সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo রায়গঞ্জ প্রেসক্লাবের প্রয়াত সাংবাদিক আশরাফ আলীর স্মরণে দোয়া মাহফিল Logo বিএনপি ক্ষমতায় আছে জোরজবরদস্তির মাধ্যমে: নাহিদ ইসলাম Logo হাসিনা একজনের ঘাড়ে ৩৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ রেখে গেছেন: টুকু Logo হরমুজ প্রণালিতে ভারতসহ চার দেশকে কেন ছাড় দিচ্ছে ইরান? Logo ১৭ বছর বয়সী ফুটবলারসহ ইতালির স্কোয়াড ঘোষণা Logo পর্তুগালের শেষবার মাঠে নামার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন রোনালদো Logo ২৬৮ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ, হাল ধরেছেন মুশফিক-হৃদয় Logo আলট্রাসনোগ্রামে যমজ, সিজারের পর মিলল একটি নবজাতক; থানায় এজাহার Logo ডেমোক্র্যাটদের জয়ে অবসানের পথে ইরান যুদ্ধ, বদলাতে পারে ইসরায়েল নীতি Logo সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুতে ৫ লাখ, আহতদের ক্ষতিপূরণ ১ লাখ টাকা

গাইবান্ধায় সড়কের করুণ দশা, দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন হাজারো মানুষ

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার মীরগঞ্জ-গঙ্গার হাট সড়কের দৃশ্য।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ১৩ কিলোমিটার সড়কের মাত্র ৬০০ মিটার অংশের বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন হাজারো মানুষ।

 

 

 

 

দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও পাকাকরণ না হওয়ায় সড়কটির ওই অংশে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত ও খানাখন্দ। কোথাও কোথাও খালে ধসে পড়েছে সড়কের অর্ধেক। ফলে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহনকে। প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। এর আগে সড়কটিতে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।

 

 

 

 

এ চিত্র গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার মীরগঞ্জ-গঙ্গার হাট সড়কের। দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ ধরে এ দুর্ভোগের অবসান না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। দ্রুত সড়কটির বেহাল অংশ পাকাকরণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মীরগঞ্জ-পাওটানা জিসি সড়কের মীরগঞ্জ-জিগাতলা অংশ ২০০৩ সালের দিকে পাকাকরণ করা হয়। তবে জিগাতলা থেকে চারমাথা বটতলা পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মিটার অংশ এখনো কাঁচা রয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে পাকাকরণ না হওয়ায় সড়কটির এ অংশে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য গর্ত ও খানাখন্দ। কোথাও কোথাও পাশের খালে ভেঙে পড়েছে সড়কের অর্ধেক।

সরেজমিন দেখা যায়, জিগাতলা থেকে উত্তর দিকে সড়কের কিছু অংশে ইট বিছানো রয়েছে। তবে সড়কের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ খালে ধসে পড়ায় অনেক জায়গায় ইট সরে গেছে। বাকি অংশের বেশিরভাগই কাঁচা ও এবড়োখেবড়ো। বিকল্প পথ না থাকায় খালে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে বিভিন্ন যানবাহন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সড়কজুড়ে কাদা জমে চলাচল আরও দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। তখন যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, হেঁটে চলাও কঠিন হয়ে পড়ে।

 

 

 

স্থানীয়রা জানান, পীরগাছার তাম্বুলপুর, পাওটানা, কাউনিয়া, রাজারহাট ও লালমনিরহাটে যাতায়াতের অন্যতম সংক্ষিপ্ত পথ এটি। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে শত শত অটোরিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেল চলাচল করে। যাতায়াত করেন প্রায় চার থেকে পাঁচ হাজার মানুষ। অথচ মাত্র ৬০০ মিটার অংশের বেহাল দশার কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে থাকতে হচ্ছে তাঁদের।

কখনো পণ্যবাহী যানবাহন, কখনো যাত্রীবাহী অটোরিকশা কিংবা মোটরসাইকেল খালে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থী ও রোগীরা। উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ পথ হওয়ায় জরুরি প্রয়োজনে এ সড়ক ব্যবহার করতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন তারা।

 

 

 

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিরা সড়কটি পাকাকরণের প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে আর তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ দেখা যায় না। এভাবে প্রায় দুই যুগ ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। দ্রুত সড়কটি পাকাকরণ করে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

 

 

 

 

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ওবায়দুল রহমান মিঠু বলেন, ‘মাঝেমধ্যে তেলের ড্রাম, সার ও কৃষিপণ্য নিয়ে বিভিন্ন পরিবহন খালের মধ্যে পড়ে যায়। এর আগে অটোরিকশা দুর্ঘটনায় প্রাণও গেছে এক যাত্রীর। সব সময় ভয় নিয়ে চলাচল করতে হয় মানুষকে।’

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী তপন কুমার চক্রবর্তী বলেন, ‘ওই ৬০০ মিটার রাস্তা পাকাকরণের জন্য চাহিদা পাঠানো হয়েছে।’

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রায়গঞ্জ প্রেসক্লাবের প্রয়াত সাংবাদিক আশরাফ আলীর স্মরণে দোয়া মাহফিল

গাইবান্ধায় সড়কের করুণ দশা, দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন হাজারো মানুষ

আপডেট টাইম : ১০:২১:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ১৩ কিলোমিটার সড়কের মাত্র ৬০০ মিটার অংশের বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন হাজারো মানুষ।

 

 

 

 

দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও পাকাকরণ না হওয়ায় সড়কটির ওই অংশে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত ও খানাখন্দ। কোথাও কোথাও খালে ধসে পড়েছে সড়কের অর্ধেক। ফলে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহনকে। প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। এর আগে সড়কটিতে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।

 

 

 

 

এ চিত্র গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার মীরগঞ্জ-গঙ্গার হাট সড়কের। দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ ধরে এ দুর্ভোগের অবসান না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। দ্রুত সড়কটির বেহাল অংশ পাকাকরণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মীরগঞ্জ-পাওটানা জিসি সড়কের মীরগঞ্জ-জিগাতলা অংশ ২০০৩ সালের দিকে পাকাকরণ করা হয়। তবে জিগাতলা থেকে চারমাথা বটতলা পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মিটার অংশ এখনো কাঁচা রয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে পাকাকরণ না হওয়ায় সড়কটির এ অংশে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য গর্ত ও খানাখন্দ। কোথাও কোথাও পাশের খালে ভেঙে পড়েছে সড়কের অর্ধেক।

সরেজমিন দেখা যায়, জিগাতলা থেকে উত্তর দিকে সড়কের কিছু অংশে ইট বিছানো রয়েছে। তবে সড়কের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ খালে ধসে পড়ায় অনেক জায়গায় ইট সরে গেছে। বাকি অংশের বেশিরভাগই কাঁচা ও এবড়োখেবড়ো। বিকল্প পথ না থাকায় খালে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে বিভিন্ন যানবাহন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সড়কজুড়ে কাদা জমে চলাচল আরও দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। তখন যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, হেঁটে চলাও কঠিন হয়ে পড়ে।

 

 

 

স্থানীয়রা জানান, পীরগাছার তাম্বুলপুর, পাওটানা, কাউনিয়া, রাজারহাট ও লালমনিরহাটে যাতায়াতের অন্যতম সংক্ষিপ্ত পথ এটি। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে শত শত অটোরিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেল চলাচল করে। যাতায়াত করেন প্রায় চার থেকে পাঁচ হাজার মানুষ। অথচ মাত্র ৬০০ মিটার অংশের বেহাল দশার কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে থাকতে হচ্ছে তাঁদের।

কখনো পণ্যবাহী যানবাহন, কখনো যাত্রীবাহী অটোরিকশা কিংবা মোটরসাইকেল খালে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থী ও রোগীরা। উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ পথ হওয়ায় জরুরি প্রয়োজনে এ সড়ক ব্যবহার করতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন তারা।

 

 

 

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিরা সড়কটি পাকাকরণের প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে আর তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ দেখা যায় না। এভাবে প্রায় দুই যুগ ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। দ্রুত সড়কটি পাকাকরণ করে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

 

 

 

 

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ওবায়দুল রহমান মিঠু বলেন, ‘মাঝেমধ্যে তেলের ড্রাম, সার ও কৃষিপণ্য নিয়ে বিভিন্ন পরিবহন খালের মধ্যে পড়ে যায়। এর আগে অটোরিকশা দুর্ঘটনায় প্রাণও গেছে এক যাত্রীর। সব সময় ভয় নিয়ে চলাচল করতে হয় মানুষকে।’

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী তপন কুমার চক্রবর্তী বলেন, ‘ওই ৬০০ মিটার রাস্তা পাকাকরণের জন্য চাহিদা পাঠানো হয়েছে।’