সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

পূর্ব বিরোধের জেরে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

নিহত গৃহবধূর মরদেহের পাশে স্বজন। ছবি : সংগৃহীত

কুমিল্লার মুরাদনগরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে রাশিদা বেগম (৪২) নামের এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে উপজেলার পূর্ব ধইর পশ্চিম ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

 

 

 

নিহত গৃহবধূ রাশিদা মহেশপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী। মুরাদনগর থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

 

 

 

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মহেশপুর গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে খোরশেদ আলম বিডিআরের সঙ্গে ইউপি সদস্য রহিম সরকার গ্রুপের দ্বন্দ্ব চলছিল। কিছুদিন আগে রহিম সরকার গ্রুপের এক সদস্য মাওলা সরকারকে রাতের আঁধারে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সেই হত্যা মামলার পলাতক আসামি রাশিদা বেগম তার পালিত গরু নেওয়ার জন্য বৃহস্পতিবার এলাকায় আসেন। তার ৭টি গরু একটি পিকআপে করে নিয়ে যাওয়ার সময় ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল তার গাড়ির গতিরোধ করে; তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।

এ সময় তার দুই মেয়ে তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করা হয়। পরে পুলিশের সহায়তায় রাশিদা বেগমকে উদ্ধার করে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক গুরুতর আহত রাশিদা আক্তারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে রেফার্ড করেন। ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে তিনি মারা যান।

 

নিহতের মামা সালাউদ্দিন বলেন, পূর্ব শত্রুতার কারণে আমার ভাগনিকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। তার দুই মেয়ে তাকে বাঁচাতে গেলে তাদেরও মারধর করে আহত করে।

 

 

বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিউল আলম বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা আছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।

 

প্যারাগুয়ের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রতেই নকআউট নিশ্চিত অস্ট্রেলিয়ার

জয় না পেলেও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পূরণ করেছে অস্ট্রেলিয়া। গ্রুপ ‘ডি’-র শেষ ম্যাচে প্যারাগুয়ের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে রানার্সআপ হিসেবে ‘রাউন্ড অব ৩২’-এ জায়গা নিশ্চিত করেছে সকারুজরা।

 

 

 

অন্যদিকে সমান চার পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে থাকা প্যারাগুয়ের নকআউটে ওঠার সম্ভাবনা জোরালো হলেও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিত হতে তাদের অপেক্ষা করতে হবে অন্য গ্রুপগুলোর ফলাফলের জন্য।

 

 

 

ম্যাচজুড়েই দুই দলের ফুটবলে ছিল সতর্কতার ছাপ। কারণ, এর আগে নিজেদের ম্যাচে তুরস্ককে হারিয়ে উভয় দলই সমান তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠে নেমেছিল। ফলে যে দল জিতত, তারাই যুক্তরাষ্ট্রের পর গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে সরাসরি নকআউট নিশ্চিত করত। কিন্তু ড্র হওয়ায় সেই সুবিধা পায় অস্ট্রেলিয়া।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটি অস্ট্রেলিয়ার তৃতীয়বারের মতো নকআউট পর্বে ওঠার কীর্তি। এর আগে ২০০৬ ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপে শেষ ষোলোয় খেলেছিল সকারুজরা। আগামী ৩ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের আর্লিংটনে গ্রুপ ‘জি’-এর রানার্সআপ দলের বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা।

 

 

ম্যাচের প্রথমার্ধে তুলনামূলক বেশি আক্রমণাত্মক ছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল দুর্দান্ত নৈপুণ্যে জ্যাকসন আরভিনের শট ঠেকিয়ে দেন। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ক্রিস্টিয়ান ভলপাতোর দারুণ এক প্রচেষ্টাও রুখে দেন তিনি।

 

 

দ্বিতীয়ার্ধে বলের দখলে এগিয়ে ছিল প্যারাগুয়ে। তবে দুই দলই তেমন কোনো পরিষ্কার গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। ম্যাচের ৯০তম মিনিটে অস্ট্রেলিয়ার জর্ডান বসের শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে যায়। ফিরতি আক্রমণে যোগ করা সময়ে প্যারাগুয়ের মৌরিসিওর নেওয়া দুর্বল শট সহজেই সামলে নেন অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচ।

 

 

 

এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কোচ টনি পপোভিচ শুরুর একাদশে ছয়টি পরিবর্তন আনেন। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে মাঠে নামার সুযোগ পান ১৮ বছর বয়সী তরুণ ডিফেন্ডার লুকাস হ্যারিংটন।

 

 

 

যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের ক্লাব কলোরাডো র‌্যাপিডসের এই ফুটবলার অভিষেকেই নতুন ইতিহাস গড়েন। অস্ট্রেলিয়ার ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে কমবয়সী খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ ম্যাচে মাঠে নামার কীর্তি এখন তার।

 

 

 

যদিও প্যারাগুয়ের জন্য এসেছে একটি দুঃসংবাদ। দলের মিডফিল্ডার দিয়েগো গোমেজ গ্রুপ পর্বে নিজের দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেছেন। ফলে প্যারাগুয়ে শেষ পর্যন্ত ‘রাউন্ড অব ৩২’-এ উঠতে পারলেও সেই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাকে পাবে না দলটি।

 

হোসেনি দালান থেকে শুরু হলো ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল

 

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে শোক ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পুরান ঢাকার হোসেনি দালান থেকে শুরু হয়েছে শিয়া সম্প্রদায়ের উদ্যোগে তাজিয়া মিছিল।

 

 

 

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাজধানীর পুরান ঢাকার হোসেনি দালান থেকে শিয়া সম্প্রদায়ের উদ্যোগে শুরু হয়েছে তাজিয়া মিছিল।

 

 

 

শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল ১০টার পরে ঐতিহাসিক হোসেনি দালান ইমামবাড়া থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ মিছিল শুরু হয়।

 

চারশ বছরের পুরোনো এই ইমামবাড়ায় ভোর থেকেই ঢাকাসহ আশপাশের এলাকা থেকে শিয়া সম্প্রদায়ের শত শত মুসলিম জড়ো হতে থাকেন।

 

 

তাজিয়া মিছিলটি হোসেনি দালান ইমামবাড়া থেকে রাজধানীর আজিমপুর, নীলক্ষেত, নিউ মার্কেট, সায়েন্সল্যাব ঘুরে ধানমন্ডি গিয়ে শেষ হবে।

 

 

মিছিলে অংশ নেওয়া অধিকাংশকেই কালো পোশাক পরিধান করতে দেখা গেছে। এ ছাড়া তাদের হাতে প্রতীকী ছুরি, আলাম, পতাকা বা নিশান, বেস্তা, বইলালামও দেখা যায়।

 

 

 

তাজিয়া মিছিল ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সদস্যরা রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সতর্ক অবস্থনে রয়েছে।

 

 

 

পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, র‌্যাব, সোয়াত, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করেছেন। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশের সদস্যরা রয়েছেন।

 

 

 

তাজিয়া মিছিল যেসব রাস্তা দিয়ে যাবে সেসব রাস্তায় সাধারণ পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে দেখা গেছে।

 

 

 

আরবি ‘আশারা’ শব্দের অর্থ দশ। আর আশুরা মানে দশম। হিজরি ৬১ সনের ১০ মহররম সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে যুদ্ধ করতে গিয়ে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসেন (রা.) এবং তার পরিবারের সদস্যরা ফোরাত নদীর তীরে কারবালার প্রান্তরে নির্মমভাবে শহীদ হন।

 

 

 

শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম ইসলামের মহান আদর্শকে সমুন্নত রাখতে হজরত ইমাম হোসেন (রা.)-এর আত্মত্যাগ মানবতার ইতিহাসে সমুজ্জ্বল হয়ে আছে। কারবালার এই শোকাবহ ঘটনা অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে অনুপ্রেরণা জোগায়। সত্য ও সুন্দরের পথে চলার প্রেরণা জোগায়। শিয়া সম্প্রদায় এদিন বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। এর মধ্যে তাজিয়া মিছিল উল্লেখযোগ্য।

 

শেষ সময়ে গোল করে তুরস্কের জয়, পরাজয়েও নকআউট নিশ্চিত যুক্তরাষ্ট্রের

 

রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগে আসে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী গোল। যোগ করা সময়ের অষ্টম মিনিটে কান আইহানের গোলে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েছে তুরস্ক। তবে এই জয়ও তাদের নকআউটের টিকিট এনে দিতে পারেনি। অন্যদিকে শেষ মুহূর্তের পরাজয় সত্ত্বেও শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

 

 

 

লস অ্যাঞ্জেলস স্টেডিয়ামে শুক্রবার (২৬ জুন) বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় শুরু হওয়া ম্যাচে নাটকীয় এই জয় তুলে নেয় তুরস্ক।

 

 

ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। দ্বিতীয় মিনিটে বাম দিক থেকে নেওয়া কর্নার থেকে সেবাস্তিয়ান বেরহাল্টারের নিখুঁত ক্রসে ব্যাক পোস্টে বল পান অ্যাস্টন ট্রাস্টি। প্রথমে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এরপর কাছের পোস্ট লক্ষ্য করে জোরালো শটে জাল কাঁপিয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।

 

যদিও বেশিক্ষণ পিছিয়ে থাকেনি তুরস্ক। দশম মিনিটে ইয়িলমাজের বুদ্ধিদীপ্ত পাস থেকে আর্দা গুলার প্রথম ছোঁয়াতেই দুর্দান্ত শটে বল জালে পাঠিয়ে ম্যাচে ১-১ সমতা ফেরান।

 

এরপর ৩১তম মিনিটে তুরস্ককে এগিয়ে দেন অরকান কোকচু। বাম দিক থেকে এলমালির দারুণ কাটব্যাক ছয় গজের বক্সে পেয়ে সহজ এক টোকায় বল জালে জড়িয়ে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। এই ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।

 

 

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ঘুরে দাঁড়ায় যুক্তরাষ্ট্র। ৪৮তম মিনিটে সেবাস্তিয়ান বারহল্টার গোল করে ম্যাচে ২-২ সমতা ফেরান এবং শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ড্রয়ের দিকেই এগোচ্ছিল।

 

 

 

কিন্তু নাটকীয়তা জমা ছিল শেষ মুহূর্তের জন্য। যোগ করা সময়ের অষ্টম মিনিটে কান আইহান জয়সূচক গোলটি করলে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় তুরস্ক। গোলের পরপরই শেষ বাঁশি বাজান রেফারি।

 

 

 

শেষ মুহূর্তের এই জয়ে মাঠ ছাড়লেও টুর্নামেন্টে যাত্রা শেষ হয়েছে তুরস্কের। অন্যদিকে নিজেদের শেষ ম্যাচে হারলেও নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র।

 

উন্নয়ন তহবিল থেকে ১০% কমিশন দাবির অভিযোগ ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে

 

ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন তহবিলের টাকা থেকে কমিশন দাবির অভিযোগ উঠেছে ইউপির প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে। পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদে এ ঘটনা ঘটে। মুরাদিয়া ইউপি সচিবের কমিশন দাবির এমন একটি ভিডিও কালবেলা প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) পাওয়া ওই ভিডিওতে ইউপি সচিব আমিনুল ইসলামকে বলতে শোনা যায়, তাকে ১০ শতাংশ এবং উপজেলা প্রশাসনের জন্য ৫ শতাংশ কমিশন দিতে হবে। ভিডিওতে আরও বলতে শোনা যায় সরকারি ভ্যাট-ট্যাক্স ১৭ শতাংশ, জামানত ৫ শতাংশ, তাকে ১০ শতাংশ এবং উপজেলা পরিষদকে ৫ শতাংশসহ মোট ৩৭ শতাংশ কমিশন দিতে হবে।

 

 

 

 

মুরাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান মো. ফোরকান হাওলাদার কালবেলাকে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে আমরা বিভিন্ন বিষয়ে মিটিংয়ে বসেছিলাম। আলোচনার একপর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন তহবিলের সাড়ে ৬ লাখ টাকার কাজ নিয়ে কথা হয়। এসময় সদ্য যোগদান করা সচিব আমিনুল ইসলাম ওই কাজ থেকে ১০ শতাংশ কমিশন দাবি করেন। এছাড়া উপজেলা পরিষদের জন্য ৫ শতাংশ কমিশন দাবি করেছেন। কমিশনের বিষয়ে তখন উপস্থিত ইউপি সদস্যরা প্রতিবাদ করে বলেন; আগে তো এভাবে কেউ নেননি।

 

তবে কমিশন দাবির বিষয়টি অস্বীকার করে ইউপি সচিব আমিনুল ইসলাম জানান, এগুলো তিনি বলেননি, এটা এআই ভিডিও হতে পারে।

 

এ বিষয়ে জানতে দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুলাহ খায়রুল ইসলামের মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

 

 

জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী দৈনিক কালবেলাকে বলেন, এভাবে কমিশন নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই, কেউ এমন কমিশন নিলে বা দাবি করলে সেটা তার একান্তই নিজস্ব বিষয়। তবে এই ঘটনা সত্য হলে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক এবং বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

ব্রাজিল ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপের সেরা বললেন জাপান কোচ

 

নকআউট পর্বে ব্রাজিলের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের আগে জাপানের প্রধান কোচ হাজিমে মোরিয়াসু এক চমকপ্রদ মন্তব্য করেছেন। তার মতে, চলতি বিশ্বকাপের সবচেয়ে সেরা দল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে একই সঙ্গে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তির প্রশংসায় পঞ্চমুখ এই জাপানি কোচ বিশ্বাস করেন, শক্তিশালী ব্রাজিলকে হারিয়ে পরবর্তী ধাপে ওঠার সুযোগও রয়েছে তার দলের।

 

 

 

ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে হাজিমে মোরিয়াসু বলেন, আমি আমার চোখ বন্ধ করে আশা করছি এখানে অন্য কোনো দেশের সাংবাদিক নেই। কিন্তু আমি বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে এটা (বিশ্বকাপের সেরা দল) বলব, যারা ভালো খেলছে। তবে আমি ব্রাজিলের কাছে ক্ষমা চাই।

 

 

 

যদিও আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপের সেরা দল হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তবু ব্রাজিল এবং তাদের নতুন কোচ কার্লো আনচেলত্তির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন মোরিয়াসু।

 

 

ইতালিয়ান এই কোচকে নিয়ে তিনি বলেন, আমি আনচেলত্তিকে কোচ হিসেবে প্রশংসা করি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তার অনেক সাফল্য রয়েছে এবং তিনি পাঁচটি মেজর লিগেই শিরোপা জিতেছেন। তিনি দুর্দান্ত। আমি কখনো তার পর্যায়ে পৌঁছাতে পারব না। এখন তিনি ব্রাজিলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যারা বিশ্বের অন্যতম সেরা দল। এটা সহজ কাজ নয়। এর ফলও তিনি পাচ্ছেন, যা প্রমাণ করে তার অনেক শক্তি ও সামর্থ্য আছে।

 

 

ব্রাজিলকে বিশ্বের শীর্ষ দল হিসেবে উল্লেখ করলেও নিজেদের সম্ভাবনা নিয়েও আশাবাদী জাপান কোচ।

 

 

 

তিনি বলেন, এটা হতে যাচ্ছে দারুণ এক অভিজ্ঞতা। তারা পারফেক্ট, কিন্তু আমি বিশ্বাস করি আমাদের জয়ের ও পরবর্তী ধাপে যাওয়ার একটা সুযোগ আছে। আমরা সেই সম্ভাবনার দিকে এগোচ্ছি এবং প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমরা ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ জিতেছিলাম। সম্ভবত সেই কারণে তারা আরও বেশি উজ্জীবিত। আমি এই ম্যাচের জন্য উন্মুখ হয়ে আছি।

 

 

 

 

জাপান এখন আর ব্রাজিলের জন্য সহজ প্রতিপক্ষ নয় বলেও মনে করেন মোরিয়াসু।

 

 

 

 

তার ভাষায়, আগে জাপান ব্রাজিলের জন্য সহজ প্রতিপক্ষ ছিল। কিন্তু শেষ প্রীতি ম্যাচের পর আমরা প্রমাণ করেছি, ব্রাজিলের কাছে আর সহজ নই আমরা। এটা আমাদের জন্য একটি সুবিধা এবং উন্নতির প্রতিফলন। ব্রাজিল বিশ্বের শীর্ষ দল, আমরা তাদের শ্রদ্ধা করি। কিন্তু পরের ম্যাচে কী হবে, তা কেউ জানে না। আমাদেরও জেতার সুযোগ থাকবে।

 

 

 

 

এদিকে, চলতি বিশ্বকাপে গোলের নতুন রেকর্ড গড়েছে জাপান। সুইডেনের বিপক্ষে গোল করে টুর্নামেন্টে তাদের মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাত, যা এক বিশ্বকাপে দেশটির সর্বোচ্চ। এর আগে আট বছর আগে রাশিয়া বিশ্বকাপে শেষ ষোলোয় ওঠার পথে জাপানের সর্বোচ্চ গোল ছিল ছয়টি।

 

 

 

এ নিয়ে টানা তৃতীয় বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে নকআউট নিশ্চিত করল জাপান। সব মিলিয়ে এটি তাদের পঞ্চমবারের মতো শেষ ষোলোতে ওঠা। এর আগে ২০০২ সালে যৌথ আয়োজক হিসেবে প্রথমবার নকআউট পর্বে খেলেছিল জাপান।

 

পুলিশের কাছে যেতে এখনও শঙ্কায় সাধারণ মানুষ: শিশির মনির

 

মানুষের মধ্যে পুলিশ ও বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

 

 

 

তিনি বলেছেন, বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং মামলা নিষ্পত্তিতে বছরের পর বছর সময় লাগার কারণে সাধারণ মানুষ এখন পুলিশের কাছে যেতে ভয় পায়।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সমর্থনে আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, ‘একজন ভদ্রলোক কখনো মামলা করতে যেতে চান না। কারণ একটি মামলা নিষ্পত্তি হতে যে পরিমাণ সময় লাগে, একজন মানুষের পক্ষে ততটা ধৈর্য ধারণ করা কঠিন। মানুষ পুলিশের কাছে মামলা করতে ভয় পায়, পুলিশের কাছে যেতে আস্থা পায় না।’

 

তিনি বলেন, ‘দেশের বিচারব্যবস্থায় মামলার জট ক্রমেই বাড়ছে। হাইকোর্টে বর্তমানে ১ হাজার ২৩৬টি মৃত্যুদণ্ডের মামলা ঝুলে রয়েছে। আদালত প্রতিদিন পরিচালিত হলেও আগামী ১০ বছরেও এসব মামলার নিষ্পত্তি সম্ভব হবে না।’

 

 

শিশির মনির আরও বলেন, ‘মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে এখন প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চায়। কিন্তু বিচার করা তো প্রধানমন্ত্রীর কাজ নয়। জনগণ আর কোনো উপায় খুঁজে পায় না বলেই এমনটি করে।’

 

 

 

 

আলোচনা সভায় বক্তারা নির্যাতন, বিচারহীনতা এবং দীর্ঘসূত্রিতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে কার্যকর ও জনবান্ধব বিচারব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে নির্যাতনের মাধ্যমে স্বীকারোক্তি আদায় বন্ধ এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

 

 

 

সভায় নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি, মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক, আইনজীবী, শিক্ষক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধিকার-এর পরিচালক (প্রোগ্রামস) মো. সাজ্জাদ হোসেন এবং সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও অ্যাডভোকেসি) তাসকিন ফাহমিনা।

 

 

 

এছাড়া অনুষ্ঠানে অতিথি বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর), আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা তানভীর হাসান জোহা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. শরীফুল ইসলাম, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ড. ফয়েজুল হাকিম, দ্য ডেইলি ওয়াদারের সম্পাদক-ইন-চিফ শফিকুল আলম, ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) আইনবিষয়ক সম্পাদক বদরুদ্দোজা বাদল এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

 

মানব পাচার মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগ বাড়ানোর আহ্বান

মানব পাচার প্রতিরোধ, ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভার আয়োজন করে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম।

 

 

 

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা জেলার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এবং জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুর রহমান এবং মানব পাচার দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোস্তফা কামাল খান। এছাড়া ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সিনিয়র ম্যানেজার সাজ্জাদ হোসেন, ঢাকা জেলা সমন্বয়কারী বজলুর রশিদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

পরিচয় পর্ব শেষে সভার উদ্বোধন করেন সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলাম। পরে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সিনিয়র ম্যানেজার সাজ্জাদ হোসেন অভিবাসন ও মানব পাচার প্রতিরোধে ব্র্যাকের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা তুলে ধরেন।

 

উপস্থাপনায় মানব পাচারের বর্তমান প্রবণতা, পাচারের বিভিন্ন রুট এবং বিদেশে পাচার হওয়া ব্যক্তিদের ওপর সংঘটিত শোষণ ও নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে প্রতারণা ও পাচারের শিকার ব্যক্তিদের দেশে ফিরিয়ে আনা, পুনর্বাসন, পুনঃএকত্রীকরণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের ভূমিকা তুলে ধরা হয়।

 

সভায় জানানো হয়, দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের উদ্যোগে বিদেশফেরত সংকটাপন্ন ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের জরুরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। দেশে ফেরার পর যেসব ভুক্তভোগীর নিরাপদ আশ্রয়ের প্রয়োজন হয়, তাদের জন্য রেফারেল ও আবাসনের ব্যবস্থাও করা হয়। বিশেষ করে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ বা অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে দেশে ফেরা নারী ভুক্তভোগীদের নিরাপদ আবাসন, চিকিৎসা, খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় সার্বিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

 

 

মূল উপস্থাপনার পর মানব পাচারের শিকার লিবিয়াফেরত সারভাইভার এনামুল বিদেশে যাওয়ার পর প্রতারণার শিকার হওয়া এবং মানবেতর জীবনযাপনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তার বক্তব্য মানব পাচারের ভয়াবহ বাস্তবতা সম্পর্কে উপস্থিত অংশগ্রহণকারীদের প্রত্যক্ষ ধারণা দেয়।

 

 

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মানব পাচার প্রতিরোধে ব্যক্তি ও সমাজ পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। উন্নত জীবনের আশায় অনিয়মিত পথে বিদেশগমন কিংবা দালালদের প্রলোভনে পড়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশে যাওয়ার প্রবণতা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে সচেতন নাগরিকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।’

 

 

 

তিনি আরও বলেন, জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি মানব পাচারের শিকার ভুক্তভোগীদের বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দিতে সর্বদা প্রস্তুত। ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় আইনি ও অন্যান্য সহায়তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও তিনি ব্যক্ত করেন।

 

 

 

সভায় অংশগ্রহণকারীরা মানব পাচার প্রতিরোধে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার, সুরক্ষা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

 

চৌমুহনীর তিন আবাসিক হোটেলে ডিবির অভিযান, ১৪ তরুণ-তরুণী আটক

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার তিনটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৪ জন তরুণ-তরুণীকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত চৌমুহনী বাজারের রাজ হোটেল, ঢাকা হোটেল ও সেভেন স্টার হোটেলে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং চৌমুহনী পুলিশ ফাঁড়ির যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই তিনটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালানো হয়। এ সময় হোটেলের বিভিন্ন কক্ষ থেকে আপত্তিকর অবস্থায় থাকা ৭ জন নারী ও ৭ জন পুরুষসহ মোট ১৪ জনকে আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— বেগমগঞ্জ উপজেলার শাহাদাত হোসেন সাকিব (২৪), রিয়াজ হোসেন (২৪), রহমত উল্যাহ রিয়াদ (৩৬), নোয়াখালী সদর উপজেলার মো. রিপন (২৩), সোনাইমুড়ী উপজেলার আকরাম (৩৪), নুসরাত জাহান (১৯), শারমিন আক্তার (২৫), সেনবাগ উপজেলার আকরাম হোসেন (২৯), কবিরহাট উপজেলার ইয়াছিন (৩০), ঢাকা জেলার তাসমিন আক্তার (২১), নরসিংদী জেলার শাহনাজ বেগম (৩৬), খাগড়াছড়ি জেলার হাফেজা বেগম (২৩), লক্ষ্মীপুর জেলার বিউটি আক্তার (২৫) এবং ফেনী জেলার ময়না (২৫)।

নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “আবাসিক হোটেলের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালিত হওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”

তিনি আরও বলেন, “অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে জেলা পুলিশের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এসব আবাসিক হোটেলে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলার অভিযোগ ছিল। প্রশাসনের এ অভিযানে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

১৪৮৫ জনের বিশাল নিয়োগ দেবে সমাজসেবা অধিদপ্তর, আবেদন করুন দ্রুত

 

‘সংশোধিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি’ প্রকাশ করেছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সমাজসেবা অধিদপ্তর (ডিএসএস)। গত ২৪ মে ১৪৮৫ পদের এই বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করা হয়। আগ্রহী ও যোগ্য প্রার্থীরা টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। ২ জুন সকাল ১০টা থেকে আবেদন শুরু হয়েছে। চলবে ২৩ জুন বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

 

 

 

তবে, এর আগে ২০২৪ সালের ২৭ মার্চ ও একই বছরের ৯ জুনের বিজ্ঞপ্তির পদগুলোতে কেউ আবেদন করলে তাদের আর নতুন করে আবেদন করার প্রয়োজন নেই।

 

 

 

চলুন, একনজরে দেখে নিই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি-

প্রতিষ্ঠানের নাম: সমাজসেবা অধিদপ্তর

পদসংখ্যা: ৫২ ক্যাটাগরিতে ১৪৮৫ শূন্য পদ

চাকরির ধরন: পূর্ণকালীন (স্থায়ী/অস্থায়ী)

প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ উভয়েই আবেদন করতে পারবেন।

 

 

 

প্রার্থীর বয়স: ১৮-৩২ বছর (১ জুন ২০২৬ তারিখে)। তবে ১, ৩, ৮, ৯, ১৪, ১৫, ১৭, ১৮, ২৫, ২৭-৩১ ও ৩৬ নম্বর পদের বিভাগীয় প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা শিথিলযোগ্য।

 

 

 

আবেদন যেভাবে : আগ্রহী প্রার্থীরা এখানে https://dss.gov.bd/pages/notices/সংশোধিত-নিয়োগ-বিজ্ঞপ্তি-mxnjc6-6a12f8064912f6e4018b0e93 ক্লিক করে ফরম পূরণের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।

 

 

 

আবেদন ফি: টেলিটক প্রি–পেইড নম্বর থেকে সার্ভিস চার্জসহ আবেদন ফি বাবদ ১ থেকে ৩৭ নম্বর পদের জন্য ১১২ টাকা, ৩৮ থেকে ৫২ নম্বর পদের জন্য ৫৬ টাকা এবং সব পদের অনগ্রসর প্রার্থীদের ৫৬ টাকা অনলাইনে ফরম পূরণের অনধিক ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এসএমএসের মাধ্যমে জমা দিতে হবে।

 

 

 

আবেদনের মাধ্যম: শুধু অনলাইনে (টেলিটকের মাধ্যমে)

আবেদন শুরুর তারিখ ও সময়: ২ জুন ২০২৬, সকাল ১০টা

আবেদন শেষের তারিখ ও সময়: ২৩ জুন ২০২৬, বিকেল ৫টা

আবেদনের শেষ সময়: ২৩ জুন ২০২৬, বিকেল ৫টা।

আবেদনপদ্ধতিসহ বিস্তারিত তথ্য জানতে এখানে ক্লিক করুন।

 

বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল ৫০০ শয্যায় উন্নীত হচ্ছে

 

বগুড়ার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মোহাম্মদ আলী হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

 

 

 

শনিবার (২০ জুন) বেলা ১১টায় হাসপাতালের সভাকক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির নবনিযুক্ত সভাপতি ও বগুড়া সদর (বগুড়া-৬) আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা।

 

 

 

জানা গেছে, হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন ও অবকাঠামো সম্প্রসারণের লক্ষ্যে হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সভায় জানানো হয়, হাসপাতালটিকে ৫শ শয্যায় উন্নীতকরণের জন্য দ্রুতই নতুন অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরু করা হবে। হাসপাতালের পূর্ব পাশে অবস্থিত হাসপাতালের নিজস্ব মাঠে এই নতুন বহুতল ভবন ও অবকাঠামো নির্মিত হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর পাশাপাশি চিকিৎসা সেবার আধুনিকায়নে আরেকটি বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

হাসপাতালের যে ওয়ার্ডটি পূর্বে বার্ন ইউনিটের জন্য নির্ধারিত করা হয়েছিল, সেটিকে এখন আধুনিক আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) ওয়ার্ডে রূপান্তর করা হবে। এই আইসিইউ ওয়ার্ডটি পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জামাদি ও দক্ষ জনবল চেয়ে খুব শীঘ্রই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হবে বলে হাসপাতাল প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।

 

 

সভায় উপস্থিত বক্তারা হাসপাতালের সেবার মান নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দেন। বিশেষ করে রোগীদের সার্বক্ষণিক ও উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক ও নার্সদের কর্মস্থলে নিয়মিত ও সঠিক সময়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে কোনো ধরনের অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না বলেও সভায় সতর্ক করা হয়। এছাড়া হাসপাতালে নার্সসহ অন্যান্য লোকবল বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়।

 

 

 

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুজিদুল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ পিপিএম, জেলা সিভিল সার্জন ডা. খুরশিদ আলম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদ হোসেন, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আল মামুন হক, বিএমএ বগুড়ার আহ্বায়ক ডা. আসফারুল হাবীব রোজ, বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমান, ওই হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক রাশেদুল ইসলাম রনি, সাইফুর রহমান শাহীন, বগুড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদ, ভারপ্রাপ্ত সেবা তত্ত্বাবধায়ক আনোয়ারা খাতুন প্রমুখ।

 

এমপি হানজালাকে নিয়ে রাশেদ খাঁনের কটাক্ষ, ‘চিড়িয়াখানায় রাখার দাবি’

 

মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালাকে চিড়িয়াখানায় রাখার দাবি জানিয়েছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন।

 

 

 

তিনি বলেন, এমপি হানজালাকে চিড়িয়াখানায় রাখা হোক, যাতে চিড়িয়াখানার কাউন্টার থেকে সবাই এই অদ্ভুত প্রাণীটাকে টিকিট কেটে দেখতে পারে!

 

 

 

শনিবার (২০ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন।

 

ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন লেখেন, এমপি হানজালাকে চিড়িয়াখানায় রাখা হোক, যাতে চিড়িয়াখানার কাউন্টার থেকে সবাই এই অদ্ভুত প্রাণীটাকে টিকিট কেটে দেখতে পারে! আজকে একজন বিএনপি নেতার সাথে তার যে আচরণ দেখলাম, সত্যিই লজ্জা লাগছে, এসব ম্যানারলেস লোকজন কিভাবে এমপি হলো?

তিনি বলেন, এর আগে বিএনপিকে নিয়ে মন্তব্য করেছিলো আমি হানজালা খোঁচাখুঁচি করলে বিএনপি এই দেশে থাকতে পারবে না। আওয়ামী আমলে এদের এসব গর্জন তো দেখিনি। এরা তখন কোথায় ছিলো? আজকাল এসব লোকদের এতো বেশি ঔদ্ধত্য যে, সরকারি দলের লোকজনকে এরা আওয়ামী জামানার বিরোধীদলের মত ট্রিট করে।

 

 

সবশেষ তিনি লেখেন, হানজালাদের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে ওরাই ক্ষমতায় আর বিএনপি বিরোধীদলে। বিএনপির দুর্ভাগ্য যে, এদের হজম করা লাগছে। রাজনৈতিক শূন্যতা ও সংকট না থাকলে আমি নিশ্চিত ঐ বিএনপি নেতা এমপি নামক অদ্ভুত প্রাণীটাকে কানের নীচে দুই পাঁচটা লাগিয়ে দিতো।

 

ছাত্রদল নেতাকে ফাঁসাতে AI দিয়ে ছবি তৈরি করে ফেসবুকে প্রচার

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি প্রার্থী মো. আসার সরকারকে ফাঁসানোর জন্য ফেক আইডি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুৎসা রটানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

সম্প্রতি AI দিয়ে আসার সরকারের মদ্যপানের একটি ছবি তৈরি করে ফেক আইডিতে প্রচার করা হয়েছে। প্রতিপক্ষের লোকজন আসারকে ফাাসানোর জন্যই এ ধরণের কুৎস্যা রটাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাদের।

 

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নামে এক আইডি থেকে প্রকাশিত ছবিতে দেখানো হয়েছে আসার সরকার বসে মদপান করছে। তার একহাতে মদের বোতল ও এক হাতে মদের গ্লাস। ওই ছবিটি  AI দিয়ে তৈরি করা হয়েছে বলে দাবী করে আসার সরকার বলেন, আমার চেহারার সঙ্গে ওই ছবির কোন মিল নেই।

 

তিনি বলেন, আমি সোনামুখী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি প্রার্থী হওয়ার পর থেকেই একটি কুচক্রী মহল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। ষড়ন্ত্রের অংশ হিসেবে তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার করছে।

 

এর আগে আসার সরকারকে দুটি ফোন নম্বর থেকে  অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিরা হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।

 

 

হাসনাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে আ.লীগের মামলা: একজন আটক

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) হাসনাত আব্দুল্লাহসহ ৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ।

 

শুক্রবার (১৯ জুন) লন্ডনের কেমব্রিজ থানায় মামলাটি করা হয়। মামলার অন্য আসামিরা হলেন, এনসিপি নেতা এহতেশাম হক, জাকির চৌধুরী ও শাহীন আলম। তাদের মধ্যে জাকির চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। এ ছাড়াও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) এক বিজ্ঞপ্তিতে এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্স মামলার তথ্যটি  জানিয়েছে।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যে আওয়ামী লীগ ও পতিত ফ্যাসিবাদী সরকারের সমর্থকরা হাসনাত আবদুল্লাহ এবং তার সফরসঙ্গীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অপপ্রচার ও হয়রানির পর এবার নতুন নাটক শুরু করেছে। তারা হাসনাত আবদুল্লাহ, এহতেশাম হক, জাকির চৌধুরী, শাহীন আলমসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ‘বেধড়ক পেটানোর’ অভিযোগ এনে থানায় মামলা করেছে। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্য পুলিশের মূল্যবান সময় নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

 

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, জননিরাপত্তা এবং যুক্তরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে যুক্তরাজ্যের একটি বিশেষায়িত সংস্থা তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। হাসনাত আব্দুল্লাহ যুক্তরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তাদের পেশাদার ও দায়িত্বশীল ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তবে পতিত আওয়ামী লীগ আগেও ব্যর্থ হয়েছে, এবারও হবে। অক্সফোর্ড ইউনিয়নে হাসনাত আব্দুল্লাহর ঐতিহাসিক বক্তব্য, যুক্তরাজ্য জুড়ে প্রবাসীদের সঙ্গে তার সফল মতবিনিময় এবং সহযোদ্ধাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করতে তারা বারবার চেষ্টা করলেও প্রতিবারই চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

 

ফুটবল বিশ্বকাপে বাংলাদেশিদের সমর্থন চাইলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

চলতি ফুটবল বিশ্বকাপে বাংলাদেশিদের কাছে নিজ দলের পক্ষে সমর্থন চেয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। তিনি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বাজি ধরলে পস্তাতে হবে না।’

 

 

 

শনিবার (২০ জুন) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

 

শুক্রবার (১৯ জুন) অনুষ্ঠিত ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ২–০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয় পর্ব নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বকাপে পরপর দুই খেলায় যুক্তরাষ্ট্রের জয় ১৯৩০ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্বকাপের পর এটিই প্রথম। এ জয়ের প্রসঙ্গ ধরে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ কারণে আমি এখানে এসেছি। গত রাতে বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দারুণ একটা জয় পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং পরবর্তী পর্বে চলে গেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি এখানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সব বাংলাদেশিকে উৎসাহিত করতে এসেছি, যাতে সামনের দিনে বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন করেন। কেননা, দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বাজি ধরলে আপনাকে কখনো পস্তাতে হবে না।’

 

 

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যাওয়ার আগের দিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যান যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত। তবে শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাদের এই বৈঠককে ‘রুটিন সাক্ষাৎ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

 

তাড়াশে হিন্দুর জমি জবর দখলচেষ্টা, সন্ত্রাসী হামলা ও মারপিট

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে এক সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায় পরিবারের জমি জোরপূর্বক দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। জমি দখলে বাঁধা দেওয়ায় ওই পরিবারের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে।

 

 

 

শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাড়াশ পৌর এলাকার ঘোষপাড়ার রনজিত কুমার ঘোষের বাড়িতে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

 

 

 

ভুক্তভোগী রনজিত কুমার ঘোষ জানান, তার পৈত্রিক পাওয়া বসতবাড়ি ৭১ সাল থেকে ভোগদখলে রয়েছি। একটি জাল দলিল করে করে সাইফুল ইসলাম গং আজ শনিবার ওই জমি দখল করতে আসে। তার সঙ্গে মো. শামিম, মো. ফজলুসহ ৪০-৫০ জন সন্ত্রাসী নিয়ে জমি দখল করতে আসে।

 

 

 

এ সময় রনজিত ঘোষ ও তার পরিবার বাঁধা দিতে গেলে তার ওপর অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে হামলা করে। হামলায় আহত হন রনজিত ঘোষ, মিঠুন ঘোষ, রিণা ঘোষ, রত্না ঘোষ, সুচিত্রা ঘোষ ও সন্দীপ ঘোষ। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

 

 

এ বিষয়ে তাড়াশ থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। ভুক্তভোগী পরিবারও থানায় এসেছিল। তাদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। অভিযোগ পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচে আলোচিত রেফারি, যার ঝুলিতে ৯৮০ হলুদ ও ২৫ লাল কার্ড

  • রিপোর্টার:
  •  আপডেট টাইম : ০৮:০০:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়ার মধ্যকার বিশ্বকাপ গ্রুপ পর্বের বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচটি পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন মিসরের অভিজ্ঞ রেফারি আমিন মোহাম্মদ ওমর। আগামী সোমবার (২২ জুন) অনুষ্ঠিতব্য এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে তার সঙ্গে থাকবেন দুই সহকারী রেফারি এবং একজন চতুর্থ অফিশিয়াল, যাদের সবাইকে আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা মনোনীত করেছে।

 

 

কঠোর ও শৃঙ্খলাপরায়ণ রেফারি হিসেবে পরিচিত আমিন মোহাম্মদ ওমর দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ম্যাচ পরিচালনা করে আসছেন। ২০১৭ সাল থেকে ফিফার স্বীকৃত আন্তর্জাতিক রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও ২০১৩ সাল থেকেই তিনি মিসরের প্রিমিয়ার লিগে নিয়মিত ম্যাচ পরিচালনা করছেন। মাঠে শান্ত ও দৃঢ়ভাবে খেলা নিয়ন্ত্রণের দক্ষতার কারণে তিনি ধীরে ধীরে বৈশ্বিক পর্যায়েও আস্থা অর্জন করেন।

 

 

২০১৯, ২০২১ এবং ২০২৩ সালের আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের মতো বড় টুর্নামেন্টেও ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। এ ছাড়া বয়সভিত্তিক বিশ্বকাপেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এবারই প্রথমবারের মতো মূল বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ পেলেন এই মিসরীয় রেফারি।

তার আন্তর্জাতিক অভিষেক ম্যাচেই তিনি আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন। দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রের মধ্যকার ম্যাচে থ্রো-ইনের ক্ষেত্রে দেরি হওয়ায় প্রথম রেফারি হিসেবে তিনি ‘৫ সেকেন্ডের সময়সীমা’ কার্যকর করে তাৎক্ষণিকভাবে কাউন্টডাউন শুরু করেন। কঠোর এই সিদ্ধান্ত মাঠে শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে তার দৃষ্টিভঙ্গিকেই স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

অভিজ্ঞতা কম থাকা সত্ত্বেও বিশ্বকাপের মঞ্চে তার প্রথম ম্যাচে বড় কোনো ভুল বা বিতর্ক দেখা যায়নি। সেই ম্যাচে তিনি মাত্র একটি হলুদ কার্ড দেখান, আর পুরো ম্যাচেই নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন দৃঢ়ভাবে।

মাঠের বাইরেও আমিন মোহাম্মদ ওমর একজন পেশাদার আইনজীবী। আইন পেশার সঙ্গে রেফারিংয়ের এই সমন্বয় তার ব্যক্তিত্বে শৃঙ্খলা ও নিরপেক্ষতার ভাবকে আরও জোরদার করেছে বলে ফুটবল মহলে আলোচিত হয়।

 

 

এ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় তিনি মোট ২৬৯টি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। এই সময়ে তিনি প্রায় ৯৮০টি হলুদ কার্ড এবং প্রায় ২৫টি লাল কার্ড দেখিয়েছেন। সৌদি প্রো লিগসহ বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ ক্লাব ও ঘরোয়া প্রতিযোগিতার চাপপূর্ণ ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার।

 

 

তবে গত বছর মিসরের ঘরোয়া ফুটবলে একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি বিতর্কের মুখে পড়েন। পিরামিডস এফসি তখন তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করে। ইসমাইলি এসসির বিপক্ষে ম্যাচে কোচ ক্রুনোস্লাভ জুরচিচকে লাল কার্ড দেখানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

 

 

আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচে তার সহকারী রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বদেশী মাহমুদ আবু এলরেগাল ও আহমেদ হোসাম তাহা। চতুর্থ অফিশিয়াল হিসেবে থাকবেন স্পেনের আলেহান্দ্রো হার্নান্দেজ।

বাংলাদেশে আর্জেন্টিনা ভক্তদের নিয়ে বিশেষ উদ্যোগের ইঙ্গিত রাষ্ট্রদূতের

পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা। সাক্ষাৎকালে আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে নিরাপত্তা সহায়তা জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি তিনি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের জনসাধারণের আর্জেন্টিনার প্রতি আগ্রহকে সম্মান জানিয়ে বিষয়টি বিশ্বব্যাপী প্রচারের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

 

 

শনিবার (২০ জুন) পুলিশ সদরদপ্তরে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

এসময় রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে দুই দেশের পুলিশের মধ্যে সমন্বয় জোরদারসহ নিরাপত্তা বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন মো. আলী হোসেন ফকির। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশের জনগণের ফুলবলপ্রীতিকে বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রদূতের আগ্রহে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

 

 

বাংলাদেশের জন্য দুঃসংবাদ, সিরিজ হারের পর বাড়ল হতাশা

চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে দর্শকমুখর পরিবেশে জয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছিল বাংলাদেশের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হতাশ হয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে ভক্ত-সমর্থকদের। ৭ রানে হেরে আগেভাগেই সিরিজ খুইয়েছে বাংলাদেশ। সিরিজ হারিয়ে স্বাগতিকেরা পেল আরেক দুঃসংবাদ।

 

 

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই টি-টোয়েন্টিতে খেলতে পারেননি নিয়মিত টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাস। এবার পুরো সিরিজ থেকেই ছিটকে গেছেন বলে বিসিবি এক বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করেছে। মাংসপেশির চোট থেকে পুরোপুরি সেরে না ওঠায় তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে খেলতে পারবেন না তিনি।

 

 

১৪ জুন মিরপুরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে বাঁ পায়ের মাংসপেশিতে গ্রেড ১ মাত্রার চোট পেয়েছিলেন লিটন। ফলে সিরিজের প্রথম দুই টি-টোয়েন্টিতে খেলতে পারেননি তিনি। এবার তার খেলা হচ্ছে না শেষ টি-টোয়েন্টিও। আগামীকাল চট্টগ্রামে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশ নামবে ধবলধোলাই এড়ানোর মিশনে।

লিটন না থাকায় প্রথম দুই টি-টোয়েন্টিতে তাওহীদ হৃদয় বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। হৃদয় কয়েক দিন আগেই সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন। সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতেও তিনি নেতৃত্ব দেবেন।

টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। লিটন ৩ ম্যাচ মিলিয়ে ৪৩ গড় ও ৮১.৯০ স্ট্রাইকরেটে করেন ৮৬ রান। যার মধ্যে শেষ ওয়ানডেতে ৫৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন। সেই ম্যাচে চোটে পড়াতেই টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষ হয়ে গেল তার।

দুধ দিয়ে গোসল করে ব্রাজিল দলে নাম লেখালেন কামরুল

ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই সমর্থকদের উন্মাদনা পৌঁছে যায় ভিন্ন মাত্রায়। প্রিয় দলের জয়-পরাজয়কে ঘিরে চলে নানা বাজি, চ্যালেঞ্জ আর মজার সব প্রতিশ্রুতি। এমনই এক ব্যতিক্রমী প্রতিশ্রুতি পালন করে আলোচনায় এসেছেন চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের এক আর্জেন্টিনা সমর্থক।

 

 

উপজেলার হিঙ্গুলী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেহেদিনগর গ্রামের কামরুল হাসান। গত কয়েকদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দিয়েছিলেন, ব্রাজিল যদি হাইতির বিপক্ষে জয়লাভ করে, তাহলে আর্জেন্টিনার সমর্থন ছেড়ে দুধ দিয়ে গোসল করে ব্রাজিল দলকে সমর্থন করবেন।

 

 

শনিবার (২০ জুন) ভোরে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ব্রাজিল ৩-০ গোলের জয় লাভ করলে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেননি কামরুল। বন্ধুদের উপস্থিতিতে গ্রামের একটি খোলা জায়গায় দুধ দিয়ে গোসল করেন তিনি। এরপর খুলে ফেলেন আর্জেন্টিনার জার্সি, গায়ে তোলেন ব্রাজিলের জার্সি। পুরো ঘটনাটি ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে মুহূর্তেই তা ছড়িয়ে পড়ে নেট দুনিয়ায়।

কামরুল হাসান বলেন, ব্রাজিলকে খোঁচা দিতেই মজার ছলে এমন ঘোষণা দিয়েছিলাম। মনে হয়েছিল তারা হয়তো জিতবে না। কিন্তু ব্রাজিল জিতে গেছে, তাই নিজের কথার মর্যাদা রাখতে দুধ দিয়ে গোসল করেছি। এখন সবাই আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করলেও আমি বিষয়টি উপভোগ করছি।

ব্রাজিল সমর্থক ফাইয়াজ রিয়াজ বলেন, বন্ধু কামরুল বলছে আজকের ম্যাচ জিততে পারলে সবার সামনে দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা ছেড়ে ব্রাজিলে যোগ দিবে। ম্যাচ জয়ের পর আমরা তাকে ডেকে এনে তার প্রতিশ্রুতি অনুয়ায়ী দুধ দিয়ে গোসল করিয়ে ব্রাজিলের জার্সি পরিধান করিয়ে দিই। সে এখন ব্রাজিল সমর্থন করে।

তিনি আরও বলেন, ব্রাজিল অনেক বছর শিরোপা জিততে পারেনি সত্যি, কিন্তু তারা শৈল্পিক ফুটবলের উদ্ভাবক।

কবরস্থানে পীর সেজে থাকতেন হত্যা মামলার আসামি

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বাজিতপুর গ্রামে শতবর্ষী একটি পঞ্চায়েতি নির্জন কবরস্থান দখল করে কথিত পীরের আস্তানা গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, পবিত্র কবরস্থানের ভেতরে পীর পরিচয়ের আড়ালে এক হত্যা মামলার আসামি মাদক ও জুয়ার আসর বসাচ্ছেন।

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাজিতপুর গ্রামের বাসিন্দা গয়াছ মিয়া (৩৫) একটি হত্যা মামলার প্রধান আসামি। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর সম্প্রতি তিনি জামিনে মুক্তি পেয়ে এলাকায় ফিরে আসেন। এরপর তিনি দাবি করেন, স্বপ্নে এক অজ্ঞাত পীরের নির্দেশে তিনি ওই কবরস্থানে অবস্থান করছেন। সেখানে জিন সাধনা ও আধ্যাত্মিক চিকিৎসা দেওয়ার কথা বলে তিনি কবরস্থানের ভেতরে ঘন জঙ্গল ও শতবর্ষী একটি বটগাছের নিচে বাঁশ-বেত দিয়ে দোতলা আকৃতির একটি ঝুপড়ি ঘর নির্মাণ করেছেন।

 

 

কবর ও ঘন বাঁশঝাড়ের মাঝখানে নির্মিত হয়েছে ওই ঝুপড়ি ঘর। গয়াছ মিয়ার মাথায় সাদা পাগড়ি, হাতে নথ লাগানো লোহার রড, ধান কাটার কাঁচি ও দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, গয়াছ মিয়া পীরের পরিচয় ব্যবহার করে সেখানে মাদকসেবী ও জুয়াড়িদের আড্ডা গড়ে তুলেছেন। সন্ধ্যার পর নিয়মিত সেখানে মদ, গাঁজা সেবন ও জুয়ার আসর বসে বলে দাবি করেন তারা।

বাজিতপুর জামে মসজিদের মোতাওয়াল্লি সুনুর মিয়া বলেন, শত বছরের পবিত্র কবরস্থানে মদ-গাঁজার আসর বসানো সম্পূর্ণ হারাম। এসব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কবরস্থানের পবিত্রতা রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জুয়েল মিয়া বলেন, হত্যা মামলার একজন আসামি জামিনে এসে কবরস্থানে আস্তানা গড়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

 

 

তবে মাদকের আখড়া পরিচালনার অভিযোগ অস্বীকার করে গয়াছ মিয়া বলেন, কারাগারে থাকাকালে আমার বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ভিটেমাটিও বিক্রি হয়ে গেছে। নিরুপায় হয়ে আমি এই কবরস্থানে আশ্রয় নিয়েছি।

 

 

এদিকে কবরস্থান রক্ষা, অবৈধ আস্তানা উচ্ছেদ এবং মসজিদের সম্পত্তি উদ্ধারসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে গত বুধবার এলাকাবাসী দোয়ারাবাজার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের অনুলিপি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও উপজেলা প্রশাসনের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

 

 

দোয়ারাবাজার মডেল থানার ওসি তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম, চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার

রংপুর নগরীতে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, প্রক্সি সরবরাহ ও ডিভাইস ব্যবহার করে জালিয়াতির অভিযোগে একটি চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

 

 

শনিবার (২০ জুন) দুপুরে রংপুর ডিবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী। এর আগে শুক্রবার গভীর রাতে নগরীর ধাপ জেল রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

গ্রেপ্তাররা হলেন- নগরীর কামাল কাছনা এলাকার তাওরাত আকরাম (২৭), সাতগাড়া এলাকার বাধন মিয়া (৩৭), ধাপ মোহাম্মদপুর এলাকার সাহেব আলী (২৬), বদরগঞ্জ উপজেলার আতিকুর রহমান (৩৪) এবং দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার হাফিজ আল মামুন (২০) ও আশরাফুল ইসলাম (৩৬)।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার গভীর রাতে ধাপ জেল রোড এলাকার আরজি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পাশের একটি ভবনের নিচতলার একটি কক্ষে অভিযান চালানো হয়। এসময় সেখানে অবস্থানরত ৬ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

অভিযানে ১৫টি স্বাক্ষরিত নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, বিভিন্ন ব্যাংকের ৮টি স্বাক্ষরিত ব্ল্যাংক চেক, তিনটি জাতীয় পরিচয়পত্র, চাকরিপ্রার্থীদের চারজনের মূল সার্টিফিকেট এবং ৫টি মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারদের মধ্যে একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক। তিনি এর আগে একই ধরনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে ৫২ দিন কারাভোগ করেছিলেন। অপর একজন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর বেকারত্বের সুযোগে চক্রটির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।

 

 

সনাতন চক্রবর্তী বলেন, সম্প্রতি ডাক বিভাগের একটি নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে চক্রটি সক্রিয় হয়েছিল বলে তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি পরীক্ষার্থী সরবরাহ ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে তিনি দাবি করেন। চক্রটি চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে স্বাক্ষরিত স্ট্যাম্প, ব্ল্যাংক চেক ও অর্থ নিয়ে প্রতারণা করতো বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

 

 

গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে বলে জানায় পুলিশ।

চঞ্চলের তুলিতে ফুটে উঠল মেসি, অভিনয়ের বাইরে আঁকায় মুগ্ধতা ছড়ালেন তিনি

চলছে ফিফা বিশ্বকাপ। ক্রীড়ার এই মহাযজ্ঞের উত্তাপে কাঁপছে গোটা দুনিয়া। সেই উন্মাদনা থেকে পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও। মাঠে দল না থাকলেও সমর্থনে ভাগ হয়ে গেছে দুই পরাশক্তি—ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পতাকায় রঙিন চারপাশ।

 

 

এই ফুটবল আবহে শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও সরব। প্রিয় দল-খেলোয়াড় নিয়ে মন্তব্য করছেন, দিচ্ছেন নানা প্রতিক্রিয়া। তবে সবার থেকে একটু ভিন্নভাবে নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করলেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী।

 

 

আজ শনিবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি শেয়ার করেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী মহাতারকা লিওনেল মেসি–এর একটি স্কেচ। নিখুঁত আঁচড়ে ফুটিয়ে তুলেছেন মেসির চুল, দাড়ি, চোখ—এমনকি তার স্বাভাবিক হাসিটিও।

আর এই পোস্টের ক্যাপশনে চঞ্চল লিখেছেন, ‘আমি মেসির একটা ছবি আঁকব—এটা দেখে মেসি ভক্তরা খুশি হতেই পারেন। আঁকলাম। প্রিয় খেলোয়াড় বলে কথা! এখন লাইক-শেয়ার আপনার ব্যাপার।’

স্কেচটি পোস্ট করার পরপরই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া পড়ে। সেইসঙ্গে ভক্ত-সমর্থকরা প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন অভিনেতাকে। কেউ লিখেছেন, ‘আপনি দুই বাংলার খ্যাতিমান অভিনেতা, পাশাপাশি একজন প্রতিভাবান চিত্রশিল্পীও।’ আবার কেউ তুলনা টেনেছেন, ‘মেসি যেমন ফুটবলে সেরা, আপনি তেমন অভিনয়ে।’

অভিনয়ের পাশাপাশি গান ও আঁকাআঁকিতেও সমান দক্ষ চঞ্চল চৌধুরী। নিয়মিতই প্রিয়জন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ছবি এঁকে সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেন তিনি। ইতোমধ্যে সত্যজিৎ রায়, তারিক আনাম খান, বাপ্পা মজুমদার, সালাহউদ্দিন লাভলু, রায়হান রাফী, তাসনিয়া ফারিণ ও প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়–সহ অনেকের প্রতিকৃতি তার ডিজিটাল তুলিতে ধরা পড়েছে।

পরীক্ষাকেন্দ্র নিয়ে ভোগান্তি, ভারতের শিক্ষার্থীর কেন্দ্র আমিরাতে

ভারতের জাতীয় পরীক্ষা সংস্থার (এনটিএ) এক বড় ভুলে এক শিক্ষার্থীর পরীক্ষাকেন্দ্র ভারত থেকে বিদেশে চলে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মহারাষ্ট্রের নাগপুরের এক এনইইটি পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্রে তার পরীক্ষাকেন্দ্র দেখানো হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে।

 

 

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তালিব অনলাইনে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করার পর বিষয়টি দেখতে পান। তিনি পরীক্ষার জন্য নাগপুর থেকে আবেদন করেছিলেন এবং দেশের মধ্যেই পরীক্ষাকেন্দ্র পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রবেশপত্রে বিদেশের কেন্দ্র উল্লেখ থাকায় তিনি ও তার পরিবার হতবাক হয়ে যান।

 

 

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ওই শিক্ষার্থীর পাসপোর্ট নেই। ফলে আবুধাবিতে গিয়ে পরীক্ষা দেওয়া তার জন্য একেবারেই সম্ভব ছিল না।

বিষয়টি সামনে আসার পর প্রবেশপত্রের একটি স্ক্রিনশট সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং এনটিএ-র নজরে আসে। এরপর সংস্থাটি ভুল স্বীকার করে জানায়, এটি একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা টেকনিক্যাল গ্লিচের কারণে হয়েছে।

এনটিএ আশ্বস্ত করেছে, দ্রুত নতুন করে সংশোধিত প্রবেশপত্র দেওয়া হবে এবং শিক্ষার্থীকে ভারতের মধ্যেই পরীক্ষাকেন্দ্র বরাদ্দ করা হবে।

শিক্ষার্থীর পরিবার জানিয়েছে, আবেদন করার সময় তিনি নাগপুর, ওয়ার্ধা ও ভান্ডারা—এই তিনটি শহর পছন্দ হিসেবে দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রবেশপত্রে ভুল করে বিদেশের কেন্দ্র দেখানো হয়।

 

 

এনটিএ আরও জানিয়েছে, যেসব শিক্ষার্থীর পরীক্ষাকেন্দ্র বা তথ্য ভুলভাবে এসেছে, তারা যেন দ্রুত বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানায়।

 

 

আগামী ২১ জুন রি-এনইইটি ইউজি ২০২৬ পরীক্ষা পেন-অ্যান্ড-পেপার পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত পরীক্ষা চলবে। পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখতে বলা হয়েছে।

 

 

আ.লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে উত্তপ্ত ঝিনাইদহ, আহত ২০

ঝিনাইদহ হরিনাকুণ্ডতে পূর্ব শত্রুতা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের ২০ জন আহত হয়েছেন।শনিবার (২০ জুন) ভোরে উপজেলার ৬নং ফলসী ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

 

 

 

আহতরা হলেন- ওই গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মশিউর রহমান মশাল (৫০), মোজাফ্ফর হোসেন সেন্টু (৪৫), কবির হোসেন (৪০), মিজানুর রহমান ( ৪৫), রুবেল (৩২), গোলাফ্ফার ( ৪২), আব্দুর রাজ্জাক (৪৮), মোতালেব হোসেন (৪০), তোতা ( ৩৫), বাচ্চু মিয়া (৩২), বিভান (২২) ও সামসুদ্দিনসহ (৪৫) অনেকে।

 

 

 

এদের মধ্যে মশিউর রহমান মশাল, মোজাফ্ফর ও কবির হোসেন কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং মিজানুর রহমান ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে। তাদের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। অন্যরা হরিণাকুণ্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

 

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই গ্রামে দুপক্ষের মধ্যে সামাজিক বিরোধ চলছে। একপক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন ফলসী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য, ঝিনাইদহ জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট বজলুর রহমান। অপরপক্ষে নেতৃত্বে রয়েছেন ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি করম আলী ও সাবেক ইউপি সদস্য মশিউর রহমান মশাল।

জানা যায়, শুক্রবার ( ২০ জুন) সকালে পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে সন্দেহের জেরে ইউপি চেয়ারম্যান বজলুর রহমানের ভাই ছোটন রহমান ছোটকে কুপিয়ে আহত করে প্রতিপক্ষরা। এরই জেরে চেয়ারম্যানের লোকজন শনিবার সকাল ছয়টার দিকে প্রতিপক্ষের লোকজনের ওপর হামলা করে।

 

 

ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি করম আলী অভিযোগ করেন, সকালে চেয়ারম্যানের পক্ষের নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের লোকজন তাদের লোকজনের ওপর অতর্কিত হামলা করে। এ সময় তারা বিএনপি নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য মশিউর রহমান মশালসহ ১৫-২০ জনকে কুপিয়ে আহত করে। এ সময় ককটেল ফাটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃস্টি করে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

 

 

 

ফারুক হোসেন নামে ওই গ্রামের আরও একজন জানান, শুক্রবার সকালে চেয়ারম্যানের ভাই ছোটকে কুপিয়ে আহত করে প্রতিপক্ষরা। এরই জেরে শনিবার সংঘর্ষ হয়েছে।

 

 

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই গ্রামের একব্যক্তি জানান, গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে দুপক্ষের মধ্যে সামাজিক বিরোধ চলছে। এর আগেও মে মাসে দুদফায় সংঘর্ষ হয়েছে। শুক্রবার চেয়ারম্যানের ভাইকে প্রতিপক্ষরা কুপিয়ে আহত করেছে। এরই জেরে শনিবার ভোরে চেয়ারম্যানের লোকজন প্রতিপক্ষের ওপর আক্রমণ করে। তখন উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তবে এটি রাজনৈতিক নয় সামাজিক বিরোধ বলে জানান এই ব্যক্তি।

 

 

 

ইসরাফিল হোসেন নামে আরও একজন জানান, কয়েকদিন আগে চেয়ারম্যানের ভাইয়ের পুকুর থেকে রাতের আঁধারে কে বা কারা মাছ লুট করে। সেই ঘটনায় মামলা হয়। মামলার জেরে চেয়ারম্যানের ভাই ছোটকে শুক্রবার প্রতিপক্ষরা কুপিয়ে আহত করে। এরই জেরে শনিবার সংঘর্ষ হয়েছে।

 

 

 

ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট বজলুর রহমান জানান, একের পর এক তার লোকজনের ওপর আক্রমণ হচ্ছে। তার ভাইকেও কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।

 

 

 

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাইজাল হোসেন বলেন, এটি সামাজিক বিরোধ। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে কিছু লোক ইউপি চেয়ারম্যানের গ্রুপ থেকে বের হয়ে গেছে, তাই প্রতিষোধপরায়ন হয়ে তিনি তাদের ওপর একের পর এক হামলা করেছে।

 

 

 

তিনি দাবি করেন, চেয়ারম্যানের ভাই একজন নারীকে লাঞ্ছিত করেছিল তাই ওই নারীর পরিবারের লোকজন তার ওপর হামলা করেছে। কিন্তু চেয়ারম্যান ঘুমন্ত প্রতিপক্ষের ওপর ভোরে হামলা করিয়েছে। এ সময় চেয়ারম্যানের লোকজন ককটেল ফাটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

 

 

 

হরিণাকুণ্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অসিত কুমার বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ককটেল ফোটানোর খবরটি সঠিক না। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কঠোর হবে। মামলা ও আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

 

অবসরের ইঙ্গিত, আর বিশ্বকাপ খেলবেন না মেসি?

অসংখ্য রেকর্ডের মালিক লিওনেল মেসি। ২০২৬ বিশ্বকাপে নেমে তিনি গড়েছেন আরেকটি অনন্য কীর্তি। বিশ্বের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপ খেলেছেন। একদিন পর সেই রেকর্ডে ভাগ বসান ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তবে মাঠের পারফরম্যান্সে আলো ছড়ান মেসিই। আলজেরিয়ার বিপক্ষে নিজের বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক করে নতুন করে শিরোনামে উঠে আসেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

 

 

চার দিন পর ৩৯ বছরে পা দেবেন মেসি। অন্যদিকে রোনালদো পেরিয়ে গেছেন ৪১ বছর। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তারা কি ২০৩০ বিশ্বকাপেও খেলবেন? পর্তুগালে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সেই বিশ্বকাপে রোনালদোর খেলা নিয়ে জল্পনা থাকলেও মেসি বিষয়টি একেবারে উড়িয়ে দিয়েছেন।

 

 

আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম ওলে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেসি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘না (সপ্তম বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনা) । এটা আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি।’

নিজেকে এত বছর ধরে শীর্ষ পর্যায়ে ধরে রাখার রহস্যও জানিয়েছেন তিনি। মেসির ভাষায়, ‘আমি সবসময় ফুটবলের মধ্যেই বেঁচে থেকেছি। প্রতিযোগিতা করেছি, নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। শারীরিকভাবে নিজেকে প্রস্তুত রেখেছি, যাতে বিশ্বকাপে দলকে সর্বোচ্চ সাহায্য করতে পারি। আমাদের দলে অসাধারণ কিছু খেলোয়াড় আছে। এখানে কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জায়গাও সহজে ছেড়ে দেয় না। টিকে থাকতে হলে নিজের সেরা ফর্মে থাকতে হয়। এটাই আমাদের শক্তি এবং সাফল্যের মূল কারণ।’

২০৩০ বিশ্বকাপ হবে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম ব্যতিক্রমী আসর। বিশ্বকাপের শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে প্রথমবারের মতো দুটি মহাদেশের ছয়টি দেশ এই টুর্নামেন্টের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। মূল আয়োজক দেশ স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। আর শতবর্ষের বিশেষ আয়োজন হিসেবে উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতে।

 

তবে ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব বেশি ভাবছেন না মেসি। ক্লাব, জাতীয় দল এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে প্রায় সব বড় অর্জনই তার ঝুলিতে। তাই এখন তিনি যা পাচ্ছেন, সবকিছুকেই দেখছেন বাড়তি প্রাপ্তি হিসেবে।

 

 

মেসির কথায়, ‘ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, ক্লাব, জাতীয় দল ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে সব গুরুত্বপূর্ণ অর্জন করার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। তাই এখন থেকে যা কিছু আসবে, সবই আমার কাছে বোনাস।’

 

 

গোল করছেন, আনন্দে ভাসছেন, আবার আবেগে কাঁদছেনও। কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর মেসির প্রাপ্তির খাতা প্রায় পূর্ণ। তবু তিনি মাঠে আছেন, লড়াই করছেন, নতুন ইতিহাস লিখছেন। আর সেই কারণেই ফুটবল বিশ্বের চোখ এখনো তার দিকেই।

 

 

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচগুলোর পর প্রকাশিত ফিফার অফিসিয়াল পাওয়ার র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে আর্জেন্টিনাকে ৩-০ গোলের জয় এনে দেওয়ার পর এই স্বীকৃতি পেয়েছেন বিশ্বকাপজয়ী তারকা। ফিফার তথ্যভিত্তিক পারফরম্যান্স সূচকে খেলোয়াড়দের অবদানকে আক্রমণ, সৃজনশীলতা ও রক্ষণ—এই তিনটি আলাদা বিভাগে মূল্যায়ন করা হয়। সেই সূচকে আক্রমণভাগে ১০-এর মধ্যে ৮.১৩ রেটিং পেয়ে সবার ওপরে অবস্থান করছেন মেসি।

শ্রী রামচন্দ্রের অবমাননার প্রতিবাদে বেলকুচিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের চিত্রপটে জুতা নিক্ষেপ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ অপপ্রচারের প্রতিবাদে সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) সকালে বেলকুচি উপজেলার এনায়েতপুর-সয়দাবাদ আঞ্চলিক সড়কের সদর হাসপাতাল গেট সংলগ্ন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ বেলকুচি উপজেলা শাখার উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ বেলকুচি উপজেলা শাখার সভাপতি বৈদ্যনাথ রায়ের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ডা: অমৃত নারায়ণ দে’র পরিচালনায় প্রতিবাদ কমসূচিতে উপস্থিত ছিলেন দৌলতপুর ইউনিয়ন শাখার সভাপতি নারায়ণ মালাকার, পৌর শাখার সভাপতি পলাশ কুমার সাহা, সাধারণ সম্পাদক পাপ্পু সাহা, সিনিয়র সহ-সভাপতি নয়ন কুমার ঘোষ, সদস্য সুদ্বীপ পোদ্দার, কৃষ্ণ কুমার ঘোষ, সুজয় কুমার ঘোষ, নন্দ রাজবংশী, প্রধান বক্তা ফারিয়ার সাধারণ সম্পাদক নিপেন্দ্র নাথ মন্ডলসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শ্রীরামচন্দ্রের চিত্রপট অবমাননা ও অনলাইনে অপপ্রচারের ঘটনা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। তারা এই ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান। একইসঙ্গে বক্তারা দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আহ্বান জানান। মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয় যা বেলকুচির প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

রাফিনহাকে ঘিরে উদ্বেগ, বদলি নেওয়ার সুযোগ আছে কি ব্রাজিলের?

হাইতির বিপক্ষে আজ ফিলাডেলফিয়ায় ৪০ মিনিটে মাঠ ছেড়ে চলে যান রাফিনিয়া। চিকিৎসকেরা যখন তাকে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন চোখের পানি মুছছিলেন ব্রাজিলের এই তারকা ফরোয়ার্ড। তাতে করে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে।

 

 

ডাগআউটে ফিরেই রাফিনহা দলের ডাক্তার রদ্রিগো লাসমারের সঙ্গে কথা বলেন। তারকা ফরোয়ার্ডকে সান্ত্বনা দেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। আর যখন ডান ঊরুতে রাফিনিয়া হাত রেখেছেন, তখন কোচের দুশ্চিন্তা অনেক বেড়ে যায়। কারণ, এখন তার (রাফিনহা) বিশ্বকাপ থেকেই ছিটকে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদি এই আশঙ্কা সত্যি হয়, তাহলে বিকল্প খেলোয়াড় নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (সিবিএফ)। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী বিকল্প খেলোয়াড় নেওয়ার সময়সীমা শেষ হয়েছে ১২ জুন।

 

 

এমনকি টুর্নামেন্টে প্রথম ম্যাচ খেলার ২৪ ঘণ্টা আগেও ব্রাজিল নতুন কাউকে দলে নিতে পারত। যেখানে গত ১৪ জুন বাংলাদেশ সময় ভোরে মরক্কোর মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল। এখন আর সেই সুযোগ পাচ্ছে না সেলেসাওরা। এক কথায় প্রথম রাউন্ড শেষ হওয়ার পর কোনো দলকেই টুর্নামেন্টের বাকি অংশের জন্য তাদের দলে আর কোনো পরিবর্তন আনার অনুমতি দেয় না।

বিশ্বকাপে গোলরক্ষকদের বেলায় ব্যতিক্রম রয়েছে। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি দলের ম্যাচের জন্য তিন গোলরক্ষক থাকতে হবে। কোনো গোলরক্ষক চোটের কারণে ছিটকে গেলে তার পরিবর্তে নতুন গোলরক্ষক নেওয়া সম্ভব। তা না হলে দলটি বিশ্বকাপের বাকি সময় একজন খেলোয়াড় কম নিয়েই খেলতে হবে।

এ বছরের মার্চে ফ্রান্সের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়েছিলেন রাফিনিয়া। আজ হাইতির বিপক্ষে ফের ডান পায়ে চোট পাওয়ায় বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। রাফিনিয়ার বিপক্ষে ৪০ মিনিটে রায়ানকে মাঠে নামান আনচেলত্তি। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের সহজ জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে ব্রাজিল। মাথিয়াস কুনিয়া করেছেন জোড়া গোল। অপর গোল করেছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।

হাইতির বিপক্ষে ৩-০ গোলে জয়ের পর ‘সি’ গ্রুপের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে এখন ব্রাজিল। দুই ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৪। মরক্কোর পয়েন্ট ৪ হলেও গোল ব্যবধানের কারণে দলটি দুইয়ে। ১৪ জুন নিউজার্সিতে ব্রাজিল-মরক্কো ম্যাচ গোলশূন্য ড্র হয়েছিল। তিন পয়েন্ট নিয়ে তিনে স্কটল্যান্ড। আর দুই ম্যাচের দুটিতে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল হাইতি।

বিয়ে নয়, হচ্ছিল ‘আংটি বদল’! চিনিকল এমডির ছেলের বাল্যবিয়ে ঠেকাল প্রশাসন

জয়পুরহাট চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) ছেলের সঙ্গে একই প্রতিষ্ঠানের আরেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার স্কুলপড়ুয়া মেয়ের বিয়ের সব প্রস্তুতিই ছিল সম্পন্ন। স্থান খোদ চিনিকল চত্বর! তবে গোপন এই আয়োজনের খবর পৌঁছে যায় স্থানীয় প্রশাসনের কানে। অবশেষে শুক্রবার দুপুরে আকস্মিক অভিযান চালিয়ে এই বাল্যবিয়ে পণ্ড করে দিয়েছে প্রশাসন।

 

​জানা গেছে, বর পেশায় একজন ইন্টার্ন চিকিৎসক এবং তিনি জয়পুরহাট চিনিকলের এমডি মোহাম্মদ খবির উদ্দিন মোল্যার ছেলে। কনে এবার এসএসসি পরীক্ষা দেবে, বয়স এখনো ১৮ পেরোয়নি। কনের বাবাও একই চিনিকলের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

 

​আইন অনুযায়ী বয়সের বাধা থাকলেও শুক্রবার দুপুরে চিনিকলের ভেতরেই বিয়ের এই গোপনীয় আসর বসেছিল। দাওয়াতি মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চিনিকলের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীও।

 

​বাল্যবিয়ের এই খবর পেয়ে কালক্ষেপণ না করে ঘটনাস্থলে ছুটে যান জয়পুরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরে আলম সিদ্দিকী। প্রশাসনের উপস্থিতিতে ভেস্তে যায় বিয়ের আয়োজন। পরে কনের বাবার কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা আদায় করা হয় যে, মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত কোনোভাবেই তাকে বিয়ে দেওয়া হবে না।

 

​তবে বিয়ের মূল আয়োজনের কথা অস্বীকার করেছে বর ও কনের পরিবার। একে নিছক আংটি পরানো’ বা আক্‌দ অনুষ্ঠান বলে দাবি করেছেন ছেলের বাবা ও চিনিকলের এমডি মোহাম্মদ খবির উদ্দিন মোল্যা।

 

​তিনি বলেন, আমার ছেলে এমবিবিএস পাস করেছে। চিনিকলের এক কর্মকর্তার মেয়েকে সে পছন্দ করেছে। কিন্তু মেয়ের বিয়ের বয়স এখনো হয়নি। যেহেতু আমাদের দুজনেরই বদলির চাকরি এবং যেকোনো সময় বদলি হতে পারে, তাই দুই পরিবারের সম্মতিতে কেবল আংটি পরানোর আয়োজন করা হয়েছিল।

 

​তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের লোকজন আসার পর মেয়ের বাবা মুচলেকা দিয়েছেন। আগামী বছর যদি আমরা এখানে থাকি, তবে মেয়ের বয়স পূর্ণ হওয়ার পর ধুমধাম করেই বিয়ের অনুষ্ঠান করব।

 

​এ বিষয়ে ইউএনও মাহমুদুল হাসান বলেন, গোপনে নাবালিকা মেয়ের বিয়ের আয়োজন চলছে- এমন তথ্যের ভিত্তিতে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, মেয়েটির বয়স এখনো ১৮ বছর পূর্ণ হয়নি। তাই কনের বাবার কাছ থেকে লিখিত অঙ্গীকারনামা নেওয়া হয়েছে। বাল্যবিয়ে রোধে প্রশাসন সবসময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

লেবাননে যুদ্ধবিরতি উপেক্ষা করে ইসরায়েলি হামলা, ১৬ জন নিহত

ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি ঘোষণার একদিন পরও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। এসব হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে লেবাননের বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা।

 

 

সংস্থাটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, দক্ষিণাঞ্চলের নাবাতিয়েহ জেলায় চলমান হামলার ঘটনায় উদ্ধারকর্মীরা ১৬ জনের মরদেহ এবং ১২ জন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। খবর দ্য টাইমস অফ ইসরায়েলের।

 

 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভোর থেকে বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার সদস্যরা নাবাতিয়েহ জেলায় উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। এলাকায় অব্যাহত হামলার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও হামলা অব্যাহত থাকায় অঞ্চলটিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। তবে হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ইসরায়েলি বাহিনীর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ব্রাজিল জেতায় মাথা ন্যাড়া করলেন আর্জেন্টিনা ভক্ত

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই সমর্থকদের আবেগ, উন্মাদনা আর নানা ব্যতিক্রমী কাণ্ড। সেই উন্মাদনারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জামালপুরের বকশীগঞ্জের এক আর্জেন্টিনা সমর্থক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া চ্যালেঞ্জ রক্ষা করতে ব্রাজিলের জয়ের পর মাথা ন্যাড়া করেছেন ফয়সাল আহমেদ জুম্মান।

 

 

 

ফয়সাল উপজেলার সদর ইউনিয়নের সাধুরপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে আর্জেন্টিনা দলের একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত।

 

 

 

 

শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে তিনি ঘোষণা দেন- হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে ব্রাজিল জয়ী হলে তিনি মাথা ন্যাড়া করে এলাকায় ঘুরবেন।

 

 

শনিবার (২০ জুন) সকালে অনুষ্ঠিত ম্যাচে হাইতিকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে ব্রাজিল। ম্যাচ শেষ হতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া নিজের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেন ফয়সাল। আর্জেন্টিনার জার্সি গায়েই সাধুরপাড়া এলাকায় তিনি মাথা ন্যাড়া করেন। এ সময় ঘটনাটি দেখতে ভিড় করেন স্থানীয় ফুটবলপ্রেমি ও কৌতূহলী মানুষজন।

 

মুহূর্তেই বিষয়টি এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। অনেকেই ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। পরে সেগুলো ব্যাপকভাবে শেয়ার হলে নেটিজেনদের মধ্যে দেখা দেয় নানা আলোচনা।

 

 

স্থানীয়দের মতে, বিশ্বকাপ ঘিরে সমর্থকদের মধ্যে এমন বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা ফুটবলপ্রেমেরই বহিঃপ্রকাশ। ফয়সালের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এলাকায় বেশ আনন্দ ও কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।

 

 

 

ফয়সাল আহমেদ জুম্মান বলেন, ‘খেলাধুলা বিনোদনের একটি বড় মাধ্যম। আমি মজা করেই এই চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলাম। ব্রাজিল জিতেছে, তাই কথা অনুযায়ী মাথা ন্যাড়া করেছি। প্রতিশ্রুতি দিলে তা রাখতে হয়।’

 

প্রথম দুই ম্যাচেই শঙ্কা, নিষেধাজ্ঞার মুখে ব্রাজিলের ৩ ফুটবলার

বিশ্বকাপের দুটি গ্রুপ ম্যাচ খেলা হয়ে গেছে ব্রাজিলের। দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে সেলেসাওরা। কিন্তু স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগে উদ্বেগ ব্রাজিলের ক্যাম্পে।

 

 

আগামী বুধবার স্কটিশদের সঙ্গে ড্র করলেই শীর্ষ দুইয়ে থাকা নিশ্চিত হবে ব্রাজিলের। আর জিতলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া প্রায় নিশ্চিত। কিন্তু এই ম্যাচে তিন খেলোয়াড়কে নিয়ে শঙ্কা থাকছে। আর একটি হলুদ কার্ড পেলে নিষেধাজ্ঞায় কপাল পুড়বে তাদের।

 

 

মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ ও হাইতির বিপক্ষে জয়ের পর ইবানেজ, কাসেমিরো ও ডগলাস সান্তোসের প্রত্যেকে একটি করে হলুদ কার্ড দেখেছেন। আরেকবার কার্ড পেলে নিষেধাজ্ঞার শাস্তি পেতে হবে তাদের।

বিশ্বকাপে ম্যাচের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ফিফা হলুদ কার্ড ও শাস্তির নিয়মে একটি বড় পরিবর্তন এনেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, খেলোয়াড়দের জমে থাকা হলুদ কার্ড এখন থেকে দুটি ধাপে মুছে ফেলা হবে। গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার পর যখন নকআউট পর্ব বা দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে, তখন আগের কার্ডগুলো বাতিল হয়ে যাবে। কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ শুরু হওয়ার আগেও খেলোয়াড়দের কার্ডের হিসাব আবার নতুন করে শুরু হবে।

তবে কোনো খেলোয়াড় যদি গ্রুপের শেষ ম্যাচে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পান, তবে প্রথম নকআউট রাউন্ডে নিষিদ্ধ থাকবেন তিনি।

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ছে, থাকছে একাধিক বাড়তি সুযোগ

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত নবম পে স্কেল আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোতে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেতে যাচ্ছেন ১১ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীরা। বিশেষ করে টিফিন ভাতা পাঁচ গুণ বাড়িয়ে ২০০ টাকা থেকে ১,০০০ টাকা করার প্রস্তাব প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

 

 

২০১৫ সালে অষ্টম পে স্কেল ঘোষণার পর এটিই হতে যাচ্ছে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। টিফিন ভাতা বৃদ্ধির খবরে সচিবালয় থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের কর্মচারীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে বলে জানা গেছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।

 

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে মাসিক ২০০ টাকার টিফিন ভাতা বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। গত এক দশকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় এ ভাতা বাড়ানোর সুপারিশ করে বেতন কমিশন। কর্মচারীদের দৈনন্দিন ব্যয় সামাল দিতে এ সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, টিফিন ভাতার সুবিধা মূলত ১১ থেকে ২০ গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য হবে।

নবম পে স্কেলে টিফিন ভাতার পাশাপাশি আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ, বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশে উন্নীত করা, শিক্ষা ভাতা ২ হাজার টাকা নির্ধারণ, সরকারি কর্মচারীদের জন্য স্বাস্থ্যবীমা চালু এবং প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য অতিরিক্ত ২ হাজার টাকা ভাতা প্রদান।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের সঙ্গে সমন্বয় করে ধাপে ধাপে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

তিন মাসে বিএনপির অর্জন, ১৫ বছরে হয়নি আ.লীগের: মির্জা ফখরুল

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে আপনাদের এলাকায় যত রাস্তাঘাট ও সেতু রয়েছে, ইনশাআল্লাহ, সব কাজ সম্পন্ন করা হবে। তিনি আরও বলেছেন, বিএনপি সরকারের গত তিন মাসে যা কাজ হয়েছে, তা আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরেও হয়নি।

 

 

শনিবার (২০ জুন) মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর গ্রামীণ বাজার উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নবনির্মিত আধুনিক মার্কেট ভবনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

মন্ত্রী বলেন, সরকার পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। গত তিন মাসে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা আওয়ামী লীগের ১৫ বছরেও হয়নি।

জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে বাস্তবায়িত দেশব্যাপী গ্রামীণ বাজার উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে ভবেরচর গ্রামীণ বাজারে ২০২৪ সালের ১ জুলাই নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রায় ২ কোটি ৩৫ লাখ ৮৬ হাজার ৪৮০ টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক মার্কেট ভবনটির কাজ বাস্তবায়ন করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), মুন্সীগঞ্জ। নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্বপ্না কনস্ট্রাকশন লিমিটেড।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন, সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন, জেলা প্রশাসক সৈয়দা নূরমহল আশরাফী, পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম এবং গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাফছা নাদিয়াসহ স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা।

 

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী গজারিয়া উপজেলার ব্র্যাক অফিস থেকে ইমামপুর ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত দুই হাজার মিটার সড়কের পুনর্বাসন ও উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ ছাড়া রসুলপুর বাজার এলাকায় ফুলদী নদীর ওপর প্রস্তাবিত সেতু নির্মাণস্থলও পরিদর্শন করেন।

জরাজীর্ণ বনবিভাগ অফিসে চারা উৎপাদনের জমিতে ধান চাষ, বসেছে মাদকসেবীদের আখড়া

সরকার যেখানে দেশজুড়ে বনায়ন ও পরিবেশ সুরক্ষায় জোর দিচ্ছে, সেখানে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলা পরিষদ এলাকায় অবস্থিত সরকারি বন বিভাগের নার্সারী ও অফিসটি এখন নিজেই অস্তিত্ব সংকটে। সরকারিভাবে এখানে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা উৎপাদন ও বিতরণের কথা থাকলেও, বাস্তবে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে চলছে ধান চাষ। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কার্যালয়টি এখন পরিণত হয়েছে এক জরাজীর্ণ ভূতূড়ে বাড়িতে, যা স্থানীয় অপরাধী ও মাদকসেবীদের নিরাপদ আস্তানায় রূপ নিয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত এই কার্যালয়টি সংস্কার করে বনায়নের উপযুক্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক।

 

 

সরেজমিনে পরিদর্শনে জানা যায়, ১৯৯০ সালে পাঁচবিবি উপজেলা পরিষদ এলাকায় প্রায় ১২ বিঘা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় ‘সামাজিক বনায়ন নার্সারী ও কেন্দ্র, জয়পুরহাট’ এবং ‘পাঁচবিবি সামাজিক বনায়ন ও বাগান’। নিয়ম অনুযায়ী এই বিশাল জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা উৎপাদন করে তা সাধারণ মানুষের মাঝে সরবরাহ করার কথা। কিন্তু বর্তমানে নামমাত্র কয়েক শতক জমিতে কিছু চারা দেখা গেলেও বাকি পুরো মাঠ জুড়েই চলছে ধান চাষ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কেন্দ্রের বাগান মালি মতিউর রহমান নিজেই সরকারি এই জমিতে ধান চাষ করছেন। অথচ নিয়ম মেনে এখানে চারা উৎপাদন করা হলে একদিকে যেমন স্থানীয়দের চাহিদা মিটত, অন্যদিকে সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পেত।

 

 

দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় কার্যালয়ের ছোট-বড় কয়েকটি ভবনের দরজা-জানালা ইতিমধ্যেই চুরি হয়ে গেছে। সম্পূর্ণ জনশূন্য ও জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকায় স্থানীয়দের কাছে এটি এখন এক ‘ভূতূড়ে বাড়ি’। এই সুযোগে সন্ধ্যা নামলেই এখানে বসছে মাদকসেবী ও বিভিন্ন অপরাধীদের আসর, যা পুরো এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

 

এ বিষয়ে তথ্য জানতে পাঁচবিবি বন বিভাগের অফিসে গিয়ে কোনো বন কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। তবে সেখানে দায়িত্বরত বাগান মালি কামরুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি স্বাভাবিকভাবেই নিজের ও অন্যের সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করেন এবং এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

 

 

পরবর্তীতে জয়পুরহাট জেলা বন কর্মকর্তা মুহিদ চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কেন্দ্রের এই নানাবিধ দৈন্যদশার কথা স্বীকার করেন এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

 

 

এলাকাবাসী ও পরিবেশবাদীদের দাবি, সরকারি সম্পদ এভাবে নষ্ট হতে দেওয়া যায় না। দ্রুত মাদকসেবীদের আস্তানা উচ্ছেদ করে এবং ধান চাষ বন্ধ করে এখানে পুনরায় চারা গাছ উৎপাদন শুরু করা হোক। এতে করে যেমন সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে, তেমনি এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্যও রক্ষা পাবে।

পরিত্যক্ত দোকানে ‘খালেদা জিয়া টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ’-এর সাইনবোর্ড!

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার কেশবপুর গ্রামে একটি দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত দোকানঘরের সামনে বাঁশের খুঁটিতে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে চকচকে একটি সাইনবোর্ড- ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কার্যালয’। অথচ সেখানে নেই কোনো শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষার্থী কিংবা শিক্ষা কার্যক্রমের ন্যূনতম অস্তিত্ব। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

 

 

​স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও অবকাঠামো ছাড়াই সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নাম ব্যবহার করে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। এর পেছনের মূল উদ্দেশ্য সরকারি খাস জমির দখল বজায় রাখা এবং ভবিষ্যতে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগকে কেন্দ্র করে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন বা ‘নিয়োগ বাণিজ্য’-এর সুযোগ তৈরি করা।

 

 

​সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রামের সড়কের পাশে জরাজীর্ণ একটি টিনশেড ঘরের সামনে টাঙানো সাইনবোর্ডটিতে প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাকাল হিসেবে ‘২০২৪ সাল’ উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি সাইনবোর্ডে ‘কার্যালয়’ বানানটিও ভুল লেখা রয়েছে (‘কার্যালয’)।

 

​স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, আগে কখনো ওই এলাকায় এই নামে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বের কথা তাঁরা শোনেননি। সাইনবোর্ডের পিছনের জরাজীর্ণ ঘরটি একসময় ওষুধ ও মুদিখানার দোকান ছিল, যা দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

 

 

​খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কেশবপুর গ্রামের বাসিন্দা পল্লী চিকিৎসক আব্দুল জলিল অনেক আগে নিজেকে ‘ভূমিহীন’ পরিচয় দিয়ে সরকারি খাস জমি বন্দোবস্ত (লিজ) নেন। তবে তিনি প্রকৃতপক্ষে ভূমিহীন নন এবং সম্প্রতি জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি খাস জমি হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়ে যায়। এরপর লিজ বাতিল হওয়া থেকে জমিটি বাঁচানোর জন্য তিনি একটি ফন্দি আঁটেন। তিনি ধুরইল বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেক লেবুর সঙ্গে যোগাযোগ করলে, লেবু তাঁকে ওই খাস জমিতে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করার বুদ্ধি দেন।

 

 

​শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার কোনো শর্তই পূরণ করা হয়নি এখানে। তার আগেই হঠাৎ করে গত শুক্রবার বিকেলে ওই পরিত্যক্ত দোকানের সামনে কলেজের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, সাইনবোর্ড টাঙানোর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপরই বিষয়টি টক অব দ্য ভিলেজে পরিণত হয়। স্থানীয়দের দাবি, মূল উদ্যোক্তা আব্দুল খালেক লেবুর বিরুদ্ধে আগেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিক বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর হঠাৎ করে বেগম খালেদা জিয়ার নাম ব্যবহার করে এই কলেজের সাইনবোর্ড টাঙানোর বিষয়টি সামনে এল।

 

 

​জমির বিষয়ে জানতে চাইলে পল্লী চিকিৎসক আব্দুল জলিল বলেন, “আমার নামে বন্দোবস্ত নেওয়া সরকারি খাস জমিটি কলেজের জন্য দেওয়ার চিন্তা রয়েছে।” তিনি দাবি করেন, ধুরইল বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেক লেবুই এই কলেজ প্রতিষ্ঠার মূল উদ্যোগ নিয়েছেন এবং তিনিই কলেজের অধ্যক্ষের পদে থেকে সমস্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

 

 

​তবে আব্দুল খালেক লেবু নিজেকে ‘অধ্যক্ষ’ নয়, ‘প্রতিষ্ঠাতা’ দাবি করে বলেন, “আব্দুল জলিল কিছু জমি দেবেন, আর কিছু জমি কেনা হবে। কলেজের জন্য মোট ৬০ শতক জমির পরিকল্পনা রয়েছে।” তবে এখনো কলেজের নামে কোনো জমি দান বা ক্রয় সম্পন্ন হয়নি বলে তিনি স্বীকার করেন।

 

 

​জমির বিনিময়ে কোনো ব্যক্তিগত সুবিধা দেওয়া হবে কি না- এমন প্রশ্নে তিনি স্বীকার করেন যে, আব্দুল জলিল তাঁর মেয়ের জন্য একটি চাকরি চেয়েছেন। পরবর্তীতে এই প্রতিবেদক চাকরিপ্রার্থীর মুঠোফোনে নিয়োগের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে আব্দুল খালেক লেবু কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান এবং সরাসরি দেখা করার পরামর্শ দেন।

​গত সোমবার পাঁচবিবি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেনের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার জহুরুল ইসলাম বলেন, “গত দুই বছরে এই উপজেলায় ওই নামে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার অনুমোদন বা তথ্য আমাদের দপ্তরে নেই। তবে কয়েক দিন ফেসবুকে সাইনবোর্ডের একটি ছবি আমি দেখেছি।”

 

 

​পাঁচবিবি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাশপিয়া তাসরিন (যিনি উপজেলা সহকারী কমিশনার-ভূমির অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন) জানান, দীর্ঘমেয়াদি সরকারি খাস জমি লিজ নিয়ে তা রক্তের সম্পর্ক ছাড়া অন্য কাউকে দলিল করে দেওয়া বা হস্তান্তর করার কোনো আইনি সুযোগ নেই।

 

 

​পাঁচবিবি উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম ডালিম এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আব্দুল খালেক লেবুর বিরুদ্ধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ আগে থেকেই রয়েছে। আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নাম ব্যবহার করে কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল বা দুর্নীতির চেষ্টা করলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছি।”

 

 

​এ প্রসঙ্গে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশে একটি বেসরকারি কারিগরি বা সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের সুনির্দিষ্ট আইনি নীতিমালা রয়েছে। প্রথমত, প্রতিষ্ঠানের নামে নিজস্ব ও দায়মুক্ত জমি (মফস্বলে সাধারণত ৫০-৬০ শতাংশ) রেজিস্ট্রি থাকতে হবে। সরকারি লিজ নেওয়া জমিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের কোনো সুযোগ নেই। দ্বিতীয়ত, যথাযথ পাকা অবকাঠামো, লাইব্রেরি, ল্যাব ও সংরক্ষিত তহবিল ব্যতিরেকে কোনো প্রতিষ্ঠান পাঠদানের প্রাথমিক অনুমতি বা স্বীকৃতি পায় না।

 

 

রাণীনগরে ধান সংগ্রহের তথ্য গোপন, কর্মকর্তাদের ভূমিকায় স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে সমালোচনা

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের তথ্য প্রকাশে অনিচ্ছার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ওবায়দুল ইসলাম ও ওসি এলএসডি তারানা আফরীনের বিরুদ্ধে। তথ্য দেওয়ার আগ্রহ দেখানোর পরও বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়েছেন খাদ্য কর্মকর্তা ওবায়দুল ইসলাম।
এই দুজনের পাশাপাশি নওগাঁর সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুল্লাহ আল ইমরানও কৃষকদের নাম-ঠিকানাকে ব্যক্তিগত তথ্য হিসেবে চিহ্নিত করে আইনি বাধ্যবাধকতার দোহাই দিয়েছেন। এর ফলে সরকারিভাবে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহ করছে। অনলাইন আবেদন, লটারি এবং কৃষি বিভাগের তালিকার ভিত্তিতে প্রকৃত কৃষক বাছাই করে এই কার্যক্রম পরিচালনার নিয়ম থাকলেও, কার্যক্রম শেষের দিকে পৌঁছেও রাণীনগরে নির্বাচিত কৃষকদের তালিকা প্রকাশ্যে আনা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। সংবাদকর্মীরা তালিকা চাইতে গেলেও তাদের ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, এ বছর উপজেলায় ৩৬ টাকা কেজি দরে ১ হাজার ৯৬৯ মেট্রিক টন ধান, ৪৯ টাকা কেজি দরে ২ হাজার ৭৯ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল এবং ৫১ টাকা কেজি দরে ৮১ মেট্রিক টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। গত ১২ মে এই কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয় এবং পরবর্তীতে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের বিষয়ে আলোচনাও হয়। তবে বাস্তবে খাদ্য বিভাগ থেকে কোনো তথ্য বা সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।
তথ্য জানতে চাওয়া হলে ওসি এলএসডি তারানা আফরীন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং তথ্য অধিকার আইনের আওতায় ফি জমা দেওয়ার শর্ত তুলে ধরেন। পরে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ওবায়দুল ইসলামের কাছে গেলে তিনি প্রথমে অসন্তোষজনক মন্তব্য করে এক সপ্তাহ পর আসতে বলেন। পরের সপ্তাহে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, জুন মাসের হিসাব সমাপ্তির আগে কোনো তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়। তথ্য দিতে সমস্যা কোথায়—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং চাহিদামতো তথ্য প্রস্তুত করতে সময় প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, ইচ্ছা থাকলেও সব কিছু করার স্বাধীনতা তার নেই।
খাদ্য নিয়ন্ত্রক দাবি করেছিলেন কৃষকদের তালিকা দেয়ালে টাঙানো হয়েছে, কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে এমন কোনো তালিকার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এলএসডি অফিসের কর্মীরাও তালিকার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে নওগাঁর সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুল্লাহ আল ইমরান মুঠোফোনে জানান, অনলাইনে আবেদন হলেও তা সবার কাছে দৃশ্যমান নয়। তিনি বলেন, তথ্য অধিকার আইনের আওতায় নির্দিষ্টভাবে সব তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়, কারণ এতে আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তিনি জানান, কতজন কৃষক ধান দিয়েছেন এবং কী পরিমাণ ধান সংগৃহীত হয়েছে—এই সাধারণ তথ্যই তারা দিতে পারবেন। কৃষকদের নাম-ঠিকানা প্রকাশ করা যাবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি ব্যক্তিগত তথ্যের আওতায় পড়ে বলে তথ্য অধিকার আইনেও তা প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
এ ঘটনায় সচেতন মহলের প্রশ্ন—সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছেই যদি কৃষকদের তথ্য প্রস্তুত না থাকে, তাহলে সংগ্রহ কার্যক্রম কীভাবে তদারকি হচ্ছে? স্থানীয়দের অভিমত, সরকারি খাদ্যশস্য সংগ্রহে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কৃষকদের তালিকা প্রকাশ ও প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ অপরিহার্য। তথ্য গোপন রাখার এই প্রবণতা অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ বাড়িয়ে দিতে পারে বলেও তাদের আশঙ্কা।

সৈয়দপুরে বিনামূল্যে চক্ষু ক্যাম্প, সেবা নিলেন ছয় শতাধিক রোগী

 নীলফামারীর সৈয়দপুরে দিনব্যাপী বিনামূল্যের চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পে ছয় শতাধিক রোগী সেবা গ্রহণ করেছেন। শনিবার শহরের সৈয়দপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ চক্ষু ক্যাম্পের আয়োজন করে আঞ্জুমানে গাউসিয়া আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত। এতে সহযোগিতা করে দিনাজপুর গাওসুল আযম বিএনএসবি আই হাসপাতাল।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, ক্যাম্পে আগত রোগীদের চোখ পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিনামূল্যে ওষুধ ও চশমা বিতরণ করা হয়। এ সময় শতাধিক রোগীকে ছানি অপারেশনের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়েছে।

 

 

 

সকালেই ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন আঞ্জুমানে গাউসিয়া আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের সভাপতি হাজী মো. তাসলিম আশরাফী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহীন আকতার, সহসভাপতি অ্যাডভোকেট এস এম ওবায়দুর রহমান, মাওলানা মোহাম্মদ আলী মিসবাহী, পারভেজ আলম গুড্ডু আশরাফী, নাদিম আশরাফী, খালিদ আযম আশরাফী, আসিফ আশরাফী, ইরফান আশরাফী, সৈয়দ আব্দুল্লাহ পাপ্পু বাখশি ও তৌসিফ রেজা আশরাফীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

 

 

গাওসুল আযম বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. রায়হান কবিরের নেতৃত্বে সাত সদস্যের চিকিৎসক দল রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন।

 

 

চক্ষু ক্যাম্পে নীলফামারী, সৈয়দপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ অংশ নেন। সেবা নিতে আসা কয়েকজন রোগী জানান, আর্থিক সংকট ও যাতায়াতজনিত কারণে অনেকেই নিয়মিত চোখের চিকিৎসা নিতে পারেন না। নিজ এলাকায় এ ধরনের বিনামূল্যের চিকিৎসা কার্যক্রম তাদের জন্য বড় সহায়তা হয়ে উঠেছে।

 

 

আয়োজকরা জানান, দরিদ্র, অসহায় ও প্রবীণ মানুষের দোরগোড়ায় চক্ষু চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। স্থানীয়রা এ মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।

 

 

‘আপনি কি সেই মাল’ নারীকে অশোভন মন্তব্য, ওসি এনামুলকে প্রত্যাহার

নারী বাদীকে ‘আপনি কি সেই মাল’ বলা বরগুনার পাথরঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. এনামুল হককে বর্তমান কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করে বরগুনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণে গড়িমসি, ভুক্তভোগীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং সরকারি নম্বরে যোগাযোগ না করার অভিযোগের মধ্যেই এ আদেশ জারি করা হয়েছে।

 

 

শনিবার (২০ জুন) বরগুনা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) ও পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) এফ. এম. ফয়সাল স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

 

 

আদেশে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জেলা কর্মরত নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মো. এনামুল হককে প্রশাসনিক কারণে তার বর্তমান কর্মস্থল পাথরঘাটা থানা থেকে প্রত্যাহারপূর্বক পুলিশ সুপারের কার্যালয়, বরগুনায় সংযুক্ত করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বরগুনা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পাথরঘাটা সার্কেল) মোহাম্মদ শাহেদ চৌধুরী বলেন, অফিস আদেশ অনুযায়ী ওসি মো. এনামুল হককে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এর আগে পাথরঘাটার এক নারী স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা করতে গিয়ে ওসির কাছে অপদস্ত হওয়ার অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, মামলা গ্রহণে টালবাহানা করা হয় এবং ন্যায়বিচার পেতে গিয়ে তিনি বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হন।

ওই নারীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওসি মোহাম্মদ এনাম তাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি কি সেই মাল? ইবলিস যেন কোথাকার’। এ ঘটনায় তিনি নিজেকে অপমানিত ও বিব্রত বোধ করেন। ওই সময় সাবেক পাথরঘাটা উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির নেত্রী মরিয়ম চৌধুরী জেবু উপস্থিত ছিলেন।

 

 

এ বিষয়ে মরিয়ম চৌধুরী জেবু বলেন, ‘আমার উপস্থিতিতে ওসি মামলার বাদীকে উদ্দেশ করে ‘আপনি কি সেই মাল?’ বলে মন্তব্য করেন।

 

 

এছাড়াও স্থানীয় সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ছিল— ওসি এনামুল হক সরকারি মোবাইল নম্বরে অধিকাংশ সময় ফোন রিসিভ করতেন না। জরুরি প্রয়োজনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে গিয়ে অনেকেই ভোগান্তির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

 

অন্যদিকে আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও একটি মামলা গ্রহণ না করা, নারী বাদীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা এবং এক নারীকে ফেরাউনের সঙ্গে তুলনা করার অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।

 

 

তবে ওসি মো. এনামুল হকের প্রত্যাহার ও সংযুক্তির বিষয়ে অফিস আদেশে নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে শুধুমাত্র ‘প্রশাসনিক কারণ’ দেখিয়ে তাকে বরগুনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

চিত্রনায়িকা ববির স্বামী আবুল বাশার গ্রেপ্তার

রাজধানীর গুলশানের একটি বাসায় বিশেষ কায়দায় তৈরি একটি গোপন সুড়ঙ্গ থেকে বহুরূপী প্রতারক মির্জা আবুল বাশার মামুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণাসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আবুল বাশার ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা ইয়ামিন হক ববির স্বামী।

 

 

শুক্রবার রাত ১২টার পর থেকে গুলশান-২ এর ২৮ নম্বর রোডে অবস্থিত আবুল বাশারের বাসা ঘিরে রাখে পুলিশ। পরে শনিবার সকালে বাসায় তল্লাশি চালিয়ে বাথরুমের পেছনে বিশেষভাবে নির্মিত একটি গোপন সুড়ঙ্গে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

 

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিএমপির গুলশান অঞ্চলের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) শাহ মোস্তফা তারিকুজ্জামান বলেন, ‘আবুল বাশারের বিরুদ্ধে অসংখ্য প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করেও বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে কয়েকদিন ধরে তাকে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল।’

তিনি জানান, সর্বশেষ তার বাসায় অবস্থানের তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর শুক্রবার রাতে বাসাটি ঘিরে ফেলে পুলিশ। শনিবার সকালে তল্লাশি চালিয়ে বাথরুমের পেছনে বিশেষ কায়দায় তৈরি একটি সুরঙ্গ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এসি শাহ মোস্তফা তারিকুজ্জামান আরও বলেন, ‘গুলশানসহ রাজধানীর বিভিন্ন থানায় আবুল বাশারের বিরুদ্ধে প্রতারণার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। গুলশান থানায় দায়ের করা একটি প্রতারণা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। শনিবারই তাকে আদালতে পাঠানো হবে।’

এর আগে গত বছরের অক্টোবরেও প্রতারক আবুল বাশারকে গ্রেপ্তার করেছিলো পুলিশ। তবে জামিনে মুক্তি পেয়ে আবারও প্রতারণায় সক্রিয় হয়ে উঠেছিলেন তিনি।

 

 

কে এই আবুল বাশার

পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইসলামাবাদের পশ্চিম আউলিয়াপুরের ফখরুল ইসলামের বড় ছেলে মির্জা আবুল বাশার ওরফে মামুন। স্থানীয়ভাবে খবর নিয়ে জানা যায়, মির্জা আবুল বাশার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত। শেখ হাসিনাসহ আওয়ামীলীগের অসংখ‍্য নেতাকর্মীদের সাথে তার গভীর সম্পর্ক ছিল। তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নামসর্বস্ত বিটিএল নামক একটি ভুয়া কোম্পানি খুলে দেশের বিভিন্ন জেলার ব‍্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে পালিয়ে যেতেন প্রতারক মির্জা আবুল বাশার। কাউকে জায়গা দিবেন, কাউকে চালের ডিলারশিপ দিবেন, কাউকে তেলের ডিলারশিপ দিবে এমন মিথ‍্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে নগদ টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়ে যান তিনি।

 

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মির্জা আবুল বাশারের প্রতারণা ফাঁদে পা দিয়েছেন সেনা সদস‍্য, পুলিশ সদস‍্য, সাংবাদিক ও অসংখ‍্য নিরীহ মানুষ। অসংখ‍্য মানুষ শেষ সম্বল গ্রামের জায়গা-জমি বিক্রি করে ভবিষ‍্যতের কথা চিন্তা করে নগদ টাকা তার হাতে তুলে দিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। রাজধানীর বাড্ডা, খিলক্ষেত, বনানী, ভাটারাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক প্রতারণার মামলা রয়েছে এই প্রতারক মির্জা আবুল বাশারের বিরুদ্ধে।

 

 

জানা যায়, আবুল বাশার বিটিএল গ্রুপ’ (BTL Group) নামের একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান। এই গ্রুপের বিরুদ্ধেও প্রতারণা ও অর্থ পরিশোধ না করার আরও অভিযোগ রয়েছে। গেল কোরবানির ঈদের আগে একটি এগ্রো খামার থেকে ৮টি গরু নিয়ে ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকার চেক দিলেও সেটি বাউন্স করে।

দীর্ঘ বিরতির পর ওটিটিতে ফিরছেন মিম

বিদ্যা সিনহা মিম প্রায় তিন বছরের বিরতি কাটিয়ে আবারও ওটিটি পর্দায় ফিরছেন। আগামী ২১ জুন ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে মুক্তি পেতে যাচ্ছে ওয়েব ফিল্ম ‘লাইফলাইন’। এতে তিনি অভিনয় করেছেন ‘অনন্যা’ চরিত্রে, যে চরিত্রের মাধ্যমে দর্শক দেখতে পাবেন সময়, সংগ্রাম এবং আত্মঅনুসন্ধানের এক ভিন্ন গল্প।

 

 

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মিম জানান, দীর্ঘদিন ওটিটি থেকে দূরে থাকার পেছনে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা ছিল না। তিনি বলেন, ‘ভালো গল্প ও শক্তিশালী চরিত্রের অপেক্ষায় ছিলাম। যখন গল্প ও চরিত্রের সঙ্গে নিজের সমন্বয় খুঁজে পেয়েছি, তখনই কাজটি করেছি।’এ সময়ের মধ্যে ‘দিগন্তে ফুলের আগুন’ সিনেমার কাজও শেষ করেছিলেন, যা সময়মতো মুক্তি পেলে বিরতির বিষয়টি এতটা আলোচনায় আসত না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

 

‘লাইফলাইন’ সম্পর্কে মিম বলেন, ‘নামটি শুনেই বোঝা যায়, এটা একটা লাইফের জার্নি। ফিল্মটির থিমেটিক পোস্টার যদি খেয়াল করেন, দেখবেন বালুঘড়ির মধ্যে অনন্যা চরিত্রটি বসে আছে। অর্থাৎ সে সময়ের মধ্যে আটকে আছে কিংবা এমন এক সময়ের মুখোমুখি, যা তাকে অতিক্রম করতে হবে। সে পারবে কি পারবে না, সেটাই গল্পের বড় প্রশ্ন।’

ট্রেলারে তাকে কাউকে খুঁজতে দেখা গেলেও সেই রহস্য এখনই ভাঙতে নারাজ অভিনেত্রী। তার ভাষ্য, ‘দর্শকদের জন্য এটিই বড় চমক, যা সিনেমা মুক্তির পরই জানা যাবে।’

এর আগে ‘মিশন হান্টডাউন’ সিরিজে স্বামীকে খুঁজতে বের হওয়া নীরা চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন মিম। তবে ‘লাইফলাইন’-এর গল্পের সঙ্গে সেই কাজের কোনো মিল নেই বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি। বরং নতুন এই ওয়েব ফিল্মে দর্শক সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিজ্ঞতা পাবেন বলেই বিশ্বাস তার।

শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা নিয়েও কথা বলেন মিম। তিনি জানান, কুয়াকাটার ভেতরের একটি দুর্গম চর এলাকায় শুটিং হয়েছে, যেখানে পৌঁছাতে মোটরসাইকেলই ছিল প্রধান ভরসা। সরু ও উঁচুনিচু পথ, প্রচণ্ড গরম এবং প্রতিকূল পরিবেশে কাজ করতে গিয়ে বেশ কষ্ট হলেও দৃশ্য ভালো হলে সেই ক্লান্তি দূর হয়ে যেত।

 

 

এদিকে ‘লাইফলাইন’-এর ট্রেলার ও একটি গান প্রকাশের পর দর্শকদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী। তার দাবি, অনেকেই কাজটিকে ‘পরাণ’-এর পর তার আরেকটি ব্যতিক্রমী ও চমকপ্রদ কাজ হিসেবে দেখছেন।

 

 

অন্যদিকে, সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ‘মালিক’ সিনেমা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে মিম বলেন, ‘একটি সিনেমা নিয়ে সমালোচনা থাকতেই পারে এবং গঠনমূলক সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবেই দেখছি। দর্শকের প্রশংসা ও সমালোচনা দুটোকেই সমান গুরুত্ব দিচ্ছি।’ সব মিলিয়ে ‘মালিক’-এর সাড়া নিয়ে সন্তুষ্ট অভিনেত্রী।

 

 

‘মালিক ২’-এর ঘোষণা এলেও এ বিষয়ে এখনো নির্মাতার সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি বলে জানান মিম। তবে ভবিষ্যৎ কাজ নিয়ে আশাবাদী এই অভিনেত্রী। তিনি জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে দুটি কাজ শেষ করেছেন এবং আরও কয়েকটি নতুন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে শিগগিরই নিয়মিতভাবে তাকে নতুন নতুন কাজে দেখতে পাবেন দর্শক।

মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইনে সচেতনতা বাড়াতে পাড়া-মহল্লায় বিএনপি নেতা বাচ্চুর মতবিনিময়

ছাত্র-ছাত্রী ও যুবকদের মাদকাসক্তির ক্ষতি সম্পর্কে সচেতন করতে সিরাজগঞ্জের স্কুল কলেজসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি পৌরএলাকার বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইনের প্রচার ও জনসচেতনতা বাড়াতে মতবিনিময় সভা করছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু।

 

 

 

তার ব্যক্তি উদ্যোগে এ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ তাদের অভিভাবকদের মধ্যে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং একটি মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে শুক্রবার (১৯জুন) রাতে সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার ৫নং ওয়ার্ডের জুবলী বাগানে ও ৬নং ওয়ার্ডের শাহেদ নগর বেপারী পাড়া মহল্লায় বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের সাথে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা করেন।

 

 

 

মাদকের ভয়াবহতা, এর সামাজিক ও পারিবারিক ক্ষতিকর প্রভাব এবং মাদক থেকে দূরে থাকার গুরুত্ব তুলে ধরে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, আমাদের সমাজের যুবকরাই আগামীদিনের চালিকা শক্তি। তারাই পারে সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে। মাদকের প্রভাবে পরিবারের নারীরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এজন্য নারীরাসহ সমাজের সকল শ্রেনীর মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। মাদকের ভয়াবহতা রোধ করতে শিক্ষক, শিক্ষিকা, ছাত্রছাত্রী ও তাদের অভিভাবকদের এই মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে এবং সবাইকে একসাথে আওয়াজ তুলতে হবে, মাদককে না বলতে হবে।

 

 

শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও মাদকবিরোধী সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান। সাইদুর রহমান বাচ্চুর এধরনের মাদকবিরোধী উদ্যোগকে সমাজের সচেতন মহলসহ সকল শ্রেনীর মানুষ স্বাগতম জানিয়েছেন।

 

 

 

এসময় তিনি সিরাজগঞ্জের কৃতি সন্তান বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য,বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সুস্থতা কামনা করে সকলের কাছে দোয়া চান।

 

আমরা এ দেশের ভূমিপুত্র, অধিকার নিয়ে বাঁচতে চাই: হিন্দু নেতৃবৃন্দ

শ্রী রামচন্দ্রের প্রতি অবমাননা ও গাইবান্ধাসহ সারাদেশে মন্দির গুড়িয়ে দেওয়ার হুমকির প্রতিবাদে সিরাজগঞ্জে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।

 

 

 

শনিবার (২০ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শহরের মুজিব সড়কস্থ মহাপ্রভুর আখড়ার সামনে দেড় ঘণ্টাব্যাপী মানবন্ধনে বক্তারা বলেন, গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে নিজের জায়গায় আমাদের সনাতনী সম্প্রদায়ের অর্থায়নে রামের মুর্তি গড়া হচ্ছে। সেটা গুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি, এটা কেমন স্বাধীন দেশ। প্রভু শ্রী রামের প্রতি প্রকাশ্যে অবমাননা করা হলো। এখন পর্যন্ত তাদের কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। আমরা এ দেশের ভূমিপূত্র। এখানে আমরা অধিকার নিয়ে বাচতে চাই।

 

 

 

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে যখন মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়, হিন্দু বৌদ্ধ মুসলিম খ্রীষ্টান সকল সম্প্রদায়ের মানুষ জীবনকে তুচ্ছ করে অস্ত্র ধরেছিল। স্বাধীন পতাকা ছিনিয়ে এনেছিল। তখন কথা ছিল এই দেশের মানুষ সকল সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করবে।

 

 

 

স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের সকল আন্দোলনে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ অংশ নিয়েছে, জীবন দিয়েছে। আমরা কি পেয়েছি, ডক্টর ইউনুস রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশের মাটিতে ৫৮ জন সনাতনী ভাই-বোনদের নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। এখন পর্যন্ত সেই হত্যাকান্ডের বিচারের ব্যবস্থা হয়নি।

 

 

 

আওয়ামী লীগ ১৮ বছর রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে অনেক ঘটনা ঘটিয়েছে। একটি ঘটনারও বিচার হয়নি। সুতরাং আমরা বলতে চাই, আমরা আর কাঁদতে চাই না. অধিকার নিয়ে বাঁচতে চাই।

 

 

 

পুজা উদযাপন পরিষদ ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ভিপি অমর কৃষ্ণ দাস, পুজার উদযাপন পরিষদের সভাপতি সন্তোষ কুমার কানু, সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সাহা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মানিক সাহা, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নরেশ ভৌমিক, অ্যাড. রনজিত কুমার মন্ডল, অ্যাডভোকেট কল্যান সাহা, সাংবাদিক হীরক গুণ, সাংবাদিক অশোক ব্যানার্জি, বাসদ নেতা পলাশ ঘোষ প্রমূখ।

 

সিরাজগঞ্জকে রেলবঞ্চিত করা হলে মহাসড়ক-রেলসড়ক অবরোধের হুঁশিয়ারি

রেলের শহরকে সিরাজগঞ্জকে রেল বঞ্চিত করা হলে সেটা মেনে নেওয়া হবে না। সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথ আমাদের ২০ বছরের আন্দোলনের ফসল। সুতরাং সিরাজগঞ্জ শহরকে যদি রেল বঞ্চিত করা হয় তাহলে সিরাজগঞ্জবাসী কিন্তু আন্দোলন জানে, রেলের দাবীতে প্রয়োজন হলে কড্ডার মোড়ে অবরোধ করা হবে, বিশ্বরোড, রেলপথ অবরোধ করে বসে থাকবো।

 

 

 

শনিবার (২০ জুন) সকাল ১১টার দিকে সিরাজগঞ্জ শহরের বাজার স্টেশন এলাকায় সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথে রায়পুর জংশন স্থাপনের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা এসব কথা বলেন।

 

 

 

বক্তারা আরও বলেন, এক সময় সিরাজগঞ্জ রেলের শহর হিসেবে পরিচিত ছিল। অথচ আজও জেলার মানুষ কাঙ্ক্ষিত রেল যোগাযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাদের দাবি, সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথের নকশা অনুযায়ী কালিয়াহরিপুর হয়ে চান্দাইকোনা পর্যন্ত সংযোগ রেখে মাত্র দুই কিলোমিটার রায়পুরের ভেতর দিয়ে জংশন স্থাপন করা হলে জেলার মানুষের বহুদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে।

 

 

 

সিরাজগঞ্জ রেল বাঁচাও আন্দোলন কমিটি আয়োজিত ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দসহ শহরের বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

 

 

 

সিরাজগঞ্জ রেল বাঁচাও আন্দোলন কমিটির সভাপতি মাহবুব-এ খোদা টুটুলের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব তারিকুজ্জামান টরিকের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট সাইদুর রহমান বাচ্চু, জেলা বাসদের আহ্বায়ক নব কুমার কর্মকার, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের বাংলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক লায়লা ফেরদৌস হিমেল, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সেলিম, সংস্কৃতিকর্মী পরিচালক আব্দুস সালাম মামুন, নাট্যকর্মী ফরিদুল ইসলাম সোহাগ, ডা. সাইফুল ইসলাম ও সঞ্জয় গৌর।

 

 

 

মানববন্ধন শেষে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়।

 

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফরে গুরুত্ব পাচ্ছে যেসব বিষয়

সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো আগামীকাল রোববার (২১ জুন) মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়া সফর দিয়ে শুরু হচ্ছে তার ৬ দিনের সরকারি সফর। বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর এটি। এরপর সেখান থেকে সরকারি সফরের অংশ হিসেবে চীনে যাবেন তারেক রহমান। মূলত চীন সফরকে অত্যধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

 

 

প্রধানমন্ত্রীর একাধিক উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী মনে করছেন, মালয়েশিয়া ও চীন সফরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতির নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। ২১-২২ জুন মালয়েশিয়া এবং এরপর ২৩-২৬ জুন চীন সফরের পরিকল্পনা রয়েছে। মূলত গত প্রায় দেড় যুগ বাংলাদেশ একটি বিশেষ দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছিল।

 

 

 

সরকারের উচ্চপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সরকার গঠনের পর প্রায় চার মাসের মাথায় প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম অর্থনৈতিক পরাশক্তি মালয়েশিয়াকে বেছে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার পরবর্তী গন্তব্য বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক পরাশক্তি চীন। মালয়েশিয়া এবং চীন— এ দুই দেশে ছয় দিন ব্যস্ত সময় পার করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামীকাল রোববার দুপুরে একটি ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। সোমবার দিনভর সেখানে ব্যস্ত সময় পার করে ২২ জুন রাতেই তার চীনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেওয়ার কথা রয়েছে।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাংলাদেশের স্বার্থের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত এই দুটি দেশ সফরে স্বাক্ষর হতে পারে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)। এর মধ্যে কুয়ালালামপুরে জনশক্তি রপ্তানিসহ তিনটি এবং বেইজিংয়ে ১০টি এমওইউ স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিং সফরে অবকাঠামো, জ্বালানি, শিল্প পার্ক, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও অর্থায়নের মতো বিষয় প্রাধান্য পাচ্ছে। এসবের বাইরেও বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে মালয়েশিয়ায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ করপোরেট বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি চীনে অবকাঠামো ও শিল্প খাতের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক হতে পারে।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২২ জুন বিকেলে মালয়েশিয়া সফর শেষে সরাসরি চীনের একটি উপকূলীয় বন্দরনগরী দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে ২৩ জুন বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে তার বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। পরে জলবায়ু এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পুনর্গঠন বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের আলোচনায় অংশ নেবেন তিনি। ২৪ জুন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ১৭তম বার্ষিক সভায় অংশগ্রহণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বিশ্ব অর্থনীতি, বিনিয়োগ প্রবাহ, সবুজ অর্থনীতি এবং জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যু প্রাধান্য পাবে। একই দিনে অবকাঠামো ও শিল্প খাতের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে। চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশন, চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন এবং চায়না মেশিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে রেলপথ, সেতু, বিদ্যুৎ এবং শিল্পায়ন প্রকল্পে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হবে ২৬ জুন। ওই দিন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বসবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম দুটি সফরের দেশ নির্বাচনই স্পষ্ট করে দেয় যে, বর্তমান সরকার তার বৈদেশিক নীতিতে এক বড় ধরনের ভারসাম্য আনতে যাচ্ছে। বেইজিং সফরকালে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে।

 

 

 

জানা গেছে, চীন সফর সফলভাবে সমাপ্ত করার পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিবেশী ভারত সফরে যেতে পারেন। এরপর জাপান কিংবা তুরস্ক অথবা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ মিত্র দেশে দ্বিপক্ষীয় সফরে অংশ নেবেন। বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিং সফরের ঠিক পরপরই নয়াদিল্লি বা ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করার কৌশলটিই মূলত একটি বার্তা।

 

 

 

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর প্রসঙ্গে রাজনীতি বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান কালবেলাকে বলেন, রাষ্ট্রের স্বার্থ, রাজনৈতিক সুবিধা ও দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো ওয়ার্কআউট করার পর সরকারপ্রধান নির্ধারণ করেন কোন দেশে আগে যাবেন—এটা স্বাভাবিক। কিন্তু এর প্রভাব অন্য কোনো দেশের ওপর পড়ার কথা নয়। প্রত্যেক দেশই জাতীয় স্বার্থনীতি আগে ঠিক করে, এরপর অন্য দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করে। এখনই গেলে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্টতার নিশ্চয়তা পাওয়া যাবে, সে জন্য প্রথম মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর সেখান থেকে চীন যাবেন, এটাও দ্বিপক্ষীয় সফর। এই সফরের সঙ্গে ভূ-রাজনৈতিক কোনো সম্পর্ক আছে বলে মনে করছি না। এটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এরপর বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে অন্য দেশের আলাপ-আলোচনা হবে, চুক্তি স্বাক্ষরসহ প্রধানমন্ত্রী সফরে গেলে অন্যান্য কাজ সফলভাবে শেষ করা যাবে— সে দেশেই তিনি যাবেন। এতে আমেরিকা, ভারত, চীনের সঙ্গে সম্পর্কের প্রভাব পড়বে না, চিন্তার কিছু নেই।

সুত্র: দৈনিক কালবেলা

আর্জেন্টিনার একটি বিশাল পতাকা চুরি, থানায় অভিযোগ দায়ের

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের টাঙানো একটি বড় আকারের পতাকা চুরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এক সমর্থক। লিখিত অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্থানীয় পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আবুল খায়ের।

 

 

 

শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে সানন্দবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চর আমখাওয়া ইউনিয়নের সানন্দবাড়ী মধ্যপাড়া এলাকায়।

 

 

 

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে সানন্দবাড়ী মধ্যপাড়া গ্রামের ‘ভেরুসেল এক্সপ্রেস’ ক্লাবের সদস্যরা টাকা তুলে প্রায় ২০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬ ফুট প্রস্থের একটি আর্জেন্টিনার পতাকা তৈরি করেন। এটি নদীর পাশের একটি খুঁটির সঙ্গে টাঙানো হয়।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পতাকাটি চুরি হয়েছে বলে তারা জানতে পারেন। এরপর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও পতাকার কোনো সন্ধান মেলেনি। পরে শুক্রবার জুমার নামাজের পর ক্লাবের সদস্য টুটুল শিকদার বাদী হয়ে সানন্দবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

 

টুটুল সিকদার বলেন, ‘অনেক পরিশ্রম করে টাকা-পয়সা তুলে পতাকাটি আমরা বানিয়েছিলাম। এ ঘটনায় আমরা কষ্ট পেয়েছি। ক্লাবের সদস্যরা সবাই শিক্ষার্থী, নিজেদের টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে অথবা বাড়ি থেকে চেয়ে নিয়ে পতাকার জন্য টাকা দিয়েছিলেন। তাই এ ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের উপযুক্ত শাস্তি চান তারা।

 

 

ক্লাবটির অন্য সদস্য মামুন বলেন, ‘পতাকা কেউ পেলে তাকে আমরা পুরস্কার হিসেবে ১০ হাজার টাকা দিব।’

 

 

 

এ বিষয়ে সানন্দবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আবুল খায়ের বলেন, পতাকা চুরির বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

 

সোনারগাঁর রয়েল রিসোর্টে ঘটনার দিন কী হয়েছিল, জানালেন মামুনুল হক

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে রয়েল রিসোর্টের বহুল আলোচিত ‘৫০১ নম্বর কক্ষ’ ঘটনাকে ঘিরে দীর্ঘ ব্যাখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।

 

 

 

শনিবার (২০ জুন) নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্য ওই ঘটনা ঘটানো হয়েছিল। পাশাপাশি ঘটনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন তিনি।

 

 

 

ফেসবুক পোস্টে মামুনুল হক লেখেন, ৩রা এপ্রিল ২০২১। রাষ্ট্রীয় মবসন্ত্রাসের এক ঘৃণ্য কালো দিবস। সেদিন আমি আমার স্ত্রী জান্নাত আরা (ঝর্ণা)কে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের রয়েল রিসোর্টের ৫০১ নং কক্ষে অবস্থান করছিলাম। সেখানে পুলিশের নেতৃত্বে স্থানীয় আওয়ামী সন্ত্রাসী, সাংবাদিক লীগ ও ঘাদনিকের প্রায় শ খানেক সদস্য উপস্থিত হয়। রিসোর্টের রিসিপশন ডেস্ক থেকে ফোন করে আমাকে জানানো হয়, পুরো রিসোর্ট পুলিশ ঘেরাও করে ফেলেছে। আমি আমার কক্ষের দরজা খুলতেই তারা সবাই জোরপূর্বক আমার রুমে প্রবেশ করে। সময় টিভিসহ বেশ কয়েকটি চ্যানেলের সাংবাদিক এবং উপস্থিত প্রায় সকলেই তাদের ডিভাইসের মাধ্যমে একযোগে লাইভ প্রচার করতে থাকে। তারা নানা ভাবে আমাদেরকে হেনস্থা করে। আমার উপর চড়াও হয়। আমার স্ত্রীকেও টেনে ধরে হ্যাচারানোর উপক্রম করে।

তিনি আরও লেখেন, তাদের হিংস্রতা থেকে বাঁচানোর জন্য আমি আমার স্ত্রীকে ওয়াশরুমের দরজা খুলে সেখানে আটকে দেই। কিছুক্ষণের মধ্যে লেডি পুলিশের একটি টিম এসে উপস্থিত হয় এবং ওয়াশরুমে ঢুকে তারাও সেখান থেকে লাইভ সম্প্রচার করতে থাকে। উপর্যুপরি তাদের জিজ্ঞাসাবাদে আমি এবং আমার স্ত্রী আমরা উভয়েই স্পষ্ট ভাষায় আমাদের বৈবাহিক সম্পর্ক এবং আমরা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সেখানে অবস্থান করার বিষয়টি ব্যক্ত করি এবং সেটি সব সংবাদে একযোগে প্রচার হতে থাকে।

 

শুরুতেই পুলিশ কর্মকর্তা আমার হাত থেকে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে এডিশনাল এসপি আসার পর তিনি আমাদের তথ্য যাচাইয়ের জন্য ফোনে আমার পরিচিতজনদের সাথে কথা বলে আশ্বস্ত হয়ে আমাদেরকে নিরাপদে বাইরে নিয়ে আসতে চান। কিন্তু ততক্ষণে সেখানে উপস্থিত হন গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের একাধিক কর্মকর্তা। তারা আমাদের থানায় নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। আমরা তাদের সাথে রুম থেকে বের হয়ে লবিতে নেমে দেখি হুলস্থুল কান্ড। হাজার হাজার প্রতিবাদী মানুষ সেখানে ঢুকে পড়েছে। উপস্থিত পুলিশগুলো প্রাণ ভয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে তাদেরকে রক্ষা করার আবদার জানাতে থাকে। আমি পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে আমার মোবাইল ফেরত নিয়ে লাইভে কিছু বক্তব্য দেয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু দেখি প্রযুক্তির সাহায্যে আমার ফেসবুক আইডির লাইভ অপশন বন্ধ করে রাখা হয়েছে। তখন আমি বিক্ষুব্ধ জনতার সামনে গিয়ে তাদেরকে নিবৃত্ত করি এবং পুলিশদেরকে রক্ষা করার ব্যবস্থা করি।

 

 

জান্নাত আরার সঙ্গে বিয়ের প্রসঙ্গে মামুনুল হক বলেন, জান্নাত আরা ইতোপূর্বে আমার ঘনিষ্ঠ সহকর্মী হাফেজ শহিদুল ইসলামের স্ত্রী ছিল এবং আঃ রহমান জামি ও ওবায়দুর রহমান তামিম নামে তাদের দুজন সন্তান রয়েছে। বনিবনা না হওয়ায় তারা উভয়ে স্বেচ্ছায় বিচ্ছেদ ঘটায়। একটা সময় জান্নাত আরা স্বপ্রণোদিত হয়ে ফোনে আমার সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে এবং আমার সহযোগিতা কামনা করে। আমি তাকে আমার পরিবারের কথা বলে এই মর্মে প্রস্তাব দেই যে, সমতার ভিত্তিতে স্ত্রীদের যেই অধিকার দেওয়ার বাধ্যবাধকতা ইসলামে রয়েছে, আমি সেটা দিতে পারব না। এতে যদি সে সম্মত থাকে তাহলে আমি তাকে আমার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করব। সে স্বেচ্ছায় প্রস্তাবে সম্মতি জানালে আমি তার কাছ থেকে সুস্পষ্ট শব্দে বিবাহের ইজিন গ্রহণ করি এবং শরীয়তের বিধান মোতাবেক আমার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করি। উল্লেখ্য ফকীহগণ কুরআন সুন্নাহর দলিলের আলোকে সাব্যস্ত করেছেন যে, স্ত্রীর যে অধিকার স্বামীর উপর ওয়াজিব, তা স্ত্রী স্বেচ্ছায় ত্যাগ করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, বিবাহের পর আমি তাকে ঢাকা মোহাম্মদপুরস্থ কোরআন শিক্ষার কেন্দ্র নূরানী কোর্সে ভর্তি করিয়ে দেই এবং সে কোর্স সুসম্পন্ন করে। এভাবে কিছুদিন থাকার পর নিজ আগ্রহে সেলাই প্রশিক্ষণসহ মেয়েলি কিছু কার্যক্রমের প্রশিক্ষণের একটি প্রতিষ্ঠানে সে কাজ শিখতে থাকে। প্রথমদিকে ঢাকায় তার এক বোনের বাসায় অবস্থান করত এরপর স্বেচ্ছায় অন্য বাসায় সাবলেট হিসেবে বসবাস করা শুরু করে। আমি প্রয়োজন মত তার সাথে সাক্ষাৎ করতাম এবং সময় দিতাম।

 

স্কটল্যান্ড ম্যাচেই দলে ফিরতে পারেন নেইমার: আনচেলত্তি

দুই ম্যাচ ধরে যার জন্য অপেক্ষায় ব্রাজিল, একই সঙ্গে অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্বকাপও—সেই নেইমারের প্রত্যাবর্তনের ক্ষণ যেন অবশেষে ঘনিয়ে এসেছে। চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন ব্রাজিলের তারকা নম্বর দশ।

 

 

 

হাইতির বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় পাওয়ার পর নেইমারের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা নিয়ে কথা বলেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তিনি জানিয়েছেন, গ্রুপ পর্বে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ম্যাচেই দেখা যেতে পারে নেইমারকে।

 

 

 

ইতালিয়ান এই কোচ জানান, শনিবার এককভাবে অনুশীলন করবেন নেইমার। এরপর সোমবার থেকে দলের সঙ্গে পুরোপুরি যোগ দেবেন তিনি এবং স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য প্রস্তুত থাকবেন।

ডান পায়ের কাফের চোটে প্রায় এক মাস ধরে মাঠের বাইরে রয়েছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। ব্রাজিলিয়ান লিগে সান্তোসের হয়ে কোরিতিবার বিপক্ষে ম্যাচে এই চোটে পড়েন তিনি। এরপর থেকেই পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন নেইমার। সেই কারণে ফিলাডেলফিয়ায় হাইতির বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে যাওয়া দলেও ছিলেন না তিনি। দলের সঙ্গে সফরে না গিয়ে নিউ জার্সিতে ব্রাজিল দলের ক্যাম্পেই অবস্থান করেন।

 

হাইতি ম্যাচের আগে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন নেইমারের পুনর্বাসন কার্যক্রমের কিছু ছবিও প্রকাশ করে। সেখানে দেখা যায়, নিউ জার্সির দ্য রিজ হোটেল এবং কলাম্বিয়া পার্ক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে কঠোর পরিশ্রম করছেন তিনি। প্রতিদিন দুই ধাপে চলছে তার অনুশীলন। মাঠে ফিটনেস ও বলের কাজের পাশাপাশি বিকেলে জিমে বিশেষ সেশনও করছেন নেইমার। পুরো প্রক্রিয়ায় তার সঙ্গে রয়েছেন ফিটনেস কোচ ক্রিশ্চিয়ানো নুনেস এবং মিনো ফুলকো।

 

 

তবে তার প্রত্যাবর্তন নিয়ে কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে রাজি নয় ব্রাজিলের কোচিং স্টাফ। তাড়াহুড়া না করে শতভাগ সুস্থ অবস্থাতেই নেইমারকে মাঠে ফেরানোর পরিকল্পনা তাদের। এ কারণেই মরক্কো ও হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে তাকে খেলানো হয়নি।

 

 

 

চার পয়েন্ট নিয়ে বর্তমানে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে অবস্থান করছে ব্রাজিল। শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ড্র করলেও প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাবে তাদের পরের পর্বের টিকিট। আর সেই ম্যাচেই যদি নেইমার মাঠে নামেন, তাহলে ব্রাজিল সমর্থকদের দীর্ঘ প্রতীক্ষারও অবসান ঘটবে।

 

তিস্তা ব্যারেজ ও জলঢাকায় উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন

পানিসম্পদ উপদেষ্টা শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ উপদেষ্টা আসাদুল হাবিব দুলু এবং পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ নীলফামারীর তিস্তা ব্যারেজ  এলাকা ও জলঢাকা উপজেলায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো পরিদর্শন করেছেন।
পরিদর্শনকালে তাঁরা তিস্তা পাড়ের জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থায়ী ও পরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ এবং নদীর ড্রেজিং কার্যক্রমকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন। পরে তিস্তা অবসর হলরুমে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদারকরণ এবং নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এ সময় নীলফামারীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান, লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহঃ রাশেদুল হক প্রধানসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জন্ম থেকেই চলার শক্তি নেই, হুইলচেয়ারের আশায় দিন গুনছে কর্ন

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার ঘুড়কা উত্তর পাড়া গ্রামের ১০ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী শিশু কর্ন কুমার দাস জন্মের পর থেকেই পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াতে বা হাঁটতে পারে না। অন্য শিশুদের মতো স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করার সুযোগ তার হয়নি কখনো। হাতের ভর দিয়ে চলাচল করেই কাটছে তার প্রতিদিনের জীবন। দারিদ্র্য ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতার দ্বৈত কষ্ট নিয়ে বেড়ে উঠছে শিশুটি।
কর্ন কুমার দাসের বাবা শংকর চন্দ্র দাস পেশায় একজন সেলুন কর্মী। অল্প আয়ে সংসার চালাতে গিয়ে ছেলের চিকিৎসা কিংবা একটি হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করতে পারেননি তিনি। পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে বর্তমানে কর্ন তার দিদার কাছেই থাকছে। বয়সের ভারে ন্যুব্জ দিদা সাধ্যমতো তাকে লালন-পালন করলেও শিশুটির প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।
কর্নের বাবা শংকর চন্দ্র দাস জানান, “আমার ছেলে জন্মের পর থেকেই হাঁটতে পারে না। অনেক জায়গায় চিকিৎসা করিয়েছি, কিন্তু আর্থিক সমস্যার কারণে নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারিনি। আমি সেলুনের কাজ করে যা আয় করি, তা দিয়ে সংসার চালানোই কষ্টকর। একটি হুইলচেয়ার কিনে দেওয়ার সামর্থ্য আমার নেই। কেউ যদি আমার ছেলেটার জন্য একটি হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করে দিত, তাহলে সে অনেক সহজে চলাফেরা করতে পারত।”
স্থানীয়দের মতে, কর্ন অত্যন্ত শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের একটি শিশু। কিন্তু শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে তার চলাফেরা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। প্রতিদিন হাতের ভর দিয়ে চলতে গিয়ে তাকে নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হয়। একটি হুইলচেয়ার পেলে তার জীবনযাত্রার মান অনেকটাই উন্নত হবে।
বিষয়টি জানার পর রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম খান কর্নের জন্য একটি হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, “অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক দায়িত্ব। কর্নের বিষয়টি জেনেছি। তার জন্য একটি হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে।”
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ইলিয়াস হাসান শেখ বলেন, “কর্ন কুমার দাসের বিষয়ে খোঁজ-খবর নেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য যাচাই করে সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় তাকে সরকারি সহায়তা ও প্রতিবন্ধী ভাতার সুবিধার আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি হুইলচেয়ারের বিষয়েও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।”
সমাজসেবা কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের আশ্বাসে কর্নের পরিবার এবং স্থানীয়দের মধ্যে আশার আলো জেগেছে। তারা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় খুব শিগগিরই একটি হুইলচেয়ার পাবে শিশুটি।
এলাকাবাসী সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, মানবিক সংগঠন ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিও কর্ন কুমার দাসের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, একটি হুইলচেয়ারই বদলে দিতে পারে অসহায় এই শিশুটির জীবন। সামান্য সহায়তাই তাকে দিতে পারে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করার সুযোগ এবং নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন।

সৈয়দপুরে অসুস্থ চিল উদ্ধার, চিকিৎসা শেষে প্রকৃতিতে অবমুক্তের উদ্যোগ

নীলফামারীর সৈয়দপুরে একটি অসুস্থ চিল উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেতুবন্ধন যুব উন্নয়ন সংস্থা। পাখিটি সুস্থ হয়ে উঠলে প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
জানা গেছে, গত ১৮ জুন দুপুরে সৈয়দপুর উপজেলার বাঙালীপুর মন্ডলপাড়া এলাকার বাসিন্দা মতিন মন্ডল একটি অসুস্থ চিল দেখতে পান। পরে তিনি পাখিটিকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে রাখেন এবং বিষয়টি সেতুবন্ধন যুব উন্নয়ন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. আলমগীর হোসেনকে অবহিত করেন।
খবর পেয়ে সংগঠনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পাখিটিকে নিজেদের তত্ত্বাবধানে নেন। পরে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য চিলটিকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা পাখিটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও পরামর্শ প্রদান করেন।
এ সময় সেতুবন্ধন যুব উন্নয়ন সংস্থার সদস্য আহসান হাবীব জনি, ফারুক ও রানা উপস্থিত ছিলেন।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, পাখিটির সার্বিক পরিচর্যা ও চিকিৎসা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উড়তে সক্ষম হলে চিলটিকে তার স্বাভাবিক আবাসস্থলে অবমুক্ত করা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, বন্যপ্রাণী রক্ষায় সাধারণ মানুষের এমন মানবিক উদ্যোগ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এবং অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করবে।

রাণীনগরে ডাকাতির সময় ৩ ডাকাত গ্রেফতার

নওগাঁর রাণীনগর-আত্রাই আঞ্চলিক মহাসড়কের গোনা মোড় নামক স্থানে ডাকাতি করার সময় তিন ডাকাতকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, নওগাঁ সদর উপজেলার উত্তর সর্দারপাড়া গ্রামের  সেন্টু হোসেনের ছেলে  ফয়সাল হোসেন (২১), বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার ছাতিয়ান গ্রামের  ফিরোজ মন্ডলের ছেলে মোঃ সানা মন্ডল (২২) এবং একই গ্রামের মসিদুল ইসলামের ছেলে  রাব্বি হাসান (১৯)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাণীনগর-আত্রাইগামী আঞ্চলিক মহাসড়কের গোনা মোড় এলাকায় একটি মোটরসাইকেলে ডাকাতির সময় তাদের আটক করা হয়। পরে তাদের থানায় নিয়ে এসে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিক ভাবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জানাগেছে।

রাণীনগর থানার ওসি জাকারিয়া মন্ডল জানান, গ্রেফতার তিন ডাকাতের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

‎আবারো সিরাজগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নবগঠিত সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা শাখার উদ্যোগে ঝটিকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 


‎শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় নবগঠিত কমিটির সভাপতি রেজাউল করিম রাব্বী ও সাধারণ সম্পাদক রাসেল শেখ আলীর এর নেতৃত্বে রতনকান্দি ইউনিয়নের পিপুলবাড়িয়া এলাকায় এই ঝটিকা মিছিল বের হয়। এসময় সদর উপজেলা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

‎এ নিয়ে সিরাজগঞ্জের টানা তৃতীয় দিন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল হয়েছে।

 

 

 

হিলিতে পুলিশের বিশেষ অভিযান, ৯ জন গ্রেপ্তার

দিনাজপুরের হাকিমপুর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২২ পিচ টাপেন্ডাডল ট্যাবলেট সহ ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৩ জনের ৬ মাসের সাজা ডাকাতির প্রস্তুতিকালে মামলায় ২ জন ও ওয়ারেন্ট ভূক্ত পলাতক ৩ জন এবং নিয়মিত মামলায় একজন সহ ৯ জন আসামীকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতভর পুলিশ থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামীদের গ্রেফতার করে। পরে ওই দিন রাত সাড়ে দশটার দিকে থানায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার জর্জ মিত্র চাকমার উপস্থিততে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তিন জনের ৬ মাসের সাজা প্রদান ও এক জনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রদান করা হয়।
আজ শুক্রবার দুপুরে গ্রেফতার আসামীদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোঃ জাকির হোসেন।
গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলেন, হাকিমপুর পৌর শহরের বড় ডাঙ্গাপাড়া এলাকার মৃত হাসেন আলীর ছেলে মীর শহিদ (৩২), বেলাল হোসেনের শাকিল(২৮), তকলিম উদ্দিনের ছেলে নাসির (২৮) ও সাখাওয়াত হোসেনের ছেলে মোহন (২০)। এছাড়াও  পৌর শহরের সিপি রোড ধরন্দা এলাকার গিয়াস উদ্দিন শেখ এর ছেলে অন্তর রাজা (২৯) ও একই এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে কোরবান আলী (হৃদয়) (২৯), দঃ বাসুদেবপুর এলাকার মৃত ছাবের প্রামাণিকের ছেলে সালাম প্রামাণিক (৪৪) মধ্যে বাসুদেবপুর এলাকার হারুন হাসান বাবুর ছেলে মোনারুল হাসান শান্ত (২৯) ও থানার নয়ানগর গ্রামের মৃত বাবুল হোসেনের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৩০)।
হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোঃ জাকির হোসেন জানান, মাদক মুক্ত করতে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ এবং  ওয়ারেন্ট ভূক্ত পলাতক আসামি গ্রেফতারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানা পুলিশের একটি চৌকস দল বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামীদের গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে। ওই দিন রাতে থানায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার জর্জ মিত্র চাকমার উপস্থিততে ভ্রাম্যমাণ আদালতে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মীর শহীদ বিরুদ্ধে মামলা দায়ের এবং মাদক সেবনের অপরাধে শাকিল, নাসির ও মোহনকে ৬ মাসের সাজা প্রদান করা হয়।
হাকিমপুর থানায় দায়েরকৃত ডাকাতি প্রস্তুতিকালে মামলায় অন্তর রাজা ও কোরবান আলী হৃদয়কে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়াও জি আর মামলায় ওয়ারেন্ট ভূক্ত আসামি সালাম প্রামাণিক, মোনারুল ইসলাম শান্ত ও রফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশের আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ দুপুরে গ্রেফতারকৃত আসামীদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

দুই শিক্ষার্থী নিয়ে ক্লাস, মাসিক ব্যয় ৩ লাখ!

সরকারি নথিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১১০, কর্মরত রয়েছেন আটজন শিক্ষক ও একজন অফিস সহকারী। প্রতি মাসে বেতন-ভাতাসহ ব্যয় হয় প্রায় তিন লাখ টাকা।

 

 

অথচ বাস্তবে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত পাওয়া গেছে মাত্র দুজন শিক্ষার্থী। এমন চিত্র দেখা গেছে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার নাজিমখান ইউনিয়নের তালতলায় অবস্থিত বিদ্যানন্দ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে।

 

 

ঈদের ছুটির আগে টানা দুই দিন সরেজমিনে গিয়ে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়। সেখানে দেখা যায়, একটি সরকারি স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলেও শ্রেণিকক্ষ প্রায় ফাঁকা। ফলে বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না। কেউ দেরিতে আসেন, আবার কেউ নির্ধারিত সময়ের আগেই চলে যান। অনেক সময় পাঠদানের পরিবর্তে আড্ডা ও গল্পগুজবেই সময় কাটে। পরিদর্শনের দুই দিনের মধ্যে মাত্র এক দিন প্রধান শিক্ষক লোকনাথ বর্মণকে বিদ্যালয়ে পাওয়া গেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার না করলেও শিক্ষার্থী সংকটের পেছনে ভিন্ন কারণ দেখিয়েছেন প্রধান শিক্ষক।

তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত দুর্বলতা, আশপাশের নুরানি মাদ্রাসার প্রভাব এবং অভিভাবকদের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি আগ্রহের কারণে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমেছে।

 

 

লোকনাথ বর্মণের দাবি, বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে, যার মধ্যে নিয়মিত উপস্থিত থাকে ছয়জন। তবে উপবৃত্তি সুবিধাভোগী শিক্ষার্থীর সংখ্যা জানতে চাইলে তিনি ১২ থেকে ১৩ জনের কথা বলেন, যা বিদ্যালয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

 

 

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে এখানে আটজন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও আরও চারটি শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। পাশাপাশি গত দুই বছর ধরে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিও নেই।

 

 

শিক্ষার্থীদের বক্তব্যেও উঠে এসেছে বিদ্যালয়ের বাস্তব চিত্র। অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী নিলুফা আক্তার জানায়, তাদের শ্রেণিতে মোট চারজন শিক্ষার্থী রয়েছে। সপ্তম শ্রেণিতে কোনো শিক্ষার্থী নেই। একই শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থী বাঁধন জানায়, মোট শিক্ষার্থী ছয়জন হলেও শিক্ষকরা নিয়মিত ক্লাস নেন না।

 

 

ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী নিরবের ভাষ্য, তার শ্রেণিতে সে এবং সাব্বির নামে আরেকজন শিক্ষার্থী ছাড়া আর কেউ নেই। সপ্তম শ্রেণিতে কোনো শিক্ষার্থী না থাকার বিষয়টিও সে নিশ্চিত করেছে।

 

 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শৃঙ্খলা ও তদারকির অভাব রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটিতে শুরু থেকেই শিক্ষার্থী সংকট ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি এখন আরও খারাপ হয়েছে।’

 

 

স্থানীয় বাসিন্দা পারুল বেগমের অভিযোগ, বিভিন্ন সময় মনিটরিং বা পরিদর্শনের সময় বাইরের শিক্ষার্থী এনে উপস্থিতি দেখানো হয়। অন্যদিকে মোস্তাফিজার রহমান জানান, নিয়মিত পাঠদান না হওয়ায় তিনি তার নাতিকে বিদ্যালয় থেকে সরিয়ে অন্য একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করিয়েছেন।

 

 

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যালয়টির ষষ্ঠ শ্রেণিতে ৪০, সপ্তম শ্রেণিতে ৪০ এবং অষ্টম শ্রেণিতে ৩০ জন শিক্ষার্থীর নাম নথিভুক্ত রয়েছে। অর্থাৎ সরকারি হিসাবে মোট শিক্ষার্থী ১১০ জন। কিন্তু সরেজমিনে দুই দিনে মোট উপস্থিতি পাওয়া গেছে মাত্র চারজন।

 

 

নথিভুক্ত শিক্ষার্থী ও বাস্তব উপস্থিতির মধ্যে এত বড় ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

 

 

এ বিষয়ে উপজেলা অতিরিক্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এখনো বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করিনি। খুব শিগগিরই প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’

 

রায়গঞ্জে শ্রী রামচন্দ্রের ছবিতে জুতা নিক্ষেপের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার নিমগাছী বাজারে শ্রী শ্রী রামচন্দ্রের ছবিতে জুতা নিক্ষেপের ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

 

শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে “ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা করো, ধর্ম অবমাননা বন্ধ করো”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে বাংলাদেশ সনাতন মহাসংঘ ও ছাত্র মহাসংসদের সিরাজগঞ্জ জেলা কমিটির উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন।

 

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন রায়গঞ্জ উপজেলা আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক নিমাই চন্দ্র মাহাতো।
সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সনাতন মহাসংঘের রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শিপেন কুমার শীল, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক পরেশ চন্দ্র মাহাতো, কুড়মালি ভাষার লেখক ও গবেষক উজ্জ্বল কুমার মাহাতো, ছাত্র মহাসংঘের সিরাজগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি দীপক কুমার মাহাতো, সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ কুমার মাহাতো এবং সনাতন মহাসংঘের নির্বাহী সভাপতি অনিবার্ণ দাস অনিকসহ অন্যান্য নেতারা।

 

 

বক্তারা ধর্মীয় অবমাননার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা ও পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে। এ ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।

 

 

এর আগে নিমগাছী সিএনজি স্ট্যান্ড থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে নিমগাছী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এসে মানববন্ধনে মিলিত হয়। কর্মসূচিতে শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ গোপাল জিউ মন্দির, অর্জুনগর-উত্তরহাজীপুর, নিমগাছী গীতা স্কুলের শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা অংশগ্রহণ করেন।

 

 

ভারতের বিমানবন্দরে আটক বাংলাদেশি নারী, ছিল ভুয়া আইডি

ভারতের আসামের গুয়াহাটির লোকপ্রিয় গোপীনাথ বরদলই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (এলজিবিআই) এক বাংলাদেশি নারীকে আটক করা হয়েছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, তিনি অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন এবং তার কাছে একটি জাল পরিচয়পত্র পাওয়া গেছে।

 

 

শুক্রবার (১৯ জুন) এনডিটিভির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, বেঙ্গালুরু থেকে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে গুয়াহাটি পৌঁছান ওই নারী। বিমানবন্দরে লাগেজ সংগ্রহের সময় তার গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন।

 

 

জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে ওই নারী নিজেকে বাংলাদেশের নাগরিক বলে পরিচয় দেন বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। পরে তাকে অধিকতর তদন্তের জন্য আজারা থানার বর্ডার শাখা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, মানবপাচার চক্রের সহায়তায় তিনি ত্রিপুরা সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। তদন্তকারীদের সন্দেহ, দেশে প্রবেশের আগে তাকে জাল পরিচয়পত্র সরবরাহ করা হয়েছিল।

পুলিশ সূত্র জানায়, আটক নারীর কাছে থাকা পরিচয়পত্রে নাম ছিল ‘পূজা দাস’ এবং সেখানে পশ্চিমবঙ্গের একটি ঠিকানা উল্লেখ ছিল। কর্তৃপক্ষের বিশ্বাস, প্রতারণার মাধ্যমে ওই পরিচয়পত্র সংগ্রহ করা হয়েছিল।

এদিকে সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী (বিএসএফ) কর্মকর্তারাও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। পরিচয় যাচাইয়ের সময় তার স্থায়ী ঠিকানা বাংলাদেশের ঢাকার কাছাকাছি নারায়ণগঞ্জ জেলায় শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

 

আরও জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারী তদন্তকারীদের জানান, তিনি গুয়াহাটিতে অবস্থানরত তার প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে সেখানে গিয়েছিলেন।

 

 

প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া শেষে বুধবার তাকে আসামের গোয়ালপাড়া জেলার একটি আটককেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

 

 

স্কয়ার গ্রুপে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ, নিয়োগ চলছে

লোকবল নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে স্কয়ার গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি তাদের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স বিভাগে অফিসার পদে লোক নিয়োগের জন্য এ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে।

 

 

আবেদন নেওয়া শুরু হয়েছে ১৮ জুন থেকে এবং আগামী ২৭ জুন পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। নির্বাচিত প্রার্থীরা মাসিক বেতন ছাড়াও প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী আরও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

 

 

এক নজরে দেখে নিন স্কয়ার গ্রুপে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬

প্রতিষ্ঠানের নাম : স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড

চাকরির ধরন : বেসরকারি চাকরি

প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুন ২০২৬

পদ সংখ্যা : ১টি

লোকবল নিয়োগ : নির্ধারিত নয়

আবেদন করার মাধ্যম : অনলাইন

আবেদন শুরুর তারিখ : ১৮ জুন ২০২৬

আবেদনের শেষ তারিখ : ২৭ জুন ২০২৬

অফিশিয়াল ওয়েবসাইট : https://www.sfbl.com.bd

আবেদন করার লিংক : অফিশিয়াল নোটিশের নিচে

প্রতিষ্ঠানের নাম : স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড

পদের নাম : অফিসার

বিভাগ : অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স

পদসংখ্যা : নির্ধারিত নয়

শিক্ষাগত যোগ্যতা : অ্যাকাউন্টিং/ফিন্যান্সে বিবিএ/এমবিএ

অন্য যোগ্যতা : মাইক্রোসফট অফিসে দক্ষতা।

অভিজ্ঞতা : কমপক্ষে ১ বছর

চাকরির ধরন : ফুলটাইম

কর্মক্ষেত্র : অফিসে

প্রার্থীর ধরন : নারী-পুরুষ (উভয়)

বয়সসীমা : সর্বোচ্চ ৩২ বছর

কর্মস্থল : ঢাকা

বেতন : আকর্ষণীয় ও প্রতিযোগিতামূলক বেতন

অন্য সুবিধা : কোম্পানির নীতি অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা প্যাকেজ প্রদান করা হবে।

আবেদন করবেন যেভাবে : আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

আবেদনের শেষ সময় : ২৭ জুন ২০২৬

লড়াই করেও হার বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়ার সিরিজ জয়

তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে মাত্র ৭ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। হাইস্কোরিং ম্যাচে দুই দলই লড়েছে দুর্দান্তভাবে। তবে শেষ পর্যন্ত জেতা হয়নি টাইগারদের। এই জয়ের ফলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জয় নিশ্চিত করলো অস্ট্রেলিয়া।

 

 

চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফট্যানেন্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। মিচেল মার্শ এবং জশ ইংলিসের ব্যাটে ভর করে দারুণ শুরু পায় অজিরা। ৬ বলে ১১ রান করা ইংলিসকে ফিরিয়ে ব্রেক থ্রু এনে দেন নাসুম আহমেদ। তিনে নামা কুপার কনোলি সুবিধা করতে পারেননি। ৪ বলে ১ রান করা কনোলিকে ফেরান নাহিদ রানা। অধিনায়ক মিচেল মার্শ খেলেন ১৯ বলে ২০ রানের ইনিংস। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৪৪ রান তোলে অস্ট্রেলিয়া।

 

 

পাওয়ারপ্লের পর টাইগার বোলারদের উপর চড়াও হন অজি ব্যাটাররা। ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিং চালিয়েছেন ম্যাট রেনশ এবং টিম ডেভিড। উইকেটের চারপাশে দারুণ সব শটে দলের বোর্ডে রান তুলেছেন রেনশ এবং ডেভিড। আগ্রাসি ব্যাটিংয়ে রান বাড়িয়েছেন দুজন। দলের ১৪১ রানের মাথাতে ২৬ বলে ৪৫ রান করে থামেন ডেভিড। রেনশ অবশ্য ফিফটি ছুঁয়েছেন।

এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলে গেছেন রেনশ। শেষ দিকে নিখিল চৌধুরী খেলেছেন ৬ বলে ৮ রানের ইনিংস। রেনশর ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিং ফিফটির পরেও চলেছে। বাংলাদেশের বোলারদের পিটিয়ে তক্তা বানিয়েছেন রেনশ। অজিরাও ছুটেছে দুইশ রানের দিকে। শেষ পর্যন্ত দুইশর খুব কাছে গিয়ে থেমেছে অস্ট্রেলিয়া। ৫২ বলে ৮৯ রান করে টিকে ছিলেন রেনশ। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৯৬ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় অজিরা।

বাংলাদেশের হয়ে ২ উইকেট নেন নাসুম আহমেদ। এছাড়া ১টি করে উইকেট শিকার করেছেন আবদুল গাফফার সাকলাইন, নাহিদ রানা এবং মুস্তাফিজুর রহমান।

জবাব দিতে নেমে তানজিদ হাসান তামিমের ব্যাটে ভর করে দারুণ শুরু পায় বাংলাদেশ। আরেক ওপেনার সাইফ হাসানও ছিলেন দারুণ সাবলীল। ৩ ওভারেই ৪২ রান তুলে ফেলে বাংলাদেশ, বিনা উইকেটে। ৪র্থ ওভারেই থেমেছে তানজিদের উইলোবাজি। ১৫ বলে ৩০ রানের ক্যামিও খেলা তানজিদকে ফেরান ম্যাট রেনশ।

 

 

পাওয়ারপ্লের ফায়দাটা সুদে আসলে লুটেছে বাংলাদেশ। তিনে নেমে সাইফ হাসানের সাথে যোগ দেন সৌম্য সরকার। ৬ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৭২ রান তোলে বাংলাদেশ, যা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ পাওয়ারপ্লের রান।

 

 

সৌম্য থেমেছেন পাওয়ারপ্লে শেষেই। ভালো শুরু পেলেও ইনিংস লম্বা করতে পারেননি সৌম্য সরকার। ৯ বলে ১৫ রান করে দলের ৭৭ রানের মাথাতে থামেন সৌম্য। এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলে গেছেন সাইফ। চারে নেমে বেধড়ক পিটুনি শুরু করেন পারভেজ হোসেন ইমন। দারুণ সব শটে রান বের করেছেন ইমন। হাঁকিয়েছেন দারুণ সব বাউন্ডারি। সাইফও ছুটেছেন ফিফটির দিকে।

 

 

সাইফ-ইমনের জুটিটা ভালোই এগোচ্ছিল। তবে টানা দুই ওভারে দুজনের বিদায়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। কমে যায় দলের রানের গতি। ৩ ছক্কা ২ চারে ২২ বলে ৩৬ রানের ইনিংস খেলে বিদায় নেন ইমন। দলের ১৩৪ রানের মাথাতে থামেন সাইফ হাসান, ৩৩ বলে করেছেন ৪২ রান।

 

 

সুবিধা করতে পারেননি শামীম হোসেন পাটোয়ারী। ৮ বলে ৭ রান করেছেন তিনি। পাঁচে নামা অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়ও কিছুটা সংগ্রাম করেছেন। সাতে নামেন আবদুল গাফফার সাকলাইন। দুজনে রান তুলেছেন ধীর গতিতে। বাউন্ডারি বের করতে সংগ্রাম করতে হয়েছে। ১৮তম ওভারে অ্যাডাম জাম্পার বোলিং সামলে ৮ রান নেন হৃদয় এবং সাকলাইন। শেষ ২ ওভারে দরকার ছিল ৩৪ রান, হাতে ৫ উইকেট।

 

 

বোলিংয়ে আসেন নাথান এলিস, স্ট্রাইকে সাকলাইন। প্রথম দুই বল ডট, পরের বলে চার মারেন সাকলাইন। পরের বল আবার ডট। পরের বলে ১ রান নেন সাকলাইন। স্ট্রাইকে ফেরেন হৃদয়। শেষ বলে দারুণ এক ছক্কা হাঁকান তিনি। শেষ ওভারে দরকার ২৩ রান।

 

 

শেষ ওভারে বোলিংয়ে আসেন অ্যারন হার্ডি, স্ট্রাইকে সাকলাইন। প্রথম বলে ওয়াইড, পরের বলে আসে ১ রান। স্ট্রাইকে ফেরেন হৃদয়। পরের বলে ডট, পরের বলে ২ রান। এরপর আবারও ওয়াইড। সমীকরণ চলে আসে ৩ বলে ১৮ রানে। পরে বলে দারুণ এক ছক্কা হাঁকিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন হৃদয়। পরের বলে দারুণ এক শট খেলেন হৃদয়, তবুও হয়েছে কেবল চার। শেষ বলে বাংলাদেশের দরকার ছিল ৮ রান। তুলে মারলেন হৃদয়, ধরা পড়লেন একদম বাউন্ডারিতে। ৭ রানে জয়লাভ করে অস্ট্রেলিয়া, জিতে নেয় সিরিজটাও। ২০ ওভার শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮৯ রান করে থেমেছে বাংলাদেশ। হৃদয় আউট হয়েছেন ২২ বলে ৩৫ রান করে। সাকলাইন টিকে ছিলেন ১১ বলে ১৩ রান করে।

 

 

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ২ উইকেট নেন অ্যারন হার্ডি। এছাড়া ১টি করে উইকেট শিকার করেছেন জোয়েল ডেভিস, অ্যাডাম জাম্পা, নাথান এলিস এবং ম্যাট রেনশ।

 

 

শ্লীলতাহানির অভিযোগে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অন্তঃসত্ত্বা নারীর মামলা দায়ের

নরসিংদীর মনোহরদীতে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারী উদ্যোক্তাকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. আমিনুর রহমান সরকার দোলনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে।

 

 

মামলাটি করেছেন ভুক্তভোগী পপি আক্তার নামের এক নারী উদ্যোক্তা। তিনি অভিযোগ করেছেন, চাঁদার দাবিতে তার বিউটি পার্লারে হামলা চালিয়ে তাকে মারধর, শ্লীলতাহানি এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।

 

 

আদালতে করা মামলার অন্য দুই আসামি হলেন উপজেলার হাররদিয়া এলাকার আব্দুল হালিমের ছেলে আব্দুল জব্বার (৩০) এবং অর্জুনচর এলাকার মৃত আব্দুল আউয়ালের ছেলে মোক্তার উদ্দিন তালুকদার (৪৮)।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, বিএনপি নেতা দোলন ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে পপি আক্তারের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ৭ মে দুপুরে অভিযুক্তরা তার বিউটি পার্লারে গিয়ে পুনরায় চাঁদা দাবি করেন। এতে রাজি না হলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে অন্তঃসত্ত্বা ওই নারীকে মারধর করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, একপর্যায়ে বিএনপি নেতা দোলন তার পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করেন এবং ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ভেঙে ফেলেন। এ ছাড়া অন্য দুই আসামি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ড্রয়ারে থাকা ৫২ হাজার টাকা ও তার গলায় থাকা প্রায় আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

 

পপির চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

 

 

ভুক্তভোগী পপি আক্তার বলেন, চিকিৎসা শেষে তিনি মনোহরদী থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হলেও পরবর্তী সময়ে কোনো মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

 

 

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও থানায় মামলা করতে পারিনি। পরে বাধ্য হয়ে ১৮ জুন নরসিংদীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছি। আমার এবং আমার অনাগত সন্তানের ওপর হামলার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

 

 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিএনপি নেতা আমিনুর রহমান সরকার দোলনের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মনোহরদী থানার ওসি জাহাঙ্গীর বাদশা বলেন, ‘এ ধরনের কোনো ঘটনার বিষয়ে আমি অবগত নই। কোনো নারী থানায় এসে এ বিষয়ে অভিযোগ করেছেন বলেও আমার জানা নেই।’

 

 

আদালতে করা মামলার বিষয়ে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

একদলীয় শাসনের চেষ্টা প্রত্যাখ্যান করবে জনগণ: জামায়াত আমির

দেশে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার যে কোনো প্রচেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

 

 

তিনি বলেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে জোর করে শাসনব্যবস্থা চালাতে চাইলে জনগণই হিমালয়ের মতো প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

 

 

শুক্রবার (১৯ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় নারায়ণগঞ্জ শহরের মাসদাইর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নারায়ণগঞ্জ মহানগর আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ও শহীদদের আত্মত্যাগের ফলেই দেশে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। জুলাইয়ের আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের অবদানকে খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। তাদের আত্মত্যাগের প্রতি অসম্মান জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।

সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ, ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে হস্তক্ষেপ, বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ্য ব্যক্তিদের সরিয়ে দলীয় অনুগতদের নিয়োগ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোক বসানোর মাধ্যমে দেশে একদলীয় শাসনের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘ইতিহাস সাক্ষী, একদলীয় শাসন কখনো টেকসই হয়নি। জনগণের মতামত উপেক্ষা করে কোনো ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া হলে দেশের মানুষ তা প্রতিহত করবে।’

 

 

সংসদে বিরোধী দলকে অবমূল্যায়নের রাজনৈতিক সংস্কৃতিরও সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগ যেমন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কটূক্তি করত, এখন বিএনপিও একই ধরনের ভাষা ব্যবহার করছে। রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতার চর্চা করা।

 

 

প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, বড় বাজেট প্রণয়ন করাই যথেষ্ট নয়, সেটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করাই বড় চ্যালেঞ্জ। দুর্নীতি ও অপচয় বন্ধ না হলে উন্নয়নের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছাবে না।

 

 

ব্যবসায়ীদের দুরবস্থার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সম্মেলনে আসার আগে নারায়ণগঞ্জের কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছে। সেখানে ব্যবসায়ীদের মধ্যে চাঁদাবাজি ও অনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ লক্ষ্য করেছেন। ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

 

 

গণভোট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের রায়কে সম্মান করা গণতন্ত্রের মৌলিক শর্ত। গণভোটে যে সংস্কার প্রস্তাবগুলো জনগণের সমর্থন পেয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে সরকারের আন্তরিকতা থাকা উচিত।

 

 

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সরকারের এক উপদেষ্টার বক্তব্যে জনগণের রায় ও গণতান্ত্রিক চেতনা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

 

 

সরকারকে জনগণের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখনো সময় আছে, জনগণের রায়কে সম্মান করুন। অন্যথায় জোর করে শাসনব্যবস্থা চালাতে চাইলে জনগণ আপনাদের সামনে হিমালয় পর্বত হয়ে দাঁড়িয়ে যাবে।’

 

 

সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও জনগণ গণতান্ত্রিক চর্চার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণার ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা থাকলে তাদের জোট আরও ভালো ফল করতে পারত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

 

নারায়ণগঞ্জের শিল্পখাতের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, একসময় দেশের শিল্প রাজধানী হিসেবে পরিচিত এই জেলার গৌরব পুনরুদ্ধারে শিল্প ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সন্ত্রাস ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর আধিপত্যমুক্ত নারায়ণগঞ্জ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

 

 

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেন, মিথ্যাচার ও অপপ্রচারের মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করা সম্ভব নয়। জনগণ এখন অনেক বেশি সচেতন এবং তারা কথার চেয়ে কাজের মূল্যায়ন করে।

 

 

নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা আবদুল জব্বারের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মনোয়ার হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

শাকিবের বাসায় ‘অস্বস্তিকর’ অভিজ্ঞতা, জানালেন মিষ্টি জান্নাত

ঢাকাই সিনেমার শীর্ষ নায়ক শাকিব খানকে ঘিরে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনা যেন থামছেই না। অপু বিশ্বাস ও শবনম বুবলীর সঙ্গে সম্পর্কের নানা অধ্যায়ের পর এবার আলোচনায় উঠে এসেছে অভিনেত্রী মিষ্টি জান্নাতের একাধিক ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট। দেশে শুরু হওয়া এই বিতর্ক এখন সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গের সংবাদমাধ্যমেও জায়গা করে নিয়েছে, যা নতুন করে শাকিব-মিষ্টি প্রসঙ্গকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। সম্প্রতি কলকাতার পত্রিকা আনন্দবাজারের অনলাইন ভার্সনে শাকিব-মিষ্টি জান্নাতকে নিয়ে নতুন করে খবর প্রকাশ করেছে। খবরটির শিরোনামে লেখা হয়- ‘শাকিবের বাড়িতে গিয়ে খুব অস্বস্তিতে পড়েছিলাম’। কোন অভিজ্ঞতার কথা বললেন মিষ্টি জান্নাত?

 

 

খবরটি ছিল এমন- ওপার বাংলার অন্যতম আলোচিত অভিনেতা শাকিব খান। নায়কের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিপুল আলোচনা হয়েছে। সদ্য মেয়ের বাবা হয়েছেন নায়ক। এরইমধ্যে অভিনেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ উগরে দিলেন অভিনেত্রী মিষ্টি জান্নাত। তার সঙ্গে শাকিবের একটি ছবি ছড়িয়ে পড়ার পরে এমনই প্রেমের গুঞ্জন তৈরি হয়েছিল। এরই মাঝে বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসলেন জান্নাত।

 

 

অভিনেত্রী বলেন, “বিমানের মধ্যে তোলা শাকিবের সঙ্গে আমার একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছিল। যেদিন এ ছবিটি তোলা হয়েছিল, সেই দিনই আমি শাকিবের বাড়ি গিয়েছিলাম। ও (শাকিব)পরে মায়ের থেকে খাবার এনে আমাকে দিয়েছিল। আমার হাতে খাবার দিয়ে বলেছিল, ‘এই নাও তোমার শাশুড়ি রান্না করে দিয়েছে।’ আমার সহকারীদের জিজ্ঞাসা করলে জানতে পারবেন। খুব অস্বস্তিতে পড়েছিলাম।”

বিমানে শাকিবের সঙ্গে জান্নাত কেন ছবি তুলেছিলেন? অভিনেত্রী যোগ করেন, ‘ওই ছবি আমি তুলতাম না। ওই দিনের অনেক ভিডিও আছে। কিন্তু আমি সেগুলো দেব না। সবাই ভাববে, শাকিবকে বিক্রি করে খাচ্ছি।’

আর কথা বাড়াতে রাজি হননি জান্নাত। যদিও নায়কের জীবনে যত বিতর্কই আসুক না কেন, অভিনেতা চুপ থেকেছেন। সদ্য মেয়ে হওয়ার পরেও নিশ্চুপ থেকেছেন শাকিব। বরং তার স্ত্রী শবনম বুবলী মেয়ে হওয়ার সুখবর সবার সঙ্গে ভাগ করে নেন।

এদিকে শবনম বুবলী দ্বিতীয়বারের মতো মা হওয়ার খবরের পরপরই সামাজিকমাধ্যমে একটি ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট দিয়েছেন মিষ্টি জান্নাত। সেই পোস্ট ঘিরে নেটিজেনদের মাঝে আবারও আলোচনায় এসেছেন অভিনেত্রী। শবনম বুবলীকে অভিনন্দন জানিয়ে মিষ্টি জান্নাত লেখেন, কন্যাসন্তানের জন্য অনেক অনেক শুভকামনা। শাকিব খান ও শবনম বুবলীকে অভিনন্দন।

 

 

তবে এখানেই থামেননি অভিনেত্রী। একটা ইঙ্গিতপূর্ণ কথা উল্লেখ করে মিষ্টি জান্নাত আরও লেখেন, এ বছরে আরেকজনের জন্যও অগ্রিম শুভেচ্ছা। এবার মিষ্টি জান্নাতের এই নতুন পোস্ট শাকিব-ভক্তদের মাঝে আবারও নতুন করে আলোচনার খোরাক জোগাল। সেই পোস্টে মিষ্টি জান্নাত শাকিব খানকে ট্যাগ করেছেন।

 

 

ঢাকাই চলচ্চিত্রে কাজের সূত্রে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জনের সঙ্গে নাম জড়িয়েছে মিষ্টি জান্নাতের। তাদেরই একজন শাকিব খান। এমনকি শাকিব খানের তৃতীয় স্ত্রী হতে যাচ্ছেন মিষ্টি, এমন গুঞ্জনও চাউর হয়েছিল চলচ্চিত্র পাড়ায়। এরপর থেকেই শাকিবকে নিয়ে বেশ আলোচনায় আসেন মিষ্টি এবং প্রায়ই নায়ককে নিয়ে সামাজিকমাধ্যমে কৌতূহল জাগানিয়া পোস্ট দিতে দেখা যায় এ নায়িকাকে।

 

 

গত বছরের জুলাইয়ে একটি সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে শাকিব খানকে নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন মিষ্টি জান্নাত। শাকিব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শাকিব খানকে নিয়ে ভাইরাল হওয়া বা তার নাম ভাঙিয়ে চলার কোনো ইচ্ছাই আমার নেই। আমি কারও পা ধরে নায়িকা হইনি।’

চট্টগ্রামের মুখতার আলমই কাবার গিলাফের প্রধান ক্যালিগ্রাফার

পবিত্র কাবা শরিফের কালো গিলাফে সোনালি ও রুপালি সুতোয় খচিত কুরআনের আয়াত ও নান্দনিক আরবি ক্যালিগ্রাফি বিশ্ব মুসলিমের কাছে সৌন্দর্য, শ্রদ্ধা ও আধ্যাত্মিকতার এক অনন্য প্রতীক। মহিমান্বিত এই শিল্পকর্মের পেছনে যিনি প্রধান ক্যালিগ্রাফার হিসেবে নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন, তিনি একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ক্যালিগ্রাফার- চট্টগ্রামের মুখতার আলম শিকদার। চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া থেকে শুরু হওয়া তার জীবনযাত্রা আজ পৌঁছে গেছে ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র স্থাপনার অলংকরণের গুরুদায়িত্বে।

 

 

শৈশব ও শিক্ষাজীবন

১৯৬২ সালে চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন মুখতার আলম। তার বাবা মফিজুর রহমান বিন ইসমাঈল শিকদার সৌদি আরবের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফার্মাসিস্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বাবার কর্মসূত্রে মাত্র চার বছর বয়সেই পরিবারের সঙ্গে সৌদি আরবে চলে যান তিনি। সেখানেই বেড়ে ওঠা এবং শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করা মুখতার আলম পরবর্তীতে সৌদিআরবের মক্কার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্যালিগ্রাফিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণায় যুক্ত রয়েছেন।

কাবার গিলাফ বা ‘কিসওয়া’র সঙ্গে তার পথচলা শুরু হয় ১৪২২ হিজরিতে। দেশটির জেদ্দার খ্যাতিমান ব্যবসায়ী ও ক্যালিগ্রাফার মুহাম্মাদ সালেম বাজনাইদ তার শিল্প প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করেন। পরে উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিশেষ মূল্যায়ন পরীক্ষায় সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে ২০০২ সালে কিং আবদুল আজিজ কমপ্লেক্স ফর হোলি কাবা কিসওয়ায় ক্যালিগ্রাফার হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন তিনি।

বর্তমান কিসওয়ার নকশা বিখ্যাত ক্যালিগ্রাফার শাইখ আবদুর রহিম আমিন বুখারির তৈরি ‘সুলুস’ লিপির ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় দায়িত্ব গ্রহণ করলেও মুখতার আলম আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও নতুন কৌশল সংযোজনের মাধ্যমে ক্যালিগ্রাফি শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করেছেন। ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমন্বয়ে তার অবদান বিশেষভাবে প্রশংসিত।

 

 

তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২১ সালের নভেম্বরে সৌদি আরবের নাগরিকত্ব লাভ করেন মুখতার আলম। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা বিদেশি নাগরিকদের যে নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়, সেখানে নির্বাচিত পাঁচজন বিশিষ্ট ব্যক্তির একজন ছিলেন তিনি। আর সেই তালিকায় একমাত্র ক্যালিগ্রাফারও ছিলেন মুখতার আলম।

 

 

ক্যালিগ্রাফির পাশাপাশি তিনি মক্কার ইনস্টিটিউট অব হলি মস্ক পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করছেন। তার হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় সজ্জিত হয় কাবার গিলাফ, যা প্রতিবছর কোটি কোটি মুসলমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

 

 

চট্টগ্রামের একটি প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে এসে ইসলামের সবচেয়ে সম্মানিত স্থাপনার প্রধান অলংকরণ শিল্পী হওয়া- মুখতার আলম শিকদারের এই গৌরবময় সাফল্য শুধু বাংলাদেশের জন্যই নয়, বরং সমগ্র মুসলিম বিশ্বের জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

বয়লার বিস্ফোরণে কাঁপল নারায়ণগঞ্জের পোশাক কারখানা, আহত অন্তত ১৫ শ্রমিক

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি পোশাক কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনায় ১৫ শ্রমিক আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা প্রায় দুই ঘণ্টা নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা পুরাতন সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।

 

 

শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে ফতুল্লা থানার পাগলা তালতলা এলাকায় অবস্থিত ‘নির্জন গার্মেন্টস’ কারখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

 

শ্রমিকদের অভিযোগ, বিস্ফোরিত বয়লারটিতে দীর্ঘদিন ধরেই ত্রুটি ছিল। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মালিকপক্ষের অবহেলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি তাদের।

তারা আরও অভিযোগ করেন, কারখানার ভেতরে জরুরি বহির্গমন পথ ও চলাচলের রাস্তা বিভিন্ন মালামাল দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। বিস্ফোরণের পর আতঙ্কিত শ্রমিকরা দ্রুত বের হতে না পারায় হতাহতের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

দুর্ঘটনার পর কারখানার ভেতরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কারখানার পিএম জসিম উদ্দিন ও সুপারভাইজার মনিরকে অবরুদ্ধ করে মারধর করেন।

খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ ও শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে তারা সড়ক অবরোধ তুলে নেন।

 

 

আহতদের মধ্যে আরবিন, জাকির, মঞ্জু, শাহীন, জয়, হৃদয়, সাবিনা, খাদিজা, নাসিমা, আল-আমিন ও অন্তরের নাম জানা গেছে। তাদের স্থানীয় বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

 

 

এদিকে দুর্ঘটনায় একজন শ্রমিকের মৃত্যুর খবর স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়লেও ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মাহবুব আলম বলেন, মৃত্যুর বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে।

 

 

তিনি বলেন, ‘ঘটনার পরপরই পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক আছে।’

 

 

দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে।

অস্ট্রেলিয়ার রেনশোর বিধ্বংসী ইনিংস, বাংলাদেশকে পাহাড়সম লক্ষ্য

তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে আগে ব্যাট করতে নেমে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৯৬ রানের সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ৫২ বলে ৮৯ রান করে শেষ পর্যন্ত টিকে ছিলেন ম্যাট রেনশো।

 

 

চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফট্যানেন্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। মিচেল মার্শ এবং জশ ইংলিসের ব্যাটে ভর করে দারুণ শুরু পায় অজিরা। ৬ বলে ১১ রান করা ইংলিসকে ফিরিয়ে ব্রেক থ্রু এনে দেন নাসুম আহমেদ। তিনে নামা কুপার কনোলি সুবিধা করতে পারেননি। ৪ বলে ১ রান করা কনোলিকে ফেরান নাহিদ রানা। অধিনায়ক মিচেল মার্শ খেলেন ১৯ বলে ২০ রানের ইনিংস। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৪৪ রান তোলে অস্ট্রেলিয়া।

 

 

পাওয়ারপ্লের পর টাইগার বোলারদের উপর চড়াও হন অজি ব্যাটাররা। ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিং চালিয়েছেন ম্যাট রেনশো এবং টিম ডেভিড। উইকেটের চারপাশে দারুণ সব শটে দলের বোর্ডে রান তুলেছেন রেনশো এবং ডেভিড। আগ্রাসি ব্যাটিংয়ে রান বাড়িয়েছেন দুজন। দলের ১৪১ রানের মাথাতে ২৬ বলে ৪৫ রান করে থামেন ডেভিড। রেনশ অবশ্য ফিফটি ছুঁয়েছেন।

এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলে গেছেন রেনশো। শেষ দিকে নিখিল চৌধুরী খেলেছেন ৬ বলে ৮ রানের ইনিংস। রেনশোর ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিং ফিফটির পরেও চলেছে। বাংলাদেশের বোলারদের পিটিয়ে তক্তা বানিয়েছেন রেনশো। অজিরাও ছুটেছে দুইশ রানের দিকে। শেষ পর্যন্ত দুইশর খুব কাছে গিয়ে থেমেছে অস্ট্রেলিয়া। ৫২ বলে ৮৯ রান করে টিকে ছিলেন রেনশো। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৯৬ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় অজিরা।

বাংলাদেশের হয়ে ২ উইকেট নেন নাসুম আহমেদ। এছাড়া ১টি করে উইকেট শিকার করেছেন আবদুল গাফফার সাকলাইন, নাহিদ রানা এবং মোস্তাফিজুর রহমান।

ভিপিএনের আড়ালে সাইবার অপরাধের বিস্তার, সতর্কতা বিশেষজ্ঞদের

রাত গভীর হলে শহরের গলির ভেতর কিছু দরজা খোলে যা দিনের আলোয় দেখা যায় না। ডিজিটাল দুনিয়াতেও তেমনই একটি দরজা আছে; নাম তার নাম Virtual Private Network (VPN) বা ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন)। লাখো ব্যবহারকারীর কাছে এ প্রযুক্তি আজ পরিণত হয়েছে পরিচয় আড়ালের ঢাল, অপকর্মের নিরাপদ আশ্রয় এবং রাষ্ট্রীয় আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠি দেখানোর হাতিয়ার হিসেবে। আর এই অন্ধকারের দরজা দিয়ে যে বিষ ঢুকছে, তা এখন বাংলাদেশের শিশুদের শরীর ও মনকে ধ্বংস করছে। প্রশ্ন উঠছে, এই দরজা কি আরও বেশিক্ষণ খোলা রাখার বিলাসিতা আমাদের আছে? পরিচয় লুকানো মানেই কি সন্দেহজনক নয়?

 

 

একজন সৎ মানুষের মুখ ঢাকার কী প্রয়োজন? এই প্রশ্নটি সরল হলেও এর উত্তর অনেক কিছু বলে দেয়। ভিপিএন ব্যবহারকারীদের বিপুল একটি অংশ প্রযুক্তিটি বেছে নেন নিজের অনলাইন পরিচয় ও অবস্থান লুকাতে। সাধারণ ব্যবহারের জন্য পরিচয় লুকানোর এত প্রয়োজন কেন? সাইবার নিরাপত্তা গবেষকরা বলছেন, বিশ্বব্যাপী ভিপিএন ব্যবহারের একটি উল্লেখযোগ্য অংশই পরিচালিত হয় ভূ-অবরুদ্ধ অবৈধ কনটেন্টে প্রবেশ, পর্নোগ্রাফি; বিশেষত শিশু পর্নোগ্রাফি দেখা এবং সাইবার অপরাধের উদ্দেশ্যে।

 

 

বাংলাদেশে যখন কোনো ক্ষতিকর ওয়েবসাইট বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) বন্ধ করে দেয়, তখন কিছু ব্যবহারকারী তাৎক্ষণিকভাবে ভিপিএনের দ্বারস্থ হন। এই প্রবণতা কী ইঙ্গিত দেয়? রাষ্ট্রের আইনি সিদ্ধান্তকে পাশ কাটিয়ে নিষিদ্ধ কনটেন্টে প্রবেশের এই তাড়া কার্যত আইন অমান্যের একটি সংগঠিত সংস্কৃতি গড়ে তুলছে। যে রাষ্ট্র নাগরিকের ভালোর জন্য একটি দরজা বন্ধ করে, ভিপিএন সেই দরজার দেয়াল ভেঙে দেয়।

বাংলাদেশে শিশু ধর্ষণ এখন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি একটি মহামারির রূপ নিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এবং বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের পরিসংখ্যান বারবার দেখিয়েছে যে প্রতি বছর শত শত শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে এবং প্রকৃত সংখ্যা নথিভুক্ত ঘটনার চেয়ে বহুগুণ বেশি। এই ভয়াবহ বাস্তবতার পেছনে একাধিক কারণ থাকলেও ডিজিটাল মাধ্যম। বিশেষত ভিপিএন সুরক্ষিত পর্নোগ্রাফি কনটেন্ট একটি গুরুতর নিয়ামক হিসেবে উঠে আসছে।

সম্পর্কটি বোঝার জন্য একটি সরল প্রশ্ন করা যাক: একজন কিশোর বা তরুণ যখন বছরের পর বছর ধরে ভিপিএন ব্যবহার করে শিশু যৌন নির্যাতনমূলক কনটেন্ট বা চরমপন্থি পর্নোগ্রাফি দেখে, তার মানসিকতায় কী পরিবর্তন আসে? মনোবিজ্ঞানের গবেষণা বলছে, এই ধরনের কনটেন্টের দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শ মস্তিষ্কের পুরস্কার ব্যবস্থাকে (রিওয়ার্ড সিস্টেম) পুনর্গঠিত করে, শিশুদের প্রতি যৌন আগ্রহকে স্বাভাবিক হিসেবে উপস্থাপন করে এবং ধর্ষণকে ক্ষমতার প্রকাশ হিসেবে মহিমান্বিত করে। এটি কোনো অনুমান নয়, এটি পুনঃ পুনঃ প্রমাণিত বৈজ্ঞানিক সত্য।

 

 

গবেষকরা দেখেছেন, যেসব দেশে অনলাইন শিশু যৌন নির্যাতনমূলক কনটেন্টের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে, সেখানে সংঘটিত শিশু ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের ঘটনাও সমান্তরালভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কারণ-প্রতিক্রিয়ার এই শৃঙ্খলটি উপেক্ষা করা আর সম্ভব নয়। বাংলাদেশে যে মুহূর্তে শিশু ধর্ষণের ঘটনা মহামারির রূপ নিচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে দেশে ভিপিএন ডাউনলোড অস্বাভাবিক সংখ্যায় বৃদ্ধি পায় যা ব্যবহার করে নিষিদ্ধ পর্নোগ্রাফি কনটেন্টে প্রবেশের ঘটনাও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। এই দুটো তথ্য একসাথে রাখলে যে প্রশ্নটি দাঁড়ায় তা হলো: আমরা কি এই সম্পর্ককে আর অস্বীকার করতে পারি?

 

 

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো অনলাইন গ্রুমিং বা শিশু প্রলোভন প্রক্রিয়া। ভিপিএন ব্যবহার করে পরিচয় আড়াল করা প্রাপ্তবয়স্করা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুদের বন্ধুত্বের ফাঁদে ফেলে, ধীরে ধীরে আস্থা অর্জন করে এবং তারপর তাদের যৌন নিপীড়নের দিকে টেনে নিয়ে যায়। এই প্রক্রিয়ায় ভিপিএন অপরাধীকে দ্বিগুণ সুবিধা দেয়। প্রথমত, তার আসল পরিচয় লুকিয়ে রাখে; দ্বিতীয়ত, তদন্তকারীদের পক্ষে তাকে ট্র্যাক করা প্রায় অসম্ভব করে তোলে। ফলে ধর্ষক ধরা পড়ে না, শিশুটি ন্যায়বিচার পায় না এবং অপরাধী একই কাজ বারবার করতে সাহস পায়।

 

 

বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে যে প্রশ্নটি এখন সবচেয়ে জরুরি তা হলো: ধরা পড়া শিশু নির্যাতনকারীদের কতজনের ডিভাইসে ভিপিএন পাওয়া গেছে এবং তারা কী ধরনের কনটেন্ট দেখতেন? এই তথ্যটি পদ্ধতিগতভাবে সংগ্রহ করা শুরু হলে এ প্রযুক্তি ও শিশু ধর্ষণের সম্পর্কটি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতেই নীতিনির্ধারকদের কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

 

 

শিশু শোষণের ডিজিটাল সুড়ঙ্গ

ইউনিসেফ এবং ইন্টারপোলের তথ্য অনুযায়ী, অনলাইনে শিশু যৌন নির্যাতনমূলক কনটেন্ট বা সিএসএএম বিতরণের ক্ষেত্রে ভিপিএন একটি প্রধান হাতিয়ার। অপরাধীরা তাদের অবস্থান ও পরিচয় আড়াল করতে ভিপিএন ব্যবহার করে শিশু পর্নোগ্রাফি আদান-প্রদান করে, অপ্রাপ্তবয়স্কদের সাথে গোপনে যোগাযোগ স্থাপন করে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজর এড়িয়ে যায়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গ্রেপ্তার হওয়া শিশু যৌন নির্যাতনকারীদের একটি বড় অংশের ডিভাইসে ভিপিএন সফটওয়্যার পাওয়া গেছে।

 

 

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই বিপদটি আরও গভীর। দেশে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, ইন্টারনেটের দাম কমছে, কিন্তু ডিজিটাল নিরাপত্তার অবকাঠামো সেই গতিতে শক্তিশালী হচ্ছে না। ফলে ভিপিএনের আড়ালে পরিচালিত শিশু শোষণের ঘটনাগুলো তদন্ত করার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আমাদের এখনও অপ্রতুল। অপরাধী জানে সে ধরা পড়বে না; এই দায়মুক্তির নিশ্চয়তাই তাকে বারবার অপরাধের দিকে ঠেলে দেয়।

 

 

সামাজিক অবক্ষয়ের নীরব জোয়ার

ভিপিএনের সাহায্যে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ পর্নোগ্রাফি সাইটগুলোতে প্রবেশ এখন অত্যন্ত সহজ। কিশোর-কিশোরী থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের ব্যবহারকারীরা নৈতিকভাবে ক্ষতিকর, মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক এবং সামাজিক সম্পর্কের জন্য ধ্বংসাত্মক কনটেন্টে ডুবে যাচ্ছে।

 

 

মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপ্রাপ্তবয়স্কদের এই কনটেন্টের সংস্পর্শ তাদের যৌন মনোভাব, নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি এবং বাস্তব সম্পর্কের ধারণাকে মারাত্মকভাবে বিকৃত করে। বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত কিশোর যখন বাস্তব জীবনে তার কল্পনার প্রতিফলন খোঁজে, তখন সে প্রতিরোধের মুখে পড়লে সহিংস হয়ে ওঠে। এই মনস্তাত্ত্বিক পথটিই বহু ক্ষেত্রে ধর্ষণের দিকে নিয়ে যায়। তাই ভিপিএনসুলভ পর্নোগ্রাফি এবং শিশু ধর্ষণের মহামারির মধ্যে একটি অদৃশ্য কিন্তু শক্তিশালী সুতো টানা আছে যা সমাজ ও রাষ্ট্রকে এখনই উপলব্ধি করতে হবে।

 

 

সাইবার অপরাধের নিরাপদ বর্ম

ডিজিটাল প্রতারণা, পরিচয় চুরি, র‍্যানসমওয়্যার আক্রমণ, হ্যাকিং; এই অপরাধগুলোর তদন্তে বিশ্বের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো যে বাধার মুখে পড়ে তার সবচেয়ে বড় কারণ হলো ভিপিএন। অপরাধী যখন একটি দেশের ভিপিএন সার্ভারের আড়াল থেকে অন্য দেশে হামলা চালায়, তখন তদন্তকারীরা আসল অপরাধীর কাছে পৌঁছাতে পারেন না। কারণ ভিপিএন সার্ভার লগ রাখে না বা রাখলেও তা ভিন্ন দেশের এখতিয়ারে।

 

 

বাংলাদেশে প্রতি বছর হাজার কোটি টাকার সাইবার প্রতারণার ঘটনা ঘটছে। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং, মোবাইল ব্যাংকিং জালিয়াতি, ই-কমার্স প্রতারণা; এসব অপরাধের একটি বড় অংশে ভিপিএন ব্যবহার করে অপরাধীরা পরিচয় আড়াল করে। ভুক্তভোগীরা বিচার পান না, অপরাধীরা ধরা পড়ে না। এই দায়মুক্তির সংস্কৃতি সমাজে অপরাধের প্রবণতাকে উৎসাহিত করে।

 

 

রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের চ্যালেঞ্জ

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সংসদ যখন কোনো কনটেন্ট নিষিদ্ধ করে, তখন সেই সিদ্ধান্তের পেছনে থাকে সামাজিক ঐকমত্য ও আইনি কর্তৃত্ব। ভিপিএন সেই কর্তৃত্বকে প্রযুক্তির মাধ্যমে নস্যাৎ করে দেয়। এটি কেবল আইন অমান্য নয়, এটি রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে একটি প্রযুক্তিগত বিদ্রোহ। প্রশ্ন হলো, আমরা কি এমন একটি সমাজ চাই যেখানে যার প্রযুক্তিগত সামর্থ্য আছে সে আইনের ঊর্ধ্বে থাকবে?

 

 

বিশ্বের বেশ কিছু দেশ, যেমন- চীন, রাশিয়া, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ভিপিএন ব্যবহারকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। এটি কোনো স্বৈরাচারী প্রবৃত্তি নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও নাগরিক নিরাপত্তার প্রশ্নে একটি সুস্পষ্ট অবস্থান। যে রাষ্ট্র তার নাগরিকের ডিজিটাল পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, সে রাষ্ট্র আসলে কতটুকু সার্বভৌম? বিশেষত যখন সেই অনিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল পরিবেশ রাষ্ট্রের সবচেয়ে দুর্বল নাগরিক শিশুদের ক্ষতি করছে, তখন নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নটি আর রাজনৈতিক থাকে না, এটি হয়ে ওঠে নৈতিক দায়িত্ব।

 

 

যাচাইয়ের অধিকার : রাষ্ট্রের ন্যায্য দাবি

বিপুলসংখ্যক ভিপিএন ব্যবহারকারী আসলে কী উদ্দেশ্যে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন? প্রশ্নটি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। বিমানবন্দরে নিরাপত্তা তল্লাশি হয়, রাস্তায় যানবাহন চেকিং হয়, ব্যাংকে লেনদেন যাচাই হয়; এগুলো কি ব্যক্তির অধিকারের লঙ্ঘন? না, কারণ রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে একটি ন্যূনতম স্বচ্ছতা প্রয়োজন। ডিজিটাল জগতে সেই স্বচ্ছতার দাবি করা কি অন্যায্য? বিশেষত যখন সেই অস্বচ্ছতার আড়ালে শিশু ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অপরাধ ঘটছে?

 

 

ভিপিএন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাধ্য করা যায় ব্যবহারকারীর লগ সংরক্ষণ করতে এবং আইনি আদেশের ভিত্তিতে তদন্তকারীদের কাছে তা সরবরাহ করতে। এটি গণনজরদারি নয়, এটি প্রচলিত টেলিযোগাযোগ আইনের ডিজিটাল সম্প্রসারণ মাত্র। ফোন কোম্পানিগুলো যেমন আদালতের আদেশে কল রেকর্ড দেয়, ভিপিএন প্রতিষ্ঠানগুলোও তেমনি লগ সরবরাহ করতে বাধ্য হওয়া উচিত। একজন শিশু ধর্ষককে শনাক্ত করতে পারলে যদি কোনো ব্যক্তির ভিপিএন লগ দেখতে হয়, সেই মূল্য পরিশোধ করতে সভ্য সমাজের অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।

 

 

সিদ্ধান্তের সময় : শিশুর জীবন না প্রযুক্তির স্বাধীনতা?

প্রযুক্তি নিরপেক্ষ, কিন্তু তার ব্যবহার নিরপেক্ষ নয়। ভিপিএন একটি হাতিয়ার। সেই হাতিয়ার কারও হাতে সাংবাদিকতার ঢাল, কারও হাতে শিশু শোষণের অস্ত্র; দুটোই সত্য। কিন্তু যখন সেই অস্ত্রের আঘাতে একটি শিশুর শৈশব চুরমার হয়ে যাচ্ছে, যখন একজন ধর্ষক ভিপিএনের আড়ালে নিশ্চিন্তে পরবর্তী শিকার খুঁজছে, তখন ‘প্রযুক্তির স্বাধীনতা’ কথাটি ব্যবহার করতে বিবেক বাধা দেওয়া উচিত।

 

 

বাংলাদেশে আজ শিশু ধর্ষণ মহামারির যে রূপ নিয়েছে তার বিরুদ্ধে লড়তে হলে কেবল আইনি সংস্কার বা সামাজিক সচেতনতা যথেষ্ট নয়। ডিজিটাল পরিবেশকেও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। ভিপিএনের মাধ্যমে নিষিদ্ধ কনটেন্টে প্রবেশ রুদ্ধ করা, শিশু যৌন নির্যাতনমূলক কনটেন্ট শনাক্ত ও মুছে ফেলার প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গড়া এবং ভিপিএন সেবাদাতাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা; এই পদক্ষেপগুলো নেওয়ার সময় এখনই।

 

 

অন্ধকারের দরজা খোলা রাখা কখনও সভ্যতার লক্ষণ নয়। বিশেষত যখন সেই দরজা দিয়ে শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধ ঢুকছে। একটি জাতির সভ্যতার পরিমাপ হয় তার সবচেয়ে দুর্বল সদস্যদের সে কতটুকু রক্ষা করতে পারছে তার মানদণ্ডে। আমাদের শিশুরা রক্ষা পাচ্ছে না- এই ব্যর্থতার একটি বড় অংশের দায় ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণহীনতার, ভিপিএনের অপব্যবহারের এবং আমাদের সম্মিলিত নিষ্ক্রিয়তার।

 

 

ব্রাজিল বনাম হাইতি ম্যাচের ফলাফল জানাল সুপার কম্পিউটার

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্রয়ের পর ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া ব্রাজিল। আগামীকাল শনিবার দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতির মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ইতিহাস বলছে, বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচে জয়হীন থাকার অভিজ্ঞতা ব্রাজিলের খুবই বিরল। ১৯৭৮ সালের পর কোনো বিশ্বকাপে প্রথম দুই ম্যাচে জয়হীন থাকেনি তারা।

 

 

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের হিসেবে ব্রাজিলের অনেক পেছনে হাইতি। র‍্যাঙ্কিংয়ে ব্রাজিলের অবস্থান ৬ নম্বরে, আর হাইতি ৮৪ নম্বরে— দুই দলের মধ্যে পার্থক্য ৭৮ ধাপ। ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচে ব্রাজিলকেই স্পষ্ট ফেবারিট ধরা হচ্ছে। পরিসংখ্যানভিত্তিক পূর্বাভাস প্রতিষ্ঠান অপটার সুপারকম্পিউটারও সেলেসাওদের জয়ের সম্ভাবনা দেখছে ৮৭.৩ শতাংশ। বিপরীতে হাইতির জয়ের সম্ভাবনা মাত্র ৪.৩ শতাংশ, আর ড্রয়ের সম্ভাবনা ৮.৪ শতাংশ।

 

 

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করলেও ব্রাজিলের নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা এখনো বেশ উজ্জ্বল। অপটার হিসাব বলছে, গ্রুপ সি-তে শীর্ষস্থান অর্জনের সম্ভাবনা ব্রাজিলের ৫২ শতাংশ। শেষ ৩২-এ ওঠার সম্ভাবনা ৯০.৩ শতাংশ। এমনকি শিরোপা জয়ের সম্ভাবনাও ৫.৪ শতাংশ ধরা হয়েছে।

অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে হেরে যাওয়ায় হাইতির সমীকরণ কঠিন হয়ে গেছে। তাদের নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা মাত্র ৫.৮ শতাংশ। আর গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা নেমে এসেছে ০.৪ শতাংশে।

পরিসংখ্যানের হিসাবেও ব্রাজিল-হাইতি ম্যাচে স্পষ্ট ফেভারিট ব্রাজিল। দুই দলের অতীত রেকর্ড একেবারেই একপেশে। এর আগে তিনবার মুখোমুখি হয়ে তিনবারই জিতেছে ব্রাজিল। সেই ম্যাচগুলোতে ১৭ গোল করেছে সেলেসাওরা, বিপরীতে হাইতির গোল মাত্র একটি। সর্বশেষ ২০১৬ কোপা আমেরিকায় ব্রাজিল ৭-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল হাইতিকে।

 

 

খাদ্য অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি উন্মোচন, আটক ৪৯

খাদ্য অধিদপ্তরের ‘সহকারী উপ-খাদ্য পরিদর্শক’ পদের লিখিত পরীক্ষা চলাকালে ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ ৪৯ জনকে আটক করা হয়েছে।

 

 

শুক্রবার (১৯ জুন) রাজধানীর ঢাকা কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে তাদের আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সেলিমুল আজম।

 

 

খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক জানান, পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের সময় ডিভাইসসহ ২৫ জনকে শনাক্ত করা হয়। এ সময় তাদের মধ্যে ৪ জন পালিয়ে যায়। পরে ২১ জনকে আটক করা হয়। এছাড়া পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে আরও ২৮ জনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন প্রক্সি পরীক্ষার্থীও রয়েছে।

সেলিমুল আজম বলেন, আমরা সবাইকে যে ধরতে পেরেছি, তা বলছি না। তবে বিগত পরীক্ষাগুলোর তুলনায় আজকের পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। সব মিলিয়ে নারী-পুরুষসহ মোট ৪৯ জনকে আটক করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আটকদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, ব্যাটারি এবং ছোট আকারের ব্লুটুথ টাইপের ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে। আটকদের আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিশ্বকাপে নকআউটের টিকিট সবার আগে মেক্সিকোর

সবার আগে গ্রুপ পর্বের বাধা অতিক্রম করেছে মেক্সিকো। স্বাগতিকদের সমর্থনে গর্জে ওঠা গুয়াদালাহারা স্টেডিয়ামে গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নিয়ে আজ শুক্রবার (১৯ জুন) ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজকরা। গ্রুপ ‘এ’-এর ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে নকআউটের টিকিট কেটে নেয় মেক্সিকানরা।

 

 

পুরো ম্যাচজুড়ে দুই দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হলেও পার্থক্য গড়ে দেয় দ্বিতীয়ার্ধের একটি ভুল। ম্যাচের ৫০তম মিনিটে দক্ষিণ কোরিয়ার গোলরক্ষক কিম সুং-গিউয়ের মারাত্মক ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন লুইস রোমো। জুলিয়ান কিনোনেসের ক্রস থেকে রাউল হিমেনেজের হেডার আকাশে উঠে গেলে বলটি ধরতে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলেন কিম। তার হাত ফসকে সামনে পড়ে যাওয়া বল জালে জড়িয়ে দেন রোমো।

 

 

গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে রাখতে না পারলেও রক্ষণে দৃঢ়তা দেখায় মেক্সিকো। দক্ষিণ কোরিয়া বলের দখল বাড়িয়ে সমতায় ফেরার চেষ্টা চালায়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত মেক্সিকান রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক রেঞ্জেল তাদের হতাশ করেন।

ম্যাচের ৮৭তম মিনিটে দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে ভালো সুযোগটি আসে। একটি ক্রস থেকে চো গে-সুংয়ের হেড দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন রেঞ্জেল।

ফিরতি বলেও চোকে গোল করতে দেননি তিনি। যোগ করা সময়েও কর্নার থেকে সুযোগ পেয়েছিল কোরিয়ানরা, কিন্তু হান-বিওম লির হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে শেষ আশা নিভে যায় তাদের। প্রথমার্ধে দুই দলই খুব বেশি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে পারেনি। মেক্সিকো শুরুতে চাপ সৃষ্টি করলেও দক্ষিণ কোরিয়া ধীরে ধীরে ম্যাচের গতি কমিয়ে আনে। ফলে বিরতিতে যাওয়ার আগে মাত্র একটি শটই লক্ষ্যে ছিল।

এই জয়ে দুই ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘এ’ থেকে নকআউট নিশ্চিত করা প্রথম দল হয়ে গেল মেক্সিকো। অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে চেকিয়াকে হারানো দক্ষিণ কোরিয়া দ্বিতীয় ম্যাচে হেরে এখন কঠিন সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে গেছে।

 

 

গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে মেক্সিকো মুখোমুখি হবে চেকিয়ার, আর দক্ষিণ কোরিয়া লড়বে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। নকআউটে জায়গা নিশ্চিত করতে সেই ম্যাচে জয় ছাড়া বিকল্প নেই সন হিউং-মিনদের।

শিশু মৃত্যুর মিছিল থামছে না, সিলেটে হাম ও নিউমোনিয়ায় আরও ২ প্রাণহানি

সিলেটে হাম ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ল্যাব পরীক্ষায় নতুন করে ২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৬৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ফলে বিভাগজুড়ে হাম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

 

 

গত ২৪ ঘন্টায় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে আইসিওতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২ শিশুর মৃত্যু হয়। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ২৬১ জন ভর্তি রয়েছেন। এ নিয়ে ৭৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

 

 

বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিপ্তর সিলেট বিভাগের পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম।

মারা যাওয়া শিশুরা হলো- মৌলভীবাজার সদর উপজেলার পূর্ব সুলতানপুর এলাকার সজল মিয়ার ৭ মাস বয়সী ছেলে সারহান ও সিলেটের ওসমানীনগরের উজ্জল মিয়ার ৫ মাস বয়সের ছেলে আহিয়ান।

সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত বিভাগে মোট ৩২৭ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে হবিগঞ্জে ২৬ জন (২ জন রুবেলা), মৌলভীবাজারে ১৬ জন, সুনামগঞ্জে ১৭৮ জন এবং সিলেটে ১০৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ৬৯ জন ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৬১ জন সন্দেহজনক রোগী।

জেলাভিত্তিক মৃত্যুর তথ্যে দেখা যায়, সিলেটে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে ২৭ জন ও নিশ্চিত হামে ২ জনসহ মোট ২৯ জন, হবিগঞ্জে ৬ জন, মৌলভীবাজারে ১০ জন (সন্দেহজনক ৯ ও নিশ্চিত ১) এবং সুনামগঞ্জে ৩১ জন (সন্দেহজনক ৩০ ও নিশ্চিত ১) মারা গেছেন। চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে সন্দেহজনক হামে ৭২ জন এবং নিশ্চিত হামে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। মোট প্রাণহানি দাঁড়িয়েছে ৭৬ জনে।

 

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগের পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম কালবেলাকে বলেন, হাম উপসর্গ ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৬৯ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে ৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

হামলার দায় স্বীকার করল আফগানিস্তান, প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় পাকিস্তান

আফগানিস্তান সরকার দাবি করেছে, পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আইএসআইএস সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে তারা একাধিক হামলা চালিয়েছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

 

 

শুক্রবার আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানায়, পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে কথিত আইএসআইএসের আস্তানাগুলো লক্ষ্য করে এসব হামলা পরিচালিত হয়েছে।

 

 

মন্ত্রণালয়ের দাবি, ওই স্থানগুলো শত্রুভাবাপন্ন গোয়েন্দা চক্রের সহায়তায় আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের কাজে ব্যবহৃত হতো। এছাড়া অতীতে সংঘটিত বেশ কয়েকটি প্রাণঘাতী হামলার ক্ষেত্রেও এসব ঘাঁটি অপারেশনাল কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে আফগানিস্তানের এই দাবির বিষয়ে পাকিস্তান সরকার বা দেশটির সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সীমান্ত নিরাপত্তা, জঙ্গি তৎপরতা এবং একে অপরের ভূখণ্ড ব্যবহার করে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলা চালানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

 

আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, আফগানিস্তান তার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হুমকি আর সহ্য করবে না।

মাধ্যমিকের শুরুতেই বাধ্যতামূলক কারিগরি শিক্ষা, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষাব্যবস্থাকে বিশ্বমানের ও যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

 

 

শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে রোটারি বাংলাদেশ আয়োজিত ‘লিডার্স ট্রেনিং সেমিনার’ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

 

 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকার শিক্ষাব্যবস্থাকে বিশ্বমানের করে গড়ে তুলছে। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় গুরুত্ব দিচ্ছে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই পাঠ্যবইয়ে বাধ্যতামূলক হচ্ছে কারিগরি শিক্ষা।

তিনি আরও বলেন, পাবলিক পরীক্ষা আইন পাস হওয়ায় এখন থেকে ডিজিটাল নকলের সাজা দেওয়া হবে। সবাইকে উচ্চ শিক্ষা দিয়ে বেকারত্বের কারখানা তৈরি করা যাবে না বলেও উল্লেখ করেন শিক্ষামন্ত্রী।

আওয়ামী লীগ ইস্যুতে নিরাপত্তা জোরদার, সতর্ক পুলিশ প্রশাসন

কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং রাজনৈতিক সংঘাতের আশঙ্কা করছে পুলিশ। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দলটির সম্ভাব্য কর্মসূচিকে ঘিরে সংঘর্ষ ও উত্তেজনা এড়াতে দেশের সব পুলিশ ইউনিটকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

 

গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, দলটির নেতাকর্মীরা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন জেলা ও মহানগরের দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন এবং ব্যানার নিয়ে প্রকাশ্যে মিছিলসহ কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করতে পারে।

 

 

এ নিয়ে অন্যান্য রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের সঙ্গে সংঘর্ষের আশঙ্কা জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

এ পরিস্থিতিতে দেশের সব পুলিশ ইউনিটকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (কনফিডেনসিয়াল) মো. কামরুল আহসানের স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত এক চিঠিতে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন জেলায় দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন এবং প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ব্যানার নিয়ে প্রকাশ্যে মিছিল করতে পারে।

এর ফলে বিদ্যমান অন্যান্য রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে এনসিপির নেতাকর্মী ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্রদের সঙ্গে সংঘর্ষ তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডে বাধা দিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর ক্ষুব্ধ হতে পারে।

 

 

চিঠিতে আরও বলা হয়, এমতাবস্থায় এ বিষয়ের গুরুত্ব অনুধাবন করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

 

 

এ অবস্থায় বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে সব মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি এবং পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজিকে (অপারেশনস) প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

 

এর আগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নামে বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল, প্রচারপত্র বিতরণ ও কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। গতকাল (বৃহস্পতিবার) মহাখালীতে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল থেকে ককটেল বিস্ফোরণ করা হয়। এ সময় তিনজনকে আটকও করা হয়েছে। এছাড়া, গণভবনের সামনে যুবলীগও মিছিল করে।

 

 

পুলিশ বলছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমের মাধ্যমে যাতে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়, সে জন্য সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য নাশকতা ও সহিংসতা ঠেকাতে মাঠ পর্যায়ে বাড়তি নজরদারি রাখা হয়েছে।

 

 

সাবেক প্রতিমন্ত্রী হারুন অর রশিদের জানাজায় বিভিন্ন মহলের অংশগ্রহণ

সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। জানাজা পরিচালনা করেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের পেশ ইমাম কারি মো. আবু রায়হান।

 

 

শুক্রবার (১৯ জুন) জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সাবেক এই জানাজা সম্পন্ন হয়।

 

 

জানাজার শুরুতেই মরহুম হারুন অর রশিদের সংক্ষিপ্ত জীবনী পাঠ করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. খালেদ হোসেন মাহবুব।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও হুইপদের পক্ষে হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষে ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এবং পরিবারের পক্ষে মরহুমের ভাতিজা কামাল হোসেন।

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) জানাজায় উপস্থিত সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, হারুন অর রশিদ একজন বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান ছিলেন এবং পাঁচ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি ব্যক্তি জীবনে অমায়িক, সজ্জন, সাধারণ মানুষের জন্য নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, হারুন অর রশিদ দেশনেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আস্থা ভাজন ছিলেন। তার মৃত্যুতে দেশ একজন জাতীয়তাবাদী ঘরানার নিবেদিতপ্রাণ দেশপ্রেমিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে হারিয়েছে। এ সময় তিনি মরহুমের শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

 

 

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, হারুন অর রশিদ একজন অত্যন্ত প্রজ্ঞাবান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। সততা ও নিষ্ঠার জন্য তার জীবনাদর্শ আমাদের জন্য অনুকরণীয়। তিনি বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে হারুন আর রশিদের অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য।

 

 

জানাজা শেষে শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম), বিএনপির পক্ষে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, চিফ হুইপ ও অন্য হুইপদের পক্ষে হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন (নিজান), প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তার সামরিক সচিব এবং সংসদ সচিবালয়ের পক্ষে ব্যারিস্টার গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া ও কর্মকর্তারা।

 

 

শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান শেষে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

 

 

উল্লেখ্য, হারুন অর রশিদ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

 

 

জানাজা অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনৈতিক ব্যক্তিরাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

ভাড়া বাসায় আইসিটি কর্মকর্তার ঝুলন্ত মরদেহ, তদন্ত শুরু

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা পরিষদের সহকারী প্রোগ্রামার (আইসিটি) ও মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মাহমুদুর রহমানের (৩৫) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

 

 

শুক্রবার (১৯ জুন) বেলার ১১টার দিকে জীবননগর শহরের বসুতিপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

 

নিহত মাহমুদুর রহমান ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ঝিটকেপুতা গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে। তিনি ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জীবননগর উপজেলা পরিষদে আইসিটি কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। চাকরির সুবাদে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে জীবননগর শহরের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পারিবারিক কলহের জেরে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

খবর পেয়ে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, মাহমুদুর রহমান উপজেলা পরিষদের একজন শান্ত, ভদ্র ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ছিলেন। তার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।

 

 

নিহতের স্ত্রী ইতি খাতুন জানান, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে মাঝে মধ্যে মনোমালিন্য হলেও পরে তা মিটে যেত। তিনি বর্তমানে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ঘটনার দিন সকালে স্বামীর সঙ্গে কোনো ঝগড়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

 

 

তিনি আরও জানান, সকালে ছেলের জন্য জুস কিনতে বাজারে যান। ফিরে এসে ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকির পরও দরজা না খোলায় প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করলে মাহমুদুর রহমানকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।

 

 

নিহতের বাবা আতাউর রহমান জানান, তার ছেলে ও পুত্রবধূর মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়াঝাঁটি ও মনোমালিন্য হতো। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মাহমুদুর রহমান তার মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং পরিবারের খোঁজখবর নেন। একপর্যায়ে হঠাৎ ফোন কেটে দেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যুর খবর পান।

 

 

জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ থানায় নেওয়া হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

লেবানন সীমান্তে সংঘর্ষে নিহত ৪ ইসরায়েলি সেনা

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে চলমান সংঘর্ষে চার ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সেখানে তীব্র লড়াই চলছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

 

 

শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ৪০১তম ব্রিগেডের ৫২তম ব্যাটালিয়নের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল ডর গেদালিয়া বেন সিমহোন (৩২)। তিনি দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযানের সময় নিহত হন।

 

 

একই ঘটনায় আরও তিন ইসরায়েলি সেনাও নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। তবে তাদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিহত ওই তিন সেনার নাম পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।

দক্ষিণ লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলি বাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে, যার ফলে উভয় পক্ষেই হতাহতের ঘটনা ঘটছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায় লেবাননে যুদ্ধবিরতি উল্লেখ থাকলেও তা মানছে না ইসরায়েলি বাহিনী।

সীমান্তে নতুন করে পুশ-ইনের অভিযোগ, উত্তেজনা মেহেরপুরে

মেহেরপুরে সীমান্ত দিয়ে আবারও চারজনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর অবস্থানের কারণে সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

 

 

শুক্রবার (১৯ জুন) ভোরে সদর উপজেলার বুড়িপোতা বিওপির খালপাড়া সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভারতীয় তারকাটার এ পাশে নোম্যান্স ল্যান্ড ও ভারতীয় জমির মধ্যবর্তী স্থানে একটি বাঁশঝাড়ের নিচে এক নারী ও তিন পুরুষকে বসে থাকতে দেখেন সীমান্তের বাংলাদেশ অংশে চাষাবাদ করা স্থানীয় কৃষকরা। পরে বিষয়টি তারা বিজিবিকে অবহিত করেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ওই সময় এলাকায় অস্বাভাবিক চলাচল লক্ষ্য করা যায়। এরই মধ্যে প্রবল বৃষ্টি শুরু হলে কৃষকরা স্থান ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুশ-ইনের চেষ্টা করা ওই ব্যক্তিদের আর খুঁজে পায়নি বিজিবি ও স্থানীয় জনতা। তাদের বিএসএফ ফেরত নিয়ে গেছে, এমন কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যও পাওয়া যায়নি।

তবে স্থানীয়দের ধারণা, ভারতীয় তারকাটার এ পাশে ভারতীয় জমি, নোম্যান্স ল্যান্ড এবং বাংলাদেশের জমিতে পাটের আবাদ থাকায় ওই এলাকায় কেউ লুকিয়ে থাকলে তাদের খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন।

এদিকে স্থানীয়রা আরও জানান, ভোরে সীমান্ত এলাকায় চারজনকে অবস্থান করতে দেখার পর বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টার বিষয়টি সামনে আসে। খবর পেয়ে বিজিবি দ্রুত ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে পুশ-ইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং ওই ব্যক্তিরা সেখান থেকে সরে যান বলে জানা গেছে।

 

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সীমান্তের বিপরীতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার তেহট্ট থানার নাটনা বিএসএফ ক্যাম্প অবস্থিত।

 

 

এ বিষয়ে বিজিবি-৬ চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, শুক্রবার ভোরে বৃষ্টির আগে বিএসএফ চারজনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করেছিল। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি এবং ফিরে যায়।

 

 

তিনি আরও বলেন, সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। যে কোনো ধরনের পুশ-ইন প্রতিরোধে বিজিবি বদ্ধপরিকর।

 

 

উল্লেখ্য, এর আগে গত ৬ জুন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া সীমান্তের ১৪০ নম্বর মেইন পিলারের ৪-এস সাব-পিলার সংলগ্ন এলাকা দিয়ে সাতজনকে বিএসএফ শূন্যরেখায় ঠেলে পাঠায় বলে অভিযোগ ওঠে। ওই সাতজন শূন্যরেখায় অবস্থান করার সময় পার্শ্ববর্তী ১৪০ নম্বর মেইন পিলারের ৫-এস সাব-পিলার সংলগ্ন এলাকা দিয়ে আরও ছয়জনকে পুশ-ইন করা হয় বলে জানা যায়। পুশ-ইন হওয়া ১৩ জনের মধ্যে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী বর্তমানে গাংনী উপজেলার কাজিপুর গ্রামে অবস্থান করছেন।

তিস্তা ব্যারাজের অবস্থা পর্যবেক্ষণে তিন মন্ত্রীর সফর

তিস্তা ব্যারাজ এবং তিস্তা নদী তীরবর্তী ভাঙন পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শনে আজ শুক্রবার (১৯ জুন) লালমনিরহাট সফরে যাচ্ছেন সরকারের তিন মন্ত্রী।

 

 

সফরসূচি অনুযায়ী, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু দুপুরে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ এলাকা পরিদর্শন করবেন।

 

 

পরিদর্শন শেষে মন্ত্রীরা তিস্তা অবসর হলরুমে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন। সভায় তিস্তা অববাহিকার নদীভাঙন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীশাসন এবং চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

এছাড়া সফরের অংশ হিসেবে তিস্তা পাড়ের ভাঙনকবলিত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখবেন তারা। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি ও সমস্যাগুলোও সরাসরি শুনবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

তিস্তা তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা জানান, সরকারের উচ্চপর্যায়ের এই সফর তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথকে আরও বেগবান করবে। একই সঙ্গে নদীভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ এবং স্থায়ী নদীশাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তারা আশা করছেন।

স্থানীয়দের মতে, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে তিস্তার ভাঙনে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই স্থায়ী সমাধানের দাবিতে সোচ্চার রয়েছেন নদীপাড়ের মানুষ।

 

 

হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপ জন মিত্র বলেন, ‘মন্ত্রীদের সফরকে ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে থানা পুলিশকেও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

বিস্ফোরক মামলায় পদচ্যুত ইউপি চেয়ারম্যান ও আ.লীগ নেতা গ্রেপ্তার

বিস্ফোরক মামলায় সিরাজগঞ্জের তাড়াশ সদর ইউনিয়ন পরিষদের পদচ্যুত চেয়ারম্যান ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা বাবুল শেখকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

শুক্রবার (১৯ জুন) ভোররাতে তাড়াশ পৌর শহরের নিজবাড়ী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাবুল শেখ তাড়াশ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি।

 

তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান জানান, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আব্দুল মান্নান তালুকদারের নির্বাচনী জনসভায় হামলার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

 

মামলার বরাত দিয়ে তিনি জানান, ২০১৮ সালের ১২ ডিসেম্বর বারুহাস ইউনিয়নের বিনোদপুর বাজারে নির্বাচনী পথসভায় অংশ নিতে যান বিএনপির প্রার্থী আবদুল মান্নান তালুকদার। এ সময় তার ওপরে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে মান্নান তালুকদারের গাড়ি ভাঙচুর করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। সেই সঙ্গে হত্যার উদ্দেশ্যে ককটেল বিস্ফোরণও ঘটায়। ওই সময় পুলিশ ও দলীয় নেতাকর্মীরা মানবঢাল তৈরি করে মান্নান তালুকদারের জীবন রক্ষা করেন। এ হামলায় বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছিলেন।

 

এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর বারুহাস ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে সাবেক সংসদ সদস্য ডা. আব্দুল আজিজসহ ৯৯ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৩০০ জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। এ মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি বাবুল শেখ।

 

‘ফুটবল বিশ্বকাপ আমাদের আবেগ ও দুর্বলতা’

আমাদের দেশে রাজনীতির মাঠে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ কর্মীদের মধ্যে যে আবেগ, উৎসাহ ও উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হয়, তদ্রুপ বিশ্ব ফুটবলের পরাশক্তি ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাকে ঘিরেও একই ধরণের আবেগ ও উন্মাদনা লক্ষ্যনীয়।

 

আয়োজক যে দেশই হোক না কেন বাংলাদেশে এই দুই দলের সমর্থকদের মাঝে উৎসাহ ও নানা আয়োজন বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া কোনো দেশের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। স্বাধীনতার পূর্ব ও পরে আবাহনী-মোহামেডান মানেই ছিল অনিন্দম আকর্ষণ। পাড়ায় মহল্লায় ছাদে বা গাছে শোভা পেত ক্লাব পতাকা সেগুলোর মধ্যে দেশীয় ফুটবলের ছাপ ছিল।

 

নব্বই দশকে এই দেশে টিভি দেখার সীমাবদ্ধতা ছিল,  হাতে গোনা দুই এক বাসায় টিভি ছিল, বৈঠকখানা বা উঠানে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হতো বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখার জন্য। বিনোদনের সীমাবদ্ধতা ছিল তথাপি বিশ্বকাপ মানুষ উপভোগ করেছে। এখন ঘরে ঘরে টিভি, সকলের দোরগোড়ায় বিনোদন, কিন্তু ভক্তদের দলীয় আবেগী প্রদর্শন ও নিন্দনীয় ব্যবহারিক দিক বেশি পরিলক্ষিত হয়। এখন ফুটবল খেলা যতটা না উপভোগ্য তার চেয়ে বেশি হিংসা-বিদ্বেষ হানাহানি অন্যকে ঘায়েল করা বেশ পরিলক্ষিত হয়।

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজ নিজ সমর্থিত দলের হয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে বিতর্কিত স্ট্যাটাস দেওয়া কমেন্টস করা নিত্য নৈমত্তিক ব্যপার। আর পাড়ায় মহল্লায় আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, মারামারি, মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি-সেটাই এখানে আলোচ্য বিষয়।

যে সকল দেশ নান্দনিক ফুটবল খেলে আমাদের সকলকে মুগ্ধ করে,  বিশেষ করে দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিল আর্জেন্টিনা, চিলি উরুগুয়ে, আফ্রিকার মরোক্ক, ঘানা, নাইজেরিয়া, ইজিপ্ট এবং ইউরোপের ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানি, ইংল্যান্ড, হল্যান্ড, পর্তুগাল। এশিয়ার জাপান, কোরিয়া, সৌদি আরব সবাই নান্দনিক ফুটবল খেলে।  তাই সবার খেলাই আমাকে আনন্দ দেয়।

 

কোনো কোনো দেশ শিরোপা না জিতলেও বিশ্বব্যাপী ফুটবল অনুরক্ত ভক্ত রেখে গেছে যেমন: পোল্যান্ড পর্তুগাল, ক্রোয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, মেক্সিকো। আমাদের দেশে ফুটবল অনুরাগীদের মাঝে উন্মাদনা এতটাই বেশি যে তারা রাজনৈতিক কর্মীদের মতো আবেগ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও লোক দেখানো প্রতিযোগিতা করে থাকেন।  দেশব্যাপী বিদেশী পতাকার অযাচিত ব্যবহার বাড়িঘর রং দিয়ে দৃষ্টি আকৰ্ষণ, পাড়ায় মহল্লায় পরিবেশের যে বিপর্যয় সেটা বড্ডো বাড়াবাড়ি বলে আমার কাছে মনে হয়।

 

নিজ পছন্দের দলকে ঈশ্বর বানিয়ে বাকি দলগুলোকে হেয় করা, তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করা তিরস্কার করা থেকে বিরত হন। আপনারা কে কতবড় জ্ঞানী সেটা জাহির করতে অন্যকে বিদ্রুপ করা, ছোট করা, আঘাত করা থেকে বিরত হন। খেলায় দলীয় পছন্দের ভিন্নতা থাকতে পারে তাই বলে বন্ধুত্ব নষ্ট করা, সম্পর্ক ছিন্ন করা, বিভিন্ন শ্রেণীর মধ্যে দূরত্ব তৈরী করা খুবই অস্বাভাবিক। খেলা শেষে সবাই যে যার জায়গায় ফিরবেন, আবারও সবার সাথে দেখা হবে কিন্তু সম্পর্কটা স্বাভাবিক হবে তো ?

বিশ্ব ফুটবলে আমাদের অবস্থান ১৮১ নম্বর। যে দেশ দক্ষিণ এশিয়া জয় করতে পারে না, এশিয়ান কোয়ালিফাই করতে পারা দিবাস্বপ্ন সেখানে বিশ্বকাপ আমাদের কাছে টেলিস্কোপে মহাকাশ দেখার সামিল। ফুটবলে আমাদের অবস্থান ১৮১ অথচ ওয়ার্ল্ডকাপে অংশ নেয়া অন্য দেশগুলোকে আমরা কতটাই না তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করি। আমাদের চেয়ে অধিক যোগ্যতাসম্পন্ন দেশকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করা আপনাদের জন্য কতটা মানানসই বোধগম্য না।

 

সুদূর দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা নিয়ে দেশের মানুষের মধ্যে যে ব্যক্তিত্বের লড়াই, জ্ঞানের লড়াই তা নিতান্তই ছেলেমানুষি। যাদের নিয়ে আপনাদের এতো আবেগ সে দেশের ৯০% মানুষ হয়তো বাংলাদেশকে চেনেই না। যেমন প্রতিবেশী চীনের মতো দেশের অধিকাংশ মানুষ বাংলাদেশকে চেনে না। তেমনি যারা আপনাকে চেনেনা যাদের সাথে আমাদের অর্থনৈতিক বা সাংস্কৃতিক সম্পর্ক নেই, সেই দেশের ফুটবলকে সমর্থন করতে গিয়ে আপনি আপনার পরিবার , আত্মীয় , মহল্লা কর্মক্ষেত্রে নিজেকে বিতর্কিত করছেন। নিজের আত্মঅহংকার ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে হাতাহাতি, মারামারি, খুন পর্যন্ত গড়িয়ে যাচ্ছে। ব্রাজিল না আর্জেন্টিনা কে শ্রেষ্ট সেইটা নিয়ে ঘরে ঘরে মহল্লায় মহল্লায় যুদ্ধ হয় ।

আপনারা পারেনও বটে সবকিছুর মধ্যে একজনকেই শ্রেষ্ট বানাতে। সেটা ফুটবল হোক, সিনেমার নায়ক নতুবা অন্য কোনো পেশা। পূর্বে আমাদের দেশে নায়কের অভাব ছিলোনা কিন্তু দেশে নায়ক মানেই বলা হয় নায়ক রাজ রাজ্জাক। কেননা তার নামের পূর্বে রাজ্ শব্দছিল তাই তিনি নায়কদের রাজা বাকিরা প্রজা। এই নায়ক রাজ রাজ্জাক সাহেবের নামের কারণে অভিনেতা ফারুক, উজ্জ্বল, সোহেল রানা, জাভেদ, মিডিয়াতে কখনোই নায়ক হতে পারে নাই। এখনো অনেক ভালো নায়ক আছে কিন্তু সাকিব খানই একমাত্র নায়ক, বলিউডে সালমান খান না শাহরুখ খান কে শ্রেষ্ঠ সেটা নিয়েও আমাদের দেশ ঘরে ঘরে বিতর্ক হয়। এক কেন্দ্রিক এই অসুস্থ প্রতিযোগিতা এক প্রকার গরিব মানুষিকতা ও রুচির দুর্ভিক্ষের শামিল। ফুটবলে আমাদের আবেগ নিয়ে আদর্শিক পরিবর্তন জরুরি কেননা যে সকল দেশ বিশ্বকাপ খেলছে তাদের মধ্যে আমাদের মতো এতো উৎসাহ উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হয় না।

 

ইউরোপের ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল, ইংল্যান্ড, ওয়ার্ল্ডকাপ খেললেও সে দেশের রাস্তায় সেই উত্তেজনা দেখা যায় না। যদিও তারা ঐতিহ্যগতভাবে ফুটবল জাতি তথাপি তাদের মধ্যে আমাদের মতো সেই আদিখ্যাত নেই যেমনটা আমরা ফুটবল নিয়ে করি।

কেউ সাপোর্ট করে ব্রাজিল আর্জেন্টিনা কেউ ফ্রান্স জার্মানি সেটা তাদের ব্যক্তি পছন্দ। দয়াকরে তাদের সেই পছন্দকে সন্মান দিতে শিখুন। মহল্লায় আপনার দলীয় সমর্থক থাকতে পারে তাই বলে আন্যান্য ছোট গ্রুপকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করবেন সেটা আপনার পারিবারিক জ্ঞান ও শিষ্টাচারের দুর্বলতা। প্রতি চার বৎসর পর বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয় এর মাধ্যমে আমরা আয়োজক দেশের শক্তি সামর্থ, অবকাঠামো, কৃষ্টি কালচার জানতে পারি। এখান থেকেও অন্য দেশ সম্পর্কে অনেক কিছু শেখার আছে।

 

ফুটবল এক বিশ্ব বিনোদন- সেই বিনোদনকে নিজেদের নোংরা মানুষিকতা ও রাজনৈতিক আদর্শ থেকে দূরে রাখি -রাজনৈতিক দলীয় আবেগ দিয়ে বিশ্ব বিনোদনকে না দেখি।  আর্জেন্টিনা ব্রাজিলের জার্সি গায়ে দিলেই আপনি আর্জেন্টাইন বা ব্রাজিলিয়ান হয়ে যাচ্ছেন না। পারলে জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরী, তারিক কাজির জার্সি গায়ে জড়িয়ে অন্য দেশের খেলা দেখুন এতে দেশের প্রতি আপনার সাপোর্ট প্রতিষ্ঠা পাবে,খেলাধুলার আবেগ প্রতিষ্ঠা পাবে। আর এভাবে ফুটবল বিশ্বকাপ হয়ে উঠুক আমাদের প্রাণের উৎসব।এখান থেকে আমরা মাদকমুক্ত দেশ গড়ার প্রত্যয় ও অঙ্গীকার ব্যক্ত করি।

লেখক: লায়ন মাহফুজ রহমান
রাজনৈতিক বিশ্লেষকও সমাজকর্মী,
প্রবাসী পেশাজীবী সম্পাদক, কেন্দ্রীয় পেশাজীবী অধিকার পরিষদ (BPRC)
কনসালটেন্ট এজেন্ট ব্রিটিশ কাউন্সিল

স্থগিত হলো যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক

সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বৈঠক স্থগিত হয়েছে। সুইস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবার (১৯ জুন) দেশটির বুর্গেনস্টক রিসোর্টে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল, তা আর অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।

 

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র জানান, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের জন্য নির্ধারিত সফর বাতিল করেছেন।

 

এই বৈঠকে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে হওয়া সমঝোতা বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা ছিল।

 

তবে আলোচনার পরিকল্পনা এখনও চূড়ান্ত না হওয়ায় সফর ও বৈঠক-দুটিই আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো পরে নতুন তথ্য জানাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বহুল আলোচিত সমঝোতা স্মারক আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা সরাসরি উপস্থিত না হয়ে ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে ইলেকট্রনিক উপায়ে এই চুক্তিতে সই করেছেন।

 

সমঝোতা স্মারকে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার কথা বলা রয়েছে। পাশাপাশি ইরানের ওপর থেকে নির্দিষ্ট কিছু আর্থিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কথাও বলা হয়েছে।

 

বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েন করবে পাকিস্তান!

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও সাবমেরিন মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে পাকিস্তান। ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান নৌবাহিনীর নতুন ‘হাঙ্গর’ শ্রেণির সাবমেরিনগুলো বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় উপস্থিতি বজায় রাখার সক্ষমতা অর্জন করেছে।

 

ইন্ডিয়া টুডের তথ্যমতে, চলতি বছরের এপ্রিলে চীনে কমিশনপ্রাপ্ত হাঙ্গর শ্রেণির সাবমেরিনটি গত সপ্তাহে করাচিতে পৌঁছেছে। পাকিস্তান নৌবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এখন আরব সাগরের গণ্ডি পেরিয়ে ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগরে নিজেদের অপারেশনাল সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন। বহরের কমান্ডার কমোডর ওমর ফারুক জানিয়েছেন, পাকিস্তান তাদের নৌবহরে এ শ্রেণির মোট আটটি সাবমেরিন অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে, যা বঙ্গোপসাগরে তাদের কার্যকর উপস্থিতি নিশ্চিত করবে।

 

চীন থেকে পাকিস্তানে ফেরার পথে কলম্বো বন্দরে পাকিস্তানের ফ্রিগেট ‘পিএনএস তৈমুর’-এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কমোডর ওমর ফারুক সাবমেরিনটিকে ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে অভিহিত করেন। বিশ্লেষকদের মতে, তার এই বক্তব্য প্রমাণ করে যে ইসলামাবাদ এখন কেবল উপকূলীয় প্রতিরক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না। ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগরে বিস্তৃত উপস্থিতির মাধ্যমে পাকিস্তান নৌবাহিনী আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভারতের মুখোমুখি হতে আগ্রহী।

 

গত পাঁচ দশকে ভারতীয় নৌবাহিনী উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে। বর্তমানে তাদের হাতে রয়েছে পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন, দুটি বিমানবাহী রণতরী এবং উন্নত নজরদারি প্রযুক্তি। ভারতের সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই পদক্ষেপ বঙ্গোপসাগরের সামরিক ভারসাম্য রাতারাতি বদলে দেওয়ার মতো না হলেও, এটি ভারতের জন্য কৌশলগত অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

 

১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সাবমেরিন ‘পিএনএস হাঙ্গর’ কর্তৃক ভারতের যুদ্ধজাহাজ ‘আইএনএস খুকরি’ ডুবিয়ে দেওয়ার ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো সতর্ক করছে যে, এই নতুন সাবমেরিন মোতায়েন ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার নৌ-কৌশলগত প্রতিযোগিতাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।

 

মাদরাসায় রাখা ‘মেইড ইন পাকিস্তান লেখা রিভলবারটি কার, খতিয়ে দেখছে র‌্যাব

ঢাকার আশুলিয়ায় থানার একটি মাদরাসায় নির্মাণাধীন ওয়াশরুমের ভেতরে পাওয়া গেল মেইড ইন পাকিস্তান লেখা রিভলবার ও দুই রাউন্ড গুলি।

 

বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে আশুলিয়া থানার শ্রীপুর গণকবাড়ী এলাকায় অবস্থিত তাহফিজুল কুরআনিল কারিম ফাজিল মাদরাসা অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় এই আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে র‌্যাব।

 

তবে এই অস্ত্র কিভাবে এসেছে কে নিয়ে এসেছে এ বিষয়ে ২৪ ঘণ্টাতেও কোন তথ্য উদঘাটন করতে পারেনি আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা।

 

র‌্যাব জানায়, ওই মাদরাসায় মাদক মজুদ রয়েছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে  র‌্যাব-৪-এর সিপিসি-২, নবীনগর ক্যাম্পের একটি টহল দল সেখানে অভিযান চালায়। পরে মাদরাসা প্রাঙ্গণে অভিভাবকদের ওয়েটিং রুমের পাশের একটি নির্মাণাধীন ওয়াশরুমে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে ওয়াশরুমের টয়লেটের মেঝেতে কয়েকটি ইটের নিচে লুকিয়ে রাখা একটি ছেঁড়া শপিং ব্যাগের সন্ধান মেলে। সেই ব্যাগের ভেতর সবুজ পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় একটি রিভলবার এবং দুই রাউন্ড ২২ বোরের গুলি পাওয়া যায়।

 

র‍্যাব-৪, সিপিসি-২-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর আরমান হোসেন হৃদয় গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, উদ্ধারকৃত আট চেম্বারবিশিষ্ট সিলিন্ডারের রিভলবারটির ব্যারেল, ট্রিগার ও হ্যামারসহ সবকিছু অক্ষত রয়েছে। অস্ত্রটির গায়ে ইংরেজিতে ‘মেইড ইন পাকিস্তান’লেখা খোদাই করা রয়েছে। এছাড়া উদ্ধার হওয়া গুলির পেছনেও ইংরেজি অক্ষর ‘টি’ খোদাই করা ছিল।

 

তিনিবলেন, এই অস্ত্রের মূল উৎস কী এবং কারা এটি মাদরাসায় এনে লুকিয়ে রেখেছিল, তা উদ্‌ঘাটনে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম ও তদন্ত চলমান রয়েছে।

 

সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথ: ৫,৫০০ কোটির প্রকল্পে ব্যয় বেড়ে ১২,৫০০ কোটি

স্থবির হয়ে পড়া বগুড়া-সিরাজগঞ্জ নতুন ডুয়েলগেজ রেললাইন প্রকল্প গতি পেয়েছে। বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় থাকা প্রকল্পটির সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) রেলপথ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সংশোধিত ডিপিপিতে বাংলাদেশ রেলওয়ের এই প্রকল্পের খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা। ২০১৮ সালে একনেকে অনুমোদনের সময় প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫ হাজার ৫৭৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

 

 

 

আট বছরের ব্যবধানে প্রকল্প ব্যয় দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধির বিষয়ে প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্মাণসামগ্রী ও জমির মূল্যবৃদ্ধি, মার্কিন ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি ও প্রকল্পের পরিধি সম্প্রসারণের কারণে ব্যয় বেড়েছে।

 

 

 

বগুড়া-সিরাজগঞ্জ পথে নতুন এই ৭৬ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণ হলে এ পথে দূরত্ব কমবে ১১৪ কিলোমিটার। এতে যাত্রার সময় বাঁচবে প্রায় তিন ঘণ্টা। প্রকল্প সূত্র বলেছে, প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম গতি পেয়েছে। বগুড়া ও সিরাজগঞ্জে জমি বুঝে নেওয়ার কাজ চলছে।

 

 

 

নতুন এই ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ রেলওয়ে। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। তখন এই প্রকল্পে ভারতীয় ঋণে অর্থায়ন করার কথা ছিল। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছরের মার্চে বিগত অন্তর্বর্তী সরকার এই প্রকল্পে ভারতীয় অর্থায়ন বাতিল করে। এতে প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল।

 

 

 

বর্তমানে প্রকল্পটির অর্থায়নে এগিয়ে এসেছে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি)। আগে প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ২০১৮ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল। সংশোধিত প্রস্তাবে মেয়াদ আরও চার বছর বাড়িয়ে ২০৩০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। সংশোধিত ডিপিপি ১৪ জুন রেলপথ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে প্রকল্প দপ্তর। মন্ত্রণালয় থেকে ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে যাবে। সবকিছু ঠিক থাকলে সংশোধিত ডিপিপি এক মাসের মধ্যে একনেক সভায় উঠবে বলে জানিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সূত্র।

 

 

 

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, কাজের পরিধি বাড়ার পাশাপাশি জমির দাম, নির্মাণসামগ্রীর দাম, ডলারের বিনিময় হার অনেক বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্প ব্যয়ও বেড়েছে। জমির বর্তমান বাজারমূল্য বৃদ্ধি এবং পুনর্বাসন ব্যয় বাড়ায় ভূমি অধিগ্রহণ খাতে ব্যয় উল্লেখযোগ্য বেড়েছে। সর্বশেষ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রতিবেদনে ইঞ্জিনিয়ারিং চাহিদার পরিবর্তন, রেল ফ্লাইওভার অন্তর্ভুক্তকরণ এবং বিভিন্ন সম্প্রসারণমূলক কাজের সুপারিশ করা হয়েছে।

 

 

 

এদিকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ১২ জুন বগুড়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এই প্রকল্পের রুট পরিবর্তনসহ বিভিন্ন প্রস্তাবের কথা জানান।

 

 

 

জানতে চাইলে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, প্রকল্পটির নকশা ও অ্যালাইনমেন্ট চূড়ান্ত করা হয়েছে। শিগগির ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হবে এবং আগামী এক মাসের মধ্যে এটি একনেকে উপস্থাপন করা হবে। এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রীর প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা, জনস্বার্থসহ সব দিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যে প্রস্তাব প্রকল্প ও জনগণের জন্য সবচেয়ে উপযোগী বলে বিবেচিত হবে, সেটিই বাস্তবায়ন করা হবে।

 

 

 

মূল ডিপিপিতে ৯৬০ একর জমি অধিগ্রহণের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৯২১ কোটি টাকা। তবে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান চূড়ান্ত অ্যালাইনমেন্ট নির্ধারণ ও ভূমি অধিগ্রহণ পরিকল্পনা প্রণয়নের পর প্রয়োজনীয় জমির পরিমাণ দাঁড়ায় ৯০১ দশমিক ৭৭ একর। এরপর বগুড়া ও সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসকদের চূড়ান্ত ব্যয় প্রাক্কলনে ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৪৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ জমির মূল্যবৃদ্ধির কারণে শুধু এ খাতেই ব্যয় বেড়েছে ৩২৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা।

 

 

 

প্রকল্প সূত্র জানায়, ভূমি অধিগ্রহণ বাবদ প্রয়োজনীয় অর্থ ইতিমধ্যে দুই জেলার প্রশাসকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

 

 

দূরত্ব কমবে ১১৪ কিলোমিটার:
সংশোধিত ডিপিপি সূত্রে জানা যায়, এই প্রকল্পের আওতায় বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত সরাসরি প্রায় ৭৬ কিলোমিটার নতুন ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ করা হবে। বগুড়া সদর, কাহালু, শাজাহানপুর, শেরপুর, রায়গঞ্জ, কামারখন্দ ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।

 

 

 

বর্তমানে বগুড়া-সিরাজগঞ্জ পথে ট্রেন চলাচলের জন্য প্রায় ১৯০ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। ট্রেনগুলোকে সান্তাহার, নাটোর ও পাবনার ঈশ্বরদী হয়ে অতিরিক্ত পথ অতিক্রম করতে হয়। এতে সময় বেশি লাগে, পরিচালন ব্যয়ও বেশি হয়। নতুন রেললাইন চালু হলে এ পথে দূরত্ব ১১৪ কিলোমিটার কমবে এবং যাত্রার সময় প্রায় তিন ঘণ্টা সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের দ্রুত, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী রেল যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে বলে আশা করছে রেলওয়ে।

 

 

 

প্রকল্পের আওতায় ৮৬ দশমিক ৫১ কিলোমিটার মূল রেললাইন এবং ৩৭ কিলোমিটার লুপলাইন নির্মাণ করা হবে। করতোয়া নদীর ওপর ২৪৬ মিটার এবং ইছামতী নদীর ওপর ২০৫ মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি বড় সেতুসহ মোট ১২১টি ছোট-বড় সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের ওপর একটি রেল ওভারপাস এবং ঢাকা-নাটোর মহাসড়কের ওপর একটি রোড ওভারপাস নির্মাণ করা হবে।

 

 

 

এই পথে মোট ১১টি স্টেশন থাকবে। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জ জংশন, কৃষ্ণদিয়া, রায়গঞ্জ, চান্দাইকোনা, সনকা, শেরপুর, আরিয়া বাজার ও রাণীরহাটে নতুন আটটি স্টেশন নির্মাণ করা হবে। অন্যদিকে বগুড়া, কাহালু ও সদানন্দপুর স্টেশন পুনর্নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া রাণীরহাট এলাকায় একটি ‘ওয়াই’ আকৃতির রেললাইন নির্মাণ করা হবে, যার একটি শাখা বগুড়ার দিকে এবং অন্যটি কাহালুর দিকে যাবে।

 

 

 

প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক মো. আবু জাফর মিঞা আজকের পত্রিকাকে বলেন, সংশোধিত ডিপিপি রেলপথ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ডিপিপি অনুমোদিত হলে দরপত্র আহ্বানসহ পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মূল নির্মাণকাজ শুরু করতে আরও প্রায় ৯ মাস লাগতে পারে। আন্তর্জাতিক মানের চুক্তিপত্র করা হয়েছে, যাতে প্রয়োজনীয় সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ২০১৮ সালে যখন ডিপিপি করা হয়েছিল, তখনকার দামের ভিত্তিতে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে নির্মাণসামগ্রীসহ প্রায় সবকিছুর দাম, বিশেষ করে ডলারের বিনিময় হার বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্প ব্যয়ও বেড়েছে।

 

 

 

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারের উচ্চপর্যায়ের আগ্রহের কারণে প্রকল্পটির বিভিন্ন প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়ায় গতি এসেছে। অগ্রাধিকারের তালিকায় থাকা প্রকল্পটিকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, রেললাইনটি অনেক আগেই নির্মাণ হওয়া উচিত ছিল। রাজনৈতিক কারণে তা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘদিন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত না হওয়ায় এখন অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রয়োজন হচ্ছে। সময়ের ব্যবধানে জমি অধিগ্রহণ, নির্মাণসামগ্রী ও অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্প ব্যয়ও বেড়েছে। তবে শুরু থেকে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে নির্ধারিত সময় ও ব্যয়ের মধ্যে কাজ শেষ করা যায়।

সূত্র: আজকের পত্রিকা

 

মার্কিন-ইরান সমঝোতার মধ্যেও ইসরায়েলি হামলা, লেবাননে নিহত ১৬

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল নাবাতিয়েহ জেলায় ইসরায়েলি বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া বেশ কয়েকজন আহত ও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায় লেবাননে যুদ্ধবিরতির উল্লেখ থাকলেও ইসরায়েল হামলা চালাল।

 

 

 

শুক্রবার সকালে আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যরাতের পর শুরু হওয়া হামলাটি ছিল সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম তীব্র ইসরায়েলি অভিযান। এ সময় একাধিক আবাসিক বাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

 

 

 

নাবাতিয়েহ শহর ছাড়াও কফার জৌজ, কফার রেমান এবং জেবদিনসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী গোলাবর্ষণ করে। পরে কফার তিবনিত ও রাইহান পাহাড়ি এলাকাতেও ধারাবাহিক বিমান হামলা চালানো হয়।

 

 

হামলায় নাবাতিয়েহ ও হারুফ এলাকায় অন্তত আটজন নিহত হন। এছাড়া আল-শারকিয়া ও দৌইরের মধ্যবর্তী একটি বাড়িতে হামলায় চারজন প্রাণ হারান। কফার সির শহরে একটি পৃথক হামলায় আরও তিনজন নিহত হয়েছেন।

 

এদিকে দৌইর পৌরসভা ভবনের কাছে একটি মোটরসাইকেল লক্ষ্য করে চালানো ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় একজন নিহত এবং আরেকজন আহত হয়েছেন।

 

 

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

৫ শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১৭ শিক্ষক-কর্মচারী!

পটুয়াখালীর বাউফলের পূর্ব ইন্দ্রকুল ফিরোজা কামাল বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় ৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য মোট ১৭ জন শিক্ষক ও কর্মচারী রয়েছে। এ মাদ্রাসায় প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের অনুমোদন রয়েছে।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বেলা ১১টায় সরেজমিনে মাদ্রাসায় দেখা যায়, পঞ্চম শ্রেণির ওপরে কোনো শিক্ষার্থী নেই। উপস্থিত পাঁচ শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিতে একজন করে এবং চতুর্থ শ্রেণিতে দুইজন রয়েছে।

 

 

 

মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানে ১৩ জন শিক্ষক ও চারজন কর্মচারী কর্মরত আছেন। তবে পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক ও কর্মচারী মিলিয়ে সাতজন। একই কক্ষে ভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে পাঠদান করতে দেখা যায়। আবার কয়েকজন শিক্ষককে একটি কক্ষে বসে গল্প করতেও দেখা গেছে। এ সময় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির কোনো হাজিরা খাতাও পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯৯৪ সালে স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মোতালেব মিয়া মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরে ২০০৪ সালে এটি এমপিওভুক্ত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তিনি মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে তার পুত্রবধূ মাহফুজা আক্তার মাদ্রাসার সুপার, মেয়ে নুরজাহার রাঢ়ি ইবতেদায়ি শিক্ষক এবং দুই ছেলে খাইরুল ইসলাম অফিস সহকারী ও সিদ্দিকুর রহমান নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষক জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী না থাকায় স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা বলছেন, অন্য একটি এমপিওবিহীন প্রতিষ্ঠানের কিছু শিক্ষার্থী এই মাদ্রাসার মাধ্যমে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। এ ছাড়া শাপলাখালী এলাকার একটি প্রতিষ্ঠানে সম্মানীর ভিত্তিতে শিক্ষক পাঠানো হয় এবং সেখানকার কিছু শিক্ষার্থীও এ মাদ্রাসার অধীনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।

 

 

মাদ্রাসার সুপার মাহফুজা আক্তার বলেছেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতা ও বর্ষাকালে রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা এ মাদ্রাসায় ভর্তি হতে আগ্রহ দেখায় না। ফলে পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি আরও জানান, এমপিওভুক্ত নয় এমন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের তাদের মাদ্রাসার অধীনে নিবন্ধন করিয়ে দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়।

 

আগস্টে সারা দেশে শোডাউনের পরিকল্পনা আ.লীগের, ২৪টি কমিটি গঠন

আসন্ন আগস্ট মাসে ঢাকাসহ সারা দেশে বড় ধরনের শোডাউন করার চিন্তা করছে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মী। এজন্য নানা কৌশলে তারা সংঘটিত ও সক্রিয় হচ্ছে।

 

 

 

নিষিদ্ধ থাকার পরও এরই মধ্যে জেলা-উপজেলা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন কমিটি দিয়েছে ছাত্রলীগ। সিরাজগঞ্জ, খাগড়াছড়ি, শেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, কিশোরগঞ্জ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা কলেজসহ প্রায় দুই ডজন কমিটি গঠন করেছে তারা।

 

 

 

এদিকে গত ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকে মাঠের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা চাঙ্গাভাব দেখা যায়। নির্বাচনের পরপরই আত্মগোপনে থাকা মধ্যম সারির কিছু নেতা প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছেন। বিদেশ থেকেও কিছু নেতা দেশে ফিরেছেন। তবে এসব নেতা এলাকায় চুপচাপ অবস্থান করছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছে, ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপপ্রচার সামনে আরও বাড়তে পারে। কারণ অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে বর্তমানে সরকারের কেউ প্রকাশ্যে কথা বলছে না।

 

এ বিষয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী কালবেলাকে বলেন, শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধান টার্গেট ছিল ড. ইউনূস। কারণ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পর ড. ইউনূস প্রথম ভারতের সঙ্গে চোখে চোখ রেখে কথা বলেছেন। ক্ষমতায় এসে তিনি ভারতীয় আধিপত্যবাদের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে চেয়েছিলেন। বাংলাদেশকে ডিস্টার্ব করলে ভারতের সেভেন সিস্টার ভেঙে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল ড. ইউনূস।

 

 

এ ছাড়া বাংলাদেশে সংস্কার আনা, মার্কিন চুক্তি ও দেশে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া থাকুক- এটা ভারত চায় না। এসব কারণে ড. ইউনূস ভারতের টার্গেটে পরিণত হয়েছে। আর ভারতের টার্গেট মানেই আওয়ামী লীগের টার্গেট। মূলত এদেশে ভারতের অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন করে আওয়ামী লীগ। এ অবস্থায় ড. ইউনূসকে নিয়ে অপপ্রচার ঠেকাতে ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিকে আবার একজোট হওয়া উচিত।

 

 

 

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম কালবেলাকে বলেন, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি। তাকে হেয়প্রতিপন্ন করলে ব্যক্তির চেয়ে দেশের সুনাম বেশি নষ্ট করা হবে। আমার নেতিবাচক কোনো সমালোচনাকে সমর্থন করি না। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ থাকবে, তবে যুক্তিতর্ক দিয়ে সমালোচনা করতে হবে। গায়ের জোরে লাগামহীন সমালোচনা করা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য নয়।

 

 

 

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন কালবেলাকে বলেন, আওয়ামী লীগ তার রাজনৈতিক কৌশলে ফেরার চেষ্টা করবে; অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের দুর্নীতিসহ নানা বিষয়ে তারা রাজনীতি করার চেষ্টা করবে; দেশে ঢোকার সুযোগ কাজে লাগাতে চাইবে- এটাই স্বাভাবিক। তবে যাই করতে হবে, আইনি কাঠামোর মাধ্যমে। কোনো হঠকারিতা দেশের মানুষ আর মেনে নেবে না।

 

সংসদে প্রবেশে মাথা নত করার প্রথা বাতিলে স্পিকারকে অভিনন্দন মুহিউদ্দীনের

সংসদে প্রবেশের সময় মাথা নত করার প্রথা বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্তের জন্য স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

 

 

মুহিউদ্দীন রাব্বানী বলেন, ‘মহান আল্লাহ তাআলার সামনে সিজদা ও অবনত হওয়াই একজন মুসলমানের ঈমানি চেতনার দাবি। তাই জাতীয় সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে মাথা নত করার প্রথা বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত দেশের ধর্মপ্রাণ জনগণের অনুভূতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং প্রশংসার দাবিদার।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ধর্মীয় বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে গৃহীত এ সিদ্ধান্ত জাতীয় স্বকীয়তা ও আত্মপরিচয়কে আরও সুদৃঢ় করবে। দীর্ঘদিনের একটি বিতর্কিত প্রথার অবসান ঘটিয়ে স্পিকার দূরদর্শিতা, সাহসিকতা ও জনগণের আবেগ-অনুভূতির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের পরিচয় দিয়েছেন।’

মাওলানা রাব্বানী আশা প্রকাশ করেন, রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ে বিদ্যমান এমন সব অনাকাঙ্ক্ষিত ও জনগণের বিশ্বাস-পরিপন্থী প্রথা পর্যালোচনা করে দেশীয় সংস্কৃতি, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও জাতীয় চেতনাসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 

তিনি স্পিকারের জন্য মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে দোয়া করেন এবং দেশের সর্বোচ্চ আইনসভা যেন ন্যায়, ইনসাফ ও জনগণের কল্যাণে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে, সে কামনা করেন।

 

 

নীলফামারীতে ডিবি পুলিশের অভিযানে ৫ অনলাইন জুয়ারি গ্রেপ্তার

নীলফামারীতে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে অনলাইন জুয়া ও বেটিং কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে পাঁচটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়, যেখানে বিভিন্ন অনলাইন ক্যাসিনো ও বেটিং অ্যাপের ব্যবহার সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ জুন রাতে পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খাঁনের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মতলুবর রহমানের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নীলফামারী সদর উপজেলার চাপড়া সরমজানি এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— মোরসালিন ইসলাম (২৫), রাসেল ইসলাম (২১), মারুফ ইসলাম (২৩), রুবেল ইসলাম (২০) ও লাজু হোসাইন ওরফে বাবু (৩৩)। তাদের মধ্যে দুজন নীলফামারী সদর উপজেলার এবং তিনজন কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিদের তল্লাশির সময় উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনগুলো ঘটনাস্থলেই পর্যালোচনা করা হয়। এতে বিভিন্ন অনলাইন ক্যাসিনো, বেটিং অ্যাপ্লিকেশন এবং সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের উপস্থিতি পাওয়া যায়। পরে মোবাইল ফোনগুলো জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনোভিত্তিক বেটিং কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে দাবি পুলিশের।
এ ঘটনায় নীলফামারী সদর থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা রুজুর পর গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

বিএনপির ২৯ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করল জামায়াত

নেত্রকোনার পূর্বধলায় উপজেলা বিএনপির ২৯ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

 

 

 

মঙ্গলবার (১৬ জুন) নেত্রকোনা আদালতে উপজেলার হোগলা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি এমদাদুল হক আকন্দ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

 

 

 

মামলা সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২০ মে উপজেলা পরিষদ হলরুমে কোরবানির পশুর হাটের ইজারা সংক্রান্ত ডাক (নিলাম) চলাকালে প্রথম দফায় হামলার ঘটনা ঘটে। এর জেরে একই দিন বিকেলে আগিয়া বাজার এলাকায় দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে মারধর করে গুরুতর আহত করেন। আহতদের মধ্যে একজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহে পাঠানো হয়।

বাদীপক্ষের দাবি, হামলার সময় কয়েকটি দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। পাশাপাশি একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

 

আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পূর্বধলা থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে বাদীপক্ষ জানিয়েছে।

 

 

 

এ বিষয়ে পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মামলাটির বিষয়ে এখনো আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নথিপত্র পাইনি। আদালতের নির্দেশনা বা সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র থানায় পৌঁছলে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 

 

উল্লেখ্য, গত ২০ মে অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা ডাককে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ২৫ মে পূর্বধলা থানায় জামায়াতের নায়েবে আমির ও এক ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন আগিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. উমর শরীফ।

 

বিশ্বকাপের পাওয়ার র‌্যাঙ্কিংয়ে আর্জেন্টিনার অবস্থান কোথায়?

যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে প্রতিটি দলই অন্তত একটি করে ম্যাচ খেলেছে। প্রথম রাউন্ড শেষে কাতার বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং রানার্সআপ ফ্রান্স দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। একই সঙ্গে দাপুটে ফুটবল খেলেছে ইংল্যান্ড।

 

 

 

অন্যদিকে টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট স্পেন, নেদারল্যান্ড ও পর্তুগাল প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। জয়হীন শুরু করেছে ব্রাজিলও।

 

 

 

গ্রুপ পর্বের প্রথম রাউন্ড শেষে ফুটবলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গোল তাদের বিশ্বকাপ পাওয়ার র‌্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে। সেখানে শীর্ষস্থান দখল করেছে আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে ৩-০ গোলের জয় দিয়ে তারা বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করেছে।

 

 

দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপ্পের অসাধারণ নৈপুণ্যে দলটি সহজ জয় তুলে নিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছে।

গ্রুপ পর্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচগুলোর একটি ছিল ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়ার লড়াই। হেরিকেনের জোড়া গোলে ৪-২ ব্যবধানে জয় পাওয়া ইংল্যান্ড পাওয়ার র‌্যাঙ্কিংয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে।

 

 

কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করলেও চতুর্থ স্থানে আছে স্পেন। বিশ্বকাপ শুরুর আগে খুব বেশি আলোচনায় না থাকা জার্মানি ৭-১ গোলের বড় জয় দিয়ে উঠে এসেছে পঞ্চম স্থানে।

 

 

 

ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে জয় না পেলেও ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে পর্তুগাল সমতা দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা ব্রাজিল আছে সপ্তম স্থানে।

 

 

 

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের সেরা দশে জায়গা করে নেওয়া আফ্রিকান প্রতিনিধি মরক্কো রয়েছে অষ্টম স্থানে। আর আর্লিং হালান্ডের নরওয়ে নবম স্থানে উঠে এসেছে, ফলে নেদারল্যান্ড নেমে গেছে দশে। ডাচদের রুখে দেওয়া জাপান রয়েছে ১১ নম্বরে।

 

 

 

এদিকে বেলজিয়াম নেমে গেছে ১২তম স্থানে। স্বাগতিক দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো যথাক্রমে ১৩ ও ১৪ নম্বরে অবস্থান করছে। আর গত দুই বিশ্বকাপের চমকপ্রদ দল ক্রোয়েশিয়া নেমে গেছে ২০তম স্থানে।

 

রায়গঞ্জে কমিউনিটি পুলিশিং উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ধামাইনগর ইউনিয়নের ক্ষিরতলা বাজারে রায়গঞ্জ থানার উদ্যোগে কমিউনিটি পুলিশিং ও উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং মাদক, জুয়া, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং, ধর্ষণ, সন্ত্রাসবাদ, কিশোর গ্যাং ও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেল ৫টায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ধামাইনগর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. কাজী মুদ্দীন কাজী।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসানুজ্জামান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মতিনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য সদস্য।
অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ধামাইনগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নিপেন্দ্র নাথ মাহাতো, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র মাহাতো, ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মলিন চন্দ্র মাহাতো এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসানুজ্জামান বলেন, সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মাদক, সন্ত্রাস, কিশোর অপরাধ এবং সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে সকলকে সচেতন ও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
বৈঠকে বক্তারা বলেন, নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও জোরদার করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। এ ধরনের সচেতনতামূলক উদ্যোগ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নীলফামারীতে ভিসা ও থাই লটারি প্রতারণা চক্রের দুই সদস্য গ্রেপ্তার

নীলফামারীর সৈয়দপুরে ভিসা ও থাই লটারির নামে প্রতারণার অভিযোগে একটি চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে চারটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও একটি কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভ জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৭ জুন) জেলা পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খাঁনের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সৈয়দপুর থানার চিনির মসজিদ সংলগ্ন ইসলামবাগ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মো. হোসেন রকি (২৫) ও মো. সাহেব হোসেন (২৩) নামে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও কম্পিউটার ডিভাইস পর্যালোচনা করে ভিসা ও থাই লটারির নামে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন এডিটকৃত কাগজপত্র, ভুয়া বিদেশি নম্বর দিয়ে নিবন্ধিত হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো, ইমো বেটা ও ইমো এইচডি অ্যাকাউন্টের তথ্য পাওয়া যায়। এছাড়া অনলাইন ক্যাসিনো ও জুয়া সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অ্যাপসও শনাক্ত করা হয়েছে।
ডিবি পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা এসব অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে আসছিল।
এ ঘটনায় সৈয়দপুর থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা রুজুর পর গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সাইবার অপরাধ ও অনলাইন প্রতারণা দমনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

One thought on “পূর্ব বিরোধের জেরে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

পূর্ব বিরোধের জেরে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

আপডেট টাইম : ১১:৩৬:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

কুমিল্লার মুরাদনগরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে রাশিদা বেগম (৪২) নামের এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে উপজেলার পূর্ব ধইর পশ্চিম ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

 

 

 

নিহত গৃহবধূ রাশিদা মহেশপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী। মুরাদনগর থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

 

 

 

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মহেশপুর গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে খোরশেদ আলম বিডিআরের সঙ্গে ইউপি সদস্য রহিম সরকার গ্রুপের দ্বন্দ্ব চলছিল। কিছুদিন আগে রহিম সরকার গ্রুপের এক সদস্য মাওলা সরকারকে রাতের আঁধারে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সেই হত্যা মামলার পলাতক আসামি রাশিদা বেগম তার পালিত গরু নেওয়ার জন্য বৃহস্পতিবার এলাকায় আসেন। তার ৭টি গরু একটি পিকআপে করে নিয়ে যাওয়ার সময় ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল তার গাড়ির গতিরোধ করে; তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।

এ সময় তার দুই মেয়ে তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করা হয়। পরে পুলিশের সহায়তায় রাশিদা বেগমকে উদ্ধার করে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক গুরুতর আহত রাশিদা আক্তারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে রেফার্ড করেন। ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে তিনি মারা যান।

 

নিহতের মামা সালাউদ্দিন বলেন, পূর্ব শত্রুতার কারণে আমার ভাগনিকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। তার দুই মেয়ে তাকে বাঁচাতে গেলে তাদেরও মারধর করে আহত করে।

 

 

বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিউল আলম বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা আছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।

 

প্যারাগুয়ের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রতেই নকআউট নিশ্চিত অস্ট্রেলিয়ার

জয় না পেলেও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পূরণ করেছে অস্ট্রেলিয়া। গ্রুপ ‘ডি’-র শেষ ম্যাচে প্যারাগুয়ের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে রানার্সআপ হিসেবে ‘রাউন্ড অব ৩২’-এ জায়গা নিশ্চিত করেছে সকারুজরা।

 

 

 

অন্যদিকে সমান চার পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে থাকা প্যারাগুয়ের নকআউটে ওঠার সম্ভাবনা জোরালো হলেও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিত হতে তাদের অপেক্ষা করতে হবে অন্য গ্রুপগুলোর ফলাফলের জন্য।

 

 

 

ম্যাচজুড়েই দুই দলের ফুটবলে ছিল সতর্কতার ছাপ। কারণ, এর আগে নিজেদের ম্যাচে তুরস্ককে হারিয়ে উভয় দলই সমান তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠে নেমেছিল। ফলে যে দল জিতত, তারাই যুক্তরাষ্ট্রের পর গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে সরাসরি নকআউট নিশ্চিত করত। কিন্তু ড্র হওয়ায় সেই সুবিধা পায় অস্ট্রেলিয়া।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটি অস্ট্রেলিয়ার তৃতীয়বারের মতো নকআউট পর্বে ওঠার কীর্তি। এর আগে ২০০৬ ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপে শেষ ষোলোয় খেলেছিল সকারুজরা। আগামী ৩ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের আর্লিংটনে গ্রুপ ‘জি’-এর রানার্সআপ দলের বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা।

 

 

ম্যাচের প্রথমার্ধে তুলনামূলক বেশি আক্রমণাত্মক ছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল দুর্দান্ত নৈপুণ্যে জ্যাকসন আরভিনের শট ঠেকিয়ে দেন। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ক্রিস্টিয়ান ভলপাতোর দারুণ এক প্রচেষ্টাও রুখে দেন তিনি।

 

 

দ্বিতীয়ার্ধে বলের দখলে এগিয়ে ছিল প্যারাগুয়ে। তবে দুই দলই তেমন কোনো পরিষ্কার গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। ম্যাচের ৯০তম মিনিটে অস্ট্রেলিয়ার জর্ডান বসের শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে যায়। ফিরতি আক্রমণে যোগ করা সময়ে প্যারাগুয়ের মৌরিসিওর নেওয়া দুর্বল শট সহজেই সামলে নেন অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচ।

 

 

 

এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কোচ টনি পপোভিচ শুরুর একাদশে ছয়টি পরিবর্তন আনেন। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে মাঠে নামার সুযোগ পান ১৮ বছর বয়সী তরুণ ডিফেন্ডার লুকাস হ্যারিংটন।

 

 

 

যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের ক্লাব কলোরাডো র‌্যাপিডসের এই ফুটবলার অভিষেকেই নতুন ইতিহাস গড়েন। অস্ট্রেলিয়ার ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে কমবয়সী খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ ম্যাচে মাঠে নামার কীর্তি এখন তার।

 

 

 

যদিও প্যারাগুয়ের জন্য এসেছে একটি দুঃসংবাদ। দলের মিডফিল্ডার দিয়েগো গোমেজ গ্রুপ পর্বে নিজের দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেছেন। ফলে প্যারাগুয়ে শেষ পর্যন্ত ‘রাউন্ড অব ৩২’-এ উঠতে পারলেও সেই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাকে পাবে না দলটি।

 

হোসেনি দালান থেকে শুরু হলো ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল

 

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে শোক ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পুরান ঢাকার হোসেনি দালান থেকে শুরু হয়েছে শিয়া সম্প্রদায়ের উদ্যোগে তাজিয়া মিছিল।

 

 

 

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাজধানীর পুরান ঢাকার হোসেনি দালান থেকে শিয়া সম্প্রদায়ের উদ্যোগে শুরু হয়েছে তাজিয়া মিছিল।

 

 

 

শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল ১০টার পরে ঐতিহাসিক হোসেনি দালান ইমামবাড়া থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ মিছিল শুরু হয়।

 

চারশ বছরের পুরোনো এই ইমামবাড়ায় ভোর থেকেই ঢাকাসহ আশপাশের এলাকা থেকে শিয়া সম্প্রদায়ের শত শত মুসলিম জড়ো হতে থাকেন।

 

 

তাজিয়া মিছিলটি হোসেনি দালান ইমামবাড়া থেকে রাজধানীর আজিমপুর, নীলক্ষেত, নিউ মার্কেট, সায়েন্সল্যাব ঘুরে ধানমন্ডি গিয়ে শেষ হবে।

 

 

মিছিলে অংশ নেওয়া অধিকাংশকেই কালো পোশাক পরিধান করতে দেখা গেছে। এ ছাড়া তাদের হাতে প্রতীকী ছুরি, আলাম, পতাকা বা নিশান, বেস্তা, বইলালামও দেখা যায়।

 

 

 

তাজিয়া মিছিল ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সদস্যরা রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সতর্ক অবস্থনে রয়েছে।

 

 

 

পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, র‌্যাব, সোয়াত, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করেছেন। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশের সদস্যরা রয়েছেন।

 

 

 

তাজিয়া মিছিল যেসব রাস্তা দিয়ে যাবে সেসব রাস্তায় সাধারণ পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে দেখা গেছে।

 

 

 

আরবি ‘আশারা’ শব্দের অর্থ দশ। আর আশুরা মানে দশম। হিজরি ৬১ সনের ১০ মহররম সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে যুদ্ধ করতে গিয়ে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসেন (রা.) এবং তার পরিবারের সদস্যরা ফোরাত নদীর তীরে কারবালার প্রান্তরে নির্মমভাবে শহীদ হন।

 

 

 

শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম ইসলামের মহান আদর্শকে সমুন্নত রাখতে হজরত ইমাম হোসেন (রা.)-এর আত্মত্যাগ মানবতার ইতিহাসে সমুজ্জ্বল হয়ে আছে। কারবালার এই শোকাবহ ঘটনা অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে অনুপ্রেরণা জোগায়। সত্য ও সুন্দরের পথে চলার প্রেরণা জোগায়। শিয়া সম্প্রদায় এদিন বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। এর মধ্যে তাজিয়া মিছিল উল্লেখযোগ্য।

 

শেষ সময়ে গোল করে তুরস্কের জয়, পরাজয়েও নকআউট নিশ্চিত যুক্তরাষ্ট্রের

 

রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগে আসে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী গোল। যোগ করা সময়ের অষ্টম মিনিটে কান আইহানের গোলে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েছে তুরস্ক। তবে এই জয়ও তাদের নকআউটের টিকিট এনে দিতে পারেনি। অন্যদিকে শেষ মুহূর্তের পরাজয় সত্ত্বেও শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

 

 

 

লস অ্যাঞ্জেলস স্টেডিয়ামে শুক্রবার (২৬ জুন) বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় শুরু হওয়া ম্যাচে নাটকীয় এই জয় তুলে নেয় তুরস্ক।

 

 

ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। দ্বিতীয় মিনিটে বাম দিক থেকে নেওয়া কর্নার থেকে সেবাস্তিয়ান বেরহাল্টারের নিখুঁত ক্রসে ব্যাক পোস্টে বল পান অ্যাস্টন ট্রাস্টি। প্রথমে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এরপর কাছের পোস্ট লক্ষ্য করে জোরালো শটে জাল কাঁপিয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।

 

যদিও বেশিক্ষণ পিছিয়ে থাকেনি তুরস্ক। দশম মিনিটে ইয়িলমাজের বুদ্ধিদীপ্ত পাস থেকে আর্দা গুলার প্রথম ছোঁয়াতেই দুর্দান্ত শটে বল জালে পাঠিয়ে ম্যাচে ১-১ সমতা ফেরান।

 

এরপর ৩১তম মিনিটে তুরস্ককে এগিয়ে দেন অরকান কোকচু। বাম দিক থেকে এলমালির দারুণ কাটব্যাক ছয় গজের বক্সে পেয়ে সহজ এক টোকায় বল জালে জড়িয়ে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। এই ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।

 

 

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ঘুরে দাঁড়ায় যুক্তরাষ্ট্র। ৪৮তম মিনিটে সেবাস্তিয়ান বারহল্টার গোল করে ম্যাচে ২-২ সমতা ফেরান এবং শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ড্রয়ের দিকেই এগোচ্ছিল।

 

 

 

কিন্তু নাটকীয়তা জমা ছিল শেষ মুহূর্তের জন্য। যোগ করা সময়ের অষ্টম মিনিটে কান আইহান জয়সূচক গোলটি করলে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় তুরস্ক। গোলের পরপরই শেষ বাঁশি বাজান রেফারি।

 

 

 

শেষ মুহূর্তের এই জয়ে মাঠ ছাড়লেও টুর্নামেন্টে যাত্রা শেষ হয়েছে তুরস্কের। অন্যদিকে নিজেদের শেষ ম্যাচে হারলেও নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র।

 

উন্নয়ন তহবিল থেকে ১০% কমিশন দাবির অভিযোগ ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে

 

ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন তহবিলের টাকা থেকে কমিশন দাবির অভিযোগ উঠেছে ইউপির প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে। পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদে এ ঘটনা ঘটে। মুরাদিয়া ইউপি সচিবের কমিশন দাবির এমন একটি ভিডিও কালবেলা প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) পাওয়া ওই ভিডিওতে ইউপি সচিব আমিনুল ইসলামকে বলতে শোনা যায়, তাকে ১০ শতাংশ এবং উপজেলা প্রশাসনের জন্য ৫ শতাংশ কমিশন দিতে হবে। ভিডিওতে আরও বলতে শোনা যায় সরকারি ভ্যাট-ট্যাক্স ১৭ শতাংশ, জামানত ৫ শতাংশ, তাকে ১০ শতাংশ এবং উপজেলা পরিষদকে ৫ শতাংশসহ মোট ৩৭ শতাংশ কমিশন দিতে হবে।

 

 

 

 

মুরাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান মো. ফোরকান হাওলাদার কালবেলাকে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে আমরা বিভিন্ন বিষয়ে মিটিংয়ে বসেছিলাম। আলোচনার একপর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন তহবিলের সাড়ে ৬ লাখ টাকার কাজ নিয়ে কথা হয়। এসময় সদ্য যোগদান করা সচিব আমিনুল ইসলাম ওই কাজ থেকে ১০ শতাংশ কমিশন দাবি করেন। এছাড়া উপজেলা পরিষদের জন্য ৫ শতাংশ কমিশন দাবি করেছেন। কমিশনের বিষয়ে তখন উপস্থিত ইউপি সদস্যরা প্রতিবাদ করে বলেন; আগে তো এভাবে কেউ নেননি।

 

তবে কমিশন দাবির বিষয়টি অস্বীকার করে ইউপি সচিব আমিনুল ইসলাম জানান, এগুলো তিনি বলেননি, এটা এআই ভিডিও হতে পারে।

 

এ বিষয়ে জানতে দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুলাহ খায়রুল ইসলামের মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

 

 

জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী দৈনিক কালবেলাকে বলেন, এভাবে কমিশন নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই, কেউ এমন কমিশন নিলে বা দাবি করলে সেটা তার একান্তই নিজস্ব বিষয়। তবে এই ঘটনা সত্য হলে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক এবং বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

ব্রাজিল ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপের সেরা বললেন জাপান কোচ

 

নকআউট পর্বে ব্রাজিলের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের আগে জাপানের প্রধান কোচ হাজিমে মোরিয়াসু এক চমকপ্রদ মন্তব্য করেছেন। তার মতে, চলতি বিশ্বকাপের সবচেয়ে সেরা দল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে একই সঙ্গে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তির প্রশংসায় পঞ্চমুখ এই জাপানি কোচ বিশ্বাস করেন, শক্তিশালী ব্রাজিলকে হারিয়ে পরবর্তী ধাপে ওঠার সুযোগও রয়েছে তার দলের।

 

 

 

ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে হাজিমে মোরিয়াসু বলেন, আমি আমার চোখ বন্ধ করে আশা করছি এখানে অন্য কোনো দেশের সাংবাদিক নেই। কিন্তু আমি বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে এটা (বিশ্বকাপের সেরা দল) বলব, যারা ভালো খেলছে। তবে আমি ব্রাজিলের কাছে ক্ষমা চাই।

 

 

 

যদিও আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপের সেরা দল হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তবু ব্রাজিল এবং তাদের নতুন কোচ কার্লো আনচেলত্তির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন মোরিয়াসু।

 

 

ইতালিয়ান এই কোচকে নিয়ে তিনি বলেন, আমি আনচেলত্তিকে কোচ হিসেবে প্রশংসা করি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তার অনেক সাফল্য রয়েছে এবং তিনি পাঁচটি মেজর লিগেই শিরোপা জিতেছেন। তিনি দুর্দান্ত। আমি কখনো তার পর্যায়ে পৌঁছাতে পারব না। এখন তিনি ব্রাজিলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যারা বিশ্বের অন্যতম সেরা দল। এটা সহজ কাজ নয়। এর ফলও তিনি পাচ্ছেন, যা প্রমাণ করে তার অনেক শক্তি ও সামর্থ্য আছে।

 

 

ব্রাজিলকে বিশ্বের শীর্ষ দল হিসেবে উল্লেখ করলেও নিজেদের সম্ভাবনা নিয়েও আশাবাদী জাপান কোচ।

 

 

 

তিনি বলেন, এটা হতে যাচ্ছে দারুণ এক অভিজ্ঞতা। তারা পারফেক্ট, কিন্তু আমি বিশ্বাস করি আমাদের জয়ের ও পরবর্তী ধাপে যাওয়ার একটা সুযোগ আছে। আমরা সেই সম্ভাবনার দিকে এগোচ্ছি এবং প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমরা ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ জিতেছিলাম। সম্ভবত সেই কারণে তারা আরও বেশি উজ্জীবিত। আমি এই ম্যাচের জন্য উন্মুখ হয়ে আছি।

 

 

 

 

জাপান এখন আর ব্রাজিলের জন্য সহজ প্রতিপক্ষ নয় বলেও মনে করেন মোরিয়াসু।

 

 

 

 

তার ভাষায়, আগে জাপান ব্রাজিলের জন্য সহজ প্রতিপক্ষ ছিল। কিন্তু শেষ প্রীতি ম্যাচের পর আমরা প্রমাণ করেছি, ব্রাজিলের কাছে আর সহজ নই আমরা। এটা আমাদের জন্য একটি সুবিধা এবং উন্নতির প্রতিফলন। ব্রাজিল বিশ্বের শীর্ষ দল, আমরা তাদের শ্রদ্ধা করি। কিন্তু পরের ম্যাচে কী হবে, তা কেউ জানে না। আমাদেরও জেতার সুযোগ থাকবে।

 

 

 

 

এদিকে, চলতি বিশ্বকাপে গোলের নতুন রেকর্ড গড়েছে জাপান। সুইডেনের বিপক্ষে গোল করে টুর্নামেন্টে তাদের মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাত, যা এক বিশ্বকাপে দেশটির সর্বোচ্চ। এর আগে আট বছর আগে রাশিয়া বিশ্বকাপে শেষ ষোলোয় ওঠার পথে জাপানের সর্বোচ্চ গোল ছিল ছয়টি।

 

 

 

এ নিয়ে টানা তৃতীয় বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে নকআউট নিশ্চিত করল জাপান। সব মিলিয়ে এটি তাদের পঞ্চমবারের মতো শেষ ষোলোতে ওঠা। এর আগে ২০০২ সালে যৌথ আয়োজক হিসেবে প্রথমবার নকআউট পর্বে খেলেছিল জাপান।

 

পুলিশের কাছে যেতে এখনও শঙ্কায় সাধারণ মানুষ: শিশির মনির

 

মানুষের মধ্যে পুলিশ ও বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

 

 

 

তিনি বলেছেন, বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং মামলা নিষ্পত্তিতে বছরের পর বছর সময় লাগার কারণে সাধারণ মানুষ এখন পুলিশের কাছে যেতে ভয় পায়।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সমর্থনে আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, ‘একজন ভদ্রলোক কখনো মামলা করতে যেতে চান না। কারণ একটি মামলা নিষ্পত্তি হতে যে পরিমাণ সময় লাগে, একজন মানুষের পক্ষে ততটা ধৈর্য ধারণ করা কঠিন। মানুষ পুলিশের কাছে মামলা করতে ভয় পায়, পুলিশের কাছে যেতে আস্থা পায় না।’

 

তিনি বলেন, ‘দেশের বিচারব্যবস্থায় মামলার জট ক্রমেই বাড়ছে। হাইকোর্টে বর্তমানে ১ হাজার ২৩৬টি মৃত্যুদণ্ডের মামলা ঝুলে রয়েছে। আদালত প্রতিদিন পরিচালিত হলেও আগামী ১০ বছরেও এসব মামলার নিষ্পত্তি সম্ভব হবে না।’

 

 

শিশির মনির আরও বলেন, ‘মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে এখন প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চায়। কিন্তু বিচার করা তো প্রধানমন্ত্রীর কাজ নয়। জনগণ আর কোনো উপায় খুঁজে পায় না বলেই এমনটি করে।’

 

 

 

 

আলোচনা সভায় বক্তারা নির্যাতন, বিচারহীনতা এবং দীর্ঘসূত্রিতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে কার্যকর ও জনবান্ধব বিচারব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে নির্যাতনের মাধ্যমে স্বীকারোক্তি আদায় বন্ধ এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

 

 

 

সভায় নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি, মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক, আইনজীবী, শিক্ষক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধিকার-এর পরিচালক (প্রোগ্রামস) মো. সাজ্জাদ হোসেন এবং সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও অ্যাডভোকেসি) তাসকিন ফাহমিনা।

 

 

 

এছাড়া অনুষ্ঠানে অতিথি বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর), আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা তানভীর হাসান জোহা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. শরীফুল ইসলাম, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ড. ফয়েজুল হাকিম, দ্য ডেইলি ওয়াদারের সম্পাদক-ইন-চিফ শফিকুল আলম, ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) আইনবিষয়ক সম্পাদক বদরুদ্দোজা বাদল এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

 

মানব পাচার মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগ বাড়ানোর আহ্বান

মানব পাচার প্রতিরোধ, ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভার আয়োজন করে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম।

 

 

 

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা জেলার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এবং জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুর রহমান এবং মানব পাচার দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোস্তফা কামাল খান। এছাড়া ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সিনিয়র ম্যানেজার সাজ্জাদ হোসেন, ঢাকা জেলা সমন্বয়কারী বজলুর রশিদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

পরিচয় পর্ব শেষে সভার উদ্বোধন করেন সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলাম। পরে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সিনিয়র ম্যানেজার সাজ্জাদ হোসেন অভিবাসন ও মানব পাচার প্রতিরোধে ব্র্যাকের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা তুলে ধরেন।

 

উপস্থাপনায় মানব পাচারের বর্তমান প্রবণতা, পাচারের বিভিন্ন রুট এবং বিদেশে পাচার হওয়া ব্যক্তিদের ওপর সংঘটিত শোষণ ও নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে প্রতারণা ও পাচারের শিকার ব্যক্তিদের দেশে ফিরিয়ে আনা, পুনর্বাসন, পুনঃএকত্রীকরণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের ভূমিকা তুলে ধরা হয়।

 

সভায় জানানো হয়, দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের উদ্যোগে বিদেশফেরত সংকটাপন্ন ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের জরুরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। দেশে ফেরার পর যেসব ভুক্তভোগীর নিরাপদ আশ্রয়ের প্রয়োজন হয়, তাদের জন্য রেফারেল ও আবাসনের ব্যবস্থাও করা হয়। বিশেষ করে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ বা অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে দেশে ফেরা নারী ভুক্তভোগীদের নিরাপদ আবাসন, চিকিৎসা, খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় সার্বিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

 

 

মূল উপস্থাপনার পর মানব পাচারের শিকার লিবিয়াফেরত সারভাইভার এনামুল বিদেশে যাওয়ার পর প্রতারণার শিকার হওয়া এবং মানবেতর জীবনযাপনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তার বক্তব্য মানব পাচারের ভয়াবহ বাস্তবতা সম্পর্কে উপস্থিত অংশগ্রহণকারীদের প্রত্যক্ষ ধারণা দেয়।

 

 

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মানব পাচার প্রতিরোধে ব্যক্তি ও সমাজ পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। উন্নত জীবনের আশায় অনিয়মিত পথে বিদেশগমন কিংবা দালালদের প্রলোভনে পড়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশে যাওয়ার প্রবণতা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে সচেতন নাগরিকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।’

 

 

 

তিনি আরও বলেন, জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি মানব পাচারের শিকার ভুক্তভোগীদের বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দিতে সর্বদা প্রস্তুত। ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় আইনি ও অন্যান্য সহায়তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও তিনি ব্যক্ত করেন।

 

 

 

সভায় অংশগ্রহণকারীরা মানব পাচার প্রতিরোধে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার, সুরক্ষা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

 

চৌমুহনীর তিন আবাসিক হোটেলে ডিবির অভিযান, ১৪ তরুণ-তরুণী আটক

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার তিনটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৪ জন তরুণ-তরুণীকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত চৌমুহনী বাজারের রাজ হোটেল, ঢাকা হোটেল ও সেভেন স্টার হোটেলে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং চৌমুহনী পুলিশ ফাঁড়ির যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই তিনটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালানো হয়। এ সময় হোটেলের বিভিন্ন কক্ষ থেকে আপত্তিকর অবস্থায় থাকা ৭ জন নারী ও ৭ জন পুরুষসহ মোট ১৪ জনকে আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— বেগমগঞ্জ উপজেলার শাহাদাত হোসেন সাকিব (২৪), রিয়াজ হোসেন (২৪), রহমত উল্যাহ রিয়াদ (৩৬), নোয়াখালী সদর উপজেলার মো. রিপন (২৩), সোনাইমুড়ী উপজেলার আকরাম (৩৪), নুসরাত জাহান (১৯), শারমিন আক্তার (২৫), সেনবাগ উপজেলার আকরাম হোসেন (২৯), কবিরহাট উপজেলার ইয়াছিন (৩০), ঢাকা জেলার তাসমিন আক্তার (২১), নরসিংদী জেলার শাহনাজ বেগম (৩৬), খাগড়াছড়ি জেলার হাফেজা বেগম (২৩), লক্ষ্মীপুর জেলার বিউটি আক্তার (২৫) এবং ফেনী জেলার ময়না (২৫)।

নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “আবাসিক হোটেলের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালিত হওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”

তিনি আরও বলেন, “অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে জেলা পুলিশের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এসব আবাসিক হোটেলে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলার অভিযোগ ছিল। প্রশাসনের এ অভিযানে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

১৪৮৫ জনের বিশাল নিয়োগ দেবে সমাজসেবা অধিদপ্তর, আবেদন করুন দ্রুত

 

‘সংশোধিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি’ প্রকাশ করেছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সমাজসেবা অধিদপ্তর (ডিএসএস)। গত ২৪ মে ১৪৮৫ পদের এই বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করা হয়। আগ্রহী ও যোগ্য প্রার্থীরা টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। ২ জুন সকাল ১০টা থেকে আবেদন শুরু হয়েছে। চলবে ২৩ জুন বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

 

 

 

তবে, এর আগে ২০২৪ সালের ২৭ মার্চ ও একই বছরের ৯ জুনের বিজ্ঞপ্তির পদগুলোতে কেউ আবেদন করলে তাদের আর নতুন করে আবেদন করার প্রয়োজন নেই।

 

 

 

চলুন, একনজরে দেখে নিই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি-

প্রতিষ্ঠানের নাম: সমাজসেবা অধিদপ্তর

পদসংখ্যা: ৫২ ক্যাটাগরিতে ১৪৮৫ শূন্য পদ

চাকরির ধরন: পূর্ণকালীন (স্থায়ী/অস্থায়ী)

প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ উভয়েই আবেদন করতে পারবেন।

 

 

 

প্রার্থীর বয়স: ১৮-৩২ বছর (১ জুন ২০২৬ তারিখে)। তবে ১, ৩, ৮, ৯, ১৪, ১৫, ১৭, ১৮, ২৫, ২৭-৩১ ও ৩৬ নম্বর পদের বিভাগীয় প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা শিথিলযোগ্য।

 

 

 

আবেদন যেভাবে : আগ্রহী প্রার্থীরা এখানে https://dss.gov.bd/pages/notices/সংশোধিত-নিয়োগ-বিজ্ঞপ্তি-mxnjc6-6a12f8064912f6e4018b0e93 ক্লিক করে ফরম পূরণের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।

 

 

 

আবেদন ফি: টেলিটক প্রি–পেইড নম্বর থেকে সার্ভিস চার্জসহ আবেদন ফি বাবদ ১ থেকে ৩৭ নম্বর পদের জন্য ১১২ টাকা, ৩৮ থেকে ৫২ নম্বর পদের জন্য ৫৬ টাকা এবং সব পদের অনগ্রসর প্রার্থীদের ৫৬ টাকা অনলাইনে ফরম পূরণের অনধিক ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এসএমএসের মাধ্যমে জমা দিতে হবে।

 

 

 

আবেদনের মাধ্যম: শুধু অনলাইনে (টেলিটকের মাধ্যমে)

আবেদন শুরুর তারিখ ও সময়: ২ জুন ২০২৬, সকাল ১০টা

আবেদন শেষের তারিখ ও সময়: ২৩ জুন ২০২৬, বিকেল ৫টা

আবেদনের শেষ সময়: ২৩ জুন ২০২৬, বিকেল ৫টা।

আবেদনপদ্ধতিসহ বিস্তারিত তথ্য জানতে এখানে ক্লিক করুন।

 

বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল ৫০০ শয্যায় উন্নীত হচ্ছে

 

বগুড়ার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মোহাম্মদ আলী হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

 

 

 

শনিবার (২০ জুন) বেলা ১১টায় হাসপাতালের সভাকক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির নবনিযুক্ত সভাপতি ও বগুড়া সদর (বগুড়া-৬) আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা।

 

 

 

জানা গেছে, হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন ও অবকাঠামো সম্প্রসারণের লক্ষ্যে হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সভায় জানানো হয়, হাসপাতালটিকে ৫শ শয্যায় উন্নীতকরণের জন্য দ্রুতই নতুন অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরু করা হবে। হাসপাতালের পূর্ব পাশে অবস্থিত হাসপাতালের নিজস্ব মাঠে এই নতুন বহুতল ভবন ও অবকাঠামো নির্মিত হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর পাশাপাশি চিকিৎসা সেবার আধুনিকায়নে আরেকটি বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

হাসপাতালের যে ওয়ার্ডটি পূর্বে বার্ন ইউনিটের জন্য নির্ধারিত করা হয়েছিল, সেটিকে এখন আধুনিক আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) ওয়ার্ডে রূপান্তর করা হবে। এই আইসিইউ ওয়ার্ডটি পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জামাদি ও দক্ষ জনবল চেয়ে খুব শীঘ্রই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হবে বলে হাসপাতাল প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।

 

 

সভায় উপস্থিত বক্তারা হাসপাতালের সেবার মান নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দেন। বিশেষ করে রোগীদের সার্বক্ষণিক ও উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক ও নার্সদের কর্মস্থলে নিয়মিত ও সঠিক সময়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে কোনো ধরনের অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না বলেও সভায় সতর্ক করা হয়। এছাড়া হাসপাতালে নার্সসহ অন্যান্য লোকবল বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়।

 

 

 

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুজিদুল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ পিপিএম, জেলা সিভিল সার্জন ডা. খুরশিদ আলম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদ হোসেন, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আল মামুন হক, বিএমএ বগুড়ার আহ্বায়ক ডা. আসফারুল হাবীব রোজ, বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমান, ওই হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক রাশেদুল ইসলাম রনি, সাইফুর রহমান শাহীন, বগুড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদ, ভারপ্রাপ্ত সেবা তত্ত্বাবধায়ক আনোয়ারা খাতুন প্রমুখ।

 

এমপি হানজালাকে নিয়ে রাশেদ খাঁনের কটাক্ষ, ‘চিড়িয়াখানায় রাখার দাবি’

 

মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালাকে চিড়িয়াখানায় রাখার দাবি জানিয়েছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন।

 

 

 

তিনি বলেন, এমপি হানজালাকে চিড়িয়াখানায় রাখা হোক, যাতে চিড়িয়াখানার কাউন্টার থেকে সবাই এই অদ্ভুত প্রাণীটাকে টিকিট কেটে দেখতে পারে!

 

 

 

শনিবার (২০ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন।

 

ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন লেখেন, এমপি হানজালাকে চিড়িয়াখানায় রাখা হোক, যাতে চিড়িয়াখানার কাউন্টার থেকে সবাই এই অদ্ভুত প্রাণীটাকে টিকিট কেটে দেখতে পারে! আজকে একজন বিএনপি নেতার সাথে তার যে আচরণ দেখলাম, সত্যিই লজ্জা লাগছে, এসব ম্যানারলেস লোকজন কিভাবে এমপি হলো?

তিনি বলেন, এর আগে বিএনপিকে নিয়ে মন্তব্য করেছিলো আমি হানজালা খোঁচাখুঁচি করলে বিএনপি এই দেশে থাকতে পারবে না। আওয়ামী আমলে এদের এসব গর্জন তো দেখিনি। এরা তখন কোথায় ছিলো? আজকাল এসব লোকদের এতো বেশি ঔদ্ধত্য যে, সরকারি দলের লোকজনকে এরা আওয়ামী জামানার বিরোধীদলের মত ট্রিট করে।

 

 

সবশেষ তিনি লেখেন, হানজালাদের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে ওরাই ক্ষমতায় আর বিএনপি বিরোধীদলে। বিএনপির দুর্ভাগ্য যে, এদের হজম করা লাগছে। রাজনৈতিক শূন্যতা ও সংকট না থাকলে আমি নিশ্চিত ঐ বিএনপি নেতা এমপি নামক অদ্ভুত প্রাণীটাকে কানের নীচে দুই পাঁচটা লাগিয়ে দিতো।

 

ছাত্রদল নেতাকে ফাঁসাতে AI দিয়ে ছবি তৈরি করে ফেসবুকে প্রচার

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি প্রার্থী মো. আসার সরকারকে ফাঁসানোর জন্য ফেক আইডি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুৎসা রটানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

সম্প্রতি AI দিয়ে আসার সরকারের মদ্যপানের একটি ছবি তৈরি করে ফেক আইডিতে প্রচার করা হয়েছে। প্রতিপক্ষের লোকজন আসারকে ফাাসানোর জন্যই এ ধরণের কুৎস্যা রটাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাদের।

 

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নামে এক আইডি থেকে প্রকাশিত ছবিতে দেখানো হয়েছে আসার সরকার বসে মদপান করছে। তার একহাতে মদের বোতল ও এক হাতে মদের গ্লাস। ওই ছবিটি  AI দিয়ে তৈরি করা হয়েছে বলে দাবী করে আসার সরকার বলেন, আমার চেহারার সঙ্গে ওই ছবির কোন মিল নেই।

 

তিনি বলেন, আমি সোনামুখী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি প্রার্থী হওয়ার পর থেকেই একটি কুচক্রী মহল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। ষড়ন্ত্রের অংশ হিসেবে তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার করছে।

 

এর আগে আসার সরকারকে দুটি ফোন নম্বর থেকে  অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিরা হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।

 

 

হাসনাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে আ.লীগের মামলা: একজন আটক

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) হাসনাত আব্দুল্লাহসহ ৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ।

 

শুক্রবার (১৯ জুন) লন্ডনের কেমব্রিজ থানায় মামলাটি করা হয়। মামলার অন্য আসামিরা হলেন, এনসিপি নেতা এহতেশাম হক, জাকির চৌধুরী ও শাহীন আলম। তাদের মধ্যে জাকির চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। এ ছাড়াও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) এক বিজ্ঞপ্তিতে এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্স মামলার তথ্যটি  জানিয়েছে।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যে আওয়ামী লীগ ও পতিত ফ্যাসিবাদী সরকারের সমর্থকরা হাসনাত আবদুল্লাহ এবং তার সফরসঙ্গীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অপপ্রচার ও হয়রানির পর এবার নতুন নাটক শুরু করেছে। তারা হাসনাত আবদুল্লাহ, এহতেশাম হক, জাকির চৌধুরী, শাহীন আলমসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ‘বেধড়ক পেটানোর’ অভিযোগ এনে থানায় মামলা করেছে। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্য পুলিশের মূল্যবান সময় নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

 

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, জননিরাপত্তা এবং যুক্তরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে যুক্তরাজ্যের একটি বিশেষায়িত সংস্থা তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। হাসনাত আব্দুল্লাহ যুক্তরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তাদের পেশাদার ও দায়িত্বশীল ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তবে পতিত আওয়ামী লীগ আগেও ব্যর্থ হয়েছে, এবারও হবে। অক্সফোর্ড ইউনিয়নে হাসনাত আব্দুল্লাহর ঐতিহাসিক বক্তব্য, যুক্তরাজ্য জুড়ে প্রবাসীদের সঙ্গে তার সফল মতবিনিময় এবং সহযোদ্ধাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করতে তারা বারবার চেষ্টা করলেও প্রতিবারই চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

 

ফুটবল বিশ্বকাপে বাংলাদেশিদের সমর্থন চাইলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

চলতি ফুটবল বিশ্বকাপে বাংলাদেশিদের কাছে নিজ দলের পক্ষে সমর্থন চেয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। তিনি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বাজি ধরলে পস্তাতে হবে না।’

 

 

 

শনিবার (২০ জুন) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

 

শুক্রবার (১৯ জুন) অনুষ্ঠিত ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ২–০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয় পর্ব নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বকাপে পরপর দুই খেলায় যুক্তরাষ্ট্রের জয় ১৯৩০ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্বকাপের পর এটিই প্রথম। এ জয়ের প্রসঙ্গ ধরে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ কারণে আমি এখানে এসেছি। গত রাতে বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দারুণ একটা জয় পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং পরবর্তী পর্বে চলে গেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি এখানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সব বাংলাদেশিকে উৎসাহিত করতে এসেছি, যাতে সামনের দিনে বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন করেন। কেননা, দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বাজি ধরলে আপনাকে কখনো পস্তাতে হবে না।’

 

 

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যাওয়ার আগের দিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যান যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত। তবে শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাদের এই বৈঠককে ‘রুটিন সাক্ষাৎ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

 

তাড়াশে হিন্দুর জমি জবর দখলচেষ্টা, সন্ত্রাসী হামলা ও মারপিট

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে এক সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায় পরিবারের জমি জোরপূর্বক দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। জমি দখলে বাঁধা দেওয়ায় ওই পরিবারের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে।

 

 

 

শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাড়াশ পৌর এলাকার ঘোষপাড়ার রনজিত কুমার ঘোষের বাড়িতে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

 

 

 

ভুক্তভোগী রনজিত কুমার ঘোষ জানান, তার পৈত্রিক পাওয়া বসতবাড়ি ৭১ সাল থেকে ভোগদখলে রয়েছি। একটি জাল দলিল করে করে সাইফুল ইসলাম গং আজ শনিবার ওই জমি দখল করতে আসে। তার সঙ্গে মো. শামিম, মো. ফজলুসহ ৪০-৫০ জন সন্ত্রাসী নিয়ে জমি দখল করতে আসে।

 

 

 

এ সময় রনজিত ঘোষ ও তার পরিবার বাঁধা দিতে গেলে তার ওপর অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে হামলা করে। হামলায় আহত হন রনজিত ঘোষ, মিঠুন ঘোষ, রিণা ঘোষ, রত্না ঘোষ, সুচিত্রা ঘোষ ও সন্দীপ ঘোষ। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

 

 

এ বিষয়ে তাড়াশ থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। ভুক্তভোগী পরিবারও থানায় এসেছিল। তাদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। অভিযোগ পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচে আলোচিত রেফারি, যার ঝুলিতে ৯৮০ হলুদ ও ২৫ লাল কার্ড

  • রিপোর্টার:
  •  আপডেট টাইম : ০৮:০০:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়ার মধ্যকার বিশ্বকাপ গ্রুপ পর্বের বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচটি পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন মিসরের অভিজ্ঞ রেফারি আমিন মোহাম্মদ ওমর। আগামী সোমবার (২২ জুন) অনুষ্ঠিতব্য এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে তার সঙ্গে থাকবেন দুই সহকারী রেফারি এবং একজন চতুর্থ অফিশিয়াল, যাদের সবাইকে আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা মনোনীত করেছে।

 

 

কঠোর ও শৃঙ্খলাপরায়ণ রেফারি হিসেবে পরিচিত আমিন মোহাম্মদ ওমর দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ম্যাচ পরিচালনা করে আসছেন। ২০১৭ সাল থেকে ফিফার স্বীকৃত আন্তর্জাতিক রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও ২০১৩ সাল থেকেই তিনি মিসরের প্রিমিয়ার লিগে নিয়মিত ম্যাচ পরিচালনা করছেন। মাঠে শান্ত ও দৃঢ়ভাবে খেলা নিয়ন্ত্রণের দক্ষতার কারণে তিনি ধীরে ধীরে বৈশ্বিক পর্যায়েও আস্থা অর্জন করেন।

 

 

২০১৯, ২০২১ এবং ২০২৩ সালের আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের মতো বড় টুর্নামেন্টেও ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। এ ছাড়া বয়সভিত্তিক বিশ্বকাপেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এবারই প্রথমবারের মতো মূল বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ পেলেন এই মিসরীয় রেফারি।

তার আন্তর্জাতিক অভিষেক ম্যাচেই তিনি আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন। দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রের মধ্যকার ম্যাচে থ্রো-ইনের ক্ষেত্রে দেরি হওয়ায় প্রথম রেফারি হিসেবে তিনি ‘৫ সেকেন্ডের সময়সীমা’ কার্যকর করে তাৎক্ষণিকভাবে কাউন্টডাউন শুরু করেন। কঠোর এই সিদ্ধান্ত মাঠে শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে তার দৃষ্টিভঙ্গিকেই স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

অভিজ্ঞতা কম থাকা সত্ত্বেও বিশ্বকাপের মঞ্চে তার প্রথম ম্যাচে বড় কোনো ভুল বা বিতর্ক দেখা যায়নি। সেই ম্যাচে তিনি মাত্র একটি হলুদ কার্ড দেখান, আর পুরো ম্যাচেই নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন দৃঢ়ভাবে।

মাঠের বাইরেও আমিন মোহাম্মদ ওমর একজন পেশাদার আইনজীবী। আইন পেশার সঙ্গে রেফারিংয়ের এই সমন্বয় তার ব্যক্তিত্বে শৃঙ্খলা ও নিরপেক্ষতার ভাবকে আরও জোরদার করেছে বলে ফুটবল মহলে আলোচিত হয়।

 

 

এ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় তিনি মোট ২৬৯টি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। এই সময়ে তিনি প্রায় ৯৮০টি হলুদ কার্ড এবং প্রায় ২৫টি লাল কার্ড দেখিয়েছেন। সৌদি প্রো লিগসহ বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ ক্লাব ও ঘরোয়া প্রতিযোগিতার চাপপূর্ণ ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার।

 

 

তবে গত বছর মিসরের ঘরোয়া ফুটবলে একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি বিতর্কের মুখে পড়েন। পিরামিডস এফসি তখন তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করে। ইসমাইলি এসসির বিপক্ষে ম্যাচে কোচ ক্রুনোস্লাভ জুরচিচকে লাল কার্ড দেখানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

 

 

আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচে তার সহকারী রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বদেশী মাহমুদ আবু এলরেগাল ও আহমেদ হোসাম তাহা। চতুর্থ অফিশিয়াল হিসেবে থাকবেন স্পেনের আলেহান্দ্রো হার্নান্দেজ।

বাংলাদেশে আর্জেন্টিনা ভক্তদের নিয়ে বিশেষ উদ্যোগের ইঙ্গিত রাষ্ট্রদূতের

পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা। সাক্ষাৎকালে আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে নিরাপত্তা সহায়তা জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি তিনি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের জনসাধারণের আর্জেন্টিনার প্রতি আগ্রহকে সম্মান জানিয়ে বিষয়টি বিশ্বব্যাপী প্রচারের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

 

 

শনিবার (২০ জুন) পুলিশ সদরদপ্তরে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

এসময় রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে দুই দেশের পুলিশের মধ্যে সমন্বয় জোরদারসহ নিরাপত্তা বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন মো. আলী হোসেন ফকির। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশের জনগণের ফুলবলপ্রীতিকে বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রদূতের আগ্রহে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

 

 

বাংলাদেশের জন্য দুঃসংবাদ, সিরিজ হারের পর বাড়ল হতাশা

চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে দর্শকমুখর পরিবেশে জয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছিল বাংলাদেশের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হতাশ হয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে ভক্ত-সমর্থকদের। ৭ রানে হেরে আগেভাগেই সিরিজ খুইয়েছে বাংলাদেশ। সিরিজ হারিয়ে স্বাগতিকেরা পেল আরেক দুঃসংবাদ।

 

 

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই টি-টোয়েন্টিতে খেলতে পারেননি নিয়মিত টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাস। এবার পুরো সিরিজ থেকেই ছিটকে গেছেন বলে বিসিবি এক বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করেছে। মাংসপেশির চোট থেকে পুরোপুরি সেরে না ওঠায় তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে খেলতে পারবেন না তিনি।

 

 

১৪ জুন মিরপুরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে বাঁ পায়ের মাংসপেশিতে গ্রেড ১ মাত্রার চোট পেয়েছিলেন লিটন। ফলে সিরিজের প্রথম দুই টি-টোয়েন্টিতে খেলতে পারেননি তিনি। এবার তার খেলা হচ্ছে না শেষ টি-টোয়েন্টিও। আগামীকাল চট্টগ্রামে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশ নামবে ধবলধোলাই এড়ানোর মিশনে।

লিটন না থাকায় প্রথম দুই টি-টোয়েন্টিতে তাওহীদ হৃদয় বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। হৃদয় কয়েক দিন আগেই সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন। সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতেও তিনি নেতৃত্ব দেবেন।

টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। লিটন ৩ ম্যাচ মিলিয়ে ৪৩ গড় ও ৮১.৯০ স্ট্রাইকরেটে করেন ৮৬ রান। যার মধ্যে শেষ ওয়ানডেতে ৫৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন। সেই ম্যাচে চোটে পড়াতেই টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষ হয়ে গেল তার।

দুধ দিয়ে গোসল করে ব্রাজিল দলে নাম লেখালেন কামরুল

ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই সমর্থকদের উন্মাদনা পৌঁছে যায় ভিন্ন মাত্রায়। প্রিয় দলের জয়-পরাজয়কে ঘিরে চলে নানা বাজি, চ্যালেঞ্জ আর মজার সব প্রতিশ্রুতি। এমনই এক ব্যতিক্রমী প্রতিশ্রুতি পালন করে আলোচনায় এসেছেন চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের এক আর্জেন্টিনা সমর্থক।

 

 

উপজেলার হিঙ্গুলী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেহেদিনগর গ্রামের কামরুল হাসান। গত কয়েকদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দিয়েছিলেন, ব্রাজিল যদি হাইতির বিপক্ষে জয়লাভ করে, তাহলে আর্জেন্টিনার সমর্থন ছেড়ে দুধ দিয়ে গোসল করে ব্রাজিল দলকে সমর্থন করবেন।

 

 

শনিবার (২০ জুন) ভোরে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ব্রাজিল ৩-০ গোলের জয় লাভ করলে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেননি কামরুল। বন্ধুদের উপস্থিতিতে গ্রামের একটি খোলা জায়গায় দুধ দিয়ে গোসল করেন তিনি। এরপর খুলে ফেলেন আর্জেন্টিনার জার্সি, গায়ে তোলেন ব্রাজিলের জার্সি। পুরো ঘটনাটি ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে মুহূর্তেই তা ছড়িয়ে পড়ে নেট দুনিয়ায়।

কামরুল হাসান বলেন, ব্রাজিলকে খোঁচা দিতেই মজার ছলে এমন ঘোষণা দিয়েছিলাম। মনে হয়েছিল তারা হয়তো জিতবে না। কিন্তু ব্রাজিল জিতে গেছে, তাই নিজের কথার মর্যাদা রাখতে দুধ দিয়ে গোসল করেছি। এখন সবাই আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করলেও আমি বিষয়টি উপভোগ করছি।

ব্রাজিল সমর্থক ফাইয়াজ রিয়াজ বলেন, বন্ধু কামরুল বলছে আজকের ম্যাচ জিততে পারলে সবার সামনে দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা ছেড়ে ব্রাজিলে যোগ দিবে। ম্যাচ জয়ের পর আমরা তাকে ডেকে এনে তার প্রতিশ্রুতি অনুয়ায়ী দুধ দিয়ে গোসল করিয়ে ব্রাজিলের জার্সি পরিধান করিয়ে দিই। সে এখন ব্রাজিল সমর্থন করে।

তিনি আরও বলেন, ব্রাজিল অনেক বছর শিরোপা জিততে পারেনি সত্যি, কিন্তু তারা শৈল্পিক ফুটবলের উদ্ভাবক।

কবরস্থানে পীর সেজে থাকতেন হত্যা মামলার আসামি

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বাজিতপুর গ্রামে শতবর্ষী একটি পঞ্চায়েতি নির্জন কবরস্থান দখল করে কথিত পীরের আস্তানা গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, পবিত্র কবরস্থানের ভেতরে পীর পরিচয়ের আড়ালে এক হত্যা মামলার আসামি মাদক ও জুয়ার আসর বসাচ্ছেন।

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাজিতপুর গ্রামের বাসিন্দা গয়াছ মিয়া (৩৫) একটি হত্যা মামলার প্রধান আসামি। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর সম্প্রতি তিনি জামিনে মুক্তি পেয়ে এলাকায় ফিরে আসেন। এরপর তিনি দাবি করেন, স্বপ্নে এক অজ্ঞাত পীরের নির্দেশে তিনি ওই কবরস্থানে অবস্থান করছেন। সেখানে জিন সাধনা ও আধ্যাত্মিক চিকিৎসা দেওয়ার কথা বলে তিনি কবরস্থানের ভেতরে ঘন জঙ্গল ও শতবর্ষী একটি বটগাছের নিচে বাঁশ-বেত দিয়ে দোতলা আকৃতির একটি ঝুপড়ি ঘর নির্মাণ করেছেন।

 

 

কবর ও ঘন বাঁশঝাড়ের মাঝখানে নির্মিত হয়েছে ওই ঝুপড়ি ঘর। গয়াছ মিয়ার মাথায় সাদা পাগড়ি, হাতে নথ লাগানো লোহার রড, ধান কাটার কাঁচি ও দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, গয়াছ মিয়া পীরের পরিচয় ব্যবহার করে সেখানে মাদকসেবী ও জুয়াড়িদের আড্ডা গড়ে তুলেছেন। সন্ধ্যার পর নিয়মিত সেখানে মদ, গাঁজা সেবন ও জুয়ার আসর বসে বলে দাবি করেন তারা।

বাজিতপুর জামে মসজিদের মোতাওয়াল্লি সুনুর মিয়া বলেন, শত বছরের পবিত্র কবরস্থানে মদ-গাঁজার আসর বসানো সম্পূর্ণ হারাম। এসব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কবরস্থানের পবিত্রতা রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জুয়েল মিয়া বলেন, হত্যা মামলার একজন আসামি জামিনে এসে কবরস্থানে আস্তানা গড়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

 

 

তবে মাদকের আখড়া পরিচালনার অভিযোগ অস্বীকার করে গয়াছ মিয়া বলেন, কারাগারে থাকাকালে আমার বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ভিটেমাটিও বিক্রি হয়ে গেছে। নিরুপায় হয়ে আমি এই কবরস্থানে আশ্রয় নিয়েছি।

 

 

এদিকে কবরস্থান রক্ষা, অবৈধ আস্তানা উচ্ছেদ এবং মসজিদের সম্পত্তি উদ্ধারসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে গত বুধবার এলাকাবাসী দোয়ারাবাজার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের অনুলিপি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও উপজেলা প্রশাসনের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

 

 

দোয়ারাবাজার মডেল থানার ওসি তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম, চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার

রংপুর নগরীতে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, প্রক্সি সরবরাহ ও ডিভাইস ব্যবহার করে জালিয়াতির অভিযোগে একটি চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

 

 

শনিবার (২০ জুন) দুপুরে রংপুর ডিবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী। এর আগে শুক্রবার গভীর রাতে নগরীর ধাপ জেল রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

গ্রেপ্তাররা হলেন- নগরীর কামাল কাছনা এলাকার তাওরাত আকরাম (২৭), সাতগাড়া এলাকার বাধন মিয়া (৩৭), ধাপ মোহাম্মদপুর এলাকার সাহেব আলী (২৬), বদরগঞ্জ উপজেলার আতিকুর রহমান (৩৪) এবং দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার হাফিজ আল মামুন (২০) ও আশরাফুল ইসলাম (৩৬)।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার গভীর রাতে ধাপ জেল রোড এলাকার আরজি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পাশের একটি ভবনের নিচতলার একটি কক্ষে অভিযান চালানো হয়। এসময় সেখানে অবস্থানরত ৬ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

অভিযানে ১৫টি স্বাক্ষরিত নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, বিভিন্ন ব্যাংকের ৮টি স্বাক্ষরিত ব্ল্যাংক চেক, তিনটি জাতীয় পরিচয়পত্র, চাকরিপ্রার্থীদের চারজনের মূল সার্টিফিকেট এবং ৫টি মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারদের মধ্যে একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক। তিনি এর আগে একই ধরনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে ৫২ দিন কারাভোগ করেছিলেন। অপর একজন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর বেকারত্বের সুযোগে চক্রটির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।

 

 

সনাতন চক্রবর্তী বলেন, সম্প্রতি ডাক বিভাগের একটি নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে চক্রটি সক্রিয় হয়েছিল বলে তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি পরীক্ষার্থী সরবরাহ ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে তিনি দাবি করেন। চক্রটি চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে স্বাক্ষরিত স্ট্যাম্প, ব্ল্যাংক চেক ও অর্থ নিয়ে প্রতারণা করতো বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

 

 

গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে বলে জানায় পুলিশ।

চঞ্চলের তুলিতে ফুটে উঠল মেসি, অভিনয়ের বাইরে আঁকায় মুগ্ধতা ছড়ালেন তিনি

চলছে ফিফা বিশ্বকাপ। ক্রীড়ার এই মহাযজ্ঞের উত্তাপে কাঁপছে গোটা দুনিয়া। সেই উন্মাদনা থেকে পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও। মাঠে দল না থাকলেও সমর্থনে ভাগ হয়ে গেছে দুই পরাশক্তি—ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পতাকায় রঙিন চারপাশ।

 

 

এই ফুটবল আবহে শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও সরব। প্রিয় দল-খেলোয়াড় নিয়ে মন্তব্য করছেন, দিচ্ছেন নানা প্রতিক্রিয়া। তবে সবার থেকে একটু ভিন্নভাবে নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করলেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী।

 

 

আজ শনিবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি শেয়ার করেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী মহাতারকা লিওনেল মেসি–এর একটি স্কেচ। নিখুঁত আঁচড়ে ফুটিয়ে তুলেছেন মেসির চুল, দাড়ি, চোখ—এমনকি তার স্বাভাবিক হাসিটিও।

আর এই পোস্টের ক্যাপশনে চঞ্চল লিখেছেন, ‘আমি মেসির একটা ছবি আঁকব—এটা দেখে মেসি ভক্তরা খুশি হতেই পারেন। আঁকলাম। প্রিয় খেলোয়াড় বলে কথা! এখন লাইক-শেয়ার আপনার ব্যাপার।’

স্কেচটি পোস্ট করার পরপরই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া পড়ে। সেইসঙ্গে ভক্ত-সমর্থকরা প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন অভিনেতাকে। কেউ লিখেছেন, ‘আপনি দুই বাংলার খ্যাতিমান অভিনেতা, পাশাপাশি একজন প্রতিভাবান চিত্রশিল্পীও।’ আবার কেউ তুলনা টেনেছেন, ‘মেসি যেমন ফুটবলে সেরা, আপনি তেমন অভিনয়ে।’

অভিনয়ের পাশাপাশি গান ও আঁকাআঁকিতেও সমান দক্ষ চঞ্চল চৌধুরী। নিয়মিতই প্রিয়জন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ছবি এঁকে সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেন তিনি। ইতোমধ্যে সত্যজিৎ রায়, তারিক আনাম খান, বাপ্পা মজুমদার, সালাহউদ্দিন লাভলু, রায়হান রাফী, তাসনিয়া ফারিণ ও প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়–সহ অনেকের প্রতিকৃতি তার ডিজিটাল তুলিতে ধরা পড়েছে।

পরীক্ষাকেন্দ্র নিয়ে ভোগান্তি, ভারতের শিক্ষার্থীর কেন্দ্র আমিরাতে

ভারতের জাতীয় পরীক্ষা সংস্থার (এনটিএ) এক বড় ভুলে এক শিক্ষার্থীর পরীক্ষাকেন্দ্র ভারত থেকে বিদেশে চলে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মহারাষ্ট্রের নাগপুরের এক এনইইটি পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্রে তার পরীক্ষাকেন্দ্র দেখানো হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে।

 

 

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তালিব অনলাইনে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করার পর বিষয়টি দেখতে পান। তিনি পরীক্ষার জন্য নাগপুর থেকে আবেদন করেছিলেন এবং দেশের মধ্যেই পরীক্ষাকেন্দ্র পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রবেশপত্রে বিদেশের কেন্দ্র উল্লেখ থাকায় তিনি ও তার পরিবার হতবাক হয়ে যান।

 

 

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ওই শিক্ষার্থীর পাসপোর্ট নেই। ফলে আবুধাবিতে গিয়ে পরীক্ষা দেওয়া তার জন্য একেবারেই সম্ভব ছিল না।

বিষয়টি সামনে আসার পর প্রবেশপত্রের একটি স্ক্রিনশট সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং এনটিএ-র নজরে আসে। এরপর সংস্থাটি ভুল স্বীকার করে জানায়, এটি একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা টেকনিক্যাল গ্লিচের কারণে হয়েছে।

এনটিএ আশ্বস্ত করেছে, দ্রুত নতুন করে সংশোধিত প্রবেশপত্র দেওয়া হবে এবং শিক্ষার্থীকে ভারতের মধ্যেই পরীক্ষাকেন্দ্র বরাদ্দ করা হবে।

শিক্ষার্থীর পরিবার জানিয়েছে, আবেদন করার সময় তিনি নাগপুর, ওয়ার্ধা ও ভান্ডারা—এই তিনটি শহর পছন্দ হিসেবে দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রবেশপত্রে ভুল করে বিদেশের কেন্দ্র দেখানো হয়।

 

 

এনটিএ আরও জানিয়েছে, যেসব শিক্ষার্থীর পরীক্ষাকেন্দ্র বা তথ্য ভুলভাবে এসেছে, তারা যেন দ্রুত বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানায়।

 

 

আগামী ২১ জুন রি-এনইইটি ইউজি ২০২৬ পরীক্ষা পেন-অ্যান্ড-পেপার পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত পরীক্ষা চলবে। পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখতে বলা হয়েছে।

 

 

আ.লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে উত্তপ্ত ঝিনাইদহ, আহত ২০

ঝিনাইদহ হরিনাকুণ্ডতে পূর্ব শত্রুতা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের ২০ জন আহত হয়েছেন।শনিবার (২০ জুন) ভোরে উপজেলার ৬নং ফলসী ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

 

 

 

আহতরা হলেন- ওই গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মশিউর রহমান মশাল (৫০), মোজাফ্ফর হোসেন সেন্টু (৪৫), কবির হোসেন (৪০), মিজানুর রহমান ( ৪৫), রুবেল (৩২), গোলাফ্ফার ( ৪২), আব্দুর রাজ্জাক (৪৮), মোতালেব হোসেন (৪০), তোতা ( ৩৫), বাচ্চু মিয়া (৩২), বিভান (২২) ও সামসুদ্দিনসহ (৪৫) অনেকে।

 

 

 

এদের মধ্যে মশিউর রহমান মশাল, মোজাফ্ফর ও কবির হোসেন কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং মিজানুর রহমান ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে। তাদের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। অন্যরা হরিণাকুণ্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

 

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই গ্রামে দুপক্ষের মধ্যে সামাজিক বিরোধ চলছে। একপক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন ফলসী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য, ঝিনাইদহ জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট বজলুর রহমান। অপরপক্ষে নেতৃত্বে রয়েছেন ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি করম আলী ও সাবেক ইউপি সদস্য মশিউর রহমান মশাল।

জানা যায়, শুক্রবার ( ২০ জুন) সকালে পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে সন্দেহের জেরে ইউপি চেয়ারম্যান বজলুর রহমানের ভাই ছোটন রহমান ছোটকে কুপিয়ে আহত করে প্রতিপক্ষরা। এরই জেরে চেয়ারম্যানের লোকজন শনিবার সকাল ছয়টার দিকে প্রতিপক্ষের লোকজনের ওপর হামলা করে।

 

 

ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি করম আলী অভিযোগ করেন, সকালে চেয়ারম্যানের পক্ষের নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের লোকজন তাদের লোকজনের ওপর অতর্কিত হামলা করে। এ সময় তারা বিএনপি নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য মশিউর রহমান মশালসহ ১৫-২০ জনকে কুপিয়ে আহত করে। এ সময় ককটেল ফাটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃস্টি করে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

 

 

 

ফারুক হোসেন নামে ওই গ্রামের আরও একজন জানান, শুক্রবার সকালে চেয়ারম্যানের ভাই ছোটকে কুপিয়ে আহত করে প্রতিপক্ষরা। এরই জেরে শনিবার সংঘর্ষ হয়েছে।

 

 

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই গ্রামের একব্যক্তি জানান, গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে দুপক্ষের মধ্যে সামাজিক বিরোধ চলছে। এর আগেও মে মাসে দুদফায় সংঘর্ষ হয়েছে। শুক্রবার চেয়ারম্যানের ভাইকে প্রতিপক্ষরা কুপিয়ে আহত করেছে। এরই জেরে শনিবার ভোরে চেয়ারম্যানের লোকজন প্রতিপক্ষের ওপর আক্রমণ করে। তখন উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তবে এটি রাজনৈতিক নয় সামাজিক বিরোধ বলে জানান এই ব্যক্তি।

 

 

 

ইসরাফিল হোসেন নামে আরও একজন জানান, কয়েকদিন আগে চেয়ারম্যানের ভাইয়ের পুকুর থেকে রাতের আঁধারে কে বা কারা মাছ লুট করে। সেই ঘটনায় মামলা হয়। মামলার জেরে চেয়ারম্যানের ভাই ছোটকে শুক্রবার প্রতিপক্ষরা কুপিয়ে আহত করে। এরই জেরে শনিবার সংঘর্ষ হয়েছে।

 

 

 

ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট বজলুর রহমান জানান, একের পর এক তার লোকজনের ওপর আক্রমণ হচ্ছে। তার ভাইকেও কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।

 

 

 

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাইজাল হোসেন বলেন, এটি সামাজিক বিরোধ। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে কিছু লোক ইউপি চেয়ারম্যানের গ্রুপ থেকে বের হয়ে গেছে, তাই প্রতিষোধপরায়ন হয়ে তিনি তাদের ওপর একের পর এক হামলা করেছে।

 

 

 

তিনি দাবি করেন, চেয়ারম্যানের ভাই একজন নারীকে লাঞ্ছিত করেছিল তাই ওই নারীর পরিবারের লোকজন তার ওপর হামলা করেছে। কিন্তু চেয়ারম্যান ঘুমন্ত প্রতিপক্ষের ওপর ভোরে হামলা করিয়েছে। এ সময় চেয়ারম্যানের লোকজন ককটেল ফাটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

 

 

 

হরিণাকুণ্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অসিত কুমার বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ককটেল ফোটানোর খবরটি সঠিক না। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কঠোর হবে। মামলা ও আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

 

অবসরের ইঙ্গিত, আর বিশ্বকাপ খেলবেন না মেসি?

অসংখ্য রেকর্ডের মালিক লিওনেল মেসি। ২০২৬ বিশ্বকাপে নেমে তিনি গড়েছেন আরেকটি অনন্য কীর্তি। বিশ্বের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপ খেলেছেন। একদিন পর সেই রেকর্ডে ভাগ বসান ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তবে মাঠের পারফরম্যান্সে আলো ছড়ান মেসিই। আলজেরিয়ার বিপক্ষে নিজের বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক করে নতুন করে শিরোনামে উঠে আসেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

 

 

চার দিন পর ৩৯ বছরে পা দেবেন মেসি। অন্যদিকে রোনালদো পেরিয়ে গেছেন ৪১ বছর। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তারা কি ২০৩০ বিশ্বকাপেও খেলবেন? পর্তুগালে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সেই বিশ্বকাপে রোনালদোর খেলা নিয়ে জল্পনা থাকলেও মেসি বিষয়টি একেবারে উড়িয়ে দিয়েছেন।

 

 

আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম ওলে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেসি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘না (সপ্তম বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনা) । এটা আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি।’

নিজেকে এত বছর ধরে শীর্ষ পর্যায়ে ধরে রাখার রহস্যও জানিয়েছেন তিনি। মেসির ভাষায়, ‘আমি সবসময় ফুটবলের মধ্যেই বেঁচে থেকেছি। প্রতিযোগিতা করেছি, নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। শারীরিকভাবে নিজেকে প্রস্তুত রেখেছি, যাতে বিশ্বকাপে দলকে সর্বোচ্চ সাহায্য করতে পারি। আমাদের দলে অসাধারণ কিছু খেলোয়াড় আছে। এখানে কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জায়গাও সহজে ছেড়ে দেয় না। টিকে থাকতে হলে নিজের সেরা ফর্মে থাকতে হয়। এটাই আমাদের শক্তি এবং সাফল্যের মূল কারণ।’

২০৩০ বিশ্বকাপ হবে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম ব্যতিক্রমী আসর। বিশ্বকাপের শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে প্রথমবারের মতো দুটি মহাদেশের ছয়টি দেশ এই টুর্নামেন্টের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। মূল আয়োজক দেশ স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। আর শতবর্ষের বিশেষ আয়োজন হিসেবে উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতে।

 

তবে ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব বেশি ভাবছেন না মেসি। ক্লাব, জাতীয় দল এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে প্রায় সব বড় অর্জনই তার ঝুলিতে। তাই এখন তিনি যা পাচ্ছেন, সবকিছুকেই দেখছেন বাড়তি প্রাপ্তি হিসেবে।

 

 

মেসির কথায়, ‘ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, ক্লাব, জাতীয় দল ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে সব গুরুত্বপূর্ণ অর্জন করার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। তাই এখন থেকে যা কিছু আসবে, সবই আমার কাছে বোনাস।’

 

 

গোল করছেন, আনন্দে ভাসছেন, আবার আবেগে কাঁদছেনও। কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর মেসির প্রাপ্তির খাতা প্রায় পূর্ণ। তবু তিনি মাঠে আছেন, লড়াই করছেন, নতুন ইতিহাস লিখছেন। আর সেই কারণেই ফুটবল বিশ্বের চোখ এখনো তার দিকেই।

 

 

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচগুলোর পর প্রকাশিত ফিফার অফিসিয়াল পাওয়ার র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে আর্জেন্টিনাকে ৩-০ গোলের জয় এনে দেওয়ার পর এই স্বীকৃতি পেয়েছেন বিশ্বকাপজয়ী তারকা। ফিফার তথ্যভিত্তিক পারফরম্যান্স সূচকে খেলোয়াড়দের অবদানকে আক্রমণ, সৃজনশীলতা ও রক্ষণ—এই তিনটি আলাদা বিভাগে মূল্যায়ন করা হয়। সেই সূচকে আক্রমণভাগে ১০-এর মধ্যে ৮.১৩ রেটিং পেয়ে সবার ওপরে অবস্থান করছেন মেসি।

শ্রী রামচন্দ্রের অবমাননার প্রতিবাদে বেলকুচিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের চিত্রপটে জুতা নিক্ষেপ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ অপপ্রচারের প্রতিবাদে সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) সকালে বেলকুচি উপজেলার এনায়েতপুর-সয়দাবাদ আঞ্চলিক সড়কের সদর হাসপাতাল গেট সংলগ্ন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ বেলকুচি উপজেলা শাখার উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ বেলকুচি উপজেলা শাখার সভাপতি বৈদ্যনাথ রায়ের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ডা: অমৃত নারায়ণ দে’র পরিচালনায় প্রতিবাদ কমসূচিতে উপস্থিত ছিলেন দৌলতপুর ইউনিয়ন শাখার সভাপতি নারায়ণ মালাকার, পৌর শাখার সভাপতি পলাশ কুমার সাহা, সাধারণ সম্পাদক পাপ্পু সাহা, সিনিয়র সহ-সভাপতি নয়ন কুমার ঘোষ, সদস্য সুদ্বীপ পোদ্দার, কৃষ্ণ কুমার ঘোষ, সুজয় কুমার ঘোষ, নন্দ রাজবংশী, প্রধান বক্তা ফারিয়ার সাধারণ সম্পাদক নিপেন্দ্র নাথ মন্ডলসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শ্রীরামচন্দ্রের চিত্রপট অবমাননা ও অনলাইনে অপপ্রচারের ঘটনা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। তারা এই ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান। একইসঙ্গে বক্তারা দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আহ্বান জানান। মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয় যা বেলকুচির প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

রাফিনহাকে ঘিরে উদ্বেগ, বদলি নেওয়ার সুযোগ আছে কি ব্রাজিলের?

হাইতির বিপক্ষে আজ ফিলাডেলফিয়ায় ৪০ মিনিটে মাঠ ছেড়ে চলে যান রাফিনিয়া। চিকিৎসকেরা যখন তাকে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন চোখের পানি মুছছিলেন ব্রাজিলের এই তারকা ফরোয়ার্ড। তাতে করে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে।

 

 

ডাগআউটে ফিরেই রাফিনহা দলের ডাক্তার রদ্রিগো লাসমারের সঙ্গে কথা বলেন। তারকা ফরোয়ার্ডকে সান্ত্বনা দেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। আর যখন ডান ঊরুতে রাফিনিয়া হাত রেখেছেন, তখন কোচের দুশ্চিন্তা অনেক বেড়ে যায়। কারণ, এখন তার (রাফিনহা) বিশ্বকাপ থেকেই ছিটকে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদি এই আশঙ্কা সত্যি হয়, তাহলে বিকল্প খেলোয়াড় নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (সিবিএফ)। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী বিকল্প খেলোয়াড় নেওয়ার সময়সীমা শেষ হয়েছে ১২ জুন।

 

 

এমনকি টুর্নামেন্টে প্রথম ম্যাচ খেলার ২৪ ঘণ্টা আগেও ব্রাজিল নতুন কাউকে দলে নিতে পারত। যেখানে গত ১৪ জুন বাংলাদেশ সময় ভোরে মরক্কোর মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল। এখন আর সেই সুযোগ পাচ্ছে না সেলেসাওরা। এক কথায় প্রথম রাউন্ড শেষ হওয়ার পর কোনো দলকেই টুর্নামেন্টের বাকি অংশের জন্য তাদের দলে আর কোনো পরিবর্তন আনার অনুমতি দেয় না।

বিশ্বকাপে গোলরক্ষকদের বেলায় ব্যতিক্রম রয়েছে। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি দলের ম্যাচের জন্য তিন গোলরক্ষক থাকতে হবে। কোনো গোলরক্ষক চোটের কারণে ছিটকে গেলে তার পরিবর্তে নতুন গোলরক্ষক নেওয়া সম্ভব। তা না হলে দলটি বিশ্বকাপের বাকি সময় একজন খেলোয়াড় কম নিয়েই খেলতে হবে।

এ বছরের মার্চে ফ্রান্সের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়েছিলেন রাফিনিয়া। আজ হাইতির বিপক্ষে ফের ডান পায়ে চোট পাওয়ায় বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। রাফিনিয়ার বিপক্ষে ৪০ মিনিটে রায়ানকে মাঠে নামান আনচেলত্তি। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের সহজ জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে ব্রাজিল। মাথিয়াস কুনিয়া করেছেন জোড়া গোল। অপর গোল করেছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।

হাইতির বিপক্ষে ৩-০ গোলে জয়ের পর ‘সি’ গ্রুপের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে এখন ব্রাজিল। দুই ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৪। মরক্কোর পয়েন্ট ৪ হলেও গোল ব্যবধানের কারণে দলটি দুইয়ে। ১৪ জুন নিউজার্সিতে ব্রাজিল-মরক্কো ম্যাচ গোলশূন্য ড্র হয়েছিল। তিন পয়েন্ট নিয়ে তিনে স্কটল্যান্ড। আর দুই ম্যাচের দুটিতে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল হাইতি।

বিয়ে নয়, হচ্ছিল ‘আংটি বদল’! চিনিকল এমডির ছেলের বাল্যবিয়ে ঠেকাল প্রশাসন

জয়পুরহাট চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) ছেলের সঙ্গে একই প্রতিষ্ঠানের আরেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার স্কুলপড়ুয়া মেয়ের বিয়ের সব প্রস্তুতিই ছিল সম্পন্ন। স্থান খোদ চিনিকল চত্বর! তবে গোপন এই আয়োজনের খবর পৌঁছে যায় স্থানীয় প্রশাসনের কানে। অবশেষে শুক্রবার দুপুরে আকস্মিক অভিযান চালিয়ে এই বাল্যবিয়ে পণ্ড করে দিয়েছে প্রশাসন।

 

​জানা গেছে, বর পেশায় একজন ইন্টার্ন চিকিৎসক এবং তিনি জয়পুরহাট চিনিকলের এমডি মোহাম্মদ খবির উদ্দিন মোল্যার ছেলে। কনে এবার এসএসসি পরীক্ষা দেবে, বয়স এখনো ১৮ পেরোয়নি। কনের বাবাও একই চিনিকলের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

 

​আইন অনুযায়ী বয়সের বাধা থাকলেও শুক্রবার দুপুরে চিনিকলের ভেতরেই বিয়ের এই গোপনীয় আসর বসেছিল। দাওয়াতি মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চিনিকলের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীও।

 

​বাল্যবিয়ের এই খবর পেয়ে কালক্ষেপণ না করে ঘটনাস্থলে ছুটে যান জয়পুরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরে আলম সিদ্দিকী। প্রশাসনের উপস্থিতিতে ভেস্তে যায় বিয়ের আয়োজন। পরে কনের বাবার কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা আদায় করা হয় যে, মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত কোনোভাবেই তাকে বিয়ে দেওয়া হবে না।

 

​তবে বিয়ের মূল আয়োজনের কথা অস্বীকার করেছে বর ও কনের পরিবার। একে নিছক আংটি পরানো’ বা আক্‌দ অনুষ্ঠান বলে দাবি করেছেন ছেলের বাবা ও চিনিকলের এমডি মোহাম্মদ খবির উদ্দিন মোল্যা।

 

​তিনি বলেন, আমার ছেলে এমবিবিএস পাস করেছে। চিনিকলের এক কর্মকর্তার মেয়েকে সে পছন্দ করেছে। কিন্তু মেয়ের বিয়ের বয়স এখনো হয়নি। যেহেতু আমাদের দুজনেরই বদলির চাকরি এবং যেকোনো সময় বদলি হতে পারে, তাই দুই পরিবারের সম্মতিতে কেবল আংটি পরানোর আয়োজন করা হয়েছিল।

 

​তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের লোকজন আসার পর মেয়ের বাবা মুচলেকা দিয়েছেন। আগামী বছর যদি আমরা এখানে থাকি, তবে মেয়ের বয়স পূর্ণ হওয়ার পর ধুমধাম করেই বিয়ের অনুষ্ঠান করব।

 

​এ বিষয়ে ইউএনও মাহমুদুল হাসান বলেন, গোপনে নাবালিকা মেয়ের বিয়ের আয়োজন চলছে- এমন তথ্যের ভিত্তিতে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, মেয়েটির বয়স এখনো ১৮ বছর পূর্ণ হয়নি। তাই কনের বাবার কাছ থেকে লিখিত অঙ্গীকারনামা নেওয়া হয়েছে। বাল্যবিয়ে রোধে প্রশাসন সবসময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

লেবাননে যুদ্ধবিরতি উপেক্ষা করে ইসরায়েলি হামলা, ১৬ জন নিহত

ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি ঘোষণার একদিন পরও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। এসব হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে লেবাননের বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা।

 

 

সংস্থাটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, দক্ষিণাঞ্চলের নাবাতিয়েহ জেলায় চলমান হামলার ঘটনায় উদ্ধারকর্মীরা ১৬ জনের মরদেহ এবং ১২ জন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। খবর দ্য টাইমস অফ ইসরায়েলের।

 

 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভোর থেকে বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার সদস্যরা নাবাতিয়েহ জেলায় উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। এলাকায় অব্যাহত হামলার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও হামলা অব্যাহত থাকায় অঞ্চলটিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। তবে হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ইসরায়েলি বাহিনীর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ব্রাজিল জেতায় মাথা ন্যাড়া করলেন আর্জেন্টিনা ভক্ত

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই সমর্থকদের আবেগ, উন্মাদনা আর নানা ব্যতিক্রমী কাণ্ড। সেই উন্মাদনারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জামালপুরের বকশীগঞ্জের এক আর্জেন্টিনা সমর্থক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া চ্যালেঞ্জ রক্ষা করতে ব্রাজিলের জয়ের পর মাথা ন্যাড়া করেছেন ফয়সাল আহমেদ জুম্মান।

 

 

 

ফয়সাল উপজেলার সদর ইউনিয়নের সাধুরপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে আর্জেন্টিনা দলের একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত।

 

 

 

 

শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে তিনি ঘোষণা দেন- হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে ব্রাজিল জয়ী হলে তিনি মাথা ন্যাড়া করে এলাকায় ঘুরবেন।

 

 

শনিবার (২০ জুন) সকালে অনুষ্ঠিত ম্যাচে হাইতিকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে ব্রাজিল। ম্যাচ শেষ হতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া নিজের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেন ফয়সাল। আর্জেন্টিনার জার্সি গায়েই সাধুরপাড়া এলাকায় তিনি মাথা ন্যাড়া করেন। এ সময় ঘটনাটি দেখতে ভিড় করেন স্থানীয় ফুটবলপ্রেমি ও কৌতূহলী মানুষজন।

 

মুহূর্তেই বিষয়টি এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। অনেকেই ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। পরে সেগুলো ব্যাপকভাবে শেয়ার হলে নেটিজেনদের মধ্যে দেখা দেয় নানা আলোচনা।

 

 

স্থানীয়দের মতে, বিশ্বকাপ ঘিরে সমর্থকদের মধ্যে এমন বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা ফুটবলপ্রেমেরই বহিঃপ্রকাশ। ফয়সালের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এলাকায় বেশ আনন্দ ও কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।

 

 

 

ফয়সাল আহমেদ জুম্মান বলেন, ‘খেলাধুলা বিনোদনের একটি বড় মাধ্যম। আমি মজা করেই এই চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলাম। ব্রাজিল জিতেছে, তাই কথা অনুযায়ী মাথা ন্যাড়া করেছি। প্রতিশ্রুতি দিলে তা রাখতে হয়।’

 

প্রথম দুই ম্যাচেই শঙ্কা, নিষেধাজ্ঞার মুখে ব্রাজিলের ৩ ফুটবলার

বিশ্বকাপের দুটি গ্রুপ ম্যাচ খেলা হয়ে গেছে ব্রাজিলের। দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে সেলেসাওরা। কিন্তু স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগে উদ্বেগ ব্রাজিলের ক্যাম্পে।

 

 

আগামী বুধবার স্কটিশদের সঙ্গে ড্র করলেই শীর্ষ দুইয়ে থাকা নিশ্চিত হবে ব্রাজিলের। আর জিতলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া প্রায় নিশ্চিত। কিন্তু এই ম্যাচে তিন খেলোয়াড়কে নিয়ে শঙ্কা থাকছে। আর একটি হলুদ কার্ড পেলে নিষেধাজ্ঞায় কপাল পুড়বে তাদের।

 

 

মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ ও হাইতির বিপক্ষে জয়ের পর ইবানেজ, কাসেমিরো ও ডগলাস সান্তোসের প্রত্যেকে একটি করে হলুদ কার্ড দেখেছেন। আরেকবার কার্ড পেলে নিষেধাজ্ঞার শাস্তি পেতে হবে তাদের।

বিশ্বকাপে ম্যাচের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ফিফা হলুদ কার্ড ও শাস্তির নিয়মে একটি বড় পরিবর্তন এনেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, খেলোয়াড়দের জমে থাকা হলুদ কার্ড এখন থেকে দুটি ধাপে মুছে ফেলা হবে। গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার পর যখন নকআউট পর্ব বা দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে, তখন আগের কার্ডগুলো বাতিল হয়ে যাবে। কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ শুরু হওয়ার আগেও খেলোয়াড়দের কার্ডের হিসাব আবার নতুন করে শুরু হবে।

তবে কোনো খেলোয়াড় যদি গ্রুপের শেষ ম্যাচে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পান, তবে প্রথম নকআউট রাউন্ডে নিষিদ্ধ থাকবেন তিনি।

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ছে, থাকছে একাধিক বাড়তি সুযোগ

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত নবম পে স্কেল আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোতে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেতে যাচ্ছেন ১১ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীরা। বিশেষ করে টিফিন ভাতা পাঁচ গুণ বাড়িয়ে ২০০ টাকা থেকে ১,০০০ টাকা করার প্রস্তাব প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

 

 

২০১৫ সালে অষ্টম পে স্কেল ঘোষণার পর এটিই হতে যাচ্ছে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। টিফিন ভাতা বৃদ্ধির খবরে সচিবালয় থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের কর্মচারীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে বলে জানা গেছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।

 

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে মাসিক ২০০ টাকার টিফিন ভাতা বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। গত এক দশকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় এ ভাতা বাড়ানোর সুপারিশ করে বেতন কমিশন। কর্মচারীদের দৈনন্দিন ব্যয় সামাল দিতে এ সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, টিফিন ভাতার সুবিধা মূলত ১১ থেকে ২০ গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য হবে।

নবম পে স্কেলে টিফিন ভাতার পাশাপাশি আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ, বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশে উন্নীত করা, শিক্ষা ভাতা ২ হাজার টাকা নির্ধারণ, সরকারি কর্মচারীদের জন্য স্বাস্থ্যবীমা চালু এবং প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য অতিরিক্ত ২ হাজার টাকা ভাতা প্রদান।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের সঙ্গে সমন্বয় করে ধাপে ধাপে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

তিন মাসে বিএনপির অর্জন, ১৫ বছরে হয়নি আ.লীগের: মির্জা ফখরুল

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে আপনাদের এলাকায় যত রাস্তাঘাট ও সেতু রয়েছে, ইনশাআল্লাহ, সব কাজ সম্পন্ন করা হবে। তিনি আরও বলেছেন, বিএনপি সরকারের গত তিন মাসে যা কাজ হয়েছে, তা আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরেও হয়নি।

 

 

শনিবার (২০ জুন) মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর গ্রামীণ বাজার উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নবনির্মিত আধুনিক মার্কেট ভবনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

মন্ত্রী বলেন, সরকার পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। গত তিন মাসে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা আওয়ামী লীগের ১৫ বছরেও হয়নি।

জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে বাস্তবায়িত দেশব্যাপী গ্রামীণ বাজার উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে ভবেরচর গ্রামীণ বাজারে ২০২৪ সালের ১ জুলাই নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রায় ২ কোটি ৩৫ লাখ ৮৬ হাজার ৪৮০ টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক মার্কেট ভবনটির কাজ বাস্তবায়ন করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), মুন্সীগঞ্জ। নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্বপ্না কনস্ট্রাকশন লিমিটেড।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন, সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন, জেলা প্রশাসক সৈয়দা নূরমহল আশরাফী, পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম এবং গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাফছা নাদিয়াসহ স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা।

 

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী গজারিয়া উপজেলার ব্র্যাক অফিস থেকে ইমামপুর ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত দুই হাজার মিটার সড়কের পুনর্বাসন ও উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ ছাড়া রসুলপুর বাজার এলাকায় ফুলদী নদীর ওপর প্রস্তাবিত সেতু নির্মাণস্থলও পরিদর্শন করেন।

জরাজীর্ণ বনবিভাগ অফিসে চারা উৎপাদনের জমিতে ধান চাষ, বসেছে মাদকসেবীদের আখড়া

সরকার যেখানে দেশজুড়ে বনায়ন ও পরিবেশ সুরক্ষায় জোর দিচ্ছে, সেখানে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলা পরিষদ এলাকায় অবস্থিত সরকারি বন বিভাগের নার্সারী ও অফিসটি এখন নিজেই অস্তিত্ব সংকটে। সরকারিভাবে এখানে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা উৎপাদন ও বিতরণের কথা থাকলেও, বাস্তবে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে চলছে ধান চাষ। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কার্যালয়টি এখন পরিণত হয়েছে এক জরাজীর্ণ ভূতূড়ে বাড়িতে, যা স্থানীয় অপরাধী ও মাদকসেবীদের নিরাপদ আস্তানায় রূপ নিয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত এই কার্যালয়টি সংস্কার করে বনায়নের উপযুক্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক।

 

 

সরেজমিনে পরিদর্শনে জানা যায়, ১৯৯০ সালে পাঁচবিবি উপজেলা পরিষদ এলাকায় প্রায় ১২ বিঘা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় ‘সামাজিক বনায়ন নার্সারী ও কেন্দ্র, জয়পুরহাট’ এবং ‘পাঁচবিবি সামাজিক বনায়ন ও বাগান’। নিয়ম অনুযায়ী এই বিশাল জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা উৎপাদন করে তা সাধারণ মানুষের মাঝে সরবরাহ করার কথা। কিন্তু বর্তমানে নামমাত্র কয়েক শতক জমিতে কিছু চারা দেখা গেলেও বাকি পুরো মাঠ জুড়েই চলছে ধান চাষ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কেন্দ্রের বাগান মালি মতিউর রহমান নিজেই সরকারি এই জমিতে ধান চাষ করছেন। অথচ নিয়ম মেনে এখানে চারা উৎপাদন করা হলে একদিকে যেমন স্থানীয়দের চাহিদা মিটত, অন্যদিকে সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পেত।

 

 

দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় কার্যালয়ের ছোট-বড় কয়েকটি ভবনের দরজা-জানালা ইতিমধ্যেই চুরি হয়ে গেছে। সম্পূর্ণ জনশূন্য ও জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকায় স্থানীয়দের কাছে এটি এখন এক ‘ভূতূড়ে বাড়ি’। এই সুযোগে সন্ধ্যা নামলেই এখানে বসছে মাদকসেবী ও বিভিন্ন অপরাধীদের আসর, যা পুরো এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

 

এ বিষয়ে তথ্য জানতে পাঁচবিবি বন বিভাগের অফিসে গিয়ে কোনো বন কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। তবে সেখানে দায়িত্বরত বাগান মালি কামরুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি স্বাভাবিকভাবেই নিজের ও অন্যের সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করেন এবং এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

 

 

পরবর্তীতে জয়পুরহাট জেলা বন কর্মকর্তা মুহিদ চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কেন্দ্রের এই নানাবিধ দৈন্যদশার কথা স্বীকার করেন এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

 

 

এলাকাবাসী ও পরিবেশবাদীদের দাবি, সরকারি সম্পদ এভাবে নষ্ট হতে দেওয়া যায় না। দ্রুত মাদকসেবীদের আস্তানা উচ্ছেদ করে এবং ধান চাষ বন্ধ করে এখানে পুনরায় চারা গাছ উৎপাদন শুরু করা হোক। এতে করে যেমন সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে, তেমনি এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্যও রক্ষা পাবে।

পরিত্যক্ত দোকানে ‘খালেদা জিয়া টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ’-এর সাইনবোর্ড!

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার কেশবপুর গ্রামে একটি দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত দোকানঘরের সামনে বাঁশের খুঁটিতে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে চকচকে একটি সাইনবোর্ড- ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কার্যালয’। অথচ সেখানে নেই কোনো শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষার্থী কিংবা শিক্ষা কার্যক্রমের ন্যূনতম অস্তিত্ব। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

 

 

​স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও অবকাঠামো ছাড়াই সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নাম ব্যবহার করে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। এর পেছনের মূল উদ্দেশ্য সরকারি খাস জমির দখল বজায় রাখা এবং ভবিষ্যতে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগকে কেন্দ্র করে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন বা ‘নিয়োগ বাণিজ্য’-এর সুযোগ তৈরি করা।

 

 

​সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রামের সড়কের পাশে জরাজীর্ণ একটি টিনশেড ঘরের সামনে টাঙানো সাইনবোর্ডটিতে প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাকাল হিসেবে ‘২০২৪ সাল’ উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি সাইনবোর্ডে ‘কার্যালয়’ বানানটিও ভুল লেখা রয়েছে (‘কার্যালয’)।

 

​স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, আগে কখনো ওই এলাকায় এই নামে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বের কথা তাঁরা শোনেননি। সাইনবোর্ডের পিছনের জরাজীর্ণ ঘরটি একসময় ওষুধ ও মুদিখানার দোকান ছিল, যা দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

 

 

​খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কেশবপুর গ্রামের বাসিন্দা পল্লী চিকিৎসক আব্দুল জলিল অনেক আগে নিজেকে ‘ভূমিহীন’ পরিচয় দিয়ে সরকারি খাস জমি বন্দোবস্ত (লিজ) নেন। তবে তিনি প্রকৃতপক্ষে ভূমিহীন নন এবং সম্প্রতি জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি খাস জমি হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়ে যায়। এরপর লিজ বাতিল হওয়া থেকে জমিটি বাঁচানোর জন্য তিনি একটি ফন্দি আঁটেন। তিনি ধুরইল বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেক লেবুর সঙ্গে যোগাযোগ করলে, লেবু তাঁকে ওই খাস জমিতে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করার বুদ্ধি দেন।

 

 

​শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার কোনো শর্তই পূরণ করা হয়নি এখানে। তার আগেই হঠাৎ করে গত শুক্রবার বিকেলে ওই পরিত্যক্ত দোকানের সামনে কলেজের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, সাইনবোর্ড টাঙানোর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপরই বিষয়টি টক অব দ্য ভিলেজে পরিণত হয়। স্থানীয়দের দাবি, মূল উদ্যোক্তা আব্দুল খালেক লেবুর বিরুদ্ধে আগেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিক বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর হঠাৎ করে বেগম খালেদা জিয়ার নাম ব্যবহার করে এই কলেজের সাইনবোর্ড টাঙানোর বিষয়টি সামনে এল।

 

 

​জমির বিষয়ে জানতে চাইলে পল্লী চিকিৎসক আব্দুল জলিল বলেন, “আমার নামে বন্দোবস্ত নেওয়া সরকারি খাস জমিটি কলেজের জন্য দেওয়ার চিন্তা রয়েছে।” তিনি দাবি করেন, ধুরইল বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেক লেবুই এই কলেজ প্রতিষ্ঠার মূল উদ্যোগ নিয়েছেন এবং তিনিই কলেজের অধ্যক্ষের পদে থেকে সমস্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

 

 

​তবে আব্দুল খালেক লেবু নিজেকে ‘অধ্যক্ষ’ নয়, ‘প্রতিষ্ঠাতা’ দাবি করে বলেন, “আব্দুল জলিল কিছু জমি দেবেন, আর কিছু জমি কেনা হবে। কলেজের জন্য মোট ৬০ শতক জমির পরিকল্পনা রয়েছে।” তবে এখনো কলেজের নামে কোনো জমি দান বা ক্রয় সম্পন্ন হয়নি বলে তিনি স্বীকার করেন।

 

 

​জমির বিনিময়ে কোনো ব্যক্তিগত সুবিধা দেওয়া হবে কি না- এমন প্রশ্নে তিনি স্বীকার করেন যে, আব্দুল জলিল তাঁর মেয়ের জন্য একটি চাকরি চেয়েছেন। পরবর্তীতে এই প্রতিবেদক চাকরিপ্রার্থীর মুঠোফোনে নিয়োগের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে আব্দুল খালেক লেবু কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান এবং সরাসরি দেখা করার পরামর্শ দেন।

​গত সোমবার পাঁচবিবি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেনের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার জহুরুল ইসলাম বলেন, “গত দুই বছরে এই উপজেলায় ওই নামে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার অনুমোদন বা তথ্য আমাদের দপ্তরে নেই। তবে কয়েক দিন ফেসবুকে সাইনবোর্ডের একটি ছবি আমি দেখেছি।”

 

 

​পাঁচবিবি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাশপিয়া তাসরিন (যিনি উপজেলা সহকারী কমিশনার-ভূমির অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন) জানান, দীর্ঘমেয়াদি সরকারি খাস জমি লিজ নিয়ে তা রক্তের সম্পর্ক ছাড়া অন্য কাউকে দলিল করে দেওয়া বা হস্তান্তর করার কোনো আইনি সুযোগ নেই।

 

 

​পাঁচবিবি উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম ডালিম এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আব্দুল খালেক লেবুর বিরুদ্ধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ আগে থেকেই রয়েছে। আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নাম ব্যবহার করে কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল বা দুর্নীতির চেষ্টা করলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছি।”

 

 

​এ প্রসঙ্গে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশে একটি বেসরকারি কারিগরি বা সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের সুনির্দিষ্ট আইনি নীতিমালা রয়েছে। প্রথমত, প্রতিষ্ঠানের নামে নিজস্ব ও দায়মুক্ত জমি (মফস্বলে সাধারণত ৫০-৬০ শতাংশ) রেজিস্ট্রি থাকতে হবে। সরকারি লিজ নেওয়া জমিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের কোনো সুযোগ নেই। দ্বিতীয়ত, যথাযথ পাকা অবকাঠামো, লাইব্রেরি, ল্যাব ও সংরক্ষিত তহবিল ব্যতিরেকে কোনো প্রতিষ্ঠান পাঠদানের প্রাথমিক অনুমতি বা স্বীকৃতি পায় না।

 

 

রাণীনগরে ধান সংগ্রহের তথ্য গোপন, কর্মকর্তাদের ভূমিকায় স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে সমালোচনা

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের তথ্য প্রকাশে অনিচ্ছার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ওবায়দুল ইসলাম ও ওসি এলএসডি তারানা আফরীনের বিরুদ্ধে। তথ্য দেওয়ার আগ্রহ দেখানোর পরও বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়েছেন খাদ্য কর্মকর্তা ওবায়দুল ইসলাম।
এই দুজনের পাশাপাশি নওগাঁর সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুল্লাহ আল ইমরানও কৃষকদের নাম-ঠিকানাকে ব্যক্তিগত তথ্য হিসেবে চিহ্নিত করে আইনি বাধ্যবাধকতার দোহাই দিয়েছেন। এর ফলে সরকারিভাবে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহ করছে। অনলাইন আবেদন, লটারি এবং কৃষি বিভাগের তালিকার ভিত্তিতে প্রকৃত কৃষক বাছাই করে এই কার্যক্রম পরিচালনার নিয়ম থাকলেও, কার্যক্রম শেষের দিকে পৌঁছেও রাণীনগরে নির্বাচিত কৃষকদের তালিকা প্রকাশ্যে আনা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। সংবাদকর্মীরা তালিকা চাইতে গেলেও তাদের ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, এ বছর উপজেলায় ৩৬ টাকা কেজি দরে ১ হাজার ৯৬৯ মেট্রিক টন ধান, ৪৯ টাকা কেজি দরে ২ হাজার ৭৯ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল এবং ৫১ টাকা কেজি দরে ৮১ মেট্রিক টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। গত ১২ মে এই কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয় এবং পরবর্তীতে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের বিষয়ে আলোচনাও হয়। তবে বাস্তবে খাদ্য বিভাগ থেকে কোনো তথ্য বা সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।
তথ্য জানতে চাওয়া হলে ওসি এলএসডি তারানা আফরীন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং তথ্য অধিকার আইনের আওতায় ফি জমা দেওয়ার শর্ত তুলে ধরেন। পরে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ওবায়দুল ইসলামের কাছে গেলে তিনি প্রথমে অসন্তোষজনক মন্তব্য করে এক সপ্তাহ পর আসতে বলেন। পরের সপ্তাহে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, জুন মাসের হিসাব সমাপ্তির আগে কোনো তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়। তথ্য দিতে সমস্যা কোথায়—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং চাহিদামতো তথ্য প্রস্তুত করতে সময় প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, ইচ্ছা থাকলেও সব কিছু করার স্বাধীনতা তার নেই।
খাদ্য নিয়ন্ত্রক দাবি করেছিলেন কৃষকদের তালিকা দেয়ালে টাঙানো হয়েছে, কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে এমন কোনো তালিকার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এলএসডি অফিসের কর্মীরাও তালিকার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে নওগাঁর সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুল্লাহ আল ইমরান মুঠোফোনে জানান, অনলাইনে আবেদন হলেও তা সবার কাছে দৃশ্যমান নয়। তিনি বলেন, তথ্য অধিকার আইনের আওতায় নির্দিষ্টভাবে সব তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়, কারণ এতে আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তিনি জানান, কতজন কৃষক ধান দিয়েছেন এবং কী পরিমাণ ধান সংগৃহীত হয়েছে—এই সাধারণ তথ্যই তারা দিতে পারবেন। কৃষকদের নাম-ঠিকানা প্রকাশ করা যাবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি ব্যক্তিগত তথ্যের আওতায় পড়ে বলে তথ্য অধিকার আইনেও তা প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
এ ঘটনায় সচেতন মহলের প্রশ্ন—সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছেই যদি কৃষকদের তথ্য প্রস্তুত না থাকে, তাহলে সংগ্রহ কার্যক্রম কীভাবে তদারকি হচ্ছে? স্থানীয়দের অভিমত, সরকারি খাদ্যশস্য সংগ্রহে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কৃষকদের তালিকা প্রকাশ ও প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ অপরিহার্য। তথ্য গোপন রাখার এই প্রবণতা অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ বাড়িয়ে দিতে পারে বলেও তাদের আশঙ্কা।

সৈয়দপুরে বিনামূল্যে চক্ষু ক্যাম্প, সেবা নিলেন ছয় শতাধিক রোগী

 নীলফামারীর সৈয়দপুরে দিনব্যাপী বিনামূল্যের চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পে ছয় শতাধিক রোগী সেবা গ্রহণ করেছেন। শনিবার শহরের সৈয়দপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ চক্ষু ক্যাম্পের আয়োজন করে আঞ্জুমানে গাউসিয়া আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত। এতে সহযোগিতা করে দিনাজপুর গাওসুল আযম বিএনএসবি আই হাসপাতাল।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, ক্যাম্পে আগত রোগীদের চোখ পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিনামূল্যে ওষুধ ও চশমা বিতরণ করা হয়। এ সময় শতাধিক রোগীকে ছানি অপারেশনের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়েছে।

 

 

 

সকালেই ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন আঞ্জুমানে গাউসিয়া আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের সভাপতি হাজী মো. তাসলিম আশরাফী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহীন আকতার, সহসভাপতি অ্যাডভোকেট এস এম ওবায়দুর রহমান, মাওলানা মোহাম্মদ আলী মিসবাহী, পারভেজ আলম গুড্ডু আশরাফী, নাদিম আশরাফী, খালিদ আযম আশরাফী, আসিফ আশরাফী, ইরফান আশরাফী, সৈয়দ আব্দুল্লাহ পাপ্পু বাখশি ও তৌসিফ রেজা আশরাফীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

 

 

গাওসুল আযম বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. রায়হান কবিরের নেতৃত্বে সাত সদস্যের চিকিৎসক দল রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন।

 

 

চক্ষু ক্যাম্পে নীলফামারী, সৈয়দপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ অংশ নেন। সেবা নিতে আসা কয়েকজন রোগী জানান, আর্থিক সংকট ও যাতায়াতজনিত কারণে অনেকেই নিয়মিত চোখের চিকিৎসা নিতে পারেন না। নিজ এলাকায় এ ধরনের বিনামূল্যের চিকিৎসা কার্যক্রম তাদের জন্য বড় সহায়তা হয়ে উঠেছে।

 

 

আয়োজকরা জানান, দরিদ্র, অসহায় ও প্রবীণ মানুষের দোরগোড়ায় চক্ষু চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। স্থানীয়রা এ মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।

 

 

‘আপনি কি সেই মাল’ নারীকে অশোভন মন্তব্য, ওসি এনামুলকে প্রত্যাহার

নারী বাদীকে ‘আপনি কি সেই মাল’ বলা বরগুনার পাথরঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. এনামুল হককে বর্তমান কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করে বরগুনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণে গড়িমসি, ভুক্তভোগীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং সরকারি নম্বরে যোগাযোগ না করার অভিযোগের মধ্যেই এ আদেশ জারি করা হয়েছে।

 

 

শনিবার (২০ জুন) বরগুনা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) ও পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) এফ. এম. ফয়সাল স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

 

 

আদেশে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জেলা কর্মরত নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মো. এনামুল হককে প্রশাসনিক কারণে তার বর্তমান কর্মস্থল পাথরঘাটা থানা থেকে প্রত্যাহারপূর্বক পুলিশ সুপারের কার্যালয়, বরগুনায় সংযুক্ত করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বরগুনা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পাথরঘাটা সার্কেল) মোহাম্মদ শাহেদ চৌধুরী বলেন, অফিস আদেশ অনুযায়ী ওসি মো. এনামুল হককে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এর আগে পাথরঘাটার এক নারী স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা করতে গিয়ে ওসির কাছে অপদস্ত হওয়ার অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, মামলা গ্রহণে টালবাহানা করা হয় এবং ন্যায়বিচার পেতে গিয়ে তিনি বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হন।

ওই নারীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওসি মোহাম্মদ এনাম তাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি কি সেই মাল? ইবলিস যেন কোথাকার’। এ ঘটনায় তিনি নিজেকে অপমানিত ও বিব্রত বোধ করেন। ওই সময় সাবেক পাথরঘাটা উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির নেত্রী মরিয়ম চৌধুরী জেবু উপস্থিত ছিলেন।

 

 

এ বিষয়ে মরিয়ম চৌধুরী জেবু বলেন, ‘আমার উপস্থিতিতে ওসি মামলার বাদীকে উদ্দেশ করে ‘আপনি কি সেই মাল?’ বলে মন্তব্য করেন।

 

 

এছাড়াও স্থানীয় সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ছিল— ওসি এনামুল হক সরকারি মোবাইল নম্বরে অধিকাংশ সময় ফোন রিসিভ করতেন না। জরুরি প্রয়োজনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে গিয়ে অনেকেই ভোগান্তির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

 

অন্যদিকে আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও একটি মামলা গ্রহণ না করা, নারী বাদীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা এবং এক নারীকে ফেরাউনের সঙ্গে তুলনা করার অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।

 

 

তবে ওসি মো. এনামুল হকের প্রত্যাহার ও সংযুক্তির বিষয়ে অফিস আদেশে নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে শুধুমাত্র ‘প্রশাসনিক কারণ’ দেখিয়ে তাকে বরগুনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

চিত্রনায়িকা ববির স্বামী আবুল বাশার গ্রেপ্তার

রাজধানীর গুলশানের একটি বাসায় বিশেষ কায়দায় তৈরি একটি গোপন সুড়ঙ্গ থেকে বহুরূপী প্রতারক মির্জা আবুল বাশার মামুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণাসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আবুল বাশার ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা ইয়ামিন হক ববির স্বামী।

 

 

শুক্রবার রাত ১২টার পর থেকে গুলশান-২ এর ২৮ নম্বর রোডে অবস্থিত আবুল বাশারের বাসা ঘিরে রাখে পুলিশ। পরে শনিবার সকালে বাসায় তল্লাশি চালিয়ে বাথরুমের পেছনে বিশেষভাবে নির্মিত একটি গোপন সুড়ঙ্গে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

 

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিএমপির গুলশান অঞ্চলের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) শাহ মোস্তফা তারিকুজ্জামান বলেন, ‘আবুল বাশারের বিরুদ্ধে অসংখ্য প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করেও বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে কয়েকদিন ধরে তাকে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল।’

তিনি জানান, সর্বশেষ তার বাসায় অবস্থানের তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর শুক্রবার রাতে বাসাটি ঘিরে ফেলে পুলিশ। শনিবার সকালে তল্লাশি চালিয়ে বাথরুমের পেছনে বিশেষ কায়দায় তৈরি একটি সুরঙ্গ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এসি শাহ মোস্তফা তারিকুজ্জামান আরও বলেন, ‘গুলশানসহ রাজধানীর বিভিন্ন থানায় আবুল বাশারের বিরুদ্ধে প্রতারণার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। গুলশান থানায় দায়ের করা একটি প্রতারণা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। শনিবারই তাকে আদালতে পাঠানো হবে।’

এর আগে গত বছরের অক্টোবরেও প্রতারক আবুল বাশারকে গ্রেপ্তার করেছিলো পুলিশ। তবে জামিনে মুক্তি পেয়ে আবারও প্রতারণায় সক্রিয় হয়ে উঠেছিলেন তিনি।

 

 

কে এই আবুল বাশার

পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইসলামাবাদের পশ্চিম আউলিয়াপুরের ফখরুল ইসলামের বড় ছেলে মির্জা আবুল বাশার ওরফে মামুন। স্থানীয়ভাবে খবর নিয়ে জানা যায়, মির্জা আবুল বাশার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত। শেখ হাসিনাসহ আওয়ামীলীগের অসংখ‍্য নেতাকর্মীদের সাথে তার গভীর সম্পর্ক ছিল। তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নামসর্বস্ত বিটিএল নামক একটি ভুয়া কোম্পানি খুলে দেশের বিভিন্ন জেলার ব‍্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে পালিয়ে যেতেন প্রতারক মির্জা আবুল বাশার। কাউকে জায়গা দিবেন, কাউকে চালের ডিলারশিপ দিবেন, কাউকে তেলের ডিলারশিপ দিবে এমন মিথ‍্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে নগদ টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়ে যান তিনি।

 

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মির্জা আবুল বাশারের প্রতারণা ফাঁদে পা দিয়েছেন সেনা সদস‍্য, পুলিশ সদস‍্য, সাংবাদিক ও অসংখ‍্য নিরীহ মানুষ। অসংখ‍্য মানুষ শেষ সম্বল গ্রামের জায়গা-জমি বিক্রি করে ভবিষ‍্যতের কথা চিন্তা করে নগদ টাকা তার হাতে তুলে দিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। রাজধানীর বাড্ডা, খিলক্ষেত, বনানী, ভাটারাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক প্রতারণার মামলা রয়েছে এই প্রতারক মির্জা আবুল বাশারের বিরুদ্ধে।

 

 

জানা যায়, আবুল বাশার বিটিএল গ্রুপ’ (BTL Group) নামের একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান। এই গ্রুপের বিরুদ্ধেও প্রতারণা ও অর্থ পরিশোধ না করার আরও অভিযোগ রয়েছে। গেল কোরবানির ঈদের আগে একটি এগ্রো খামার থেকে ৮টি গরু নিয়ে ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকার চেক দিলেও সেটি বাউন্স করে।

দীর্ঘ বিরতির পর ওটিটিতে ফিরছেন মিম

বিদ্যা সিনহা মিম প্রায় তিন বছরের বিরতি কাটিয়ে আবারও ওটিটি পর্দায় ফিরছেন। আগামী ২১ জুন ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে মুক্তি পেতে যাচ্ছে ওয়েব ফিল্ম ‘লাইফলাইন’। এতে তিনি অভিনয় করেছেন ‘অনন্যা’ চরিত্রে, যে চরিত্রের মাধ্যমে দর্শক দেখতে পাবেন সময়, সংগ্রাম এবং আত্মঅনুসন্ধানের এক ভিন্ন গল্প।

 

 

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মিম জানান, দীর্ঘদিন ওটিটি থেকে দূরে থাকার পেছনে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা ছিল না। তিনি বলেন, ‘ভালো গল্প ও শক্তিশালী চরিত্রের অপেক্ষায় ছিলাম। যখন গল্প ও চরিত্রের সঙ্গে নিজের সমন্বয় খুঁজে পেয়েছি, তখনই কাজটি করেছি।’এ সময়ের মধ্যে ‘দিগন্তে ফুলের আগুন’ সিনেমার কাজও শেষ করেছিলেন, যা সময়মতো মুক্তি পেলে বিরতির বিষয়টি এতটা আলোচনায় আসত না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

 

‘লাইফলাইন’ সম্পর্কে মিম বলেন, ‘নামটি শুনেই বোঝা যায়, এটা একটা লাইফের জার্নি। ফিল্মটির থিমেটিক পোস্টার যদি খেয়াল করেন, দেখবেন বালুঘড়ির মধ্যে অনন্যা চরিত্রটি বসে আছে। অর্থাৎ সে সময়ের মধ্যে আটকে আছে কিংবা এমন এক সময়ের মুখোমুখি, যা তাকে অতিক্রম করতে হবে। সে পারবে কি পারবে না, সেটাই গল্পের বড় প্রশ্ন।’

ট্রেলারে তাকে কাউকে খুঁজতে দেখা গেলেও সেই রহস্য এখনই ভাঙতে নারাজ অভিনেত্রী। তার ভাষ্য, ‘দর্শকদের জন্য এটিই বড় চমক, যা সিনেমা মুক্তির পরই জানা যাবে।’

এর আগে ‘মিশন হান্টডাউন’ সিরিজে স্বামীকে খুঁজতে বের হওয়া নীরা চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন মিম। তবে ‘লাইফলাইন’-এর গল্পের সঙ্গে সেই কাজের কোনো মিল নেই বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি। বরং নতুন এই ওয়েব ফিল্মে দর্শক সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিজ্ঞতা পাবেন বলেই বিশ্বাস তার।

শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা নিয়েও কথা বলেন মিম। তিনি জানান, কুয়াকাটার ভেতরের একটি দুর্গম চর এলাকায় শুটিং হয়েছে, যেখানে পৌঁছাতে মোটরসাইকেলই ছিল প্রধান ভরসা। সরু ও উঁচুনিচু পথ, প্রচণ্ড গরম এবং প্রতিকূল পরিবেশে কাজ করতে গিয়ে বেশ কষ্ট হলেও দৃশ্য ভালো হলে সেই ক্লান্তি দূর হয়ে যেত।

 

 

এদিকে ‘লাইফলাইন’-এর ট্রেলার ও একটি গান প্রকাশের পর দর্শকদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী। তার দাবি, অনেকেই কাজটিকে ‘পরাণ’-এর পর তার আরেকটি ব্যতিক্রমী ও চমকপ্রদ কাজ হিসেবে দেখছেন।

 

 

অন্যদিকে, সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ‘মালিক’ সিনেমা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে মিম বলেন, ‘একটি সিনেমা নিয়ে সমালোচনা থাকতেই পারে এবং গঠনমূলক সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবেই দেখছি। দর্শকের প্রশংসা ও সমালোচনা দুটোকেই সমান গুরুত্ব দিচ্ছি।’ সব মিলিয়ে ‘মালিক’-এর সাড়া নিয়ে সন্তুষ্ট অভিনেত্রী।

 

 

‘মালিক ২’-এর ঘোষণা এলেও এ বিষয়ে এখনো নির্মাতার সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি বলে জানান মিম। তবে ভবিষ্যৎ কাজ নিয়ে আশাবাদী এই অভিনেত্রী। তিনি জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে দুটি কাজ শেষ করেছেন এবং আরও কয়েকটি নতুন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে শিগগিরই নিয়মিতভাবে তাকে নতুন নতুন কাজে দেখতে পাবেন দর্শক।

মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইনে সচেতনতা বাড়াতে পাড়া-মহল্লায় বিএনপি নেতা বাচ্চুর মতবিনিময়

ছাত্র-ছাত্রী ও যুবকদের মাদকাসক্তির ক্ষতি সম্পর্কে সচেতন করতে সিরাজগঞ্জের স্কুল কলেজসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি পৌরএলাকার বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইনের প্রচার ও জনসচেতনতা বাড়াতে মতবিনিময় সভা করছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু।

 

 

 

তার ব্যক্তি উদ্যোগে এ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ তাদের অভিভাবকদের মধ্যে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং একটি মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে শুক্রবার (১৯জুন) রাতে সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার ৫নং ওয়ার্ডের জুবলী বাগানে ও ৬নং ওয়ার্ডের শাহেদ নগর বেপারী পাড়া মহল্লায় বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের সাথে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা করেন।

 

 

 

মাদকের ভয়াবহতা, এর সামাজিক ও পারিবারিক ক্ষতিকর প্রভাব এবং মাদক থেকে দূরে থাকার গুরুত্ব তুলে ধরে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, আমাদের সমাজের যুবকরাই আগামীদিনের চালিকা শক্তি। তারাই পারে সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে। মাদকের প্রভাবে পরিবারের নারীরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এজন্য নারীরাসহ সমাজের সকল শ্রেনীর মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। মাদকের ভয়াবহতা রোধ করতে শিক্ষক, শিক্ষিকা, ছাত্রছাত্রী ও তাদের অভিভাবকদের এই মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে এবং সবাইকে একসাথে আওয়াজ তুলতে হবে, মাদককে না বলতে হবে।

 

 

শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও মাদকবিরোধী সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান। সাইদুর রহমান বাচ্চুর এধরনের মাদকবিরোধী উদ্যোগকে সমাজের সচেতন মহলসহ সকল শ্রেনীর মানুষ স্বাগতম জানিয়েছেন।

 

 

 

এসময় তিনি সিরাজগঞ্জের কৃতি সন্তান বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য,বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সুস্থতা কামনা করে সকলের কাছে দোয়া চান।

 

আমরা এ দেশের ভূমিপুত্র, অধিকার নিয়ে বাঁচতে চাই: হিন্দু নেতৃবৃন্দ

শ্রী রামচন্দ্রের প্রতি অবমাননা ও গাইবান্ধাসহ সারাদেশে মন্দির গুড়িয়ে দেওয়ার হুমকির প্রতিবাদে সিরাজগঞ্জে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।

 

 

 

শনিবার (২০ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শহরের মুজিব সড়কস্থ মহাপ্রভুর আখড়ার সামনে দেড় ঘণ্টাব্যাপী মানবন্ধনে বক্তারা বলেন, গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে নিজের জায়গায় আমাদের সনাতনী সম্প্রদায়ের অর্থায়নে রামের মুর্তি গড়া হচ্ছে। সেটা গুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি, এটা কেমন স্বাধীন দেশ। প্রভু শ্রী রামের প্রতি প্রকাশ্যে অবমাননা করা হলো। এখন পর্যন্ত তাদের কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। আমরা এ দেশের ভূমিপূত্র। এখানে আমরা অধিকার নিয়ে বাচতে চাই।

 

 

 

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে যখন মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়, হিন্দু বৌদ্ধ মুসলিম খ্রীষ্টান সকল সম্প্রদায়ের মানুষ জীবনকে তুচ্ছ করে অস্ত্র ধরেছিল। স্বাধীন পতাকা ছিনিয়ে এনেছিল। তখন কথা ছিল এই দেশের মানুষ সকল সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করবে।

 

 

 

স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের সকল আন্দোলনে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ অংশ নিয়েছে, জীবন দিয়েছে। আমরা কি পেয়েছি, ডক্টর ইউনুস রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশের মাটিতে ৫৮ জন সনাতনী ভাই-বোনদের নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। এখন পর্যন্ত সেই হত্যাকান্ডের বিচারের ব্যবস্থা হয়নি।

 

 

 

আওয়ামী লীগ ১৮ বছর রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে অনেক ঘটনা ঘটিয়েছে। একটি ঘটনারও বিচার হয়নি। সুতরাং আমরা বলতে চাই, আমরা আর কাঁদতে চাই না. অধিকার নিয়ে বাঁচতে চাই।

 

 

 

পুজা উদযাপন পরিষদ ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ভিপি অমর কৃষ্ণ দাস, পুজার উদযাপন পরিষদের সভাপতি সন্তোষ কুমার কানু, সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সাহা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মানিক সাহা, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নরেশ ভৌমিক, অ্যাড. রনজিত কুমার মন্ডল, অ্যাডভোকেট কল্যান সাহা, সাংবাদিক হীরক গুণ, সাংবাদিক অশোক ব্যানার্জি, বাসদ নেতা পলাশ ঘোষ প্রমূখ।

 

সিরাজগঞ্জকে রেলবঞ্চিত করা হলে মহাসড়ক-রেলসড়ক অবরোধের হুঁশিয়ারি

রেলের শহরকে সিরাজগঞ্জকে রেল বঞ্চিত করা হলে সেটা মেনে নেওয়া হবে না। সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথ আমাদের ২০ বছরের আন্দোলনের ফসল। সুতরাং সিরাজগঞ্জ শহরকে যদি রেল বঞ্চিত করা হয় তাহলে সিরাজগঞ্জবাসী কিন্তু আন্দোলন জানে, রেলের দাবীতে প্রয়োজন হলে কড্ডার মোড়ে অবরোধ করা হবে, বিশ্বরোড, রেলপথ অবরোধ করে বসে থাকবো।

 

 

 

শনিবার (২০ জুন) সকাল ১১টার দিকে সিরাজগঞ্জ শহরের বাজার স্টেশন এলাকায় সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথে রায়পুর জংশন স্থাপনের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা এসব কথা বলেন।

 

 

 

বক্তারা আরও বলেন, এক সময় সিরাজগঞ্জ রেলের শহর হিসেবে পরিচিত ছিল। অথচ আজও জেলার মানুষ কাঙ্ক্ষিত রেল যোগাযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাদের দাবি, সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথের নকশা অনুযায়ী কালিয়াহরিপুর হয়ে চান্দাইকোনা পর্যন্ত সংযোগ রেখে মাত্র দুই কিলোমিটার রায়পুরের ভেতর দিয়ে জংশন স্থাপন করা হলে জেলার মানুষের বহুদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে।

 

 

 

সিরাজগঞ্জ রেল বাঁচাও আন্দোলন কমিটি আয়োজিত ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দসহ শহরের বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

 

 

 

সিরাজগঞ্জ রেল বাঁচাও আন্দোলন কমিটির সভাপতি মাহবুব-এ খোদা টুটুলের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব তারিকুজ্জামান টরিকের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট সাইদুর রহমান বাচ্চু, জেলা বাসদের আহ্বায়ক নব কুমার কর্মকার, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের বাংলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক লায়লা ফেরদৌস হিমেল, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সেলিম, সংস্কৃতিকর্মী পরিচালক আব্দুস সালাম মামুন, নাট্যকর্মী ফরিদুল ইসলাম সোহাগ, ডা. সাইফুল ইসলাম ও সঞ্জয় গৌর।

 

 

 

মানববন্ধন শেষে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়।

 

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফরে গুরুত্ব পাচ্ছে যেসব বিষয়

সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো আগামীকাল রোববার (২১ জুন) মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়া সফর দিয়ে শুরু হচ্ছে তার ৬ দিনের সরকারি সফর। বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর এটি। এরপর সেখান থেকে সরকারি সফরের অংশ হিসেবে চীনে যাবেন তারেক রহমান। মূলত চীন সফরকে অত্যধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

 

 

প্রধানমন্ত্রীর একাধিক উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী মনে করছেন, মালয়েশিয়া ও চীন সফরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতির নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। ২১-২২ জুন মালয়েশিয়া এবং এরপর ২৩-২৬ জুন চীন সফরের পরিকল্পনা রয়েছে। মূলত গত প্রায় দেড় যুগ বাংলাদেশ একটি বিশেষ দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছিল।

 

 

 

সরকারের উচ্চপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সরকার গঠনের পর প্রায় চার মাসের মাথায় প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম অর্থনৈতিক পরাশক্তি মালয়েশিয়াকে বেছে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার পরবর্তী গন্তব্য বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক পরাশক্তি চীন। মালয়েশিয়া এবং চীন— এ দুই দেশে ছয় দিন ব্যস্ত সময় পার করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামীকাল রোববার দুপুরে একটি ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। সোমবার দিনভর সেখানে ব্যস্ত সময় পার করে ২২ জুন রাতেই তার চীনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেওয়ার কথা রয়েছে।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাংলাদেশের স্বার্থের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত এই দুটি দেশ সফরে স্বাক্ষর হতে পারে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)। এর মধ্যে কুয়ালালামপুরে জনশক্তি রপ্তানিসহ তিনটি এবং বেইজিংয়ে ১০টি এমওইউ স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিং সফরে অবকাঠামো, জ্বালানি, শিল্প পার্ক, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও অর্থায়নের মতো বিষয় প্রাধান্য পাচ্ছে। এসবের বাইরেও বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে মালয়েশিয়ায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ করপোরেট বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি চীনে অবকাঠামো ও শিল্প খাতের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক হতে পারে।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২২ জুন বিকেলে মালয়েশিয়া সফর শেষে সরাসরি চীনের একটি উপকূলীয় বন্দরনগরী দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে ২৩ জুন বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে তার বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। পরে জলবায়ু এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পুনর্গঠন বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের আলোচনায় অংশ নেবেন তিনি। ২৪ জুন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ১৭তম বার্ষিক সভায় অংশগ্রহণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বিশ্ব অর্থনীতি, বিনিয়োগ প্রবাহ, সবুজ অর্থনীতি এবং জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যু প্রাধান্য পাবে। একই দিনে অবকাঠামো ও শিল্প খাতের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে। চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশন, চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন এবং চায়না মেশিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে রেলপথ, সেতু, বিদ্যুৎ এবং শিল্পায়ন প্রকল্পে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হবে ২৬ জুন। ওই দিন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বসবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম দুটি সফরের দেশ নির্বাচনই স্পষ্ট করে দেয় যে, বর্তমান সরকার তার বৈদেশিক নীতিতে এক বড় ধরনের ভারসাম্য আনতে যাচ্ছে। বেইজিং সফরকালে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে।

 

 

 

জানা গেছে, চীন সফর সফলভাবে সমাপ্ত করার পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিবেশী ভারত সফরে যেতে পারেন। এরপর জাপান কিংবা তুরস্ক অথবা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ মিত্র দেশে দ্বিপক্ষীয় সফরে অংশ নেবেন। বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিং সফরের ঠিক পরপরই নয়াদিল্লি বা ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করার কৌশলটিই মূলত একটি বার্তা।

 

 

 

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর প্রসঙ্গে রাজনীতি বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান কালবেলাকে বলেন, রাষ্ট্রের স্বার্থ, রাজনৈতিক সুবিধা ও দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো ওয়ার্কআউট করার পর সরকারপ্রধান নির্ধারণ করেন কোন দেশে আগে যাবেন—এটা স্বাভাবিক। কিন্তু এর প্রভাব অন্য কোনো দেশের ওপর পড়ার কথা নয়। প্রত্যেক দেশই জাতীয় স্বার্থনীতি আগে ঠিক করে, এরপর অন্য দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করে। এখনই গেলে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্টতার নিশ্চয়তা পাওয়া যাবে, সে জন্য প্রথম মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর সেখান থেকে চীন যাবেন, এটাও দ্বিপক্ষীয় সফর। এই সফরের সঙ্গে ভূ-রাজনৈতিক কোনো সম্পর্ক আছে বলে মনে করছি না। এটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এরপর বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে অন্য দেশের আলাপ-আলোচনা হবে, চুক্তি স্বাক্ষরসহ প্রধানমন্ত্রী সফরে গেলে অন্যান্য কাজ সফলভাবে শেষ করা যাবে— সে দেশেই তিনি যাবেন। এতে আমেরিকা, ভারত, চীনের সঙ্গে সম্পর্কের প্রভাব পড়বে না, চিন্তার কিছু নেই।

সুত্র: দৈনিক কালবেলা

আর্জেন্টিনার একটি বিশাল পতাকা চুরি, থানায় অভিযোগ দায়ের

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের টাঙানো একটি বড় আকারের পতাকা চুরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এক সমর্থক। লিখিত অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্থানীয় পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আবুল খায়ের।

 

 

 

শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে সানন্দবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চর আমখাওয়া ইউনিয়নের সানন্দবাড়ী মধ্যপাড়া এলাকায়।

 

 

 

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে সানন্দবাড়ী মধ্যপাড়া গ্রামের ‘ভেরুসেল এক্সপ্রেস’ ক্লাবের সদস্যরা টাকা তুলে প্রায় ২০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬ ফুট প্রস্থের একটি আর্জেন্টিনার পতাকা তৈরি করেন। এটি নদীর পাশের একটি খুঁটির সঙ্গে টাঙানো হয়।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পতাকাটি চুরি হয়েছে বলে তারা জানতে পারেন। এরপর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও পতাকার কোনো সন্ধান মেলেনি। পরে শুক্রবার জুমার নামাজের পর ক্লাবের সদস্য টুটুল শিকদার বাদী হয়ে সানন্দবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

 

টুটুল সিকদার বলেন, ‘অনেক পরিশ্রম করে টাকা-পয়সা তুলে পতাকাটি আমরা বানিয়েছিলাম। এ ঘটনায় আমরা কষ্ট পেয়েছি। ক্লাবের সদস্যরা সবাই শিক্ষার্থী, নিজেদের টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে অথবা বাড়ি থেকে চেয়ে নিয়ে পতাকার জন্য টাকা দিয়েছিলেন। তাই এ ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের উপযুক্ত শাস্তি চান তারা।

 

 

ক্লাবটির অন্য সদস্য মামুন বলেন, ‘পতাকা কেউ পেলে তাকে আমরা পুরস্কার হিসেবে ১০ হাজার টাকা দিব।’

 

 

 

এ বিষয়ে সানন্দবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আবুল খায়ের বলেন, পতাকা চুরির বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

 

সোনারগাঁর রয়েল রিসোর্টে ঘটনার দিন কী হয়েছিল, জানালেন মামুনুল হক

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে রয়েল রিসোর্টের বহুল আলোচিত ‘৫০১ নম্বর কক্ষ’ ঘটনাকে ঘিরে দীর্ঘ ব্যাখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।

 

 

 

শনিবার (২০ জুন) নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্য ওই ঘটনা ঘটানো হয়েছিল। পাশাপাশি ঘটনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন তিনি।

 

 

 

ফেসবুক পোস্টে মামুনুল হক লেখেন, ৩রা এপ্রিল ২০২১। রাষ্ট্রীয় মবসন্ত্রাসের এক ঘৃণ্য কালো দিবস। সেদিন আমি আমার স্ত্রী জান্নাত আরা (ঝর্ণা)কে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের রয়েল রিসোর্টের ৫০১ নং কক্ষে অবস্থান করছিলাম। সেখানে পুলিশের নেতৃত্বে স্থানীয় আওয়ামী সন্ত্রাসী, সাংবাদিক লীগ ও ঘাদনিকের প্রায় শ খানেক সদস্য উপস্থিত হয়। রিসোর্টের রিসিপশন ডেস্ক থেকে ফোন করে আমাকে জানানো হয়, পুরো রিসোর্ট পুলিশ ঘেরাও করে ফেলেছে। আমি আমার কক্ষের দরজা খুলতেই তারা সবাই জোরপূর্বক আমার রুমে প্রবেশ করে। সময় টিভিসহ বেশ কয়েকটি চ্যানেলের সাংবাদিক এবং উপস্থিত প্রায় সকলেই তাদের ডিভাইসের মাধ্যমে একযোগে লাইভ প্রচার করতে থাকে। তারা নানা ভাবে আমাদেরকে হেনস্থা করে। আমার উপর চড়াও হয়। আমার স্ত্রীকেও টেনে ধরে হ্যাচারানোর উপক্রম করে।

তিনি আরও লেখেন, তাদের হিংস্রতা থেকে বাঁচানোর জন্য আমি আমার স্ত্রীকে ওয়াশরুমের দরজা খুলে সেখানে আটকে দেই। কিছুক্ষণের মধ্যে লেডি পুলিশের একটি টিম এসে উপস্থিত হয় এবং ওয়াশরুমে ঢুকে তারাও সেখান থেকে লাইভ সম্প্রচার করতে থাকে। উপর্যুপরি তাদের জিজ্ঞাসাবাদে আমি এবং আমার স্ত্রী আমরা উভয়েই স্পষ্ট ভাষায় আমাদের বৈবাহিক সম্পর্ক এবং আমরা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সেখানে অবস্থান করার বিষয়টি ব্যক্ত করি এবং সেটি সব সংবাদে একযোগে প্রচার হতে থাকে।

 

শুরুতেই পুলিশ কর্মকর্তা আমার হাত থেকে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে এডিশনাল এসপি আসার পর তিনি আমাদের তথ্য যাচাইয়ের জন্য ফোনে আমার পরিচিতজনদের সাথে কথা বলে আশ্বস্ত হয়ে আমাদেরকে নিরাপদে বাইরে নিয়ে আসতে চান। কিন্তু ততক্ষণে সেখানে উপস্থিত হন গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের একাধিক কর্মকর্তা। তারা আমাদের থানায় নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। আমরা তাদের সাথে রুম থেকে বের হয়ে লবিতে নেমে দেখি হুলস্থুল কান্ড। হাজার হাজার প্রতিবাদী মানুষ সেখানে ঢুকে পড়েছে। উপস্থিত পুলিশগুলো প্রাণ ভয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে তাদেরকে রক্ষা করার আবদার জানাতে থাকে। আমি পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে আমার মোবাইল ফেরত নিয়ে লাইভে কিছু বক্তব্য দেয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু দেখি প্রযুক্তির সাহায্যে আমার ফেসবুক আইডির লাইভ অপশন বন্ধ করে রাখা হয়েছে। তখন আমি বিক্ষুব্ধ জনতার সামনে গিয়ে তাদেরকে নিবৃত্ত করি এবং পুলিশদেরকে রক্ষা করার ব্যবস্থা করি।

 

 

জান্নাত আরার সঙ্গে বিয়ের প্রসঙ্গে মামুনুল হক বলেন, জান্নাত আরা ইতোপূর্বে আমার ঘনিষ্ঠ সহকর্মী হাফেজ শহিদুল ইসলামের স্ত্রী ছিল এবং আঃ রহমান জামি ও ওবায়দুর রহমান তামিম নামে তাদের দুজন সন্তান রয়েছে। বনিবনা না হওয়ায় তারা উভয়ে স্বেচ্ছায় বিচ্ছেদ ঘটায়। একটা সময় জান্নাত আরা স্বপ্রণোদিত হয়ে ফোনে আমার সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে এবং আমার সহযোগিতা কামনা করে। আমি তাকে আমার পরিবারের কথা বলে এই মর্মে প্রস্তাব দেই যে, সমতার ভিত্তিতে স্ত্রীদের যেই অধিকার দেওয়ার বাধ্যবাধকতা ইসলামে রয়েছে, আমি সেটা দিতে পারব না। এতে যদি সে সম্মত থাকে তাহলে আমি তাকে আমার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করব। সে স্বেচ্ছায় প্রস্তাবে সম্মতি জানালে আমি তার কাছ থেকে সুস্পষ্ট শব্দে বিবাহের ইজিন গ্রহণ করি এবং শরীয়তের বিধান মোতাবেক আমার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করি। উল্লেখ্য ফকীহগণ কুরআন সুন্নাহর দলিলের আলোকে সাব্যস্ত করেছেন যে, স্ত্রীর যে অধিকার স্বামীর উপর ওয়াজিব, তা স্ত্রী স্বেচ্ছায় ত্যাগ করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, বিবাহের পর আমি তাকে ঢাকা মোহাম্মদপুরস্থ কোরআন শিক্ষার কেন্দ্র নূরানী কোর্সে ভর্তি করিয়ে দেই এবং সে কোর্স সুসম্পন্ন করে। এভাবে কিছুদিন থাকার পর নিজ আগ্রহে সেলাই প্রশিক্ষণসহ মেয়েলি কিছু কার্যক্রমের প্রশিক্ষণের একটি প্রতিষ্ঠানে সে কাজ শিখতে থাকে। প্রথমদিকে ঢাকায় তার এক বোনের বাসায় অবস্থান করত এরপর স্বেচ্ছায় অন্য বাসায় সাবলেট হিসেবে বসবাস করা শুরু করে। আমি প্রয়োজন মত তার সাথে সাক্ষাৎ করতাম এবং সময় দিতাম।

 

স্কটল্যান্ড ম্যাচেই দলে ফিরতে পারেন নেইমার: আনচেলত্তি

দুই ম্যাচ ধরে যার জন্য অপেক্ষায় ব্রাজিল, একই সঙ্গে অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্বকাপও—সেই নেইমারের প্রত্যাবর্তনের ক্ষণ যেন অবশেষে ঘনিয়ে এসেছে। চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন ব্রাজিলের তারকা নম্বর দশ।

 

 

 

হাইতির বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় পাওয়ার পর নেইমারের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা নিয়ে কথা বলেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তিনি জানিয়েছেন, গ্রুপ পর্বে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ম্যাচেই দেখা যেতে পারে নেইমারকে।

 

 

 

ইতালিয়ান এই কোচ জানান, শনিবার এককভাবে অনুশীলন করবেন নেইমার। এরপর সোমবার থেকে দলের সঙ্গে পুরোপুরি যোগ দেবেন তিনি এবং স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য প্রস্তুত থাকবেন।

ডান পায়ের কাফের চোটে প্রায় এক মাস ধরে মাঠের বাইরে রয়েছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। ব্রাজিলিয়ান লিগে সান্তোসের হয়ে কোরিতিবার বিপক্ষে ম্যাচে এই চোটে পড়েন তিনি। এরপর থেকেই পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন নেইমার। সেই কারণে ফিলাডেলফিয়ায় হাইতির বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে যাওয়া দলেও ছিলেন না তিনি। দলের সঙ্গে সফরে না গিয়ে নিউ জার্সিতে ব্রাজিল দলের ক্যাম্পেই অবস্থান করেন।

 

হাইতি ম্যাচের আগে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন নেইমারের পুনর্বাসন কার্যক্রমের কিছু ছবিও প্রকাশ করে। সেখানে দেখা যায়, নিউ জার্সির দ্য রিজ হোটেল এবং কলাম্বিয়া পার্ক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে কঠোর পরিশ্রম করছেন তিনি। প্রতিদিন দুই ধাপে চলছে তার অনুশীলন। মাঠে ফিটনেস ও বলের কাজের পাশাপাশি বিকেলে জিমে বিশেষ সেশনও করছেন নেইমার। পুরো প্রক্রিয়ায় তার সঙ্গে রয়েছেন ফিটনেস কোচ ক্রিশ্চিয়ানো নুনেস এবং মিনো ফুলকো।

 

 

তবে তার প্রত্যাবর্তন নিয়ে কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে রাজি নয় ব্রাজিলের কোচিং স্টাফ। তাড়াহুড়া না করে শতভাগ সুস্থ অবস্থাতেই নেইমারকে মাঠে ফেরানোর পরিকল্পনা তাদের। এ কারণেই মরক্কো ও হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে তাকে খেলানো হয়নি।

 

 

 

চার পয়েন্ট নিয়ে বর্তমানে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে অবস্থান করছে ব্রাজিল। শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ড্র করলেও প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাবে তাদের পরের পর্বের টিকিট। আর সেই ম্যাচেই যদি নেইমার মাঠে নামেন, তাহলে ব্রাজিল সমর্থকদের দীর্ঘ প্রতীক্ষারও অবসান ঘটবে।

 

তিস্তা ব্যারেজ ও জলঢাকায় উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন

পানিসম্পদ উপদেষ্টা শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ উপদেষ্টা আসাদুল হাবিব দুলু এবং পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ নীলফামারীর তিস্তা ব্যারেজ  এলাকা ও জলঢাকা উপজেলায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো পরিদর্শন করেছেন।
পরিদর্শনকালে তাঁরা তিস্তা পাড়ের জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থায়ী ও পরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ এবং নদীর ড্রেজিং কার্যক্রমকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন। পরে তিস্তা অবসর হলরুমে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদারকরণ এবং নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এ সময় নীলফামারীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান, লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহঃ রাশেদুল হক প্রধানসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জন্ম থেকেই চলার শক্তি নেই, হুইলচেয়ারের আশায় দিন গুনছে কর্ন

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার ঘুড়কা উত্তর পাড়া গ্রামের ১০ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী শিশু কর্ন কুমার দাস জন্মের পর থেকেই পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াতে বা হাঁটতে পারে না। অন্য শিশুদের মতো স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করার সুযোগ তার হয়নি কখনো। হাতের ভর দিয়ে চলাচল করেই কাটছে তার প্রতিদিনের জীবন। দারিদ্র্য ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতার দ্বৈত কষ্ট নিয়ে বেড়ে উঠছে শিশুটি।
কর্ন কুমার দাসের বাবা শংকর চন্দ্র দাস পেশায় একজন সেলুন কর্মী। অল্প আয়ে সংসার চালাতে গিয়ে ছেলের চিকিৎসা কিংবা একটি হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করতে পারেননি তিনি। পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে বর্তমানে কর্ন তার দিদার কাছেই থাকছে। বয়সের ভারে ন্যুব্জ দিদা সাধ্যমতো তাকে লালন-পালন করলেও শিশুটির প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।
কর্নের বাবা শংকর চন্দ্র দাস জানান, “আমার ছেলে জন্মের পর থেকেই হাঁটতে পারে না। অনেক জায়গায় চিকিৎসা করিয়েছি, কিন্তু আর্থিক সমস্যার কারণে নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারিনি। আমি সেলুনের কাজ করে যা আয় করি, তা দিয়ে সংসার চালানোই কষ্টকর। একটি হুইলচেয়ার কিনে দেওয়ার সামর্থ্য আমার নেই। কেউ যদি আমার ছেলেটার জন্য একটি হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করে দিত, তাহলে সে অনেক সহজে চলাফেরা করতে পারত।”
স্থানীয়দের মতে, কর্ন অত্যন্ত শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের একটি শিশু। কিন্তু শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে তার চলাফেরা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। প্রতিদিন হাতের ভর দিয়ে চলতে গিয়ে তাকে নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হয়। একটি হুইলচেয়ার পেলে তার জীবনযাত্রার মান অনেকটাই উন্নত হবে।
বিষয়টি জানার পর রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম খান কর্নের জন্য একটি হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, “অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক দায়িত্ব। কর্নের বিষয়টি জেনেছি। তার জন্য একটি হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে।”
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ইলিয়াস হাসান শেখ বলেন, “কর্ন কুমার দাসের বিষয়ে খোঁজ-খবর নেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য যাচাই করে সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় তাকে সরকারি সহায়তা ও প্রতিবন্ধী ভাতার সুবিধার আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি হুইলচেয়ারের বিষয়েও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।”
সমাজসেবা কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের আশ্বাসে কর্নের পরিবার এবং স্থানীয়দের মধ্যে আশার আলো জেগেছে। তারা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় খুব শিগগিরই একটি হুইলচেয়ার পাবে শিশুটি।
এলাকাবাসী সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, মানবিক সংগঠন ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিও কর্ন কুমার দাসের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, একটি হুইলচেয়ারই বদলে দিতে পারে অসহায় এই শিশুটির জীবন। সামান্য সহায়তাই তাকে দিতে পারে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করার সুযোগ এবং নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন।

সৈয়দপুরে অসুস্থ চিল উদ্ধার, চিকিৎসা শেষে প্রকৃতিতে অবমুক্তের উদ্যোগ

নীলফামারীর সৈয়দপুরে একটি অসুস্থ চিল উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেতুবন্ধন যুব উন্নয়ন সংস্থা। পাখিটি সুস্থ হয়ে উঠলে প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
জানা গেছে, গত ১৮ জুন দুপুরে সৈয়দপুর উপজেলার বাঙালীপুর মন্ডলপাড়া এলাকার বাসিন্দা মতিন মন্ডল একটি অসুস্থ চিল দেখতে পান। পরে তিনি পাখিটিকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে রাখেন এবং বিষয়টি সেতুবন্ধন যুব উন্নয়ন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. আলমগীর হোসেনকে অবহিত করেন।
খবর পেয়ে সংগঠনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পাখিটিকে নিজেদের তত্ত্বাবধানে নেন। পরে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য চিলটিকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা পাখিটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও পরামর্শ প্রদান করেন।
এ সময় সেতুবন্ধন যুব উন্নয়ন সংস্থার সদস্য আহসান হাবীব জনি, ফারুক ও রানা উপস্থিত ছিলেন।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, পাখিটির সার্বিক পরিচর্যা ও চিকিৎসা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উড়তে সক্ষম হলে চিলটিকে তার স্বাভাবিক আবাসস্থলে অবমুক্ত করা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, বন্যপ্রাণী রক্ষায় সাধারণ মানুষের এমন মানবিক উদ্যোগ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এবং অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করবে।

রাণীনগরে ডাকাতির সময় ৩ ডাকাত গ্রেফতার

নওগাঁর রাণীনগর-আত্রাই আঞ্চলিক মহাসড়কের গোনা মোড় নামক স্থানে ডাকাতি করার সময় তিন ডাকাতকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, নওগাঁ সদর উপজেলার উত্তর সর্দারপাড়া গ্রামের  সেন্টু হোসেনের ছেলে  ফয়সাল হোসেন (২১), বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার ছাতিয়ান গ্রামের  ফিরোজ মন্ডলের ছেলে মোঃ সানা মন্ডল (২২) এবং একই গ্রামের মসিদুল ইসলামের ছেলে  রাব্বি হাসান (১৯)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাণীনগর-আত্রাইগামী আঞ্চলিক মহাসড়কের গোনা মোড় এলাকায় একটি মোটরসাইকেলে ডাকাতির সময় তাদের আটক করা হয়। পরে তাদের থানায় নিয়ে এসে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিক ভাবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জানাগেছে।

রাণীনগর থানার ওসি জাকারিয়া মন্ডল জানান, গ্রেফতার তিন ডাকাতের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

‎আবারো সিরাজগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নবগঠিত সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা শাখার উদ্যোগে ঝটিকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 


‎শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় নবগঠিত কমিটির সভাপতি রেজাউল করিম রাব্বী ও সাধারণ সম্পাদক রাসেল শেখ আলীর এর নেতৃত্বে রতনকান্দি ইউনিয়নের পিপুলবাড়িয়া এলাকায় এই ঝটিকা মিছিল বের হয়। এসময় সদর উপজেলা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

‎এ নিয়ে সিরাজগঞ্জের টানা তৃতীয় দিন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল হয়েছে।

 

 

 

হিলিতে পুলিশের বিশেষ অভিযান, ৯ জন গ্রেপ্তার

দিনাজপুরের হাকিমপুর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২২ পিচ টাপেন্ডাডল ট্যাবলেট সহ ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৩ জনের ৬ মাসের সাজা ডাকাতির প্রস্তুতিকালে মামলায় ২ জন ও ওয়ারেন্ট ভূক্ত পলাতক ৩ জন এবং নিয়মিত মামলায় একজন সহ ৯ জন আসামীকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতভর পুলিশ থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামীদের গ্রেফতার করে। পরে ওই দিন রাত সাড়ে দশটার দিকে থানায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার জর্জ মিত্র চাকমার উপস্থিততে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তিন জনের ৬ মাসের সাজা প্রদান ও এক জনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রদান করা হয়।
আজ শুক্রবার দুপুরে গ্রেফতার আসামীদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোঃ জাকির হোসেন।
গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলেন, হাকিমপুর পৌর শহরের বড় ডাঙ্গাপাড়া এলাকার মৃত হাসেন আলীর ছেলে মীর শহিদ (৩২), বেলাল হোসেনের শাকিল(২৮), তকলিম উদ্দিনের ছেলে নাসির (২৮) ও সাখাওয়াত হোসেনের ছেলে মোহন (২০)। এছাড়াও  পৌর শহরের সিপি রোড ধরন্দা এলাকার গিয়াস উদ্দিন শেখ এর ছেলে অন্তর রাজা (২৯) ও একই এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে কোরবান আলী (হৃদয়) (২৯), দঃ বাসুদেবপুর এলাকার মৃত ছাবের প্রামাণিকের ছেলে সালাম প্রামাণিক (৪৪) মধ্যে বাসুদেবপুর এলাকার হারুন হাসান বাবুর ছেলে মোনারুল হাসান শান্ত (২৯) ও থানার নয়ানগর গ্রামের মৃত বাবুল হোসেনের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৩০)।
হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোঃ জাকির হোসেন জানান, মাদক মুক্ত করতে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ এবং  ওয়ারেন্ট ভূক্ত পলাতক আসামি গ্রেফতারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানা পুলিশের একটি চৌকস দল বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামীদের গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে। ওই দিন রাতে থানায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার জর্জ মিত্র চাকমার উপস্থিততে ভ্রাম্যমাণ আদালতে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মীর শহীদ বিরুদ্ধে মামলা দায়ের এবং মাদক সেবনের অপরাধে শাকিল, নাসির ও মোহনকে ৬ মাসের সাজা প্রদান করা হয়।
হাকিমপুর থানায় দায়েরকৃত ডাকাতি প্রস্তুতিকালে মামলায় অন্তর রাজা ও কোরবান আলী হৃদয়কে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়াও জি আর মামলায় ওয়ারেন্ট ভূক্ত আসামি সালাম প্রামাণিক, মোনারুল ইসলাম শান্ত ও রফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশের আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ দুপুরে গ্রেফতারকৃত আসামীদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

দুই শিক্ষার্থী নিয়ে ক্লাস, মাসিক ব্যয় ৩ লাখ!

সরকারি নথিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১১০, কর্মরত রয়েছেন আটজন শিক্ষক ও একজন অফিস সহকারী। প্রতি মাসে বেতন-ভাতাসহ ব্যয় হয় প্রায় তিন লাখ টাকা।

 

 

অথচ বাস্তবে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত পাওয়া গেছে মাত্র দুজন শিক্ষার্থী। এমন চিত্র দেখা গেছে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার নাজিমখান ইউনিয়নের তালতলায় অবস্থিত বিদ্যানন্দ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে।

 

 

ঈদের ছুটির আগে টানা দুই দিন সরেজমিনে গিয়ে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়। সেখানে দেখা যায়, একটি সরকারি স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলেও শ্রেণিকক্ষ প্রায় ফাঁকা। ফলে বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না। কেউ দেরিতে আসেন, আবার কেউ নির্ধারিত সময়ের আগেই চলে যান। অনেক সময় পাঠদানের পরিবর্তে আড্ডা ও গল্পগুজবেই সময় কাটে। পরিদর্শনের দুই দিনের মধ্যে মাত্র এক দিন প্রধান শিক্ষক লোকনাথ বর্মণকে বিদ্যালয়ে পাওয়া গেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার না করলেও শিক্ষার্থী সংকটের পেছনে ভিন্ন কারণ দেখিয়েছেন প্রধান শিক্ষক।

তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত দুর্বলতা, আশপাশের নুরানি মাদ্রাসার প্রভাব এবং অভিভাবকদের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি আগ্রহের কারণে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমেছে।

 

 

লোকনাথ বর্মণের দাবি, বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে, যার মধ্যে নিয়মিত উপস্থিত থাকে ছয়জন। তবে উপবৃত্তি সুবিধাভোগী শিক্ষার্থীর সংখ্যা জানতে চাইলে তিনি ১২ থেকে ১৩ জনের কথা বলেন, যা বিদ্যালয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

 

 

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে এখানে আটজন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও আরও চারটি শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। পাশাপাশি গত দুই বছর ধরে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিও নেই।

 

 

শিক্ষার্থীদের বক্তব্যেও উঠে এসেছে বিদ্যালয়ের বাস্তব চিত্র। অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী নিলুফা আক্তার জানায়, তাদের শ্রেণিতে মোট চারজন শিক্ষার্থী রয়েছে। সপ্তম শ্রেণিতে কোনো শিক্ষার্থী নেই। একই শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থী বাঁধন জানায়, মোট শিক্ষার্থী ছয়জন হলেও শিক্ষকরা নিয়মিত ক্লাস নেন না।

 

 

ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী নিরবের ভাষ্য, তার শ্রেণিতে সে এবং সাব্বির নামে আরেকজন শিক্ষার্থী ছাড়া আর কেউ নেই। সপ্তম শ্রেণিতে কোনো শিক্ষার্থী না থাকার বিষয়টিও সে নিশ্চিত করেছে।

 

 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শৃঙ্খলা ও তদারকির অভাব রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটিতে শুরু থেকেই শিক্ষার্থী সংকট ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি এখন আরও খারাপ হয়েছে।’

 

 

স্থানীয় বাসিন্দা পারুল বেগমের অভিযোগ, বিভিন্ন সময় মনিটরিং বা পরিদর্শনের সময় বাইরের শিক্ষার্থী এনে উপস্থিতি দেখানো হয়। অন্যদিকে মোস্তাফিজার রহমান জানান, নিয়মিত পাঠদান না হওয়ায় তিনি তার নাতিকে বিদ্যালয় থেকে সরিয়ে অন্য একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করিয়েছেন।

 

 

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যালয়টির ষষ্ঠ শ্রেণিতে ৪০, সপ্তম শ্রেণিতে ৪০ এবং অষ্টম শ্রেণিতে ৩০ জন শিক্ষার্থীর নাম নথিভুক্ত রয়েছে। অর্থাৎ সরকারি হিসাবে মোট শিক্ষার্থী ১১০ জন। কিন্তু সরেজমিনে দুই দিনে মোট উপস্থিতি পাওয়া গেছে মাত্র চারজন।

 

 

নথিভুক্ত শিক্ষার্থী ও বাস্তব উপস্থিতির মধ্যে এত বড় ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

 

 

এ বিষয়ে উপজেলা অতিরিক্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এখনো বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করিনি। খুব শিগগিরই প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’

 

রায়গঞ্জে শ্রী রামচন্দ্রের ছবিতে জুতা নিক্ষেপের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার নিমগাছী বাজারে শ্রী শ্রী রামচন্দ্রের ছবিতে জুতা নিক্ষেপের ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

 

শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে “ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা করো, ধর্ম অবমাননা বন্ধ করো”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে বাংলাদেশ সনাতন মহাসংঘ ও ছাত্র মহাসংসদের সিরাজগঞ্জ জেলা কমিটির উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন।

 

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন রায়গঞ্জ উপজেলা আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক নিমাই চন্দ্র মাহাতো।
সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সনাতন মহাসংঘের রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শিপেন কুমার শীল, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক পরেশ চন্দ্র মাহাতো, কুড়মালি ভাষার লেখক ও গবেষক উজ্জ্বল কুমার মাহাতো, ছাত্র মহাসংঘের সিরাজগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি দীপক কুমার মাহাতো, সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ কুমার মাহাতো এবং সনাতন মহাসংঘের নির্বাহী সভাপতি অনিবার্ণ দাস অনিকসহ অন্যান্য নেতারা।

 

 

বক্তারা ধর্মীয় অবমাননার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা ও পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে। এ ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।

 

 

এর আগে নিমগাছী সিএনজি স্ট্যান্ড থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে নিমগাছী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এসে মানববন্ধনে মিলিত হয়। কর্মসূচিতে শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ গোপাল জিউ মন্দির, অর্জুনগর-উত্তরহাজীপুর, নিমগাছী গীতা স্কুলের শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা অংশগ্রহণ করেন।

 

 

ভারতের বিমানবন্দরে আটক বাংলাদেশি নারী, ছিল ভুয়া আইডি

ভারতের আসামের গুয়াহাটির লোকপ্রিয় গোপীনাথ বরদলই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (এলজিবিআই) এক বাংলাদেশি নারীকে আটক করা হয়েছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, তিনি অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন এবং তার কাছে একটি জাল পরিচয়পত্র পাওয়া গেছে।

 

 

শুক্রবার (১৯ জুন) এনডিটিভির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, বেঙ্গালুরু থেকে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে গুয়াহাটি পৌঁছান ওই নারী। বিমানবন্দরে লাগেজ সংগ্রহের সময় তার গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন।

 

 

জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে ওই নারী নিজেকে বাংলাদেশের নাগরিক বলে পরিচয় দেন বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। পরে তাকে অধিকতর তদন্তের জন্য আজারা থানার বর্ডার শাখা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, মানবপাচার চক্রের সহায়তায় তিনি ত্রিপুরা সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। তদন্তকারীদের সন্দেহ, দেশে প্রবেশের আগে তাকে জাল পরিচয়পত্র সরবরাহ করা হয়েছিল।

পুলিশ সূত্র জানায়, আটক নারীর কাছে থাকা পরিচয়পত্রে নাম ছিল ‘পূজা দাস’ এবং সেখানে পশ্চিমবঙ্গের একটি ঠিকানা উল্লেখ ছিল। কর্তৃপক্ষের বিশ্বাস, প্রতারণার মাধ্যমে ওই পরিচয়পত্র সংগ্রহ করা হয়েছিল।

এদিকে সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী (বিএসএফ) কর্মকর্তারাও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। পরিচয় যাচাইয়ের সময় তার স্থায়ী ঠিকানা বাংলাদেশের ঢাকার কাছাকাছি নারায়ণগঞ্জ জেলায় শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

 

আরও জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারী তদন্তকারীদের জানান, তিনি গুয়াহাটিতে অবস্থানরত তার প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে সেখানে গিয়েছিলেন।

 

 

প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া শেষে বুধবার তাকে আসামের গোয়ালপাড়া জেলার একটি আটককেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

 

 

স্কয়ার গ্রুপে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ, নিয়োগ চলছে

লোকবল নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে স্কয়ার গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি তাদের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স বিভাগে অফিসার পদে লোক নিয়োগের জন্য এ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে।

 

 

আবেদন নেওয়া শুরু হয়েছে ১৮ জুন থেকে এবং আগামী ২৭ জুন পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। নির্বাচিত প্রার্থীরা মাসিক বেতন ছাড়াও প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী আরও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

 

 

এক নজরে দেখে নিন স্কয়ার গ্রুপে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬

প্রতিষ্ঠানের নাম : স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড

চাকরির ধরন : বেসরকারি চাকরি

প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুন ২০২৬

পদ সংখ্যা : ১টি

লোকবল নিয়োগ : নির্ধারিত নয়

আবেদন করার মাধ্যম : অনলাইন

আবেদন শুরুর তারিখ : ১৮ জুন ২০২৬

আবেদনের শেষ তারিখ : ২৭ জুন ২০২৬

অফিশিয়াল ওয়েবসাইট : https://www.sfbl.com.bd

আবেদন করার লিংক : অফিশিয়াল নোটিশের নিচে

প্রতিষ্ঠানের নাম : স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড

পদের নাম : অফিসার

বিভাগ : অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স

পদসংখ্যা : নির্ধারিত নয়

শিক্ষাগত যোগ্যতা : অ্যাকাউন্টিং/ফিন্যান্সে বিবিএ/এমবিএ

অন্য যোগ্যতা : মাইক্রোসফট অফিসে দক্ষতা।

অভিজ্ঞতা : কমপক্ষে ১ বছর

চাকরির ধরন : ফুলটাইম

কর্মক্ষেত্র : অফিসে

প্রার্থীর ধরন : নারী-পুরুষ (উভয়)

বয়সসীমা : সর্বোচ্চ ৩২ বছর

কর্মস্থল : ঢাকা

বেতন : আকর্ষণীয় ও প্রতিযোগিতামূলক বেতন

অন্য সুবিধা : কোম্পানির নীতি অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা প্যাকেজ প্রদান করা হবে।

আবেদন করবেন যেভাবে : আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

আবেদনের শেষ সময় : ২৭ জুন ২০২৬

লড়াই করেও হার বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়ার সিরিজ জয়

তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে মাত্র ৭ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। হাইস্কোরিং ম্যাচে দুই দলই লড়েছে দুর্দান্তভাবে। তবে শেষ পর্যন্ত জেতা হয়নি টাইগারদের। এই জয়ের ফলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জয় নিশ্চিত করলো অস্ট্রেলিয়া।

 

 

চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফট্যানেন্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। মিচেল মার্শ এবং জশ ইংলিসের ব্যাটে ভর করে দারুণ শুরু পায় অজিরা। ৬ বলে ১১ রান করা ইংলিসকে ফিরিয়ে ব্রেক থ্রু এনে দেন নাসুম আহমেদ। তিনে নামা কুপার কনোলি সুবিধা করতে পারেননি। ৪ বলে ১ রান করা কনোলিকে ফেরান নাহিদ রানা। অধিনায়ক মিচেল মার্শ খেলেন ১৯ বলে ২০ রানের ইনিংস। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৪৪ রান তোলে অস্ট্রেলিয়া।

 

 

পাওয়ারপ্লের পর টাইগার বোলারদের উপর চড়াও হন অজি ব্যাটাররা। ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিং চালিয়েছেন ম্যাট রেনশ এবং টিম ডেভিড। উইকেটের চারপাশে দারুণ সব শটে দলের বোর্ডে রান তুলেছেন রেনশ এবং ডেভিড। আগ্রাসি ব্যাটিংয়ে রান বাড়িয়েছেন দুজন। দলের ১৪১ রানের মাথাতে ২৬ বলে ৪৫ রান করে থামেন ডেভিড। রেনশ অবশ্য ফিফটি ছুঁয়েছেন।

এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলে গেছেন রেনশ। শেষ দিকে নিখিল চৌধুরী খেলেছেন ৬ বলে ৮ রানের ইনিংস। রেনশর ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিং ফিফটির পরেও চলেছে। বাংলাদেশের বোলারদের পিটিয়ে তক্তা বানিয়েছেন রেনশ। অজিরাও ছুটেছে দুইশ রানের দিকে। শেষ পর্যন্ত দুইশর খুব কাছে গিয়ে থেমেছে অস্ট্রেলিয়া। ৫২ বলে ৮৯ রান করে টিকে ছিলেন রেনশ। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৯৬ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় অজিরা।

বাংলাদেশের হয়ে ২ উইকেট নেন নাসুম আহমেদ। এছাড়া ১টি করে উইকেট শিকার করেছেন আবদুল গাফফার সাকলাইন, নাহিদ রানা এবং মুস্তাফিজুর রহমান।

জবাব দিতে নেমে তানজিদ হাসান তামিমের ব্যাটে ভর করে দারুণ শুরু পায় বাংলাদেশ। আরেক ওপেনার সাইফ হাসানও ছিলেন দারুণ সাবলীল। ৩ ওভারেই ৪২ রান তুলে ফেলে বাংলাদেশ, বিনা উইকেটে। ৪র্থ ওভারেই থেমেছে তানজিদের উইলোবাজি। ১৫ বলে ৩০ রানের ক্যামিও খেলা তানজিদকে ফেরান ম্যাট রেনশ।

 

 

পাওয়ারপ্লের ফায়দাটা সুদে আসলে লুটেছে বাংলাদেশ। তিনে নেমে সাইফ হাসানের সাথে যোগ দেন সৌম্য সরকার। ৬ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৭২ রান তোলে বাংলাদেশ, যা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ পাওয়ারপ্লের রান।

 

 

সৌম্য থেমেছেন পাওয়ারপ্লে শেষেই। ভালো শুরু পেলেও ইনিংস লম্বা করতে পারেননি সৌম্য সরকার। ৯ বলে ১৫ রান করে দলের ৭৭ রানের মাথাতে থামেন সৌম্য। এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলে গেছেন সাইফ। চারে নেমে বেধড়ক পিটুনি শুরু করেন পারভেজ হোসেন ইমন। দারুণ সব শটে রান বের করেছেন ইমন। হাঁকিয়েছেন দারুণ সব বাউন্ডারি। সাইফও ছুটেছেন ফিফটির দিকে।

 

 

সাইফ-ইমনের জুটিটা ভালোই এগোচ্ছিল। তবে টানা দুই ওভারে দুজনের বিদায়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। কমে যায় দলের রানের গতি। ৩ ছক্কা ২ চারে ২২ বলে ৩৬ রানের ইনিংস খেলে বিদায় নেন ইমন। দলের ১৩৪ রানের মাথাতে থামেন সাইফ হাসান, ৩৩ বলে করেছেন ৪২ রান।

 

 

সুবিধা করতে পারেননি শামীম হোসেন পাটোয়ারী। ৮ বলে ৭ রান করেছেন তিনি। পাঁচে নামা অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়ও কিছুটা সংগ্রাম করেছেন। সাতে নামেন আবদুল গাফফার সাকলাইন। দুজনে রান তুলেছেন ধীর গতিতে। বাউন্ডারি বের করতে সংগ্রাম করতে হয়েছে। ১৮তম ওভারে অ্যাডাম জাম্পার বোলিং সামলে ৮ রান নেন হৃদয় এবং সাকলাইন। শেষ ২ ওভারে দরকার ছিল ৩৪ রান, হাতে ৫ উইকেট।

 

 

বোলিংয়ে আসেন নাথান এলিস, স্ট্রাইকে সাকলাইন। প্রথম দুই বল ডট, পরের বলে চার মারেন সাকলাইন। পরের বল আবার ডট। পরের বলে ১ রান নেন সাকলাইন। স্ট্রাইকে ফেরেন হৃদয়। শেষ বলে দারুণ এক ছক্কা হাঁকান তিনি। শেষ ওভারে দরকার ২৩ রান।

 

 

শেষ ওভারে বোলিংয়ে আসেন অ্যারন হার্ডি, স্ট্রাইকে সাকলাইন। প্রথম বলে ওয়াইড, পরের বলে আসে ১ রান। স্ট্রাইকে ফেরেন হৃদয়। পরের বলে ডট, পরের বলে ২ রান। এরপর আবারও ওয়াইড। সমীকরণ চলে আসে ৩ বলে ১৮ রানে। পরে বলে দারুণ এক ছক্কা হাঁকিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন হৃদয়। পরের বলে দারুণ এক শট খেলেন হৃদয়, তবুও হয়েছে কেবল চার। শেষ বলে বাংলাদেশের দরকার ছিল ৮ রান। তুলে মারলেন হৃদয়, ধরা পড়লেন একদম বাউন্ডারিতে। ৭ রানে জয়লাভ করে অস্ট্রেলিয়া, জিতে নেয় সিরিজটাও। ২০ ওভার শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮৯ রান করে থেমেছে বাংলাদেশ। হৃদয় আউট হয়েছেন ২২ বলে ৩৫ রান করে। সাকলাইন টিকে ছিলেন ১১ বলে ১৩ রান করে।

 

 

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ২ উইকেট নেন অ্যারন হার্ডি। এছাড়া ১টি করে উইকেট শিকার করেছেন জোয়েল ডেভিস, অ্যাডাম জাম্পা, নাথান এলিস এবং ম্যাট রেনশ।

 

 

শ্লীলতাহানির অভিযোগে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অন্তঃসত্ত্বা নারীর মামলা দায়ের

নরসিংদীর মনোহরদীতে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারী উদ্যোক্তাকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. আমিনুর রহমান সরকার দোলনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে।

 

 

মামলাটি করেছেন ভুক্তভোগী পপি আক্তার নামের এক নারী উদ্যোক্তা। তিনি অভিযোগ করেছেন, চাঁদার দাবিতে তার বিউটি পার্লারে হামলা চালিয়ে তাকে মারধর, শ্লীলতাহানি এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।

 

 

আদালতে করা মামলার অন্য দুই আসামি হলেন উপজেলার হাররদিয়া এলাকার আব্দুল হালিমের ছেলে আব্দুল জব্বার (৩০) এবং অর্জুনচর এলাকার মৃত আব্দুল আউয়ালের ছেলে মোক্তার উদ্দিন তালুকদার (৪৮)।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, বিএনপি নেতা দোলন ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে পপি আক্তারের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ৭ মে দুপুরে অভিযুক্তরা তার বিউটি পার্লারে গিয়ে পুনরায় চাঁদা দাবি করেন। এতে রাজি না হলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে অন্তঃসত্ত্বা ওই নারীকে মারধর করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, একপর্যায়ে বিএনপি নেতা দোলন তার পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করেন এবং ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ভেঙে ফেলেন। এ ছাড়া অন্য দুই আসামি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ড্রয়ারে থাকা ৫২ হাজার টাকা ও তার গলায় থাকা প্রায় আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

 

পপির চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

 

 

ভুক্তভোগী পপি আক্তার বলেন, চিকিৎসা শেষে তিনি মনোহরদী থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হলেও পরবর্তী সময়ে কোনো মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

 

 

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও থানায় মামলা করতে পারিনি। পরে বাধ্য হয়ে ১৮ জুন নরসিংদীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছি। আমার এবং আমার অনাগত সন্তানের ওপর হামলার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

 

 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিএনপি নেতা আমিনুর রহমান সরকার দোলনের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মনোহরদী থানার ওসি জাহাঙ্গীর বাদশা বলেন, ‘এ ধরনের কোনো ঘটনার বিষয়ে আমি অবগত নই। কোনো নারী থানায় এসে এ বিষয়ে অভিযোগ করেছেন বলেও আমার জানা নেই।’

 

 

আদালতে করা মামলার বিষয়ে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

একদলীয় শাসনের চেষ্টা প্রত্যাখ্যান করবে জনগণ: জামায়াত আমির

দেশে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার যে কোনো প্রচেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

 

 

তিনি বলেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে জোর করে শাসনব্যবস্থা চালাতে চাইলে জনগণই হিমালয়ের মতো প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

 

 

শুক্রবার (১৯ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় নারায়ণগঞ্জ শহরের মাসদাইর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নারায়ণগঞ্জ মহানগর আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ও শহীদদের আত্মত্যাগের ফলেই দেশে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। জুলাইয়ের আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের অবদানকে খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। তাদের আত্মত্যাগের প্রতি অসম্মান জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।

সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ, ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে হস্তক্ষেপ, বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ্য ব্যক্তিদের সরিয়ে দলীয় অনুগতদের নিয়োগ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোক বসানোর মাধ্যমে দেশে একদলীয় শাসনের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘ইতিহাস সাক্ষী, একদলীয় শাসন কখনো টেকসই হয়নি। জনগণের মতামত উপেক্ষা করে কোনো ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া হলে দেশের মানুষ তা প্রতিহত করবে।’

 

 

সংসদে বিরোধী দলকে অবমূল্যায়নের রাজনৈতিক সংস্কৃতিরও সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগ যেমন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কটূক্তি করত, এখন বিএনপিও একই ধরনের ভাষা ব্যবহার করছে। রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতার চর্চা করা।

 

 

প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, বড় বাজেট প্রণয়ন করাই যথেষ্ট নয়, সেটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করাই বড় চ্যালেঞ্জ। দুর্নীতি ও অপচয় বন্ধ না হলে উন্নয়নের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছাবে না।

 

 

ব্যবসায়ীদের দুরবস্থার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সম্মেলনে আসার আগে নারায়ণগঞ্জের কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছে। সেখানে ব্যবসায়ীদের মধ্যে চাঁদাবাজি ও অনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ লক্ষ্য করেছেন। ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

 

 

গণভোট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের রায়কে সম্মান করা গণতন্ত্রের মৌলিক শর্ত। গণভোটে যে সংস্কার প্রস্তাবগুলো জনগণের সমর্থন পেয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে সরকারের আন্তরিকতা থাকা উচিত।

 

 

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সরকারের এক উপদেষ্টার বক্তব্যে জনগণের রায় ও গণতান্ত্রিক চেতনা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

 

 

সরকারকে জনগণের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখনো সময় আছে, জনগণের রায়কে সম্মান করুন। অন্যথায় জোর করে শাসনব্যবস্থা চালাতে চাইলে জনগণ আপনাদের সামনে হিমালয় পর্বত হয়ে দাঁড়িয়ে যাবে।’

 

 

সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও জনগণ গণতান্ত্রিক চর্চার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণার ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা থাকলে তাদের জোট আরও ভালো ফল করতে পারত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

 

নারায়ণগঞ্জের শিল্পখাতের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, একসময় দেশের শিল্প রাজধানী হিসেবে পরিচিত এই জেলার গৌরব পুনরুদ্ধারে শিল্প ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সন্ত্রাস ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর আধিপত্যমুক্ত নারায়ণগঞ্জ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

 

 

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেন, মিথ্যাচার ও অপপ্রচারের মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করা সম্ভব নয়। জনগণ এখন অনেক বেশি সচেতন এবং তারা কথার চেয়ে কাজের মূল্যায়ন করে।

 

 

নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা আবদুল জব্বারের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মনোয়ার হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

শাকিবের বাসায় ‘অস্বস্তিকর’ অভিজ্ঞতা, জানালেন মিষ্টি জান্নাত

ঢাকাই সিনেমার শীর্ষ নায়ক শাকিব খানকে ঘিরে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনা যেন থামছেই না। অপু বিশ্বাস ও শবনম বুবলীর সঙ্গে সম্পর্কের নানা অধ্যায়ের পর এবার আলোচনায় উঠে এসেছে অভিনেত্রী মিষ্টি জান্নাতের একাধিক ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট। দেশে শুরু হওয়া এই বিতর্ক এখন সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গের সংবাদমাধ্যমেও জায়গা করে নিয়েছে, যা নতুন করে শাকিব-মিষ্টি প্রসঙ্গকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। সম্প্রতি কলকাতার পত্রিকা আনন্দবাজারের অনলাইন ভার্সনে শাকিব-মিষ্টি জান্নাতকে নিয়ে নতুন করে খবর প্রকাশ করেছে। খবরটির শিরোনামে লেখা হয়- ‘শাকিবের বাড়িতে গিয়ে খুব অস্বস্তিতে পড়েছিলাম’। কোন অভিজ্ঞতার কথা বললেন মিষ্টি জান্নাত?

 

 

খবরটি ছিল এমন- ওপার বাংলার অন্যতম আলোচিত অভিনেতা শাকিব খান। নায়কের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিপুল আলোচনা হয়েছে। সদ্য মেয়ের বাবা হয়েছেন নায়ক। এরইমধ্যে অভিনেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ উগরে দিলেন অভিনেত্রী মিষ্টি জান্নাত। তার সঙ্গে শাকিবের একটি ছবি ছড়িয়ে পড়ার পরে এমনই প্রেমের গুঞ্জন তৈরি হয়েছিল। এরই মাঝে বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসলেন জান্নাত।

 

 

অভিনেত্রী বলেন, “বিমানের মধ্যে তোলা শাকিবের সঙ্গে আমার একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছিল। যেদিন এ ছবিটি তোলা হয়েছিল, সেই দিনই আমি শাকিবের বাড়ি গিয়েছিলাম। ও (শাকিব)পরে মায়ের থেকে খাবার এনে আমাকে দিয়েছিল। আমার হাতে খাবার দিয়ে বলেছিল, ‘এই নাও তোমার শাশুড়ি রান্না করে দিয়েছে।’ আমার সহকারীদের জিজ্ঞাসা করলে জানতে পারবেন। খুব অস্বস্তিতে পড়েছিলাম।”

বিমানে শাকিবের সঙ্গে জান্নাত কেন ছবি তুলেছিলেন? অভিনেত্রী যোগ করেন, ‘ওই ছবি আমি তুলতাম না। ওই দিনের অনেক ভিডিও আছে। কিন্তু আমি সেগুলো দেব না। সবাই ভাববে, শাকিবকে বিক্রি করে খাচ্ছি।’

আর কথা বাড়াতে রাজি হননি জান্নাত। যদিও নায়কের জীবনে যত বিতর্কই আসুক না কেন, অভিনেতা চুপ থেকেছেন। সদ্য মেয়ে হওয়ার পরেও নিশ্চুপ থেকেছেন শাকিব। বরং তার স্ত্রী শবনম বুবলী মেয়ে হওয়ার সুখবর সবার সঙ্গে ভাগ করে নেন।

এদিকে শবনম বুবলী দ্বিতীয়বারের মতো মা হওয়ার খবরের পরপরই সামাজিকমাধ্যমে একটি ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট দিয়েছেন মিষ্টি জান্নাত। সেই পোস্ট ঘিরে নেটিজেনদের মাঝে আবারও আলোচনায় এসেছেন অভিনেত্রী। শবনম বুবলীকে অভিনন্দন জানিয়ে মিষ্টি জান্নাত লেখেন, কন্যাসন্তানের জন্য অনেক অনেক শুভকামনা। শাকিব খান ও শবনম বুবলীকে অভিনন্দন।

 

 

তবে এখানেই থামেননি অভিনেত্রী। একটা ইঙ্গিতপূর্ণ কথা উল্লেখ করে মিষ্টি জান্নাত আরও লেখেন, এ বছরে আরেকজনের জন্যও অগ্রিম শুভেচ্ছা। এবার মিষ্টি জান্নাতের এই নতুন পোস্ট শাকিব-ভক্তদের মাঝে আবারও নতুন করে আলোচনার খোরাক জোগাল। সেই পোস্টে মিষ্টি জান্নাত শাকিব খানকে ট্যাগ করেছেন।

 

 

ঢাকাই চলচ্চিত্রে কাজের সূত্রে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জনের সঙ্গে নাম জড়িয়েছে মিষ্টি জান্নাতের। তাদেরই একজন শাকিব খান। এমনকি শাকিব খানের তৃতীয় স্ত্রী হতে যাচ্ছেন মিষ্টি, এমন গুঞ্জনও চাউর হয়েছিল চলচ্চিত্র পাড়ায়। এরপর থেকেই শাকিবকে নিয়ে বেশ আলোচনায় আসেন মিষ্টি এবং প্রায়ই নায়ককে নিয়ে সামাজিকমাধ্যমে কৌতূহল জাগানিয়া পোস্ট দিতে দেখা যায় এ নায়িকাকে।

 

 

গত বছরের জুলাইয়ে একটি সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে শাকিব খানকে নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন মিষ্টি জান্নাত। শাকিব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শাকিব খানকে নিয়ে ভাইরাল হওয়া বা তার নাম ভাঙিয়ে চলার কোনো ইচ্ছাই আমার নেই। আমি কারও পা ধরে নায়িকা হইনি।’

চট্টগ্রামের মুখতার আলমই কাবার গিলাফের প্রধান ক্যালিগ্রাফার

পবিত্র কাবা শরিফের কালো গিলাফে সোনালি ও রুপালি সুতোয় খচিত কুরআনের আয়াত ও নান্দনিক আরবি ক্যালিগ্রাফি বিশ্ব মুসলিমের কাছে সৌন্দর্য, শ্রদ্ধা ও আধ্যাত্মিকতার এক অনন্য প্রতীক। মহিমান্বিত এই শিল্পকর্মের পেছনে যিনি প্রধান ক্যালিগ্রাফার হিসেবে নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন, তিনি একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ক্যালিগ্রাফার- চট্টগ্রামের মুখতার আলম শিকদার। চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া থেকে শুরু হওয়া তার জীবনযাত্রা আজ পৌঁছে গেছে ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র স্থাপনার অলংকরণের গুরুদায়িত্বে।

 

 

শৈশব ও শিক্ষাজীবন

১৯৬২ সালে চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন মুখতার আলম। তার বাবা মফিজুর রহমান বিন ইসমাঈল শিকদার সৌদি আরবের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফার্মাসিস্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বাবার কর্মসূত্রে মাত্র চার বছর বয়সেই পরিবারের সঙ্গে সৌদি আরবে চলে যান তিনি। সেখানেই বেড়ে ওঠা এবং শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করা মুখতার আলম পরবর্তীতে সৌদিআরবের মক্কার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্যালিগ্রাফিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণায় যুক্ত রয়েছেন।

কাবার গিলাফ বা ‘কিসওয়া’র সঙ্গে তার পথচলা শুরু হয় ১৪২২ হিজরিতে। দেশটির জেদ্দার খ্যাতিমান ব্যবসায়ী ও ক্যালিগ্রাফার মুহাম্মাদ সালেম বাজনাইদ তার শিল্প প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করেন। পরে উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিশেষ মূল্যায়ন পরীক্ষায় সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে ২০০২ সালে কিং আবদুল আজিজ কমপ্লেক্স ফর হোলি কাবা কিসওয়ায় ক্যালিগ্রাফার হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন তিনি।

বর্তমান কিসওয়ার নকশা বিখ্যাত ক্যালিগ্রাফার শাইখ আবদুর রহিম আমিন বুখারির তৈরি ‘সুলুস’ লিপির ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় দায়িত্ব গ্রহণ করলেও মুখতার আলম আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও নতুন কৌশল সংযোজনের মাধ্যমে ক্যালিগ্রাফি শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করেছেন। ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমন্বয়ে তার অবদান বিশেষভাবে প্রশংসিত।

 

 

তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২১ সালের নভেম্বরে সৌদি আরবের নাগরিকত্ব লাভ করেন মুখতার আলম। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা বিদেশি নাগরিকদের যে নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়, সেখানে নির্বাচিত পাঁচজন বিশিষ্ট ব্যক্তির একজন ছিলেন তিনি। আর সেই তালিকায় একমাত্র ক্যালিগ্রাফারও ছিলেন মুখতার আলম।

 

 

ক্যালিগ্রাফির পাশাপাশি তিনি মক্কার ইনস্টিটিউট অব হলি মস্ক পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করছেন। তার হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় সজ্জিত হয় কাবার গিলাফ, যা প্রতিবছর কোটি কোটি মুসলমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

 

 

চট্টগ্রামের একটি প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে এসে ইসলামের সবচেয়ে সম্মানিত স্থাপনার প্রধান অলংকরণ শিল্পী হওয়া- মুখতার আলম শিকদারের এই গৌরবময় সাফল্য শুধু বাংলাদেশের জন্যই নয়, বরং সমগ্র মুসলিম বিশ্বের জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

বয়লার বিস্ফোরণে কাঁপল নারায়ণগঞ্জের পোশাক কারখানা, আহত অন্তত ১৫ শ্রমিক

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি পোশাক কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনায় ১৫ শ্রমিক আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা প্রায় দুই ঘণ্টা নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা পুরাতন সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।

 

 

শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে ফতুল্লা থানার পাগলা তালতলা এলাকায় অবস্থিত ‘নির্জন গার্মেন্টস’ কারখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

 

শ্রমিকদের অভিযোগ, বিস্ফোরিত বয়লারটিতে দীর্ঘদিন ধরেই ত্রুটি ছিল। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মালিকপক্ষের অবহেলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি তাদের।

তারা আরও অভিযোগ করেন, কারখানার ভেতরে জরুরি বহির্গমন পথ ও চলাচলের রাস্তা বিভিন্ন মালামাল দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। বিস্ফোরণের পর আতঙ্কিত শ্রমিকরা দ্রুত বের হতে না পারায় হতাহতের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

দুর্ঘটনার পর কারখানার ভেতরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কারখানার পিএম জসিম উদ্দিন ও সুপারভাইজার মনিরকে অবরুদ্ধ করে মারধর করেন।

খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ ও শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে তারা সড়ক অবরোধ তুলে নেন।

 

 

আহতদের মধ্যে আরবিন, জাকির, মঞ্জু, শাহীন, জয়, হৃদয়, সাবিনা, খাদিজা, নাসিমা, আল-আমিন ও অন্তরের নাম জানা গেছে। তাদের স্থানীয় বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

 

 

এদিকে দুর্ঘটনায় একজন শ্রমিকের মৃত্যুর খবর স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়লেও ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মাহবুব আলম বলেন, মৃত্যুর বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে।

 

 

তিনি বলেন, ‘ঘটনার পরপরই পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক আছে।’

 

 

দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে।

অস্ট্রেলিয়ার রেনশোর বিধ্বংসী ইনিংস, বাংলাদেশকে পাহাড়সম লক্ষ্য

তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে আগে ব্যাট করতে নেমে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৯৬ রানের সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ৫২ বলে ৮৯ রান করে শেষ পর্যন্ত টিকে ছিলেন ম্যাট রেনশো।

 

 

চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফট্যানেন্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। মিচেল মার্শ এবং জশ ইংলিসের ব্যাটে ভর করে দারুণ শুরু পায় অজিরা। ৬ বলে ১১ রান করা ইংলিসকে ফিরিয়ে ব্রেক থ্রু এনে দেন নাসুম আহমেদ। তিনে নামা কুপার কনোলি সুবিধা করতে পারেননি। ৪ বলে ১ রান করা কনোলিকে ফেরান নাহিদ রানা। অধিনায়ক মিচেল মার্শ খেলেন ১৯ বলে ২০ রানের ইনিংস। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৪৪ রান তোলে অস্ট্রেলিয়া।

 

 

পাওয়ারপ্লের পর টাইগার বোলারদের উপর চড়াও হন অজি ব্যাটাররা। ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিং চালিয়েছেন ম্যাট রেনশো এবং টিম ডেভিড। উইকেটের চারপাশে দারুণ সব শটে দলের বোর্ডে রান তুলেছেন রেনশো এবং ডেভিড। আগ্রাসি ব্যাটিংয়ে রান বাড়িয়েছেন দুজন। দলের ১৪১ রানের মাথাতে ২৬ বলে ৪৫ রান করে থামেন ডেভিড। রেনশ অবশ্য ফিফটি ছুঁয়েছেন।

এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলে গেছেন রেনশো। শেষ দিকে নিখিল চৌধুরী খেলেছেন ৬ বলে ৮ রানের ইনিংস। রেনশোর ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিং ফিফটির পরেও চলেছে। বাংলাদেশের বোলারদের পিটিয়ে তক্তা বানিয়েছেন রেনশো। অজিরাও ছুটেছে দুইশ রানের দিকে। শেষ পর্যন্ত দুইশর খুব কাছে গিয়ে থেমেছে অস্ট্রেলিয়া। ৫২ বলে ৮৯ রান করে টিকে ছিলেন রেনশো। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৯৬ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় অজিরা।

বাংলাদেশের হয়ে ২ উইকেট নেন নাসুম আহমেদ। এছাড়া ১টি করে উইকেট শিকার করেছেন আবদুল গাফফার সাকলাইন, নাহিদ রানা এবং মোস্তাফিজুর রহমান।

ভিপিএনের আড়ালে সাইবার অপরাধের বিস্তার, সতর্কতা বিশেষজ্ঞদের

রাত গভীর হলে শহরের গলির ভেতর কিছু দরজা খোলে যা দিনের আলোয় দেখা যায় না। ডিজিটাল দুনিয়াতেও তেমনই একটি দরজা আছে; নাম তার নাম Virtual Private Network (VPN) বা ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন)। লাখো ব্যবহারকারীর কাছে এ প্রযুক্তি আজ পরিণত হয়েছে পরিচয় আড়ালের ঢাল, অপকর্মের নিরাপদ আশ্রয় এবং রাষ্ট্রীয় আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠি দেখানোর হাতিয়ার হিসেবে। আর এই অন্ধকারের দরজা দিয়ে যে বিষ ঢুকছে, তা এখন বাংলাদেশের শিশুদের শরীর ও মনকে ধ্বংস করছে। প্রশ্ন উঠছে, এই দরজা কি আরও বেশিক্ষণ খোলা রাখার বিলাসিতা আমাদের আছে? পরিচয় লুকানো মানেই কি সন্দেহজনক নয়?

 

 

একজন সৎ মানুষের মুখ ঢাকার কী প্রয়োজন? এই প্রশ্নটি সরল হলেও এর উত্তর অনেক কিছু বলে দেয়। ভিপিএন ব্যবহারকারীদের বিপুল একটি অংশ প্রযুক্তিটি বেছে নেন নিজের অনলাইন পরিচয় ও অবস্থান লুকাতে। সাধারণ ব্যবহারের জন্য পরিচয় লুকানোর এত প্রয়োজন কেন? সাইবার নিরাপত্তা গবেষকরা বলছেন, বিশ্বব্যাপী ভিপিএন ব্যবহারের একটি উল্লেখযোগ্য অংশই পরিচালিত হয় ভূ-অবরুদ্ধ অবৈধ কনটেন্টে প্রবেশ, পর্নোগ্রাফি; বিশেষত শিশু পর্নোগ্রাফি দেখা এবং সাইবার অপরাধের উদ্দেশ্যে।

 

 

বাংলাদেশে যখন কোনো ক্ষতিকর ওয়েবসাইট বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) বন্ধ করে দেয়, তখন কিছু ব্যবহারকারী তাৎক্ষণিকভাবে ভিপিএনের দ্বারস্থ হন। এই প্রবণতা কী ইঙ্গিত দেয়? রাষ্ট্রের আইনি সিদ্ধান্তকে পাশ কাটিয়ে নিষিদ্ধ কনটেন্টে প্রবেশের এই তাড়া কার্যত আইন অমান্যের একটি সংগঠিত সংস্কৃতি গড়ে তুলছে। যে রাষ্ট্র নাগরিকের ভালোর জন্য একটি দরজা বন্ধ করে, ভিপিএন সেই দরজার দেয়াল ভেঙে দেয়।

বাংলাদেশে শিশু ধর্ষণ এখন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি একটি মহামারির রূপ নিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এবং বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের পরিসংখ্যান বারবার দেখিয়েছে যে প্রতি বছর শত শত শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে এবং প্রকৃত সংখ্যা নথিভুক্ত ঘটনার চেয়ে বহুগুণ বেশি। এই ভয়াবহ বাস্তবতার পেছনে একাধিক কারণ থাকলেও ডিজিটাল মাধ্যম। বিশেষত ভিপিএন সুরক্ষিত পর্নোগ্রাফি কনটেন্ট একটি গুরুতর নিয়ামক হিসেবে উঠে আসছে।

সম্পর্কটি বোঝার জন্য একটি সরল প্রশ্ন করা যাক: একজন কিশোর বা তরুণ যখন বছরের পর বছর ধরে ভিপিএন ব্যবহার করে শিশু যৌন নির্যাতনমূলক কনটেন্ট বা চরমপন্থি পর্নোগ্রাফি দেখে, তার মানসিকতায় কী পরিবর্তন আসে? মনোবিজ্ঞানের গবেষণা বলছে, এই ধরনের কনটেন্টের দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শ মস্তিষ্কের পুরস্কার ব্যবস্থাকে (রিওয়ার্ড সিস্টেম) পুনর্গঠিত করে, শিশুদের প্রতি যৌন আগ্রহকে স্বাভাবিক হিসেবে উপস্থাপন করে এবং ধর্ষণকে ক্ষমতার প্রকাশ হিসেবে মহিমান্বিত করে। এটি কোনো অনুমান নয়, এটি পুনঃ পুনঃ প্রমাণিত বৈজ্ঞানিক সত্য।

 

 

গবেষকরা দেখেছেন, যেসব দেশে অনলাইন শিশু যৌন নির্যাতনমূলক কনটেন্টের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে, সেখানে সংঘটিত শিশু ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের ঘটনাও সমান্তরালভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কারণ-প্রতিক্রিয়ার এই শৃঙ্খলটি উপেক্ষা করা আর সম্ভব নয়। বাংলাদেশে যে মুহূর্তে শিশু ধর্ষণের ঘটনা মহামারির রূপ নিচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে দেশে ভিপিএন ডাউনলোড অস্বাভাবিক সংখ্যায় বৃদ্ধি পায় যা ব্যবহার করে নিষিদ্ধ পর্নোগ্রাফি কনটেন্টে প্রবেশের ঘটনাও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। এই দুটো তথ্য একসাথে রাখলে যে প্রশ্নটি দাঁড়ায় তা হলো: আমরা কি এই সম্পর্ককে আর অস্বীকার করতে পারি?

 

 

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো অনলাইন গ্রুমিং বা শিশু প্রলোভন প্রক্রিয়া। ভিপিএন ব্যবহার করে পরিচয় আড়াল করা প্রাপ্তবয়স্করা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুদের বন্ধুত্বের ফাঁদে ফেলে, ধীরে ধীরে আস্থা অর্জন করে এবং তারপর তাদের যৌন নিপীড়নের দিকে টেনে নিয়ে যায়। এই প্রক্রিয়ায় ভিপিএন অপরাধীকে দ্বিগুণ সুবিধা দেয়। প্রথমত, তার আসল পরিচয় লুকিয়ে রাখে; দ্বিতীয়ত, তদন্তকারীদের পক্ষে তাকে ট্র্যাক করা প্রায় অসম্ভব করে তোলে। ফলে ধর্ষক ধরা পড়ে না, শিশুটি ন্যায়বিচার পায় না এবং অপরাধী একই কাজ বারবার করতে সাহস পায়।

 

 

বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে যে প্রশ্নটি এখন সবচেয়ে জরুরি তা হলো: ধরা পড়া শিশু নির্যাতনকারীদের কতজনের ডিভাইসে ভিপিএন পাওয়া গেছে এবং তারা কী ধরনের কনটেন্ট দেখতেন? এই তথ্যটি পদ্ধতিগতভাবে সংগ্রহ করা শুরু হলে এ প্রযুক্তি ও শিশু ধর্ষণের সম্পর্কটি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতেই নীতিনির্ধারকদের কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

 

 

শিশু শোষণের ডিজিটাল সুড়ঙ্গ

ইউনিসেফ এবং ইন্টারপোলের তথ্য অনুযায়ী, অনলাইনে শিশু যৌন নির্যাতনমূলক কনটেন্ট বা সিএসএএম বিতরণের ক্ষেত্রে ভিপিএন একটি প্রধান হাতিয়ার। অপরাধীরা তাদের অবস্থান ও পরিচয় আড়াল করতে ভিপিএন ব্যবহার করে শিশু পর্নোগ্রাফি আদান-প্রদান করে, অপ্রাপ্তবয়স্কদের সাথে গোপনে যোগাযোগ স্থাপন করে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজর এড়িয়ে যায়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গ্রেপ্তার হওয়া শিশু যৌন নির্যাতনকারীদের একটি বড় অংশের ডিভাইসে ভিপিএন সফটওয়্যার পাওয়া গেছে।

 

 

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই বিপদটি আরও গভীর। দেশে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, ইন্টারনেটের দাম কমছে, কিন্তু ডিজিটাল নিরাপত্তার অবকাঠামো সেই গতিতে শক্তিশালী হচ্ছে না। ফলে ভিপিএনের আড়ালে পরিচালিত শিশু শোষণের ঘটনাগুলো তদন্ত করার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আমাদের এখনও অপ্রতুল। অপরাধী জানে সে ধরা পড়বে না; এই দায়মুক্তির নিশ্চয়তাই তাকে বারবার অপরাধের দিকে ঠেলে দেয়।

 

 

সামাজিক অবক্ষয়ের নীরব জোয়ার

ভিপিএনের সাহায্যে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ পর্নোগ্রাফি সাইটগুলোতে প্রবেশ এখন অত্যন্ত সহজ। কিশোর-কিশোরী থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের ব্যবহারকারীরা নৈতিকভাবে ক্ষতিকর, মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক এবং সামাজিক সম্পর্কের জন্য ধ্বংসাত্মক কনটেন্টে ডুবে যাচ্ছে।

 

 

মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপ্রাপ্তবয়স্কদের এই কনটেন্টের সংস্পর্শ তাদের যৌন মনোভাব, নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি এবং বাস্তব সম্পর্কের ধারণাকে মারাত্মকভাবে বিকৃত করে। বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত কিশোর যখন বাস্তব জীবনে তার কল্পনার প্রতিফলন খোঁজে, তখন সে প্রতিরোধের মুখে পড়লে সহিংস হয়ে ওঠে। এই মনস্তাত্ত্বিক পথটিই বহু ক্ষেত্রে ধর্ষণের দিকে নিয়ে যায়। তাই ভিপিএনসুলভ পর্নোগ্রাফি এবং শিশু ধর্ষণের মহামারির মধ্যে একটি অদৃশ্য কিন্তু শক্তিশালী সুতো টানা আছে যা সমাজ ও রাষ্ট্রকে এখনই উপলব্ধি করতে হবে।

 

 

সাইবার অপরাধের নিরাপদ বর্ম

ডিজিটাল প্রতারণা, পরিচয় চুরি, র‍্যানসমওয়্যার আক্রমণ, হ্যাকিং; এই অপরাধগুলোর তদন্তে বিশ্বের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো যে বাধার মুখে পড়ে তার সবচেয়ে বড় কারণ হলো ভিপিএন। অপরাধী যখন একটি দেশের ভিপিএন সার্ভারের আড়াল থেকে অন্য দেশে হামলা চালায়, তখন তদন্তকারীরা আসল অপরাধীর কাছে পৌঁছাতে পারেন না। কারণ ভিপিএন সার্ভার লগ রাখে না বা রাখলেও তা ভিন্ন দেশের এখতিয়ারে।

 

 

বাংলাদেশে প্রতি বছর হাজার কোটি টাকার সাইবার প্রতারণার ঘটনা ঘটছে। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং, মোবাইল ব্যাংকিং জালিয়াতি, ই-কমার্স প্রতারণা; এসব অপরাধের একটি বড় অংশে ভিপিএন ব্যবহার করে অপরাধীরা পরিচয় আড়াল করে। ভুক্তভোগীরা বিচার পান না, অপরাধীরা ধরা পড়ে না। এই দায়মুক্তির সংস্কৃতি সমাজে অপরাধের প্রবণতাকে উৎসাহিত করে।

 

 

রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের চ্যালেঞ্জ

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সংসদ যখন কোনো কনটেন্ট নিষিদ্ধ করে, তখন সেই সিদ্ধান্তের পেছনে থাকে সামাজিক ঐকমত্য ও আইনি কর্তৃত্ব। ভিপিএন সেই কর্তৃত্বকে প্রযুক্তির মাধ্যমে নস্যাৎ করে দেয়। এটি কেবল আইন অমান্য নয়, এটি রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে একটি প্রযুক্তিগত বিদ্রোহ। প্রশ্ন হলো, আমরা কি এমন একটি সমাজ চাই যেখানে যার প্রযুক্তিগত সামর্থ্য আছে সে আইনের ঊর্ধ্বে থাকবে?

 

 

বিশ্বের বেশ কিছু দেশ, যেমন- চীন, রাশিয়া, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ভিপিএন ব্যবহারকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। এটি কোনো স্বৈরাচারী প্রবৃত্তি নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও নাগরিক নিরাপত্তার প্রশ্নে একটি সুস্পষ্ট অবস্থান। যে রাষ্ট্র তার নাগরিকের ডিজিটাল পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, সে রাষ্ট্র আসলে কতটুকু সার্বভৌম? বিশেষত যখন সেই অনিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল পরিবেশ রাষ্ট্রের সবচেয়ে দুর্বল নাগরিক শিশুদের ক্ষতি করছে, তখন নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নটি আর রাজনৈতিক থাকে না, এটি হয়ে ওঠে নৈতিক দায়িত্ব।

 

 

যাচাইয়ের অধিকার : রাষ্ট্রের ন্যায্য দাবি

বিপুলসংখ্যক ভিপিএন ব্যবহারকারী আসলে কী উদ্দেশ্যে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন? প্রশ্নটি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। বিমানবন্দরে নিরাপত্তা তল্লাশি হয়, রাস্তায় যানবাহন চেকিং হয়, ব্যাংকে লেনদেন যাচাই হয়; এগুলো কি ব্যক্তির অধিকারের লঙ্ঘন? না, কারণ রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে একটি ন্যূনতম স্বচ্ছতা প্রয়োজন। ডিজিটাল জগতে সেই স্বচ্ছতার দাবি করা কি অন্যায্য? বিশেষত যখন সেই অস্বচ্ছতার আড়ালে শিশু ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অপরাধ ঘটছে?

 

 

ভিপিএন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাধ্য করা যায় ব্যবহারকারীর লগ সংরক্ষণ করতে এবং আইনি আদেশের ভিত্তিতে তদন্তকারীদের কাছে তা সরবরাহ করতে। এটি গণনজরদারি নয়, এটি প্রচলিত টেলিযোগাযোগ আইনের ডিজিটাল সম্প্রসারণ মাত্র। ফোন কোম্পানিগুলো যেমন আদালতের আদেশে কল রেকর্ড দেয়, ভিপিএন প্রতিষ্ঠানগুলোও তেমনি লগ সরবরাহ করতে বাধ্য হওয়া উচিত। একজন শিশু ধর্ষককে শনাক্ত করতে পারলে যদি কোনো ব্যক্তির ভিপিএন লগ দেখতে হয়, সেই মূল্য পরিশোধ করতে সভ্য সমাজের অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।

 

 

সিদ্ধান্তের সময় : শিশুর জীবন না প্রযুক্তির স্বাধীনতা?

প্রযুক্তি নিরপেক্ষ, কিন্তু তার ব্যবহার নিরপেক্ষ নয়। ভিপিএন একটি হাতিয়ার। সেই হাতিয়ার কারও হাতে সাংবাদিকতার ঢাল, কারও হাতে শিশু শোষণের অস্ত্র; দুটোই সত্য। কিন্তু যখন সেই অস্ত্রের আঘাতে একটি শিশুর শৈশব চুরমার হয়ে যাচ্ছে, যখন একজন ধর্ষক ভিপিএনের আড়ালে নিশ্চিন্তে পরবর্তী শিকার খুঁজছে, তখন ‘প্রযুক্তির স্বাধীনতা’ কথাটি ব্যবহার করতে বিবেক বাধা দেওয়া উচিত।

 

 

বাংলাদেশে আজ শিশু ধর্ষণ মহামারির যে রূপ নিয়েছে তার বিরুদ্ধে লড়তে হলে কেবল আইনি সংস্কার বা সামাজিক সচেতনতা যথেষ্ট নয়। ডিজিটাল পরিবেশকেও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। ভিপিএনের মাধ্যমে নিষিদ্ধ কনটেন্টে প্রবেশ রুদ্ধ করা, শিশু যৌন নির্যাতনমূলক কনটেন্ট শনাক্ত ও মুছে ফেলার প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গড়া এবং ভিপিএন সেবাদাতাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা; এই পদক্ষেপগুলো নেওয়ার সময় এখনই।

 

 

অন্ধকারের দরজা খোলা রাখা কখনও সভ্যতার লক্ষণ নয়। বিশেষত যখন সেই দরজা দিয়ে শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধ ঢুকছে। একটি জাতির সভ্যতার পরিমাপ হয় তার সবচেয়ে দুর্বল সদস্যদের সে কতটুকু রক্ষা করতে পারছে তার মানদণ্ডে। আমাদের শিশুরা রক্ষা পাচ্ছে না- এই ব্যর্থতার একটি বড় অংশের দায় ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণহীনতার, ভিপিএনের অপব্যবহারের এবং আমাদের সম্মিলিত নিষ্ক্রিয়তার।

 

 

ব্রাজিল বনাম হাইতি ম্যাচের ফলাফল জানাল সুপার কম্পিউটার

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্রয়ের পর ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া ব্রাজিল। আগামীকাল শনিবার দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতির মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ইতিহাস বলছে, বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচে জয়হীন থাকার অভিজ্ঞতা ব্রাজিলের খুবই বিরল। ১৯৭৮ সালের পর কোনো বিশ্বকাপে প্রথম দুই ম্যাচে জয়হীন থাকেনি তারা।

 

 

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের হিসেবে ব্রাজিলের অনেক পেছনে হাইতি। র‍্যাঙ্কিংয়ে ব্রাজিলের অবস্থান ৬ নম্বরে, আর হাইতি ৮৪ নম্বরে— দুই দলের মধ্যে পার্থক্য ৭৮ ধাপ। ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচে ব্রাজিলকেই স্পষ্ট ফেবারিট ধরা হচ্ছে। পরিসংখ্যানভিত্তিক পূর্বাভাস প্রতিষ্ঠান অপটার সুপারকম্পিউটারও সেলেসাওদের জয়ের সম্ভাবনা দেখছে ৮৭.৩ শতাংশ। বিপরীতে হাইতির জয়ের সম্ভাবনা মাত্র ৪.৩ শতাংশ, আর ড্রয়ের সম্ভাবনা ৮.৪ শতাংশ।

 

 

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করলেও ব্রাজিলের নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা এখনো বেশ উজ্জ্বল। অপটার হিসাব বলছে, গ্রুপ সি-তে শীর্ষস্থান অর্জনের সম্ভাবনা ব্রাজিলের ৫২ শতাংশ। শেষ ৩২-এ ওঠার সম্ভাবনা ৯০.৩ শতাংশ। এমনকি শিরোপা জয়ের সম্ভাবনাও ৫.৪ শতাংশ ধরা হয়েছে।

অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে হেরে যাওয়ায় হাইতির সমীকরণ কঠিন হয়ে গেছে। তাদের নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা মাত্র ৫.৮ শতাংশ। আর গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা নেমে এসেছে ০.৪ শতাংশে।

পরিসংখ্যানের হিসাবেও ব্রাজিল-হাইতি ম্যাচে স্পষ্ট ফেভারিট ব্রাজিল। দুই দলের অতীত রেকর্ড একেবারেই একপেশে। এর আগে তিনবার মুখোমুখি হয়ে তিনবারই জিতেছে ব্রাজিল। সেই ম্যাচগুলোতে ১৭ গোল করেছে সেলেসাওরা, বিপরীতে হাইতির গোল মাত্র একটি। সর্বশেষ ২০১৬ কোপা আমেরিকায় ব্রাজিল ৭-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল হাইতিকে।

 

 

খাদ্য অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি উন্মোচন, আটক ৪৯

খাদ্য অধিদপ্তরের ‘সহকারী উপ-খাদ্য পরিদর্শক’ পদের লিখিত পরীক্ষা চলাকালে ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ ৪৯ জনকে আটক করা হয়েছে।

 

 

শুক্রবার (১৯ জুন) রাজধানীর ঢাকা কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে তাদের আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সেলিমুল আজম।

 

 

খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক জানান, পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের সময় ডিভাইসসহ ২৫ জনকে শনাক্ত করা হয়। এ সময় তাদের মধ্যে ৪ জন পালিয়ে যায়। পরে ২১ জনকে আটক করা হয়। এছাড়া পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে আরও ২৮ জনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন প্রক্সি পরীক্ষার্থীও রয়েছে।

সেলিমুল আজম বলেন, আমরা সবাইকে যে ধরতে পেরেছি, তা বলছি না। তবে বিগত পরীক্ষাগুলোর তুলনায় আজকের পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। সব মিলিয়ে নারী-পুরুষসহ মোট ৪৯ জনকে আটক করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আটকদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, ব্যাটারি এবং ছোট আকারের ব্লুটুথ টাইপের ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে। আটকদের আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিশ্বকাপে নকআউটের টিকিট সবার আগে মেক্সিকোর

সবার আগে গ্রুপ পর্বের বাধা অতিক্রম করেছে মেক্সিকো। স্বাগতিকদের সমর্থনে গর্জে ওঠা গুয়াদালাহারা স্টেডিয়ামে গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নিয়ে আজ শুক্রবার (১৯ জুন) ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজকরা। গ্রুপ ‘এ’-এর ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে নকআউটের টিকিট কেটে নেয় মেক্সিকানরা।

 

 

পুরো ম্যাচজুড়ে দুই দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হলেও পার্থক্য গড়ে দেয় দ্বিতীয়ার্ধের একটি ভুল। ম্যাচের ৫০তম মিনিটে দক্ষিণ কোরিয়ার গোলরক্ষক কিম সুং-গিউয়ের মারাত্মক ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন লুইস রোমো। জুলিয়ান কিনোনেসের ক্রস থেকে রাউল হিমেনেজের হেডার আকাশে উঠে গেলে বলটি ধরতে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলেন কিম। তার হাত ফসকে সামনে পড়ে যাওয়া বল জালে জড়িয়ে দেন রোমো।

 

 

গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে রাখতে না পারলেও রক্ষণে দৃঢ়তা দেখায় মেক্সিকো। দক্ষিণ কোরিয়া বলের দখল বাড়িয়ে সমতায় ফেরার চেষ্টা চালায়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত মেক্সিকান রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক রেঞ্জেল তাদের হতাশ করেন।

ম্যাচের ৮৭তম মিনিটে দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে ভালো সুযোগটি আসে। একটি ক্রস থেকে চো গে-সুংয়ের হেড দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন রেঞ্জেল।

ফিরতি বলেও চোকে গোল করতে দেননি তিনি। যোগ করা সময়েও কর্নার থেকে সুযোগ পেয়েছিল কোরিয়ানরা, কিন্তু হান-বিওম লির হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে শেষ আশা নিভে যায় তাদের। প্রথমার্ধে দুই দলই খুব বেশি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে পারেনি। মেক্সিকো শুরুতে চাপ সৃষ্টি করলেও দক্ষিণ কোরিয়া ধীরে ধীরে ম্যাচের গতি কমিয়ে আনে। ফলে বিরতিতে যাওয়ার আগে মাত্র একটি শটই লক্ষ্যে ছিল।

এই জয়ে দুই ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘এ’ থেকে নকআউট নিশ্চিত করা প্রথম দল হয়ে গেল মেক্সিকো। অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে চেকিয়াকে হারানো দক্ষিণ কোরিয়া দ্বিতীয় ম্যাচে হেরে এখন কঠিন সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে গেছে।

 

 

গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে মেক্সিকো মুখোমুখি হবে চেকিয়ার, আর দক্ষিণ কোরিয়া লড়বে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। নকআউটে জায়গা নিশ্চিত করতে সেই ম্যাচে জয় ছাড়া বিকল্প নেই সন হিউং-মিনদের।

শিশু মৃত্যুর মিছিল থামছে না, সিলেটে হাম ও নিউমোনিয়ায় আরও ২ প্রাণহানি

সিলেটে হাম ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ল্যাব পরীক্ষায় নতুন করে ২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৬৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ফলে বিভাগজুড়ে হাম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

 

 

গত ২৪ ঘন্টায় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে আইসিওতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২ শিশুর মৃত্যু হয়। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ২৬১ জন ভর্তি রয়েছেন। এ নিয়ে ৭৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

 

 

বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিপ্তর সিলেট বিভাগের পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম।

মারা যাওয়া শিশুরা হলো- মৌলভীবাজার সদর উপজেলার পূর্ব সুলতানপুর এলাকার সজল মিয়ার ৭ মাস বয়সী ছেলে সারহান ও সিলেটের ওসমানীনগরের উজ্জল মিয়ার ৫ মাস বয়সের ছেলে আহিয়ান।

সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত বিভাগে মোট ৩২৭ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে হবিগঞ্জে ২৬ জন (২ জন রুবেলা), মৌলভীবাজারে ১৬ জন, সুনামগঞ্জে ১৭৮ জন এবং সিলেটে ১০৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ৬৯ জন ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৬১ জন সন্দেহজনক রোগী।

জেলাভিত্তিক মৃত্যুর তথ্যে দেখা যায়, সিলেটে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে ২৭ জন ও নিশ্চিত হামে ২ জনসহ মোট ২৯ জন, হবিগঞ্জে ৬ জন, মৌলভীবাজারে ১০ জন (সন্দেহজনক ৯ ও নিশ্চিত ১) এবং সুনামগঞ্জে ৩১ জন (সন্দেহজনক ৩০ ও নিশ্চিত ১) মারা গেছেন। চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে সন্দেহজনক হামে ৭২ জন এবং নিশ্চিত হামে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। মোট প্রাণহানি দাঁড়িয়েছে ৭৬ জনে।

 

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগের পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম কালবেলাকে বলেন, হাম উপসর্গ ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৬৯ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে ৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

হামলার দায় স্বীকার করল আফগানিস্তান, প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় পাকিস্তান

আফগানিস্তান সরকার দাবি করেছে, পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আইএসআইএস সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে তারা একাধিক হামলা চালিয়েছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

 

 

শুক্রবার আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানায়, পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে কথিত আইএসআইএসের আস্তানাগুলো লক্ষ্য করে এসব হামলা পরিচালিত হয়েছে।

 

 

মন্ত্রণালয়ের দাবি, ওই স্থানগুলো শত্রুভাবাপন্ন গোয়েন্দা চক্রের সহায়তায় আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের কাজে ব্যবহৃত হতো। এছাড়া অতীতে সংঘটিত বেশ কয়েকটি প্রাণঘাতী হামলার ক্ষেত্রেও এসব ঘাঁটি অপারেশনাল কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে আফগানিস্তানের এই দাবির বিষয়ে পাকিস্তান সরকার বা দেশটির সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সীমান্ত নিরাপত্তা, জঙ্গি তৎপরতা এবং একে অপরের ভূখণ্ড ব্যবহার করে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলা চালানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

 

আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, আফগানিস্তান তার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হুমকি আর সহ্য করবে না।

মাধ্যমিকের শুরুতেই বাধ্যতামূলক কারিগরি শিক্ষা, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষাব্যবস্থাকে বিশ্বমানের ও যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

 

 

শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে রোটারি বাংলাদেশ আয়োজিত ‘লিডার্স ট্রেনিং সেমিনার’ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

 

 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকার শিক্ষাব্যবস্থাকে বিশ্বমানের করে গড়ে তুলছে। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় গুরুত্ব দিচ্ছে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই পাঠ্যবইয়ে বাধ্যতামূলক হচ্ছে কারিগরি শিক্ষা।

তিনি আরও বলেন, পাবলিক পরীক্ষা আইন পাস হওয়ায় এখন থেকে ডিজিটাল নকলের সাজা দেওয়া হবে। সবাইকে উচ্চ শিক্ষা দিয়ে বেকারত্বের কারখানা তৈরি করা যাবে না বলেও উল্লেখ করেন শিক্ষামন্ত্রী।

আওয়ামী লীগ ইস্যুতে নিরাপত্তা জোরদার, সতর্ক পুলিশ প্রশাসন

কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং রাজনৈতিক সংঘাতের আশঙ্কা করছে পুলিশ। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দলটির সম্ভাব্য কর্মসূচিকে ঘিরে সংঘর্ষ ও উত্তেজনা এড়াতে দেশের সব পুলিশ ইউনিটকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

 

গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, দলটির নেতাকর্মীরা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন জেলা ও মহানগরের দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন এবং ব্যানার নিয়ে প্রকাশ্যে মিছিলসহ কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করতে পারে।

 

 

এ নিয়ে অন্যান্য রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের সঙ্গে সংঘর্ষের আশঙ্কা জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

এ পরিস্থিতিতে দেশের সব পুলিশ ইউনিটকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (কনফিডেনসিয়াল) মো. কামরুল আহসানের স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত এক চিঠিতে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন জেলায় দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন এবং প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ব্যানার নিয়ে প্রকাশ্যে মিছিল করতে পারে।

এর ফলে বিদ্যমান অন্যান্য রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে এনসিপির নেতাকর্মী ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্রদের সঙ্গে সংঘর্ষ তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডে বাধা দিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর ক্ষুব্ধ হতে পারে।

 

 

চিঠিতে আরও বলা হয়, এমতাবস্থায় এ বিষয়ের গুরুত্ব অনুধাবন করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

 

 

এ অবস্থায় বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে সব মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি এবং পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজিকে (অপারেশনস) প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

 

এর আগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নামে বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল, প্রচারপত্র বিতরণ ও কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। গতকাল (বৃহস্পতিবার) মহাখালীতে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল থেকে ককটেল বিস্ফোরণ করা হয়। এ সময় তিনজনকে আটকও করা হয়েছে। এছাড়া, গণভবনের সামনে যুবলীগও মিছিল করে।

 

 

পুলিশ বলছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমের মাধ্যমে যাতে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়, সে জন্য সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য নাশকতা ও সহিংসতা ঠেকাতে মাঠ পর্যায়ে বাড়তি নজরদারি রাখা হয়েছে।

 

 

সাবেক প্রতিমন্ত্রী হারুন অর রশিদের জানাজায় বিভিন্ন মহলের অংশগ্রহণ

সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। জানাজা পরিচালনা করেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের পেশ ইমাম কারি মো. আবু রায়হান।

 

 

শুক্রবার (১৯ জুন) জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সাবেক এই জানাজা সম্পন্ন হয়।

 

 

জানাজার শুরুতেই মরহুম হারুন অর রশিদের সংক্ষিপ্ত জীবনী পাঠ করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. খালেদ হোসেন মাহবুব।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও হুইপদের পক্ষে হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষে ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এবং পরিবারের পক্ষে মরহুমের ভাতিজা কামাল হোসেন।

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) জানাজায় উপস্থিত সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, হারুন অর রশিদ একজন বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান ছিলেন এবং পাঁচ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি ব্যক্তি জীবনে অমায়িক, সজ্জন, সাধারণ মানুষের জন্য নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, হারুন অর রশিদ দেশনেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আস্থা ভাজন ছিলেন। তার মৃত্যুতে দেশ একজন জাতীয়তাবাদী ঘরানার নিবেদিতপ্রাণ দেশপ্রেমিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে হারিয়েছে। এ সময় তিনি মরহুমের শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

 

 

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, হারুন অর রশিদ একজন অত্যন্ত প্রজ্ঞাবান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। সততা ও নিষ্ঠার জন্য তার জীবনাদর্শ আমাদের জন্য অনুকরণীয়। তিনি বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে হারুন আর রশিদের অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য।

 

 

জানাজা শেষে শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম), বিএনপির পক্ষে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, চিফ হুইপ ও অন্য হুইপদের পক্ষে হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন (নিজান), প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তার সামরিক সচিব এবং সংসদ সচিবালয়ের পক্ষে ব্যারিস্টার গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া ও কর্মকর্তারা।

 

 

শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান শেষে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

 

 

উল্লেখ্য, হারুন অর রশিদ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

 

 

জানাজা অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনৈতিক ব্যক্তিরাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

ভাড়া বাসায় আইসিটি কর্মকর্তার ঝুলন্ত মরদেহ, তদন্ত শুরু

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা পরিষদের সহকারী প্রোগ্রামার (আইসিটি) ও মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মাহমুদুর রহমানের (৩৫) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

 

 

শুক্রবার (১৯ জুন) বেলার ১১টার দিকে জীবননগর শহরের বসুতিপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

 

নিহত মাহমুদুর রহমান ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ঝিটকেপুতা গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে। তিনি ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জীবননগর উপজেলা পরিষদে আইসিটি কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। চাকরির সুবাদে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে জীবননগর শহরের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পারিবারিক কলহের জেরে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

খবর পেয়ে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, মাহমুদুর রহমান উপজেলা পরিষদের একজন শান্ত, ভদ্র ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ছিলেন। তার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।

 

 

নিহতের স্ত্রী ইতি খাতুন জানান, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে মাঝে মধ্যে মনোমালিন্য হলেও পরে তা মিটে যেত। তিনি বর্তমানে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ঘটনার দিন সকালে স্বামীর সঙ্গে কোনো ঝগড়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

 

 

তিনি আরও জানান, সকালে ছেলের জন্য জুস কিনতে বাজারে যান। ফিরে এসে ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকির পরও দরজা না খোলায় প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করলে মাহমুদুর রহমানকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।

 

 

নিহতের বাবা আতাউর রহমান জানান, তার ছেলে ও পুত্রবধূর মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়াঝাঁটি ও মনোমালিন্য হতো। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মাহমুদুর রহমান তার মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং পরিবারের খোঁজখবর নেন। একপর্যায়ে হঠাৎ ফোন কেটে দেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যুর খবর পান।

 

 

জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ থানায় নেওয়া হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

লেবানন সীমান্তে সংঘর্ষে নিহত ৪ ইসরায়েলি সেনা

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে চলমান সংঘর্ষে চার ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সেখানে তীব্র লড়াই চলছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

 

 

শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ৪০১তম ব্রিগেডের ৫২তম ব্যাটালিয়নের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল ডর গেদালিয়া বেন সিমহোন (৩২)। তিনি দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযানের সময় নিহত হন।

 

 

একই ঘটনায় আরও তিন ইসরায়েলি সেনাও নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। তবে তাদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিহত ওই তিন সেনার নাম পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।

দক্ষিণ লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলি বাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে, যার ফলে উভয় পক্ষেই হতাহতের ঘটনা ঘটছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায় লেবাননে যুদ্ধবিরতি উল্লেখ থাকলেও তা মানছে না ইসরায়েলি বাহিনী।

সীমান্তে নতুন করে পুশ-ইনের অভিযোগ, উত্তেজনা মেহেরপুরে

মেহেরপুরে সীমান্ত দিয়ে আবারও চারজনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর অবস্থানের কারণে সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

 

 

শুক্রবার (১৯ জুন) ভোরে সদর উপজেলার বুড়িপোতা বিওপির খালপাড়া সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভারতীয় তারকাটার এ পাশে নোম্যান্স ল্যান্ড ও ভারতীয় জমির মধ্যবর্তী স্থানে একটি বাঁশঝাড়ের নিচে এক নারী ও তিন পুরুষকে বসে থাকতে দেখেন সীমান্তের বাংলাদেশ অংশে চাষাবাদ করা স্থানীয় কৃষকরা। পরে বিষয়টি তারা বিজিবিকে অবহিত করেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ওই সময় এলাকায় অস্বাভাবিক চলাচল লক্ষ্য করা যায়। এরই মধ্যে প্রবল বৃষ্টি শুরু হলে কৃষকরা স্থান ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুশ-ইনের চেষ্টা করা ওই ব্যক্তিদের আর খুঁজে পায়নি বিজিবি ও স্থানীয় জনতা। তাদের বিএসএফ ফেরত নিয়ে গেছে, এমন কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যও পাওয়া যায়নি।

তবে স্থানীয়দের ধারণা, ভারতীয় তারকাটার এ পাশে ভারতীয় জমি, নোম্যান্স ল্যান্ড এবং বাংলাদেশের জমিতে পাটের আবাদ থাকায় ওই এলাকায় কেউ লুকিয়ে থাকলে তাদের খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন।

এদিকে স্থানীয়রা আরও জানান, ভোরে সীমান্ত এলাকায় চারজনকে অবস্থান করতে দেখার পর বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টার বিষয়টি সামনে আসে। খবর পেয়ে বিজিবি দ্রুত ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে পুশ-ইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং ওই ব্যক্তিরা সেখান থেকে সরে যান বলে জানা গেছে।

 

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সীমান্তের বিপরীতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার তেহট্ট থানার নাটনা বিএসএফ ক্যাম্প অবস্থিত।

 

 

এ বিষয়ে বিজিবি-৬ চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, শুক্রবার ভোরে বৃষ্টির আগে বিএসএফ চারজনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করেছিল। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি এবং ফিরে যায়।

 

 

তিনি আরও বলেন, সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। যে কোনো ধরনের পুশ-ইন প্রতিরোধে বিজিবি বদ্ধপরিকর।

 

 

উল্লেখ্য, এর আগে গত ৬ জুন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া সীমান্তের ১৪০ নম্বর মেইন পিলারের ৪-এস সাব-পিলার সংলগ্ন এলাকা দিয়ে সাতজনকে বিএসএফ শূন্যরেখায় ঠেলে পাঠায় বলে অভিযোগ ওঠে। ওই সাতজন শূন্যরেখায় অবস্থান করার সময় পার্শ্ববর্তী ১৪০ নম্বর মেইন পিলারের ৫-এস সাব-পিলার সংলগ্ন এলাকা দিয়ে আরও ছয়জনকে পুশ-ইন করা হয় বলে জানা যায়। পুশ-ইন হওয়া ১৩ জনের মধ্যে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী বর্তমানে গাংনী উপজেলার কাজিপুর গ্রামে অবস্থান করছেন।

তিস্তা ব্যারাজের অবস্থা পর্যবেক্ষণে তিন মন্ত্রীর সফর

তিস্তা ব্যারাজ এবং তিস্তা নদী তীরবর্তী ভাঙন পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শনে আজ শুক্রবার (১৯ জুন) লালমনিরহাট সফরে যাচ্ছেন সরকারের তিন মন্ত্রী।

 

 

সফরসূচি অনুযায়ী, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু দুপুরে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ এলাকা পরিদর্শন করবেন।

 

 

পরিদর্শন শেষে মন্ত্রীরা তিস্তা অবসর হলরুমে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন। সভায় তিস্তা অববাহিকার নদীভাঙন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীশাসন এবং চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

এছাড়া সফরের অংশ হিসেবে তিস্তা পাড়ের ভাঙনকবলিত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখবেন তারা। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি ও সমস্যাগুলোও সরাসরি শুনবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

তিস্তা তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা জানান, সরকারের উচ্চপর্যায়ের এই সফর তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথকে আরও বেগবান করবে। একই সঙ্গে নদীভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ এবং স্থায়ী নদীশাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তারা আশা করছেন।

স্থানীয়দের মতে, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে তিস্তার ভাঙনে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই স্থায়ী সমাধানের দাবিতে সোচ্চার রয়েছেন নদীপাড়ের মানুষ।

 

 

হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপ জন মিত্র বলেন, ‘মন্ত্রীদের সফরকে ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে থানা পুলিশকেও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

বিস্ফোরক মামলায় পদচ্যুত ইউপি চেয়ারম্যান ও আ.লীগ নেতা গ্রেপ্তার

বিস্ফোরক মামলায় সিরাজগঞ্জের তাড়াশ সদর ইউনিয়ন পরিষদের পদচ্যুত চেয়ারম্যান ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা বাবুল শেখকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

শুক্রবার (১৯ জুন) ভোররাতে তাড়াশ পৌর শহরের নিজবাড়ী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাবুল শেখ তাড়াশ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি।

 

তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান জানান, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আব্দুল মান্নান তালুকদারের নির্বাচনী জনসভায় হামলার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

 

মামলার বরাত দিয়ে তিনি জানান, ২০১৮ সালের ১২ ডিসেম্বর বারুহাস ইউনিয়নের বিনোদপুর বাজারে নির্বাচনী পথসভায় অংশ নিতে যান বিএনপির প্রার্থী আবদুল মান্নান তালুকদার। এ সময় তার ওপরে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে মান্নান তালুকদারের গাড়ি ভাঙচুর করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। সেই সঙ্গে হত্যার উদ্দেশ্যে ককটেল বিস্ফোরণও ঘটায়। ওই সময় পুলিশ ও দলীয় নেতাকর্মীরা মানবঢাল তৈরি করে মান্নান তালুকদারের জীবন রক্ষা করেন। এ হামলায় বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছিলেন।

 

এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর বারুহাস ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে সাবেক সংসদ সদস্য ডা. আব্দুল আজিজসহ ৯৯ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৩০০ জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। এ মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি বাবুল শেখ।

 

‘ফুটবল বিশ্বকাপ আমাদের আবেগ ও দুর্বলতা’

আমাদের দেশে রাজনীতির মাঠে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ কর্মীদের মধ্যে যে আবেগ, উৎসাহ ও উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হয়, তদ্রুপ বিশ্ব ফুটবলের পরাশক্তি ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাকে ঘিরেও একই ধরণের আবেগ ও উন্মাদনা লক্ষ্যনীয়।

 

আয়োজক যে দেশই হোক না কেন বাংলাদেশে এই দুই দলের সমর্থকদের মাঝে উৎসাহ ও নানা আয়োজন বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া কোনো দেশের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। স্বাধীনতার পূর্ব ও পরে আবাহনী-মোহামেডান মানেই ছিল অনিন্দম আকর্ষণ। পাড়ায় মহল্লায় ছাদে বা গাছে শোভা পেত ক্লাব পতাকা সেগুলোর মধ্যে দেশীয় ফুটবলের ছাপ ছিল।

 

নব্বই দশকে এই দেশে টিভি দেখার সীমাবদ্ধতা ছিল,  হাতে গোনা দুই এক বাসায় টিভি ছিল, বৈঠকখানা বা উঠানে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হতো বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখার জন্য। বিনোদনের সীমাবদ্ধতা ছিল তথাপি বিশ্বকাপ মানুষ উপভোগ করেছে। এখন ঘরে ঘরে টিভি, সকলের দোরগোড়ায় বিনোদন, কিন্তু ভক্তদের দলীয় আবেগী প্রদর্শন ও নিন্দনীয় ব্যবহারিক দিক বেশি পরিলক্ষিত হয়। এখন ফুটবল খেলা যতটা না উপভোগ্য তার চেয়ে বেশি হিংসা-বিদ্বেষ হানাহানি অন্যকে ঘায়েল করা বেশ পরিলক্ষিত হয়।

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজ নিজ সমর্থিত দলের হয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে বিতর্কিত স্ট্যাটাস দেওয়া কমেন্টস করা নিত্য নৈমত্তিক ব্যপার। আর পাড়ায় মহল্লায় আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, মারামারি, মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি-সেটাই এখানে আলোচ্য বিষয়।

যে সকল দেশ নান্দনিক ফুটবল খেলে আমাদের সকলকে মুগ্ধ করে,  বিশেষ করে দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিল আর্জেন্টিনা, চিলি উরুগুয়ে, আফ্রিকার মরোক্ক, ঘানা, নাইজেরিয়া, ইজিপ্ট এবং ইউরোপের ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানি, ইংল্যান্ড, হল্যান্ড, পর্তুগাল। এশিয়ার জাপান, কোরিয়া, সৌদি আরব সবাই নান্দনিক ফুটবল খেলে।  তাই সবার খেলাই আমাকে আনন্দ দেয়।

 

কোনো কোনো দেশ শিরোপা না জিতলেও বিশ্বব্যাপী ফুটবল অনুরক্ত ভক্ত রেখে গেছে যেমন: পোল্যান্ড পর্তুগাল, ক্রোয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, মেক্সিকো। আমাদের দেশে ফুটবল অনুরাগীদের মাঝে উন্মাদনা এতটাই বেশি যে তারা রাজনৈতিক কর্মীদের মতো আবেগ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও লোক দেখানো প্রতিযোগিতা করে থাকেন।  দেশব্যাপী বিদেশী পতাকার অযাচিত ব্যবহার বাড়িঘর রং দিয়ে দৃষ্টি আকৰ্ষণ, পাড়ায় মহল্লায় পরিবেশের যে বিপর্যয় সেটা বড্ডো বাড়াবাড়ি বলে আমার কাছে মনে হয়।

 

নিজ পছন্দের দলকে ঈশ্বর বানিয়ে বাকি দলগুলোকে হেয় করা, তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করা তিরস্কার করা থেকে বিরত হন। আপনারা কে কতবড় জ্ঞানী সেটা জাহির করতে অন্যকে বিদ্রুপ করা, ছোট করা, আঘাত করা থেকে বিরত হন। খেলায় দলীয় পছন্দের ভিন্নতা থাকতে পারে তাই বলে বন্ধুত্ব নষ্ট করা, সম্পর্ক ছিন্ন করা, বিভিন্ন শ্রেণীর মধ্যে দূরত্ব তৈরী করা খুবই অস্বাভাবিক। খেলা শেষে সবাই যে যার জায়গায় ফিরবেন, আবারও সবার সাথে দেখা হবে কিন্তু সম্পর্কটা স্বাভাবিক হবে তো ?

বিশ্ব ফুটবলে আমাদের অবস্থান ১৮১ নম্বর। যে দেশ দক্ষিণ এশিয়া জয় করতে পারে না, এশিয়ান কোয়ালিফাই করতে পারা দিবাস্বপ্ন সেখানে বিশ্বকাপ আমাদের কাছে টেলিস্কোপে মহাকাশ দেখার সামিল। ফুটবলে আমাদের অবস্থান ১৮১ অথচ ওয়ার্ল্ডকাপে অংশ নেয়া অন্য দেশগুলোকে আমরা কতটাই না তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করি। আমাদের চেয়ে অধিক যোগ্যতাসম্পন্ন দেশকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করা আপনাদের জন্য কতটা মানানসই বোধগম্য না।

 

সুদূর দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা নিয়ে দেশের মানুষের মধ্যে যে ব্যক্তিত্বের লড়াই, জ্ঞানের লড়াই তা নিতান্তই ছেলেমানুষি। যাদের নিয়ে আপনাদের এতো আবেগ সে দেশের ৯০% মানুষ হয়তো বাংলাদেশকে চেনেই না। যেমন প্রতিবেশী চীনের মতো দেশের অধিকাংশ মানুষ বাংলাদেশকে চেনে না। তেমনি যারা আপনাকে চেনেনা যাদের সাথে আমাদের অর্থনৈতিক বা সাংস্কৃতিক সম্পর্ক নেই, সেই দেশের ফুটবলকে সমর্থন করতে গিয়ে আপনি আপনার পরিবার , আত্মীয় , মহল্লা কর্মক্ষেত্রে নিজেকে বিতর্কিত করছেন। নিজের আত্মঅহংকার ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে হাতাহাতি, মারামারি, খুন পর্যন্ত গড়িয়ে যাচ্ছে। ব্রাজিল না আর্জেন্টিনা কে শ্রেষ্ট সেইটা নিয়ে ঘরে ঘরে মহল্লায় মহল্লায় যুদ্ধ হয় ।

আপনারা পারেনও বটে সবকিছুর মধ্যে একজনকেই শ্রেষ্ট বানাতে। সেটা ফুটবল হোক, সিনেমার নায়ক নতুবা অন্য কোনো পেশা। পূর্বে আমাদের দেশে নায়কের অভাব ছিলোনা কিন্তু দেশে নায়ক মানেই বলা হয় নায়ক রাজ রাজ্জাক। কেননা তার নামের পূর্বে রাজ্ শব্দছিল তাই তিনি নায়কদের রাজা বাকিরা প্রজা। এই নায়ক রাজ রাজ্জাক সাহেবের নামের কারণে অভিনেতা ফারুক, উজ্জ্বল, সোহেল রানা, জাভেদ, মিডিয়াতে কখনোই নায়ক হতে পারে নাই। এখনো অনেক ভালো নায়ক আছে কিন্তু সাকিব খানই একমাত্র নায়ক, বলিউডে সালমান খান না শাহরুখ খান কে শ্রেষ্ঠ সেটা নিয়েও আমাদের দেশ ঘরে ঘরে বিতর্ক হয়। এক কেন্দ্রিক এই অসুস্থ প্রতিযোগিতা এক প্রকার গরিব মানুষিকতা ও রুচির দুর্ভিক্ষের শামিল। ফুটবলে আমাদের আবেগ নিয়ে আদর্শিক পরিবর্তন জরুরি কেননা যে সকল দেশ বিশ্বকাপ খেলছে তাদের মধ্যে আমাদের মতো এতো উৎসাহ উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হয় না।

 

ইউরোপের ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল, ইংল্যান্ড, ওয়ার্ল্ডকাপ খেললেও সে দেশের রাস্তায় সেই উত্তেজনা দেখা যায় না। যদিও তারা ঐতিহ্যগতভাবে ফুটবল জাতি তথাপি তাদের মধ্যে আমাদের মতো সেই আদিখ্যাত নেই যেমনটা আমরা ফুটবল নিয়ে করি।

কেউ সাপোর্ট করে ব্রাজিল আর্জেন্টিনা কেউ ফ্রান্স জার্মানি সেটা তাদের ব্যক্তি পছন্দ। দয়াকরে তাদের সেই পছন্দকে সন্মান দিতে শিখুন। মহল্লায় আপনার দলীয় সমর্থক থাকতে পারে তাই বলে আন্যান্য ছোট গ্রুপকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করবেন সেটা আপনার পারিবারিক জ্ঞান ও শিষ্টাচারের দুর্বলতা। প্রতি চার বৎসর পর বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয় এর মাধ্যমে আমরা আয়োজক দেশের শক্তি সামর্থ, অবকাঠামো, কৃষ্টি কালচার জানতে পারি। এখান থেকেও অন্য দেশ সম্পর্কে অনেক কিছু শেখার আছে।

 

ফুটবল এক বিশ্ব বিনোদন- সেই বিনোদনকে নিজেদের নোংরা মানুষিকতা ও রাজনৈতিক আদর্শ থেকে দূরে রাখি -রাজনৈতিক দলীয় আবেগ দিয়ে বিশ্ব বিনোদনকে না দেখি।  আর্জেন্টিনা ব্রাজিলের জার্সি গায়ে দিলেই আপনি আর্জেন্টাইন বা ব্রাজিলিয়ান হয়ে যাচ্ছেন না। পারলে জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরী, তারিক কাজির জার্সি গায়ে জড়িয়ে অন্য দেশের খেলা দেখুন এতে দেশের প্রতি আপনার সাপোর্ট প্রতিষ্ঠা পাবে,খেলাধুলার আবেগ প্রতিষ্ঠা পাবে। আর এভাবে ফুটবল বিশ্বকাপ হয়ে উঠুক আমাদের প্রাণের উৎসব।এখান থেকে আমরা মাদকমুক্ত দেশ গড়ার প্রত্যয় ও অঙ্গীকার ব্যক্ত করি।

লেখক: লায়ন মাহফুজ রহমান
রাজনৈতিক বিশ্লেষকও সমাজকর্মী,
প্রবাসী পেশাজীবী সম্পাদক, কেন্দ্রীয় পেশাজীবী অধিকার পরিষদ (BPRC)
কনসালটেন্ট এজেন্ট ব্রিটিশ কাউন্সিল

স্থগিত হলো যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক

সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বৈঠক স্থগিত হয়েছে। সুইস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবার (১৯ জুন) দেশটির বুর্গেনস্টক রিসোর্টে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল, তা আর অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।

 

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র জানান, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের জন্য নির্ধারিত সফর বাতিল করেছেন।

 

এই বৈঠকে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে হওয়া সমঝোতা বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা ছিল।

 

তবে আলোচনার পরিকল্পনা এখনও চূড়ান্ত না হওয়ায় সফর ও বৈঠক-দুটিই আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো পরে নতুন তথ্য জানাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বহুল আলোচিত সমঝোতা স্মারক আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা সরাসরি উপস্থিত না হয়ে ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে ইলেকট্রনিক উপায়ে এই চুক্তিতে সই করেছেন।

 

সমঝোতা স্মারকে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার কথা বলা রয়েছে। পাশাপাশি ইরানের ওপর থেকে নির্দিষ্ট কিছু আর্থিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কথাও বলা হয়েছে।

 

বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েন করবে পাকিস্তান!

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও সাবমেরিন মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে পাকিস্তান। ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান নৌবাহিনীর নতুন ‘হাঙ্গর’ শ্রেণির সাবমেরিনগুলো বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় উপস্থিতি বজায় রাখার সক্ষমতা অর্জন করেছে।

 

ইন্ডিয়া টুডের তথ্যমতে, চলতি বছরের এপ্রিলে চীনে কমিশনপ্রাপ্ত হাঙ্গর শ্রেণির সাবমেরিনটি গত সপ্তাহে করাচিতে পৌঁছেছে। পাকিস্তান নৌবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এখন আরব সাগরের গণ্ডি পেরিয়ে ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগরে নিজেদের অপারেশনাল সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন। বহরের কমান্ডার কমোডর ওমর ফারুক জানিয়েছেন, পাকিস্তান তাদের নৌবহরে এ শ্রেণির মোট আটটি সাবমেরিন অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে, যা বঙ্গোপসাগরে তাদের কার্যকর উপস্থিতি নিশ্চিত করবে।

 

চীন থেকে পাকিস্তানে ফেরার পথে কলম্বো বন্দরে পাকিস্তানের ফ্রিগেট ‘পিএনএস তৈমুর’-এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কমোডর ওমর ফারুক সাবমেরিনটিকে ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে অভিহিত করেন। বিশ্লেষকদের মতে, তার এই বক্তব্য প্রমাণ করে যে ইসলামাবাদ এখন কেবল উপকূলীয় প্রতিরক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না। ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগরে বিস্তৃত উপস্থিতির মাধ্যমে পাকিস্তান নৌবাহিনী আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভারতের মুখোমুখি হতে আগ্রহী।

 

গত পাঁচ দশকে ভারতীয় নৌবাহিনী উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে। বর্তমানে তাদের হাতে রয়েছে পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন, দুটি বিমানবাহী রণতরী এবং উন্নত নজরদারি প্রযুক্তি। ভারতের সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই পদক্ষেপ বঙ্গোপসাগরের সামরিক ভারসাম্য রাতারাতি বদলে দেওয়ার মতো না হলেও, এটি ভারতের জন্য কৌশলগত অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

 

১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সাবমেরিন ‘পিএনএস হাঙ্গর’ কর্তৃক ভারতের যুদ্ধজাহাজ ‘আইএনএস খুকরি’ ডুবিয়ে দেওয়ার ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো সতর্ক করছে যে, এই নতুন সাবমেরিন মোতায়েন ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার নৌ-কৌশলগত প্রতিযোগিতাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।

 

মাদরাসায় রাখা ‘মেইড ইন পাকিস্তান লেখা রিভলবারটি কার, খতিয়ে দেখছে র‌্যাব

ঢাকার আশুলিয়ায় থানার একটি মাদরাসায় নির্মাণাধীন ওয়াশরুমের ভেতরে পাওয়া গেল মেইড ইন পাকিস্তান লেখা রিভলবার ও দুই রাউন্ড গুলি।

 

বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে আশুলিয়া থানার শ্রীপুর গণকবাড়ী এলাকায় অবস্থিত তাহফিজুল কুরআনিল কারিম ফাজিল মাদরাসা অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় এই আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে র‌্যাব।

 

তবে এই অস্ত্র কিভাবে এসেছে কে নিয়ে এসেছে এ বিষয়ে ২৪ ঘণ্টাতেও কোন তথ্য উদঘাটন করতে পারেনি আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা।

 

র‌্যাব জানায়, ওই মাদরাসায় মাদক মজুদ রয়েছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে  র‌্যাব-৪-এর সিপিসি-২, নবীনগর ক্যাম্পের একটি টহল দল সেখানে অভিযান চালায়। পরে মাদরাসা প্রাঙ্গণে অভিভাবকদের ওয়েটিং রুমের পাশের একটি নির্মাণাধীন ওয়াশরুমে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে ওয়াশরুমের টয়লেটের মেঝেতে কয়েকটি ইটের নিচে লুকিয়ে রাখা একটি ছেঁড়া শপিং ব্যাগের সন্ধান মেলে। সেই ব্যাগের ভেতর সবুজ পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় একটি রিভলবার এবং দুই রাউন্ড ২২ বোরের গুলি পাওয়া যায়।

 

র‍্যাব-৪, সিপিসি-২-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর আরমান হোসেন হৃদয় গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, উদ্ধারকৃত আট চেম্বারবিশিষ্ট সিলিন্ডারের রিভলবারটির ব্যারেল, ট্রিগার ও হ্যামারসহ সবকিছু অক্ষত রয়েছে। অস্ত্রটির গায়ে ইংরেজিতে ‘মেইড ইন পাকিস্তান’লেখা খোদাই করা রয়েছে। এছাড়া উদ্ধার হওয়া গুলির পেছনেও ইংরেজি অক্ষর ‘টি’ খোদাই করা ছিল।

 

তিনিবলেন, এই অস্ত্রের মূল উৎস কী এবং কারা এটি মাদরাসায় এনে লুকিয়ে রেখেছিল, তা উদ্‌ঘাটনে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম ও তদন্ত চলমান রয়েছে।

 

সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথ: ৫,৫০০ কোটির প্রকল্পে ব্যয় বেড়ে ১২,৫০০ কোটি

স্থবির হয়ে পড়া বগুড়া-সিরাজগঞ্জ নতুন ডুয়েলগেজ রেললাইন প্রকল্প গতি পেয়েছে। বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় থাকা প্রকল্পটির সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) রেলপথ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সংশোধিত ডিপিপিতে বাংলাদেশ রেলওয়ের এই প্রকল্পের খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা। ২০১৮ সালে একনেকে অনুমোদনের সময় প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫ হাজার ৫৭৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

 

 

 

আট বছরের ব্যবধানে প্রকল্প ব্যয় দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধির বিষয়ে প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্মাণসামগ্রী ও জমির মূল্যবৃদ্ধি, মার্কিন ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি ও প্রকল্পের পরিধি সম্প্রসারণের কারণে ব্যয় বেড়েছে।

 

 

 

বগুড়া-সিরাজগঞ্জ পথে নতুন এই ৭৬ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণ হলে এ পথে দূরত্ব কমবে ১১৪ কিলোমিটার। এতে যাত্রার সময় বাঁচবে প্রায় তিন ঘণ্টা। প্রকল্প সূত্র বলেছে, প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম গতি পেয়েছে। বগুড়া ও সিরাজগঞ্জে জমি বুঝে নেওয়ার কাজ চলছে।

 

 

 

নতুন এই ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ রেলওয়ে। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। তখন এই প্রকল্পে ভারতীয় ঋণে অর্থায়ন করার কথা ছিল। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছরের মার্চে বিগত অন্তর্বর্তী সরকার এই প্রকল্পে ভারতীয় অর্থায়ন বাতিল করে। এতে প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল।

 

 

 

বর্তমানে প্রকল্পটির অর্থায়নে এগিয়ে এসেছে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি)। আগে প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ২০১৮ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল। সংশোধিত প্রস্তাবে মেয়াদ আরও চার বছর বাড়িয়ে ২০৩০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। সংশোধিত ডিপিপি ১৪ জুন রেলপথ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে প্রকল্প দপ্তর। মন্ত্রণালয় থেকে ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে যাবে। সবকিছু ঠিক থাকলে সংশোধিত ডিপিপি এক মাসের মধ্যে একনেক সভায় উঠবে বলে জানিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সূত্র।

 

 

 

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, কাজের পরিধি বাড়ার পাশাপাশি জমির দাম, নির্মাণসামগ্রীর দাম, ডলারের বিনিময় হার অনেক বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্প ব্যয়ও বেড়েছে। জমির বর্তমান বাজারমূল্য বৃদ্ধি এবং পুনর্বাসন ব্যয় বাড়ায় ভূমি অধিগ্রহণ খাতে ব্যয় উল্লেখযোগ্য বেড়েছে। সর্বশেষ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রতিবেদনে ইঞ্জিনিয়ারিং চাহিদার পরিবর্তন, রেল ফ্লাইওভার অন্তর্ভুক্তকরণ এবং বিভিন্ন সম্প্রসারণমূলক কাজের সুপারিশ করা হয়েছে।

 

 

 

এদিকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ১২ জুন বগুড়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এই প্রকল্পের রুট পরিবর্তনসহ বিভিন্ন প্রস্তাবের কথা জানান।

 

 

 

জানতে চাইলে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, প্রকল্পটির নকশা ও অ্যালাইনমেন্ট চূড়ান্ত করা হয়েছে। শিগগির ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হবে এবং আগামী এক মাসের মধ্যে এটি একনেকে উপস্থাপন করা হবে। এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রীর প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা, জনস্বার্থসহ সব দিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যে প্রস্তাব প্রকল্প ও জনগণের জন্য সবচেয়ে উপযোগী বলে বিবেচিত হবে, সেটিই বাস্তবায়ন করা হবে।

 

 

 

মূল ডিপিপিতে ৯৬০ একর জমি অধিগ্রহণের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৯২১ কোটি টাকা। তবে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান চূড়ান্ত অ্যালাইনমেন্ট নির্ধারণ ও ভূমি অধিগ্রহণ পরিকল্পনা প্রণয়নের পর প্রয়োজনীয় জমির পরিমাণ দাঁড়ায় ৯০১ দশমিক ৭৭ একর। এরপর বগুড়া ও সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসকদের চূড়ান্ত ব্যয় প্রাক্কলনে ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৪৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ জমির মূল্যবৃদ্ধির কারণে শুধু এ খাতেই ব্যয় বেড়েছে ৩২৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা।

 

 

 

প্রকল্প সূত্র জানায়, ভূমি অধিগ্রহণ বাবদ প্রয়োজনীয় অর্থ ইতিমধ্যে দুই জেলার প্রশাসকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

 

 

দূরত্ব কমবে ১১৪ কিলোমিটার:
সংশোধিত ডিপিপি সূত্রে জানা যায়, এই প্রকল্পের আওতায় বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত সরাসরি প্রায় ৭৬ কিলোমিটার নতুন ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ করা হবে। বগুড়া সদর, কাহালু, শাজাহানপুর, শেরপুর, রায়গঞ্জ, কামারখন্দ ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।

 

 

 

বর্তমানে বগুড়া-সিরাজগঞ্জ পথে ট্রেন চলাচলের জন্য প্রায় ১৯০ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। ট্রেনগুলোকে সান্তাহার, নাটোর ও পাবনার ঈশ্বরদী হয়ে অতিরিক্ত পথ অতিক্রম করতে হয়। এতে সময় বেশি লাগে, পরিচালন ব্যয়ও বেশি হয়। নতুন রেললাইন চালু হলে এ পথে দূরত্ব ১১৪ কিলোমিটার কমবে এবং যাত্রার সময় প্রায় তিন ঘণ্টা সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের দ্রুত, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী রেল যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে বলে আশা করছে রেলওয়ে।

 

 

 

প্রকল্পের আওতায় ৮৬ দশমিক ৫১ কিলোমিটার মূল রেললাইন এবং ৩৭ কিলোমিটার লুপলাইন নির্মাণ করা হবে। করতোয়া নদীর ওপর ২৪৬ মিটার এবং ইছামতী নদীর ওপর ২০৫ মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি বড় সেতুসহ মোট ১২১টি ছোট-বড় সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের ওপর একটি রেল ওভারপাস এবং ঢাকা-নাটোর মহাসড়কের ওপর একটি রোড ওভারপাস নির্মাণ করা হবে।

 

 

 

এই পথে মোট ১১টি স্টেশন থাকবে। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জ জংশন, কৃষ্ণদিয়া, রায়গঞ্জ, চান্দাইকোনা, সনকা, শেরপুর, আরিয়া বাজার ও রাণীরহাটে নতুন আটটি স্টেশন নির্মাণ করা হবে। অন্যদিকে বগুড়া, কাহালু ও সদানন্দপুর স্টেশন পুনর্নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া রাণীরহাট এলাকায় একটি ‘ওয়াই’ আকৃতির রেললাইন নির্মাণ করা হবে, যার একটি শাখা বগুড়ার দিকে এবং অন্যটি কাহালুর দিকে যাবে।

 

 

 

প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক মো. আবু জাফর মিঞা আজকের পত্রিকাকে বলেন, সংশোধিত ডিপিপি রেলপথ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ডিপিপি অনুমোদিত হলে দরপত্র আহ্বানসহ পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মূল নির্মাণকাজ শুরু করতে আরও প্রায় ৯ মাস লাগতে পারে। আন্তর্জাতিক মানের চুক্তিপত্র করা হয়েছে, যাতে প্রয়োজনীয় সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ২০১৮ সালে যখন ডিপিপি করা হয়েছিল, তখনকার দামের ভিত্তিতে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে নির্মাণসামগ্রীসহ প্রায় সবকিছুর দাম, বিশেষ করে ডলারের বিনিময় হার বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্প ব্যয়ও বেড়েছে।

 

 

 

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারের উচ্চপর্যায়ের আগ্রহের কারণে প্রকল্পটির বিভিন্ন প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়ায় গতি এসেছে। অগ্রাধিকারের তালিকায় থাকা প্রকল্পটিকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, রেললাইনটি অনেক আগেই নির্মাণ হওয়া উচিত ছিল। রাজনৈতিক কারণে তা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘদিন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত না হওয়ায় এখন অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রয়োজন হচ্ছে। সময়ের ব্যবধানে জমি অধিগ্রহণ, নির্মাণসামগ্রী ও অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্প ব্যয়ও বেড়েছে। তবে শুরু থেকে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে নির্ধারিত সময় ও ব্যয়ের মধ্যে কাজ শেষ করা যায়।

সূত্র: আজকের পত্রিকা

 

মার্কিন-ইরান সমঝোতার মধ্যেও ইসরায়েলি হামলা, লেবাননে নিহত ১৬

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল নাবাতিয়েহ জেলায় ইসরায়েলি বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া বেশ কয়েকজন আহত ও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায় লেবাননে যুদ্ধবিরতির উল্লেখ থাকলেও ইসরায়েল হামলা চালাল।

 

 

 

শুক্রবার সকালে আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যরাতের পর শুরু হওয়া হামলাটি ছিল সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম তীব্র ইসরায়েলি অভিযান। এ সময় একাধিক আবাসিক বাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

 

 

 

নাবাতিয়েহ শহর ছাড়াও কফার জৌজ, কফার রেমান এবং জেবদিনসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী গোলাবর্ষণ করে। পরে কফার তিবনিত ও রাইহান পাহাড়ি এলাকাতেও ধারাবাহিক বিমান হামলা চালানো হয়।

 

 

হামলায় নাবাতিয়েহ ও হারুফ এলাকায় অন্তত আটজন নিহত হন। এছাড়া আল-শারকিয়া ও দৌইরের মধ্যবর্তী একটি বাড়িতে হামলায় চারজন প্রাণ হারান। কফার সির শহরে একটি পৃথক হামলায় আরও তিনজন নিহত হয়েছেন।

 

এদিকে দৌইর পৌরসভা ভবনের কাছে একটি মোটরসাইকেল লক্ষ্য করে চালানো ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় একজন নিহত এবং আরেকজন আহত হয়েছেন।

 

 

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

৫ শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১৭ শিক্ষক-কর্মচারী!

পটুয়াখালীর বাউফলের পূর্ব ইন্দ্রকুল ফিরোজা কামাল বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় ৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য মোট ১৭ জন শিক্ষক ও কর্মচারী রয়েছে। এ মাদ্রাসায় প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের অনুমোদন রয়েছে।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বেলা ১১টায় সরেজমিনে মাদ্রাসায় দেখা যায়, পঞ্চম শ্রেণির ওপরে কোনো শিক্ষার্থী নেই। উপস্থিত পাঁচ শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিতে একজন করে এবং চতুর্থ শ্রেণিতে দুইজন রয়েছে।

 

 

 

মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানে ১৩ জন শিক্ষক ও চারজন কর্মচারী কর্মরত আছেন। তবে পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক ও কর্মচারী মিলিয়ে সাতজন। একই কক্ষে ভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে পাঠদান করতে দেখা যায়। আবার কয়েকজন শিক্ষককে একটি কক্ষে বসে গল্প করতেও দেখা গেছে। এ সময় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির কোনো হাজিরা খাতাও পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯৯৪ সালে স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মোতালেব মিয়া মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরে ২০০৪ সালে এটি এমপিওভুক্ত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তিনি মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে তার পুত্রবধূ মাহফুজা আক্তার মাদ্রাসার সুপার, মেয়ে নুরজাহার রাঢ়ি ইবতেদায়ি শিক্ষক এবং দুই ছেলে খাইরুল ইসলাম অফিস সহকারী ও সিদ্দিকুর রহমান নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষক জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী না থাকায় স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা বলছেন, অন্য একটি এমপিওবিহীন প্রতিষ্ঠানের কিছু শিক্ষার্থী এই মাদ্রাসার মাধ্যমে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। এ ছাড়া শাপলাখালী এলাকার একটি প্রতিষ্ঠানে সম্মানীর ভিত্তিতে শিক্ষক পাঠানো হয় এবং সেখানকার কিছু শিক্ষার্থীও এ মাদ্রাসার অধীনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।

 

 

মাদ্রাসার সুপার মাহফুজা আক্তার বলেছেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতা ও বর্ষাকালে রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা এ মাদ্রাসায় ভর্তি হতে আগ্রহ দেখায় না। ফলে পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি আরও জানান, এমপিওভুক্ত নয় এমন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের তাদের মাদ্রাসার অধীনে নিবন্ধন করিয়ে দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়।

 

আগস্টে সারা দেশে শোডাউনের পরিকল্পনা আ.লীগের, ২৪টি কমিটি গঠন

আসন্ন আগস্ট মাসে ঢাকাসহ সারা দেশে বড় ধরনের শোডাউন করার চিন্তা করছে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মী। এজন্য নানা কৌশলে তারা সংঘটিত ও সক্রিয় হচ্ছে।

 

 

 

নিষিদ্ধ থাকার পরও এরই মধ্যে জেলা-উপজেলা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন কমিটি দিয়েছে ছাত্রলীগ। সিরাজগঞ্জ, খাগড়াছড়ি, শেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, কিশোরগঞ্জ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা কলেজসহ প্রায় দুই ডজন কমিটি গঠন করেছে তারা।

 

 

 

এদিকে গত ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকে মাঠের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা চাঙ্গাভাব দেখা যায়। নির্বাচনের পরপরই আত্মগোপনে থাকা মধ্যম সারির কিছু নেতা প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছেন। বিদেশ থেকেও কিছু নেতা দেশে ফিরেছেন। তবে এসব নেতা এলাকায় চুপচাপ অবস্থান করছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছে, ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপপ্রচার সামনে আরও বাড়তে পারে। কারণ অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে বর্তমানে সরকারের কেউ প্রকাশ্যে কথা বলছে না।

 

এ বিষয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী কালবেলাকে বলেন, শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধান টার্গেট ছিল ড. ইউনূস। কারণ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পর ড. ইউনূস প্রথম ভারতের সঙ্গে চোখে চোখ রেখে কথা বলেছেন। ক্ষমতায় এসে তিনি ভারতীয় আধিপত্যবাদের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে চেয়েছিলেন। বাংলাদেশকে ডিস্টার্ব করলে ভারতের সেভেন সিস্টার ভেঙে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল ড. ইউনূস।

 

 

এ ছাড়া বাংলাদেশে সংস্কার আনা, মার্কিন চুক্তি ও দেশে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া থাকুক- এটা ভারত চায় না। এসব কারণে ড. ইউনূস ভারতের টার্গেটে পরিণত হয়েছে। আর ভারতের টার্গেট মানেই আওয়ামী লীগের টার্গেট। মূলত এদেশে ভারতের অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন করে আওয়ামী লীগ। এ অবস্থায় ড. ইউনূসকে নিয়ে অপপ্রচার ঠেকাতে ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিকে আবার একজোট হওয়া উচিত।

 

 

 

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম কালবেলাকে বলেন, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি। তাকে হেয়প্রতিপন্ন করলে ব্যক্তির চেয়ে দেশের সুনাম বেশি নষ্ট করা হবে। আমার নেতিবাচক কোনো সমালোচনাকে সমর্থন করি না। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ থাকবে, তবে যুক্তিতর্ক দিয়ে সমালোচনা করতে হবে। গায়ের জোরে লাগামহীন সমালোচনা করা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য নয়।

 

 

 

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন কালবেলাকে বলেন, আওয়ামী লীগ তার রাজনৈতিক কৌশলে ফেরার চেষ্টা করবে; অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের দুর্নীতিসহ নানা বিষয়ে তারা রাজনীতি করার চেষ্টা করবে; দেশে ঢোকার সুযোগ কাজে লাগাতে চাইবে- এটাই স্বাভাবিক। তবে যাই করতে হবে, আইনি কাঠামোর মাধ্যমে। কোনো হঠকারিতা দেশের মানুষ আর মেনে নেবে না।

 

সংসদে প্রবেশে মাথা নত করার প্রথা বাতিলে স্পিকারকে অভিনন্দন মুহিউদ্দীনের

সংসদে প্রবেশের সময় মাথা নত করার প্রথা বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্তের জন্য স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

 

 

মুহিউদ্দীন রাব্বানী বলেন, ‘মহান আল্লাহ তাআলার সামনে সিজদা ও অবনত হওয়াই একজন মুসলমানের ঈমানি চেতনার দাবি। তাই জাতীয় সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে মাথা নত করার প্রথা বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত দেশের ধর্মপ্রাণ জনগণের অনুভূতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং প্রশংসার দাবিদার।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ধর্মীয় বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে গৃহীত এ সিদ্ধান্ত জাতীয় স্বকীয়তা ও আত্মপরিচয়কে আরও সুদৃঢ় করবে। দীর্ঘদিনের একটি বিতর্কিত প্রথার অবসান ঘটিয়ে স্পিকার দূরদর্শিতা, সাহসিকতা ও জনগণের আবেগ-অনুভূতির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের পরিচয় দিয়েছেন।’

মাওলানা রাব্বানী আশা প্রকাশ করেন, রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ে বিদ্যমান এমন সব অনাকাঙ্ক্ষিত ও জনগণের বিশ্বাস-পরিপন্থী প্রথা পর্যালোচনা করে দেশীয় সংস্কৃতি, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও জাতীয় চেতনাসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 

তিনি স্পিকারের জন্য মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে দোয়া করেন এবং দেশের সর্বোচ্চ আইনসভা যেন ন্যায়, ইনসাফ ও জনগণের কল্যাণে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে, সে কামনা করেন।

 

 

নীলফামারীতে ডিবি পুলিশের অভিযানে ৫ অনলাইন জুয়ারি গ্রেপ্তার

নীলফামারীতে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে অনলাইন জুয়া ও বেটিং কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে পাঁচটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়, যেখানে বিভিন্ন অনলাইন ক্যাসিনো ও বেটিং অ্যাপের ব্যবহার সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ জুন রাতে পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খাঁনের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মতলুবর রহমানের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নীলফামারী সদর উপজেলার চাপড়া সরমজানি এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— মোরসালিন ইসলাম (২৫), রাসেল ইসলাম (২১), মারুফ ইসলাম (২৩), রুবেল ইসলাম (২০) ও লাজু হোসাইন ওরফে বাবু (৩৩)। তাদের মধ্যে দুজন নীলফামারী সদর উপজেলার এবং তিনজন কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিদের তল্লাশির সময় উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনগুলো ঘটনাস্থলেই পর্যালোচনা করা হয়। এতে বিভিন্ন অনলাইন ক্যাসিনো, বেটিং অ্যাপ্লিকেশন এবং সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের উপস্থিতি পাওয়া যায়। পরে মোবাইল ফোনগুলো জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনোভিত্তিক বেটিং কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে দাবি পুলিশের।
এ ঘটনায় নীলফামারী সদর থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা রুজুর পর গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

বিএনপির ২৯ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করল জামায়াত

নেত্রকোনার পূর্বধলায় উপজেলা বিএনপির ২৯ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

 

 

 

মঙ্গলবার (১৬ জুন) নেত্রকোনা আদালতে উপজেলার হোগলা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি এমদাদুল হক আকন্দ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

 

 

 

মামলা সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২০ মে উপজেলা পরিষদ হলরুমে কোরবানির পশুর হাটের ইজারা সংক্রান্ত ডাক (নিলাম) চলাকালে প্রথম দফায় হামলার ঘটনা ঘটে। এর জেরে একই দিন বিকেলে আগিয়া বাজার এলাকায় দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে মারধর করে গুরুতর আহত করেন। আহতদের মধ্যে একজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহে পাঠানো হয়।

বাদীপক্ষের দাবি, হামলার সময় কয়েকটি দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। পাশাপাশি একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

 

আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পূর্বধলা থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে বাদীপক্ষ জানিয়েছে।

 

 

 

এ বিষয়ে পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মামলাটির বিষয়ে এখনো আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নথিপত্র পাইনি। আদালতের নির্দেশনা বা সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র থানায় পৌঁছলে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 

 

উল্লেখ্য, গত ২০ মে অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা ডাককে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ২৫ মে পূর্বধলা থানায় জামায়াতের নায়েবে আমির ও এক ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন আগিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. উমর শরীফ।

 

বিশ্বকাপের পাওয়ার র‌্যাঙ্কিংয়ে আর্জেন্টিনার অবস্থান কোথায়?

যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে প্রতিটি দলই অন্তত একটি করে ম্যাচ খেলেছে। প্রথম রাউন্ড শেষে কাতার বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং রানার্সআপ ফ্রান্স দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। একই সঙ্গে দাপুটে ফুটবল খেলেছে ইংল্যান্ড।

 

 

 

অন্যদিকে টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট স্পেন, নেদারল্যান্ড ও পর্তুগাল প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। জয়হীন শুরু করেছে ব্রাজিলও।

 

 

 

গ্রুপ পর্বের প্রথম রাউন্ড শেষে ফুটবলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গোল তাদের বিশ্বকাপ পাওয়ার র‌্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে। সেখানে শীর্ষস্থান দখল করেছে আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে ৩-০ গোলের জয় দিয়ে তারা বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করেছে।

 

 

দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপ্পের অসাধারণ নৈপুণ্যে দলটি সহজ জয় তুলে নিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছে।

গ্রুপ পর্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচগুলোর একটি ছিল ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়ার লড়াই। হেরিকেনের জোড়া গোলে ৪-২ ব্যবধানে জয় পাওয়া ইংল্যান্ড পাওয়ার র‌্যাঙ্কিংয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে।

 

 

কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করলেও চতুর্থ স্থানে আছে স্পেন। বিশ্বকাপ শুরুর আগে খুব বেশি আলোচনায় না থাকা জার্মানি ৭-১ গোলের বড় জয় দিয়ে উঠে এসেছে পঞ্চম স্থানে।

 

 

 

ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে জয় না পেলেও ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে পর্তুগাল সমতা দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা ব্রাজিল আছে সপ্তম স্থানে।

 

 

 

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের সেরা দশে জায়গা করে নেওয়া আফ্রিকান প্রতিনিধি মরক্কো রয়েছে অষ্টম স্থানে। আর আর্লিং হালান্ডের নরওয়ে নবম স্থানে উঠে এসেছে, ফলে নেদারল্যান্ড নেমে গেছে দশে। ডাচদের রুখে দেওয়া জাপান রয়েছে ১১ নম্বরে।

 

 

 

এদিকে বেলজিয়াম নেমে গেছে ১২তম স্থানে। স্বাগতিক দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো যথাক্রমে ১৩ ও ১৪ নম্বরে অবস্থান করছে। আর গত দুই বিশ্বকাপের চমকপ্রদ দল ক্রোয়েশিয়া নেমে গেছে ২০তম স্থানে।

 

রায়গঞ্জে কমিউনিটি পুলিশিং উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ধামাইনগর ইউনিয়নের ক্ষিরতলা বাজারে রায়গঞ্জ থানার উদ্যোগে কমিউনিটি পুলিশিং ও উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং মাদক, জুয়া, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং, ধর্ষণ, সন্ত্রাসবাদ, কিশোর গ্যাং ও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেল ৫টায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ধামাইনগর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. কাজী মুদ্দীন কাজী।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসানুজ্জামান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মতিনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য সদস্য।
অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ধামাইনগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নিপেন্দ্র নাথ মাহাতো, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র মাহাতো, ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মলিন চন্দ্র মাহাতো এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসানুজ্জামান বলেন, সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মাদক, সন্ত্রাস, কিশোর অপরাধ এবং সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে সকলকে সচেতন ও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
বৈঠকে বক্তারা বলেন, নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও জোরদার করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। এ ধরনের সচেতনতামূলক উদ্যোগ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নীলফামারীতে ভিসা ও থাই লটারি প্রতারণা চক্রের দুই সদস্য গ্রেপ্তার

নীলফামারীর সৈয়দপুরে ভিসা ও থাই লটারির নামে প্রতারণার অভিযোগে একটি চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে চারটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও একটি কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভ জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৭ জুন) জেলা পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খাঁনের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সৈয়দপুর থানার চিনির মসজিদ সংলগ্ন ইসলামবাগ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মো. হোসেন রকি (২৫) ও মো. সাহেব হোসেন (২৩) নামে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও কম্পিউটার ডিভাইস পর্যালোচনা করে ভিসা ও থাই লটারির নামে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন এডিটকৃত কাগজপত্র, ভুয়া বিদেশি নম্বর দিয়ে নিবন্ধিত হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো, ইমো বেটা ও ইমো এইচডি অ্যাকাউন্টের তথ্য পাওয়া যায়। এছাড়া অনলাইন ক্যাসিনো ও জুয়া সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অ্যাপসও শনাক্ত করা হয়েছে।
ডিবি পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা এসব অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে আসছিল।
এ ঘটনায় সৈয়দপুর থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা রুজুর পর গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সাইবার অপরাধ ও অনলাইন প্রতারণা দমনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।