সিরাজগঞ্জ , শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo এবারের এইচএসসির ফল আশানুরূপ হয়নি: শিক্ষামন্ত্রী Logo রপ্তানি সরবরাহ ব্যবস্থার ৬৬ দুর্বলতা চিহ্নিত, সমাধানে ৬ সিদ্ধান্ত Logo শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুযোগ, আবারও পরীক্ষায় বসছেন ৪ লাখ ২২ হাজার জন Logo ইছামতি নদীতে নিখোঁজের একদিন পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার Logo যুক্তরাষ্ট্রে চীনের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি, দুই নাগরিকের কারাদণ্ড Logo মানবিক বিভাগে ফেল সর্বোচ্চ, অন্য দুই বিভাগে চিত্র কেমন? Logo ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজারের দাবিতে রাজপথে শ্রমিকরা Logo প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের পরিচয় হওয়া উচিত তাঁর চরিত্রে: প্রভা Logo যুক্তরাষ্ট্র থেকে আফগান অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ ট্রাম্প প্রশাসনের Logo জনগণের ওপর স্বৈরশাসন চাপানোর চেষ্টা করছে সরকার: জামায়াত আমির

আইসিসিবিতে আট সপ্তাহের সংগীত উৎসব, সঙ্গে মোগল খাবারের আয়োজন

আইসিসিবিতে আট সপ্তাহের সংগীত উৎসব, সঙ্গে মোগল খাবারের আয়োজন

রাজধানীর কোলাহলমুখর পরিবেশ থেকে কিছুক্ষণের জন্য ভিন্ন এক আবহে সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার (আইসিসিবি) হেরিটেজ রেস্টুরেন্টে। এখানে একই আয়োজনে মিলেছে মোগল আমলের ঐতিহ্যবাহী খাবার, সুফি সংগীত আর রাজকীয় পরিবেশনা। ইতিহাস, সংস্কৃতি ও রসনার এই সম্মিলন সংগীতপ্রেমী এবং ভোজনরসিকদের জন্য তৈরি করেছে ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা।

 

 

 

 

গতকাল শুক্রবার রেস্টুরেন্টটিতে শুরু হয়েছে আট সপ্তাহব্যাপী ‘গ্র্যান্ড মিউজিক্যাল নাইট’-এর প্রথম পর্ব। ‘সুফি মিউজিক এডিশন’ শিরোনামে আয়োজিত এই পর্বে রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত চলে সংগীত ও খাবারের বিশেষ আয়োজন।

 

 

 

 

রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করতেই অতিথিদের স্বাগত জানায় সুফি সংগীতের মায়াবী সুর। কখনো প্রেম, কখনো বিরহ, আবার কখনো আত্মিক উপলব্ধির কথা উঠে আসে গানের কথায়। মঞ্চে চলতে থাকে সংগীত পরিবেশনা, আর টেবিলে একে একে পরিবেশন করা হয় মোগল আমলের রন্ধনশৈলী অনুসরণে তৈরি নানা পদ। চারপাশের আলো, সাজসজ্জা ও সংগীতের সমন্বয়ে তৈরি হয় এক বিশেষ আবহ।

 

 

 

 

ছুটির দিনের সন্ধ্যায় কেউ পরিবার নিয়ে, কেউবা বন্ধুদের সঙ্গে যোগ দেন এ আয়োজনে। রাজধানীর ব্যস্ততা ও দৈনন্দিন জীবনের একঘেয়েমি থেকে কিছুটা বিরতি নিয়ে সময় কাটানোর সুযোগ পান অতিথিরা। খাবার ও সংগীতের পাশাপাশি পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ছোঁয়া।

 

 

 

 

‘গ্র্যান্ড মিউজিক্যাল নাইট’-এর অন্যতম আকর্ষণ মোগল আমলের খাবার। ঐতিহ্যবাহী রন্ধনপ্রণালি অনুসরণ করে তৈরি এসব খাবারের স্বাদ ও পরিবেশনায় তুলে ধরা হয়েছে মোগল সংস্কৃতির আভিজাত্য। পরিবেশনকর্মীরাও মোগল আমলের পোশাকে অতিথিদের সামনে খাবার তুলে ধরেন। এতে রেস্টুরেন্টের সামগ্রিক পরিবেশে যোগ হয় ভিন্ন মাত্রা।

 

 

 

 

 

আয়োজকদের ভাষ্য, মোগল খাবারের সঙ্গে বাংলার খাদ্যসংস্কৃতির রয়েছে ঐতিহাসিক যোগসূত্র। সেই ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি সমসাময়িক পরিবেশে উপস্থাপন করাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। খাবারের স্বাদ গ্রহণের পাশাপাশি অতিথিরা যেন মোগল আমলের রন্ধনশৈলী, জীবনযাপন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্পর্কে ধারণা পান, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

 

 

সংগীতের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী খাবারের সমন্বয়ই ‘গ্র্যান্ড মিউজিক্যাল নাইট’-এর মূল আকর্ষণ। প্রতি সপ্তাহে সংগীতের ভিন্ন ধারা ও পরিবেশনার মাধ্যমে অতিথিদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে আয়োজকদের।

 

 

 

 

 

শুক্রবারের সুফি সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ আয়োজন চলবে আগামী ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত। আট সপ্তাহের প্রতিটি শুক্রবারে থাকছে সংগীতের আলাদা আয়োজন। সূচি অনুযায়ী, আগামী ৬ নভেম্বর পরিবেশিত হবে রবীন্দ্রসংগীত। ১৩ নভেম্বর থাকবে নব্বইয়ের দশকের হিন্দি গান এবং ২০ নভেম্বর নজরুলগীতি।

 

 

 

 

 

এ ছাড়া ২৭ নভেম্বর পরিবেশিত হবে কালজয়ী বাংলা গান। ৪ ডিসেম্বর থাকছে পিয়ানো ও কণ্ঠসংগীত, ১১ ডিসেম্বর শাস্ত্রীয় যন্ত্রসংগীত এবং ১৮ ডিসেম্বর লোকসংগীতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে আট সপ্তাহের এই আয়োজন।

 

 

 

 

 

প্রতি শুক্রবার রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত চলবে সংগীতের এ আসর। আয়োজকদের প্রত্যাশা, ঐতিহ্যবাহী খাবার, ভিন্নধর্মী সংগীত পরিবেশনা ও নান্দনিক পরিবেশের সমন্বয়ে ‘গ্র্যান্ড মিউজিক্যাল নাইট’ অতিথিদের জন্য স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে উঠবে।

 

 

জনতার কণ্ঠ/জেডএইচ

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এবারের এইচএসসির ফল আশানুরূপ হয়নি: শিক্ষামন্ত্রী

আইসিসিবিতে আট সপ্তাহের সংগীত উৎসব, সঙ্গে মোগল খাবারের আয়োজন

আপডেট টাইম : ১২:২০:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর কোলাহলমুখর পরিবেশ থেকে কিছুক্ষণের জন্য ভিন্ন এক আবহে সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার (আইসিসিবি) হেরিটেজ রেস্টুরেন্টে। এখানে একই আয়োজনে মিলেছে মোগল আমলের ঐতিহ্যবাহী খাবার, সুফি সংগীত আর রাজকীয় পরিবেশনা। ইতিহাস, সংস্কৃতি ও রসনার এই সম্মিলন সংগীতপ্রেমী এবং ভোজনরসিকদের জন্য তৈরি করেছে ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা।

 

 

 

 

গতকাল শুক্রবার রেস্টুরেন্টটিতে শুরু হয়েছে আট সপ্তাহব্যাপী ‘গ্র্যান্ড মিউজিক্যাল নাইট’-এর প্রথম পর্ব। ‘সুফি মিউজিক এডিশন’ শিরোনামে আয়োজিত এই পর্বে রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত চলে সংগীত ও খাবারের বিশেষ আয়োজন।

 

 

 

 

রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করতেই অতিথিদের স্বাগত জানায় সুফি সংগীতের মায়াবী সুর। কখনো প্রেম, কখনো বিরহ, আবার কখনো আত্মিক উপলব্ধির কথা উঠে আসে গানের কথায়। মঞ্চে চলতে থাকে সংগীত পরিবেশনা, আর টেবিলে একে একে পরিবেশন করা হয় মোগল আমলের রন্ধনশৈলী অনুসরণে তৈরি নানা পদ। চারপাশের আলো, সাজসজ্জা ও সংগীতের সমন্বয়ে তৈরি হয় এক বিশেষ আবহ।

 

 

 

 

ছুটির দিনের সন্ধ্যায় কেউ পরিবার নিয়ে, কেউবা বন্ধুদের সঙ্গে যোগ দেন এ আয়োজনে। রাজধানীর ব্যস্ততা ও দৈনন্দিন জীবনের একঘেয়েমি থেকে কিছুটা বিরতি নিয়ে সময় কাটানোর সুযোগ পান অতিথিরা। খাবার ও সংগীতের পাশাপাশি পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ছোঁয়া।

 

 

 

 

‘গ্র্যান্ড মিউজিক্যাল নাইট’-এর অন্যতম আকর্ষণ মোগল আমলের খাবার। ঐতিহ্যবাহী রন্ধনপ্রণালি অনুসরণ করে তৈরি এসব খাবারের স্বাদ ও পরিবেশনায় তুলে ধরা হয়েছে মোগল সংস্কৃতির আভিজাত্য। পরিবেশনকর্মীরাও মোগল আমলের পোশাকে অতিথিদের সামনে খাবার তুলে ধরেন। এতে রেস্টুরেন্টের সামগ্রিক পরিবেশে যোগ হয় ভিন্ন মাত্রা।

 

 

 

 

 

আয়োজকদের ভাষ্য, মোগল খাবারের সঙ্গে বাংলার খাদ্যসংস্কৃতির রয়েছে ঐতিহাসিক যোগসূত্র। সেই ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি সমসাময়িক পরিবেশে উপস্থাপন করাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। খাবারের স্বাদ গ্রহণের পাশাপাশি অতিথিরা যেন মোগল আমলের রন্ধনশৈলী, জীবনযাপন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্পর্কে ধারণা পান, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

 

 

সংগীতের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী খাবারের সমন্বয়ই ‘গ্র্যান্ড মিউজিক্যাল নাইট’-এর মূল আকর্ষণ। প্রতি সপ্তাহে সংগীতের ভিন্ন ধারা ও পরিবেশনার মাধ্যমে অতিথিদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে আয়োজকদের।

 

 

 

 

 

শুক্রবারের সুফি সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ আয়োজন চলবে আগামী ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত। আট সপ্তাহের প্রতিটি শুক্রবারে থাকছে সংগীতের আলাদা আয়োজন। সূচি অনুযায়ী, আগামী ৬ নভেম্বর পরিবেশিত হবে রবীন্দ্রসংগীত। ১৩ নভেম্বর থাকবে নব্বইয়ের দশকের হিন্দি গান এবং ২০ নভেম্বর নজরুলগীতি।

 

 

 

 

 

এ ছাড়া ২৭ নভেম্বর পরিবেশিত হবে কালজয়ী বাংলা গান। ৪ ডিসেম্বর থাকছে পিয়ানো ও কণ্ঠসংগীত, ১১ ডিসেম্বর শাস্ত্রীয় যন্ত্রসংগীত এবং ১৮ ডিসেম্বর লোকসংগীতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে আট সপ্তাহের এই আয়োজন।

 

 

 

 

 

প্রতি শুক্রবার রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত চলবে সংগীতের এ আসর। আয়োজকদের প্রত্যাশা, ঐতিহ্যবাহী খাবার, ভিন্নধর্মী সংগীত পরিবেশনা ও নান্দনিক পরিবেশের সমন্বয়ে ‘গ্র্যান্ড মিউজিক্যাল নাইট’ অতিথিদের জন্য স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে উঠবে।

 

 

জনতার কণ্ঠ/জেডএইচ