সিরাজগঞ্জ , সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

কাঁটাতারের বেড়ায় রেলের জমি দখল, ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ

কাশিয়ানীতে রেলওয়ের ১০ বিঘা জমি তারকাঁটার বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখার অভিযোগ। ছবি: সংগৃহীত

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে বাংলাদেশ রেলওয়ের কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি ঘিরে অনিয়ম ও দখল-বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। নিয়মের তোয়াক্কা না করে ঘুষ-বাণিজ্যের মাধ্যমে রেলওয়ের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে অবৈধ দখলের মাধ্যমে রেলওয়ের মূল্যবান ভূ-সম্পত্তি নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চক্র।

 

 

 

 

রেল প্রকল্পের জন্য জমি দিয়ে পরিবারগুলো সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দখলে বাধা দিলে হামলার শিকার হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

 

 

 

 

অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার চাপ্তা রেলস্টেশন সংলগ্ন রেললাইনের পাশের প্রায় ১০ বিঘা জমি তারকাঁটার বেড়া দিয়ে অবৈধভাবে ঘিরে রেখেছে প্রতাপশালী সিরাজুল ইসলাম সেন্টু নামে এক ব্যক্তি। দখলের সময় বাধা দিলে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবার মারধরের শিকার হয়। উচ্ছেদ করা হয় তাদের লাগানো শতাধিক ফলজ গাছ।

 

রাজশাহী-গোপালগঞ্জ রেলওয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় শহিদুর রহমান সরদারের ৩৪ শতাংশ জমি প্রকল্পে অধিগ্রহণ করা হয়। ভিটেবাড়ির পাশে থাকা রেলের অব্যবহৃত জায়গায় চাষাবাদ ও ফলজ কলা গাছ লাগিয়ে পাঁচ সদস্যের সংসার চালাতেন তিনি।

এই জমির বন্দোবস্ত পেতে বারবার পাবনার পাকশী বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কার্যালয়ে আবেদন করেও বন্দোবস্ত পাননি তিনি। যদিও নিয়ম অনুযায়ী তিনিই এই জমি বন্দোবস্ত পাওয়ার দাবিদার। তবে দুই মাস আগে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে নিয়মের তোয়াক্কা না করেই সিরাজুল ইসলাম সেন্টু নামের ওই প্রতাপশালী ব্যক্তিকে বরাদ্দ দেয় কর্তৃপক্ষ।

 

 

এমন সব অভিযোগ করে শহিদুর রহমান সরকার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমার জমি রেল নিয়েছে, লিজ পাওয়ার অধিকার আমার। আমি আবেদন করেছি কর্মকর্তাদের কাছে, বারবার গিয়েছি, আমাকে লিজ দেয়নি। অথচ অন্য গ্রামের প্রভাবশালী সেন্টু লিজ নেওয়ার আগেই আমার লাগানো শতাধিক কলাগাছ কেটে জোর পৃর্বক দখল করে তারকাঁটা দিয়ে ঘিরে রেখেছে।

তিনি অভিযোগ করেন, ‘বাধা দিলে পরিবারের সবাইকে মারধর করে সেন্টুসহ তার ভাড়াটিয়া লোকজন। পরে পাবনার পাকশী রেলওয়ের এক কর্মকর্তা তাপশী ম্যাডাম অনেক টাকা ঘুষের মাধ্যমে দখলবাজ সেন্টুকে লিজ দিয়েছে। আমার সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে।’

 

 

 

 

তিনি এই অন্যায়ের শাস্তিসহ লিজ বাতিলের দাবি জানান।

ভুক্তভুগী শহিদুর রহমান সরদারের স্ত্রী রহিমা বেগম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘রেললাইনের পাশের প্রায় ১০ বিঘা জমি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে অবৈধভাবে ঘিরে দখল নিয়েছেন প্রভাবশালী সিরাজুল ইসলাম সেন্টু নামের এক ব্যক্তি।’

 

 

 

 

তিনি জানান, রেল প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় তাদের ৩৪ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। এখনো সেখানে আরও জমি রয়েছে। ভিটেবাড়ির পাশে থাকা রেলের অব্যবহৃত জায়গায় চাষাবাদ ও ফলদ কলাগাছ লাগিয়ে পাঁচ সদস্যের সংসার চলছিল তাদের।

 

 

 

 

তিনি অভিযোগ করেন, তবে দুই মাস আগে মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে নিয়মের তোয়াক্কা না করেই সিরাজুল ইসলাম সেন্টুকে বন্দোবস্ত দেন রেলওয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তারা।

তিনি আরও বলেন, ‘সিরাজুল ইসলাম সেন্টু কিছুদিন আগেও এলাকায় ভ্যান ও নৌকা চালিয়ে সংসার চালাইত এলাকার অনেকেই জানে। হঠাৎ তিনি হাজী সাব হয়ে অসহায়দের জমি দখল করছে। তিনি তো একসময় গরিব ছিলেন এখন কেন গরিবের ওপরই অত্যাচার?’

 

 

 

 

তিনি জানান, লিজ নেওয়ার জন্য রেলওয়ে রাজবাড়ীর মকিব, বাবু এবং কাননগুকে খরচের টাকা দিয়েও লিজ পাননি। অথচ পর্যাপ্ত টাকা ঘুষ নিয়ে সেন্টুকে বেআইনিভাবে লিজ দেওয়া হয়েছে।

আরেক পরিবারের ভুক্তভোগী আবুল কালামের স্ত্রী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বাড়ির সামনের রেলওয়ের জায়গায় পাথর ও জঙ্গল পরিষ্কার করে তার স্বামী কলাগাছ লাগিয়েছিল। সব গাছ কেটে দিয়েছে ওই হাজী।’

 

 

 

 

তিনি বলেন, ‘রেলওয়ের কালভার্টের সামনে সামান্য দশ হাত জায়গা দিয়ে উনি কি করবে? সব জায়গাতেই তারকাঁটা দিয়ে ঘিরে রেখেছে। বাড়িতে যদি কোনো বিপদ-আপদ বা আগুন ধরে কীভাবে তারা উদ্ধার হবে? সরকারের কাছে একটাই দাবি, তারকাঁটার বেড়া তুলে দেওয়া হোক।’

এ বিষয়ে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বললে তারা গণমাধ্যমকে বলেন, সরকারের জমি যদি লিজ দেওয়ার প্রয়োজন হয় তবে যার জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে তারই অধিকার রয়েছে লিজ পাওয়ার। তাকেই দেওয়া উচিত, তবে এখানে অন্য কাউকে দিয়ে এলাকায় একটা অস্থির পরিবেশ বিরাজ করছে।

 

 

 

 

তারা বলছেন, আবার তারকাঁটা দিয়ে আটকানো হয়েছে। রেলওয়ে কর্মকর্তার অন্যায়ভাবে লিজ দেওয়া ঠিক হয়নি। দ্রুত সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সমাধান হওয়া জরুরি।

এ বিষয়ে ভূ-সম্পত্তি বন্দোবস্ত নেওয়া সিরাজুল ইসলাম সেন্টুর কাছে জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যমকে তারকাঁটার বেড়া দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘রেল কর্তৃপক্ষ জানে আমি বেড়া দিয়েছি, তারা এসে দেখে গিয়েছে এবং প্রশংসাও করেছে।’

 

 

 

 

নিয়মের তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে তারকাঁটা ও লিজ দেওয়ার বিষয়ে পাকশি বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি প্রধান কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার জানা ছিল না, এমন হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিল নামিবিয়া

কাঁটাতারের বেড়ায় রেলের জমি দখল, ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ

আপডেট টাইম : ১১:০২:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে বাংলাদেশ রেলওয়ের কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি ঘিরে অনিয়ম ও দখল-বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। নিয়মের তোয়াক্কা না করে ঘুষ-বাণিজ্যের মাধ্যমে রেলওয়ের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে অবৈধ দখলের মাধ্যমে রেলওয়ের মূল্যবান ভূ-সম্পত্তি নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চক্র।

 

 

 

 

রেল প্রকল্পের জন্য জমি দিয়ে পরিবারগুলো সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দখলে বাধা দিলে হামলার শিকার হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

 

 

 

 

অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার চাপ্তা রেলস্টেশন সংলগ্ন রেললাইনের পাশের প্রায় ১০ বিঘা জমি তারকাঁটার বেড়া দিয়ে অবৈধভাবে ঘিরে রেখেছে প্রতাপশালী সিরাজুল ইসলাম সেন্টু নামে এক ব্যক্তি। দখলের সময় বাধা দিলে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবার মারধরের শিকার হয়। উচ্ছেদ করা হয় তাদের লাগানো শতাধিক ফলজ গাছ।

 

রাজশাহী-গোপালগঞ্জ রেলওয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় শহিদুর রহমান সরদারের ৩৪ শতাংশ জমি প্রকল্পে অধিগ্রহণ করা হয়। ভিটেবাড়ির পাশে থাকা রেলের অব্যবহৃত জায়গায় চাষাবাদ ও ফলজ কলা গাছ লাগিয়ে পাঁচ সদস্যের সংসার চালাতেন তিনি।

এই জমির বন্দোবস্ত পেতে বারবার পাবনার পাকশী বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কার্যালয়ে আবেদন করেও বন্দোবস্ত পাননি তিনি। যদিও নিয়ম অনুযায়ী তিনিই এই জমি বন্দোবস্ত পাওয়ার দাবিদার। তবে দুই মাস আগে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে নিয়মের তোয়াক্কা না করেই সিরাজুল ইসলাম সেন্টু নামের ওই প্রতাপশালী ব্যক্তিকে বরাদ্দ দেয় কর্তৃপক্ষ।

 

 

এমন সব অভিযোগ করে শহিদুর রহমান সরকার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমার জমি রেল নিয়েছে, লিজ পাওয়ার অধিকার আমার। আমি আবেদন করেছি কর্মকর্তাদের কাছে, বারবার গিয়েছি, আমাকে লিজ দেয়নি। অথচ অন্য গ্রামের প্রভাবশালী সেন্টু লিজ নেওয়ার আগেই আমার লাগানো শতাধিক কলাগাছ কেটে জোর পৃর্বক দখল করে তারকাঁটা দিয়ে ঘিরে রেখেছে।

তিনি অভিযোগ করেন, ‘বাধা দিলে পরিবারের সবাইকে মারধর করে সেন্টুসহ তার ভাড়াটিয়া লোকজন। পরে পাবনার পাকশী রেলওয়ের এক কর্মকর্তা তাপশী ম্যাডাম অনেক টাকা ঘুষের মাধ্যমে দখলবাজ সেন্টুকে লিজ দিয়েছে। আমার সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে।’

 

 

 

 

তিনি এই অন্যায়ের শাস্তিসহ লিজ বাতিলের দাবি জানান।

ভুক্তভুগী শহিদুর রহমান সরদারের স্ত্রী রহিমা বেগম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘রেললাইনের পাশের প্রায় ১০ বিঘা জমি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে অবৈধভাবে ঘিরে দখল নিয়েছেন প্রভাবশালী সিরাজুল ইসলাম সেন্টু নামের এক ব্যক্তি।’

 

 

 

 

তিনি জানান, রেল প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় তাদের ৩৪ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। এখনো সেখানে আরও জমি রয়েছে। ভিটেবাড়ির পাশে থাকা রেলের অব্যবহৃত জায়গায় চাষাবাদ ও ফলদ কলাগাছ লাগিয়ে পাঁচ সদস্যের সংসার চলছিল তাদের।

 

 

 

 

তিনি অভিযোগ করেন, তবে দুই মাস আগে মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে নিয়মের তোয়াক্কা না করেই সিরাজুল ইসলাম সেন্টুকে বন্দোবস্ত দেন রেলওয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তারা।

তিনি আরও বলেন, ‘সিরাজুল ইসলাম সেন্টু কিছুদিন আগেও এলাকায় ভ্যান ও নৌকা চালিয়ে সংসার চালাইত এলাকার অনেকেই জানে। হঠাৎ তিনি হাজী সাব হয়ে অসহায়দের জমি দখল করছে। তিনি তো একসময় গরিব ছিলেন এখন কেন গরিবের ওপরই অত্যাচার?’

 

 

 

 

তিনি জানান, লিজ নেওয়ার জন্য রেলওয়ে রাজবাড়ীর মকিব, বাবু এবং কাননগুকে খরচের টাকা দিয়েও লিজ পাননি। অথচ পর্যাপ্ত টাকা ঘুষ নিয়ে সেন্টুকে বেআইনিভাবে লিজ দেওয়া হয়েছে।

আরেক পরিবারের ভুক্তভোগী আবুল কালামের স্ত্রী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বাড়ির সামনের রেলওয়ের জায়গায় পাথর ও জঙ্গল পরিষ্কার করে তার স্বামী কলাগাছ লাগিয়েছিল। সব গাছ কেটে দিয়েছে ওই হাজী।’

 

 

 

 

তিনি বলেন, ‘রেলওয়ের কালভার্টের সামনে সামান্য দশ হাত জায়গা দিয়ে উনি কি করবে? সব জায়গাতেই তারকাঁটা দিয়ে ঘিরে রেখেছে। বাড়িতে যদি কোনো বিপদ-আপদ বা আগুন ধরে কীভাবে তারা উদ্ধার হবে? সরকারের কাছে একটাই দাবি, তারকাঁটার বেড়া তুলে দেওয়া হোক।’

এ বিষয়ে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বললে তারা গণমাধ্যমকে বলেন, সরকারের জমি যদি লিজ দেওয়ার প্রয়োজন হয় তবে যার জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে তারই অধিকার রয়েছে লিজ পাওয়ার। তাকেই দেওয়া উচিত, তবে এখানে অন্য কাউকে দিয়ে এলাকায় একটা অস্থির পরিবেশ বিরাজ করছে।

 

 

 

 

তারা বলছেন, আবার তারকাঁটা দিয়ে আটকানো হয়েছে। রেলওয়ে কর্মকর্তার অন্যায়ভাবে লিজ দেওয়া ঠিক হয়নি। দ্রুত সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সমাধান হওয়া জরুরি।

এ বিষয়ে ভূ-সম্পত্তি বন্দোবস্ত নেওয়া সিরাজুল ইসলাম সেন্টুর কাছে জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যমকে তারকাঁটার বেড়া দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘রেল কর্তৃপক্ষ জানে আমি বেড়া দিয়েছি, তারা এসে দেখে গিয়েছে এবং প্রশংসাও করেছে।’

 

 

 

 

নিয়মের তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে তারকাঁটা ও লিজ দেওয়ার বিষয়ে পাকশি বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি প্রধান কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার জানা ছিল না, এমন হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’