সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

৩২ কেজির বস্তু ঘিরে পাপুয়া নিউগিনিতে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের বিরোধ

৩২ কেজি ওজনের সন্দেহজনক চীনা কামানের গোলা। ছবি : পিএনজি

পাপুয়া নিউগিনিতে ৩২ কেজি ওজনের একটি সন্দেহজনক চীনা কামানের গোলা উদ্ধারের ঘটনায় মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। বেইজিংয়ের দাবি, এটি গোলার আদলে তৈরি একটি মদের বোতল। তবে ওয়াশিংটনের ভাষ্য, বস্তুটি অবিস্ফোরিত সামরিক গোলা হওয়ার প্রমাণ রয়েছে। ঘটনাটিকে গুরুতর জননিরাপত্তার হুমকি উল্লেখ করে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। খবর দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের।

 

 

 

 

গত সপ্তাহে পাপুয়া নিউগিনির রাজধানী পোর্ট মোরসবির একটি নির্মাণস্থল থেকে বস্তুটি উদ্ধারের পর চার চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ৩২ কেজি ওজনের বস্তুটি সামরিক কাজে ব্যবহৃত হতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

 

 

 

 

তবে পোর্ট মোরসবিতে অবস্থিত চীনা দূতাবাস এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, বস্তুটি ‘গোলার আকৃতির মদের বোতল’, যা কোনো ধরনের বিপদ তৈরি করে না। চীনে বিশ্বের অন্যতম কঠোর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকর থাকার কথা উল্লেখ করে দূতাবাস বলেছে, দেশটি থেকে অবৈধভাবে সামরিক কামানের গোলা পাচার হওয়া প্রায় অসম্ভব।

 

চীনের এই দাবির বিপরীতে ভিন্ন তথ্য দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার সম্প্রচারমাধ্যম এবিসি। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া বস্তুটি চীনে তৈরি ১৩০ মিলিমিটারের ‘টাইপ-৫৯’ কামানের অবিস্ফোরিত গোলা। এতে রাসায়নিক বিস্ফোরক এবং বিস্ফোরণ ঘটানোর ফিউজ রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার সরবরাহ করা এক্স-রে যন্ত্রের মাধ্যমে বস্তুটি শনাক্ত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে এবিসি।

 

 

বৃহস্পতিবার পোর্ট মোরসবিতে মার্কিন দূতাবাস জানায়, সন্দেহজনক বস্তুটি পরীক্ষা করা পাপুয়া নিউগিনির বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ দলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেছে তারা। প্রকাশ্যে আসা পরীক্ষার তথ্যের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যায়ন, এটি অবিস্ফোরিত সামরিক গোলা, কোনো মদের বোতল নয়।

 

 

মার্কিন দূতাবাসের বিবৃতিতে বলা হয়, ঘটনাটি জননিরাপত্তার জন্য গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। পাপুয়া নিউগিনির জনগণের সত্য ও সঠিক তথ্য জানার অধিকার রয়েছে। এ কারণে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া জরুরি। উদ্ধারকাজে দেশটির পুলিশ ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে যুক্তরাষ্ট্র আরও জানায়, পাপুয়া নিউগিনির জনগণ, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দেশটির পাশে থাকবে ওয়াশিংটন।

 

 

 

 

অন্যদিকে চীনা দূতাবাস জানিয়েছে, তারা পুলিশি তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে স্থানীয় পুলিশকে নিয়মিত তথ্য দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেছে দূতাবাস।

 

 

 

এদিকে ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চীনের ‘মদের বোতল’ তত্ত্ব ব্যাপক বিদ্রূপের জন্ম দিয়েছে। ফেসবুকে এক ব্যবহারকারী প্রশ্ন তুলেছেন, ‘কোন মদের বোতলের ওজন ৩২ কেজি হয়?’ আরেকজন মন্তব্য করেছেন, ‘এত বিস্ফোরক ক্ষমতাসম্পন্ন মদের বোতল আগে কখনো দেখিনি।’

 

 

 

চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে কটাক্ষ চলছে। এক ব্যবহারকারীর মন্তব্য, ‘দেশের মানুষকে বোকা বানানোর পর এবার বিদেশিদেরও বোকা বানাতে চাইছে চীন।’

 

 

 

 

জনতার কন্ঠ/এস এ

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৩২ কেজির বস্তু ঘিরে পাপুয়া নিউগিনিতে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের বিরোধ

আপডেট টাইম : ০৭:০৯:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

পাপুয়া নিউগিনিতে ৩২ কেজি ওজনের একটি সন্দেহজনক চীনা কামানের গোলা উদ্ধারের ঘটনায় মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। বেইজিংয়ের দাবি, এটি গোলার আদলে তৈরি একটি মদের বোতল। তবে ওয়াশিংটনের ভাষ্য, বস্তুটি অবিস্ফোরিত সামরিক গোলা হওয়ার প্রমাণ রয়েছে। ঘটনাটিকে গুরুতর জননিরাপত্তার হুমকি উল্লেখ করে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। খবর দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের।

 

 

 

 

গত সপ্তাহে পাপুয়া নিউগিনির রাজধানী পোর্ট মোরসবির একটি নির্মাণস্থল থেকে বস্তুটি উদ্ধারের পর চার চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ৩২ কেজি ওজনের বস্তুটি সামরিক কাজে ব্যবহৃত হতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

 

 

 

 

তবে পোর্ট মোরসবিতে অবস্থিত চীনা দূতাবাস এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, বস্তুটি ‘গোলার আকৃতির মদের বোতল’, যা কোনো ধরনের বিপদ তৈরি করে না। চীনে বিশ্বের অন্যতম কঠোর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকর থাকার কথা উল্লেখ করে দূতাবাস বলেছে, দেশটি থেকে অবৈধভাবে সামরিক কামানের গোলা পাচার হওয়া প্রায় অসম্ভব।

 

চীনের এই দাবির বিপরীতে ভিন্ন তথ্য দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার সম্প্রচারমাধ্যম এবিসি। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া বস্তুটি চীনে তৈরি ১৩০ মিলিমিটারের ‘টাইপ-৫৯’ কামানের অবিস্ফোরিত গোলা। এতে রাসায়নিক বিস্ফোরক এবং বিস্ফোরণ ঘটানোর ফিউজ রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার সরবরাহ করা এক্স-রে যন্ত্রের মাধ্যমে বস্তুটি শনাক্ত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে এবিসি।

 

 

বৃহস্পতিবার পোর্ট মোরসবিতে মার্কিন দূতাবাস জানায়, সন্দেহজনক বস্তুটি পরীক্ষা করা পাপুয়া নিউগিনির বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ দলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেছে তারা। প্রকাশ্যে আসা পরীক্ষার তথ্যের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যায়ন, এটি অবিস্ফোরিত সামরিক গোলা, কোনো মদের বোতল নয়।

 

 

মার্কিন দূতাবাসের বিবৃতিতে বলা হয়, ঘটনাটি জননিরাপত্তার জন্য গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। পাপুয়া নিউগিনির জনগণের সত্য ও সঠিক তথ্য জানার অধিকার রয়েছে। এ কারণে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া জরুরি। উদ্ধারকাজে দেশটির পুলিশ ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে যুক্তরাষ্ট্র আরও জানায়, পাপুয়া নিউগিনির জনগণ, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দেশটির পাশে থাকবে ওয়াশিংটন।

 

 

 

 

অন্যদিকে চীনা দূতাবাস জানিয়েছে, তারা পুলিশি তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে স্থানীয় পুলিশকে নিয়মিত তথ্য দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেছে দূতাবাস।

 

 

 

এদিকে ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চীনের ‘মদের বোতল’ তত্ত্ব ব্যাপক বিদ্রূপের জন্ম দিয়েছে। ফেসবুকে এক ব্যবহারকারী প্রশ্ন তুলেছেন, ‘কোন মদের বোতলের ওজন ৩২ কেজি হয়?’ আরেকজন মন্তব্য করেছেন, ‘এত বিস্ফোরক ক্ষমতাসম্পন্ন মদের বোতল আগে কখনো দেখিনি।’

 

 

 

চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে কটাক্ষ চলছে। এক ব্যবহারকারীর মন্তব্য, ‘দেশের মানুষকে বোকা বানানোর পর এবার বিদেশিদেরও বোকা বানাতে চাইছে চীন।’

 

 

 

 

জনতার কন্ঠ/এস এ