নোয়াখালীর সেনবাগে রংপুর থেকে গরু কিনে ট্রাকযোগে ফেরার পথে ডাকাত দলের হামলায় মো. রাকিব (৩০) নামে এক গরু ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ডাকাত দলের সদস্য সন্দেহে আশাদুল (২৮) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে সেনবাগ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন তাঁর ব্যবসায়িক সহযোগী অলি উল্লাহ।
নিহত রাকিব সেনবাগ উপজেলার ১০ নম্বর ইয়ারপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইয়ারপুর গ্রামের মনির উদ্দিন পণ্ডিত বাড়ি (প্রকাশ শেখ আহম্মদ মিয়ার বাড়ি) এলাকার সরাফত আলীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ অক্টোবর রংপুরের কাউনিয়া উপজেলা থেকে রাকিব ও তাঁর ব্যবসায়িক সহযোগী অলি উল্লাহ গরু কিনে ট্রাকযোগে সেনবাগের উদ্দেশে রওনা হন। পথে তাঁদের পূর্বপরিচিত রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার আমজাদ হোসেনের ছেলে আশাদুল (২৮) ও তাঁর ভগ্নিপতি সোহেল সেনবাগে যাওয়ার কথা বলে ওই ট্রাকে ওঠেন। এ সময় সোহেল ও রাকিব ট্রাকের পেছনে গরুর সঙ্গে অবস্থান করেন। অন্যরা ছিলেন চালকের কেবিনে।
ট্রাকটি সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল অতিক্রম করে গাজীপুর এলাকায় পৌঁছালে যাত্রাবিরতির জন্য থামানো হয়। এ সময় চা-নাশতা খাওয়ার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে রাকিব ও সোহেলকে ডাকাডাকি করা হলেও তাঁদের কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সোহেল কৌশলে পালিয়ে যান। তবে রাকিবের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে আশাদুলকে আটক করে সেনবাগে নিয়ে আসেন অলি উল্লাহ। পরে তাঁকে সেনবাগ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
অন্যদিকে, গাজীপুর হাইওয়ে পুলিশ কোনাবাড়ী এলাকা থেকে রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্ত শেষে বেওয়ারিশ হিসেবে মরদেহটি দাফন করা হয় বলে জানা গেছে।
রোববার (১ নভেম্বর) রাকিবের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তাঁর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত, মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজনরা।

মো. ইসমাইল হোসেন, নোয়াখালী ব্যুরো প্রধান। জনতার কণ্ঠ.কম। 



















