ব্যালন ডি’অরের আয়োজক ‘ফ্রান্স ফুটবল’ সাময়িকী শুক্রবার তাদের সংখ্যায় ভোটের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করে। বর্তমান ভোটদান পদ্ধতির ইতিহাসে সবচেয়ে কম ব্যবধানে এবার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন হ্যারি কেইন। দ্বিতীয় হওয়া কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ২৮ পয়েন্ট ব্যবধানে হারিয়ে পুরস্কারটি জেতেন ইংল্যান্ড তারকা।
২০০১ সালে মাইকেল ওয়েনের পর প্রথম ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে ব্যালন ডি’অর জেতা কেইন ১০০টি দেশের (প্রতিটি দেশ থেকে একজন করে) সাংবাদিকের জুরিবোর্ডে ৪০ জনের কাছে প্রথম স্থান পান। অর্থাৎ ৪০ দেশের সাংবাদিকের প্রথম পছন্দ ছিলেন কেইন। সব মিলিয়ে কেইনের মোট পয়েন্ট ১,০৫৫।
এমবাপ্পে ২৩টি দেশের সাংবাদিকের কাছে প্রথম স্থান অর্জন করেন। তার মোট পয়েন্ট ১,০২৭। এর আগে সবচেয়ে কম ব্যবধানে ব্যালন ডি’অর জয়ের রেকর্ডটি ৪১ পয়েন্টের। ২০২৪ সালে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে ৪১ পয়েন্ট ব্যবধানে পেছনে ফেলে ব্যালন ডি’অর জেতেন রদ্রি।
গত বছর পিএসজির ফরাসি তারকা উসমান দেম্বেলে ১,৩৮০ পয়েন্ট নিয়ে ব্যালন ডি’অর জেতেন। তার সঙ্গে ৩২১ পয়েন্ট ব্যবধানে পিছিয়ে দ্বিতীয় হন বার্সেলোনার স্প্যানিশ তারকা লামিন ইয়ামাল। গত জুলাইয়ে বিশ্বকাপজয়ী ইয়ামাল এবার ৮৮১ পয়েন্ট পেয়ে তৃতীয় হন। কেইনের চেয়ে ১৭৪ পয়েন্ট কম পাওয়া ইয়ামাল ১৩টি দেশের সাংবাদিকের ভোটে প্রথম স্থান অর্জন করেন। তার ক্লাব ও জাতীয় দল সতীর্থ রদ্রি ৭২৬ পয়েন্ট এবং ১০টি প্রথম স্থানসূচক ভোট পেয়ে চতুর্থ।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে পুরুষ বিভাগে শীর্ষ ১০০টি এবং নারী বিভাগে শীর্ষ ৫০টি দেশের প্রতিনিধিত্বকারী সাংবাদিকদের (প্রতি দেশ থেকে একজন করে) ভোটের ভিত্তিতে ব্যালন ডি’অর দেওয়া হয়। বর্তমান এই ভোটের পদ্ধতি চালু করা হয় ২০২২ সালে এবং নিয়ম পরিবর্তন করে সে বছরের পর থেকে বর্ষপঞ্জির বদলে মৌসুমের পারফরম্যান্সকে বিবেচনায় নেওয়া হয়।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘লেকিপ’ জানিয়েছে, ব্যালন ডি’অরের ৭০ বছরের ইতিহাসে চতুর্থ সর্বনিম্ন ভোট ব্যবধানে এবার পুরস্কারটি জিতেছেন কেইন। ২০১৯ সালে লিওনেল মেসি মাত্র ৭ পয়েন্ট ব্যবধানে ভার্জিল ফন ডাইককে হারানোর পর এটাই সবচেয়ে কম ব্যবধানের জয়।
পয়েন্ট পদ্ধতি অনুযায়ী সাংবাদিকদের ভোটে প্রথম স্থান অধিকারকারী ১৫ পয়েন্ট, দ্বিতীয় ১২ পয়েন্ট, তৃতীয় ১০ পয়েন্ট পান। এরপর শীর্ষ দশে থাকা বাকিদের জন্য যথাক্রমে ৮, ৭, ৫, ৪, ৩, ২ এবং ১ পয়েন্ট বরাদ্দ থাকে। কতজন সাংবাদিক ভোটে প্রথম স্থানে রেখেছেন, তার ওপর বিজয়ী নির্ভর করে না। সব সাংবাদিকের দেওয়া পয়েন্ট যোগ করেই চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করা হয়।
মেয়েদের বিভাগে সাবেক বার্সেলোনা সতীর্থ ইভা পাযোরকে (৫৩২ পয়েন্ট) ৮৬ পয়েন্টের ব্যবধানে হারিয়ে এবার নিজের তৃতীয় ব্যালন ডি’অর জিতেছেন আলেক্সিয়া পুতেয়াস (৬১৮ পয়েন্ট)। বর্তমানে লন্ডন সিটি লায়নেসেস ক্লাবে খেলা পুতেয়াস ৫০ জন বিচারকের মধ্যে ২৮ জনের কাছে প্রথমস্থান অর্জন করেন। ৩৪৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় হন ম্যানচেস্টার সিটির ফরোয়ার্ড খাদিজা শ।
ব্রাজিলের ‘প্রথম’ মেসি ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ ১০০ দেশের ভোটারদের মধ্যে মাত্র দুটি দেশের প্রতিনিধি কেইনকে সেরা দশের তালিকায় রাখেননি এবং সেই দেশ দুটি হলো মেক্সিকো ও আইভরি কোস্ট। এমবাপ্পেকে সেরা দশের বাইরে রেখেছেন তিনটি দেশের ভোটাররা—গ্রিস, স্কটল্যান্ড ও ইউক্রেন। বেলারুশ, ক্যামেরুন, ক্রোয়েশিয়া, গ্রিস—এ চার দেশ তাদের সেরা দশের তালিকা থেকে ইয়ামালকে বাদ দিয়েছে।
রদ্রি ১০টি দেশের ভোটারের কাছ থেকে প্রথম স্থানসূচক ভোট পেয়েছেন। দেশগুলো হলো নাইজেরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, গুয়াতেমালা, দক্ষিণ কোরিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, সার্বিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ক্রোয়েশিয়া ও আইসল্যান্ড। ব্যালন ডি’অর ভোট তালিকায় দশম স্পেনের ফাবিয়ান রুইজকে প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নিয়েছেন গ্যাবন, পেরু, সিরিয়া, ইউক্রেনের ভোটার।
পঞ্চম হওয়া লিওনেল মেসি প্রথম স্থানসূচক ভোট পেয়েছেন ব্রাজিলসহ মোট ছয়টি দেশ থেকে। অন্য দেশগুলো হলো আর্জেন্টিনা, পানামা, বেলারুশ, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও চীন। মাও সে–তুংকে নিয়ে রসিকতাসূচক মন্তব্য করে চীনের বিরাগভাজন হয়েছেন এমবাপ্পে। রিয়াল তারকাকে ভোটের তালিকায় পাঁচে রেখেছেন চীনের প্রতিনিধি।
বিশ্বকাপে এমবাপ্পের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ানো প্যারাগুয়ের প্রতিনিধি তাকে ভোটে তৃতীয় স্থানে রেখেছেন। আফ্রিকার ২০টির মধ্যে ৯টি দেশের প্রতিনিধিই অবশ্য এমবাপ্পেকে প্রথম স্থানসূচক ভোট দিয়েছেন।
গত বছর ব্যালন ডি’অর জয়ী ফরাসি তারকা উসমান দেম্বেলেকে কোনো দেশের প্রতিনিধি প্রথম স্থানসূচক ভোট দেননি। এবার সপ্তম হওয়া পিএসজি তারকা সাতটি দেশের (বুরকিনা ফাসো, চীন, ফ্রান্স, জর্জিয়া, হাইতি, উত্তর মেসিডোনিয়া ও নাইজেরিয়া) ভোটারদের কাছ থেকে দ্বিতীয় স্থানসূচক ভোট পেয়েছেন।
আর্লিং হলান্ডকেও কোনো দেশের প্রতিনিধি প্রথম স্থানসূচক ভোট দেননি। ক্রোয়েশিয়া, উত্তর আয়ারল্যান্ড ও নরওয়ের প্রতিনিধির কাছে তিনি দ্বিতীয় স্থানসূচক ভোট পেয়েছেন। ভোট নিয়ে আরেকটি মজার তথ্য, ফরাসি তারকা মাইকেল ওলিসে শুধু একটি দেশের প্রতিনিধির কাছ থেকে প্রথম স্থানসূচক ভোট পেয়েছেন, সেই দেশটি হলো কুরাসাও।
জনতার কন্ঠ. এস এ

ক্রীড়া ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম 

























