ্বকাপ ফুটবলের মহারণ শুরু হওয়ার আগেই বড়সড় ধাক্কা খেল ইংল্যান্ড শিবির। যুক্তরাষ্ট্রের বেইস ক্যাম্প ক্যানসাস সিটিতে পৌঁছানোর আগেই চুরির শিকার হয়েছে থমাস টুখেলের দল। খোয়া গেছে ফুটবলারদের অনুশীলনের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম।

 

 

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে কোচ থমাস টুখেল ও তার শিষ্যদের ক্যানসাস সিটিতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তাদের আগমনের আগেই সব সরঞ্জাম বেইস ক্যাম্পে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এফএ)।

 

 

কিন্তু ক্যানসাস সিটির ‘সোয়োপ সকার ভিলেজ’ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যাওয়ার পথে সরঞ্জাম বহনকারী কয়েকটি গাড়িতে হামলা চালায় চোরেরা। গাড়িগুলোর একাংশ ভেঙে ভেতর থেকে মালামাল লুট করা হয়।

ঠিক কী কী সরঞ্জাম চুরি হয়েছে তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারেনি এফএ। তবে প্রাথমিকভাবে আশঙ্কা করা হচ্ছে অনুশীলনের জন্য নির্ধারিত অফিশিয়াল ফুটবল (বল), খেলোয়াড়দের বুট, অনুশীলনে ব্যবহৃত অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী।

শুক্রবার (১২ জুন) রাতে ঘটনার খবর পেয়েই স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা দ্রুত সোয়োপ সকার ভিলেজে ছোটেন এবং তদন্ত শুরু করেন। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিকভাবে এফএ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বুধবার (১৭ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এবারের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে থ্রি-লায়ন্সরা।

ভূমিকম্পে কাঁপল ইরাক-ইরান সীমান্ত অঞ্চল, প্রভাব মায়সানেও

ইরাক-ইরান সীমান্তবর্তী এলাকায় শনিবার সকালে একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এর কম্পন ইরাকের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মায়সান প্রদেশজুড়ে টের পান স্থানীয় বাসিন্দারা।

 

 

ভূমিকম্পটি স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৫২ মিনিটে ইরানের দেহলোরান শহরের কাছে আঘাত হানে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কিছু এলাকায় কম্পন বেশ শক্তিশালী ছিল, আবার কোথাও তা তুলনামূলকভাবে হালকা অনুভূত হয়।

 

 

তবে এখন পর্যন্ত ভূমিকম্পের মাত্রা সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি ইরাকের আবহাওয়া ও ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কর্তৃপক্ষ।

এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

ইরাকের ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিল মাসে দেশটিতে ও এর সীমান্তবর্তী এলাকায় মোট ৩৬টি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১৬টি ইরাকের ভেতরে এবং ২০টি সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সংঘটিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর স্টিয়ারিং হাতে, যাত্রী আসনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে পাশে বসিয়ে নিজেই গাড়ি চালিয়ে কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন। কর্মসূচি শেষেও নিজে গাড়ি চালিয়ে ডুলাহাজারার সাফারি পার্কে তিনি।

 

 

শনিবার (১৩ জুন) সকাল ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে কক্সবাজারে পৌঁছান তিনি। বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার পর চালকের আসনে বসে পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানস্থলের উদ্দেশে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

 

 

সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- পানিসম্পদ মন্ত্রী শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, শাহজাহান চৌধুরীসহ স্থানীয় প্রশাসন ও দলীয় নেতারা।

দিনব্যাপী এ সফরে প্রধানমন্ত্রী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন, পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, জনসভা ও সুধী সমাবেশসহ একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

সব কর্মসূচি শেষে রাতে তিনি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করবেন।

প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হলো যুবদল নেতা মাসুদকে

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ নামের এক যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

 

 

শনিবার (১৩ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

 

নিহত মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী এলাকার মৃত খালেদ চৌধুরীর ছেলে। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বেতাগী ইউনিয়ন থেকে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ছিলেন।

 

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, দুপুরে রাউজানের পাহাড়তলী চৌমুহনীতে অবস্থানকালে মাসুদকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। এলাকাবাসীর ধারণা, বালুর ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।

হত্যাকাণ্ডের খবর রাঙ্গুনিয়া ও রাউজানে ছড়িয়ে পড়লে দুই উপজেলার যুবদল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনার প্রতিবাদে কাপ্তাই সড়কের ইছাখালী (রাঙ্গুনিয়া) ও পাহাড়তলী (রাউজান) এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ কর্মী-সমর্থকরা। দুপুর ১টার পর থেকে কাপ্তাই সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

বিক্ষুব্ধ জনতা জানান, এ জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন ও সড়ক অবরোধ অব্যাহত থাকবে। তবে মানবিক কারণে শুধুমাত্র অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবার যানবাহনগুলো ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।

রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যার খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে।

 

 

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কাপ্তাই সড়কের দুই উপজেলার সীমান্ত এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ভিডিও বিতর্কে পদ হারালেন নারী প্যানেল চেয়ারম্যান

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান মোছা. খাদিজা বেগমকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

 

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি আপত্তিকর ভিডিও এবং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে অসদাচরণসহ বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় জেলা প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

 

 

জানা গেছে, গত ১০ জুন জেলা প্রশাসক অন্নাপূর্ণা দেবনাথ স্বাক্ষরিত এক আদেশে খাদিজা বেগমকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম সচল রাখতে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ফিরোজ কবিরকে প্রশাসকের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান খাদিজা বেগম। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পরিষদের একাধিক সদস্যের সঙ্গে তার বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে ইউপি সদস্যরা তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ, স্বেচ্ছাচারিতা এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন।

এরই মধ্যে কয়েকদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খাদিজা বেগমের একটি আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি এবং এর কয়েকটি স্ক্রিনশট দ্রুত ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভাইরাল হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। একজন জনপ্রতিনিধির এমন কর্মকাণ্ডে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।

 

 

অন্যদিকে, অভিযোগগুলোর বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

 

 

এ বিষয়ে খাদিজা বেগমের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

 

 

নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ. এম. খোদাদাদ হোসেন বলেন, শুধু ভিডিও ভাইরাল হওয়ার কারণে খাদিজা বেগমকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ ছিল। এসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

 

তিনি আরও বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও জনসেবা অব্যাহত রাখার স্বার্থে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

 

 

ধর্ষণের অভিযোগে শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতাকে আটক

কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর লাকসামে উদ্ধার ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও জোর করে ভ্রুণ নষ্ট করার অভিযোগে মামলা হয়েছে।

 

 

পুলিশ দাবি করছে, জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি; তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন। শুক্রবার রাতে কুমিল্লা জেলা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

 

অভিযুক্ত জিসান মিয়া প্রধান ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিমের সাবেক সভাপতি ছিলেন।

শনিবার বেলা ১টার দিকে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান বলেন, ভুক্তভোগীর করা মামলায় জিসান মিয়া প্রধান আসামি। তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশি হেফাজতে চিকিৎসাধীন।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, জিসান মিয়া প্রধান গত ২০ মে দাউদকান্দিতে তার ভাড়া বাসায় ওই তরুণীকে নিয়ে যান। সেখানে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হলে ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে তার গর্ভের ভ্রূণ নষ্ট করা হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ঘটনার পর তিনি জিসানের কাছে বিয়ের দাবি জানালে জিসান প্রথমে সম্মতি দিলেও পরে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে গত বৃহস্পতিবার তিনি আত্মগোপনে চলে যান। একই সময় তার চাচাতো ভাই রাসেল আহমেদের মাধ্যমে থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

 

 

এদিকে, নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর শুক্রবার রাতে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে জিসানকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

 

 

দাউদকান্দি মডেল থানার তদন্ত পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) সামছুল আলম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে অপহরণের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং ব্যক্তিগত ও প্রতারণামূলক একটি ঘটনার জেরে জিসান নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে এক নারী ধর্ষণ, ভ্রূণ নষ্টসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে মামলা করেছেন।

 

ফিলিপাইনে ভূমিকম্পের তাণ্ডব, প্রাণহানি বেড়ে ৬১

ফিলিপাইনের মিন্দানাও অঞ্চলে চলতি সপ্তাহে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬১ জনে পৌঁছেছে। শনিবার দেশটির কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে এখনও উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

 

 

ফিলিপাইনের বেসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তর জানায়, ধ্বংসস্তূপ ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে আরও মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে।

 

 

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত ৩৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১,২২১ জন।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিধস ও ভবন ধসের ঘটনায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে জরুরি সেবা কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। জীবিতদের খোঁজার পাশাপাশি নিহতদের মরদেহ উদ্ধারের কাজও চলছে।

ভূমিকম্পে মিন্দানাও অঞ্চলে মোট ৫ লাখ ৫৩ হাজার ৬৮ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে প্রায় ৯ হাজার ৩৯৩ জন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। এছাড়া ৫৪ হাজার ২৭৪ জন আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের বাড়িতে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিয়েছেন।

 

 

প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির হিসাবে দেখা গেছে, ৮ হাজার ৮৬৫টি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং আরও ৩৬ হাজার ৬৯১টি বাড়ি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 

 

উদ্ধারকাজে বারবার আফটারশক, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে অনেক দুর্গত এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধার সহায়তা পৌঁছাতে বিলম্ব হচ্ছে।

 

 

চলতি সপ্তাহে মিন্দানাও উপকূলের কাছে আঘাত হানে ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প। এতে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘরবাড়ি, স্কুল, হাসপাতালসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

ঝিনাইদহে কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টা, রিকশাচালককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে প্রতিবেশী এক কিশোরীকে (১১) ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মীর ফারুক (৪০) নামের এক রিকশাচালককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী।

 

 

শনিবার (১৩ জুন) সকালে উপজেলার বলিদাপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

 

 

অভিযুক্ত মীর ফারুক ঝিনাইদহ সদর উপজেলার চণ্ডিপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা।

 

 

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বলিদাপাড়া এলাকার একটি ভবনের ফ্ল্যাটে সাবলেট হিসেবে সপরিবারে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছিলেন মীর ফারুক। শুক্রবার দিবাগত রাতে একই ফ্ল্যাটে সাবলেটে থাকা প্রতিবেশীর ১১ বছরের কন্যাসন্তানকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান ফারুক। শনিবার সকালে ভুক্তভোগী শিশুটি বিষয়টি তার মাকে জানায়।

পরবর্তীতে ঘটনাটি জানাজানি হলে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত ফারুককে আটক করে গণপিটুনি দেয় এবং পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফারুককে উদ্ধার করে। গণপিটুনিতে আহত হওয়ায় তাকে চিকিৎসার জন্য কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন জানান, এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তাড়াশে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার শপথ

মাদকের বিষাক্ত ছোবল নির্মূল এবং আগামীর প্রজন্মকে একটি সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ উপহার দেওয়ার লক্ষ্যে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের মাঝদক্ষিনা গ্রামে মাদকবিরোধী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দেশীগ্রাম এন্টি ড্রাগস এন্ড ক্রাইম ইউনিটের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং এলাকার সচেতন মাঝদক্ষিনা যুব সমাজের আন্তরিক সহযোগিতায় গ্রামের খোলা মাঠে এ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় মুরুব্বি, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিত ছিলেন। মাঠজুড়ে মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে এলাকাবাসী মাদকের বিরুদ্ধে কতটা সোচ্চার।
সভায় বক্তারা মাদকের ভয়াবহ কুফল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তারা বলেন, মাদক শুধু একজন মানুষের জীবনই নষ্ট করে না, এটি একটি পরিবারকে তিলে তিলে শেষ করে দেয়। মাদকের কারণে যুবসমাজ নৈতিকতা হারাচ্ছে, বাড়ছে সামাজিক অপরাধ। তাই সময় থাকতেই সবাইকে সচেতন হতে হবে। বক্তারা বিশেষভাবে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমরাই জাতির ভবিষ্যৎ। মাদককে না বলে বই-খাতা ও খেলাধুলার সাথে থাকো। তোমাদের হাত ধরেই দেশ এগিয়ে যাবে।
আলোচনার এক পর্যায়ে বক্তারা মাদক ব্যবসায়ীদের সামাজিকভাবে বয়কট করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি এলাকায় মাদক সংক্রান্ত কোনো তথ্য পেলে তাৎক্ষণিকভাবে দেশীগ্রাম এন্টি ড্রাগস ইউনিট বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর পরামর্শ দেন। যুবসমাজের উদ্যোগে নিয়মিত খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেও তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখার কথা বলা হয়।
সভার শেষ দিকে উপস্থিত সকলে মাদকমুক্ত দেশীগ্রাম ইউনিয়ন গড়ার শপথ নেন। দেশীগ্রাম এন্টি ড্রাগস এন্ড ক্রাইম ইউনিটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শুধু এই সভার মধ্য দিয়েই তাদের কার্যক্রম শেষ হবে না। ভবিষ্যতে ইউনিয়নের প্রতিটি এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হবে এবং স্কুল-কলেজগুলোতে সেমিনারের আয়োজন করা হবে। মাঝদক্ষিনা যুব সমাজের সদস্যরা বলেন, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতা পেলে তারা মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে সর্বদা মাঠে থাকবেন।
এমন সুন্দর আয়োজনের জন্য এলাকাবাসী দেশীগ্রাম এন্টি ড্রাগস ইউনিট এবং মাঝদক্ষিনা যুব সমাজকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অটোরিকশা ছিনতাই: ভুরুঙ্গামারীতে গ্রেপ্তার ২

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ছিনতাইকারী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন ফেরদৌস রহমান অন্তর (২৮) ও মাসুদ মিয়া (২৫)। আটককৃত ছিনতাইকারীদের কাছে থেকে তিন পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে পুলিশ।
কুড়িগ্রাম ভুরুঙ্গামারী উপজেলার বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ ভরতের ছড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গত ৩১ মে সকাল ৮ টা থেকে ১১ টার মধ্যে ছিনতাইকারী তাদের অবৈধ পন্থা ব্যবহার করে অটোরিকশা ছিনতাই করে নিয়ে যায়।
প্রথমে যাত্রী বেসে রিক্সায় উঠেন ছিনতাইকারীর দল। এরপর ভুরুঙ্গামারী বাসস্ট্যান্ড থেকে নাগেশ্বরী পথে রওনা হন। যাত্রা পথে দুর্বৃত্তরা রিক্সা চালক মোঃ রকি (১৯) কে কৌশলে ক্যামিক্যাল যুক্ত পানি পান করান। তারপরে অসুস্থ হয়ে নেতিয়ে পড়েন চালক। অসচেতন অবস্থায় রিক্সা থেকে রকি কে নামিয়ে রিক্সা নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যান ছিনতাইকারী।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে তার নানা মোঃ রুস্তম আলী (৭৩) ভুরুঙ্গামারী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরে অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে একটি রিক্সা চোর ও ছিনতাই চক্রের খবর পেয়ে আটক অভিযান শুরু করেন।

মন্দিরের সম্পত্তি রক্ষায় শরীয়তপুরে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সমাবেশ

শরীয়তপুর সদর উপজেলার বুড়িরহাট বাজারস্থ শ্রী শ্রী রাধা মাধব মন্দিরের সম্পত্তি রক্ষা ও উদ্ধারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়। শনিবার (১৩ জুন) বেলা ১২ টার দিকে শ্রী শ্রী রাধা মাধব মন্দিরের ভক্তবৃন্দের ব্যানারে বুড়িরহাটে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

 

 

 

ওই মন্দিরের সভাপতি বিশ্বনাথ বোস ও সাধারন সম্পাদক রাম কৃষ্ণ দেবনাথের নেতৃত্বে এ কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যক হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন অংশ্রগ্রহণ করেন।

 

 

 

 

কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, শরীয়তপুর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সাধারন সম্পাদক মানিক ব্যানার্জী কুটচাল করে মন্দিরের সম্পত্তি নিজ নামে জাল দলিল করে নেয়। বারবার ওই সম্পত্তি ফেরত দিবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েও কথা রাখেনি। আমরা ভূমিদস্যু মানিক ব্যানার্জীর কালো ধাবা থেকে মন্দিরের সম্পত্তি রক্ষা চাই। এজন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, জাতীয় সংসদের হুইপ ও শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম এবং শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. সফিকুর রহমান কিরনের কাছে সুদৃষ্টি কামনা করছি।

 

হারানো দিনের স্মৃতি

মহসিন আলম মুহিন

 

 

হারানো দিনের স্মৃতি,পুরনো দিনের যত গীতি,
ভিড় করে কাছে ডাকে,দেখায় পুরনো প্রীতি।।
কোকিলের কুহুতান, ফুলের বাগান, বহতা নদী;
খেলার মাঠ, পুকুর ঘাট, সাথীদের নানা খুনসুটি।।
ঝড়ের দিনে আম কুড়ানো বৃষ্টি ভেজা গা,
রংধনুর সাত রং মাখা-আকাশের আঙ্গিনা।।
নানি-দাদিদের গল্প শুনে নামতো যে চোখে ঘুম,
দাদা-নানাদের বন্যার কালে-মাছ ধরার ছিলো ধুম।।
ওলাওঠার ভয়, ডায়রিয়ায় ক্ষয়, কত যে প্রিয় মুখ!
আজও কাঁদায় তাদের স্মৃতি, হাহাকার করে বুক।।
আজকের মত বিদ্যুৎ ছিলো না! ছিলো শীতল পাটি,
প্রকৃতির হাওয়ায়, তালের পাখায় স্নিগ্ধ ছিলো মাটি।।
গ্রাম-গঞ্জ, হাট-বাজার, খেলাধুলা সবখানে ছিলো মায়া,
মানুষে মানুষে মিল ছিলো বড়, ছিলোনা কালো ছায়া।।
আধুনিকতার ছোঁয়া পেলো, আজ উন্নত শহর-নগর,
তবুও কেন ফাঁকা লাগে সব, ছাড়ে না মনের ফাঁপড়।।