সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

স্বাস্থ্যসেবা ও আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে গজারিয়া সচেতন সমাজের মতবিনিময় সভা

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় স্বাস্থ্যসেবা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং গজারিয়া থানায় পৃথক মতবিনিময় সভা করেছে সামাজিক সংগঠন গজারিয়া সচেতন সমাজ

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে গজারিয়া সচেতন সমাজের একটি প্রতিনিধি দল প্রথমে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করে। পরবর্তীতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএস কার্যালয়ে ‘গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিদ্যমান সমস্যা ও উত্তরণ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শারমিন আক্তার তিথী, গজারিয়া সচেতন সমাজের সভাপতি রুহুল আমিন খান, সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার দিদার আলম, সিনেট বোর্ড সদস্য প্রকৌশলী মামুন শরীফ, এবাদুল হক, ইউসুফ আলী দেওয়ান, তোফাজ্জল হোসেন সরকার, সহ-সভাপতি শেখ নজরুল ইসলাম ও আ. জাব্বার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রাসেল, সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নূরে আলম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সারোয়ার খান, কোষাধ্যক্ষ ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ মো. শাকিল, কার্যনির্বাহী সদস্য আমজাদ হোসেন, সদস্য আল আমিনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

পরে প্রতিনিধি দলটি উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক ও সন্ত্রাস দমন, ইভটিজিং প্রতিরোধ এবং সামাজিক অবক্ষয় রোধে করণীয় বিষয়ে গজারিয়া থানা অফিসার ইনচার্জের কার্যালয়ে মতবিনিময় সভা করে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ গজারিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল এসপি) ইমরান আহাম্মেদ পিপিএম, গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসান আলী, ওসি (তদন্ত) সাব্বির হোসেন এবং গজারিয়া সচেতন সমাজের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে বাধ্যতামূলক হচ্ছে কারিগরি শিক্ষা

ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে পর্যায়ক্রমে সব শিক্ষার্থীর জন্য কারিগরি শিক্ষা চালুর ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

 

 

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় তিনি এ ঘোষণা দেন।

 

 

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে একটি দক্ষতাভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে পর্যায়ক্রমে সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা চালু করা হবে। যাতে প্রতিটি শিক্ষার্থী কর্মবাজার-উপযোগী অন্তত একটি দক্ষতা-কৃষি, আইসিটি, বিদ্যুৎ, ইলেকট্রনিক্স, গ্রাফিক ডিজাইন, পর্যটন, স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ ও সৃজনশীল শিল্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের সুযোগ পায়।

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বেড়েছে ৪৯ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে নতুন বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা, যা জিডিপির ২ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৮৭ হাজার ২০৬ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

বিএনপি সরকারের প্রথম এই বাজেটের শিরোনাম দেওয়া হয়েছে–‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’। এই বক্তৃতা বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমানও উপস্থিত রয়েছেন।

 

 

আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪৬ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে এই বরাদ্দের পরিমাণ ৩৫ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা হলেও সংশোধিত বাজেটে তা কমে ৩১ হাজার ৭১৮ কোটিতে দাঁড়ায়।

 

 

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে আগামী অর্থবছরে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫৭ হাজার ৩০১ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে এই বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ৪৭ হাজার ৫৬৩ কোটি টাকা। পরে সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ কমে দাঁড়ায় ৪১ হাজার ৭৫৩ কোটি টাকা।

 

 

একই মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে আগামী অর্থবছরে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৮ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা, চলতি অর্থবছরে যা ছিল ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ কমিয়ে ১২ হাজার ৩৯৬ কোটি করা হয়।

 

 

মাত্র ১০ টাকার জেরে আয়েশা হত্যাকাণ্ড, ধরা পড়ল প্রধান আসামি

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় মাত্র ১০ টাকা পাওনা নিয়ে সৃষ্ট তুচ্ছ বিরোধের জেরে সংঘটিত আলোচিত আয়েশা খাতুন (৪০) হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে জহিরুল ইসলামকে ফুলবাড়িয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগে বুধবার রাত ১টার দিকে গাজীপুর সদর উপজেলার ভোগড়া বাইপাস এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

গ্রেপ্তার জহিরুল ইসলাম ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার বাকতা ইউনিয়নের কৈয়ারচালা গ্রামের বাসিন্দা।

 

 

র‌্যাব-১৪ সূত্রে জানা গেছে, নিহত আয়েশা খাতুন একই গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। আয়েশা খাতুনের ছেলে আশিক মিয়ার কাছে তার ভাতিজা জহিরুল ইসলামের ১০ টাকা পাওনা ছিল। ওই পাওনা টাকা নিয়ে ঘটনার দিন বিকেলে আশিক মিয়া ও জহিরুল ইসলামের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি শান্ত করার উদ্দেশ্যে আশিক মিয়ার মা আয়েশা খাতুন ঘটনাস্থলে এগিয়ে আসেন।

অভিযোগ রয়েছে, উত্তেজিত জহিরুল ইসলাম ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় আয়েশা খাতুন ঘটনাস্থলেই মারা যান। গত ১৪ এপ্রিল বিকেলে ফুলবাড়িয়া উপজেলার বাকতা ইউনিয়নের কৈয়ারচালা গ্রামে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

এ হত্যাকাণ্ডের পরপরই অভিযুক্ত জহিরুল ইসলাম আত্মগোপনে চলে যায়। পরদিন ১৫ এপ্রিল নিহতের মা বাদী হয়ে ফুলবাড়িয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রাখে। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় র‌্যাব-১৪ আসামির অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

র‌্যাব-১৪ ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সামসুজ্জামান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জহিরুল ইসলামের অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। পরে গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারের পর মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

নতুন শিক্ষানীতিতে বাংলা-ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা বাধ্যতামূলক

বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি শিক্ষাক্রমে বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সরকার তৃতীয় ভাষা শিক্ষার জন্য বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য গমনেচ্ছু শিক্ষার্থীদের ১০ লক্ষ টাকা ঋণ সুবিধা প্রদান করছে।

 

 

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় তিনি এ পরিকল্পনার কথা বলেন।

 

 

অর্থমন্ত্রী বলেন, শিক্ষাক্রমে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা যেমন- জাপানিজ, কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন, আরবি, ফ্রেঞ্চ, জার্মান ইত্যাদি কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে সরকার তৃতীয় ভাষা শিক্ষার জন্য বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য গমনেচ্ছু শিক্ষার্থীদের ১০ লক্ষ টাকা ঋণ সুবিধা প্রদান করছে।

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বেড়েছে ৪৯ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে নতুন বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা, যা জিডিপির ২ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৮৭ হাজার ২০৬ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

বিএনপি সরকারের প্রথম এই বাজেটের শিরোনাম দেওয়া হয়েছে– ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’। বাজেট বক্তৃতা বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে।

বিএনপি সরকারের অর্থ মন্ত্রী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য মোট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছেন। যা বিগত অর্থবছরের তুলনায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। সবশেষ ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট দিয়ে গিয়েছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।

 

 

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমানও উপস্থিত রয়েছেন।

 

 

আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪৬ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে এই বরাদ্দের পরিমাণ ৩৫ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা হলেও সংশোধিত বাজেটে তা কমে ৩১ হাজার ৭১৮ কোটিতে দাঁড়ায়।

 

 

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে আগামী অর্থবছরে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫৭ হাজার ৩০১ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে এই বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ৪৭ হাজার ৫৬৩ কোটি টাকা। পরে সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ কমে দাঁড়ায় ৪১ হাজার ৭৫৩ কোটি টাকা।

 

 

একই মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে আগামী অর্থবছরে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৮ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা, চলতি অর্থবছরে যা ছিল ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ কমিয়ে ১২ হাজার ৩৯৬ কোটি করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর জুনের শেষ সপ্তাহে: ডেপুটি স্পিকার

 

বাংলাদেশের নব নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকার গঠনের পর দ্বিতীয় দেশ হিসেবে সফরের জন‍্য চীনকে বেছে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের সিদ্ধান্ত, বাংলাদেশের সাথে চীনের বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং উভয় দেশের সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতাকে আরেক ধাপ এগিয়ে দেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

 

 

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিং-এ ৭ম চায়না-সাউথ এশিয়া কোঅপারেশন ফোরামে ‍দেওয়া বক্তব্যে ডেপুটি স্পিকার এই তথ্য জানান।

 

 

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল প্রসঙ্গক্রমে ১৯৭৭ ও ১৯৮০ সালে বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট্র নীতির প্রবর্তক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর চীন সফরের কথা তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ‍্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের শুভ সূচনা হয় তার হাত ধরেই।

যার ধারাবাহিকতায়, মরহুম প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ ও ২০০২ সালে ঐতিহাসিক চীন সফরের মাধ্যমে সেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও জোরদার করেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রণীত পররাষ্ট্রনীতিতেই আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়টি বিদ্যমান আছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি জিয়াউর রহমানের দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (SAARC) গঠনের উদ্যোগের কথা ফোরামে তুলে ধরেন। তিনি এমন এক দক্ষিণ এশিয়ার স্বপ্ন দেখতেন যেখানে দেশগুলো তাদের জনগণের জন্য শান্তি, উন্নতি এবং সমৃদ্ধির জন‍্য এক সাথে কাজ করবে। এই প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং আলোচনার প্লাটফর্ম হিসেবে সার্ককে অবশ্যই কার্যকর করার সময় হয়েছে এখন।

দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর সাথে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের অবজার্ভার দেশ হিসেবে চায়না সার্ককে কাজে লাগাতে পারে বলে মনে করেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কাইসার কামাল।

 

 

ডেপুটি স্পিকার বৈশ্বিক বর্তমান জ্বালানি সংকট, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, উন্নয়নশীল দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান ঋণের বোঝা, বিশ্ব বাণিজ্যের ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীলতা ইত্যাদি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা কোনো একক দেশের পক্ষে সম্ভব নয়। এজন্য আঞ্চলিক সহযোগিতা বর্তমান বিশ্বে একটি অপরিহার্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

 

ডেপুটি স্পিকার বলেন, বিশ্বব্যাপী দেশে দেশে সম্পর্কের ভীত মজবুত করে ডিজিটাল এবং অর্থনৈতিক বহুমুখী উদ্যোগ, আন্তঃসীমানা অবকাঠামো, বাণিজ্য করিডোর এবং ডিজিটাল হাইওয়ে, শিক্ষা, সংস্কৃতি, পর্যটন এবং তরুণদের অভিজ্ঞতার আদান প্রদান ইত্যাদি সময়োপযোগী পদক্ষেপের মাধ্যমে জনগণ এবং অর্থনৈতিক সংযোগ বৃদ্ধি করে একযোগে বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলা করতে হবে।

 

 

৭ম চায়না-সাউথ এশিয়া কোঅপারেশন ফোরামে আরো বক্তব্য রাখেন ইউনান প্রভিন্সের গভর্নর মি. ওয়াং ইউরো, নেপাল ন‍্যাশনাল এসেম্বলির ভাইস চেয়ারম্যান লায়লা কুমারী বান্দরী, মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ইরাথিশাম আদাম, শ্রীলঙ্কার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মি. অরুন হিমাচন্দ্র, সার্কের মহাসচিব মো. গোলাম সরওয়ার, চায়নাস্থ পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত মি. খলিলুর রহমান, চায়নাস্থ আফগানিস্তানের রাষ্ট্রদূত মি. আসাদুল্লাহ বিলাল কারিমি, ভূটানের শিল্প, কর্মসংস্থান ও বাণিজ্য মন্ত্রী মি. কর্মা দর্জিসহ চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ।

 

 

এর আগে ডেপুটি স্পিকারের নেতৃত্বাধীন সংসদীয় দল ১০ম চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপোজিশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। যেখানে বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুকতাদির দেশের বাণিজ্য ডেলিগেটের প্রধান হিসেবে বক্তব্য রাখেন। এবারের ১০ম চায়না এক্সপোজিশনের থিম কান্ট্রি বাংলাদেশ হিসেবে বাংলাদেশের ৮৪টি প্যাভিলিয়ন মেলায় অংশগ্রহণ করছে। বিশ্বের মোট ৯০ টি দেশ কুনমিং এর এ বিশাল বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণ করছে।

 

 

বাংলাদেশে ও চায়নার দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় সমূহ নিয়ে বাংলাদেশের সংসদীয় দল চীনের ন‍্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস এর ভাইস প্রেসিডেন্ট মি. ওয়ে এবং ইউনান প্রদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সেক্রেটারি ওয়াং নিং এর সাথে একান্তে বৈঠক করেন। বাংলাদেশের সংসদীয় দল কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন, ইকোনমিক জোন পর্যটন, তিস্তা ব‍্যারেজ নির্মাণ, চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে চীনের সহযোগিতা কামনা করেন। চীনের দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতা বাংলাদেশের সাথে চীনের দীর্ঘ দিনের সুসম্পর্কের কথা তুলে ধরে বলেন বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সাথে চীন কাজ করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সম্ভাব্য সব ক্ষেত্রে তারা বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।

 

 

ডেপুটি স্পিকার চীনা প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানালে তারা আন্তরিকভাবে সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং অচিরেই বাংলাদেশ সফর করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।

 

 

সংসদীয় দলের অন‍্য সদস্যরা হলেন এনসিপির সদস্য সচিব আকতার হোসেন এমপি, বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব ও সংরক্ষিত স্বতন্ত্র এমপি জেসমিন সুলতানা জুঁই।

 

 

বিশ্বকাপের সর্বকালের সেরা ১০ কিংবদন্তি, জানুন মেসি-ম্যারাডোনা-পেলের অবস্থান

ফুটবলের সবচেয়ে বড় এবং মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চ ফিফা বিশ্বকাপ। ৯৬ বছরের দীর্ঘ ইতিহাসে এই টুর্নামেন্ট পেরিয়ে এসেছে ২২টি রোমাঞ্চকর আসর। বিশ্বমঞ্চে হাজারো ফুটবলার পা রাখলেও কতজন পেরেছেন নিজেদের অনন্য কীর্তিতে ইতিহাস রাঙাতে? মেসি, ম্যারাডোনা, পেলে নাকি অন্য কেউ—বিশ্বকাপ ইতিহাসের সেরা কে? এই চিরন্তন বিতর্কের মাঝে বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০ জন কিংবদন্তিকে বেছে নিয়ে একটি তালিকা প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘বিবিসি স্পোর্টস’।

 

 

ভিন্ন যুগের, ভিন্ন শৈলীর এই ১০ ফুটবলারকে নিয়ে তৈরি করা তালিকাটি নিচে দেওয়া হলো:

১০. জিওফ হার্স্ট (ইংল্যান্ড): তালিকার দশম স্থানে আছেন ইংলিশ ফুটবলার জিওফ হার্স্ট। ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে তার অবিস্মরণীয় হ্যাটট্রিক ইংল্যান্ডকে তাদের ইতিহাসের একমাত্র বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দিয়েছিল। ঘরের মাঠের সেই ঐতিহাসিক জয় আজও ইংলিশ ফুটবলের সর্বোচ্চ সাফল্য হিসেবে গণ্য হয়।

৯. কাফু (ব্রাজিল): ব্রাজিলের কিংবদন্তি রাইট-ব্যাক কাফু আছেন নবম স্থানে। ফুটবল ইতিহাসের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে টানা তিনটি বিশ্বকাপের ফাইনাল (১৯৯৪, ১৯৯৮, ২০০২) খেলার অনন্য কীর্তি রয়েছে তার। যার মধ্যে ১৯৯৪ ও ২০০২ সালে তিনি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হন এবং ২০০২ বিশ্বকাপে সেলেসাওদের অধিনায়ক হিসেবে ট্রফি উঁচিয়ে ধরেন।

৮. পাওলো রসি (ইতালি): ১৯৮২ বিশ্বকাপে ইতালির পাওলো রসির প্রত্যাবর্তন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা নাটকীয় অধ্যায়। ম্যাচ ফিক্সিং কেলেঙ্কারির কারণে নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে দলে ফিরেই তিনি অবিশ্বাস্য পারফর্ম করেন। কোয়ার্টার ফাইনালে শক্তিশালী ব্রাজিলের বিপক্ষে হ্যাটট্রিকসহ টুর্নামেন্টে ৬ গোল করে ইতালিকে শিরোপা জেতান এবং একই সাথে গোল্ডেন বুট ও গোল্ডেন বল নিজের করে নেন।

৭. জিনেদিন জিদান (ফ্রান্স): ফরাসি জাদুকর জিনেদিন জিদান আছেন তালিকার সপ্তম স্থানে। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে স্বাগতিক ফ্রান্সকে প্রথমবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করতে ফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে তার জোড়া হেডের গোল ফুটবল ইতিহাসে অমর হয়ে আছে। তবে ২০০৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে ইতালির মাতেরাজ্জিকে ঢুস (হেডবাট) মেরে লাল কার্ড দেখার বিতর্কও তার ক্যারিয়ারের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।

 

 

৬. কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স): তালিকার ষষ্ঠ স্থানে আছেন আধুনিক ফুটবলের অন্যতম পোস্টার বয় কিলিয়ান এমবাপ্পে। মাত্র ১৯ বছর বয়সে ২০১৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের হয়ে শিরোপা জেতেন তিনি। এরপর ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে বিশ্বমঞ্চে নিজের বিধ্বংসী রূপ আরও একবার প্রমাণ করেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড।

 

 

৫. ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার (জার্মানি): পঞ্চম স্থানে জায়গা করে নিয়েছেন পশ্চিম জার্মানির ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার। ফুটবল ইতিহাসে ‘ডের কাইজার’ খ্যাত এই কিংবদন্তি খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৭৪ সালে এবং পরবর্তীতে ডাগআউটে কোচ হিসেবে ১৯৯০ সালে জার্মানিকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করার বিরল গৌরব অর্জন করেন।

 

 

৪. লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা): আধুনিক ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসি আছেন তালিকার চতুর্থ স্থানে। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে নিজের একক কাঁধে টেনে শিরোপা এনে দেন তিনি। পুরো টুর্নামেন্টে ৭ গোল ও ৩ অ্যাসিস্টের পাশাপাশি অসাধারণ নেতৃত্ব তাকে ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে দিয়েছে।

 

 

৩. রোনালদো নাজারিও (ব্রাজিল): ইনজুরির সাথে দীর্ঘ লড়াই শেষে ২০০২ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ‘ফেনোমেনন’ রোনালদোর ফিরে আসার গল্পটা ছিল রূপকথার মতো। ১৯৯৮ সালের ফাইনালের ট্র্যাজেডি ভুলে ২০০২ আসরে একাই ৮ গোল করে ব্রাজিলকে পঞ্চম ও শেষবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেন ‘আর-নাইন’।

 

 

২. দিয়েগো ম্যারাডোনা (আর্জেন্টিনা): তালিকার দ্বিতীয় স্থানে আছেন ফুটবলের রাজপুত্র দিয়েগো ম্যারাডোনা। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার শিরোপা জয় ছিল মূলত ম্যারাডোনার একক রূপকথার গল্প। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং এর ঠিক পরেই ৫ ইংলিশ ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে কাটিয়ে করা ‘শতাব্দীর সেরা গোল’ তাকে ফুটবল বিশ্বে অমর করে রেখেছে।

 

 

১. পেলে (ব্রাজিল): এই তালিকায় অবধারিতভাবেই সবার শীর্ষে আছেন ফুটবলের কালো মানিক পেলে। ফুটবল ইতিহাসের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ (১৯৫৮, ১৯৬২ ও ১৯৭০) জয়ের রেকর্ড রয়েছে তার। মাত্র ১৭ বছর বয়সে ১৯৫৮ বিশ্বকাপে নিজের আগমনী বার্তা দিয়ে বিশ্বকে চমকে দেওয়া পেলে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা বিশ্বকাপ কিংবদন্তি হিসেবে।

মাসে ২০ হাজার টাকা ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব জুলাই শহীদদের স্বজনদের

নতুন সরকারে প্রস্তাবিত বাজেটে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীরত্বপূর্ণ অবদানকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়ে শহীদ পরিবার এবং আহত ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ জন্য বিশেষ মাসিক ভাতার প্রস্তাব করা হয়েছে।

 

 

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এই ভাতার পরিমাণ সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘বি’ ক্যাটাগরির আহতদের জন্য ১৫ হাজার টাকা এবং ‘সি’ ক্যাটাগরির আহত যোদ্ধাদের জন্য ১০ হাজার টাকা মাসিক ভাতার প্রস্তাব করা হয়েছে।

 

 

অর্থমন্ত্রীর বাজেট ঘোষণার নথি থেকে জানা গেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের প্রতিটি পরিবারকে প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা হারে সম্মানি ভাতা প্রদান করা হবে।

এছাড়া আন্দোলনে আহত যোদ্ধাদের শারীরিক জখমের তীব্রতা অনুযায়ী ৩টি ভাগে ভাগ করে মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সবচেয়ে গুরুতর আহত অর্থাৎ ‘এ’ ক্যাটাগরির যোদ্ধারা পাবেন মাসিক ২০ হাজার টাকা। অতিরিক্ত সুবিধা হিসেবে গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধাদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়িয়ে ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে।

 

অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে জানিয়েছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করা ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর।

অসুস্থ গরুর মাংস বিক্রির সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিককে মারপিট, মামলায় গ্রেফতার ১

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে অসুস্থ গরু জবাই করে মাংস বিক্রির সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে এক সাংবাদিককে মারধর, হত্যাচেষ্টা ও নগদ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সদর ইউনিয়নের নলেয়া গ্রামের হায়দার আলীর পুত্র মাংস ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হক (৩৫) ও তার ভাই মোঃ মাসুদ রানা মুন্না (২৮) এবং মৃত অবর উদ্দিন এর পুত্র মোঃ সাইফুর রহমান (৪২) এর বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সদর ইউনিয়নের সাদ্দাম মোড়ের পূর্ব পার্শ্বে আমিনুর মেম্বারের বাড়ির সামনে। এ ঘটনায় আহত সাংবাদিকের মা বাদী হয়ে ভূরুঙ্গামারী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে পুলিশ মাসুদ রানা মুন্নাকে গ্রেফতার করে‌ আদালতে প্রেরণ করেছে।
সাংবাদিক মাইদুল মাস্টার্স ও এল এল বি পড়ালেখা শেষ করে দীর্ঘদিন থেকে উপজেলার সমস্যা, সম্ভাবনা, সচেতনতা, অনিয়ম, দুর্নীতি, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সুনামের সাথে অগ্রযাত্রা প্রতিদিন, তালাশ বিডি, দৈনিক গণকণ্ঠ পত্রিকায় কর্মরত থেকে প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে এবং তিনি কুড়িগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের একজন সদস্য।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ইং ভূরুঙ্গামারী উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস কর্তৃক বাজারে অভিযান পরিচালনা করে অসুস্থ গরুর মাংস বিক্রি বন্ধ করে এবং জব্দকৃত মাংস মাটিচাপা দেয়। জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ ওই ঘটনাটি বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। সাংবাদিক মাইদুল ইসলামও সংবাদ প্রকাশ করেন।
অভিযোগ ‍ও স্থানীয় ‍সূত্রে জানা যায়, সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই মাংস ব্যবসায়ী মোজাম্মেল মাইদুলের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে ফোনে হুমকি দিলে বিষয়টি সচেতন ব্যবসায়ীরা ঝামেলা করতে বাধানিষেধ করলেও মোজাম্মেল বিভিন্ন সময়ে অসুস্থ গরু জবাই নিউজের বিষয়ে কথা বলে আসছিলো। সর্বশেষ গত ২০ মে ২০২৬ রাতে সাংবাদিক মাইদুলকে মেসেঞ্জারে ফোন করে সংবাদ প্রকাশের কারণে ক্ষতির কথা উল্লেখ করে। সাংবাদিক মাইদুল ৪ জুন বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে মোটরসাইকেলযোগে ব্যবসায়ীক কাজে ভূরুঙ্গামারী বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে সাদ্দাম মোড়ের পূর্ব পার্শ্বে আমিনুর মেম্বারের বাড়ির সামনে পৌঁছালে মোজাম্মেলের ছোট ভাই মাসুদ রানা মুন্না হাতুড়ি নিয়ে তার পথরোধ করে এবং মোজাম্মেলকে ফোন করলে বলে সে না আসা পর্যন্ত ছাড়তে নিষেধ করে। কিছুক্ষণ পর মোজাম্মেল ও সাইফুর বাজার থেকে ঘটনাস্থলে এসে সাংবাদিককে অসুস্থ গরু জবাইয়ের সংবাদ প্রকাশের কথা বলেই প্রথমে মোজাম্মেল ও সাইফুর পরে মুন্নাসহ তিনজন সাংবাদিক মাইদুকে মেরে ফেলার উদ্যেশে এলোপাতাড়িভাবে মাথায়, মুখে, কানে, বুকে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিল ঘুষি মেরে আহত করে। হত্যার উদ্দেশ্যে গলা চেপে ধরেন, সাংবাদিকের পকেটে থাকা নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে স্থানীয় দোকানদার ও পথচারীরা এগিয়ে এসে হামলাকারীদের নিকট থেকে তাকে ছাড়ালেও একপর্যায়ে মোজাম্মেল হাতে ধারালো কিছু দ্বারা সাংবাদিককে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করে এতে নাকের হাড় ভেঙে গুরুতর রক্তাক্ত হয়ে ও পড়নের শার্ট ও প্যান্ট রক্ত দিয়ে ভিজে যায়। স্থানীয়রা পরিবারের সদস্যদের খবর দেয় এবং উদ্ধার করে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। সেখানে ৪ দিন চিকিৎসা নিলেও নাকের হাড় ভাঙ্গা ও কানের পর্দা ফেটে অঙ্গহানি হওয়ায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে এবং সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযোগ বিষয়ে অভিযুক্ত মোজাম্মেল বলেন, অসুস্থ গরু তিনি জবাই করেনি। অভিযান হলে মাইদুল এ বিষয়ে নিউজ করে, পরে তাকে অনেকবার ডাকা হলে দুইতিনজন সাংবাদিকসহ বাজারে আসে ও কথা হয়। ঘটনার দিন সাড়ে নয়টার দিকে বাজার থেকে ঘটনাস্থলে গিয়ে সাংবাদিককে মারপিটের ঘটনায় রক্তাক্ত হলে হাসপাতালে ভর্তি হয় বলে জানায়।
সাংবাদিক হাসপাতালে ভর্তি থাকাবস্থায় অভিযুক্ত মুন্না ৬ জুন (বুধবার) আনুমানিক রাত ১১টার দিকে শফিকুল এর ছেলে রাকিব ও মোটরসাইকেল মেকার সুলতানকে সাথে নিয়ে দেখতে গিয়েছিলেন। অনেকক্ষণ কথা বলেন এবং বলেন, প্রায় দুই মাস আগে আমার ফেসবুকে ছবি পোস্ট করলে মাইদুল ভাই ছবিটির ইমোজি সরিয়ে কমেন্ট শুধু ছবি দিয়েছিলো এবং ফোন করলে সাথে সাথে ডিলিট করে দেয়। এ নিয়ে দুইমাস আগে কথা হয়েছিল। তবে ঘটনার দিন আমার মেজাজ ভালো ছিলোনা। ভাইকে বাইক থামিয়ে কথা বলার ফাঁকে বড় ভাই মোজাম্মেলকে ফোন করলে ভাই বাজারে ছিলো এবং আটক করে রাখতে বলে। এখানে মারামারির কোন বিষয় ছিলো না তবে বাজার থেকে মোজাম্মেল ভাই ও সাইফুর এসেই গরু জবাইয়ের নিউজের কথা উল্লেখ করেই মাইদুল ভাইকে মারপিট শুরু করে, আমি ফাঁকে ছিলাম পরে এসে সাথে আমিও মারি। মোজাম্মেল ভাইয়ের ঘুষিতেই মাইদুল ভাইয়ের নাক ফেটে রক্তাক্ত হয়। এ রকম অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটবে আমি বুঝতে পারি নাই। এ সময় ভর্তি রোগী মৃত ইবর উদ্দিনের ছেলে মুসলিম উপস্থিত থেকে ঘটনা শুনেন।
সাংবাদিক মাইদুল বলেন, অসুস্থ গরু জবাই করা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের মতো আমিও সংবাদ প্রকাশ করি। এরই জের ধরে আমাকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল মোজাম্মেল। মোজাম্মেল, মুন্না ও সাইফুর তিনজনে হত্যার উদ্দেশ্যে আমাকে এলোপাতাড়ি মারপিট করে, হত্যার উদ্দেশ্যে গলা চিপে ধরে, নাক ফাটিয়ে রক্তাক্ত করে। এক লাখ বিশ হাজার টাকা ছিনতাই করে। আমি গুরুত্বর অসুস্থ চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছি। বিষয়টি পত্রিকা অফিস ও সাংবাদিকদের জানিয়েছি তারা খোঁজখবর নিচ্ছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই এবং স্বাধীনভাবে কাজ করতে চাই।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী সাংবাদিকের মা বলেন, “আমার ছেলে জনস্বার্থে সংবাদ প্রকাশ করে। সাংবাদিকদের যদি নিরাপত্তা না থাকে তাহলে সাংবাদিকতা করে কি লাভ। সকল সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়ানো ও হামলাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানান।
এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে জেলার সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।কুড়িগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম রিগান বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন বা সংবাদ প্রকাশের জে‌রে সাংবাদিকের ওপর হামলা গ্রহণযোগ্য নয়। সংবা‌দে কেউ সংক্ষুদ্ধ হ‌লে যথাযথ আই‌নি ব‌্যবস্থা নি‌তে পা‌রেন। কিন্তু সাংবা‌দিকের ওপর হামলা স্বাধীন সাংবা‌দিকতার জন‌্য অশ‌নিসং‌কেত। মাঈদু‌লের ওপর হামলাকারী‌দের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দা‌বি জানাই। ভবিষ্যতে কেউ যেন হামলার শিকার না হয় সে জন্য রাষ্ট্রয‌ন্ত্রের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করছি।
 রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সাদেকুজ্জামান সালেক বলেন, সাংবাদিক মাইদুলের ওপর হামলা নিন্দনীয়, উদ্বেগজনক এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাত। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করছি।
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর বলেন, সাংবাদিক নির্যাতনকারীরা দেশ-সমাজ ও রাষ্ট্রের শত্রু। এদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা উচিত।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আশিকুজ্জামান বলেন, মাংস হাটে অভিযানে একটি রোগাক্রান্ত গরু জবাই করছিলো যা জব্দ করে মাটির নিচে পুঁতে ফেলা হয়েছিল। এ সময় অনেকে সংবাদ প্রকাশ করে। সাংবাদিককে মারপিটের ঘটনা নিন্দনীয়। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে কথা হয়েছে।
ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ আজিম উদ্দিন বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে একজন আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

রামিসা মামলাসহ সব ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার দ্রুত এগোবে: অ্যাটর্নি জেনারেল

 

হাইকোর্টে শিশু রামিসাসহ অন্যান্য ধর্ষণ ও হত্যা মামলাগুলোর বিচার বিরতিহীনভাবে চলবে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল। এছাড়া হাইকোর্টে রামিসা হত্যা মামলা পরিচালনায় রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ আইনজীবী প্যানেল গঠন করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, রামিসা হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স শুনানি তিনি নিজেই করবেন।

 

 

 

এর আগে, বুধবার নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য হাইকোর্টে বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন প্রধান বিচারপতি।

রোববার থেকে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত এ হাইকোর্ট বেঞ্চ বিচার কাজ পরিচালনা করবেন।

 

 

সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুধুমাত্র নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংক্রান্ত মৃত্যুদণ্ডাদেশ কনফারমেশনের রেফারেন্স এবং একই রায় হতে উদ্ভূত সকল ফৌজদারি আপীল ও জেল আপীল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি করবে এই বেঞ্চ।

বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানিতে শুল্ক সুবিধা দিতে চায় সরকার

 

দেশের অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনাকে এগিয়ে নিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করা হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন)। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট হিসেবে জাতীয় সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য বাজেট ঘোষণা করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এটি দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট এবং অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরুর প্রথম বাজেট।

 

 

 

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের বাজেটে অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবসম্পদ উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশীয় শিল্পের সুরক্ষায় কর কাঠামোয় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব রাখা হচ্ছে। মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা সাধারণ মানুষের জন্যও কিছু স্বস্তিমূলক পদক্ষেপ থাকছে।

 

 

 

বর্তমান সরকারের মেয়াদে এটি প্রথম বাজেট হলেও বিএনপি সরকারের সামগ্রিকভাবে ১৩তম জাতীয় বাজেট। প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের (৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা) তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেট ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটের মধ্যে ৬ লাখ ৫ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা ব্যয় হবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, ঋণের সুদ, ভর্তুকি, প্রণোদনা ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ে। উন্নয়ন ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা।

এ বাজেটে বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি), প্লাগ-ইন হাইব্রিড ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (পিএইচইভি) ও চার্জিং অবকাঠামো আমদানিতে ব্যাপক শুল্ক-কর ছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। অপরদিকে জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর কিছু গাড়ি আমদানিতে কর বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে আসন্ন বাজেটে। পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বাড়াতে এমন পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।

বর্তমানে বৈদ্যুতিক গাড়ি বা ইভি আমদানিতে মোট করভার প্রায় ৯৩ শতাংশ। এটি কমিয়ে ২৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত মূল্যের বৈদ্যুতিক গাড়ির ক্ষেত্রে ৬৪ শতাংশ এবং ৫০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত মূল্যের গাড়ির ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ নির্ধারণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

 

 

এ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী পরিবহনে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক বাস আমদানিতে সব ধরনের শুল্ক-কর অব্যাহতি এবং অন্যান্য ইলেকট্রিক বাস ও ট্রাকের ক্ষেত্রে ভ্যাট ছাড়া বাকি শুল্ক-কর অব্যাহতির সুবিধা আগামী ৩০ জুন ২০৩০ পর্যন্ত বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

 

 

 

নতুন প্লাগ-ইন হাইব্রিড ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (পিএইচইভি) আমদানির ক্ষেত্রেও কর সুবিধার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ২ হাজার সিসি পর্যন্ত ইঞ্জিন ক্ষমতাসম্পন্ন পিএইচইভি গাড়ির সম্পূরক শুল্ক কমানো এবং ১ হাজার ৮০০ সিসি পর্যন্ত নতুন পিএইচইভি গাড়ির ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাবনা আসছে।

 

 

 

এতে ১ হাজার ৮০০ সিসি পর্যন্ত ব্র্যান্ড নিউ প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির মোট করভার বর্তমান ৯৩ দশমিক ১৬ শতাংশ থেকে কমে ৭৩ দশমিক ৪৩৭ শতাংশে নেমে আসবে। একই ভাবে ২ হাজার সিসি পর্যন্ত ব্র্যান্ড নিউ পিএইচইভি গাড়ির মোট করভার ১৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে কমে ৯৬ দশমিক ১০ শতাংশ হবে।

 

 

 

এ ছাড়া চার্জার ও চার্জিং স্টেশন আমদানিতে সব ধরনের শুল্ক-কর প্রত্যাহারের প্রস্তাবনা আসছে। দেশব্যাপী বৈদ্যুতিক গাড়ির চার্জিং নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এ পরিকল্পনা করা হয়েছে। বর্তমানে এসব পণ্যের আমদানিতে মোট করভার ৩৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ। প্রস্তাব কার্যকর হলে তা শূন্য শতাংশে নেমে আসবে।

 

 

 

অন্যদিকে, ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ সিসি ক্ষমতার ইন্টারনাল কম্বাশন (আইসি) ইঞ্জিনযুক্ত আমদানিকৃত গাড়ির ওপর করভার বাড়ানোর প্রস্তাবনা আসছে। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত গাড়ির ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে এ উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

 

 

 

বর্তমানে এসব গাড়ির মোট করভার ১৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ, যা বাড়িয়ে ১৫৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে,অন্য শ্রেণির গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান করহার অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

 

বাংলাদেশ পেসারদের আগুনঝড়া বোলিংয়ে কাঁপছে টিম অস্ট্রেলিয়া

 

সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও টস জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। তবে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর শুরুতেই বাংলাদেশের পেস আক্রমণের তোপে পড়ে রীতিমতো বিপর্যস্ত হয়েছে সফরকারীরা। 

 

 

 

তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমানের আগুনঝরা বোলিংয়ে শূন্য রানেই তিন উইকেট হারিয়ে বসে অস্ট্রেলিয়া।

 

 

 

ওয়ানডে ইতিহাসে শূন্য রানে তিন উইকেট হারানোর ঘটনা খুব বেশি দেখা যায় না। 

 

 

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটি মাত্র চতুর্থ ঘটনা। এর আগে দুইবার পাকিস্তান এবং একবার বাংলাদেশ এমন বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছিল।
এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো অস্ট্রেলিয়া।

 

 

 

এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করার সুযোগ নিয়ে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। 

 

 

 

অন্যদিকে সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জয়ের বিকল্প নেই অস্ট্রেলিয়ার সামনে। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে দুই দলই একাদশে একটি করে পরিবর্তন এনেছে।

 

 

 

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে একাদশে ফিরেছেন পেসার রাইলি মেরেডিথ। ২০২১ সালের পর প্রথমবার ওয়ানডে খেলতে নামা এই পেসার জায়গা পেয়েছেন অভিষিক্ত পেস বোলিং অলরাউন্ডার লিয়াম স্কটের পরিবর্তে। বাংলাদেশের একাদশে সাইফ হাসানের জায়গায় ফিরেছেন সৌম্য সরকার। ৩৩ বছর বয়সী এই বাঁহাতি ব্যাটার সর্বশেষ ওয়ানডে খেলেছিলেন গত এপ্রিলে, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। 

 

 

 

টস হেরে বোলিংয়ে নেমেই আধিপত্য দেখাতে শুরু করে বাংলাদেশ। আগের ম্যাচে প্রথম বলেই উইকেট পেয়েছিলেন তাসকিন আহমেদ। এবারও প্রথম ওভারেই আঘাত হানেন তিনি। অফ স্টাম্পের বাইরের বল ছেড়ে দিয়েছিলেন ম্যাথিউ শর্ট। কিন্তু বল ভেতরে ঢুকে স্টাম্প উড়িয়ে দিলে মাত্র চার বল খেলেই শূন্য রানে ফিরতে হয় তাকে। টানা তিন ওয়ানডেতে শূন্য রানে আউট হলেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার। 

 

 

 

পরের ওভারে এসে জোড়া আঘাত হানেন মুস্তাফিজুর রহমান। অফ স্টাম্পের বাইরের বল খোঁচা মেরে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের গ্লাভসে ধরা পড়েন কুপার কনোলি। গোল্ডেন ডাকের তেতো স্বাদ পান তিনি। এরপর ওভারের শেষ বলে একই পরিণতি হয় ম্যাট রেনশের। তিনিও লিটনের গ্লাভসে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন শূন্য রানে। 

 

 

 

মাত্র দুই ওভারেই শূন্য রানে তিন উইকেট হারিয়ে চরম বিপদে পড়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের পেসারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে রান তোলাও কঠিন হয়ে পড়ে সফরকারীদের জন্য। পরে আরও একটি উইকেট তুলে নেন বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজ। অধিনায়ক জশ ইংলিস ও অভিজ্ঞ ব্যাটার অ্যালেক্স ক্যারি প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। ক্যারিকে ফিরিয়ে প্রতিরোধ ভাঙ্গেন মোস্তাফিজ। অজি এই ব্যাটার খেলেন ১৩ রানের ইনিংস। 

 

 

 

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৮ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ৪ উইকেটে ২৫ রান। ক্রিজে আছেন অধিনায়ক জশ ইংলিস ও অভিজ্ঞ ব্যাটার ক্যামেরন গ্রিন 

 

 

 

বাংলাদেশ: মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, তানজিদ হাসান তামিম, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয়, লিটন কুমার দাস, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, তানভীর ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা। 

 

 

 

অস্ট্রেলিয়া: জশ ইংলিস (অধিনায়ক), ম্যাথিউ শর্ট, জেভিয়ার বার্টলেট, অ্যালেক্স কেয়ারি, কুপার কনোলি, ন্যাথান এলিস, ক্যামেরন গ্রিন, মার্নাস লাবুশেন, ম্যাট রেনশ, রাইলি মেরেডিথ, অ্যাডাম জ্যাম্পা। 

 

এমআইএসটির সমাবর্তনে শিক্ষামন্ত্রীকে শূন্যে ভাসিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিনব উল্লাস

 

মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) গ্র্যাজুয়েটরা শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে শূন্যে ভাসিয়ে উচ্ছ্বাসে মেতে উঠতে দেখা গেছে।

 

 

 

বুধবার (১০ জুন) রাতে এমআইএসটি গ্র্যাজুয়েশন নাইট ২০২৬-এ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত শিক্ষামন্ত্রীকে ঘিরে এই উল্লাস দেখা যায়।

 

 

 

শিক্ষামন্ত্রীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, সমাবর্তন বা কোনো বিশেষ অর্জনের উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছেন গ্র্যাজুয়েটরা। উল্লাসের একপর্যায়ে তারা শিক্ষামন্ত্রীকে শূন্যে ছুড়ে আনন্দ প্রকাশ করছেন। এ সময় মন্ত্রীকেও বেশ হাস্যোজ্জ্বল ও আনন্দিত দেখায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি বেশ সাড়া ফেলেছে এবং অনেকেই তা শেয়ার করছেন এবং মন্তব্যের ঘরে মন্ত্রীর জন্য দোয়া ও ভালবাসা প্রকাশ করেছেন।

ভিডিওটিতে আতিক ইসলাম নামে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘অনেক অনেক ভালোবাসা আপনার জন্য।’

 

সোহাগ নামে একজন লিখেছেন, ‘জীবনের আনন্দের মুহূর্তের একটি, আপনার জন্য দোয়া ও ভালোবাসা রইলো।’

 

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় কোনো ধরনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা প্রশ্রয় দিচ্ছে না। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও শিক্ষার উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। সবাইকে নিয়ে একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার চেষ্টা চলছে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী।

 

 

 

পাশাপাশি জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে পাওয়া সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

 

জাতির প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবে এবারের বাজেট: অর্থমন্ত্রী

 

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের কল্যাণের বিষয় বিবেচনায় নিয়েই এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সংসদে বাজেট অধিবেশনে যোগ দিতে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

 

 

 

আমির খসরু বলেন, জাতিকে সামনে রেখে এবং বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের কল্যাণ ও উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে বাজেটের সব বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে। এবারের বাজেটের প্রেক্ষাপটও কিছুটা ভিন্ন। দীর্ঘদিন পর একটি নির্বাচিত সরকারের অধীনে জাতীয় বাজেট উপস্থাপিত হতে যাচ্ছে। ফলে জাতির প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষাও অনেক বেশি। সেসব দিক বিবেচনায় রেখেই বাজেট প্রণয়নের চেষ্টা করা হয়েছে।

 

অর্থমন্ত্রী বলেন, যতটুকু সামর্থ্য রয়েছে, তার মধ্যেই বাজেট করতে হয়েছে। একটি বিধ্বস্ত ও ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে দেশকে স্থিতিশীলতার পথে নিয়ে গিয়ে আগামী দিনে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। সেই লক্ষ্য অর্জনের একটি প্রচেষ্টা এই বাজেটে প্রতিফলিত হয়েছে।

 

আমির খসরু বলেন, এ বাজেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দেশের সব নাগরিককে এর অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। জাতীয় ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে সবাই যাতে অংশ নিতে পারে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল যেন সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছায়, সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

 

 

তিনি বলেন, একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের লক্ষ্য নিয়েই এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। সীমিত সম্পদের মধ্যেও সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এই বাজেট বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।

 

অ্যাকশনএইড বাংলাদেশে চাকরির সুযোগ, বেতন ৯৯ হাজার টাকা

 

৯৯ হাজার টাকা বেতনে কাজের সুযোগ দিচ্ছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান অ্যাকশনএইড বাংলাদেশে (এএবি)। প্রতিষ্ঠানটি তাদের ‘প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার’ পদে জনবল নিয়োগের লক্ষ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।

 

 

 

আগ্রহীরা আগামী ১৩ জুন পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। প্রার্থীকে অবশ্যই বিএসসি/ডিপ্লোমা/স্নাতক ডিগ্রিধারী হতে হবে। কক্সবাজার জেলায় কাজ করার মানসিকতা থাকতে হবে।

 

 

 

চলুন, একনজরে দেখে নিই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি-

প্রতিষ্ঠানের নাম: অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ

পদের নাম: প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার

পদসংখ্যা: ১ জন

শিক্ষাগত যোগ্যতা: বিএসসি/ডিপ্লোমা/স্নাতক (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং)

অভিজ্ঞতা: ২- ৩ বছর

বেতন: ৯৯,২০৪ টাকা

চাকরির ধরন: চুক্তিভিত্তিক

প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ

বয়স: নির্ধারিত নয়

কর্মস্থল: কক্সবাজার

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহীরা এখানে ক্লিক করে আবেদন করতে পারবেন।

আবেদনের শেষ সময়: ১৩ জুন ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

সূত্র: বিডিজবস ডটকম

 

হজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করলো সৌদি আরব

 

বাংলাদেশের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) এর সঙ্গে সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রী ড. তৌফিক বিন ফাউজান আল-রাবিয়াহের এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

 

 

বুধবার (১০ জুন) সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত দ্য পিলগ্রিমস এক্সপেরিয়েন্স প্রোগ্রাম সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রী ২০২৬ সালের হজ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের অসাধারণ দক্ষতা, সুশৃঙ্খলতা এবং সফল সমন্বয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

 

 

 

তিনি বলেন, এ বছর বাংলাদেশি হজযাত্রীদের সেবায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় যে দক্ষতা, দায়িত্বশীলতা এবং দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছে, তা প্রশংসার দাবিদার।

ড. আল-রাবিয়াহ বাংলাদেশের ধর্মমন্ত্রীকে আন্তরিক নেতৃত্বের মাধ্যমে হজযাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার জন্য অভিনন্দন জানান। একইসঙ্গে তিনি ধর্মমন্ত্রীর মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং সফল হজ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ সরকারের সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা করেন।

 

বৈঠকে সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রী আগামী বছর হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও যাত্রীবান্ধব করতে সৌদি সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পরিকল্পনা ও উদ্যোগ সম্পর্কে অবহিত করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে হজ ব্যবস্থাপনার আরও উন্নয়নে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও সহযোগিতা কামনা করেন।

 

 

 

এ সময় ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) পবিত্র হজের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অভূতপূর্ব উন্নয়ন, আধুনিকায়ন এবং হাজিদের সেবার মানোন্নয়নের জন্য সৌদি সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বিশেষভাবে হজযাত্রীদের নিরাপত্তা, স্মার্ট ভিড় ব্যবস্থাপনা, পরিবহন সমন্বয়, তথ্য-প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, মাশায়ের অঞ্চলে সেবার সম্প্রসারণ এবং সামগ্রিক অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রশংসা করেন।

 

 

 

ধর্মমন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পবিত্র হজ সফলভাবে আয়োজন এবং বিশ্বের লাখো হাজির নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ইবাদত নিশ্চিতের জন্য পবিত্র দুই মসজিদের খাদেম বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ, সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান এবং সৌদি সরকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেছেন।

 

 

 

ধর্মমন্ত্রী বলেন, আল্লাহর মেহমানদের সেবায় সৌদি আরব যে দূরদর্শী নেতৃত্ব, আন্তরিকতা ও বিপুল বিনিয়োগের মাধ্যমে হজ ব্যবস্থাপনাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে, তা সমগ্র মুসলিম বিশ্বের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তিনি আশ্বাস দেন যে, হজ ব্যবস্থাপনার ধারাবাহিক উন্নয়ন এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে বাংলাদেশ ভবিষ্যতেও সৌদি আরবের পাশে থাকবে।

 

 

 

বৈঠকে সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ দেলওয়ার হোসেন, কাউন্সিলর (হজ) মো. কামরুল ইসলাম এবং উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

রাণীনগরে মাদকবিরোধী টাস্কফোর্স অভিযান

  • রিপোর্টার:
  •  আপডেট টাইম : ১২:০৭:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার পশ্চিম বালুভরা এলাকায় মাদকবিরোধী টাস্কফোর্স অভিযানে একজন মাদকাসক্তকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
 বুধবার (১০ জুন) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, নওগাঁ জেলা শাখার উদ্যোগে পুলিশের সহযোগিতায় উক্ত এলাকায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে মাদকাসক্ত অবস্থায় রাণীনগর উপজেলার রায়হান সরদার (৩৩) কে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী তাৎক্ষণিক বিচারে রাণীনগর উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাবিলা ইয়াসমিন আসামি রায়হান সরদারকে ৩ (তিন) মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সাধারণ জনগণকে মাদক থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
নওগাঁ জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও রাণীনগর থানা পুলিশ যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে।

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ৪০৪ মিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন চুক্তি বাংলাদেশের

 

দেশের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা খাতের অগ্রগতির লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে ৪০ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলারের ঋণ ও অনুদান চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

 

 

 

বুধবার (১০ জুন) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়।

 

 

 

চুক্তিতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং বিশ্বব্যাংকের পক্ষে ঢাকাস্থ কার্যালয়ের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেসমে স্বাক্ষর করেন।

এই চুক্তি অনুযায়ী বিশ্বব্যাংক প্রায় ৩৭৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমমূল্যের ২৮৪ দশমিক ৭০ মিলিয়ন এসডিআর ঋণ দেবে। পাশাপাশি গ্লোবাল ফাইন্যান্সিং ফ্যাসিলিটি থেকে ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান হিসেবে পাওয়া যাবে।

 

 

এই দুই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যখাতকে আরও কার্যকর ও টেকসই করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেবার মানোন্নয়ন, সেবার প্রাপ্যতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং প্রজনন স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা সেবায় দক্ষতা ও সমতা নিশ্চিত করতে জলবায়ু সহনশীল কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

 

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে ‘হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন সার্ভিসেস ইমপ্রুভমেন্ট অ্যান্ড সিস্টেম স্ট্রেন্থেনিং প্রজেক্ট’ নামের প্রথম প্রকল্পটি।

 

 

পুশইন প্রতিরোধে সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে জনতার কড়া নজরদারি

 

কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইন ঠেকাতে পাহারায় বিজিবি ও স্থানীয়রা। বিএসএফের যে কোনো ধরনের পুশইনের চেষ্টা রুখে দিতে তৎপর তারা।

 

 

 

বুধবার (১০ জুন) রাতে সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আনসার, গ্রাম পুলিশসহ স্থানীয় তরুণ, যুবক ও বয়োজ্যেষ্ঠরা শক্ত অবস্থানে থেকে পাহারা দিচ্ছেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. নজরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

 

 

 

সীমান্তের বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রৌমারী উপজেলার খেওয়ারচর সীমান্তের আন্তর্জাতিক ১০৬৯ নম্বর মেইন পিলারের ২৪টি সাব পিলারের নিকটবর্তী ভারতের সদরটিলা বিএসএফ ক্যাম্পের নিকট কাঁটাতারের বেড়ার কাছে ট্রাকে করে বেশ কিছু ভারতীয় মুসলিম নাগরিককে জড়ো করা হয়েছে।

 

তাদের অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশইন করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে— এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় এলাকায় মাইকিং করা হয়। খবর পেয়ে মুহূর্তের মধ্যে লাঠিসোঁটা নিয়ে সীমান্তের দিকে ছুটে যান হাজারো মানুষ। কোনোভাবেই যেন অনুপ্রবেশ করতে না দেওয়া হয়, সেজন্য পুরো সীমান্তজুড়ে কঠোর পাহারা বসিয়েছেন গ্রামবাসী।

 

খেওয়ারচর বিজিবি ক্যাম্পের ল্যান্স নায়েক সুমন আলী কালবেলাকে, সীমান্তে পুশইন ঠেকাতে সাধারণ জনগণের পাশাপাশি বিজিবি সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক ও শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। কোনো ধরনের পুশইন বরদাশত করা হবে না। এর আগেও বিএসএফ কয়েক দফায় পুশইনের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছে।

 

 

উল্লেখ্য, গত শনিবার থেকে শুরু করে বুধবার রাত পর্যন্ত রৌমারী সীমান্তে পুশইনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র উত্তেজনা ও গভীর আতঙ্ক বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সীমান্তজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে বিজিবি।

 

 

শূন্য রানে ৩ উইকেট হারাল অস্ট্রেলিয়া

 

সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের সামনে শুরুতেই ধসে পড়েছে অস্ট্রেলিয়া। প্রথম দুই ওভারেই কোনো রান না করেই তিন উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়ে সফরকারীরা।

 

 

 

টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস শুরু থেকেই ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। ইনিংসের প্রথম ওভারের চতুর্থ বলেই ম্যাথিউ শর্টকে বোল্ড করে দেন টাইগার পেসার তাসকিন আহমেদ। চার বল খেললেও কোনো রান করতে পারেননি তিনি।

 

 

 

এরপর দ্বিতীয় ওভারে আঘাত হানেন মোস্তাফিজুর রহমান। প্রথম বলেই কুপার কনোলি ব্যাটে লাগিয়ে বল তুলে দেন উইকেটকিপার লিটন দাসের হাতে। গোল্ডেন ডাকের স্বাদ নিয়ে সাজঘরে ফেরেন এই ব্যাটার।

ওভারের শেষ বলেই আবারও আঘাত করেন মোস্তাফিজ। একই ধাঁচে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ম্যাট রেনশ। শুরুতেই তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় অস্ট্রেলিয়া।

 

 

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৫ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ১৭ রান।

 

 

এর আগে ম্যাচজুড়ে নাটকীয়তার শুরু হয় তাসকিন আহমেদের দারুণ নতুন বলের স্পেলে। আগের ম্যাচেও ইনিংসের প্রথম বলেই উইকেট পাওয়া এই পেসার এবারও শুরুটা করেন উইকেট দিয়ে। শর্টকে ফেরানোর পর মেডেন ওভার করেন তিনি।

 

 

 

তাসকিনের পর মোস্তাফিজুর রহমানের কাটার-ভিত্তিক বোলিংয়ে আরও ভেঙে পড়ে অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডার। মাত্র দুই ওভারের মধ্যেই দুই বোলারের তোপে শূন্য রানে তিন উইকেট হারিয়ে বসে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

 

 

 

অস্ট্রেলিয়ার ওয়ানডে ইতিহাসে এটি বিরল একটি ঘটনা। এর আগে ৮৮২ ম্যাচের ইতিহাসে মাত্র দুইবারই দুই ওপেনার শূন্য রানে আউট হয়েছিল দলটির। ২০০৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ২০২২ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে সেই ঘটনা ঘটেছিল। বাংলাদেশ সফরে এবার তৃতীয়বারের মতো এমন লজ্জাজনক সূচনা দেখল অজিরা।

 

 

 

শুরুর এই ধস সামাল দিতে ক্রিজে নেমেছেন জশ ইংলিস ও অ্যালেক্স কেরি। তবে শুরুতেই বড় ধাক্কা খাওয়া অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে এখন চরম চাপের মুখে।

 

 

ইরানি হামলার শঙ্কায় সাময়িকভাবে আকাশসীমা বন্ধ করল কুয়েত

 

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কুয়েত সাময়িকভাবে দেশের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করেছে। দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরানি আগ্রাসন ঘিরে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খবর আলজাজিরার।

 

 

 

বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কর্তৃপক্ষ জানায়, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত কুয়েতের আকাশসীমায় বিমান চলাচল স্থগিত থাকবে। যেসব ফ্লাইট কুয়েতের আকাশসীমা ব্যবহার করার কথা ছিল, সেগুলোকে বিকল্প বিমানবন্দরে অবতরণ বা অন্য রুটে পরিচালিত করা হবে।

 

 

 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অনুমোদিত আন্তর্জাতিক চুক্তি ও নিরাপত্তা প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ফ্লাইটগুলোকে বিকল্প গন্তব্যে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এদিকে অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এবং ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার কারণে বেশ কয়েকটি দেশের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত হতে পারে।

কুয়েত কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আকাশসীমা পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে বলে জানিয়েছে।

 

সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে আজ মাঠে নামছে টাইগাররা, একাদশে থাকছে যেসব পরিবর্তন

 

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের শুরুটা স্বপ্নের মত রঙিন হয়েছে বাংলাদেশের। ঘরের মাঠে ওয়ানডে ক্রিকেটে বেশ ভালো ছন্দে আছে বাংলাদেশ। এবার অজিদের ধরাশায়ী করে সাফল্যের ধারা অব্যাহত রেখেছে টাইগাররা। প্রথম ওয়ানডেতে বৃষ্টি আইনে ৮৬ রানের দাপুটে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ফর্মের তুঙ্গে আছে পেস আক্রমণ। তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা এবং মোস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে গড়া পেস ইউনিট বর্তমানে বিশ্বেরই অন্যতম সেরা। সাথে ব্যাটিং ইউনিটও প্রথম ম্যাচে জ্বলে উঠেছিল। আলাদা করে বলতে হবে চার বছর পর দলে ফিরেই বাজিমাত করা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের কথা। ফিনিশিং রোলে ৭০ বলে ৮৬ রানের হার না মানা ইনিংসে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন মোসাদ্দেক। পরে বল হাতে তুলেছেন জোড়া উইকেট। তার কাছে এমন পারফরম্যান্সই ছিল প্রত্যাশিত।

 

 

 

ব্যাটিংয়ে চিন্তার জায়গা কিছুটা আছে যদিও। প্রথম ওয়ানডেতে দুর্দান্ত শুরুর পরেও ৩০০ ছাড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। এই জায়গা নিয়ে ম্যাচ শেষেও আক্ষেপ ঝরেছে মোসাদ্দেকের কণ্ঠে। উড়ন্ত শুরুর পর মাঝের ওভারে কিছুটা ধীর হয়ে গিয়েছিল টাইগারদের ইনিংস। যার খেসারতই দিতে হয়েছে ২৮৪ রানে থেমে।

 

 

 

মাঝের ওভারে ব্যাটারদের আরেকটু আগ্রাসী হওয়ার তাই বিকল্প নেই। মিরপুরের সেই চেনা উইকেটের জুজু তো এখন আর নেই। ঘাসের ব্যাটিং সহায়ক উইকেটই থাকছে মিরপুরে। সেই উইকেট কাজে লাগিয়ে বোর্ডে বড় রান তোলার অভ্যাসটা গড়ে তোলা তাই খুবই জরুরি। ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে নিজেদের ব্যাটিংটা ঝালিয়ে নেওয়া, সাথে দ্রুত রান তোলার অভ্যাস, বড় রান তোলার অভ্যাস সবই দরকার। বাংলাদেশের ব্যাটিং ইউনিটও বেশ ভালোভাবেই জানে এসব। এখন শুধু কাজে লাগানোর পালা।

বাংলাদেশের একাদশে পরিবর্তনের সম্ভাবনা আজ খুব একটা নেই। আগের ম্যাচের একাদশই খেলাতে পারে টাইগাররা। যদিও বদল আনা হয় সাইফ হাসানের পরিবর্তে ঢুকতে পারেন সৌম্য সরকার। এছাড়া পেস ইউনিটে কাউকে বিশ্রাম দেওয়া হলে সেখানে খেলতে পারেন শরিফুল ইসলাম। এছাড়া বাকি সব জায়গায় থাকছেন আগের ম্যাচ খেলা ক্রিকেটাররাই। চেনা সৈনিকদের নিয়েই এক ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ জেতার কাজটা সেরে ফেলতে চাইবে ফিল সিমন্সের দল।

 

অস্ট্রেলিয়ার একাদশে বদলের সম্ভাবনা কিছুটা আছে। মাত্রই ঢাকায় নেমেছেন মিচেল মার্শ। ওয়ানডেতে তিনি খেলবেন বলে গুঞ্জন থাকলেও তা এখনও নিশ্চিত নয়। ফলে মার্শকে ছাড়াও নামতে হতে পারে অজিদেরকে। প্রথম ম্যাচে হারার পর এবার অবশ্যই সর্বশক্তি দিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে চাইবে অস্ট্রেলিয়া। বাড়তি স্পিনার খেলাতে চাইলে হাতে আছে ম্যাথু কুহনেম্যান, পেসার চাইলে খেলানো যেতে পারে বেন ডোয়ারসুইশকে। দেখা যাক কোন পথে আগায় অজিরা।

 

 

আজ ১১ জুন মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মাঠে গড়াচ্ছে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ। সিরিজে এখন ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ।

 

 

 

একনজরে দুই দলের সম্ভাব্য একাদশ :

বাংলাদেশ : তানজিদ হাসান তামিম, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস (উইকেটরক্ষক), তাওহিদ হৃদয়, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), তানভীর ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা, মুস্তাফিজুর রহমান। অস্ট্রেলিয়া : ম্যাথু শর্ট, কুপার কনোলি, মারনাস লাবুশেন, জশ ইংলিস (অধিনায়ক এবং উইকেটরক্ষক), অ্যালেক্স ক্যারি, ক্যামেরন গ্রিন, ম্যাট রেনশ, লিয়াম স্কট, জাভিয়ের বার্টলেট, নাথান এলিস ও অ্যাডাম জাম্পা।

বেগমগঞ্জে ৯ হাজার ৩১০ পিস ইয়াবাসহ ‘বুলেট ফারুক’ গ্রেপ্তার

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ৯ হাজার ৩১০ পিস ইয়াবাসহ শীর্ষ মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত মো. ওমর ফারুক ওরফে ‘বুলেট ফারুক’ (৪৪) কে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) ও র‍্যাব-৭-এর যৌথ অভিযান দল।

বুধবার (১০ জুন ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বেগমগঞ্জ মডেল থানার জমিদারহাট পূর্ব বাজার এলাকায় ফেনী–চৌমুহনী মহাসড়কে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

ডিএনসি জেলা কার্যালয় নোয়াখালী সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিদর্শক মো. সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে র‍্যাব-৭ ফেনী টিমের সহযোগিতায় অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় তার দেহ তল্লাশি করে কোমরে কস্টেপ দিয়ে লুকানো অবস্থায় ৫ হাজার ৩১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তার ব্যবহৃত রয়েল এনফিল্ড মোটরসাইকেলের টুলবক্স থেকে আরও ৪ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।

সব মিলিয়ে তার কাছ থেকে ৯ হাজার ৩১০ পিস ইয়াবা, মাদক বিক্রির ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা, একটি মোটরসাইকেল এবং দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

ডিএনসি জানায়, গ্রেপ্তারকৃত ওমর ফারুক দীর্ঘদিন ধরে নোয়াখালীর সেনবাগ, বেগমগঞ্জ ও ফেনীর দাগনভূঞা এলাকায় ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে নোয়াখালী, ফেনী ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় অস্ত্র মামলা ও মাদক আইনে মোট ১১টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, তিনি নিজস্ব মোটরসাইকেল ব্যবহার করে প্রতি সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার চট্টগ্রাম থেকে ইয়াবা এনে নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করতেন। তার নিয়ন্ত্রণে একাধিক খুচরা মাদক সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর দাগনভূঞা এলাকায় ১১ হাজার পিস ইয়াবাসহ তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন বলে জানিয়েছে ডিএনসি।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ (সংশোধিত ২০২০) অনুযায়ী বেগমগঞ্জ মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএনসি নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ।

মাদকাসক্তি প্রতিরোধে করণীয় তুলে ধরলেন উপপরিচালক আনিছুর রহমান

মাদকের অপব্যবহার রোধে তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করতে নীলফামারীতে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) বিকেল ৪টায় নীলফামারী সদর উপজেলার ককই বাজার সংলগ্ন ককই মিশনে এ কর্মশালার আয়োজন করে উত্তরবঙ্গ শিশু উন্নয়ন প্রকল্প, ককই, বিডি-০২৭৪। “নিজে বাঁচুন, পরিবারকে বাঁচান” স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত এ কর্মশালায় প্রকল্পের তরুণ-তরুণীরা অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, নীলফামারী জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ আনিছুর রহমান খান। তিনি মাদকের অপব্যবহার, এর সামাজিক ও পারিবারিক ক্ষতিকর প্রভাব এবং মাদকাসক্তি প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
আলোচনায় তিনি বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার ও সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। এ কারণে তরুণদের মাদক থেকে দূরে রেখে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি।
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মাদকবিরোধী শপথ পাঠ করানো হয়। পাশাপাশি “মাদককে না বলুন” লেখা সম্বলিত খাতা, কলম ও মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।
আয়োজকরা জানান, তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করতে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

চাল-ডালসহ ৬০ পণ্যে দাম কমানোর পরিকল্পনা বাজেটে

২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য সরকার যে বাজেট প্রস্তাব করতে যাচ্ছে, তাতে চাল-ডাল, আলু থেকে সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরার মতো ৬০টি প্রযুক্তি ও কৃষি পণ্যের দাম কমতে পারে। এসব পণ্যের ওপর বিদ্যমান উৎসে কর ৫ শতাংশ, ২ শতাংশ ও ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে মাত্র ০.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হতে পারে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট পেশকালে এই প্রস্তাব করতে পারেন।

 

 

 

অর্থমন্ত্রণালয় সূত্র জানা গেছে, সরকার এই ৬০টি পণ্যের তালিকায় মৌলিক কৃষি ও ভোগ্যপণ্যকে প্রাধান্য দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— ধান, চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, ভোজ্যতেল, চিনি, লবণ, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ এবং বিভিন্ন ধরনের বীজ।

 

 

 

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা জনজীবনে স্বস্তি আনবে বলে আশা করছে সরকার।

নিত্যপণ্যের বাইরেও সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের দাম কমার প্রস্তাব করা হচ্ছে বাজেটে। এরমধ্যে শিশুখাদ্য আমদানিতে শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া সব ধরনের মসলা ও খেজুর আমদানিতে ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হবে।

 

এছাড়াও, বাজেটে জীবন রক্ষাকারী হার্টের রিং বা স্টেন্টের দাম প্রায় ২০ হাজার টাকা এবং চোখের ইন্ট্রাওকুলার লেন্সের দাম প্রায় ৫ হাজার টাকা কমতে পারে। কিডনি রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহারের ফলে প্রতি ডায়ালাইসিসে খরচ প্রায় ৮০০ টাকা কমবে।

 

 

প্রযুক্তি ও যোগাযোগ খাতে প্রতিটি মোবাইল সিমের ওপর থাকা কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হতে পারে। পাশাপাশি ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, প্রিন্টার ও মনিটর আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট মওকুফ করা হচ্ছে।

 

 

 

বিনোদন ও সংস্কৃতিখাতে তরুণ প্রজন্মের জন্য গিটার, পিয়ানো, ভায়োলিনের মতো বাদ্যযন্ত্র এবং সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরার শুল্ক কমানোর প্রস্তাব করা হচ্ছে।

 

 

 

সরকারের এই নতুন রাজস্ব নীতি মূলত করের হার না বাড়িয়ে করের আওতা বাড়ানোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। সরকার মনে করছে, এই কর ছাড়ের ফলে উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যস্ফীতির চাপ প্রশমিত হবে।

 

জাল দলিলে টাকা তুলতে গিয়ে ধরা, দুজনের কারাদণ্ড

সিলেটে জাল দলিল ব্যবহার করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখা থেকে ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলন চেষ্টার অভিযোগে দুই দালালকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

 

 

 

বুধবার (১০ জুন) সন্ধ্যায় বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সিহাব বিন আমিন। এর আগে মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অধিগ্রহণ শাখায় এ ঘটনা ঘটে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের কারাদণ্ড প্রদান করেন।

 

 

 

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার ওসমানপুর গ্রামের মনির উদ্দিনের ছেলে আতিকুর রহমান (৫৬) এবং জালালাবাদ থানার চাতলীবন্দ গ্রামের আব্দুল্লাহর ছেলে সুজন আলী (৩০)। আতিকুর রহমানকে ৪ মাস এবং সুজন আলীকে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে কোতোয়ালি থানা পুলিশের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

 

সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সিহাব বিন আমিন গণমাধ্যমকে বলেন, জাল দলিলের মাধ্যমে টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করলে তাদের জালিয়াতি ধরা পড়ে। পরে তাদের আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সরকারি কাজে বাধা প্রদানসহ হুমকি দেওয়ার অভিযোগে সাজা দেওয়া হয়। পরে রাতে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

হলুদ জার্সিতে সিরাজগঞ্জ শহর মাতালো ব্রাজিল ভক্তরা

আর কয়েক ঘণ্টা পরই শুরু হচ্ছে ফুটবলের বৃহত্তম আসর ফিফা বিশ্বকাপ-২০২৬। এই মুহুর্তে সবকিছু ভুলে ফুটবল উন্মাদনায় মেতে উঠেছে যমুনা পাড়ের শহর সিরাজগঞ্জ।

 

 

 

বুধবার (১০ জুন) বিকেলে বিশাল র‌্যালি করেছে ব্রাজিল ভক্তরা। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে শহরের মুজিব সড়কে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রিয় দলের পতাকা হাতে হলুদ জার্সি পড়ে দলে দলে আসতে থাকেন সমর্থকরা।

 

নারী-পুরুষ ও শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের কেউ পায়ে হেঁটে, কেউ বা মোটর সাইকেলযোগ, রিকশায় চেপে র‌্যালি অংশ নেয়। র‌্যালির বিশেষ আকর্ষণ ছিল ট্রাকযোগে বিশাল সাউন্ডবক্স নিয়ে ডিজে গানের তালে তালে সমর্থকদের সাম্বা নৃত্য।

 

 

 

ব্রাজিল সমর্থকেরা বলেন, আমরা এবার হেক্সা মিশনে নেমেছি। এবার ব্রাজিল দল দারুণ ফর্মে আছে। ইনশাল্লাহ এবার ৬ নম্বর বিশ্বকাপ ঘরে তুলবো আমরা।

 

 

 

অপর এক সমর্থক আর্জেন্টিনার উদ্দেশ্যে বলেন, আমাদের পাঁচটা আছে তাদের তিনটা। তাদের সঙ্কে আমাদের দলের তূলণাই চলে না।

 

 

 

স্বামী জার্মানী, স্ত্রী ব্রাজিল ও মেয়েকে আর্জেন্টিনার জার্সি পড়িয়ে রিকশাযোগে র্যা লীতে অংশ নেয় একটি পরিবার। জানতে চাইলে জার্মান সমর্থক স্বামী বলেন, স্ত্রী ব্রাজিল সমর্থক তাই তাকে ব্রাজিলের র‌্যালিতে নিয়ে এসেছি। আমি চাই ব্রাজিল ভালো খেলুক তবে জার্মানি ৫ম বিশ্বকাপ জিতুক। মেয়ে আর্জেন্টিনা সমর্থক বলেন, এবারও আর্জেন্টিনাই কাপ জিতবে। স্ত্রী ব্রাজিল সমর্থক বলেন, আমাদের ঘরে এখন রীতিমোত গৃহযুদ্ধ লেগে গেছে।

 

 

 

র‌্যালির আয়োজকরা বলেন, আমরা শহরে দেখিয়ে দিতে চাই আর্জেন্টিনার চেয়ে বেশি সমর্থক রয়েছে ব্রাজিলের। আজকে সিরাজগঞ্জ শহর হলুদ জার্সির দোলায় দুলছে।

 

 

জুলাইয়ে পুলিশ হত্যাকারী সেই মাহদী আশ্রয় নিলেন থানায়

হবিগঞ্জের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মাহদী হাসান এবার থানায় আশ্রয় নিয়েছেন। ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ধাওয়া ও হামলার চেষ্টার অভিযোগ তুলে তিনি হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় প্রবেশ করেন। 

 

 

তবে অভিযোগটি অস্বীকার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

 

বুধবার (১০ জুন) দুপুরে হবিগঞ্জ শহরের পুরাতন হাসপাতাল সড়কে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় থাকা অবস্থায় ফেসবুক লাইভে এসে মাহদী থানায় প্রবেশ করেন। 

 

 

লাইভে তিনি দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশের জেরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাকে ধাওয়া দিয়ে হামলার চেষ্টা করছেন। তবে ছাত্রদলের দাবি, মাহদীর লাইভ ভিডিওতে তার অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

 

 

ভিডিওতে আশপাশে কাউকে দেখা যায়নি বলেও তারা উল্লেখ করে।

 

 

 

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশেদুল হক খান বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

 

 

 

এ নিয়ে পুলিশের একটি জরুরি বৈঠক চলছে। পরে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিস্তারিত জানাবেন।

 

 

 

জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মাহদীর বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, ‘লাইভ ভিডিওতে রিকশার পেছনে কাউকে দেখা যায়নি। ছাত্রদলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সাজানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’ 

 

 

 

মাহদী হাসান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন হবিগঞ্জ জেলার সদস্যসচিব। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে দেওয়া একটি ফেসবুক লাইভ এবং বিভিন্ন বিতর্কিত বক্তব্যের কারণে তিনি আলোচনায় আসেন। 

 

 

 

এর আগে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় গিয়ে ওসিকে ধমক দেওয়া, বানিয়াচং থানার এক উপপরিদর্শককে উদ্দেশ করে হুমকিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। 

 

 

আদালতে আত্মসমর্পণ উপজেলা আ.লীগ সাধারণ সম্পাদকের

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর বুধবার (১০ জুন) বেলা ১১টার দিকে সুনামগঞ্জ আমল গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে তিনি জামিন আবেদন করেন।

 

 

 

তবে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

 

 

আসামিপক্ষের আইনজীবী ও সুনামগঞ্জ জেলা জজ আদালতের অ্যাডভোকেট রুমেল মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রেজাউল করিম স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেছিলেন। আদালত জামিন শুনানি শেষে আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

 

তিনি আরও বলেন, আমরা পরবর্তীতে তাদের জামিনের জন্য উচ্চ আদালতে চেষ্টা করব।

 

আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৯ নভেম্বর জগন্নাথপুর উপজেলার মিরপুর ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মিরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল নূর বাদী হয়ে সাবেক পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নানসহ আওয়ামী লীগের ৪৯ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে জগন্নাথপুর থানায় এই মামলাটি করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছিল। চাঞ্চল্যকর এই মামলায় রেজাউল করিম রিজু অন্যতম এজাহারনামীয় আসামি ছিলেন।

 

 

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, এই মামলায় এ পর্যন্ত মোট ১৪ জন আসামিকে গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

 

 

জ্যোতিষীর ভবিষ্যদ্বাণী

সেমিফাইনালে ছিটকে পড়বে আর্জেন্টিনা, বিশ্বকাপ জিতবে ফ্রান্স

বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসের এক নতুন ঐতিহাসিক এবং রোমাঞ্চকর অধ্যায় রচনা হতে যাচ্ছে। এবার সকল নামিদামী দলকে হারিয়ে সোনালী ট্রফি ছিনিয়ে নিয়ে বিশ্ব জেতার মুকুট মাথায় পরবে ফ্রান্স। এমনই ভবিষ্যত বানী করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন দেশবরেন্য জোতিষী আবদুস ছালাম শিকদার।

 

 

 

 

মঙ্গলবার বিকাল পাঁচটায় তিনি এ স্ট্যাটাস দেন। এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়া নিয়ে ভবিষ্যত বানী এবং ইরান ও ইসরাইল-আমেরিকার যুদ্ধ নিয়ে তার ভবিষ্যত বানী সত্য প্রমানিত হয়েছে।

 

 

 

ফেসবুকে দেয়া এই জ্যোতিষীর পোষ্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো। তিনি লেখেন, ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে এক তুমুল উন্মাদনা। সাধারণ মানুষ যখন দলগুলোর অতীত পরিসংখ্যান আর পারফরমেন্স নিয়ে হিসাব-নিকাশ করতে ব্যস্ত, তখন প্রচলিত সব ধারণাকে পাশ কাটিয়ে এই ফুটবল মহাযজ্ঞের চূড়ান্ত নিয়তি ইতিমধ্যেই নির্ধারিত হয়ে গেছে।​

 

এবারের টুর্নামেন্টে বিশ্ববাসী এমন কিছু অবিশ্বাস্য অঘটন আর চরম ট্র্যাজেডি দেখবে, যা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। কোটি ভক্তের বুকভাঙ্গা কান্না আর মাঠের রক্তক্ষয়ী লড়াই সত্ত্বেও বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং ইউরোপের শক্তিশালী দল স্পেনকে বিদায় নিতে হবে সেমিফাইনালের মঞ্চ থেকেই। এক নির্মম সত্যের মুখোমুখি হয়ে লাতিন আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্বের সূর্যখ্যাত ব্রাজিল এবার ফাইনালের ঠিক আগের মুহূর্তে এসে ফুটবলের আকাশ থেকে অস্তমিত হবে।​ফাইনালের সেই ঐতিহাসিক দিনে মেটলাইফ স্টেডিয়ামের রণাঙ্গনে মুখোমুখি হবে ইউরোপের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পরাশক্তি ইংল্যান্ড এবং ফ্রান্স।একদিকে থাকবে দীর্ঘদিনের শিরোপার খরা কাটিয়ে বিশ্বজয়ে মরিয়া ইংলিশরা, আর অন্যদিকে থাকবে অপ্রতিরোধ্য শক্তির ফরাসিরা।

কিন্তু ট্রফি ছোঁয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে, কাপের একদম দ্বারপ্রান্তে গিয়ে এক অদৃশ্য দেওয়ালে ধাক্কা খাবে ইংল্যান্ডের সব স্বপ্ন। এক বুক দীর্ঘশ্বাস আর বীরোচিত পরাজয় সঙ্গী করে মাঠ ছাড়তে হবে তাদের, রানার আপের মর্যাদা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে ইংলিশদের।​কারণ, ১৯শে জুলাইয়ের সেই মোক্ষম ক্ষণে এক অনন্য এবং জাদুকরী আশীর্বাদ বর্ষিত হবে ফরাসিদের ওপর। উল্লেখিত সমস্ত পরিস্থিতি আর শক্তির গতিপথকে সামনে রেখে আজ অত্যন্ত স্পষ্ট ও দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করছি- ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের মঞ্চে ইংল্যান্ডের দর্প চূর্ণ করে, সোনালী ট্রফি ছিনিয়ে নিয়ে বিশ্ববিজেতার মুকুট মাথায় পরবে ফ্রান্স। এই ভবিষ্যৎবাণী ফুটবল ইতিহাসের এক নতুন ঐতিহাসিক এবং রোমাঞ্চকর অধ্যায় রচনা করতে যাচ্ছে।

 

 

তিনি আরও লেখেন, যারা সমসাময়িক খবরের কাগজের বিশ্লেষণ বা গাণিতিক পরিসংখ্যানের বাইরে গিয়েও বাস্তব সত্যকে আগেভাগেই অনুধাবন করতে ভালোবাসেন, এই বার্তাটি মূলত তাঁদের কৌতূহল নিবৃত্তির জন্য। ফুটবল মাঠে বল গড়ানোর পর থেকে প্রতিটি মুহূর্তের ঘটনাপ্রবাহ যখন এই পূর্বাভাসের সাথে অক্ষরে অক্ষরে মিলতে শুরু করবে, তখন সংশয়বাদীদের সমস্ত যুক্তিই ম্লান হয়ে যাবে।

 

 

 

১৯শে জুলাইয়ের ঐতিহাসিক ফাইনাল ম্যাচ শেষে এই প্রতিটি শব্দের বস্তুনিষ্ঠতা ও সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সবাইকে অগ্রিম আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখলাম। যুক্তিপূর্ণ যেকোনো আলোচনা বা কৌতূহল নিয়ে সরাসরি যোগাযোগের দরজা উন্মুক্ত রইলো।

 

 

 

জ্যোতিষী মো. আবদুছ ছালাম শিকদার কালবেলাকে বলেন, আমি প্রায় দুই সপ্তাহ প্রচেষ্টার পর প্রেডিকশনটি সম্পন্ন করেছি। আল্লাহর রহমতে এর আগেও আমার বিভিন্ন প্রেডিকশন সফল হয়েছিলো। আমি ২০১৪ সালে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ এ্যাস্ট্রোলোজি থেকে জ্যোতিষ ডিগ্রী অর্জন করেছি। মানুষ আমাকে প্রেডিকশন করতে উৎসাহ যোগায় এজন্যই মূলত প্রেডিকশন করি।

 

 

 

জ্যোতিষী আবদুস ছালাম শিকদার ১৯৮২ সালের ২ এপ্রিল পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের বাদুরতলী গ্রামের সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম হাজী মো. জালাল উদ্দিন শিকদার। ছয় ভাই বোনের মধ্যে আবদুস ছালাম জালাল উদ্দিনের দ্বিতীয় সন্তান।

সুত্র: দৈনিক কালবেলা

 

কৃষক দল নেতাকে হত্যা, জড়িতদের খুঁজছে পুলিশ

বাগেরহাটের ফকিরহাটে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে কৃষক দল নেতা আনিসুর রহমান বাদল (৪০) নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৯ জুন) রাত ১০টার দিকে উপজেলার মূলঘর ইউনিয়নের নিয়তির মাঠ এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

 

 

পুলিশ লাশ উদ্ধার করে বুধবার (১০ জুন) সকালে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করেছেন। ঘটনার পর ১৭ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (বেলা সাড়ে ৩টা) থানায় মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন ফকিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সাইফুল ইসলাম।

 

 

নিহত আনিসুর রহমান বাদল মোড়ল বাগেরহাট সদর ইউনিয়নের আড়পাড়া গ্রামের মৃত জাফর মোড়লের ছেলে। তিনি বাগেরহাট সদর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি ছিলেন। এছাড়াও এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন আব্দুল্লাহ মোড়ল। তিনি একই গ্রামের মৃত নুর ইসলাম মোড়লের ছেলে। তিনি বারুইপাড়া ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি।

কৃষক দলের সভাপতি আনিসুর রহমান বাদল মোড়ল খুনের ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি, সহযোগী ও অংগ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

হত্যার প্রতিবাদে বারইপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির পক্ষ থেকে কালো ব্যাচ ধারণ ও বেলা ১১টায় বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বাদ আসর স্থানীয় আড়পাড়া স্কুল মাঠে নিহতের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বাগেরহাট সদর উপজেলা থেকে বিএনপি নেতা আনিসুর রহমান বাদল মোড়ল ও আব্দুল্লাহ মোড়ল ভ্যানযোগে ফকিরহাট যাচ্ছিলেন। এ সময় মূলঘর ইউনিয়নের সোনাখালী গ্রামের নিয়তির মাঠ এলাকায় পৌঁছালে অজ্ঞাত ৭/৮ জনের একদল দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীদের এলোপাথাড়ি কোপ ও ছুরিকাঘাতে ঘটনাস্থলেই বাদল মোড়লের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় আব্দুল্লাহ মোড়লকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানান চিকিৎসক ডা. সুকান্ত ম-ল।

 

 

ফকিরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সাইফুল ইসলাম বলেন, নিহত মো. বাদল মোড়লের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান শুরু করেছে।

 

 

জেলা বিএনপি নেতা খান মনিরুল ইসলাম বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বারুইপাড়া ইউনিয়নে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সে সময় ১১ জন বিএনপি নেতাকর্মী গুরুতর জখম হয়েছিল। আবারও এই হামলা পূর্ব পরিকল্পনার অংশ কিনা তা খতিয়ে দেখতে আমি পুলিশ প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাই।

 

 

হৃদরোগীদের জন্য সুখবর! কমলো হার্টের রিংয়ের দাম

হৃদরোগ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হার্টের রিং বা করোনারি স্টেন্টের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। বেশিরভাগ রিংয়ের দাম পূর্বের তুলনায় ৩ হাজার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ প্রায় ৪৮ হাজার টাকা কমানো হয়েছে। ট্যাক্স, ভ্যাট, বিভিন্ন চার্জ, কমিশন এবং আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর যুক্তিসংগত মুনাফা বিবেচনা করে এই মূল্য সংশোধন করা হয়েছে।

 

 

 

বুধবার (১০ জুন) ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মোাহাম্মদ আলমগীর হোসেনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

 

 

নতুন নির্ধারিত এই মূল্য অবিলম্বে কার্যকর হবে। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত বিশেষজ্ঞ পরামর্শক কমিটির সিদ্ধান্ত ও সুপারিশের আলোকে এই মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়।

 

বিজ্ঞপ্তিতে মোট ২৯টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের হার্টের রিংয়ের পূর্ববর্তী মূল্য এবং নতুন অনুমোদিত মূল্যের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকায় দেখা যায়, বেশিরভাগ রিংয়ের দাম পূর্বের তুলনায় ৩ হাজার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৪৭ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে।

 

হাসপাতালগুলোর জন্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ৪ নির্দেশনা নতুন মূল্য তালিকা প্রকাশের পাশাপাশি দেশের সব কার্ডিয়াক চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী হাসপাতালের জন্য ৪টি বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে অধিদপ্তর। সেগুলো হলো- ১. স্টেন্টসমূহের হালনাগাদ মূল্য তালিকা সর্বসাধারণের অবগতির জন্য সংশ্লিষ্ট সব হাসপাতালের নোটিশ বোর্ডে উন্মুক্ত স্থানে প্রদর্শন করতে হবে। ২. সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য অনুসরণ করে রিং ক্রয়-বিক্রয় করতে হবে। এটি কোনোভাবেই চিকিৎসা প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। ৩. স্টেন্টের নাম, সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য এবং উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করে রোগীকে পৃথক ক্যাশমেমো দিতে হবে। ৪. অস্ত্রোপচারের পর ব্যবহৃত স্টেন্টের খালি প্যাকেট বাধ্যতামূলকভাবে রোগীকে সরবরাহ করতে হবে।

 

 

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের সব কার্ডিয়াক হাসপাতালে হার্টের রিং সরবরাহ এবং তা অনুমোদিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যে বিক্রি হচ্ছে কি না— তা কঠোরভাবে মনিটরিং করা হবে।

 

 

 

বাজারে বিভিন্ন দামের স্টেন্ট পাওয়া যায়। নতুন তালিকায় সর্বনিম্ন ১৪ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৬৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দামের স্টেন্টও রয়েছে।

 

 

 

বাংলাদেশে রিং আসে দেশের বাইরে থেকে। সাধারণত ইউরোপ-আমেরিকা থেকে এগুলো আমদানি করেন ব্যবসায়ীরা। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও জার্মানি, পোল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, নেদারল্যান্ডস ও আয়ারল্যান্ড থেকে রিং আসে বাংলাদেশে। এছাড়া জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারত থেকেও রিং আমদানি করা হয়।

 

 

‘টয় স্টোরি ৫’ প্রিমিয়ারে নজর কাড়লেন টেইলর সুইফট

হলিউডে যেন বসেছিল তারার মেলা। বহু প্রতীক্ষিত অ্যানিমেশন ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘টয় স্টোরি’র পঞ্চম কিস্তির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার ঘিরে লস অ্যাঞ্জেলেসের ডলবি থিয়েটারে বসেছিল তারকাদের মহামিলনমেলা। তবে জমকালো এই আয়োজনের সব আলো কেড়ে নেন পপ সম্রাজ্ঞী টেইলর সুইফট। একেবারে আকস্মিক উপস্থিতিতে ভক্তদের বিস্ময়ে ভাসিয়ে দিয়ে তিনি প্রিমিয়ারের সবচেয়ে বড় চমক হয়ে ওঠেন। আর সেই মুহূর্তে ‘টয় স্টোরি ৫’ ঘিরে দর্শকদের উন্মাদনা যেন পৌঁছে যায় নতুন উচ্চতায়।

 

 

শুধু লাল গালিচায় হাঁটাই নয়, মঞ্চে উঠে সরাসরি পারফর্মও করেন তিনি। এই সিনেমার সাউন্ডট্র্যাকের জন্য তৈরি নিজের মৌলিক গান ‘আই নিউ ইট, আই নিউ ইউ’ গেয়ে শোনান সুইফট।

 

 

পারফরম্যান্সের সময় তার সঙ্গে মঞ্চে যোগ দেন এই ফ্র্যাঞ্চাইজির কিংবদন্তি সংগীত পরিচালক ও অস্কারজয়ী সুরকার র‌্যান্ডি নিউম্যান। নিউম্যানের পিয়ানোর সুরে সুইফটের কণ্ঠের মেলবন্ধন উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে। শুধু নিজের গানই নয়, এই ফ্র্যাঞ্চাইজির চিরচেনা থিম সং ‘ইউ’ভ গট আ ফ্রেন্ড ইন মি’ গেয়েও হলভর্তি দর্শক মাতান টেলর সুইফট।

ডিজনি ও পিক্সারের ‘টয় স্টোরি ৫’ সিনেমার গল্পে এবার থাকছে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া। প্রিয় চরিত্র উডি (টম হ্যাংকস), বাজ লাইটইয়ার (টিম অ্যালেন) এবং জেসি (জোয়ান কিউস্যাক) সহ পুরো খেলনা দলটিকে এবার এক নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। তাদের ছোট্ট বন্ধু বনির ঘরে আগমন ঘটে লিলি প্যাড (গ্রেটা লি) নামের একটি আধুনিক ট্যাবলেট ডিভাইসের। বনির জন্য আসলে কোনটি ভালো—তা নিয়ে খেলনাদের চিরন্তন ভাবনার বিপরীতে একদম নিজস্ব কিছু আইডিয়া নিয়ে হাজির হয় এই ট্যাবলেটটি। আর এ নিয়েই জমজমাট রূপ নেয় সিনেমার গল্প।

 

সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন একাডেমি পুরস্কার বিজয়ী জনপ্রিয় পরিচালক অ্যান্ড্রু স্ট্যান্টন, যার ঝুলিতে রয়েছে ‘ওয়াল-ই’, ‘ফাইন্ডিং নেমো’ এবং ‘ফাইন্ডিং ডোরি’র মতো মাস্টারপিস। সহ-পরিচালক হিসেবে তার সঙ্গে আছেন কেন্না হ্যারিস। সিনেমাটি প্রযোজনা করেছেন লিন্ডসে কলিন্স। বরাবরের মতোই এর আবহ সংগীতের দায়িত্বে আছেন অস্কারজয়ী র্যান্ডি নিউম্যান, এটি টয় স্টোরি ফ্র্যাঞ্চাইজির কোনো সিনেমায় তার পঞ্চম কাজ।

জমকালো এই প্রিমিয়ারে সিনেমার মূল কণ্ঠশিল্পীরা হাজির হয়েছিলেন। লাল গালিচায় দেখা মেলে টম হ্যাংকস, টিম অ্যালেন, জোয়ান কিউস্যাক, কোনান ও’ব্রায়েন, গ্রেটা লি, ক্রেগ রবিনসন, টনি হেল এবং স্কারলেট স্পিয়ার্সের মতো তারকাদের।

প্রযুক্তিনির্ভর শান্তিরক্ষা মিশনের রূপরেখা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের চ্যালেঞ্জ দিন দিন জটিল ও বহুমাত্রিক হয়ে উঠছে। তাই ভবিষ্যতে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা মিশনগুলোকে আরও আধুনিক, দূরদর্শী ও প্রযুক্তিনির্ভর হতে হবে।

 

 

মঙ্গলবার (১০ জুন) সকালে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন কিংবা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দায়িত্ব পালনের জন্য সরকার সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার মহান দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যারা আত্মত্যাগ করেছেন, আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসে সারা বিশ্বের সেই সাহসীদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।

তিনি বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষাবাহিনীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ১৯৮৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ১৭৫ জন শান্তিরক্ষী শহীদ হয়েছেন। অনেকে আহত হয়েছেন। তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষাবাহিনীর সদস্য হিসেবে শহীদদের এই আত্মদান, যুদ্ধবিরোধী ও শান্তিকামী মানুষের জন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

 

তিনি আরও বলেন, তাদের এই আত্মত্যাগ প্রমাণ করে, শুধু মাতৃভূমির স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বই নয় জাতিসংঘের পতাকাতলে শান্তিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে যে কোনো মূল্যে শান্তিরক্ষায় বদ্ধপরিকর।

 

 

কিন্তু এ পথ বন্ধুর ছিল জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বমঞ্চে যে গৌরব ও কৃতিত্ব অর্জন করেছেন, তা সহজ ছিলো না। শত প্রতিকূলতা, সীমাবদ্ধতা এবং কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে এই মহান ও মানবিক দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে তাদের।

 

 

শান্তিরক্ষীদের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থেকে একটি প্রতিকূল পরিবেশে আপনারা নিষ্ঠা, সাহস ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় আপনাদের এই অবদানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।

 

 

অনুষ্ঠানের শুরুতেই ভিডিওচিত্রের মাধ্যমে জাতিসংঘের শান্তি মিশনে দেশের সামরিক বাহিনীর অবদান তুলে ধরা হয়। একইসঙ্গে শহীদ হওয়া শান্তিরক্ষীদের পরিবার ও আহতদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

 

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ পর্যন্ত বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের ২ লাখেরও বেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বের ৪৩ টি দেশের প্রায় ৬৩ টি শান্তিরক্ষা মিশনে সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার ৮৬০ বাংলাদেশি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ১০ টি শান্তিরক্ষা মিশনে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। হাইতিতে নতুন একটি মিশনে যোগ দেয়ারও প্রস্তুতি চলছে।

 

 

তিনি বলেন, পুরুষের পাশাপাশি বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের প্রায় ১১ শতাংশ নারী সদস্য সাহসের সঙ্গে যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু বিশ্ব শান্তি রক্ষায় আমাদের এই গৌরবের ইতিহাস একদিনে রচিত হয়নি। প্রায় চার দশক ধরে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সশস্ত্রবাহিনী একটি আস্থা ও নির্ভরতার নাম।

 

 

সশস্ত্রবাহিনী একটি দেশের স্বাধীনতা, সম্মান ও সাহসের প্রতীক জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের জন্মযুদ্ধে সেনাবাহিনীর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক। সেনাবাহিনীর একজন মেজর বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই গৌরব ও অহংকার আমাদের সশস্ত্রবাহিনীর জন্য অনন্ত প্রেরণার উৎস। তাই এই গৌরব যেন কোনোভাবেই ম্লান না হয় সেটি রক্ষা করা সশস্ত্রবাহিনীর কর্তব্য।

 

 

তিনি বলেন, তবে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে, দেশে সশস্ত্রবাহিনীর কিংবা সশস্ত্র বাহিনীকে নিয়ে কিছু অপতৎপরতা কখনো কখনো জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির কারণ হয়েছে। দেশে বিদেশে সশস্ত্রবাহিনীর ইমেজ বিনষ্ট করতে নানা তৎপরতাও বিদ্যমান ছিল। তবে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে ১৯৭৫ এর সাত নভেম্বর স্বাধীনতার ঘোষকের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী ঐক্যবদ্ধভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল।

 

 

তারেক রহমান বলেন, এরপরও বিভিন্ন সময়ে নানারকম ঘটনায় সশস্ত্রবাহিনীর ঐক্য বিনষ্টের তৎপরতা চলেছে। ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সশস্ত্রবাহিনীর ওপর সর্বগ্রাসী আঘাতটি এসেছিল। সেই আঘাতের ফলে বাংলাদেশে কি ঘটেছিলো সেটি আমাদের সবার জানা। তাই, ইউনিফর্মধারী বাহিনীর জন্য প্রধান বার্তাটি হলো, ‘প্রফেশনালিজম, ইউনিটি, ডিসিপ্লিন এবং চেইন অফ কমান্ড’ ছাড়া সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে টিকে থাকা কঠিন।

 

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধুই অতীত চর্চা নয় বরং অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতিটি রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সামনে স্বমহিমায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। যারা সশস্ত্রবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করছেন অথবা সরকারে বা জনপ্রশাসনে রয়েছেন, আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। আমরা দেশে বা বিদেশে যেখানে যে দায়িত্ব পালন করছি, সেই দায়িত্বটি যথাযথভাবে পালন করাই হোক আজকের দিনে আমাদের অঙ্গীকার।

 

 

বর্তমান বিশ্ব এক জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ ও প্রযুক্তির দ্রুত বিবর্তনের ফলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের চ্যালেঞ্জগুলো এখন অনেক বেশি বহুমুখী ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রথাগত যুদ্ধের পাশাপাশি সাইবার যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার, মিডিয়া অপপ্রচার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট নিরাপত্তা সংকট বিশ্বশান্তির নতুন অন্তরায়।

 

 

বাংলাদেশ সব সময় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং পারস্পরিক রাষ্ট্রীয় মর্যাদার নীতিতে বিশ্বাসী উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাই আমাদের ভবিষ্যৎ মিশনগুলো হতে হবে আরও আধুনিক, দূরদর্শী এবং প্রযুক্তিনির্ভর। এমন পরিস্থিতিতে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন কিংবা আন্তর্জাতিক পরিম-লে দায়িত্ব পালনের জন্য সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনী আধুনিক করতে সরকার পর্যায়ক্রমিকভাবে উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।’

 

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সংবিধানে বিশ্বশান্তি, আন্তর্জাতিক সহাবস্থান ও ন্যায়বিচারের প্রতি যে অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে, আমরা তা বজায় রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বাংলাদেশ যে কোনো আগ্রাসন ও সংঘাতের বিরুদ্ধে একটি নিরাপদ ও শান্তিময় পৃথিবী গড়ে তুলতে বহুপাক্ষিক কূটনীতি ও জাতিসংঘ সনদের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল।

 

 

তিনি বলেন, বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা তাদের আন্তরিকতা, কর্তব্যবোধ এবং পেশাদারিত্বের গৌরবোজ্জ¦ল দৃষ্টান্ত বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করেছে। শান্তিরক্ষা মিশনের প্রতিটি সদস্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলাদেশের প্রতিনিধি, দেশের মান-সম্মানের বাহক। আশা করি, আগামী দিনেও যারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দায়িত্ব পালন করতে বিভিন্ন দেশে যাবেন, তারা একইভাবে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের সুনাম সমুন্নত রাখবেন।

 

 

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান প্রমুখ।

 

 

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী পরিষদের সদস্য, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধানসহ সশস্ত্রবাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ এবং বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিকগণ উপস্থিত ছিলেন।

 

 

প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী ২৯ মে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস পালিত হয়। কিন্তু এবার বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি থাকায় রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ ১০ জুন এটি পালিত হচ্ছে।

 

পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে ১৯ জন গ্রেপ্তার

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিমসার বাজারে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযান চালিয়ে ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

 

 

বুধবার (১০ জুন) বিকেলে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।

 

 

পুলিশ সুপার জানান, মঙ্গলবার অবৈধ থ্রি-হুইলার আটককে কেন্দ্র করে একদল দুর্বৃত্ত হাইওয়ে পুলিশের একটি গাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। ঘটনার পরপরই জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তাররা হলেন- বিল্লাল হোসেন, ইউসুফ মিয়া, হাসান, রিফাত, হাবিব, মফিজ, আক্তার হোসেন, সিফাত, রবিউল, আবু ইউসুফ ইকরাম, জুয়েল, সারোয়ার হোসেন, নুপুর সাহা, সোহাগ মিয়া, বিল্লাহ, সোহেল মিয়া, ইব্রাহিম খলিল, দেলোয়ার হোসেন ও আজিজুল।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

 

পুলিশ সুপার বলেন, মহাসড়কে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

3 thoughts on “স্বাস্থ্যসেবা ও আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে গজারিয়া সচেতন সমাজের মতবিনিময় সভা

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

স্বাস্থ্যসেবা ও আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে গজারিয়া সচেতন সমাজের মতবিনিময় সভা

আপডেট টাইম : ০৫:৪৭:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় স্বাস্থ্যসেবা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং গজারিয়া থানায় পৃথক মতবিনিময় সভা করেছে সামাজিক সংগঠন গজারিয়া সচেতন সমাজ

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে গজারিয়া সচেতন সমাজের একটি প্রতিনিধি দল প্রথমে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করে। পরবর্তীতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএস কার্যালয়ে ‘গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিদ্যমান সমস্যা ও উত্তরণ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শারমিন আক্তার তিথী, গজারিয়া সচেতন সমাজের সভাপতি রুহুল আমিন খান, সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার দিদার আলম, সিনেট বোর্ড সদস্য প্রকৌশলী মামুন শরীফ, এবাদুল হক, ইউসুফ আলী দেওয়ান, তোফাজ্জল হোসেন সরকার, সহ-সভাপতি শেখ নজরুল ইসলাম ও আ. জাব্বার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রাসেল, সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নূরে আলম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সারোয়ার খান, কোষাধ্যক্ষ ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ মো. শাকিল, কার্যনির্বাহী সদস্য আমজাদ হোসেন, সদস্য আল আমিনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

পরে প্রতিনিধি দলটি উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক ও সন্ত্রাস দমন, ইভটিজিং প্রতিরোধ এবং সামাজিক অবক্ষয় রোধে করণীয় বিষয়ে গজারিয়া থানা অফিসার ইনচার্জের কার্যালয়ে মতবিনিময় সভা করে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ গজারিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল এসপি) ইমরান আহাম্মেদ পিপিএম, গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসান আলী, ওসি (তদন্ত) সাব্বির হোসেন এবং গজারিয়া সচেতন সমাজের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে বাধ্যতামূলক হচ্ছে কারিগরি শিক্ষা

ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে পর্যায়ক্রমে সব শিক্ষার্থীর জন্য কারিগরি শিক্ষা চালুর ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

 

 

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় তিনি এ ঘোষণা দেন।

 

 

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে একটি দক্ষতাভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে পর্যায়ক্রমে সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা চালু করা হবে। যাতে প্রতিটি শিক্ষার্থী কর্মবাজার-উপযোগী অন্তত একটি দক্ষতা-কৃষি, আইসিটি, বিদ্যুৎ, ইলেকট্রনিক্স, গ্রাফিক ডিজাইন, পর্যটন, স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ ও সৃজনশীল শিল্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের সুযোগ পায়।

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বেড়েছে ৪৯ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে নতুন বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা, যা জিডিপির ২ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৮৭ হাজার ২০৬ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

বিএনপি সরকারের প্রথম এই বাজেটের শিরোনাম দেওয়া হয়েছে–‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’। এই বক্তৃতা বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমানও উপস্থিত রয়েছেন।

 

 

আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪৬ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে এই বরাদ্দের পরিমাণ ৩৫ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা হলেও সংশোধিত বাজেটে তা কমে ৩১ হাজার ৭১৮ কোটিতে দাঁড়ায়।

 

 

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে আগামী অর্থবছরে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫৭ হাজার ৩০১ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে এই বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ৪৭ হাজার ৫৬৩ কোটি টাকা। পরে সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ কমে দাঁড়ায় ৪১ হাজার ৭৫৩ কোটি টাকা।

 

 

একই মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে আগামী অর্থবছরে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৮ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা, চলতি অর্থবছরে যা ছিল ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ কমিয়ে ১২ হাজার ৩৯৬ কোটি করা হয়।

 

 

মাত্র ১০ টাকার জেরে আয়েশা হত্যাকাণ্ড, ধরা পড়ল প্রধান আসামি

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় মাত্র ১০ টাকা পাওনা নিয়ে সৃষ্ট তুচ্ছ বিরোধের জেরে সংঘটিত আলোচিত আয়েশা খাতুন (৪০) হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে জহিরুল ইসলামকে ফুলবাড়িয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগে বুধবার রাত ১টার দিকে গাজীপুর সদর উপজেলার ভোগড়া বাইপাস এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

গ্রেপ্তার জহিরুল ইসলাম ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার বাকতা ইউনিয়নের কৈয়ারচালা গ্রামের বাসিন্দা।

 

 

র‌্যাব-১৪ সূত্রে জানা গেছে, নিহত আয়েশা খাতুন একই গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। আয়েশা খাতুনের ছেলে আশিক মিয়ার কাছে তার ভাতিজা জহিরুল ইসলামের ১০ টাকা পাওনা ছিল। ওই পাওনা টাকা নিয়ে ঘটনার দিন বিকেলে আশিক মিয়া ও জহিরুল ইসলামের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি শান্ত করার উদ্দেশ্যে আশিক মিয়ার মা আয়েশা খাতুন ঘটনাস্থলে এগিয়ে আসেন।

অভিযোগ রয়েছে, উত্তেজিত জহিরুল ইসলাম ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় আয়েশা খাতুন ঘটনাস্থলেই মারা যান। গত ১৪ এপ্রিল বিকেলে ফুলবাড়িয়া উপজেলার বাকতা ইউনিয়নের কৈয়ারচালা গ্রামে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

এ হত্যাকাণ্ডের পরপরই অভিযুক্ত জহিরুল ইসলাম আত্মগোপনে চলে যায়। পরদিন ১৫ এপ্রিল নিহতের মা বাদী হয়ে ফুলবাড়িয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রাখে। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় র‌্যাব-১৪ আসামির অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

র‌্যাব-১৪ ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সামসুজ্জামান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জহিরুল ইসলামের অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। পরে গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারের পর মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

নতুন শিক্ষানীতিতে বাংলা-ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা বাধ্যতামূলক

বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি শিক্ষাক্রমে বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সরকার তৃতীয় ভাষা শিক্ষার জন্য বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য গমনেচ্ছু শিক্ষার্থীদের ১০ লক্ষ টাকা ঋণ সুবিধা প্রদান করছে।

 

 

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় তিনি এ পরিকল্পনার কথা বলেন।

 

 

অর্থমন্ত্রী বলেন, শিক্ষাক্রমে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা যেমন- জাপানিজ, কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন, আরবি, ফ্রেঞ্চ, জার্মান ইত্যাদি কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে সরকার তৃতীয় ভাষা শিক্ষার জন্য বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য গমনেচ্ছু শিক্ষার্থীদের ১০ লক্ষ টাকা ঋণ সুবিধা প্রদান করছে।

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বেড়েছে ৪৯ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে নতুন বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা, যা জিডিপির ২ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৮৭ হাজার ২০৬ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

বিএনপি সরকারের প্রথম এই বাজেটের শিরোনাম দেওয়া হয়েছে– ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’। বাজেট বক্তৃতা বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে।

বিএনপি সরকারের অর্থ মন্ত্রী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য মোট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছেন। যা বিগত অর্থবছরের তুলনায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। সবশেষ ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট দিয়ে গিয়েছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।

 

 

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমানও উপস্থিত রয়েছেন।

 

 

আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪৬ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে এই বরাদ্দের পরিমাণ ৩৫ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা হলেও সংশোধিত বাজেটে তা কমে ৩১ হাজার ৭১৮ কোটিতে দাঁড়ায়।

 

 

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে আগামী অর্থবছরে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫৭ হাজার ৩০১ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে এই বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ৪৭ হাজার ৫৬৩ কোটি টাকা। পরে সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ কমে দাঁড়ায় ৪১ হাজার ৭৫৩ কোটি টাকা।

 

 

একই মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে আগামী অর্থবছরে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৮ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা, চলতি অর্থবছরে যা ছিল ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ কমিয়ে ১২ হাজার ৩৯৬ কোটি করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর জুনের শেষ সপ্তাহে: ডেপুটি স্পিকার

 

বাংলাদেশের নব নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকার গঠনের পর দ্বিতীয় দেশ হিসেবে সফরের জন‍্য চীনকে বেছে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের সিদ্ধান্ত, বাংলাদেশের সাথে চীনের বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং উভয় দেশের সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতাকে আরেক ধাপ এগিয়ে দেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

 

 

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিং-এ ৭ম চায়না-সাউথ এশিয়া কোঅপারেশন ফোরামে ‍দেওয়া বক্তব্যে ডেপুটি স্পিকার এই তথ্য জানান।

 

 

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল প্রসঙ্গক্রমে ১৯৭৭ ও ১৯৮০ সালে বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট্র নীতির প্রবর্তক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর চীন সফরের কথা তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ‍্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের শুভ সূচনা হয় তার হাত ধরেই।

যার ধারাবাহিকতায়, মরহুম প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ ও ২০০২ সালে ঐতিহাসিক চীন সফরের মাধ্যমে সেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও জোরদার করেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রণীত পররাষ্ট্রনীতিতেই আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়টি বিদ্যমান আছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি জিয়াউর রহমানের দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (SAARC) গঠনের উদ্যোগের কথা ফোরামে তুলে ধরেন। তিনি এমন এক দক্ষিণ এশিয়ার স্বপ্ন দেখতেন যেখানে দেশগুলো তাদের জনগণের জন্য শান্তি, উন্নতি এবং সমৃদ্ধির জন‍্য এক সাথে কাজ করবে। এই প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং আলোচনার প্লাটফর্ম হিসেবে সার্ককে অবশ্যই কার্যকর করার সময় হয়েছে এখন।

দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর সাথে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের অবজার্ভার দেশ হিসেবে চায়না সার্ককে কাজে লাগাতে পারে বলে মনে করেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কাইসার কামাল।

 

 

ডেপুটি স্পিকার বৈশ্বিক বর্তমান জ্বালানি সংকট, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, উন্নয়নশীল দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান ঋণের বোঝা, বিশ্ব বাণিজ্যের ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীলতা ইত্যাদি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা কোনো একক দেশের পক্ষে সম্ভব নয়। এজন্য আঞ্চলিক সহযোগিতা বর্তমান বিশ্বে একটি অপরিহার্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

 

ডেপুটি স্পিকার বলেন, বিশ্বব্যাপী দেশে দেশে সম্পর্কের ভীত মজবুত করে ডিজিটাল এবং অর্থনৈতিক বহুমুখী উদ্যোগ, আন্তঃসীমানা অবকাঠামো, বাণিজ্য করিডোর এবং ডিজিটাল হাইওয়ে, শিক্ষা, সংস্কৃতি, পর্যটন এবং তরুণদের অভিজ্ঞতার আদান প্রদান ইত্যাদি সময়োপযোগী পদক্ষেপের মাধ্যমে জনগণ এবং অর্থনৈতিক সংযোগ বৃদ্ধি করে একযোগে বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলা করতে হবে।

 

 

৭ম চায়না-সাউথ এশিয়া কোঅপারেশন ফোরামে আরো বক্তব্য রাখেন ইউনান প্রভিন্সের গভর্নর মি. ওয়াং ইউরো, নেপাল ন‍্যাশনাল এসেম্বলির ভাইস চেয়ারম্যান লায়লা কুমারী বান্দরী, মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ইরাথিশাম আদাম, শ্রীলঙ্কার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মি. অরুন হিমাচন্দ্র, সার্কের মহাসচিব মো. গোলাম সরওয়ার, চায়নাস্থ পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত মি. খলিলুর রহমান, চায়নাস্থ আফগানিস্তানের রাষ্ট্রদূত মি. আসাদুল্লাহ বিলাল কারিমি, ভূটানের শিল্প, কর্মসংস্থান ও বাণিজ্য মন্ত্রী মি. কর্মা দর্জিসহ চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ।

 

 

এর আগে ডেপুটি স্পিকারের নেতৃত্বাধীন সংসদীয় দল ১০ম চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপোজিশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। যেখানে বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুকতাদির দেশের বাণিজ্য ডেলিগেটের প্রধান হিসেবে বক্তব্য রাখেন। এবারের ১০ম চায়না এক্সপোজিশনের থিম কান্ট্রি বাংলাদেশ হিসেবে বাংলাদেশের ৮৪টি প্যাভিলিয়ন মেলায় অংশগ্রহণ করছে। বিশ্বের মোট ৯০ টি দেশ কুনমিং এর এ বিশাল বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণ করছে।

 

 

বাংলাদেশে ও চায়নার দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় সমূহ নিয়ে বাংলাদেশের সংসদীয় দল চীনের ন‍্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস এর ভাইস প্রেসিডেন্ট মি. ওয়ে এবং ইউনান প্রদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সেক্রেটারি ওয়াং নিং এর সাথে একান্তে বৈঠক করেন। বাংলাদেশের সংসদীয় দল কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন, ইকোনমিক জোন পর্যটন, তিস্তা ব‍্যারেজ নির্মাণ, চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে চীনের সহযোগিতা কামনা করেন। চীনের দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতা বাংলাদেশের সাথে চীনের দীর্ঘ দিনের সুসম্পর্কের কথা তুলে ধরে বলেন বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সাথে চীন কাজ করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সম্ভাব্য সব ক্ষেত্রে তারা বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।

 

 

ডেপুটি স্পিকার চীনা প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানালে তারা আন্তরিকভাবে সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং অচিরেই বাংলাদেশ সফর করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।

 

 

সংসদীয় দলের অন‍্য সদস্যরা হলেন এনসিপির সদস্য সচিব আকতার হোসেন এমপি, বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব ও সংরক্ষিত স্বতন্ত্র এমপি জেসমিন সুলতানা জুঁই।

 

 

বিশ্বকাপের সর্বকালের সেরা ১০ কিংবদন্তি, জানুন মেসি-ম্যারাডোনা-পেলের অবস্থান

ফুটবলের সবচেয়ে বড় এবং মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চ ফিফা বিশ্বকাপ। ৯৬ বছরের দীর্ঘ ইতিহাসে এই টুর্নামেন্ট পেরিয়ে এসেছে ২২টি রোমাঞ্চকর আসর। বিশ্বমঞ্চে হাজারো ফুটবলার পা রাখলেও কতজন পেরেছেন নিজেদের অনন্য কীর্তিতে ইতিহাস রাঙাতে? মেসি, ম্যারাডোনা, পেলে নাকি অন্য কেউ—বিশ্বকাপ ইতিহাসের সেরা কে? এই চিরন্তন বিতর্কের মাঝে বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০ জন কিংবদন্তিকে বেছে নিয়ে একটি তালিকা প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘বিবিসি স্পোর্টস’।

 

 

ভিন্ন যুগের, ভিন্ন শৈলীর এই ১০ ফুটবলারকে নিয়ে তৈরি করা তালিকাটি নিচে দেওয়া হলো:

১০. জিওফ হার্স্ট (ইংল্যান্ড): তালিকার দশম স্থানে আছেন ইংলিশ ফুটবলার জিওফ হার্স্ট। ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে তার অবিস্মরণীয় হ্যাটট্রিক ইংল্যান্ডকে তাদের ইতিহাসের একমাত্র বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দিয়েছিল। ঘরের মাঠের সেই ঐতিহাসিক জয় আজও ইংলিশ ফুটবলের সর্বোচ্চ সাফল্য হিসেবে গণ্য হয়।

৯. কাফু (ব্রাজিল): ব্রাজিলের কিংবদন্তি রাইট-ব্যাক কাফু আছেন নবম স্থানে। ফুটবল ইতিহাসের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে টানা তিনটি বিশ্বকাপের ফাইনাল (১৯৯৪, ১৯৯৮, ২০০২) খেলার অনন্য কীর্তি রয়েছে তার। যার মধ্যে ১৯৯৪ ও ২০০২ সালে তিনি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হন এবং ২০০২ বিশ্বকাপে সেলেসাওদের অধিনায়ক হিসেবে ট্রফি উঁচিয়ে ধরেন।

৮. পাওলো রসি (ইতালি): ১৯৮২ বিশ্বকাপে ইতালির পাওলো রসির প্রত্যাবর্তন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা নাটকীয় অধ্যায়। ম্যাচ ফিক্সিং কেলেঙ্কারির কারণে নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে দলে ফিরেই তিনি অবিশ্বাস্য পারফর্ম করেন। কোয়ার্টার ফাইনালে শক্তিশালী ব্রাজিলের বিপক্ষে হ্যাটট্রিকসহ টুর্নামেন্টে ৬ গোল করে ইতালিকে শিরোপা জেতান এবং একই সাথে গোল্ডেন বুট ও গোল্ডেন বল নিজের করে নেন।

৭. জিনেদিন জিদান (ফ্রান্স): ফরাসি জাদুকর জিনেদিন জিদান আছেন তালিকার সপ্তম স্থানে। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে স্বাগতিক ফ্রান্সকে প্রথমবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করতে ফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে তার জোড়া হেডের গোল ফুটবল ইতিহাসে অমর হয়ে আছে। তবে ২০০৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে ইতালির মাতেরাজ্জিকে ঢুস (হেডবাট) মেরে লাল কার্ড দেখার বিতর্কও তার ক্যারিয়ারের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।

 

 

৬. কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স): তালিকার ষষ্ঠ স্থানে আছেন আধুনিক ফুটবলের অন্যতম পোস্টার বয় কিলিয়ান এমবাপ্পে। মাত্র ১৯ বছর বয়সে ২০১৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের হয়ে শিরোপা জেতেন তিনি। এরপর ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে বিশ্বমঞ্চে নিজের বিধ্বংসী রূপ আরও একবার প্রমাণ করেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড।

 

 

৫. ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার (জার্মানি): পঞ্চম স্থানে জায়গা করে নিয়েছেন পশ্চিম জার্মানির ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার। ফুটবল ইতিহাসে ‘ডের কাইজার’ খ্যাত এই কিংবদন্তি খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৭৪ সালে এবং পরবর্তীতে ডাগআউটে কোচ হিসেবে ১৯৯০ সালে জার্মানিকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করার বিরল গৌরব অর্জন করেন।

 

 

৪. লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা): আধুনিক ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসি আছেন তালিকার চতুর্থ স্থানে। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে নিজের একক কাঁধে টেনে শিরোপা এনে দেন তিনি। পুরো টুর্নামেন্টে ৭ গোল ও ৩ অ্যাসিস্টের পাশাপাশি অসাধারণ নেতৃত্ব তাকে ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে দিয়েছে।

 

 

৩. রোনালদো নাজারিও (ব্রাজিল): ইনজুরির সাথে দীর্ঘ লড়াই শেষে ২০০২ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ‘ফেনোমেনন’ রোনালদোর ফিরে আসার গল্পটা ছিল রূপকথার মতো। ১৯৯৮ সালের ফাইনালের ট্র্যাজেডি ভুলে ২০০২ আসরে একাই ৮ গোল করে ব্রাজিলকে পঞ্চম ও শেষবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেন ‘আর-নাইন’।

 

 

২. দিয়েগো ম্যারাডোনা (আর্জেন্টিনা): তালিকার দ্বিতীয় স্থানে আছেন ফুটবলের রাজপুত্র দিয়েগো ম্যারাডোনা। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার শিরোপা জয় ছিল মূলত ম্যারাডোনার একক রূপকথার গল্প। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং এর ঠিক পরেই ৫ ইংলিশ ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে কাটিয়ে করা ‘শতাব্দীর সেরা গোল’ তাকে ফুটবল বিশ্বে অমর করে রেখেছে।

 

 

১. পেলে (ব্রাজিল): এই তালিকায় অবধারিতভাবেই সবার শীর্ষে আছেন ফুটবলের কালো মানিক পেলে। ফুটবল ইতিহাসের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ (১৯৫৮, ১৯৬২ ও ১৯৭০) জয়ের রেকর্ড রয়েছে তার। মাত্র ১৭ বছর বয়সে ১৯৫৮ বিশ্বকাপে নিজের আগমনী বার্তা দিয়ে বিশ্বকে চমকে দেওয়া পেলে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা বিশ্বকাপ কিংবদন্তি হিসেবে।

মাসে ২০ হাজার টাকা ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব জুলাই শহীদদের স্বজনদের

নতুন সরকারে প্রস্তাবিত বাজেটে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীরত্বপূর্ণ অবদানকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়ে শহীদ পরিবার এবং আহত ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ জন্য বিশেষ মাসিক ভাতার প্রস্তাব করা হয়েছে।

 

 

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এই ভাতার পরিমাণ সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘বি’ ক্যাটাগরির আহতদের জন্য ১৫ হাজার টাকা এবং ‘সি’ ক্যাটাগরির আহত যোদ্ধাদের জন্য ১০ হাজার টাকা মাসিক ভাতার প্রস্তাব করা হয়েছে।

 

 

অর্থমন্ত্রীর বাজেট ঘোষণার নথি থেকে জানা গেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের প্রতিটি পরিবারকে প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা হারে সম্মানি ভাতা প্রদান করা হবে।

এছাড়া আন্দোলনে আহত যোদ্ধাদের শারীরিক জখমের তীব্রতা অনুযায়ী ৩টি ভাগে ভাগ করে মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সবচেয়ে গুরুতর আহত অর্থাৎ ‘এ’ ক্যাটাগরির যোদ্ধারা পাবেন মাসিক ২০ হাজার টাকা। অতিরিক্ত সুবিধা হিসেবে গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধাদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়িয়ে ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে।

 

অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে জানিয়েছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করা ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর।

অসুস্থ গরুর মাংস বিক্রির সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিককে মারপিট, মামলায় গ্রেফতার ১

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে অসুস্থ গরু জবাই করে মাংস বিক্রির সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে এক সাংবাদিককে মারধর, হত্যাচেষ্টা ও নগদ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সদর ইউনিয়নের নলেয়া গ্রামের হায়দার আলীর পুত্র মাংস ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হক (৩৫) ও তার ভাই মোঃ মাসুদ রানা মুন্না (২৮) এবং মৃত অবর উদ্দিন এর পুত্র মোঃ সাইফুর রহমান (৪২) এর বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সদর ইউনিয়নের সাদ্দাম মোড়ের পূর্ব পার্শ্বে আমিনুর মেম্বারের বাড়ির সামনে। এ ঘটনায় আহত সাংবাদিকের মা বাদী হয়ে ভূরুঙ্গামারী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে পুলিশ মাসুদ রানা মুন্নাকে গ্রেফতার করে‌ আদালতে প্রেরণ করেছে।
সাংবাদিক মাইদুল মাস্টার্স ও এল এল বি পড়ালেখা শেষ করে দীর্ঘদিন থেকে উপজেলার সমস্যা, সম্ভাবনা, সচেতনতা, অনিয়ম, দুর্নীতি, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সুনামের সাথে অগ্রযাত্রা প্রতিদিন, তালাশ বিডি, দৈনিক গণকণ্ঠ পত্রিকায় কর্মরত থেকে প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে এবং তিনি কুড়িগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের একজন সদস্য।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ইং ভূরুঙ্গামারী উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস কর্তৃক বাজারে অভিযান পরিচালনা করে অসুস্থ গরুর মাংস বিক্রি বন্ধ করে এবং জব্দকৃত মাংস মাটিচাপা দেয়। জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ ওই ঘটনাটি বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। সাংবাদিক মাইদুল ইসলামও সংবাদ প্রকাশ করেন।
অভিযোগ ‍ও স্থানীয় ‍সূত্রে জানা যায়, সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই মাংস ব্যবসায়ী মোজাম্মেল মাইদুলের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে ফোনে হুমকি দিলে বিষয়টি সচেতন ব্যবসায়ীরা ঝামেলা করতে বাধানিষেধ করলেও মোজাম্মেল বিভিন্ন সময়ে অসুস্থ গরু জবাই নিউজের বিষয়ে কথা বলে আসছিলো। সর্বশেষ গত ২০ মে ২০২৬ রাতে সাংবাদিক মাইদুলকে মেসেঞ্জারে ফোন করে সংবাদ প্রকাশের কারণে ক্ষতির কথা উল্লেখ করে। সাংবাদিক মাইদুল ৪ জুন বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে মোটরসাইকেলযোগে ব্যবসায়ীক কাজে ভূরুঙ্গামারী বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে সাদ্দাম মোড়ের পূর্ব পার্শ্বে আমিনুর মেম্বারের বাড়ির সামনে পৌঁছালে মোজাম্মেলের ছোট ভাই মাসুদ রানা মুন্না হাতুড়ি নিয়ে তার পথরোধ করে এবং মোজাম্মেলকে ফোন করলে বলে সে না আসা পর্যন্ত ছাড়তে নিষেধ করে। কিছুক্ষণ পর মোজাম্মেল ও সাইফুর বাজার থেকে ঘটনাস্থলে এসে সাংবাদিককে অসুস্থ গরু জবাইয়ের সংবাদ প্রকাশের কথা বলেই প্রথমে মোজাম্মেল ও সাইফুর পরে মুন্নাসহ তিনজন সাংবাদিক মাইদুকে মেরে ফেলার উদ্যেশে এলোপাতাড়িভাবে মাথায়, মুখে, কানে, বুকে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিল ঘুষি মেরে আহত করে। হত্যার উদ্দেশ্যে গলা চেপে ধরেন, সাংবাদিকের পকেটে থাকা নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে স্থানীয় দোকানদার ও পথচারীরা এগিয়ে এসে হামলাকারীদের নিকট থেকে তাকে ছাড়ালেও একপর্যায়ে মোজাম্মেল হাতে ধারালো কিছু দ্বারা সাংবাদিককে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করে এতে নাকের হাড় ভেঙে গুরুতর রক্তাক্ত হয়ে ও পড়নের শার্ট ও প্যান্ট রক্ত দিয়ে ভিজে যায়। স্থানীয়রা পরিবারের সদস্যদের খবর দেয় এবং উদ্ধার করে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। সেখানে ৪ দিন চিকিৎসা নিলেও নাকের হাড় ভাঙ্গা ও কানের পর্দা ফেটে অঙ্গহানি হওয়ায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে এবং সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযোগ বিষয়ে অভিযুক্ত মোজাম্মেল বলেন, অসুস্থ গরু তিনি জবাই করেনি। অভিযান হলে মাইদুল এ বিষয়ে নিউজ করে, পরে তাকে অনেকবার ডাকা হলে দুইতিনজন সাংবাদিকসহ বাজারে আসে ও কথা হয়। ঘটনার দিন সাড়ে নয়টার দিকে বাজার থেকে ঘটনাস্থলে গিয়ে সাংবাদিককে মারপিটের ঘটনায় রক্তাক্ত হলে হাসপাতালে ভর্তি হয় বলে জানায়।
সাংবাদিক হাসপাতালে ভর্তি থাকাবস্থায় অভিযুক্ত মুন্না ৬ জুন (বুধবার) আনুমানিক রাত ১১টার দিকে শফিকুল এর ছেলে রাকিব ও মোটরসাইকেল মেকার সুলতানকে সাথে নিয়ে দেখতে গিয়েছিলেন। অনেকক্ষণ কথা বলেন এবং বলেন, প্রায় দুই মাস আগে আমার ফেসবুকে ছবি পোস্ট করলে মাইদুল ভাই ছবিটির ইমোজি সরিয়ে কমেন্ট শুধু ছবি দিয়েছিলো এবং ফোন করলে সাথে সাথে ডিলিট করে দেয়। এ নিয়ে দুইমাস আগে কথা হয়েছিল। তবে ঘটনার দিন আমার মেজাজ ভালো ছিলোনা। ভাইকে বাইক থামিয়ে কথা বলার ফাঁকে বড় ভাই মোজাম্মেলকে ফোন করলে ভাই বাজারে ছিলো এবং আটক করে রাখতে বলে। এখানে মারামারির কোন বিষয় ছিলো না তবে বাজার থেকে মোজাম্মেল ভাই ও সাইফুর এসেই গরু জবাইয়ের নিউজের কথা উল্লেখ করেই মাইদুল ভাইকে মারপিট শুরু করে, আমি ফাঁকে ছিলাম পরে এসে সাথে আমিও মারি। মোজাম্মেল ভাইয়ের ঘুষিতেই মাইদুল ভাইয়ের নাক ফেটে রক্তাক্ত হয়। এ রকম অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটবে আমি বুঝতে পারি নাই। এ সময় ভর্তি রোগী মৃত ইবর উদ্দিনের ছেলে মুসলিম উপস্থিত থেকে ঘটনা শুনেন।
সাংবাদিক মাইদুল বলেন, অসুস্থ গরু জবাই করা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের মতো আমিও সংবাদ প্রকাশ করি। এরই জের ধরে আমাকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল মোজাম্মেল। মোজাম্মেল, মুন্না ও সাইফুর তিনজনে হত্যার উদ্দেশ্যে আমাকে এলোপাতাড়ি মারপিট করে, হত্যার উদ্দেশ্যে গলা চিপে ধরে, নাক ফাটিয়ে রক্তাক্ত করে। এক লাখ বিশ হাজার টাকা ছিনতাই করে। আমি গুরুত্বর অসুস্থ চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছি। বিষয়টি পত্রিকা অফিস ও সাংবাদিকদের জানিয়েছি তারা খোঁজখবর নিচ্ছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই এবং স্বাধীনভাবে কাজ করতে চাই।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী সাংবাদিকের মা বলেন, “আমার ছেলে জনস্বার্থে সংবাদ প্রকাশ করে। সাংবাদিকদের যদি নিরাপত্তা না থাকে তাহলে সাংবাদিকতা করে কি লাভ। সকল সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়ানো ও হামলাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানান।
এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে জেলার সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।কুড়িগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম রিগান বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন বা সংবাদ প্রকাশের জে‌রে সাংবাদিকের ওপর হামলা গ্রহণযোগ্য নয়। সংবা‌দে কেউ সংক্ষুদ্ধ হ‌লে যথাযথ আই‌নি ব‌্যবস্থা নি‌তে পা‌রেন। কিন্তু সাংবা‌দিকের ওপর হামলা স্বাধীন সাংবা‌দিকতার জন‌্য অশ‌নিসং‌কেত। মাঈদু‌লের ওপর হামলাকারী‌দের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দা‌বি জানাই। ভবিষ্যতে কেউ যেন হামলার শিকার না হয় সে জন্য রাষ্ট্রয‌ন্ত্রের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করছি।
 রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সাদেকুজ্জামান সালেক বলেন, সাংবাদিক মাইদুলের ওপর হামলা নিন্দনীয়, উদ্বেগজনক এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাত। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করছি।
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর বলেন, সাংবাদিক নির্যাতনকারীরা দেশ-সমাজ ও রাষ্ট্রের শত্রু। এদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা উচিত।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আশিকুজ্জামান বলেন, মাংস হাটে অভিযানে একটি রোগাক্রান্ত গরু জবাই করছিলো যা জব্দ করে মাটির নিচে পুঁতে ফেলা হয়েছিল। এ সময় অনেকে সংবাদ প্রকাশ করে। সাংবাদিককে মারপিটের ঘটনা নিন্দনীয়। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে কথা হয়েছে।
ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ আজিম উদ্দিন বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে একজন আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

রামিসা মামলাসহ সব ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার দ্রুত এগোবে: অ্যাটর্নি জেনারেল

 

হাইকোর্টে শিশু রামিসাসহ অন্যান্য ধর্ষণ ও হত্যা মামলাগুলোর বিচার বিরতিহীনভাবে চলবে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল। এছাড়া হাইকোর্টে রামিসা হত্যা মামলা পরিচালনায় রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ আইনজীবী প্যানেল গঠন করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, রামিসা হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স শুনানি তিনি নিজেই করবেন।

 

 

 

এর আগে, বুধবার নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য হাইকোর্টে বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন প্রধান বিচারপতি।

রোববার থেকে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত এ হাইকোর্ট বেঞ্চ বিচার কাজ পরিচালনা করবেন।

 

 

সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুধুমাত্র নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংক্রান্ত মৃত্যুদণ্ডাদেশ কনফারমেশনের রেফারেন্স এবং একই রায় হতে উদ্ভূত সকল ফৌজদারি আপীল ও জেল আপীল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি করবে এই বেঞ্চ।

বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানিতে শুল্ক সুবিধা দিতে চায় সরকার

 

দেশের অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনাকে এগিয়ে নিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করা হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন)। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট হিসেবে জাতীয় সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য বাজেট ঘোষণা করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এটি দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট এবং অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরুর প্রথম বাজেট।

 

 

 

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের বাজেটে অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবসম্পদ উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশীয় শিল্পের সুরক্ষায় কর কাঠামোয় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব রাখা হচ্ছে। মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা সাধারণ মানুষের জন্যও কিছু স্বস্তিমূলক পদক্ষেপ থাকছে।

 

 

 

বর্তমান সরকারের মেয়াদে এটি প্রথম বাজেট হলেও বিএনপি সরকারের সামগ্রিকভাবে ১৩তম জাতীয় বাজেট। প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের (৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা) তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেট ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটের মধ্যে ৬ লাখ ৫ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা ব্যয় হবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, ঋণের সুদ, ভর্তুকি, প্রণোদনা ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ে। উন্নয়ন ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা।

এ বাজেটে বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি), প্লাগ-ইন হাইব্রিড ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (পিএইচইভি) ও চার্জিং অবকাঠামো আমদানিতে ব্যাপক শুল্ক-কর ছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। অপরদিকে জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর কিছু গাড়ি আমদানিতে কর বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে আসন্ন বাজেটে। পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বাড়াতে এমন পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।

বর্তমানে বৈদ্যুতিক গাড়ি বা ইভি আমদানিতে মোট করভার প্রায় ৯৩ শতাংশ। এটি কমিয়ে ২৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত মূল্যের বৈদ্যুতিক গাড়ির ক্ষেত্রে ৬৪ শতাংশ এবং ৫০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত মূল্যের গাড়ির ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ নির্ধারণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

 

 

এ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী পরিবহনে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক বাস আমদানিতে সব ধরনের শুল্ক-কর অব্যাহতি এবং অন্যান্য ইলেকট্রিক বাস ও ট্রাকের ক্ষেত্রে ভ্যাট ছাড়া বাকি শুল্ক-কর অব্যাহতির সুবিধা আগামী ৩০ জুন ২০৩০ পর্যন্ত বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

 

 

 

নতুন প্লাগ-ইন হাইব্রিড ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (পিএইচইভি) আমদানির ক্ষেত্রেও কর সুবিধার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ২ হাজার সিসি পর্যন্ত ইঞ্জিন ক্ষমতাসম্পন্ন পিএইচইভি গাড়ির সম্পূরক শুল্ক কমানো এবং ১ হাজার ৮০০ সিসি পর্যন্ত নতুন পিএইচইভি গাড়ির ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাবনা আসছে।

 

 

 

এতে ১ হাজার ৮০০ সিসি পর্যন্ত ব্র্যান্ড নিউ প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির মোট করভার বর্তমান ৯৩ দশমিক ১৬ শতাংশ থেকে কমে ৭৩ দশমিক ৪৩৭ শতাংশে নেমে আসবে। একই ভাবে ২ হাজার সিসি পর্যন্ত ব্র্যান্ড নিউ পিএইচইভি গাড়ির মোট করভার ১৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে কমে ৯৬ দশমিক ১০ শতাংশ হবে।

 

 

 

এ ছাড়া চার্জার ও চার্জিং স্টেশন আমদানিতে সব ধরনের শুল্ক-কর প্রত্যাহারের প্রস্তাবনা আসছে। দেশব্যাপী বৈদ্যুতিক গাড়ির চার্জিং নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এ পরিকল্পনা করা হয়েছে। বর্তমানে এসব পণ্যের আমদানিতে মোট করভার ৩৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ। প্রস্তাব কার্যকর হলে তা শূন্য শতাংশে নেমে আসবে।

 

 

 

অন্যদিকে, ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ সিসি ক্ষমতার ইন্টারনাল কম্বাশন (আইসি) ইঞ্জিনযুক্ত আমদানিকৃত গাড়ির ওপর করভার বাড়ানোর প্রস্তাবনা আসছে। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত গাড়ির ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে এ উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

 

 

 

বর্তমানে এসব গাড়ির মোট করভার ১৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ, যা বাড়িয়ে ১৫৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে,অন্য শ্রেণির গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান করহার অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

 

বাংলাদেশ পেসারদের আগুনঝড়া বোলিংয়ে কাঁপছে টিম অস্ট্রেলিয়া

 

সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও টস জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। তবে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর শুরুতেই বাংলাদেশের পেস আক্রমণের তোপে পড়ে রীতিমতো বিপর্যস্ত হয়েছে সফরকারীরা। 

 

 

 

তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমানের আগুনঝরা বোলিংয়ে শূন্য রানেই তিন উইকেট হারিয়ে বসে অস্ট্রেলিয়া।

 

 

 

ওয়ানডে ইতিহাসে শূন্য রানে তিন উইকেট হারানোর ঘটনা খুব বেশি দেখা যায় না। 

 

 

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটি মাত্র চতুর্থ ঘটনা। এর আগে দুইবার পাকিস্তান এবং একবার বাংলাদেশ এমন বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছিল।
এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো অস্ট্রেলিয়া।

 

 

 

এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করার সুযোগ নিয়ে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। 

 

 

 

অন্যদিকে সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জয়ের বিকল্প নেই অস্ট্রেলিয়ার সামনে। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে দুই দলই একাদশে একটি করে পরিবর্তন এনেছে।

 

 

 

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে একাদশে ফিরেছেন পেসার রাইলি মেরেডিথ। ২০২১ সালের পর প্রথমবার ওয়ানডে খেলতে নামা এই পেসার জায়গা পেয়েছেন অভিষিক্ত পেস বোলিং অলরাউন্ডার লিয়াম স্কটের পরিবর্তে। বাংলাদেশের একাদশে সাইফ হাসানের জায়গায় ফিরেছেন সৌম্য সরকার। ৩৩ বছর বয়সী এই বাঁহাতি ব্যাটার সর্বশেষ ওয়ানডে খেলেছিলেন গত এপ্রিলে, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। 

 

 

 

টস হেরে বোলিংয়ে নেমেই আধিপত্য দেখাতে শুরু করে বাংলাদেশ। আগের ম্যাচে প্রথম বলেই উইকেট পেয়েছিলেন তাসকিন আহমেদ। এবারও প্রথম ওভারেই আঘাত হানেন তিনি। অফ স্টাম্পের বাইরের বল ছেড়ে দিয়েছিলেন ম্যাথিউ শর্ট। কিন্তু বল ভেতরে ঢুকে স্টাম্প উড়িয়ে দিলে মাত্র চার বল খেলেই শূন্য রানে ফিরতে হয় তাকে। টানা তিন ওয়ানডেতে শূন্য রানে আউট হলেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার। 

 

 

 

পরের ওভারে এসে জোড়া আঘাত হানেন মুস্তাফিজুর রহমান। অফ স্টাম্পের বাইরের বল খোঁচা মেরে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের গ্লাভসে ধরা পড়েন কুপার কনোলি। গোল্ডেন ডাকের তেতো স্বাদ পান তিনি। এরপর ওভারের শেষ বলে একই পরিণতি হয় ম্যাট রেনশের। তিনিও লিটনের গ্লাভসে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন শূন্য রানে। 

 

 

 

মাত্র দুই ওভারেই শূন্য রানে তিন উইকেট হারিয়ে চরম বিপদে পড়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের পেসারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে রান তোলাও কঠিন হয়ে পড়ে সফরকারীদের জন্য। পরে আরও একটি উইকেট তুলে নেন বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজ। অধিনায়ক জশ ইংলিস ও অভিজ্ঞ ব্যাটার অ্যালেক্স ক্যারি প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। ক্যারিকে ফিরিয়ে প্রতিরোধ ভাঙ্গেন মোস্তাফিজ। অজি এই ব্যাটার খেলেন ১৩ রানের ইনিংস। 

 

 

 

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৮ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ৪ উইকেটে ২৫ রান। ক্রিজে আছেন অধিনায়ক জশ ইংলিস ও অভিজ্ঞ ব্যাটার ক্যামেরন গ্রিন 

 

 

 

বাংলাদেশ: মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, তানজিদ হাসান তামিম, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয়, লিটন কুমার দাস, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, তানভীর ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা। 

 

 

 

অস্ট্রেলিয়া: জশ ইংলিস (অধিনায়ক), ম্যাথিউ শর্ট, জেভিয়ার বার্টলেট, অ্যালেক্স কেয়ারি, কুপার কনোলি, ন্যাথান এলিস, ক্যামেরন গ্রিন, মার্নাস লাবুশেন, ম্যাট রেনশ, রাইলি মেরেডিথ, অ্যাডাম জ্যাম্পা। 

 

এমআইএসটির সমাবর্তনে শিক্ষামন্ত্রীকে শূন্যে ভাসিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিনব উল্লাস

 

মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) গ্র্যাজুয়েটরা শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে শূন্যে ভাসিয়ে উচ্ছ্বাসে মেতে উঠতে দেখা গেছে।

 

 

 

বুধবার (১০ জুন) রাতে এমআইএসটি গ্র্যাজুয়েশন নাইট ২০২৬-এ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত শিক্ষামন্ত্রীকে ঘিরে এই উল্লাস দেখা যায়।

 

 

 

শিক্ষামন্ত্রীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, সমাবর্তন বা কোনো বিশেষ অর্জনের উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছেন গ্র্যাজুয়েটরা। উল্লাসের একপর্যায়ে তারা শিক্ষামন্ত্রীকে শূন্যে ছুড়ে আনন্দ প্রকাশ করছেন। এ সময় মন্ত্রীকেও বেশ হাস্যোজ্জ্বল ও আনন্দিত দেখায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি বেশ সাড়া ফেলেছে এবং অনেকেই তা শেয়ার করছেন এবং মন্তব্যের ঘরে মন্ত্রীর জন্য দোয়া ও ভালবাসা প্রকাশ করেছেন।

ভিডিওটিতে আতিক ইসলাম নামে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘অনেক অনেক ভালোবাসা আপনার জন্য।’

 

সোহাগ নামে একজন লিখেছেন, ‘জীবনের আনন্দের মুহূর্তের একটি, আপনার জন্য দোয়া ও ভালোবাসা রইলো।’

 

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় কোনো ধরনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা প্রশ্রয় দিচ্ছে না। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও শিক্ষার উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। সবাইকে নিয়ে একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার চেষ্টা চলছে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী।

 

 

 

পাশাপাশি জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে পাওয়া সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

 

জাতির প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবে এবারের বাজেট: অর্থমন্ত্রী

 

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের কল্যাণের বিষয় বিবেচনায় নিয়েই এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সংসদে বাজেট অধিবেশনে যোগ দিতে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

 

 

 

আমির খসরু বলেন, জাতিকে সামনে রেখে এবং বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের কল্যাণ ও উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে বাজেটের সব বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে। এবারের বাজেটের প্রেক্ষাপটও কিছুটা ভিন্ন। দীর্ঘদিন পর একটি নির্বাচিত সরকারের অধীনে জাতীয় বাজেট উপস্থাপিত হতে যাচ্ছে। ফলে জাতির প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষাও অনেক বেশি। সেসব দিক বিবেচনায় রেখেই বাজেট প্রণয়নের চেষ্টা করা হয়েছে।

 

অর্থমন্ত্রী বলেন, যতটুকু সামর্থ্য রয়েছে, তার মধ্যেই বাজেট করতে হয়েছে। একটি বিধ্বস্ত ও ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে দেশকে স্থিতিশীলতার পথে নিয়ে গিয়ে আগামী দিনে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। সেই লক্ষ্য অর্জনের একটি প্রচেষ্টা এই বাজেটে প্রতিফলিত হয়েছে।

 

আমির খসরু বলেন, এ বাজেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দেশের সব নাগরিককে এর অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। জাতীয় ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে সবাই যাতে অংশ নিতে পারে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল যেন সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছায়, সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

 

 

তিনি বলেন, একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের লক্ষ্য নিয়েই এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। সীমিত সম্পদের মধ্যেও সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এই বাজেট বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।

 

অ্যাকশনএইড বাংলাদেশে চাকরির সুযোগ, বেতন ৯৯ হাজার টাকা

 

৯৯ হাজার টাকা বেতনে কাজের সুযোগ দিচ্ছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান অ্যাকশনএইড বাংলাদেশে (এএবি)। প্রতিষ্ঠানটি তাদের ‘প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার’ পদে জনবল নিয়োগের লক্ষ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।

 

 

 

আগ্রহীরা আগামী ১৩ জুন পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। প্রার্থীকে অবশ্যই বিএসসি/ডিপ্লোমা/স্নাতক ডিগ্রিধারী হতে হবে। কক্সবাজার জেলায় কাজ করার মানসিকতা থাকতে হবে।

 

 

 

চলুন, একনজরে দেখে নিই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি-

প্রতিষ্ঠানের নাম: অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ

পদের নাম: প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার

পদসংখ্যা: ১ জন

শিক্ষাগত যোগ্যতা: বিএসসি/ডিপ্লোমা/স্নাতক (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং)

অভিজ্ঞতা: ২- ৩ বছর

বেতন: ৯৯,২০৪ টাকা

চাকরির ধরন: চুক্তিভিত্তিক

প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ

বয়স: নির্ধারিত নয়

কর্মস্থল: কক্সবাজার

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহীরা এখানে ক্লিক করে আবেদন করতে পারবেন।

আবেদনের শেষ সময়: ১৩ জুন ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

সূত্র: বিডিজবস ডটকম

 

হজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করলো সৌদি আরব

 

বাংলাদেশের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) এর সঙ্গে সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রী ড. তৌফিক বিন ফাউজান আল-রাবিয়াহের এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

 

 

বুধবার (১০ জুন) সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত দ্য পিলগ্রিমস এক্সপেরিয়েন্স প্রোগ্রাম সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রী ২০২৬ সালের হজ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের অসাধারণ দক্ষতা, সুশৃঙ্খলতা এবং সফল সমন্বয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

 

 

 

তিনি বলেন, এ বছর বাংলাদেশি হজযাত্রীদের সেবায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় যে দক্ষতা, দায়িত্বশীলতা এবং দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছে, তা প্রশংসার দাবিদার।

ড. আল-রাবিয়াহ বাংলাদেশের ধর্মমন্ত্রীকে আন্তরিক নেতৃত্বের মাধ্যমে হজযাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার জন্য অভিনন্দন জানান। একইসঙ্গে তিনি ধর্মমন্ত্রীর মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং সফল হজ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ সরকারের সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা করেন।

 

বৈঠকে সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রী আগামী বছর হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও যাত্রীবান্ধব করতে সৌদি সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পরিকল্পনা ও উদ্যোগ সম্পর্কে অবহিত করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে হজ ব্যবস্থাপনার আরও উন্নয়নে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও সহযোগিতা কামনা করেন।

 

 

 

এ সময় ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) পবিত্র হজের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অভূতপূর্ব উন্নয়ন, আধুনিকায়ন এবং হাজিদের সেবার মানোন্নয়নের জন্য সৌদি সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বিশেষভাবে হজযাত্রীদের নিরাপত্তা, স্মার্ট ভিড় ব্যবস্থাপনা, পরিবহন সমন্বয়, তথ্য-প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, মাশায়ের অঞ্চলে সেবার সম্প্রসারণ এবং সামগ্রিক অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রশংসা করেন।

 

 

 

ধর্মমন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পবিত্র হজ সফলভাবে আয়োজন এবং বিশ্বের লাখো হাজির নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ইবাদত নিশ্চিতের জন্য পবিত্র দুই মসজিদের খাদেম বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ, সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান এবং সৌদি সরকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেছেন।

 

 

 

ধর্মমন্ত্রী বলেন, আল্লাহর মেহমানদের সেবায় সৌদি আরব যে দূরদর্শী নেতৃত্ব, আন্তরিকতা ও বিপুল বিনিয়োগের মাধ্যমে হজ ব্যবস্থাপনাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে, তা সমগ্র মুসলিম বিশ্বের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তিনি আশ্বাস দেন যে, হজ ব্যবস্থাপনার ধারাবাহিক উন্নয়ন এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে বাংলাদেশ ভবিষ্যতেও সৌদি আরবের পাশে থাকবে।

 

 

 

বৈঠকে সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ দেলওয়ার হোসেন, কাউন্সিলর (হজ) মো. কামরুল ইসলাম এবং উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

রাণীনগরে মাদকবিরোধী টাস্কফোর্স অভিযান

  • রিপোর্টার:
  •  আপডেট টাইম : ১২:০৭:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার পশ্চিম বালুভরা এলাকায় মাদকবিরোধী টাস্কফোর্স অভিযানে একজন মাদকাসক্তকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
 বুধবার (১০ জুন) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, নওগাঁ জেলা শাখার উদ্যোগে পুলিশের সহযোগিতায় উক্ত এলাকায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে মাদকাসক্ত অবস্থায় রাণীনগর উপজেলার রায়হান সরদার (৩৩) কে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী তাৎক্ষণিক বিচারে রাণীনগর উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাবিলা ইয়াসমিন আসামি রায়হান সরদারকে ৩ (তিন) মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সাধারণ জনগণকে মাদক থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
নওগাঁ জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও রাণীনগর থানা পুলিশ যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে।

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ৪০৪ মিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন চুক্তি বাংলাদেশের

 

দেশের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা খাতের অগ্রগতির লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে ৪০ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলারের ঋণ ও অনুদান চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

 

 

 

বুধবার (১০ জুন) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়।

 

 

 

চুক্তিতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং বিশ্বব্যাংকের পক্ষে ঢাকাস্থ কার্যালয়ের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেসমে স্বাক্ষর করেন।

এই চুক্তি অনুযায়ী বিশ্বব্যাংক প্রায় ৩৭৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমমূল্যের ২৮৪ দশমিক ৭০ মিলিয়ন এসডিআর ঋণ দেবে। পাশাপাশি গ্লোবাল ফাইন্যান্সিং ফ্যাসিলিটি থেকে ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান হিসেবে পাওয়া যাবে।

 

 

এই দুই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যখাতকে আরও কার্যকর ও টেকসই করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেবার মানোন্নয়ন, সেবার প্রাপ্যতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং প্রজনন স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা সেবায় দক্ষতা ও সমতা নিশ্চিত করতে জলবায়ু সহনশীল কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

 

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে ‘হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন সার্ভিসেস ইমপ্রুভমেন্ট অ্যান্ড সিস্টেম স্ট্রেন্থেনিং প্রজেক্ট’ নামের প্রথম প্রকল্পটি।

 

 

পুশইন প্রতিরোধে সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে জনতার কড়া নজরদারি

 

কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইন ঠেকাতে পাহারায় বিজিবি ও স্থানীয়রা। বিএসএফের যে কোনো ধরনের পুশইনের চেষ্টা রুখে দিতে তৎপর তারা।

 

 

 

বুধবার (১০ জুন) রাতে সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আনসার, গ্রাম পুলিশসহ স্থানীয় তরুণ, যুবক ও বয়োজ্যেষ্ঠরা শক্ত অবস্থানে থেকে পাহারা দিচ্ছেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. নজরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

 

 

 

সীমান্তের বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রৌমারী উপজেলার খেওয়ারচর সীমান্তের আন্তর্জাতিক ১০৬৯ নম্বর মেইন পিলারের ২৪টি সাব পিলারের নিকটবর্তী ভারতের সদরটিলা বিএসএফ ক্যাম্পের নিকট কাঁটাতারের বেড়ার কাছে ট্রাকে করে বেশ কিছু ভারতীয় মুসলিম নাগরিককে জড়ো করা হয়েছে।

 

তাদের অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশইন করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে— এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় এলাকায় মাইকিং করা হয়। খবর পেয়ে মুহূর্তের মধ্যে লাঠিসোঁটা নিয়ে সীমান্তের দিকে ছুটে যান হাজারো মানুষ। কোনোভাবেই যেন অনুপ্রবেশ করতে না দেওয়া হয়, সেজন্য পুরো সীমান্তজুড়ে কঠোর পাহারা বসিয়েছেন গ্রামবাসী।

 

খেওয়ারচর বিজিবি ক্যাম্পের ল্যান্স নায়েক সুমন আলী কালবেলাকে, সীমান্তে পুশইন ঠেকাতে সাধারণ জনগণের পাশাপাশি বিজিবি সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক ও শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। কোনো ধরনের পুশইন বরদাশত করা হবে না। এর আগেও বিএসএফ কয়েক দফায় পুশইনের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছে।

 

 

উল্লেখ্য, গত শনিবার থেকে শুরু করে বুধবার রাত পর্যন্ত রৌমারী সীমান্তে পুশইনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র উত্তেজনা ও গভীর আতঙ্ক বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সীমান্তজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে বিজিবি।

 

 

শূন্য রানে ৩ উইকেট হারাল অস্ট্রেলিয়া

 

সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের সামনে শুরুতেই ধসে পড়েছে অস্ট্রেলিয়া। প্রথম দুই ওভারেই কোনো রান না করেই তিন উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়ে সফরকারীরা।

 

 

 

টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস শুরু থেকেই ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। ইনিংসের প্রথম ওভারের চতুর্থ বলেই ম্যাথিউ শর্টকে বোল্ড করে দেন টাইগার পেসার তাসকিন আহমেদ। চার বল খেললেও কোনো রান করতে পারেননি তিনি।

 

 

 

এরপর দ্বিতীয় ওভারে আঘাত হানেন মোস্তাফিজুর রহমান। প্রথম বলেই কুপার কনোলি ব্যাটে লাগিয়ে বল তুলে দেন উইকেটকিপার লিটন দাসের হাতে। গোল্ডেন ডাকের স্বাদ নিয়ে সাজঘরে ফেরেন এই ব্যাটার।

ওভারের শেষ বলেই আবারও আঘাত করেন মোস্তাফিজ। একই ধাঁচে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ম্যাট রেনশ। শুরুতেই তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় অস্ট্রেলিয়া।

 

 

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৫ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ১৭ রান।

 

 

এর আগে ম্যাচজুড়ে নাটকীয়তার শুরু হয় তাসকিন আহমেদের দারুণ নতুন বলের স্পেলে। আগের ম্যাচেও ইনিংসের প্রথম বলেই উইকেট পাওয়া এই পেসার এবারও শুরুটা করেন উইকেট দিয়ে। শর্টকে ফেরানোর পর মেডেন ওভার করেন তিনি।

 

 

 

তাসকিনের পর মোস্তাফিজুর রহমানের কাটার-ভিত্তিক বোলিংয়ে আরও ভেঙে পড়ে অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডার। মাত্র দুই ওভারের মধ্যেই দুই বোলারের তোপে শূন্য রানে তিন উইকেট হারিয়ে বসে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

 

 

 

অস্ট্রেলিয়ার ওয়ানডে ইতিহাসে এটি বিরল একটি ঘটনা। এর আগে ৮৮২ ম্যাচের ইতিহাসে মাত্র দুইবারই দুই ওপেনার শূন্য রানে আউট হয়েছিল দলটির। ২০০৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ২০২২ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে সেই ঘটনা ঘটেছিল। বাংলাদেশ সফরে এবার তৃতীয়বারের মতো এমন লজ্জাজনক সূচনা দেখল অজিরা।

 

 

 

শুরুর এই ধস সামাল দিতে ক্রিজে নেমেছেন জশ ইংলিস ও অ্যালেক্স কেরি। তবে শুরুতেই বড় ধাক্কা খাওয়া অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে এখন চরম চাপের মুখে।

 

 

ইরানি হামলার শঙ্কায় সাময়িকভাবে আকাশসীমা বন্ধ করল কুয়েত

 

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কুয়েত সাময়িকভাবে দেশের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করেছে। দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরানি আগ্রাসন ঘিরে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খবর আলজাজিরার।

 

 

 

বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কর্তৃপক্ষ জানায়, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত কুয়েতের আকাশসীমায় বিমান চলাচল স্থগিত থাকবে। যেসব ফ্লাইট কুয়েতের আকাশসীমা ব্যবহার করার কথা ছিল, সেগুলোকে বিকল্প বিমানবন্দরে অবতরণ বা অন্য রুটে পরিচালিত করা হবে।

 

 

 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অনুমোদিত আন্তর্জাতিক চুক্তি ও নিরাপত্তা প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ফ্লাইটগুলোকে বিকল্প গন্তব্যে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এদিকে অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এবং ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার কারণে বেশ কয়েকটি দেশের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত হতে পারে।

কুয়েত কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আকাশসীমা পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে বলে জানিয়েছে।

 

সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে আজ মাঠে নামছে টাইগাররা, একাদশে থাকছে যেসব পরিবর্তন

 

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের শুরুটা স্বপ্নের মত রঙিন হয়েছে বাংলাদেশের। ঘরের মাঠে ওয়ানডে ক্রিকেটে বেশ ভালো ছন্দে আছে বাংলাদেশ। এবার অজিদের ধরাশায়ী করে সাফল্যের ধারা অব্যাহত রেখেছে টাইগাররা। প্রথম ওয়ানডেতে বৃষ্টি আইনে ৮৬ রানের দাপুটে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ফর্মের তুঙ্গে আছে পেস আক্রমণ। তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা এবং মোস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে গড়া পেস ইউনিট বর্তমানে বিশ্বেরই অন্যতম সেরা। সাথে ব্যাটিং ইউনিটও প্রথম ম্যাচে জ্বলে উঠেছিল। আলাদা করে বলতে হবে চার বছর পর দলে ফিরেই বাজিমাত করা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের কথা। ফিনিশিং রোলে ৭০ বলে ৮৬ রানের হার না মানা ইনিংসে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন মোসাদ্দেক। পরে বল হাতে তুলেছেন জোড়া উইকেট। তার কাছে এমন পারফরম্যান্সই ছিল প্রত্যাশিত।

 

 

 

ব্যাটিংয়ে চিন্তার জায়গা কিছুটা আছে যদিও। প্রথম ওয়ানডেতে দুর্দান্ত শুরুর পরেও ৩০০ ছাড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। এই জায়গা নিয়ে ম্যাচ শেষেও আক্ষেপ ঝরেছে মোসাদ্দেকের কণ্ঠে। উড়ন্ত শুরুর পর মাঝের ওভারে কিছুটা ধীর হয়ে গিয়েছিল টাইগারদের ইনিংস। যার খেসারতই দিতে হয়েছে ২৮৪ রানে থেমে।

 

 

 

মাঝের ওভারে ব্যাটারদের আরেকটু আগ্রাসী হওয়ার তাই বিকল্প নেই। মিরপুরের সেই চেনা উইকেটের জুজু তো এখন আর নেই। ঘাসের ব্যাটিং সহায়ক উইকেটই থাকছে মিরপুরে। সেই উইকেট কাজে লাগিয়ে বোর্ডে বড় রান তোলার অভ্যাসটা গড়ে তোলা তাই খুবই জরুরি। ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে নিজেদের ব্যাটিংটা ঝালিয়ে নেওয়া, সাথে দ্রুত রান তোলার অভ্যাস, বড় রান তোলার অভ্যাস সবই দরকার। বাংলাদেশের ব্যাটিং ইউনিটও বেশ ভালোভাবেই জানে এসব। এখন শুধু কাজে লাগানোর পালা।

বাংলাদেশের একাদশে পরিবর্তনের সম্ভাবনা আজ খুব একটা নেই। আগের ম্যাচের একাদশই খেলাতে পারে টাইগাররা। যদিও বদল আনা হয় সাইফ হাসানের পরিবর্তে ঢুকতে পারেন সৌম্য সরকার। এছাড়া পেস ইউনিটে কাউকে বিশ্রাম দেওয়া হলে সেখানে খেলতে পারেন শরিফুল ইসলাম। এছাড়া বাকি সব জায়গায় থাকছেন আগের ম্যাচ খেলা ক্রিকেটাররাই। চেনা সৈনিকদের নিয়েই এক ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ জেতার কাজটা সেরে ফেলতে চাইবে ফিল সিমন্সের দল।

 

অস্ট্রেলিয়ার একাদশে বদলের সম্ভাবনা কিছুটা আছে। মাত্রই ঢাকায় নেমেছেন মিচেল মার্শ। ওয়ানডেতে তিনি খেলবেন বলে গুঞ্জন থাকলেও তা এখনও নিশ্চিত নয়। ফলে মার্শকে ছাড়াও নামতে হতে পারে অজিদেরকে। প্রথম ম্যাচে হারার পর এবার অবশ্যই সর্বশক্তি দিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে চাইবে অস্ট্রেলিয়া। বাড়তি স্পিনার খেলাতে চাইলে হাতে আছে ম্যাথু কুহনেম্যান, পেসার চাইলে খেলানো যেতে পারে বেন ডোয়ারসুইশকে। দেখা যাক কোন পথে আগায় অজিরা।

 

 

আজ ১১ জুন মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মাঠে গড়াচ্ছে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ। সিরিজে এখন ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ।

 

 

 

একনজরে দুই দলের সম্ভাব্য একাদশ :

বাংলাদেশ : তানজিদ হাসান তামিম, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস (উইকেটরক্ষক), তাওহিদ হৃদয়, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), তানভীর ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা, মুস্তাফিজুর রহমান। অস্ট্রেলিয়া : ম্যাথু শর্ট, কুপার কনোলি, মারনাস লাবুশেন, জশ ইংলিস (অধিনায়ক এবং উইকেটরক্ষক), অ্যালেক্স ক্যারি, ক্যামেরন গ্রিন, ম্যাট রেনশ, লিয়াম স্কট, জাভিয়ের বার্টলেট, নাথান এলিস ও অ্যাডাম জাম্পা।

বেগমগঞ্জে ৯ হাজার ৩১০ পিস ইয়াবাসহ ‘বুলেট ফারুক’ গ্রেপ্তার

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ৯ হাজার ৩১০ পিস ইয়াবাসহ শীর্ষ মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত মো. ওমর ফারুক ওরফে ‘বুলেট ফারুক’ (৪৪) কে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) ও র‍্যাব-৭-এর যৌথ অভিযান দল।

বুধবার (১০ জুন ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বেগমগঞ্জ মডেল থানার জমিদারহাট পূর্ব বাজার এলাকায় ফেনী–চৌমুহনী মহাসড়কে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

ডিএনসি জেলা কার্যালয় নোয়াখালী সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিদর্শক মো. সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে র‍্যাব-৭ ফেনী টিমের সহযোগিতায় অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় তার দেহ তল্লাশি করে কোমরে কস্টেপ দিয়ে লুকানো অবস্থায় ৫ হাজার ৩১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তার ব্যবহৃত রয়েল এনফিল্ড মোটরসাইকেলের টুলবক্স থেকে আরও ৪ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।

সব মিলিয়ে তার কাছ থেকে ৯ হাজার ৩১০ পিস ইয়াবা, মাদক বিক্রির ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা, একটি মোটরসাইকেল এবং দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

ডিএনসি জানায়, গ্রেপ্তারকৃত ওমর ফারুক দীর্ঘদিন ধরে নোয়াখালীর সেনবাগ, বেগমগঞ্জ ও ফেনীর দাগনভূঞা এলাকায় ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে নোয়াখালী, ফেনী ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় অস্ত্র মামলা ও মাদক আইনে মোট ১১টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, তিনি নিজস্ব মোটরসাইকেল ব্যবহার করে প্রতি সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার চট্টগ্রাম থেকে ইয়াবা এনে নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করতেন। তার নিয়ন্ত্রণে একাধিক খুচরা মাদক সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর দাগনভূঞা এলাকায় ১১ হাজার পিস ইয়াবাসহ তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন বলে জানিয়েছে ডিএনসি।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ (সংশোধিত ২০২০) অনুযায়ী বেগমগঞ্জ মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএনসি নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ।

মাদকাসক্তি প্রতিরোধে করণীয় তুলে ধরলেন উপপরিচালক আনিছুর রহমান

মাদকের অপব্যবহার রোধে তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করতে নীলফামারীতে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) বিকেল ৪টায় নীলফামারী সদর উপজেলার ককই বাজার সংলগ্ন ককই মিশনে এ কর্মশালার আয়োজন করে উত্তরবঙ্গ শিশু উন্নয়ন প্রকল্প, ককই, বিডি-০২৭৪। “নিজে বাঁচুন, পরিবারকে বাঁচান” স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত এ কর্মশালায় প্রকল্পের তরুণ-তরুণীরা অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, নীলফামারী জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ আনিছুর রহমান খান। তিনি মাদকের অপব্যবহার, এর সামাজিক ও পারিবারিক ক্ষতিকর প্রভাব এবং মাদকাসক্তি প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
আলোচনায় তিনি বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার ও সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। এ কারণে তরুণদের মাদক থেকে দূরে রেখে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি।
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মাদকবিরোধী শপথ পাঠ করানো হয়। পাশাপাশি “মাদককে না বলুন” লেখা সম্বলিত খাতা, কলম ও মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।
আয়োজকরা জানান, তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করতে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

চাল-ডালসহ ৬০ পণ্যে দাম কমানোর পরিকল্পনা বাজেটে

২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য সরকার যে বাজেট প্রস্তাব করতে যাচ্ছে, তাতে চাল-ডাল, আলু থেকে সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরার মতো ৬০টি প্রযুক্তি ও কৃষি পণ্যের দাম কমতে পারে। এসব পণ্যের ওপর বিদ্যমান উৎসে কর ৫ শতাংশ, ২ শতাংশ ও ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে মাত্র ০.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হতে পারে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট পেশকালে এই প্রস্তাব করতে পারেন।

 

 

 

অর্থমন্ত্রণালয় সূত্র জানা গেছে, সরকার এই ৬০টি পণ্যের তালিকায় মৌলিক কৃষি ও ভোগ্যপণ্যকে প্রাধান্য দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— ধান, চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, ভোজ্যতেল, চিনি, লবণ, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ এবং বিভিন্ন ধরনের বীজ।

 

 

 

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা জনজীবনে স্বস্তি আনবে বলে আশা করছে সরকার।

নিত্যপণ্যের বাইরেও সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের দাম কমার প্রস্তাব করা হচ্ছে বাজেটে। এরমধ্যে শিশুখাদ্য আমদানিতে শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া সব ধরনের মসলা ও খেজুর আমদানিতে ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হবে।

 

এছাড়াও, বাজেটে জীবন রক্ষাকারী হার্টের রিং বা স্টেন্টের দাম প্রায় ২০ হাজার টাকা এবং চোখের ইন্ট্রাওকুলার লেন্সের দাম প্রায় ৫ হাজার টাকা কমতে পারে। কিডনি রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহারের ফলে প্রতি ডায়ালাইসিসে খরচ প্রায় ৮০০ টাকা কমবে।

 

 

প্রযুক্তি ও যোগাযোগ খাতে প্রতিটি মোবাইল সিমের ওপর থাকা কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হতে পারে। পাশাপাশি ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, প্রিন্টার ও মনিটর আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট মওকুফ করা হচ্ছে।

 

 

 

বিনোদন ও সংস্কৃতিখাতে তরুণ প্রজন্মের জন্য গিটার, পিয়ানো, ভায়োলিনের মতো বাদ্যযন্ত্র এবং সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরার শুল্ক কমানোর প্রস্তাব করা হচ্ছে।

 

 

 

সরকারের এই নতুন রাজস্ব নীতি মূলত করের হার না বাড়িয়ে করের আওতা বাড়ানোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। সরকার মনে করছে, এই কর ছাড়ের ফলে উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যস্ফীতির চাপ প্রশমিত হবে।

 

জাল দলিলে টাকা তুলতে গিয়ে ধরা, দুজনের কারাদণ্ড

সিলেটে জাল দলিল ব্যবহার করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখা থেকে ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলন চেষ্টার অভিযোগে দুই দালালকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

 

 

 

বুধবার (১০ জুন) সন্ধ্যায় বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সিহাব বিন আমিন। এর আগে মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অধিগ্রহণ শাখায় এ ঘটনা ঘটে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের কারাদণ্ড প্রদান করেন।

 

 

 

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার ওসমানপুর গ্রামের মনির উদ্দিনের ছেলে আতিকুর রহমান (৫৬) এবং জালালাবাদ থানার চাতলীবন্দ গ্রামের আব্দুল্লাহর ছেলে সুজন আলী (৩০)। আতিকুর রহমানকে ৪ মাস এবং সুজন আলীকে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে কোতোয়ালি থানা পুলিশের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

 

সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সিহাব বিন আমিন গণমাধ্যমকে বলেন, জাল দলিলের মাধ্যমে টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করলে তাদের জালিয়াতি ধরা পড়ে। পরে তাদের আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সরকারি কাজে বাধা প্রদানসহ হুমকি দেওয়ার অভিযোগে সাজা দেওয়া হয়। পরে রাতে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

হলুদ জার্সিতে সিরাজগঞ্জ শহর মাতালো ব্রাজিল ভক্তরা

আর কয়েক ঘণ্টা পরই শুরু হচ্ছে ফুটবলের বৃহত্তম আসর ফিফা বিশ্বকাপ-২০২৬। এই মুহুর্তে সবকিছু ভুলে ফুটবল উন্মাদনায় মেতে উঠেছে যমুনা পাড়ের শহর সিরাজগঞ্জ।

 

 

 

বুধবার (১০ জুন) বিকেলে বিশাল র‌্যালি করেছে ব্রাজিল ভক্তরা। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে শহরের মুজিব সড়কে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রিয় দলের পতাকা হাতে হলুদ জার্সি পড়ে দলে দলে আসতে থাকেন সমর্থকরা।

 

নারী-পুরুষ ও শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের কেউ পায়ে হেঁটে, কেউ বা মোটর সাইকেলযোগ, রিকশায় চেপে র‌্যালি অংশ নেয়। র‌্যালির বিশেষ আকর্ষণ ছিল ট্রাকযোগে বিশাল সাউন্ডবক্স নিয়ে ডিজে গানের তালে তালে সমর্থকদের সাম্বা নৃত্য।

 

 

 

ব্রাজিল সমর্থকেরা বলেন, আমরা এবার হেক্সা মিশনে নেমেছি। এবার ব্রাজিল দল দারুণ ফর্মে আছে। ইনশাল্লাহ এবার ৬ নম্বর বিশ্বকাপ ঘরে তুলবো আমরা।

 

 

 

অপর এক সমর্থক আর্জেন্টিনার উদ্দেশ্যে বলেন, আমাদের পাঁচটা আছে তাদের তিনটা। তাদের সঙ্কে আমাদের দলের তূলণাই চলে না।

 

 

 

স্বামী জার্মানী, স্ত্রী ব্রাজিল ও মেয়েকে আর্জেন্টিনার জার্সি পড়িয়ে রিকশাযোগে র্যা লীতে অংশ নেয় একটি পরিবার। জানতে চাইলে জার্মান সমর্থক স্বামী বলেন, স্ত্রী ব্রাজিল সমর্থক তাই তাকে ব্রাজিলের র‌্যালিতে নিয়ে এসেছি। আমি চাই ব্রাজিল ভালো খেলুক তবে জার্মানি ৫ম বিশ্বকাপ জিতুক। মেয়ে আর্জেন্টিনা সমর্থক বলেন, এবারও আর্জেন্টিনাই কাপ জিতবে। স্ত্রী ব্রাজিল সমর্থক বলেন, আমাদের ঘরে এখন রীতিমোত গৃহযুদ্ধ লেগে গেছে।

 

 

 

র‌্যালির আয়োজকরা বলেন, আমরা শহরে দেখিয়ে দিতে চাই আর্জেন্টিনার চেয়ে বেশি সমর্থক রয়েছে ব্রাজিলের। আজকে সিরাজগঞ্জ শহর হলুদ জার্সির দোলায় দুলছে।

 

 

জুলাইয়ে পুলিশ হত্যাকারী সেই মাহদী আশ্রয় নিলেন থানায়

হবিগঞ্জের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মাহদী হাসান এবার থানায় আশ্রয় নিয়েছেন। ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ধাওয়া ও হামলার চেষ্টার অভিযোগ তুলে তিনি হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় প্রবেশ করেন। 

 

 

তবে অভিযোগটি অস্বীকার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

 

বুধবার (১০ জুন) দুপুরে হবিগঞ্জ শহরের পুরাতন হাসপাতাল সড়কে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় থাকা অবস্থায় ফেসবুক লাইভে এসে মাহদী থানায় প্রবেশ করেন। 

 

 

লাইভে তিনি দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশের জেরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাকে ধাওয়া দিয়ে হামলার চেষ্টা করছেন। তবে ছাত্রদলের দাবি, মাহদীর লাইভ ভিডিওতে তার অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

 

 

ভিডিওতে আশপাশে কাউকে দেখা যায়নি বলেও তারা উল্লেখ করে।

 

 

 

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশেদুল হক খান বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

 

 

 

এ নিয়ে পুলিশের একটি জরুরি বৈঠক চলছে। পরে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিস্তারিত জানাবেন।

 

 

 

জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মাহদীর বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, ‘লাইভ ভিডিওতে রিকশার পেছনে কাউকে দেখা যায়নি। ছাত্রদলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সাজানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’ 

 

 

 

মাহদী হাসান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন হবিগঞ্জ জেলার সদস্যসচিব। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে দেওয়া একটি ফেসবুক লাইভ এবং বিভিন্ন বিতর্কিত বক্তব্যের কারণে তিনি আলোচনায় আসেন। 

 

 

 

এর আগে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় গিয়ে ওসিকে ধমক দেওয়া, বানিয়াচং থানার এক উপপরিদর্শককে উদ্দেশ করে হুমকিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। 

 

 

আদালতে আত্মসমর্পণ উপজেলা আ.লীগ সাধারণ সম্পাদকের

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর বুধবার (১০ জুন) বেলা ১১টার দিকে সুনামগঞ্জ আমল গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে তিনি জামিন আবেদন করেন।

 

 

 

তবে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

 

 

আসামিপক্ষের আইনজীবী ও সুনামগঞ্জ জেলা জজ আদালতের অ্যাডভোকেট রুমেল মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রেজাউল করিম স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেছিলেন। আদালত জামিন শুনানি শেষে আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

 

তিনি আরও বলেন, আমরা পরবর্তীতে তাদের জামিনের জন্য উচ্চ আদালতে চেষ্টা করব।

 

আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৯ নভেম্বর জগন্নাথপুর উপজেলার মিরপুর ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মিরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল নূর বাদী হয়ে সাবেক পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নানসহ আওয়ামী লীগের ৪৯ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে জগন্নাথপুর থানায় এই মামলাটি করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছিল। চাঞ্চল্যকর এই মামলায় রেজাউল করিম রিজু অন্যতম এজাহারনামীয় আসামি ছিলেন।

 

 

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, এই মামলায় এ পর্যন্ত মোট ১৪ জন আসামিকে গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

 

 

জ্যোতিষীর ভবিষ্যদ্বাণী

সেমিফাইনালে ছিটকে পড়বে আর্জেন্টিনা, বিশ্বকাপ জিতবে ফ্রান্স

বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসের এক নতুন ঐতিহাসিক এবং রোমাঞ্চকর অধ্যায় রচনা হতে যাচ্ছে। এবার সকল নামিদামী দলকে হারিয়ে সোনালী ট্রফি ছিনিয়ে নিয়ে বিশ্ব জেতার মুকুট মাথায় পরবে ফ্রান্স। এমনই ভবিষ্যত বানী করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন দেশবরেন্য জোতিষী আবদুস ছালাম শিকদার।

 

 

 

 

মঙ্গলবার বিকাল পাঁচটায় তিনি এ স্ট্যাটাস দেন। এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়া নিয়ে ভবিষ্যত বানী এবং ইরান ও ইসরাইল-আমেরিকার যুদ্ধ নিয়ে তার ভবিষ্যত বানী সত্য প্রমানিত হয়েছে।

 

 

 

ফেসবুকে দেয়া এই জ্যোতিষীর পোষ্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো। তিনি লেখেন, ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে এক তুমুল উন্মাদনা। সাধারণ মানুষ যখন দলগুলোর অতীত পরিসংখ্যান আর পারফরমেন্স নিয়ে হিসাব-নিকাশ করতে ব্যস্ত, তখন প্রচলিত সব ধারণাকে পাশ কাটিয়ে এই ফুটবল মহাযজ্ঞের চূড়ান্ত নিয়তি ইতিমধ্যেই নির্ধারিত হয়ে গেছে।​

 

এবারের টুর্নামেন্টে বিশ্ববাসী এমন কিছু অবিশ্বাস্য অঘটন আর চরম ট্র্যাজেডি দেখবে, যা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। কোটি ভক্তের বুকভাঙ্গা কান্না আর মাঠের রক্তক্ষয়ী লড়াই সত্ত্বেও বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং ইউরোপের শক্তিশালী দল স্পেনকে বিদায় নিতে হবে সেমিফাইনালের মঞ্চ থেকেই। এক নির্মম সত্যের মুখোমুখি হয়ে লাতিন আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্বের সূর্যখ্যাত ব্রাজিল এবার ফাইনালের ঠিক আগের মুহূর্তে এসে ফুটবলের আকাশ থেকে অস্তমিত হবে।​ফাইনালের সেই ঐতিহাসিক দিনে মেটলাইফ স্টেডিয়ামের রণাঙ্গনে মুখোমুখি হবে ইউরোপের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পরাশক্তি ইংল্যান্ড এবং ফ্রান্স।একদিকে থাকবে দীর্ঘদিনের শিরোপার খরা কাটিয়ে বিশ্বজয়ে মরিয়া ইংলিশরা, আর অন্যদিকে থাকবে অপ্রতিরোধ্য শক্তির ফরাসিরা।

কিন্তু ট্রফি ছোঁয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে, কাপের একদম দ্বারপ্রান্তে গিয়ে এক অদৃশ্য দেওয়ালে ধাক্কা খাবে ইংল্যান্ডের সব স্বপ্ন। এক বুক দীর্ঘশ্বাস আর বীরোচিত পরাজয় সঙ্গী করে মাঠ ছাড়তে হবে তাদের, রানার আপের মর্যাদা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে ইংলিশদের।​কারণ, ১৯শে জুলাইয়ের সেই মোক্ষম ক্ষণে এক অনন্য এবং জাদুকরী আশীর্বাদ বর্ষিত হবে ফরাসিদের ওপর। উল্লেখিত সমস্ত পরিস্থিতি আর শক্তির গতিপথকে সামনে রেখে আজ অত্যন্ত স্পষ্ট ও দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করছি- ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের মঞ্চে ইংল্যান্ডের দর্প চূর্ণ করে, সোনালী ট্রফি ছিনিয়ে নিয়ে বিশ্ববিজেতার মুকুট মাথায় পরবে ফ্রান্স। এই ভবিষ্যৎবাণী ফুটবল ইতিহাসের এক নতুন ঐতিহাসিক এবং রোমাঞ্চকর অধ্যায় রচনা করতে যাচ্ছে।

 

 

তিনি আরও লেখেন, যারা সমসাময়িক খবরের কাগজের বিশ্লেষণ বা গাণিতিক পরিসংখ্যানের বাইরে গিয়েও বাস্তব সত্যকে আগেভাগেই অনুধাবন করতে ভালোবাসেন, এই বার্তাটি মূলত তাঁদের কৌতূহল নিবৃত্তির জন্য। ফুটবল মাঠে বল গড়ানোর পর থেকে প্রতিটি মুহূর্তের ঘটনাপ্রবাহ যখন এই পূর্বাভাসের সাথে অক্ষরে অক্ষরে মিলতে শুরু করবে, তখন সংশয়বাদীদের সমস্ত যুক্তিই ম্লান হয়ে যাবে।

 

 

 

১৯শে জুলাইয়ের ঐতিহাসিক ফাইনাল ম্যাচ শেষে এই প্রতিটি শব্দের বস্তুনিষ্ঠতা ও সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সবাইকে অগ্রিম আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখলাম। যুক্তিপূর্ণ যেকোনো আলোচনা বা কৌতূহল নিয়ে সরাসরি যোগাযোগের দরজা উন্মুক্ত রইলো।

 

 

 

জ্যোতিষী মো. আবদুছ ছালাম শিকদার কালবেলাকে বলেন, আমি প্রায় দুই সপ্তাহ প্রচেষ্টার পর প্রেডিকশনটি সম্পন্ন করেছি। আল্লাহর রহমতে এর আগেও আমার বিভিন্ন প্রেডিকশন সফল হয়েছিলো। আমি ২০১৪ সালে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ এ্যাস্ট্রোলোজি থেকে জ্যোতিষ ডিগ্রী অর্জন করেছি। মানুষ আমাকে প্রেডিকশন করতে উৎসাহ যোগায় এজন্যই মূলত প্রেডিকশন করি।

 

 

 

জ্যোতিষী আবদুস ছালাম শিকদার ১৯৮২ সালের ২ এপ্রিল পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের বাদুরতলী গ্রামের সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম হাজী মো. জালাল উদ্দিন শিকদার। ছয় ভাই বোনের মধ্যে আবদুস ছালাম জালাল উদ্দিনের দ্বিতীয় সন্তান।

সুত্র: দৈনিক কালবেলা

 

কৃষক দল নেতাকে হত্যা, জড়িতদের খুঁজছে পুলিশ

বাগেরহাটের ফকিরহাটে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে কৃষক দল নেতা আনিসুর রহমান বাদল (৪০) নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৯ জুন) রাত ১০টার দিকে উপজেলার মূলঘর ইউনিয়নের নিয়তির মাঠ এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

 

 

পুলিশ লাশ উদ্ধার করে বুধবার (১০ জুন) সকালে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করেছেন। ঘটনার পর ১৭ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (বেলা সাড়ে ৩টা) থানায় মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন ফকিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সাইফুল ইসলাম।

 

 

নিহত আনিসুর রহমান বাদল মোড়ল বাগেরহাট সদর ইউনিয়নের আড়পাড়া গ্রামের মৃত জাফর মোড়লের ছেলে। তিনি বাগেরহাট সদর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি ছিলেন। এছাড়াও এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন আব্দুল্লাহ মোড়ল। তিনি একই গ্রামের মৃত নুর ইসলাম মোড়লের ছেলে। তিনি বারুইপাড়া ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি।

কৃষক দলের সভাপতি আনিসুর রহমান বাদল মোড়ল খুনের ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি, সহযোগী ও অংগ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

হত্যার প্রতিবাদে বারইপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির পক্ষ থেকে কালো ব্যাচ ধারণ ও বেলা ১১টায় বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বাদ আসর স্থানীয় আড়পাড়া স্কুল মাঠে নিহতের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বাগেরহাট সদর উপজেলা থেকে বিএনপি নেতা আনিসুর রহমান বাদল মোড়ল ও আব্দুল্লাহ মোড়ল ভ্যানযোগে ফকিরহাট যাচ্ছিলেন। এ সময় মূলঘর ইউনিয়নের সোনাখালী গ্রামের নিয়তির মাঠ এলাকায় পৌঁছালে অজ্ঞাত ৭/৮ জনের একদল দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীদের এলোপাথাড়ি কোপ ও ছুরিকাঘাতে ঘটনাস্থলেই বাদল মোড়লের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় আব্দুল্লাহ মোড়লকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানান চিকিৎসক ডা. সুকান্ত ম-ল।

 

 

ফকিরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সাইফুল ইসলাম বলেন, নিহত মো. বাদল মোড়লের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান শুরু করেছে।

 

 

জেলা বিএনপি নেতা খান মনিরুল ইসলাম বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বারুইপাড়া ইউনিয়নে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সে সময় ১১ জন বিএনপি নেতাকর্মী গুরুতর জখম হয়েছিল। আবারও এই হামলা পূর্ব পরিকল্পনার অংশ কিনা তা খতিয়ে দেখতে আমি পুলিশ প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাই।

 

 

হৃদরোগীদের জন্য সুখবর! কমলো হার্টের রিংয়ের দাম

হৃদরোগ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হার্টের রিং বা করোনারি স্টেন্টের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। বেশিরভাগ রিংয়ের দাম পূর্বের তুলনায় ৩ হাজার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ প্রায় ৪৮ হাজার টাকা কমানো হয়েছে। ট্যাক্স, ভ্যাট, বিভিন্ন চার্জ, কমিশন এবং আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর যুক্তিসংগত মুনাফা বিবেচনা করে এই মূল্য সংশোধন করা হয়েছে।

 

 

 

বুধবার (১০ জুন) ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মোাহাম্মদ আলমগীর হোসেনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

 

 

নতুন নির্ধারিত এই মূল্য অবিলম্বে কার্যকর হবে। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত বিশেষজ্ঞ পরামর্শক কমিটির সিদ্ধান্ত ও সুপারিশের আলোকে এই মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়।

 

বিজ্ঞপ্তিতে মোট ২৯টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের হার্টের রিংয়ের পূর্ববর্তী মূল্য এবং নতুন অনুমোদিত মূল্যের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকায় দেখা যায়, বেশিরভাগ রিংয়ের দাম পূর্বের তুলনায় ৩ হাজার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৪৭ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে।

 

হাসপাতালগুলোর জন্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ৪ নির্দেশনা নতুন মূল্য তালিকা প্রকাশের পাশাপাশি দেশের সব কার্ডিয়াক চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী হাসপাতালের জন্য ৪টি বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে অধিদপ্তর। সেগুলো হলো- ১. স্টেন্টসমূহের হালনাগাদ মূল্য তালিকা সর্বসাধারণের অবগতির জন্য সংশ্লিষ্ট সব হাসপাতালের নোটিশ বোর্ডে উন্মুক্ত স্থানে প্রদর্শন করতে হবে। ২. সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য অনুসরণ করে রিং ক্রয়-বিক্রয় করতে হবে। এটি কোনোভাবেই চিকিৎসা প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। ৩. স্টেন্টের নাম, সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য এবং উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করে রোগীকে পৃথক ক্যাশমেমো দিতে হবে। ৪. অস্ত্রোপচারের পর ব্যবহৃত স্টেন্টের খালি প্যাকেট বাধ্যতামূলকভাবে রোগীকে সরবরাহ করতে হবে।

 

 

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের সব কার্ডিয়াক হাসপাতালে হার্টের রিং সরবরাহ এবং তা অনুমোদিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যে বিক্রি হচ্ছে কি না— তা কঠোরভাবে মনিটরিং করা হবে।

 

 

 

বাজারে বিভিন্ন দামের স্টেন্ট পাওয়া যায়। নতুন তালিকায় সর্বনিম্ন ১৪ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৬৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দামের স্টেন্টও রয়েছে।

 

 

 

বাংলাদেশে রিং আসে দেশের বাইরে থেকে। সাধারণত ইউরোপ-আমেরিকা থেকে এগুলো আমদানি করেন ব্যবসায়ীরা। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও জার্মানি, পোল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, নেদারল্যান্ডস ও আয়ারল্যান্ড থেকে রিং আসে বাংলাদেশে। এছাড়া জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারত থেকেও রিং আমদানি করা হয়।

 

 

‘টয় স্টোরি ৫’ প্রিমিয়ারে নজর কাড়লেন টেইলর সুইফট

হলিউডে যেন বসেছিল তারার মেলা। বহু প্রতীক্ষিত অ্যানিমেশন ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘টয় স্টোরি’র পঞ্চম কিস্তির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার ঘিরে লস অ্যাঞ্জেলেসের ডলবি থিয়েটারে বসেছিল তারকাদের মহামিলনমেলা। তবে জমকালো এই আয়োজনের সব আলো কেড়ে নেন পপ সম্রাজ্ঞী টেইলর সুইফট। একেবারে আকস্মিক উপস্থিতিতে ভক্তদের বিস্ময়ে ভাসিয়ে দিয়ে তিনি প্রিমিয়ারের সবচেয়ে বড় চমক হয়ে ওঠেন। আর সেই মুহূর্তে ‘টয় স্টোরি ৫’ ঘিরে দর্শকদের উন্মাদনা যেন পৌঁছে যায় নতুন উচ্চতায়।

 

 

শুধু লাল গালিচায় হাঁটাই নয়, মঞ্চে উঠে সরাসরি পারফর্মও করেন তিনি। এই সিনেমার সাউন্ডট্র্যাকের জন্য তৈরি নিজের মৌলিক গান ‘আই নিউ ইট, আই নিউ ইউ’ গেয়ে শোনান সুইফট।

 

 

পারফরম্যান্সের সময় তার সঙ্গে মঞ্চে যোগ দেন এই ফ্র্যাঞ্চাইজির কিংবদন্তি সংগীত পরিচালক ও অস্কারজয়ী সুরকার র‌্যান্ডি নিউম্যান। নিউম্যানের পিয়ানোর সুরে সুইফটের কণ্ঠের মেলবন্ধন উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে। শুধু নিজের গানই নয়, এই ফ্র্যাঞ্চাইজির চিরচেনা থিম সং ‘ইউ’ভ গট আ ফ্রেন্ড ইন মি’ গেয়েও হলভর্তি দর্শক মাতান টেলর সুইফট।

ডিজনি ও পিক্সারের ‘টয় স্টোরি ৫’ সিনেমার গল্পে এবার থাকছে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া। প্রিয় চরিত্র উডি (টম হ্যাংকস), বাজ লাইটইয়ার (টিম অ্যালেন) এবং জেসি (জোয়ান কিউস্যাক) সহ পুরো খেলনা দলটিকে এবার এক নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। তাদের ছোট্ট বন্ধু বনির ঘরে আগমন ঘটে লিলি প্যাড (গ্রেটা লি) নামের একটি আধুনিক ট্যাবলেট ডিভাইসের। বনির জন্য আসলে কোনটি ভালো—তা নিয়ে খেলনাদের চিরন্তন ভাবনার বিপরীতে একদম নিজস্ব কিছু আইডিয়া নিয়ে হাজির হয় এই ট্যাবলেটটি। আর এ নিয়েই জমজমাট রূপ নেয় সিনেমার গল্প।

 

সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন একাডেমি পুরস্কার বিজয়ী জনপ্রিয় পরিচালক অ্যান্ড্রু স্ট্যান্টন, যার ঝুলিতে রয়েছে ‘ওয়াল-ই’, ‘ফাইন্ডিং নেমো’ এবং ‘ফাইন্ডিং ডোরি’র মতো মাস্টারপিস। সহ-পরিচালক হিসেবে তার সঙ্গে আছেন কেন্না হ্যারিস। সিনেমাটি প্রযোজনা করেছেন লিন্ডসে কলিন্স। বরাবরের মতোই এর আবহ সংগীতের দায়িত্বে আছেন অস্কারজয়ী র্যান্ডি নিউম্যান, এটি টয় স্টোরি ফ্র্যাঞ্চাইজির কোনো সিনেমায় তার পঞ্চম কাজ।

জমকালো এই প্রিমিয়ারে সিনেমার মূল কণ্ঠশিল্পীরা হাজির হয়েছিলেন। লাল গালিচায় দেখা মেলে টম হ্যাংকস, টিম অ্যালেন, জোয়ান কিউস্যাক, কোনান ও’ব্রায়েন, গ্রেটা লি, ক্রেগ রবিনসন, টনি হেল এবং স্কারলেট স্পিয়ার্সের মতো তারকাদের।

প্রযুক্তিনির্ভর শান্তিরক্ষা মিশনের রূপরেখা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের চ্যালেঞ্জ দিন দিন জটিল ও বহুমাত্রিক হয়ে উঠছে। তাই ভবিষ্যতে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা মিশনগুলোকে আরও আধুনিক, দূরদর্শী ও প্রযুক্তিনির্ভর হতে হবে।

 

 

মঙ্গলবার (১০ জুন) সকালে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন কিংবা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দায়িত্ব পালনের জন্য সরকার সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার মহান দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যারা আত্মত্যাগ করেছেন, আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসে সারা বিশ্বের সেই সাহসীদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।

তিনি বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষাবাহিনীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ১৯৮৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ১৭৫ জন শান্তিরক্ষী শহীদ হয়েছেন। অনেকে আহত হয়েছেন। তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষাবাহিনীর সদস্য হিসেবে শহীদদের এই আত্মদান, যুদ্ধবিরোধী ও শান্তিকামী মানুষের জন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

 

তিনি আরও বলেন, তাদের এই আত্মত্যাগ প্রমাণ করে, শুধু মাতৃভূমির স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বই নয় জাতিসংঘের পতাকাতলে শান্তিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে যে কোনো মূল্যে শান্তিরক্ষায় বদ্ধপরিকর।

 

 

কিন্তু এ পথ বন্ধুর ছিল জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বমঞ্চে যে গৌরব ও কৃতিত্ব অর্জন করেছেন, তা সহজ ছিলো না। শত প্রতিকূলতা, সীমাবদ্ধতা এবং কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে এই মহান ও মানবিক দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে তাদের।

 

 

শান্তিরক্ষীদের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থেকে একটি প্রতিকূল পরিবেশে আপনারা নিষ্ঠা, সাহস ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় আপনাদের এই অবদানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।

 

 

অনুষ্ঠানের শুরুতেই ভিডিওচিত্রের মাধ্যমে জাতিসংঘের শান্তি মিশনে দেশের সামরিক বাহিনীর অবদান তুলে ধরা হয়। একইসঙ্গে শহীদ হওয়া শান্তিরক্ষীদের পরিবার ও আহতদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

 

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ পর্যন্ত বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের ২ লাখেরও বেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বের ৪৩ টি দেশের প্রায় ৬৩ টি শান্তিরক্ষা মিশনে সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার ৮৬০ বাংলাদেশি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ১০ টি শান্তিরক্ষা মিশনে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। হাইতিতে নতুন একটি মিশনে যোগ দেয়ারও প্রস্তুতি চলছে।

 

 

তিনি বলেন, পুরুষের পাশাপাশি বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের প্রায় ১১ শতাংশ নারী সদস্য সাহসের সঙ্গে যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু বিশ্ব শান্তি রক্ষায় আমাদের এই গৌরবের ইতিহাস একদিনে রচিত হয়নি। প্রায় চার দশক ধরে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সশস্ত্রবাহিনী একটি আস্থা ও নির্ভরতার নাম।

 

 

সশস্ত্রবাহিনী একটি দেশের স্বাধীনতা, সম্মান ও সাহসের প্রতীক জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের জন্মযুদ্ধে সেনাবাহিনীর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক। সেনাবাহিনীর একজন মেজর বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই গৌরব ও অহংকার আমাদের সশস্ত্রবাহিনীর জন্য অনন্ত প্রেরণার উৎস। তাই এই গৌরব যেন কোনোভাবেই ম্লান না হয় সেটি রক্ষা করা সশস্ত্রবাহিনীর কর্তব্য।

 

 

তিনি বলেন, তবে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে, দেশে সশস্ত্রবাহিনীর কিংবা সশস্ত্র বাহিনীকে নিয়ে কিছু অপতৎপরতা কখনো কখনো জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির কারণ হয়েছে। দেশে বিদেশে সশস্ত্রবাহিনীর ইমেজ বিনষ্ট করতে নানা তৎপরতাও বিদ্যমান ছিল। তবে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে ১৯৭৫ এর সাত নভেম্বর স্বাধীনতার ঘোষকের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী ঐক্যবদ্ধভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল।

 

 

তারেক রহমান বলেন, এরপরও বিভিন্ন সময়ে নানারকম ঘটনায় সশস্ত্রবাহিনীর ঐক্য বিনষ্টের তৎপরতা চলেছে। ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সশস্ত্রবাহিনীর ওপর সর্বগ্রাসী আঘাতটি এসেছিল। সেই আঘাতের ফলে বাংলাদেশে কি ঘটেছিলো সেটি আমাদের সবার জানা। তাই, ইউনিফর্মধারী বাহিনীর জন্য প্রধান বার্তাটি হলো, ‘প্রফেশনালিজম, ইউনিটি, ডিসিপ্লিন এবং চেইন অফ কমান্ড’ ছাড়া সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে টিকে থাকা কঠিন।

 

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধুই অতীত চর্চা নয় বরং অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতিটি রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সামনে স্বমহিমায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। যারা সশস্ত্রবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করছেন অথবা সরকারে বা জনপ্রশাসনে রয়েছেন, আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। আমরা দেশে বা বিদেশে যেখানে যে দায়িত্ব পালন করছি, সেই দায়িত্বটি যথাযথভাবে পালন করাই হোক আজকের দিনে আমাদের অঙ্গীকার।

 

 

বর্তমান বিশ্ব এক জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ ও প্রযুক্তির দ্রুত বিবর্তনের ফলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের চ্যালেঞ্জগুলো এখন অনেক বেশি বহুমুখী ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রথাগত যুদ্ধের পাশাপাশি সাইবার যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার, মিডিয়া অপপ্রচার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট নিরাপত্তা সংকট বিশ্বশান্তির নতুন অন্তরায়।

 

 

বাংলাদেশ সব সময় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং পারস্পরিক রাষ্ট্রীয় মর্যাদার নীতিতে বিশ্বাসী উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাই আমাদের ভবিষ্যৎ মিশনগুলো হতে হবে আরও আধুনিক, দূরদর্শী এবং প্রযুক্তিনির্ভর। এমন পরিস্থিতিতে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন কিংবা আন্তর্জাতিক পরিম-লে দায়িত্ব পালনের জন্য সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনী আধুনিক করতে সরকার পর্যায়ক্রমিকভাবে উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।’

 

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সংবিধানে বিশ্বশান্তি, আন্তর্জাতিক সহাবস্থান ও ন্যায়বিচারের প্রতি যে অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে, আমরা তা বজায় রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বাংলাদেশ যে কোনো আগ্রাসন ও সংঘাতের বিরুদ্ধে একটি নিরাপদ ও শান্তিময় পৃথিবী গড়ে তুলতে বহুপাক্ষিক কূটনীতি ও জাতিসংঘ সনদের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল।

 

 

তিনি বলেন, বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা তাদের আন্তরিকতা, কর্তব্যবোধ এবং পেশাদারিত্বের গৌরবোজ্জ¦ল দৃষ্টান্ত বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করেছে। শান্তিরক্ষা মিশনের প্রতিটি সদস্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলাদেশের প্রতিনিধি, দেশের মান-সম্মানের বাহক। আশা করি, আগামী দিনেও যারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দায়িত্ব পালন করতে বিভিন্ন দেশে যাবেন, তারা একইভাবে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের সুনাম সমুন্নত রাখবেন।

 

 

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান প্রমুখ।

 

 

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী পরিষদের সদস্য, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধানসহ সশস্ত্রবাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ এবং বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিকগণ উপস্থিত ছিলেন।

 

 

প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী ২৯ মে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস পালিত হয়। কিন্তু এবার বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি থাকায় রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ ১০ জুন এটি পালিত হচ্ছে।

 

পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে ১৯ জন গ্রেপ্তার

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিমসার বাজারে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযান চালিয়ে ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

 

 

বুধবার (১০ জুন) বিকেলে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।

 

 

পুলিশ সুপার জানান, মঙ্গলবার অবৈধ থ্রি-হুইলার আটককে কেন্দ্র করে একদল দুর্বৃত্ত হাইওয়ে পুলিশের একটি গাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। ঘটনার পরপরই জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তাররা হলেন- বিল্লাল হোসেন, ইউসুফ মিয়া, হাসান, রিফাত, হাবিব, মফিজ, আক্তার হোসেন, সিফাত, রবিউল, আবু ইউসুফ ইকরাম, জুয়েল, সারোয়ার হোসেন, নুপুর সাহা, সোহাগ মিয়া, বিল্লাহ, সোহেল মিয়া, ইব্রাহিম খলিল, দেলোয়ার হোসেন ও আজিজুল।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

 

পুলিশ সুপার বলেন, মহাসড়কে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।