সিরাজগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo অনুমোদনহীন মৎস্য আড়তে মিললো ২৬ মণ নিষিদ্ধ পিরানহা Logo লংমার্চে গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান হলে আমরাই করতাম: মীর শাহে আলম Logo সিরাজগঞ্জে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ৬ নেতা গ্রেপ্তার Logo ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী পদে গাদি আইজেনকটকে সমর্থন বিরোধীদের Logo খান জাহান আলীর মাজার জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী Logo ঢাকার বসুন্ধরায় ৩ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলা শুরু Logo শেখ হাসিনাকে ট্রাভেল পাস দেয়া হবে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী Logo নাহিদ ইসলামকে আইনি নোটিশ Logo মাধবদীতে সুতা সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ, বিপাকে টেক্সটাইল মিল মালিকরা Logo ঢামেক হাসপাতালে দুদক চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে অভিযান

৪০ শহীদের স্মরণে ১৫ অক্টোবর বন্ধ ঢাবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে ১৫ অক্টোবর শুধু একটি তারিখ নয়; এটি ৪০টি প্রাণ হারানোর বেদনার দিন। ১৯৮৫ সালের এই রাতে জগন্নাথ হলে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ২৬ শিক্ষার্থীসহ ৪০ জন।

 

 

 

 

নিহতদের মধ্যে ছিলেন ১৪ জন অতিথি ও কর্মচারীও। সেই শোক ও স্মৃতি ধারণ করে প্রতিবছর ১৫ অক্টোবর পালিত হয় ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শোক দিবস’। এবারও দিনটি ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রেখে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে প্রশাসন।

 

 

 

 

আগামী ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার শোক দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ভবন, হল ও হোস্টেলগুলোতে কালো পতাকা উত্তোলন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা অর্ধনমিত রাখা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কালো ব্যাজ ধারণের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মসূচি অনুযায়ী, সকাল ৬টায় প্রধান প্রধান ভবন, সব হল ও হোস্টেলে কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। একই সময়ে অর্ধনমিত রাখা হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা। এর মধ্য দিয়ে দিনের শুরুতেই ১৯৮৫ সালের সেই রাতের নিহতদের প্রতি আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা জানানো হবে।

সকাল সাড়ে ৭টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শোক র‌্যালি বের হবে। র‌্যালিটি জগন্নাথ হলের স্মৃতিসৌধে গিয়ে শেষ হবে। সেখানে নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও নীরবতা পালন করা হবে।

 

 

এরপর সকাল ৮টায় অক্টোবর স্মৃতি ভবনের টিভি কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা। এতে ১৯৮৫ সালের দুর্ঘটনা, নিহতদের স্মৃতি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এ ঘটনার তাৎপর্য তুলে ধরা হবে।

 

 

 

শোক দিবসের কর্মসূচিতে ধর্মীয় সম্প্রীতিরও প্রতিফলন থাকবে। সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত জগন্নাথ হল প্রাঙ্গণে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। আর বাদ আসর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামিআ’সহ সব হল মসজিদে নিহতদের আত্মার শান্তি কামনায় মোনাজাত করা হবে।

শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না স্মরণ আয়োজন। নিহতদের জীবন ও দুর্ঘটনার ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জগন্নাথ হল প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় নিহতদের তৈলচিত্র ও তথ্যসম্পর্কিত বিভিন্ন দ্রব্যাদি প্রদর্শন করা হবে। ফলে শোক দিবসের কর্মসূচিতে একদিকে যেমন থাকবে শ্রদ্ধা ও প্রার্থনা, অন্যদিকে থাকবে ইতিহাস সংরক্ষণের উদ্যোগও।

 

 

 

 

 

১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবরের সেই দুর্ঘটনায় নিহত হন ২৬ শিক্ষার্থী, ১৪ অতিথি ও কর্মচারী। এ ঘটনায় আহতও হন অনেকে। এরপর থেকে প্রতিবছর দিনটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শোক দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। ক্যাম্পাসের প্রজন্মের পর প্রজন্ম শিক্ষার্থীর কাছে দিনটি তাই কেবল একটি স্মরণ দিবস নয়; বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক অধ্যায়ের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সংযোগের দিনও।

 

 

 

 

এবারের আয়োজনের মধ্য দিয়ে সেই স্মৃতিকে আবারও সামনে আনছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। একদিনের জন্য ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক ব্যস্ততা থামিয়ে ৪০ নিহতের স্মৃতির সামনে দাঁড়াবে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার। কালো পতাকা, অর্ধনমিত জাতীয় পতাকার মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা, শোক র‌্যালি, পুষ্পস্তবক, প্রার্থনা ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হবে সেই ৪০ প্রাণকে।

 

 

 

 

শোক দিবস উপলক্ষে ১৫ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও নিহতদের স্মৃতি ও ১৯৮৫ সালের সেই রাতের ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কর্মসূচিগুলো দিনভর চলবে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অনুমোদনহীন মৎস্য আড়তে মিললো ২৬ মণ নিষিদ্ধ পিরানহা

৪০ শহীদের স্মরণে ১৫ অক্টোবর বন্ধ ঢাবি

আপডেট টাইম : ০১:২৫:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে ১৫ অক্টোবর শুধু একটি তারিখ নয়; এটি ৪০টি প্রাণ হারানোর বেদনার দিন। ১৯৮৫ সালের এই রাতে জগন্নাথ হলে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ২৬ শিক্ষার্থীসহ ৪০ জন।

 

 

 

 

নিহতদের মধ্যে ছিলেন ১৪ জন অতিথি ও কর্মচারীও। সেই শোক ও স্মৃতি ধারণ করে প্রতিবছর ১৫ অক্টোবর পালিত হয় ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শোক দিবস’। এবারও দিনটি ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রেখে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে প্রশাসন।

 

 

 

 

আগামী ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার শোক দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ভবন, হল ও হোস্টেলগুলোতে কালো পতাকা উত্তোলন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা অর্ধনমিত রাখা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কালো ব্যাজ ধারণের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মসূচি অনুযায়ী, সকাল ৬টায় প্রধান প্রধান ভবন, সব হল ও হোস্টেলে কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। একই সময়ে অর্ধনমিত রাখা হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা। এর মধ্য দিয়ে দিনের শুরুতেই ১৯৮৫ সালের সেই রাতের নিহতদের প্রতি আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা জানানো হবে।

সকাল সাড়ে ৭টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শোক র‌্যালি বের হবে। র‌্যালিটি জগন্নাথ হলের স্মৃতিসৌধে গিয়ে শেষ হবে। সেখানে নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও নীরবতা পালন করা হবে।

 

 

এরপর সকাল ৮টায় অক্টোবর স্মৃতি ভবনের টিভি কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা। এতে ১৯৮৫ সালের দুর্ঘটনা, নিহতদের স্মৃতি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এ ঘটনার তাৎপর্য তুলে ধরা হবে।

 

 

 

শোক দিবসের কর্মসূচিতে ধর্মীয় সম্প্রীতিরও প্রতিফলন থাকবে। সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত জগন্নাথ হল প্রাঙ্গণে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। আর বাদ আসর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামিআ’সহ সব হল মসজিদে নিহতদের আত্মার শান্তি কামনায় মোনাজাত করা হবে।

শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না স্মরণ আয়োজন। নিহতদের জীবন ও দুর্ঘটনার ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জগন্নাথ হল প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় নিহতদের তৈলচিত্র ও তথ্যসম্পর্কিত বিভিন্ন দ্রব্যাদি প্রদর্শন করা হবে। ফলে শোক দিবসের কর্মসূচিতে একদিকে যেমন থাকবে শ্রদ্ধা ও প্রার্থনা, অন্যদিকে থাকবে ইতিহাস সংরক্ষণের উদ্যোগও।

 

 

 

 

 

১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবরের সেই দুর্ঘটনায় নিহত হন ২৬ শিক্ষার্থী, ১৪ অতিথি ও কর্মচারী। এ ঘটনায় আহতও হন অনেকে। এরপর থেকে প্রতিবছর দিনটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শোক দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। ক্যাম্পাসের প্রজন্মের পর প্রজন্ম শিক্ষার্থীর কাছে দিনটি তাই কেবল একটি স্মরণ দিবস নয়; বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক অধ্যায়ের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সংযোগের দিনও।

 

 

 

 

এবারের আয়োজনের মধ্য দিয়ে সেই স্মৃতিকে আবারও সামনে আনছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। একদিনের জন্য ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক ব্যস্ততা থামিয়ে ৪০ নিহতের স্মৃতির সামনে দাঁড়াবে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার। কালো পতাকা, অর্ধনমিত জাতীয় পতাকার মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা, শোক র‌্যালি, পুষ্পস্তবক, প্রার্থনা ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হবে সেই ৪০ প্রাণকে।

 

 

 

 

শোক দিবস উপলক্ষে ১৫ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও নিহতদের স্মৃতি ও ১৯৮৫ সালের সেই রাতের ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কর্মসূচিগুলো দিনভর চলবে।