সিরাজগঞ্জ , সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

রাজশাহীতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, শক সিনড্রোমে মৃত্যু

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ছবি: সংগৃহীত

ডেঙ্গুর প্রকোপে স্বস্তি মিলছে না রাজশাহীতে। প্রতিদিনই হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন নতুন রোগী। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহীতে নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৩০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

 

 

 

 

একই সময়ে চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৬১ জন। এর মধ্যেই ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে রাজশাহীতে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১৩৭ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

 

 

 

 

স্বাস্থ্য বিভাগের রোববারের (৪ অক্টোবর) ডেঙ্গু আপডেট অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ভর্তির তুলনায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন বেশি সংখ্যক রোগী। তবে মৃত্যুর ঘটনা এবং হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তি অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

 

ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া মো. সাদেকের বয়স ৩৫ বছর। তার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায়। গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ অক্টোবর সকাল ৭টা ১৮ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার মৃত্যুর কারণ ছিল ডেঙ্গু শক সিনড্রোম।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালেও সাম্প্রতিক সময়ে ডেঙ্গু রোগীর চাপ বেড়েছে। ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলতি বছরে হাসপাতালটিতে ডেঙ্গুতে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৫ দিনেই মারা যান আটজন। ওই সময় এক দিনে নতুন করে ২৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন। তখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন ৯৮ জন।

 

 

 

এর পরের দিনগুলোতেও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। ৩ অক্টোবর রামেক হাসপাতালে আরও এক নারীর মৃত্যু হয়। একই সময়ে ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শামীম আহমেদ বলেন, ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা থেকে আসা ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে আক্রান্তের তীব্রতা তুলনামূলক বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ওই জেলা থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে।’

 

 

 

 

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমরা বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখছি। এর আগেও চাঁপাইনবাবগঞ্জের একজন রোগী ডেঙ্গুতে মারা গেছেন। সর্বশেষ মারা যাওয়া রোগীও একই জেলার শিবগঞ্জের বাসিন্দা। ফলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ডেঙ্গুর গুরুতর রোগী আসার আশঙ্কা রয়েছে।’

 

 

 

 

তিনি আরও বলেন, ‘ডেঙ্গু রোগীর জ্বরের পাশাপাশি শারীরিক অবস্থার অবনতি, রক্তচাপ কমে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট কিংবা অন্যান্য জটিলতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া জরুরি। সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা গেলে গুরুতর জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।’

 

 

 

 

রাজশাহীর পাশাপাশি সারাদেশেও ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৩ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ১ হাজার ৬০৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের। এ নিয়ে চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫৬ জনে।

 

 

 

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৭৪ শতাংশ বেশি। বিশেষ করে সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে।

 

 

 

 

রাজশাহীতে নতুন রোগীর হাসপাতালে ভর্তি অব্যাহত থাকা এবং ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে সতর্কতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ আশপাশের জেলা থেকে গুরুতর রোগী আসার প্রবণতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রোগী ব্যবস্থাপনা ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিল নামিবিয়া

রাজশাহীতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, শক সিনড্রোমে মৃত্যু

আপডেট টাইম : ১১:২৭:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

ডেঙ্গুর প্রকোপে স্বস্তি মিলছে না রাজশাহীতে। প্রতিদিনই হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন নতুন রোগী। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহীতে নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৩০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

 

 

 

 

একই সময়ে চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৬১ জন। এর মধ্যেই ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে রাজশাহীতে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১৩৭ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

 

 

 

 

স্বাস্থ্য বিভাগের রোববারের (৪ অক্টোবর) ডেঙ্গু আপডেট অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ভর্তির তুলনায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন বেশি সংখ্যক রোগী। তবে মৃত্যুর ঘটনা এবং হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তি অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

 

ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া মো. সাদেকের বয়স ৩৫ বছর। তার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায়। গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ অক্টোবর সকাল ৭টা ১৮ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার মৃত্যুর কারণ ছিল ডেঙ্গু শক সিনড্রোম।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালেও সাম্প্রতিক সময়ে ডেঙ্গু রোগীর চাপ বেড়েছে। ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলতি বছরে হাসপাতালটিতে ডেঙ্গুতে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৫ দিনেই মারা যান আটজন। ওই সময় এক দিনে নতুন করে ২৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন। তখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন ৯৮ জন।

 

 

 

এর পরের দিনগুলোতেও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। ৩ অক্টোবর রামেক হাসপাতালে আরও এক নারীর মৃত্যু হয়। একই সময়ে ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শামীম আহমেদ বলেন, ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা থেকে আসা ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে আক্রান্তের তীব্রতা তুলনামূলক বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ওই জেলা থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে।’

 

 

 

 

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমরা বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখছি। এর আগেও চাঁপাইনবাবগঞ্জের একজন রোগী ডেঙ্গুতে মারা গেছেন। সর্বশেষ মারা যাওয়া রোগীও একই জেলার শিবগঞ্জের বাসিন্দা। ফলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ডেঙ্গুর গুরুতর রোগী আসার আশঙ্কা রয়েছে।’

 

 

 

 

তিনি আরও বলেন, ‘ডেঙ্গু রোগীর জ্বরের পাশাপাশি শারীরিক অবস্থার অবনতি, রক্তচাপ কমে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট কিংবা অন্যান্য জটিলতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া জরুরি। সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা গেলে গুরুতর জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।’

 

 

 

 

রাজশাহীর পাশাপাশি সারাদেশেও ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৩ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ১ হাজার ৬০৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের। এ নিয়ে চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫৬ জনে।

 

 

 

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৭৪ শতাংশ বেশি। বিশেষ করে সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে।

 

 

 

 

রাজশাহীতে নতুন রোগীর হাসপাতালে ভর্তি অব্যাহত থাকা এবং ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে সতর্কতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ আশপাশের জেলা থেকে গুরুতর রোগী আসার প্রবণতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রোগী ব্যবস্থাপনা ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।