সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo রায়গঞ্জ প্রেসক্লাবের প্রয়াত সাংবাদিক আশরাফ আলীর স্মরণে দোয়া মাহফিল Logo বিএনপি ক্ষমতায় আছে জোরজবরদস্তির মাধ্যমে: নাহিদ ইসলাম Logo হাসিনা একজনের ঘাড়ে ৩৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ রেখে গেছেন: টুকু Logo হরমুজ প্রণালিতে ভারতসহ চার দেশকে কেন ছাড় দিচ্ছে ইরান? Logo ১৭ বছর বয়সী ফুটবলারসহ ইতালির স্কোয়াড ঘোষণা Logo পর্তুগালের শেষবার মাঠে নামার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন রোনালদো Logo ২৬৮ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ, হাল ধরেছেন মুশফিক-হৃদয় Logo আলট্রাসনোগ্রামে যমজ, সিজারের পর মিলল একটি নবজাতক; থানায় এজাহার Logo ডেমোক্র্যাটদের জয়ে অবসানের পথে ইরান যুদ্ধ, বদলাতে পারে ইসরায়েল নীতি Logo সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুতে ৫ লাখ, আহতদের ক্ষতিপূরণ ১ লাখ টাকা

প্রবাসীদের অর্থে ঋণ দেওয়ার সুযোগ, সহজ হলো এনআরসিটিএ হিসাব

  • রিপোর্টার:
  • আপডেট টাইম : ০৫:২৮:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • 30

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য নন-রেসিডেন্ট কনভার্টিবল টাকা অ্যাকাউন্ট বা এনআরসিটিএর ব্যবহার আরও সহজ ও বিস্তৃত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন বিদেশে চাকরিতে যাওয়ার আগে কোনো প্রাথমিক জমা ছাড়াই বাংলাদেশি নাগরিকরা এই হিসাব খুলতে পারবেন।

 

 

 

 

এমনকি প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে সাময়িক অবস্থানকালেও নির্ধারিত নিয়ম মেনে এনআরসিটিএ হিসাব খোলার সুযোগ পাবেন।

 

 

 

 

একই সঙ্গে এসব হিসাবে থাকা অর্থ দিয়ে দেশে বৈধ খরচ মেটানো, অন্য এনআরসিটিএ বা অনাবাসী টাকা হিসাবে অর্থ স্থানান্তর, বৈদেশিক মুদ্রার হিসাবে অর্থ নেওয়া, বিনিয়োগ এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে আবাসিক বাড়ি কেনার জন্য ঋণ নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এমনকি এনআরসিটিএর আমানত জামানত রেখে ব্যাংক থেকে টাকায় ঋণ নেওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

 

বুধবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ-১ থেকে জারি করা এক সার্কুলারে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে আগের ২৩ জুন জারি করা বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ-১-এর ১৪ নম্বর সার্কুলারটি বাতিল করে নতুন নির্দেশনা কার্যকর করা হয়েছে। সার্কুলারে স্বাক্ষর করেছেন বিভাগের পরিচালক নাসিমা সুলতানা।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, তপশিলি ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট ও অনুমোদিত ডিলার শাখায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা সঞ্চয়ী, চলতি কিংবা মেয়াদি আমানত—যেকোনো ধরনের এনআরসিটিএ হিসাব খুলতে পারবেন। ব্যাংকিং চ্যানেলে আসা বৈধ প্রবাসী আয়, অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব থেকে স্থানান্তরসহ নির্ধারিত বিভিন্ন উৎসের অর্থ এ হিসাবে জমা করা যাবে।

বিদেশে চাকরির উদ্দেশ্যে যাওয়ার আগে বাংলাদেশি নাগরিকরা কোনো প্রাথমিক জমা ছাড়াই এনআরসিটিএ খুলতে পারবেন। পাশাপাশি দেশে সাময়িক সফরে আসা প্রবাসী বাংলাদেশিরাও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও হিসাব খোলার শর্ত পূরণ করে এ হিসাব খুলতে পারবেন।

এনআরসিটিএতে ব্যাংকিং চ্যানেলে আসা প্রবাসী আয় জমা করা যাবে। অনুমোদিত বিনিময় প্রতিষ্ঠান, অর্থ স্থানান্তরকারী প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য বৈধ অর্থ পরিশোধকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আসা অর্থও প্রচলিত বিনিময় হারে টাকায় রূপান্তরের পর হিসাবে জমা করা যাবে। এ ছাড়া অন্য এনআরসিটিএ থেকে স্থানান্তরিত অর্থ, হিসাবের সুদ বা মুনাফা, এবং ওই হিসাব বা প্রবাসী আয় দিয়ে করা বৈধ বিনিয়োগের প্রত্যাবাসনযোগ্য অর্থও জমা করা যাবে।

 

 

 

 

বাংলাদেশি কোম্পানির নতুন শেয়ার ইস্যুতে এনআরসিটিএ থেকে অর্থ বিনিয়োগ করে পরে সেই বিনিয়োগের টাকা ফেরত এলে তা-ও এ হিসাবে জমা করা যাবে। একইভাবে এনআরসিটিএ থেকে পরিশোধ করা অর্থের ফেরতও হিসাবে নেওয়া যাবে।

 

 

 

 

এ হিসাবের অন্যতম বড় সুবিধা হলো—আমানতের মূল অর্থের পাশাপাশি অর্জিত সুদ বা মুনাফাও অবাধে বিদেশে ফেরত নেওয়া যাবে। এনআরসিটিএর অর্থ দিয়ে দেশে বৈধ খরচ মেটানো যাবে। অন্য এনআরসিটিএ বা অনাবাসী টাকা হিসাবে স্থানান্তর করা যাবে। চাইলে সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রায় ব্যক্তিগত বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব বা অনাবাসী বৈদেশিক মুদ্রা আমানত হিসাবেও অর্থ নেওয়া যাবে।

 

 

 

 

এ ছাড়া প্রত্যাবাসনযোগ্য বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের জন্য শেয়ার কেনা, পোর্টফোলিও বিনিয়োগের জন্য অনাবাসী বিনিয়োগকারীর টাকা হিসাবে অর্থ স্থানান্তর এবং এমন অন্যান্য বিনিয়োগে অর্থ রাখা যাবে, যেখান থেকে মূলধন ও মুনাফা বিদেশে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

 

 

 

 

বাংলাদেশে ফেরার সময় হিসাবধারী নির্ধারিত সীমার মধ্যে সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার নোটও নিতে পারবেন। তবে এনআরসিটিএতে জমা করার উদ্দেশ্যে দেশে আসা প্রবাসী আয়ে সাধারণত প্রচলিত প্রণোদনা প্রযোজ্য হবে না, যদি না বাংলাদেশ ব্যাংক আলাদাভাবে কোনো সুবিধা নির্ধারণ করে।

 

 

 

 

তবে বাংলাদেশে ব্যবসা করে বা দেশে সেবা দিয়ে অর্জিত আয় এনআরসিটিএতে জমা করা যাবে না।

 

 

 

 

সার্কুলারে ব্যাংকগুলোর জন্যও এসব আমানত ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটগুলো বিশেষায়িত অঞ্চলের ‘এ’ শ্রেণির শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে শুধু বাংলাদেশে অনুমোদিত চলতি খরচ—যেমন বেতন, মজুরি ও ইউটিলিটি বিল—মেটাতে টাকায় অর্থায়ন করতে পারবে। এ ঋণ শুধু রপ্তানি আয় থেকে পরিশোধ করতে হবে।

 

 

 

 

এ ছাড়া অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলো এনআরসিটিএর মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ দিয়ে যোগ্য গ্রাহকদের নিয়মিত টাকায় ঋণ দিতে পারবে। তবে এ ক্ষেত্রে প্রচলিত ঋণনীতি, সতর্কতামূলক বিধান, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যান্য নির্দেশনা মানতে হবে।

 

 

 

 

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো, এনআরসিটিএর আমানত জামানত রেখে টাকায় ঋণ নেওয়া যাবে। ব্যক্তিগত প্রয়োজন বা বৈধ ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে এ ঋণ নেওয়া যাবে। বাংলাদেশে প্রত্যাবাসনযোগ্য নয়—এমন সরাসরি বিনিয়োগ এবং নিজের ব্যবহারের জন্য আবাসিক সম্পত্তি কেনার ক্ষেত্রেও এ ঋণ ব্যবহার করা যাবে।

 

 

 

 

তবে এনআরসিটিএর আমানত জামানত রেখে নেওয়া ঋণ পুনঃঋণ, কৃষি বা বনায়নজাতীয় কার্যক্রম কিংবা আবাসন ব্যবসায় ব্যবহার করা যাবে না। আমানত জামানত দেওয়ার বিপরীতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনও করা যাবে না। ঋণ পরিশোধ করতে হবে এনআরসিটিএর আমানত সমন্বয় করে অথবা ব্যাংকিং চ্যানেলে নতুন করে প্রবাসী আয় এনে।

 

 

 

 

এনআরসিটিএ পরিচালনার ক্ষেত্রেও কিছুটা নমনীয়তা আনা হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশি চাইলে দেশে থাকা কোনো ব্যক্তিকে আইনগত ক্ষমতাপত্র দিয়ে হিসাব পরিচালনার অনুমতি দিতে পারবেন। হিসাবধারীর মৃত্যু হলে হিসাবের অর্থ চুক্তি ও প্রচলিত বিধি মেনে অনাবাসী মনোনীত ব্যক্তির কাছে বিদেশে পাঠানো যাবে।

 

 

 

 

স্থায়ীভাবে বাংলাদেশে ফিরে আসার পরও এনআরসিটিএ চালু রাখা যাবে। ওই হিসাবে অবসরকালীন সুবিধা, পেনশন, অবসর ভাতা বা বিদেশ থেকে পাওয়া অন্যান্য বৈধ আয় জমা করা যাবে। এসব অর্থের স্থিতি বিদেশে বৈধ পরিশোধে ব্যবহার করা যাবে। তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং প্রযোজ্য কর পরিশোধ করতে হবে।

 

 

 

 

বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোকে এনআরসিটিএতে অনলাইনে হিসাব খোলা ও ইলেকট্রনিক ব্যাংকিং সুবিধা চালুর জন্য উৎসাহিত করেছে। এ ধরনের সুবিধা চালুর আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে হিসাবের বৈশিষ্ট্য, পরিচালন পদ্ধতি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও পরিপালন কাঠামো সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে হবে।

 

 

 

 

সার্কুলারে বলা হয়েছে, এনআরসিটিএর অর্থ এবং এসব অর্থ থেকে দেওয়া ঋণের হিসাব আলাদাভাবে সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে অর্থের উৎস ও ব্যবহার স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা যায়। একই সঙ্গে গ্রাহক পরিচিতি যাচাই, অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ, কর, সতর্কতামূলক বিধান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করতে হবে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রায়গঞ্জ প্রেসক্লাবের প্রয়াত সাংবাদিক আশরাফ আলীর স্মরণে দোয়া মাহফিল

প্রবাসীদের অর্থে ঋণ দেওয়ার সুযোগ, সহজ হলো এনআরসিটিএ হিসাব

আপডেট টাইম : ০৫:২৮:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য নন-রেসিডেন্ট কনভার্টিবল টাকা অ্যাকাউন্ট বা এনআরসিটিএর ব্যবহার আরও সহজ ও বিস্তৃত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন বিদেশে চাকরিতে যাওয়ার আগে কোনো প্রাথমিক জমা ছাড়াই বাংলাদেশি নাগরিকরা এই হিসাব খুলতে পারবেন।

 

 

 

 

এমনকি প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে সাময়িক অবস্থানকালেও নির্ধারিত নিয়ম মেনে এনআরসিটিএ হিসাব খোলার সুযোগ পাবেন।

 

 

 

 

একই সঙ্গে এসব হিসাবে থাকা অর্থ দিয়ে দেশে বৈধ খরচ মেটানো, অন্য এনআরসিটিএ বা অনাবাসী টাকা হিসাবে অর্থ স্থানান্তর, বৈদেশিক মুদ্রার হিসাবে অর্থ নেওয়া, বিনিয়োগ এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে আবাসিক বাড়ি কেনার জন্য ঋণ নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এমনকি এনআরসিটিএর আমানত জামানত রেখে ব্যাংক থেকে টাকায় ঋণ নেওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

 

বুধবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ-১ থেকে জারি করা এক সার্কুলারে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে আগের ২৩ জুন জারি করা বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ-১-এর ১৪ নম্বর সার্কুলারটি বাতিল করে নতুন নির্দেশনা কার্যকর করা হয়েছে। সার্কুলারে স্বাক্ষর করেছেন বিভাগের পরিচালক নাসিমা সুলতানা।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, তপশিলি ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট ও অনুমোদিত ডিলার শাখায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা সঞ্চয়ী, চলতি কিংবা মেয়াদি আমানত—যেকোনো ধরনের এনআরসিটিএ হিসাব খুলতে পারবেন। ব্যাংকিং চ্যানেলে আসা বৈধ প্রবাসী আয়, অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব থেকে স্থানান্তরসহ নির্ধারিত বিভিন্ন উৎসের অর্থ এ হিসাবে জমা করা যাবে।

বিদেশে চাকরির উদ্দেশ্যে যাওয়ার আগে বাংলাদেশি নাগরিকরা কোনো প্রাথমিক জমা ছাড়াই এনআরসিটিএ খুলতে পারবেন। পাশাপাশি দেশে সাময়িক সফরে আসা প্রবাসী বাংলাদেশিরাও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও হিসাব খোলার শর্ত পূরণ করে এ হিসাব খুলতে পারবেন।

এনআরসিটিএতে ব্যাংকিং চ্যানেলে আসা প্রবাসী আয় জমা করা যাবে। অনুমোদিত বিনিময় প্রতিষ্ঠান, অর্থ স্থানান্তরকারী প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য বৈধ অর্থ পরিশোধকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আসা অর্থও প্রচলিত বিনিময় হারে টাকায় রূপান্তরের পর হিসাবে জমা করা যাবে। এ ছাড়া অন্য এনআরসিটিএ থেকে স্থানান্তরিত অর্থ, হিসাবের সুদ বা মুনাফা, এবং ওই হিসাব বা প্রবাসী আয় দিয়ে করা বৈধ বিনিয়োগের প্রত্যাবাসনযোগ্য অর্থও জমা করা যাবে।

 

 

 

 

বাংলাদেশি কোম্পানির নতুন শেয়ার ইস্যুতে এনআরসিটিএ থেকে অর্থ বিনিয়োগ করে পরে সেই বিনিয়োগের টাকা ফেরত এলে তা-ও এ হিসাবে জমা করা যাবে। একইভাবে এনআরসিটিএ থেকে পরিশোধ করা অর্থের ফেরতও হিসাবে নেওয়া যাবে।

 

 

 

 

এ হিসাবের অন্যতম বড় সুবিধা হলো—আমানতের মূল অর্থের পাশাপাশি অর্জিত সুদ বা মুনাফাও অবাধে বিদেশে ফেরত নেওয়া যাবে। এনআরসিটিএর অর্থ দিয়ে দেশে বৈধ খরচ মেটানো যাবে। অন্য এনআরসিটিএ বা অনাবাসী টাকা হিসাবে স্থানান্তর করা যাবে। চাইলে সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রায় ব্যক্তিগত বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব বা অনাবাসী বৈদেশিক মুদ্রা আমানত হিসাবেও অর্থ নেওয়া যাবে।

 

 

 

 

এ ছাড়া প্রত্যাবাসনযোগ্য বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের জন্য শেয়ার কেনা, পোর্টফোলিও বিনিয়োগের জন্য অনাবাসী বিনিয়োগকারীর টাকা হিসাবে অর্থ স্থানান্তর এবং এমন অন্যান্য বিনিয়োগে অর্থ রাখা যাবে, যেখান থেকে মূলধন ও মুনাফা বিদেশে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

 

 

 

 

বাংলাদেশে ফেরার সময় হিসাবধারী নির্ধারিত সীমার মধ্যে সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার নোটও নিতে পারবেন। তবে এনআরসিটিএতে জমা করার উদ্দেশ্যে দেশে আসা প্রবাসী আয়ে সাধারণত প্রচলিত প্রণোদনা প্রযোজ্য হবে না, যদি না বাংলাদেশ ব্যাংক আলাদাভাবে কোনো সুবিধা নির্ধারণ করে।

 

 

 

 

তবে বাংলাদেশে ব্যবসা করে বা দেশে সেবা দিয়ে অর্জিত আয় এনআরসিটিএতে জমা করা যাবে না।

 

 

 

 

সার্কুলারে ব্যাংকগুলোর জন্যও এসব আমানত ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটগুলো বিশেষায়িত অঞ্চলের ‘এ’ শ্রেণির শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে শুধু বাংলাদেশে অনুমোদিত চলতি খরচ—যেমন বেতন, মজুরি ও ইউটিলিটি বিল—মেটাতে টাকায় অর্থায়ন করতে পারবে। এ ঋণ শুধু রপ্তানি আয় থেকে পরিশোধ করতে হবে।

 

 

 

 

এ ছাড়া অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলো এনআরসিটিএর মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ দিয়ে যোগ্য গ্রাহকদের নিয়মিত টাকায় ঋণ দিতে পারবে। তবে এ ক্ষেত্রে প্রচলিত ঋণনীতি, সতর্কতামূলক বিধান, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যান্য নির্দেশনা মানতে হবে।

 

 

 

 

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো, এনআরসিটিএর আমানত জামানত রেখে টাকায় ঋণ নেওয়া যাবে। ব্যক্তিগত প্রয়োজন বা বৈধ ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে এ ঋণ নেওয়া যাবে। বাংলাদেশে প্রত্যাবাসনযোগ্য নয়—এমন সরাসরি বিনিয়োগ এবং নিজের ব্যবহারের জন্য আবাসিক সম্পত্তি কেনার ক্ষেত্রেও এ ঋণ ব্যবহার করা যাবে।

 

 

 

 

তবে এনআরসিটিএর আমানত জামানত রেখে নেওয়া ঋণ পুনঃঋণ, কৃষি বা বনায়নজাতীয় কার্যক্রম কিংবা আবাসন ব্যবসায় ব্যবহার করা যাবে না। আমানত জামানত দেওয়ার বিপরীতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনও করা যাবে না। ঋণ পরিশোধ করতে হবে এনআরসিটিএর আমানত সমন্বয় করে অথবা ব্যাংকিং চ্যানেলে নতুন করে প্রবাসী আয় এনে।

 

 

 

 

এনআরসিটিএ পরিচালনার ক্ষেত্রেও কিছুটা নমনীয়তা আনা হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশি চাইলে দেশে থাকা কোনো ব্যক্তিকে আইনগত ক্ষমতাপত্র দিয়ে হিসাব পরিচালনার অনুমতি দিতে পারবেন। হিসাবধারীর মৃত্যু হলে হিসাবের অর্থ চুক্তি ও প্রচলিত বিধি মেনে অনাবাসী মনোনীত ব্যক্তির কাছে বিদেশে পাঠানো যাবে।

 

 

 

 

স্থায়ীভাবে বাংলাদেশে ফিরে আসার পরও এনআরসিটিএ চালু রাখা যাবে। ওই হিসাবে অবসরকালীন সুবিধা, পেনশন, অবসর ভাতা বা বিদেশ থেকে পাওয়া অন্যান্য বৈধ আয় জমা করা যাবে। এসব অর্থের স্থিতি বিদেশে বৈধ পরিশোধে ব্যবহার করা যাবে। তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং প্রযোজ্য কর পরিশোধ করতে হবে।

 

 

 

 

বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোকে এনআরসিটিএতে অনলাইনে হিসাব খোলা ও ইলেকট্রনিক ব্যাংকিং সুবিধা চালুর জন্য উৎসাহিত করেছে। এ ধরনের সুবিধা চালুর আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে হিসাবের বৈশিষ্ট্য, পরিচালন পদ্ধতি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও পরিপালন কাঠামো সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে হবে।

 

 

 

 

সার্কুলারে বলা হয়েছে, এনআরসিটিএর অর্থ এবং এসব অর্থ থেকে দেওয়া ঋণের হিসাব আলাদাভাবে সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে অর্থের উৎস ও ব্যবহার স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা যায়। একই সঙ্গে গ্রাহক পরিচিতি যাচাই, অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ, কর, সতর্কতামূলক বিধান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করতে হবে।