সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo রায়গঞ্জ প্রেসক্লাবের প্রয়াত সাংবাদিক আশরাফ আলীর স্মরণে দোয়া মাহফিল Logo বিএনপি ক্ষমতায় আছে জোরজবরদস্তির মাধ্যমে: নাহিদ ইসলাম Logo হাসিনা একজনের ঘাড়ে ৩৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ রেখে গেছেন: টুকু Logo হরমুজ প্রণালিতে ভারতসহ চার দেশকে কেন ছাড় দিচ্ছে ইরান? Logo ১৭ বছর বয়সী ফুটবলারসহ ইতালির স্কোয়াড ঘোষণা Logo পর্তুগালের শেষবার মাঠে নামার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন রোনালদো Logo ২৬৮ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ, হাল ধরেছেন মুশফিক-হৃদয় Logo আলট্রাসনোগ্রামে যমজ, সিজারের পর মিলল একটি নবজাতক; থানায় এজাহার Logo ডেমোক্র্যাটদের জয়ে অবসানের পথে ইরান যুদ্ধ, বদলাতে পারে ইসরায়েল নীতি Logo সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুতে ৫ লাখ, আহতদের ক্ষতিপূরণ ১ লাখ টাকা

মাদক সেবনের আসর থেকে পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৪ জন আটক

মাদকের আসর থেকে গ্রেপ্তারকৃতরা। ছবি: সংগৃহীত

বরিশাল সদরে মাদকের আসর থেকে পুলিশের এক এএসআইসহ চারজনকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। তাদের মধ্যে একজন নারীও রয়েছে।

 

 

 

 

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে সদর উপজেলার রায়পাশা কড়াপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ কড়াপুর এলাকায় মিরাজুল ইসলামের বাড়ি থেকে তাদের আটক করা হয়। এসময় মাদক না পাওয়া গেলেও ওই বাড়ি থেকে মাদকসেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

 

 

 

 

আটককৃতরা হলেন, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ও খুলনা নগরীর শেরে বাংলা রোডের মো. সাখাওয়াত হোসেন শিকদারের ছেলে দেলোয়ার হোসেন (৩৮), বাগেরহাট জেলার ফকিরহাটের ভট্টখামার নোয়াপাড়া এলাকার আবু সাঈদ মোল্লার ছেলে নাহিদ হাসান (২৬), বরিশাল সদর উপজেলার দক্ষিণ কড়াপুর এলাকার মৃত এম এ বারির ছেলে মো. মিরাজুল ইসলাম (৩৪) ও বরিশাল নগরীর কাউনিয়া থানাধীন পলাশপুর এলাকার হেমায়েত গাজীর ছেলে ফাতেমা আক্তার নুরজাত (৩০)।

 

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বরিশাল জেলা গোয়েন্দা কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন দক্ষিণ কড়াপুর এলাকায় মিরাজ হাওলাদারের বাড়িতে মাদক কেনাবেচা, সেবন ও আসর বসে।

এমন তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টায় ওই বাড়িটি ঘেরাও করা হয়। পরে স্থানীয়দের নিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা ওই বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করে। তবে ঘরের ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে রাখায় অন্তত ২০ মিনিট বাড়িয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় তাদের।

 

 

 

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা জানান, ঘরের ভেতরে প্রবেশ করার পর চারজনকে আটক করা হয় এবং সেখান থেকে বিপুল মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় আটককৃতদের মধ্যে দেলোয়ার হোসেন নিজেকে পুলিশ সদস্য পরিচয় দেয়। বিষয়টি এয়ারপোর্ট থানা পুলিশকে অবহিত করা হলে, তারা দেলোয়ার হোসেনের পরিচয় নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থলে যেহেতু মাদকদ্রব্য পাইনি, শুধু মাদক সেবনের সরঞ্জাম পেয়েছি- তাই পুলিশ সদস্য দেলোয়ার হোসেনকে এয়ারপোর্ট থানায় তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ওই পুলিশ সদস্য ওখানে কেন গিয়েছেন সেটি তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা খতিয়ে দেখবেন। আমরা তার ডোপ টেস্ট করার জন্য সুপারিশ করেছি।’

 

 

 

 

জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশ সদস্য দেলোয়ার হোসেন ব্যতিত বাকী তিনজনকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের ডোপ টেস্ট করা হয়েছে। রিপোর্ট পেলে নিয়মানুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

 

 

 

এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, এএসআই দেলোয়ার হোসেন ছুটিতে রয়েছে। তার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তাদের নির্দেশনা পেলে আইন ও চাকরিবিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রায়গঞ্জ প্রেসক্লাবের প্রয়াত সাংবাদিক আশরাফ আলীর স্মরণে দোয়া মাহফিল

মাদক সেবনের আসর থেকে পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৪ জন আটক

আপডেট টাইম : ০৬:৩৬:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

বরিশাল সদরে মাদকের আসর থেকে পুলিশের এক এএসআইসহ চারজনকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। তাদের মধ্যে একজন নারীও রয়েছে।

 

 

 

 

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে সদর উপজেলার রায়পাশা কড়াপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ কড়াপুর এলাকায় মিরাজুল ইসলামের বাড়ি থেকে তাদের আটক করা হয়। এসময় মাদক না পাওয়া গেলেও ওই বাড়ি থেকে মাদকসেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

 

 

 

 

আটককৃতরা হলেন, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ও খুলনা নগরীর শেরে বাংলা রোডের মো. সাখাওয়াত হোসেন শিকদারের ছেলে দেলোয়ার হোসেন (৩৮), বাগেরহাট জেলার ফকিরহাটের ভট্টখামার নোয়াপাড়া এলাকার আবু সাঈদ মোল্লার ছেলে নাহিদ হাসান (২৬), বরিশাল সদর উপজেলার দক্ষিণ কড়াপুর এলাকার মৃত এম এ বারির ছেলে মো. মিরাজুল ইসলাম (৩৪) ও বরিশাল নগরীর কাউনিয়া থানাধীন পলাশপুর এলাকার হেমায়েত গাজীর ছেলে ফাতেমা আক্তার নুরজাত (৩০)।

 

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বরিশাল জেলা গোয়েন্দা কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন দক্ষিণ কড়াপুর এলাকায় মিরাজ হাওলাদারের বাড়িতে মাদক কেনাবেচা, সেবন ও আসর বসে।

এমন তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টায় ওই বাড়িটি ঘেরাও করা হয়। পরে স্থানীয়দের নিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা ওই বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করে। তবে ঘরের ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে রাখায় অন্তত ২০ মিনিট বাড়িয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় তাদের।

 

 

 

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা জানান, ঘরের ভেতরে প্রবেশ করার পর চারজনকে আটক করা হয় এবং সেখান থেকে বিপুল মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় আটককৃতদের মধ্যে দেলোয়ার হোসেন নিজেকে পুলিশ সদস্য পরিচয় দেয়। বিষয়টি এয়ারপোর্ট থানা পুলিশকে অবহিত করা হলে, তারা দেলোয়ার হোসেনের পরিচয় নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থলে যেহেতু মাদকদ্রব্য পাইনি, শুধু মাদক সেবনের সরঞ্জাম পেয়েছি- তাই পুলিশ সদস্য দেলোয়ার হোসেনকে এয়ারপোর্ট থানায় তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ওই পুলিশ সদস্য ওখানে কেন গিয়েছেন সেটি তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা খতিয়ে দেখবেন। আমরা তার ডোপ টেস্ট করার জন্য সুপারিশ করেছি।’

 

 

 

 

জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশ সদস্য দেলোয়ার হোসেন ব্যতিত বাকী তিনজনকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের ডোপ টেস্ট করা হয়েছে। রিপোর্ট পেলে নিয়মানুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

 

 

 

এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, এএসআই দেলোয়ার হোসেন ছুটিতে রয়েছে। তার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তাদের নির্দেশনা পেলে আইন ও চাকরিবিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।